অনুমোদন ছাড়াই ঋণ বিতরণ কার্যক্রম, নীরব সমাজসেবা কার্যালয়   - Ekotar Kantho

অনুমোদন ছাড়াই ঋণ বিতরণ কার্যক্রম, নীরব সমাজসেবা কার্যালয়  

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই ঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে ‘সবুজ কর্ম উন্নয়ন সংস্থা’ নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার বিরুদ্ধে। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার নিবন্ধন নিয়ে সংস্থাটি একাধিক শাখার মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সংস্থাটির কার্যক্রমের বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল, সদর উপজেলার কাতুলী ও হুগড়া এবং কালিহাতী উপজেলার ছাতীহাটি এলাকায় সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৪ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিবন্ধন নেয় সংস্থাটি। এর নিবন্ধন নম্বর ২২৫৪/১১। ৯ সদস্যের এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. রিপন মিয়া। অভিযোগ রয়েছে, নিবন্ধনের সময় সংস্থাটিকে শুধু সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ঋণ বিতরণ না করার বিষয়ে অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়। তবে সেই শর্ত উপেক্ষা করে বিভিন্ন এলাকায় শাখা কার্যালয় খুলে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সংস্থাটির চারটি শাখার মাধ্যমে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে এসব শাখার নিবন্ধন বা অনুমোদন, ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার বৈধতা এবং প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। নিবন্ধনের শর্ত মেনে সংস্থাটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, অনুমোদন ও যথাযথ তদারকি ছাড়া ঋণ কার্যক্রম পরিচালিত হলে গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তা, ঋণ আদায়ের পদ্ধতি এবং আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এর আগে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুরে সেভেন স্টারসহ কয়েকটি এনজিওর বিরুদ্ধে মানুষের গচ্ছিত কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগের ঘটনা ঘটেছিল। এমন পরিস্থিতিতে সমাজকর্ম উন্নয়ন সংস্থার নিবন্ধনসংক্রান্ত নথিপত্র, ঋণ বিতরণের অনুমোদন এবং শাখাগুলোর কার্যক্রম যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে সবুজ কর্ম উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. রিপন মিয়া বলেন, ঋণ বিতরণের নিয়ম নেই, এটা ঠিক। তবে সমাজসেবা কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই ঋণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।” এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সৌরভ তালুকদার মুঠোফোনে বলেন, “তারা চারটি শাখা খুলে ঋণদান কর্মসূচি চালাচ্ছে। অবশ্যই তাদের কাছে কাগজপত্র আছে। তা ছাড়া এত বড় কার্যক্রম চালাতে পারত না।” এসব কাগজপত্র তাঁর কাছে রয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সব কাগজপত্র আমাদের কাছে থাকে না।” অন্যদিকে, টাঙ্গাইল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শহীদুল্লাহ মুঠোফোনে বলেন, “আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একদিকে, ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন নিয়ে অভিযোগ, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে অস্পষ্টতা — সব মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। সংস্থাটির নিবন্ধনের শর্ত, ঋণ কার্যক্রমের বৈধতা এবং শাখাগুলোর অনুমোদন যথাযথভাবে যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

অপরাধ ২১ ঘন্টা আগে

ফেসবুকে আমরা

টাঙ্গাইলে শহীদ ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শহীদ ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে উৎসবমুখর পরিবেশে শহীদ রফিকুল ইসলাম ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুর মিনি স্টেডিয়ামে ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি সংসদ ও বাসাখানপুর স্পোর্টিং ক্লাবের আয়োজনে এই ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনালে যমুনা এক্সপ্রেস ফুটবল ক্লাব এবং আইয়ান বার্থা ফুটবল ক্লাব মুখোমুখি হয়। খেলায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে আইয়ান বার্থা ফুটবল ক্লাব ৩–০ গোলের ব্যবধানে যমুনা এক্সপ্রেস ফুটবল ক্লাবকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। অনুষ্ঠানে দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. লাভু মিয়া লাভুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি'র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—এই সদর উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের নাম যেন শহীদ ফারুক স্টেডিয়াম করা হয়। আগামীদিনে জনগণের ভোটে বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে স্টেডিয়ামটির নাম শহীদ ফারুক স্টেডিয়াম করা হবে। এখানে যেকোনো খেলার আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা আমরা করব। বিশেষ করে মা–বোনেরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে খেলা উপভোগ করতে পারেন, এজন্য অতিরিক্ত আরও একটি গ্যালারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, একসময় টাঙ্গাইলকে ক্রীড়া নগরী বলা হতো। এখানকার ৮ থেকে ৯ জন ফুটবলার নিয়মিত ঢাকার মাঠে খেলতেন। আগামীদিনে আমরা মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও কিশোর গ্যাং–মুক্ত একটি নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য পূরণে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি আজগর আলী, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, সদর থানা বিএনপি'র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব, জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনিরুজ্জামান জুয়েল, জেলা মহিলাদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মমতাজ করিম প্রমুখ। ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠে কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় এক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজীত দলের মধ্যে ট্রফি ও ব্যক্তিগত পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।