আরমান কবীরঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, বর্তমান সরকার একেবারে শূন্য হাতে শুরু করেছে। ড. ইউনুস মাইনাস থেকে শূন্যতে নিয়ে এসেছিল। আমরা সেই শূন্য থেকে শুরু করেছি। কাজেই সরকারের তহবিলে পর্যাপ্ত টাকা নেই। তারপরেও আমরা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করে যাচ্ছি।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোড় এলাকায় ঝিনাই নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই মানুষের কল্যাণে কাজ শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।গুরুত্ব বিবেচনায় এনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও শুরু হয়েছে।
উদ্বোধনকৃত ব্রিজটি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই ব্রিজের ফলে মানুষের যাতায়াতের ব্যাপক সুবিধা হবে। ভাতকুড়া থেকে নলুয়া পর্যন্ত চার লেনের রাস্তার কাজ শুরু করে দিয়েছি। এছাড়া বাসাইল বাজারে যানজট নিরসনে একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের চিন্তা করছি। দেশের সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে গ্রামীণ জনপদকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইএনও)আকলিমা বেগম, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক আবুল কাশেম, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর নবী আবু হায়াত খান নবু প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ঝিনাই নদীর উপর ২৮২ মিটারের গ্রাডার ব্রিজটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৯ কোটি ৯৬ লাখ ২৬ হাজার ৭৪৮ টাকা। এই ব্রিজটি নির্মাণ হওয়ায় বাসাইল উপজেলার উত্তরাঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এখন সরাসরি টাঙ্গাইল জেলা শহরে যাতায়াত করতে পারবে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে উৎসবমুখর পরিবেশে শহীদ রফিকুল ইসলাম ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুর মিনি স্টেডিয়ামে ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি সংসদ ও বাসাখানপুর স্পোর্টিং ক্লাবের আয়োজনে এই ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
ফাইনালে যমুনা এক্সপ্রেস ফুটবল ক্লাব এবং আইয়ান বার্থা ফুটবল ক্লাব মুখোমুখি হয়।
খেলায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে আইয়ান বার্থা ফুটবল ক্লাব ৩–০ গোলের ব্যবধানে যমুনা এক্সপ্রেস ফুটবল ক্লাবকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।
অনুষ্ঠানে দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. লাভু মিয়া লাভুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি'র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—এই সদর উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের নাম যেন শহীদ ফারুক স্টেডিয়াম করা হয়। আগামীদিনে জনগণের ভোটে বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে স্টেডিয়ামটির নাম শহীদ ফারুক স্টেডিয়াম করা হবে। এখানে যেকোনো খেলার আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা আমরা করব। বিশেষ করে মা–বোনেরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে খেলা উপভোগ করতে পারেন, এজন্য অতিরিক্ত আরও একটি গ্যালারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, একসময় টাঙ্গাইলকে ক্রীড়া নগরী বলা হতো। এখানকার ৮ থেকে ৯ জন ফুটবলার নিয়মিত ঢাকার মাঠে খেলতেন। আগামীদিনে আমরা মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও কিশোর গ্যাং–মুক্ত একটি নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য পূরণে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি আজগর আলী,
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, সদর থানা বিএনপি'র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব, জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনিরুজ্জামান জুয়েল, জেলা মহিলাদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মমতাজ করিম প্রমুখ।
ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠে কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় এক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজীত দলের মধ্যে ট্রফি ও ব্যক্তিগত পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।