আরমান কবীর: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার কদিমধল্যা এলাকা থেকে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় নারীর খণ্ডিত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরের দিকে স্থানীয় লোকজন মহাসড়কের কদিমধল্যা এলাকায় ওই নারীর খণ্ডিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তারা দ্রুত পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।নিহত ওই নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, রাতের কোনো এক সময়ে অজ্ঞাত কোনো দ্রুতগামী যানবাহনের চাপায় তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে অথবা ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড থাকতে পারে।
এ বিষয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন জানান, নিহত নারী মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার নাম-পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার আসল রহস্য পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে উৎসবমুখর পরিবেশে শহীদ রফিকুল ইসলাম ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুর মিনি স্টেডিয়ামে ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি সংসদ ও বাসাখানপুর স্পোর্টিং ক্লাবের আয়োজনে এই ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
ফাইনালে যমুনা এক্সপ্রেস ফুটবল ক্লাব এবং আইয়ান বার্থা ফুটবল ক্লাব মুখোমুখি হয়।
খেলায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে আইয়ান বার্থা ফুটবল ক্লাব ৩–০ গোলের ব্যবধানে যমুনা এক্সপ্রেস ফুটবল ক্লাবকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।
অনুষ্ঠানে দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. লাভু মিয়া লাভুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি'র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—এই সদর উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের নাম যেন শহীদ ফারুক স্টেডিয়াম করা হয়। আগামীদিনে জনগণের ভোটে বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে স্টেডিয়ামটির নাম শহীদ ফারুক স্টেডিয়াম করা হবে। এখানে যেকোনো খেলার আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা আমরা করব। বিশেষ করে মা–বোনেরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে খেলা উপভোগ করতে পারেন, এজন্য অতিরিক্ত আরও একটি গ্যালারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, একসময় টাঙ্গাইলকে ক্রীড়া নগরী বলা হতো। এখানকার ৮ থেকে ৯ জন ফুটবলার নিয়মিত ঢাকার মাঠে খেলতেন। আগামীদিনে আমরা মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও কিশোর গ্যাং–মুক্ত একটি নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য পূরণে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি আজগর আলী,
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, সদর থানা বিএনপি'র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব, জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনিরুজ্জামান জুয়েল, জেলা মহিলাদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মমতাজ করিম প্রমুখ।
ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠে কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় এক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজীত দলের মধ্যে ট্রফি ও ব্যক্তিগত পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।