টাঙ্গাইলের রাবনায় আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ কাজে শম্ভুক গতি  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের রাবনায় আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ কাজে শম্ভুক গতি 

আরমান কবীর: টাঙ্গাইল শহরের কোদালিয়ায় আশির দশকে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে টাঙ্গাইল পৌর বাস টার্মিনালের কার্যক্রম। ছাউনি পরিত্যক্ত ঘোষণার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি মাথায় নিয়ে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী সেবা নিচ্ছেন এখান থেকেই। অথচ আধুনিক বাস টার্মিনালের জন্য প্রায় ৫ একর সরকারি জমি বরাদ্দ পেয়েছে পৌরসভা ৫ বছর আগেই। কিন্তু জমি পরে আছে, শুরু হয়নি মূল ভবন নির্মাণ কাজ। সম্প্রতি বরাদ্দকৃত জায়গাটিতে মাটি ভরাটের কাজও শুরু করা হয়েছে, কিন্তু চলছে শম্ভুক গতিতে, ফলে কবে নাগাদ শুরু হবে মূল টার্মিনাল নির্মাণের কাজ তা নিয়ে শুরু হয়েছে সংশয়। টাঙ্গাইল পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৪ জুলাই ১ লাখ ১ হাজার টাকা মূল্যের দলিল মূলে টাঙ্গাইল পৌরসভা শহরের রাবনা বাইপাসের দক্ষিণ পাশে সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের মাগুরাটা মৌজা ও পৌরসভার এনায়েতপুর মৌজার ৪.৯৪ একর সরকারি খাস জমি ৩০ বছর মেয়াদে লিজ বন্দোবস্ত পায়। উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বাস টার্মিনাল নির্মাণ। পৌরসভা সূত্রে আরও জানা যায়, নির্মাণ কাজের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত জলাভূমিতে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করা হয়। তবে ধীরগতির কারণে কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাবনা বাইপাসের দক্ষিণ দিকে আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গায় পৌরসভা কর্তৃক মাত্র কয়েক ট্রাক মাটি ফেলা হয়েছে। বাকি অংশ ময়লা আবর্জনা দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। এই বছরের ৩ মে থেকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাত্র ৭ ট্রাক মাটি ফেলা হয়। তার পর থেকে আর কোনো মাটি ফেলা হচ্ছে না। অথচ পৌরসভার দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী মাটি ভরাটের শেষ সময় ছিল ৩০ জুন ২০২৬। একই ঘটনা ঘটেছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে, মাটি ভরাট না করায় ড্রেনেজ এর কাজ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। টাঙ্গাইল পৌরসভার নাম প্রকাশ্য অনিচ্ছুক এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “জমির মাটি ভরাটের কাজ চলছে। বাস টার্মিনাল এর জন্য নির্ধারিত জায়গা জলাভূমি হওয়ায় প্রচুর মাটি লাগবে। মাটি ভরাট হলে, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনের ব্যবস্থা জন্য দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ ও ডিজাইন চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই মূল অবকাঠামোর কাজ শুরু হবে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত শেষ করতে।” তবে তিনি কবে নাগাদ টেন্ডার হবে বা কাজ শেষ হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাতে পারেননি তিনি। রাবনা এলাকার সুভাষ চন্দ্র দাস, মাজম মিয়া ও আকবর আলী তালুকদার জানান, ৫ বছর যাবত শুনছি এখানে আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে, তবে কাজির গরু যেমন খাতায় থাকে, গোয়ালে থাকে না, তেমনি টাঙ্গাইল পৌরসভা ঢাকঢোল পিটিয়ে বাস টার্মিনাল নির্মাণ এর ঘোষনা দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মাত্র ৭ ট্রাক মাটি ফেলা হয়েছে। অবিলম্বে আধুনিক বাস টার্মিনালের মূল ভবনের নির্মাণের কাজ শুরু করার জোর দাবী জানাচ্ছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাস শ্রমিক নেতার সাথে কথা হয় রাবনা এলাকায় তিনি বলেন “প্রতিদিন মাথার উপর ছাউনি ভেঙে পড়ার ভয় নিয়ে কাজ করি নতুন বাস স্ট্যান্ড ভবনে। যাত্রীরাও আতঙ্কে থাকে। রাবনা বাইপাসের কাছে নতুন টার্মিনালের কথা শুনে আসছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই দেখি না।” টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র পুরাতন বাস টার্মিনালটি নির্মিত হয় আশির দশকে। ২০১৩ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র টার্মিনালের ছাউনিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত’ ঘোষণা করেন। এরপর এক যুগ কেটে গেলেও নতুন ভবন হয়নি। বর্তমানে জরাজীর্ণ শেড, ভাঙা টিন ও ফাটল ধরা পিলারের নিচেই দাঁড়িয়ে থাকে ঢাকা, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুরসহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের দূরপাল্লার বাসগুলো। বৃষ্টি হলেই যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। ঢাকাগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, “টার্মিনালে বসার জায়গা নেই, টয়লেটের অবস্থা খারাপ, পানি নেই। রাবনা বাইপাসে নতুন টার্মিনাল হবে শুনেছি। দ্রুত হলে আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের কষ্ট লাঘব হবে।” জামালপুরগামী সরকারি চাকুরে রাবেয়া খাতুন রাব্বানী বলেন, টার্মিনালে মহিলাদের জন্য কোন পৃথক টয়লেট নেই, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তো অনেক দুরের কথা। ফলে মহিলা ও শিশুদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব সহকারে অনুধাবন করে প্রস্তাবিত আধুনিক বাস টার্মিনালিটির নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করবেন। টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি অকিবুর রহমান ইকবাল জানান, টাঙ্গাইল জেলা সদর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন হাব। এখানে আধুনিক বাস টার্মিনাল না থাকায় শহরের যানজট বাড়ছে, পাশাপাশি যাত্রী নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে। তাই দ্রুত মাটি ভরাট শেষ করে আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু করার দাবি জানাচ্ছি।   এছাড়াও বর্তমান বাস টার্মিনালের কাছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল এবং টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় বাস টার্মিনালের এই যানজটের কারণে। তাই যত দ্রুত এই বাস টার্মিনাল রাবনা বাইপাসে নেওয়া যাবে, ততই শহরের যানজট নিরসনের ভূমিকা রাখবে। টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, ১৯৮১ সালের ৩১ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মরহুম বিচারপতি আব্দুর সাত্তার বর্তমান নতুন বাসস্ট্যান্ডের টার্মিনাল ভবনটি উদ্বোধন করেন। ভবনটি ২০১৩ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে এই পরিত্যক্ত ভবনেই যাত্রী সেবা সহ টার্মিনালের যাবতীয় কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আশাকরি, টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ বিষয়ে দ্রুত প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ ব্যাপারে আমার সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পৌর প্রশাসক ও উপ-পরিচালক(স্থানীয় সরকার) সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, রাবনা বাইপাস এলাকায় আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য মাটি ভরাট ও ড্রেন নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, কিন্তু দু'টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কাজ সম্পন্ন করার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে প্রকল্প পরিচালক বরাবর কাজ দুটির সময় সীমা বৃদ্ধির বিষয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, মাটি ভরাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শেষ হলে মূল ভবনের নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে। যত দ্রুত সম্ভব এই আধুনিক বাস টার্মিনালটির নির্মাণ সম্পূর্ণ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ফেসবুকে আমরা

টাঙ্গাইলে শহীদ ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শহীদ ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে উৎসবমুখর পরিবেশে শহীদ রফিকুল ইসলাম ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুর মিনি স্টেডিয়ামে ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি সংসদ ও বাসাখানপুর স্পোর্টিং ক্লাবের আয়োজনে এই ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনালে যমুনা এক্সপ্রেস ফুটবল ক্লাব এবং আইয়ান বার্থা ফুটবল ক্লাব মুখোমুখি হয়। খেলায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে আইয়ান বার্থা ফুটবল ক্লাব ৩–০ গোলের ব্যবধানে যমুনা এক্সপ্রেস ফুটবল ক্লাবকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। অনুষ্ঠানে দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. লাভু মিয়া লাভুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি'র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—এই সদর উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের নাম যেন শহীদ ফারুক স্টেডিয়াম করা হয়। আগামীদিনে জনগণের ভোটে বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে স্টেডিয়ামটির নাম শহীদ ফারুক স্টেডিয়াম করা হবে। এখানে যেকোনো খেলার আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা আমরা করব। বিশেষ করে মা–বোনেরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে খেলা উপভোগ করতে পারেন, এজন্য অতিরিক্ত আরও একটি গ্যালারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, একসময় টাঙ্গাইলকে ক্রীড়া নগরী বলা হতো। এখানকার ৮ থেকে ৯ জন ফুটবলার নিয়মিত ঢাকার মাঠে খেলতেন। আগামীদিনে আমরা মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও কিশোর গ্যাং–মুক্ত একটি নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য পূরণে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি আজগর আলী, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, সদর থানা বিএনপি'র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব, জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনিরুজ্জামান জুয়েল, জেলা মহিলাদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মমতাজ করিম প্রমুখ। ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠে কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় এক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজীত দলের মধ্যে ট্রফি ও ব্যক্তিগত পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।