টাঙ্গাইলে ফেসবুক পোস্ট শেয়ারের জেরে ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার   - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ফেসবুক পোস্ট শেয়ারের জেরে ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার  

আরমান কবীর: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এড. আহমেদ আযম খান ও তার পিএস সাদেকুল ইসলাম সবুজকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে টাঙ্গাইলের বাসাইলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক বাদল মিয়াকে সাইবার সুরক্ষা আইনে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কাশিল বাজারস্থ বাদল মিয়ার নিজস্ব অফিস থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ এর ২৫(১)/২৭(১) ধারায় মামলা দেখিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার এজাহারে পুলিশ উল্লেখ করেছে, বাদল মিয়াকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের করাতিপাড়া বাইপাস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত বাদল মিয়াকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই মামলার বাদি টাঙ্গাইল পৌরসভার বিশ্বাস বেতকা এলাকার মো. ইবাদুল ইসলাম। মামলার সূত্রে জানা যায়,জনৈক তানভীর আহসান সুমন - “বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল” গ্রুপে এআই দিয়ে তৈরি করা মন্ত্রীর ছবি দিয়ে পোস্ট করেন। সেখানে লেখা ছিল “মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী তিনি একজন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী মানুষ। তার অপসারণ চাই।” মামলার ২ নম্বর আসামী শাহাদাত মিয়া - উক্ত পোস্টটি নিজ ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন। মামলার ৩ নম্বর আসামী বাদল মিয়ার বিরুদ্ধে - পিএস সাদেকুল ইসলাম সবুজের ছবি দিয়ে “সখিপুর এবং দেশবিদেশের নিউজ” পেইজের পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগ উঠেছে। গ্রেপ্তারকৃত বাদল মিয়া বাসাইল উপজেলার কাশিল দক্ষিণ পাড়ার মৃত শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তিনি বাসাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল ইসলামের ছোট ভাই এবং মেসার্স বাদল এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী। ব্যবসায়িক অঙ্গণে তার সুনাম রয়েছে। গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে কাশিল এলাকার ছানোয়ার হোসেন খান, কামরুজ্জামান মিয়া বিপুলসহ এলাকাবাসী বলেন, “বাদল মিয়ার একক প্রচেষ্টায় কাশিলে চায়না ফিডের কারখানা হয়েছে। এতে ৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। ইউনিয়নের নাকাসিমে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুত প্রকল্পের কাজ চলছে। এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলা। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।” উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী শহীদুল ইসলামও একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিহিত করেছেন। বাসাইল থানার ওসি মো. আলমগীর কবীর বলেন, “সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। আসামীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সুপারিশ রয়েছে। তিনি আমাকে কয়েকবার কল দিয়েছেন।” মামলার বাদি মো. ইবাদুল ইসলাম বলেন, “আমি সংক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ স্বরূপ মামলাটি করেছি। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নই। যারা ফেসবুকে অপপ্রচার চালায় তাদের বিরুদ্ধেই আমার প্রতিবাদ।” মন্ত্রী এড. আহমেদ আযম খানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় বাসাইল-সখীপুরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অপরাধ ৬ ঘন্টা আগে

ফেসবুকে আমরা

টাঙ্গাইলে শহীদ ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শহীদ ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে উৎসবমুখর পরিবেশে শহীদ রফিকুল ইসলাম ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুর মিনি স্টেডিয়ামে ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি সংসদ ও বাসাখানপুর স্পোর্টিং ক্লাবের আয়োজনে এই ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনালে যমুনা এক্সপ্রেস ফুটবল ক্লাব এবং আইয়ান বার্থা ফুটবল ক্লাব মুখোমুখি হয়। খেলায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে আইয়ান বার্থা ফুটবল ক্লাব ৩–০ গোলের ব্যবধানে যমুনা এক্সপ্রেস ফুটবল ক্লাবকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। অনুষ্ঠানে দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. লাভু মিয়া লাভুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি'র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—এই সদর উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের নাম যেন শহীদ ফারুক স্টেডিয়াম করা হয়। আগামীদিনে জনগণের ভোটে বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে স্টেডিয়ামটির নাম শহীদ ফারুক স্টেডিয়াম করা হবে। এখানে যেকোনো খেলার আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা আমরা করব। বিশেষ করে মা–বোনেরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে খেলা উপভোগ করতে পারেন, এজন্য অতিরিক্ত আরও একটি গ্যালারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, একসময় টাঙ্গাইলকে ক্রীড়া নগরী বলা হতো। এখানকার ৮ থেকে ৯ জন ফুটবলার নিয়মিত ঢাকার মাঠে খেলতেন। আগামীদিনে আমরা মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও কিশোর গ্যাং–মুক্ত একটি নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য পূরণে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি আজগর আলী, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, সদর থানা বিএনপি'র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব, জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনিরুজ্জামান জুয়েল, জেলা মহিলাদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মমতাজ করিম প্রমুখ। ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠে কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় এক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজীত দলের মধ্যে ট্রফি ও ব্যক্তিগত পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।