টাঙ্গাইলে অধ্যক্ষের দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে দুদক - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে অধ্যক্ষের দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে দুদক

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের নারান্দিয়া টি. আর. কে. এন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে ৩৮ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার(৩০ জুন )দিনব্যাপী টাঙ্গাইল জেলা দুদকের উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে নথিপত্র যাচাই, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার, সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি ও চরম স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নারান্দিয়া টি.আর.কে.এন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে আঁতাত করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গোলাম মোস্তফা আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের চাকরির বিষয় গোপন করে এবং ভূঞাপুর লোকমান ফকির ডিগ্রী কলেজের নিয়োগ যোগদান পত্রের তারিখে অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করে ২০১৪ সালে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, যোগাদানের পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার সময় কালে দুর্নীতিতে জড়িয়ে নারান্দিয়া স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২১ টি খাত থেকে মোট ৩৮ লক্ষ ৭২ হাজার ৫ শত ৪৮ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। তবে প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করে জানান ,দুর্নীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পূর্ণভাবে যাচাই না করেই তদন্ত দল ফিরে গেছে। এতে তারা সন্তুষ্ট নন। তাদের দাবি, অভিযোগের প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অভিযোগকারি সহকারি অধ্যাপক আব্দুল সালাম তালুকদার বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২১ টি খাতে তার আত্মসাৎকৃত টাকার পরিমান ৩৮ লক্ষ ৭২ হাজার ৫ শত ৪৮ টাকা। দুদকে অভিযোগ দেয়ার পর দুদকের উপ পরিচালক তদন্তে আসেন। কলেজের সহকারি অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ৫ আগষ্টের পর অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা পালিয়ে যাবার পর সকল শিক্ষক কর্মচারি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তি মিলে আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়। আমি গত ১১ মাস দ্বায়িত্ব পালনের পর তিনি আবার স্বপদে বহাল হয়ে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেয়। গত ১০ মাস যাবৎ আমার বেতন বন্ধ রয়েছে। একই কলেজের সহকারি অধ্যাপক সুমির কুমার মোদক অভিযোগ করে বলেন, অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার দূর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় আমার বেতন বন্ধ করে দেয়। আমি এখনো সে বেতন পাই নাই। বেতন বন্ধ করলেও আমি পিছপা হবো না। আমি প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। দুদকের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেন এই শিক্ষক। তিনি বলেন, অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা ২০১৪ সালে আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের চাকরির বিষয় তথ্য গোপন করেন এবং ভূঞাপুর লোকমান ফকির ডিগ্রী কলেজের নিয়োগ যোগদান পত্রের তারিখ অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। তিনি আরও বলেন,এর আগে অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে চাকরিতে বয়স জালিয়াতি, ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, টিউশন ফি'র টাকা আত্মসাৎ, ক্রয় সংক্রান্ত অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগে শিক্ষা অধিদপ্তরও পৃথকভাবে তদন্ত করে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তদন্তাধীন বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না। টাঙ্গাইল জেলা দুদকের উপ পরিচালক ফখরুল ইসলাম বলেন. মঙ্গলবার সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তদন্ত চলমান রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

অপরাধ ৩ ঘন্টা আগে

ফেসবুকে আমরা

টাঙ্গাইলে শহীদ ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শহীদ ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে উৎসবমুখর পরিবেশে শহীদ রফিকুল ইসলাম ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুর মিনি স্টেডিয়ামে ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি সংসদ ও বাসাখানপুর স্পোর্টিং ক্লাবের আয়োজনে এই ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনালে যমুনা এক্সপ্রেস ফুটবল ক্লাব এবং আইয়ান বার্থা ফুটবল ক্লাব মুখোমুখি হয়। খেলায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে আইয়ান বার্থা ফুটবল ক্লাব ৩–০ গোলের ব্যবধানে যমুনা এক্সপ্রেস ফুটবল ক্লাবকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। অনুষ্ঠানে দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. লাভু মিয়া লাভুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি'র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—এই সদর উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের নাম যেন শহীদ ফারুক স্টেডিয়াম করা হয়। আগামীদিনে জনগণের ভোটে বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে স্টেডিয়ামটির নাম শহীদ ফারুক স্টেডিয়াম করা হবে। এখানে যেকোনো খেলার আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা আমরা করব। বিশেষ করে মা–বোনেরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে খেলা উপভোগ করতে পারেন, এজন্য অতিরিক্ত আরও একটি গ্যালারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, একসময় টাঙ্গাইলকে ক্রীড়া নগরী বলা হতো। এখানকার ৮ থেকে ৯ জন ফুটবলার নিয়মিত ঢাকার মাঠে খেলতেন। আগামীদিনে আমরা মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও কিশোর গ্যাং–মুক্ত একটি নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য পূরণে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি আজগর আলী, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, সদর থানা বিএনপি'র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব, জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনিরুজ্জামান জুয়েল, জেলা মহিলাদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মমতাজ করিম প্রমুখ। ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠে কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় এক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজীত দলের মধ্যে ট্রফি ও ব্যক্তিগত পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।