আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের বাসাইলে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হানিফ শেখ (৩৭) নামে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক আনসার সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের বিলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত থাকা সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, হাবলা উত্তর পাড়ার মৃত মুক্তার আলীর ছেলে, ডায়মন্ড ( ৩৮) ও একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মদদ মিয়া (৪৩)।
নিহত হানিফ শেখ হাবলা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা বক্তার আলী খানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে বিলপাড়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন হানিফ। পথে দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাত করে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হানিফকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ (এএসআই) মো. আতিকুর রহমান বলেন, রাতে হানিফ নামের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক আনসার সদস্যকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। পরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবীর বলেন, ঘটনার পর সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার টাঙ্গাইল কোটে প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাতেই নিহতের স্ত্রী মনিরা সুলতানা ২০ জনকে আসামি করে বাসাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর স্তন্তর করা হবে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে উৎসবমুখর পরিবেশে শহীদ রফিকুল ইসলাম ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুর মিনি স্টেডিয়ামে ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি সংসদ ও বাসাখানপুর স্পোর্টিং ক্লাবের আয়োজনে এই ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
ফাইনালে যমুনা এক্সপ্রেস ফুটবল ক্লাব এবং আইয়ান বার্থা ফুটবল ক্লাব মুখোমুখি হয়।
খেলায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে আইয়ান বার্থা ফুটবল ক্লাব ৩–০ গোলের ব্যবধানে যমুনা এক্সপ্রেস ফুটবল ক্লাবকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।
অনুষ্ঠানে দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. লাভু মিয়া লাভুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি'র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—এই সদর উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের নাম যেন শহীদ ফারুক স্টেডিয়াম করা হয়। আগামীদিনে জনগণের ভোটে বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে স্টেডিয়ামটির নাম শহীদ ফারুক স্টেডিয়াম করা হবে। এখানে যেকোনো খেলার আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা আমরা করব। বিশেষ করে মা–বোনেরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে খেলা উপভোগ করতে পারেন, এজন্য অতিরিক্ত আরও একটি গ্যালারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, একসময় টাঙ্গাইলকে ক্রীড়া নগরী বলা হতো। এখানকার ৮ থেকে ৯ জন ফুটবলার নিয়মিত ঢাকার মাঠে খেলতেন। আগামীদিনে আমরা মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও কিশোর গ্যাং–মুক্ত একটি নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য পূরণে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি আজগর আলী,
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, সদর থানা বিএনপি'র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব, জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনিরুজ্জামান জুয়েল, জেলা মহিলাদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মমতাজ করিম প্রমুখ।
ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠে কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় এক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজীত দলের মধ্যে ট্রফি ও ব্যক্তিগত পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।