আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মা মুক্তা আক্তারকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে।
রবিবার (২৯ মার্চ) রাতে উপজেলার গজারিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন পিপিএম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের প্রবাসী মিয়ার স্ত্রী মুক্তা আক্তার (৩৫) তার ছেলে মোরাদ হাসান ও শিশু কন্যা ইয়ামিনকে (৫) নিয়ে প্রতিদিনের মতো রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো এক সময় মোরাদ হাসান তার মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ ঘরের এক কোণে ঢেকে রাখে।
পরে বাইরে থেকে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ভোরবেলা ছোট বোন ইয়ামিনকে নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘরে তালা দেখে বাড়ির লোকজন মুক্তাকে না পেয়ে তালা ভেঙে তার মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, ছেলেটা মাদকসেবী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
অনিয়মিত ছাত্র। মাদকের টাকা না পেয়ে সে তার মাকে হত্যা করেছে বলে আমাদের ধারণা।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন পিপিএম বলেন, ‘রাতের কোনো এক সময় মোরাদ তার মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আরমান কবীরঃ প্রায় ৮ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তনখোলা গ্রামের মোশাররফ হোসেন (৪০)।
তিনি আল খারিজ শহরের পাশে একটি কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ করতেন । কর্মরত অবস্থায় ইরানের মিসাইল হামলায় থেমে গেল তার জীবন সংগ্রাম।
রোববার (৮ মার্চ) সৌদি আরবের আল-খারিজ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে দেশটির সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে।
নিহত মোশাররফ হোসেন জেলার সখীপুর উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তনখোলা গ্রামের সূর্যত আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, নিহতের পরিবারে রয়েছে দুই ছোট ছেলে। বড় ছেলে মাহিম স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং ছোট ছেলে মিহান প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। তিন বছর আগে মাত্র তিন মাসের জন্য ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। এরপর আবার ফিরে গিয়েছিলেন সংসারের হাল ধরতে। গতকালও মুঠোফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তার।
স্ত্রী কবরী আক্তার বলেন, রাতে আমার সাথে কথা হয়েছিল। বলেছিলেন ঈদের জন্য টাকা পাঠাবেন, ছেলেদের জন্য কিছু কেনার জন্য। কিন্তু কে জানতো সেই কথাই হবে শেষ কথা। রাত প্রায় ৩টার দিকে খবর আসে— আমার স্বামী আর নেই।
মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। মা জহুরা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। ছোট ছেলে মিহান নানার কোলে বসে অবাক দৃষ্টিতে চারপাশের মানুষের কান্না দেখছে, হয়তো এখনো বুঝে উঠতে পারেনি,তার বাবা আর কোনো দিন ফিরবেন না।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও )আব্দুল্লাহ আল রনী। এ সময় তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
আরমান কবীরঃ: টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলামের (ভিপি জোয়াহের) জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে সখীপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের বেরবাড়ি গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।এর আগে সোমবার ভোরে ভারত থেকে সাবেক এই এমপির মরদেহ টাঙ্গাইলে এসে পৌঁছায়।
গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। রবিবার রাতে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তার মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়।
সোমবার দুপুর ১২টায় টাঙ্গাইল জেলা সদর হেলিপ্যাডে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা ৩টায় সখীপুরের বেরবাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় সামাজিক গোরস্থানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। জানাজায় বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও মাল্টি অর্গান ফেইলিওরসহ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুর তিন দিন আগে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার পর তার মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়।
অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম টাঙ্গাইল আদালতের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ছিলেন। তিনি করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদের দু’বারের নির্বাচিত ভিপি এবং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি ভারতে চলে যান। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক মামলা রয়েছে
আরমান কবীর:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮(বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরনবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠেছে। একই অভিযোগ উঠেছে সখীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আশরাফুল আলম তাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।
জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থী আহমেদ আযম খান নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে ভোট প্রার্থনা ও অনুদান ঘোষণা করছিলেন। এ অভিযোগ পেয়ে ওই আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের গত ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠান।
নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আশরাফুল আলম লিখিত অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ভিডিও ও ছবি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে আপনি অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বক্তব্যে বলেছেন, ‘১২ বার তো ভোট দিয়েছেন এবার ১৩ বার এর নির্বাচনে হিসেব করে ভোট দেন। আমি ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছি। আমার দল বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে আগামি নির্বাচনে বিএনপি পাস করলে দুই কোটি ফ্যামিলি কার্ড দিবে।’ এছাড়া তিনি নির্বাচনের প্রথম বছরে দুইটি রাস্তা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ভিডিও যাচাই করে সত্যতা পাওয়ায় আহমেদ আযম খানের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর বিধান লঙ্ঘনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
অপরদিকে, একই সংসদীয় আসনে সখীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ছবিসমূহ পর্যালোচনায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। ফলে তাদের দুজনকে টাঙ্গাইলের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে স্থাপিত নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আদালতের কাছে কারণ দর্শাতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর–বাসাইল) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে দল থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সখীপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীব।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে তিনি দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান।পদত্যাগপত্রে তিনি শারীরিক ও পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। রাত ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে ওই আবেদনপত্র তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেন।
এর আগে কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাতে সখীপুর উপজেলার সিলিমপুর এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সানোয়ার হোসেন সজীব তাকে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য দেন।
ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ সময় কেউ কেউ দাবি করেন, তিনি কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সানোয়ার হোসেন সজীব। সোমবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে তিনি বলেন,‘আমি শুধু কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছি। অন্য কোনো দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেইনি। আপাতত রাজনীতির বাইরে আছি।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন,‘আমি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর দলের রাজনীতি করেছি। বিএনপিও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। সে কারণে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে আমার অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব সমর্থন থাকবে।
এবিষয়ে কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে দলের কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুন্নবী সোহেল তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন,‘রাজনৈতিক দল একটি আদর্শিক ঠিকানা। এখানে কেউ আসে, কেউ যায়, কেউ নিষ্ক্রিয় হয়—এটাই স্বাভাবিক। দল এগিয়ে যাবে জনতার সমর্থনে, তার আপন মহিমায়।’
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই বন্ধুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার(২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার কালমেঘা-নলুয়া আঞ্চলিক সড়কের বেলতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার কালিদাস পানাউল্লাহ পাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে লিখন আহমেদ (১৫), একই গ্রামের বল্লাচালা পাড়ার মইনুদ্দিনের ছেলে আবির হোসেন (১৫) ও একই গ্রামের ফুলঝুঁড়িপাড়ার প্রবাসী আব্দুর রউফের ছেলে সাব্বির হাসান (২০)।
নিহত লিখন ও আবির কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও নিহত সাব্বির এইচএসসি পাস করে বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার কালমেঘা-নলুয়া সড়কের বেলতলী এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই মোটরসাইকেলের আরোহী পাঁচজনকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবিরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বাকি চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে লিখন ও সাব্বির মারা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন আবির ও আরেকটি মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন সাব্বির হাসান। নিহত দুই বন্ধু আবির ও লিখন একই মোটরসাইকেলে ছিলেন।
কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বাদল বলেন, নিহত লিখন ও আবির আমার প্রতিষ্ঠানের বর্তমানে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিহত সাব্বির আমার প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী। দুই মোটরসাইকেলের তিনজন নিহত হলেও কাকতালীয়ভাবে তাদের সবার বাড়ি উপজেলার কালিদাস গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, দুটি লাশ থানায় নেওয়া হয়েছে। আরেকটি লাশ ঢাকা থেকে সখীপুর আসছে। পরবর্তীতে আইনানুগ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক স্কুল ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার(২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বেতুয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা ।
মৃত জিহাদ(১০) ওই এলাকার প্রবাসী আনিস মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মৃতের চাচাত ভাই জনি বলেন, “সন্ধ্যার পর বাড়িতে একই বয়সের চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে জিহাদের ঝগড়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জিহাদের মা তাকে বকাঝকা করেন। এরপর সে দৌড়ে নিজের ঘরে চলে যায়।
“রাত ৮টার দিকে ওই ঘরে ঢুকে জিহাদকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
স্থানীয় আরিফুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি মর্মান্তিক, তবে বর্তমান সময়ে যারা বাবা-মা আছেন তাদের জন্য শিক্ষণীয়। শিশুর প্রতি কেমন আচরণ করতে হবে, এ বিষয়ে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।”
সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে প্রথমে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে পরিবারের দাবিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে নিজের বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলেকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ মো: হাফিজুর রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন।
দণ্ডিত আসামি হলো- টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার দড়িপাড়া পশ্চিমপাড়া এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান।
টাঙ্গাইলে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, গত বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক কলহের জের ধরে নিজ বাড়িতে বাবা আব্দুস সামাদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায় তার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান। পরে নিহতের ভাই আবদুর রশিদ সখিপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিচার শেষে রোববার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। আসামি গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই জেলহাজতে আটক রয়েছে।
আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োজিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা মিয়া।রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, এই রায়ে হত্যার বিচারে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আরও সুদৃঢ় হলো।
এই রায়ে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত বিচার প্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তির সঞ্চার হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি ও বহিষ্কৃত সভাপতিসহ ছয় নেতা দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে তাদের পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ এনে তারা পদত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
পদত্যাগকারীরা হলেন- উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদ মাস্টার, সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, উপজেলা বিএনপি’র বহিষ্কৃত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান সাজু, সদস্য আশরাফুল ইসলাম বাদল, উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ ও বহুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ মিয়া।
তারা ২১ নভেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর মধ্যে বিভিন্ন সময় পদত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। তাদের পদত্যাপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ছয়জনের পদত্যাগপত্রে একই ধরনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তারা পদত্যাগপত্রে লিখেছেন- ‘বিগত ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার অবৈধ সরকারের আমলে দলের সব রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে আসছি। যে কারণে আওয়ামী লীগের পেটুয়া পুলিশ বাহিনী দ্বারা মিথ্যা মামলা-হামলায় একাধিকবার জেল-জুলুমসহ নানাবিধ অত্যাচার সহ্য করে দলীয় আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে দলের সব কর্মসূচি পালন করে আসছি। বর্তমানে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান দ্বারা আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের দোসরদের দলীয় কার্যক্রমে সামনের সারিতে এনে পুনর্বাসন করার প্রতিবাদ করলে তিনি বিএনপি’র এই নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ অনাকাঙ্ক্ষিত অসদাচরণ করেন; যা দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি। তার মতো একজন জাতীয় নেতার এমন বিমাতাসুলভ অসাংগঠনিক আচরণের জন্য ক্ষুব্ধ হয়ে এই ছয় নেতা দলীয় সব পদ-পদবি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।
এই পদত্যাগপত্রের অনুলিপি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে দেওয়া হয়।
বাসাইল-সখীপুর আসনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর আগে থেকেই তিনি নির্বাচনি গণসংযোগ, জনসভা, উঠান বৈঠক, সামাজিক অনুষ্ঠান ও ওয়াজ মাহফিলে অংশগ্রহণ করে আসছেন; কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই বাসাইল ও সখীপুর উপজেলা বিএনপি’র শীর্ষপর্যায়ের একটি পক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কোন্দল সৃষ্টি হয়ে আছে। আহমেদ আযম খান মনোনয়ন পেলেও দুই উপজেলার বিএনপি’র শীর্ষপর্যায়ের একটি পক্ষ তার নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না।
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সখীপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান সাজুকে তার দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয় জেলা বিএনপি। তার অব্যাহতিতে আহমেদ আযম খানের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। এ কারণে সখীপুর উপজেলা বিএনপি’র মধ্যে নতুন করে ভেতরে ভেতরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ছয় নেতার পদত্যাগের পর কোন্দল আরও প্রকাশ্যে এসেছে।
অপরদিকে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডারের আহ্বায়ক আব্দুল খালেক মণ্ডলকে আহমেদ আযম খানের হুমকি ও অশালীন ভাষায় কথা বলার একটি অডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মানববন্ধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এর আগে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমকে নিয়েও সমালোচনা করা হয়।
সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে আহমেদ আযম খান নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন। এসব বিষয় নিয়ে আহমেদ আযম খান বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
সদ্য পদত্যাগ করা সখীপুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদ মাস্টার বলেন, বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খান জিয়ার আদর্শের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমিসহ এ পর্যন্ত ২০ থেকে ৩০ জন পদত্যাগ করেছি। প্রায় ২শ নেতাকর্মী পর্যায়ক্রমে পদত্যাগ করবেন। আমরা সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাব।
সখীপুর উপজেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, তাদের পদত্যাগের বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করব না।
জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমরা এখনো কোনো পদত্যাগপত্র হাতে পাইনি। এটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। ইনশাআল্লাহ আবার সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন।
বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেন, আমি অতীত ও বর্তমানে কোনো দিন আওয়ামী লীগকে কখনো পুনর্বাসন করিনি, ভবিষ্যতেও করব না। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি কুচক্রী মহল অনৈতিকভাবে দুই-একজন বহিষ্কৃত নেতাদের মাধ্যমে কিছু নেতাকর্মীকে অনুরোধ করে আবার কিছু নেতাকর্মীকে জোর করে স্বাক্ষর করিয়েছে বলে আমি শুনেছি।
তিনি আরও বলেন, তবে অনেক নেতাকর্মী আমাকে জানিয়েছেন- তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হলেও তারা আমাদের নেতৃত্বে ধানের শীষের পক্ষেই থাকবেন। ধানের শীষের বিরুদ্ধে আচরণকারী, ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করে নেতাকর্মী তথা বাসাইল-সখীপুরবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ২৬ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মা ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মুচারিয়া পাথার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের কৃষক শামছুল আলমের স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৫৮) দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় মানসিক অশান্তিতে ভুগছিলেন। অন্যদিকে ২৬ বছর বয়সী মেয়ে সাজেদা ছিল অসুস্থ।
এরই জেরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে প্রথমে মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার পরে নিজে রান্না ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
স্থানীয়রা জানান, শামসুল আলমের স্ত্রী শাহনাজ বেগম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। অন্যদিকে তাদের ২৬ বছরের একটি প্রতিবন্ধী মেয়েও অনেক অসুস্থ ছিল। মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপে তিনি এমন কাজ করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য লোকমান হোসেন বলেন, শাহনাজ বেগম প্রায় ২০ বছর ধরে শরীরে প্রচণ্ড ব্যথাসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। অন্যদিকে প্রতিবন্ধী মেয়ে সাজেদার বয়স ২৬ থেকে ২৭ বছর হলেও উচ্চতা ছিল দুই বা সোয়া দুই ফুট। ছয় মাস ধরে মেয়েটা মুখে তেমন কিছু খেতে পারত না এবং ছয় মাস ধরে পায়খানা বন্ধ ছিল। তার পেট ফুলে গিয়েছিল। চলাফেরা করতে পারত না। একদিকে নিজে জটিল রোগে ভুগছিলেন অন্যদিকে প্রতিবন্ধী মেয়ে ছিল অসুস্থ। যে কারণে অতিষ্ঠ হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পিতা শামসুল হক ঘটনার রাতে (গরু রাখার ঘর) গোহাইল ঘরের ভেতরে একটি রুমে ঘুমিয়ে ছিলেন।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, নিহত মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মা ও প্রতিবন্ধী মেয়ে দুজনের গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা চুরির অভিযোগে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার(১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কাঁকড়াজান ইউনিয়নের পা-ধুয়া চালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম মো. জহিরুল ইসলাম (৩১)। তিনি জেলার গোপালপুর পৌরসভা রামদেব বাড়ি এলাকার আব্দুর রশিদ মিয়ার ছেলে। নিহতের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।
পুলিশ জহিরুলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সখীপুর উপজেলার কাঁকড়াজান ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত ছিল। এরই মধ্যে শুক্রবার সকালে শ্রীপুর রাজনীতির মোড় গ্রামের বাবুল মিয়ার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরি করে পালানোর চেষ্টা করেন জহিরুল। অটোরিকশা নিয়ে পা-ধুয়া চালা গ্রামে গেলে উত্তেজিত জনতা ধাওয়া করে তাঁকে ধরে পিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সে মৃত্যুবরণ করে।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা জানান ‘এলাকাবাসীর সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত যুবকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বর্ধিত সভায় শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম।
উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে একটি টিনের ঘরে প্রচণ্ড গরমে দুই ঘণ্টা বসে থেকে বক্তব্য দেওয়ার কারণে কাদের সিদ্দিকী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন সিদ্দিকী বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জানান, কাদের সিদ্দিকী আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ আছেন। তাঁর রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস মাপা হয়েছে। ইসিজি করা হয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলেও তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। চিকিৎসকেরা বলেছেন, প্রচণ্ড গরমের কারণেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
তুহিন সিদ্দিকী আরও বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বর্ধিত সভা শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে কাদের সিদ্দিকী বর্ধিত সভায় যোগ দেন। টিনের ঘরে প্রচণ্ড গরমে তিনি দুই ঘণ্টা স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বক্তব্য শোনেন। বেলা সোয়া দুইটার দিকে তাঁর বক্তব্য শুরু হয়। মিনিট দশেক তিনি দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। এরপর বসে পড়েন। বসে তিনি মাত্র এক মিনিট বক্তব্য দিয়েছিলেন। এরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি দুই কর্মীর সহায়তায় তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িতে ওঠেন। এরপর তাঁকে সখীপুরের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন জানান, কাদের সিদ্দিকী এখন অনেকটা সুস্থ অনুভব করছেন। দেশবাসীর কাছে তিনি দোয়া চেয়েছেন।