আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় জয়নাল আবেদীন (৬০) নামের এক বৃদ্ধ কৃষক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার(২৮ জুলাই)বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সখীপুর-গোড়াই আঞ্চলিক সড়কের প্রতিমা বংকী মিনি স্টেডিয়ামের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জয়নাল আবেদীন উপজেলার প্রতিমা বংকী বাজার এলাকার মৃত গুঞ্জর আলীর ছেলে।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কৃষক জয়নাল আবেদীন ঘাস কাটার উদ্দেশে সখীপুর-গোড়াই আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে সখীপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বেপরোয়া গতিতে আসা ওই মোটরসাইকেল তাঁকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে মাথায় আঘাত লেগে জয়নাল আবেদীন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোস্তফা কামাল জানান, জয়নাল আবেদীনের মাথায় আঘাত লেগে কান দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। ফলে হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় এক আসামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের দায়রা জজ আদালতের বিচারক সিনিয়র দায়রা জজ মো: হাফিজুর রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন।
দন্ড প্রাপ্তরা হলো,টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার কাহারতা রামখা পাড়া গ্রামের আ: খালেকের ছেলে হোসেন আলী (৩৫)। এই মামলার অপর আসামি সখিপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাদশা মিয়ার ছেলে হিরু মিয়া ওরফে হায়দাকে (৫৫) পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।
টাঙ্গাইল দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো: শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, বিগত ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সখিপুর থানার বড়চওনা এলাকায় কালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে অভিযান চালিয়ে আসামি হোসেন আলী ও হিরু মিয়াকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামি হোসেন আলীর কাছ থেকে ৯০ গ্রাম ও হিরু মিয়ার কাছ থেকে ১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় টাঙ্গাইল ডিবি (দক্ষিণ) পুলিশের এসআই নুরুজ্জামান বাদি হয়ে সখিপুর থানায় মামলা করেন। বিচার শেষে আসামিদের এই সাজা দেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় আসামি হিরু মিয়া আদালতে হাজির থাকলেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হোসেন আলী পলাতক রয়েছে। আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান পারভেজ ও অ্যাডভোকেট খ: মনিরুল ইসলাম মনির।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সামিয়া আক্তারকে মুক্তিপণের আশায় অপহরণের পর হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. ন. ম. ইলিয়াস এ দণ্ডাদেশ দেন।
দণ্ডিত আসামি সাব্বির মিয়া টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর উত্তরপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। আসামির উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে আসামিকে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দীপু জানান, সখিপুরের দাড়িয়াপুর গ্রামের রনজু মিয়ার মেয়ে সামিয়া আক্তার (৯) দাড়িয়াপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রতিদিনের মতো সে প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে আসামি সাব্বির পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে সামিয়াকে অপহরণ করে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে সামিয়া নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আসামি।
পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পাশের একটি ধানক্ষেতের ড্রেনে কাঁদামাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এরপর আসামি সাব্বির নিজের পরিচয় গোপন রেখে একটি ইমু আইডি থেকে ভয়েস এসএমএস-এর মাধ্যমে সামিয়ার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
এ ঘটনায় পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর সামিয়ার বাবা রনজু মিয়া সখিপুর থানায় মামলা করেন। মামলার এক দিন পর ৮ সেপ্টেম্বর সেই ধানক্ষেতের ড্রেন থেকে সামিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাব্বিরকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে সাব্বির নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। মোট ১৮ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, স্টেট ডিফেন্স।
রায়ের পর সামিয়ার পরিবার ও এলাকাবাসী আদালতের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এমন নৃশংস হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়ায় সমাজে অপরাধ কমবে।
আরমান কবীরঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, বিগত কয়েক বছরে আমাদের আনাচে কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো মাদ্রাসা ও গার্ডেন গড়ে উঠেছে। তবে শিক্ষার মান বাড়েনি। এতে অনেক শিক্ষার্থী মান সম্মত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে না।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা হলরুমে শিক্ষার মানোন্নয়নে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থী মুল ভিত্তি হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা। সেই প্রাথমিক শিক্ষার পেছনে সরকারের অর্থের বড় একটা অংশ ব্যয় হচ্ছে। সেই প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারের জন্য প্রতিটি শিক্ষককে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি ও স্কুলমুখী করতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়াও মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণে শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও দায়িত্ব রয়েছে বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব বেগম নার্গিস সিদ্দিকা, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সখীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি খুরশিদ জাহান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক টিটু,উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম মাস্টার, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সহ-সভাপতি আকবর হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কবির হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক সিকদার মোহাম্মদ সবুর রেজা প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মা মুক্তা আক্তারকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে।
রবিবার (২৯ মার্চ) রাতে উপজেলার গজারিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন পিপিএম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের প্রবাসী মিয়ার স্ত্রী মুক্তা আক্তার (৩৫) তার ছেলে মোরাদ হাসান ও শিশু কন্যা ইয়ামিনকে (৫) নিয়ে প্রতিদিনের মতো রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো এক সময় মোরাদ হাসান তার মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ ঘরের এক কোণে ঢেকে রাখে।
পরে বাইরে থেকে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ভোরবেলা ছোট বোন ইয়ামিনকে নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘরে তালা দেখে বাড়ির লোকজন মুক্তাকে না পেয়ে তালা ভেঙে তার মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, ছেলেটা মাদকসেবী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
অনিয়মিত ছাত্র। মাদকের টাকা না পেয়ে সে তার মাকে হত্যা করেছে বলে আমাদের ধারণা।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন পিপিএম বলেন, ‘রাতের কোনো এক সময় মোরাদ তার মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আরমান কবীরঃ প্রায় ৮ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তনখোলা গ্রামের মোশাররফ হোসেন (৪০)।
তিনি আল খারিজ শহরের পাশে একটি কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ করতেন । কর্মরত অবস্থায় ইরানের মিসাইল হামলায় থেমে গেল তার জীবন সংগ্রাম।
রোববার (৮ মার্চ) সৌদি আরবের আল-খারিজ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে দেশটির সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে।
নিহত মোশাররফ হোসেন জেলার সখীপুর উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তনখোলা গ্রামের সূর্যত আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, নিহতের পরিবারে রয়েছে দুই ছোট ছেলে। বড় ছেলে মাহিম স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং ছোট ছেলে মিহান প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। তিন বছর আগে মাত্র তিন মাসের জন্য ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। এরপর আবার ফিরে গিয়েছিলেন সংসারের হাল ধরতে। গতকালও মুঠোফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তার।
স্ত্রী কবরী আক্তার বলেন, রাতে আমার সাথে কথা হয়েছিল। বলেছিলেন ঈদের জন্য টাকা পাঠাবেন, ছেলেদের জন্য কিছু কেনার জন্য। কিন্তু কে জানতো সেই কথাই হবে শেষ কথা। রাত প্রায় ৩টার দিকে খবর আসে— আমার স্বামী আর নেই।
মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। মা জহুরা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। ছোট ছেলে মিহান নানার কোলে বসে অবাক দৃষ্টিতে চারপাশের মানুষের কান্না দেখছে, হয়তো এখনো বুঝে উঠতে পারেনি,তার বাবা আর কোনো দিন ফিরবেন না।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও )আব্দুল্লাহ আল রনী। এ সময় তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
আরমান কবীরঃ: টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলামের (ভিপি জোয়াহের) জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে সখীপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের বেরবাড়ি গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।এর আগে সোমবার ভোরে ভারত থেকে সাবেক এই এমপির মরদেহ টাঙ্গাইলে এসে পৌঁছায়।
গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। রবিবার রাতে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তার মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়।
সোমবার দুপুর ১২টায় টাঙ্গাইল জেলা সদর হেলিপ্যাডে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা ৩টায় সখীপুরের বেরবাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় সামাজিক গোরস্থানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। জানাজায় বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও মাল্টি অর্গান ফেইলিওরসহ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুর তিন দিন আগে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার পর তার মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়।
অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম টাঙ্গাইল আদালতের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ছিলেন। তিনি করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদের দু’বারের নির্বাচিত ভিপি এবং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি ভারতে চলে যান। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক মামলা রয়েছে
আরমান কবীর:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮(বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরনবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠেছে। একই অভিযোগ উঠেছে সখীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আশরাফুল আলম তাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।
জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থী আহমেদ আযম খান নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে ভোট প্রার্থনা ও অনুদান ঘোষণা করছিলেন। এ অভিযোগ পেয়ে ওই আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের গত ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠান।
নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আশরাফুল আলম লিখিত অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ভিডিও ও ছবি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে আপনি অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বক্তব্যে বলেছেন, ‘১২ বার তো ভোট দিয়েছেন এবার ১৩ বার এর নির্বাচনে হিসেব করে ভোট দেন। আমি ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছি। আমার দল বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে আগামি নির্বাচনে বিএনপি পাস করলে দুই কোটি ফ্যামিলি কার্ড দিবে।’ এছাড়া তিনি নির্বাচনের প্রথম বছরে দুইটি রাস্তা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ভিডিও যাচাই করে সত্যতা পাওয়ায় আহমেদ আযম খানের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর বিধান লঙ্ঘনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
অপরদিকে, একই সংসদীয় আসনে সখীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ছবিসমূহ পর্যালোচনায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। ফলে তাদের দুজনকে টাঙ্গাইলের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে স্থাপিত নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আদালতের কাছে কারণ দর্শাতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর–বাসাইল) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে দল থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সখীপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীব।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে তিনি দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান।পদত্যাগপত্রে তিনি শারীরিক ও পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। রাত ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে ওই আবেদনপত্র তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেন।
এর আগে কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাতে সখীপুর উপজেলার সিলিমপুর এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সানোয়ার হোসেন সজীব তাকে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য দেন।
ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ সময় কেউ কেউ দাবি করেন, তিনি কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সানোয়ার হোসেন সজীব। সোমবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে তিনি বলেন,‘আমি শুধু কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছি। অন্য কোনো দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেইনি। আপাতত রাজনীতির বাইরে আছি।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন,‘আমি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর দলের রাজনীতি করেছি। বিএনপিও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। সে কারণে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে আমার অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব সমর্থন থাকবে।
এবিষয়ে কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে দলের কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুন্নবী সোহেল তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন,‘রাজনৈতিক দল একটি আদর্শিক ঠিকানা। এখানে কেউ আসে, কেউ যায়, কেউ নিষ্ক্রিয় হয়—এটাই স্বাভাবিক। দল এগিয়ে যাবে জনতার সমর্থনে, তার আপন মহিমায়।’
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই বন্ধুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার(২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার কালমেঘা-নলুয়া আঞ্চলিক সড়কের বেলতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার কালিদাস পানাউল্লাহ পাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে লিখন আহমেদ (১৫), একই গ্রামের বল্লাচালা পাড়ার মইনুদ্দিনের ছেলে আবির হোসেন (১৫) ও একই গ্রামের ফুলঝুঁড়িপাড়ার প্রবাসী আব্দুর রউফের ছেলে সাব্বির হাসান (২০)।
নিহত লিখন ও আবির কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও নিহত সাব্বির এইচএসসি পাস করে বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার কালমেঘা-নলুয়া সড়কের বেলতলী এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই মোটরসাইকেলের আরোহী পাঁচজনকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবিরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বাকি চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে লিখন ও সাব্বির মারা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন আবির ও আরেকটি মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন সাব্বির হাসান। নিহত দুই বন্ধু আবির ও লিখন একই মোটরসাইকেলে ছিলেন।
কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বাদল বলেন, নিহত লিখন ও আবির আমার প্রতিষ্ঠানের বর্তমানে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিহত সাব্বির আমার প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী। দুই মোটরসাইকেলের তিনজন নিহত হলেও কাকতালীয়ভাবে তাদের সবার বাড়ি উপজেলার কালিদাস গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, দুটি লাশ থানায় নেওয়া হয়েছে। আরেকটি লাশ ঢাকা থেকে সখীপুর আসছে। পরবর্তীতে আইনানুগ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক স্কুল ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার(২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বেতুয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা ।
মৃত জিহাদ(১০) ওই এলাকার প্রবাসী আনিস মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মৃতের চাচাত ভাই জনি বলেন, “সন্ধ্যার পর বাড়িতে একই বয়সের চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে জিহাদের ঝগড়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জিহাদের মা তাকে বকাঝকা করেন। এরপর সে দৌড়ে নিজের ঘরে চলে যায়।
“রাত ৮টার দিকে ওই ঘরে ঢুকে জিহাদকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
স্থানীয় আরিফুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি মর্মান্তিক, তবে বর্তমান সময়ে যারা বাবা-মা আছেন তাদের জন্য শিক্ষণীয়। শিশুর প্রতি কেমন আচরণ করতে হবে, এ বিষয়ে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।”
সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে প্রথমে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে পরিবারের দাবিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে নিজের বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলেকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ মো: হাফিজুর রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন।
দণ্ডিত আসামি হলো- টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার দড়িপাড়া পশ্চিমপাড়া এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান।
টাঙ্গাইলে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, গত বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক কলহের জের ধরে নিজ বাড়িতে বাবা আব্দুস সামাদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায় তার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান। পরে নিহতের ভাই আবদুর রশিদ সখিপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিচার শেষে রোববার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। আসামি গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই জেলহাজতে আটক রয়েছে।
আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োজিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা মিয়া।রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, এই রায়ে হত্যার বিচারে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আরও সুদৃঢ় হলো।
এই রায়ে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত বিচার প্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তির সঞ্চার হয়।