/ হোম / অর্থনীতি
মধুপুরে আনারসের বাম্পার ফলন, প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ৩ কোটি টাকা - Ekotar Kantho

মধুপুরে আনারসের বাম্পার ফলন, প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ৩ কোটি টাকা

আরমান কবীরঃ আবহাওয়া অনুকূল আর যথাযথ পরিচর্যার কারণে টাঙ্গাইলের মধুপুরে আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। আনারসের রাজ্যে ৩ জাতের আনারস আবাদ হলেও চলতি মৌসুমে ক্যালেন্ডার জাতের আনারসে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে।
মধুপুরের বাজারগুলোতে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার আনারস বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জলছত্র কৃষি মার্কেট, গারোবাজার, মোটেরবাজারসহ অন্যান্য বাজার থেকে প্রতিদিন অন্তত তিন কোটি টাকার আনারস দেশের বিভিন্ন প্রন্তে নিয়ে যাচ্ছে কৃষক-ব্যবসায়িরা।

মধুপুরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, মধুপুরে ৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ক্যালেন্ডার জাতের ৪ হাজার ২২০ হেক্টর, জলডুগি বা হানিকুইন ২ হাজার ৩৯২ হেক্টর এবং এমডি-টু ২৬ হেক্টরে আনারস আবাদ হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দক্ষিণ আমেরিকা, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ের সংযোগস্থলে আনারসের জন্ম হলেও ১৫৪৮ সালে ভারত উপমহাদেশে আনারসের আগমন ঘটে। ১৯৪২ সালে বাংলাদেশের মধুপুরের ইদিলপুর গ্রামের মিজি দয়াময়ী সাংমা মেঘালয় থেকে ৭৫০টি চারা এনে প্রথমে আনারস আবাদ শুরু করেন। বর্তমানে ৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১৭ কোটি আনারস চারা পাহাড়ী অঞ্চলে শোভা পাচ্ছে। শুধুমাত্র ক্যালেন্ডার জাতের প্রায় ১১ কোটি আনারস বাজারজাতের উপযোগি হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৫শ কোটি টাকার উপরে।

সূত্র জানায়, মধুপুরের ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মধ্যে ৮টি ইউনিয়নে আনারস আবাদ হয়। পাহাড়ী ওই ইউনিয়নের বাসিন্দারা ছাড়াও বিভিন্ন এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়িরা আনারস আবাদ করে থাকেন। এদিকে প্রান্তিক চাষিরা ব্যয়বহুল আনারস আবাদ করতে না পেরে তাদের জমি লিজ দিয়ে থাকেন। ধনাঢ্যরা বিঘাপ্রতি ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে দুই বছরের জন্য লিজ নিয়ে চাষাবাদ করেন।

কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, লিজ মানি, জমি প্রস্তুত করণ, সার-কীটনাশক, পিজিআর প্রয়োগ, রোপন ও সংগ্রহ করে বাজারজাত পর্যন্ত প্রতিটি আনারসে ব্যয় হয় ১৫-১৮ টাকা। যাদের নিজস্ব জমি এবং নিজে শ্রম দেন তাদে ব্যয় হয় ১০-১১ টাকা। বর্তমানে এই আনারস ছোটগুলো ১৩-১৭ টাকা, মাঝারি আনারস ২৫-৩৫ টাকা আর বড় আনারস ৩৫-৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্রমাস পর্যন্ত এই আনারস সংগ্রহ ও বিপনণ চলবে।

উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকার ফারুক আহমেদ জানান, কৃষকরা প্রতিদিন ভোরেই ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা, ভ্যান ও সাইকেলসহ বিভিন্ন বাহনে জলছত্র, মোটেরবাজার, গারোবাজার, আশ্রাসহ বিভিন্ন বাজারে আনারস নিয়ে আসেন। এছাড়া বড় কৃষক বা আনারস ব্যবসায়িরা খেত থেকেই ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে থাকেন।

এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গ্রামীণ সড়ক বেয়ে কৃষকরা সাইকেল, অটোরিক্সা, সিএনজি ও ভ্যান রিক্সা দিয়ে বাজারে আনারস নিয়ে আসছেন। অনেকেই রাস্তার পাশে সাড়িবদ্ধভাবে আনারস নিয়ে দাড়িয়ে আছেন। অনেকেই আনারস কেনাবেচায় ব্যস্ত। কেউ কেউ আনারস কিনে স্তুপ করছেন। কেউবা উঠাচ্ছেন ট্রাকে। বিশাল কর্মযজ্ঞে কথা বলার সুযোগও তাদের কম।

কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে আনারস ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। গোপিনাথপুরের লিটন সরকার ২৫ টাকা দরে, বেরীবাইদ গ্রামের রবিউল ৩৫ টাকা দরে, আশ্রা গ্রামের আশরাফ ৪০ টাকা দরে প্রতিটি আনারস বিক্রি করেছেন। এবার লাভের মুখ দেখায় তাদের মুখে আনন্দের ঝিলিক ফুটে উঠেছে।
খুলনার ব্যবসায়ি আব্দুল বারেক জানান, তিনি ৪০ টাকা দরে আনারস কিনেছেন। খুলনায় এই আনারসের ব্যাপক চাহিদা। তারমতো প্রায় সত্তুরের অধিক বেপারি মধুপুরের আনারস দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে থাকেন।
হবিগঞ্জের আনারস ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক জানান, মধুপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় ঢাকা, কুষ্টিয়া, বগুড়া, সিলেট, নাটোর, রাজশাহী, খুলনা, হবিগঞ্জ, নীলফামারী, গাইবান্ধা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ, দিনাজপুরসহ সারা দেশেই আনারস সরবরাহ হয়। মধুপুরের আনারসের চাহিদা ও লাভ দুই বেশি।

জলছত্র ট্রাক ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মুন্সি জানান, জলছত্র কৃষি বাজারসহ গারোবাজার, আউশনারা, মহিষমারা, আশ্রা, মোটেরবাজার, শোলাকুড়ী, দোখলাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্পটে আনারস ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে। বড় কৃষক বা বেপারিরা খেতের পাশেই ট্রাক ভর্তি করে আনারস দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে থাকেন।

কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, মধুপুরের অর্থকরী ফসল আনারসের ঐতিহ্য ধরে রেখে উৎপাদন বাড়ানো গেলে অনেক সম্ভাবনার দাড় উম্মোচন হবে। আনারস বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মূদ্র অর্জনের পাশাপাশির জেম, জেলি, জুস উৎপাদন করে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করার সুযোগ রয়েছে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা জানান, চলতি মৌসুমে আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার আনারসের আকার বড় হওয়ায় কৃষকরা দাম ভালো পাচ্ছে। প্রতিদিন বাজারগুলোতে প্রায় ৩ কোটি টাকার আনারস বিক্রি হচ্ছে। এই মৌসুমে মধুপুরে প্রায় ৭শ কোটি টাকার আনারস বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। আনারস বিদেশে রপ্তানি করা এবং আনারস দিয়ে জেম, জেলিসহ নানা উপকরণ তৈরি করে বিপণনের মাধ্যমে বৈদেশিক মূদ্র অর্জন সম্ভব। এ নিয়ে কৃষি বিভাগ ইতোমধেই কাজ শুরু করছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. জুলাই ২০২৫ ০২:৫৯:এএম ১০ মাস আগে
টাঙ্গাইল পরিবেশক মালিক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি শামীম, সম্পাদক রফিক - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল পরিবেশক মালিক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি শামীম, সম্পাদক রফিক

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশক মালিক সমিতির ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শামীমুর রহমান খান শামীম সভাপতি এবং মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রফিক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকালে শহরের ভিক্টোরিয়া ফুড জোন পার্টি সেন্টারে এ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যজোটের সভাপতি ও সমিতির প্রধান উপদেষ্টা আবুল কালাম মোস্তফা লাবু।

সমিতির সভাপতি শামীমুর রহমান খান শামীমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপদেষ্টা আরফান আলী খান, মীর মহব্বত হোসেন, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও উপদেষ্টা মহব্বত হোসেন, সাইমন তালুকদার রাজিব, আহসান খান আছু, মাহফুজুর রহমান মামুন, দুলাল চন্দ্র সাহা, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল আলীম সিদ্দিকী ও নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রফিক প্রমুখ।

সভার দ্বিতীয় পর্বে সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আগামী তিন বছরের জন্য শামীমুর রহমান খান শামীম সভাপতি ও মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রফিক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।

সভায় পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. জুলাই ২০২৫ ০২:৫৭:এএম ১০ মাস আগে
টাঙ্গাইলে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড মিনি ঠিকাদার সমিতির মানববন্ধন ও স্বারক লিপি প্রদান - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড মিনি ঠিকাদার সমিতির মানববন্ধন ও স্বারক লিপি প্রদান

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে পুরাতন রেট সিউিল বাতিল পূর্বক ৮০ শতাংশ রেট সিডিউল বৃদ্ধির দাবিতে মানববন্ধন ও স্বারক লিপি প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড মিনি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড মিনি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি জেলা শাখার সভাপতি মো. মাছুদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আসিফ খান শেলী, সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নূল আবেদীন, দপ্তর সম্পাদক সজিব চন্দ্র দে, কোষাধ্যক্ষ মো. আমিরুল ইসলাম তালুকদার প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তব্যরা বলেন, প্রতি বছরই কর, ভ্যাট বৃদ্ধি পাচ্ছে, কাজের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এছাড়া শ্রমিকের মুজুরীও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই পুরাতন রেট সিডিউল বাতিল পূর্বক ৮০ শতাংশ রেট সিডিউল বৃদ্ধির দাবি জানানো হয় মানববন্ধন থেকে।

মানববন্ধন শেষে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার মোঃ ছানোয়ার হোসেনের বারবার একটি স্মারক লিপি প্রদান করা হয়।

মানববন্ধন ও স্বারক লিপি প্রদান কর্মসূচিতে সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. জুলাই ২০২৫ ০২:৫৭:এএম ১১ মাস আগে
টাঙ্গাইলে আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ কাজে গাফিলতি, জনদুর্ভোগ চরমে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ কাজে গাফিলতি, জনদুর্ভোগ চরমে

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদারের কাজের গাফিলতিতে নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ কাজ। দীর্ঘ প্রায় তিন বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় এই সড়ক ব্যবহারকারী কয়েক লাখ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে এই বর্ষায় এই রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই সড়ক ব্যবহারকারী জনসাধারণের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রহস্যজনক কারণে ঠিকাদার কাজ শেষ করছেন না।

টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল অংশে টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণের আওতায় ২৪.৬৫০ কি.মি. অংশে রিজিড প্রেভমেন্ট ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ। এতে টাঙ্গাইল অংশে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয় ২শত ৯৪ কোটি ৬০ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা।

প্রকল্পের কাজ পায় আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ও এনডিই নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালের ৩০ জুন ৫টি প্যাকেজের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দীর্ঘ সময় প্যাকেজ ১ ও প্যাকেজ ২ এর কাজ স্থবির হয়ে পড়ে।

তবে আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ ৫ এর অন্তর্ভুক্ত ২টি ব্রীজ ও ২টি কালভার্টের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বাকি দুটি প্যাকেজ ৩ ও ৪ এ কাজ করছে এনডিই নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এরমধ্যে আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ ১ এ ৬ কি.মি. এর বিপরীতে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয়েছে ৬৭ কোটি ৮৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন করেছে মাত্র ৮.৭৫ শতাংশ। এর বিপরীতে বিল উত্তোলন করেছে ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

প্যাকেজ ২ এ ৬ কি.মি. এর বিপরীতে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয়েছে ৬৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন করেছে ২৯.৭৭ শতাংশ। এর বিপরীতে বিল উত্তোলন করা হয়েছে ১৯ কোটি ৮১ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

প্যাকেজ ৫-এর ২টি ব্রীজ ও ২টি কালভার্টের বিপরীতে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয়েছে ৪৪ কোটি ১৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন করেছে মাত্র ২.২১ শতাংশ। এর বিপরীতে বিল উত্তোলন করেছে ৯৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় শেষ করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন, আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। সময় বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে কোন আবেদন জমা করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি।

তবে এনডিই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ২টি প্যাকেজর মধ্যে একটির ৩-এর ৯২ শতাংশ কাজ শেষ করেছে। বাকি প্যাকেজ ৪-এর ৬৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বেশিরভাগ অংশে খানাখন্দসহ বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

এই নির্মানাধীন সড়কে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আব্দুর রহমান বলেন, সড়কের এমন অবস্থা একটু বৃষ্টি হলেই যাওয়ার উপায় নেই। না যায় হাটা না চালানো যায় রিকশা। যে টাকা আয় করি তার বেশিরভাগই রিকশা মেরামত করতেই খরচ হয়ে যায় ।

মোটরসাইকেল আরোহী ইকবাল কবীর বলেন, উন্নয়নের নামে ভোগান্তি শুরু হয়েছে। কষ্ট লাঘবের জন্য সড়কের উন্নয়ন অথচ কষ্ট আরো বেড়ে গেছে। লাভ হলো কি?

স্থানীয় বাসিন্দা আনিসুল হক বলেন, আওয়ামী লীগের দোসররা তো নাই। তাহলে ভোগান্তি লাঘব হচ্ছে না কেন? এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তদন্ত করার জোর দাবি জানান তিনি।

আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নমিনেটেড সাব ঠিকাদারের প্রজেক্ট ম্যানেজার আব্দুল মান্নান বলেন, আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রথমে যে সাব ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ শুরু করে তাদের অপারগতায় দীর্ঘদিন কাজ স্থবির হয়ে পড়ে। পরে আমরা উক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নমিনেটেড সাব ঠিকাদার হিসেবে কাজ শুরু করি।

তিনি আরও বলেন, ব্রিজ নির্মাণের সময় আছে। নির্দিষ্ট সময়েই তা শেষ হবে বলে আশা করছি। রাস্তার কাজ শেষ করতে ব্যাংক জটিলতা দেখা দিয়েছে। একারনে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। আশা করছি আমাদের প্রতিষ্ঠান খুবশীঘ্রই ব্যাংক জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারবে । তাছাড়া নকশায় রাস্তা অন্তর্ভুক্ত জমির মালিকগণ তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বিলম্ব করা ও জমি অধিগ্রহনের টাকা পরিশোধ না করায় কাজের গতি ধীর হয়েছে। তবে শীঘ্রই এইসব সমস্যা সমাধান পূর্বক প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মোল্লা বলেন, আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ (প্যাকেজ ১, প্যাকেজ ২ ও প্যাকেজ ৫) গাফিলতির কারনে গত কয়েক মাস যাবত কাজটি শেষ করার কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, দাপ্তরিক তাগিদ ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মহাদয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। তবুও কাজটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কাজের চুক্তির সাথে নিরাপত্তা জামানতের মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নতুন নিরাপত্তা জামানত দাখিল না করায় সময় বৃদ্ধির আবেদন গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয়কে গত ৫ জানুয়ারী এ বিষয়ে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান বলেন, গত বছরই ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাদেরকে গত ৪ মার্চ সড়ক বিভাগ টাঙ্গাইল, ১০ মার্চ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মহোদয় ও পিপিআর ২০০৮ মোতাবেক চুক্তি বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশসহ একাধিক নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ২৩ জুন স্টিয়ারিং কমিটির সভায় ওই সড়কের বিষয়ে সচিব মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে টার্মিনেশন করা হবে। পরবর্তীতে তাদের লাইন্সেস হ্যাম্পার করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. জুলাই ২০২৫ ০২:১৯:এএম ১১ মাস আগে
টাঙ্গাইলে প্রায় দুই যুগ পর গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করল এসডিএস - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে প্রায় দুই যুগ পর গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করল এসডিএস

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে বন্ধ হয়ে যাওয়া বেসরকারি সংস্থা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সংসদের (এসডিএস) তিন শতাধিক গ্রাহককে প্রায় দুই যুগ পর টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে জেলা সদরে অবস্থিত টাঙ্গাইল শিশু একাডেমির মিলনায়তনে নাজমুল এগ্রোফিসারিজ অ্যান্ড ডেইরী ফার্মের উদ্যোগে গ্রাহকদের প্রায় এক কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়। ঈদের আগেও অর্ধশতাধিক গ্রাহকের মাঝে ৩০ লক্ষাধিক টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

টাকা ফেরত পাওয়া মো. ওবায়দুল্ল্যাহ বলেন, ৫০ হাজার টাকা খুব কষ্ট করে জমিয়েছিলাম। টাকা গুলো ফেরত পেয়ে খুবই উপকার হলো। টাকা দিয়ে মেয়ের পড়াশোনার কাজে ব্যয় করতে পারবো।

মনোয়ারা বেগম বলেন, এই কষ্টের টাকা ফেরত পাবো তা কল্পনাও করিনি। প্রায় ২৫ বছর পর টাকা গুলো ফেরত পেয়ে খুব ভাল লাগছে।

এসডিএস গ্রাহক কমিটির সভাপতি সালাম চাকলাদার বলেন, গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে আমরা দীর্ঘদিন আইনী লড়াই করেছি। যাদের ডকুমেন্ট আছে, তাদেরই টাকা দেওয়া হচ্ছে।

এসডিএসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হুদা বলেন, গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। যাদের কাছে ডকুমেন্ট আছে, তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে তাদেরই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রম সারাদেশেই ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ) ইয়াসির আরাফাত, সরকারি কৌশলী শফিকুল ইসলাম রিপন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মেদ, এসডিএসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হুদা , কাতুলি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সুমন দেওয়ান সম্মুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২. জুলাই ২০২৫ ১০:৫১:পিএম ১১ মাস আগে
ইনোভেটিভ “বিল্ডার অফ দা ইয়ার এশিয়া” পুরস্কার পেলেন আমিনুর রহমান - Ekotar Kantho

ইনোভেটিভ “বিল্ডার অফ দা ইয়ার এশিয়া” পুরস্কার পেলেন আমিনুর রহমান

আরমান কবীরঃ ইনোভেটিভ বিল্ডার অফ দা ইয়ার এশিয়া-২০২৫ পুরস্কারে ভূষিত হলেন বাংলাদেশের জায়ান বিল্ডার্স এন্ড ডেভলপার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুর রহমান।

জায়ান বিল্ডার্স এন্ড ডেভলপার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুর রহমান বলেন, আজকের এই অর্জন পুরো জায়ান বিল্ডার্স টিমের সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমের ফসল। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের। আমরা টেকসই ও উদ্ভাবনী নগর জীবন গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামীতে আমাদের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো।

শুক্রবার (২৭ জুন ) রাতে নেপালের রাজধানী কাঠমন্ডুতে অবস্থিত হোটেল ক্রিস্টাল পাশুপতিতে আয়োজিত এশিয়ান বিজনেস আইকনিক এওয়ার্ড সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় আমিনুর রহমানের হাতে।

এশিয়ান বিজনেস পার্টনার শিপের নির্বাহী পরিচালক মো.গোলাম মজনুর সভাপতিত্বে আয়োজিত সামিটে প্রধান অতিথি ছিলেন নেপালের বন ও পরিবেশমন্ত্রী আইন বাহাদুর শাস্ত্রী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, নেপালের সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী আনন্দ প্রসাদ পোখরেল, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রী কুন্তী কুমারী শাহী, ভৌত অবকাঠামো বিষয়ক মন্ত্রী কৃষ্ণ লাল ভদেল প্রমুখ।

আয়োজকরা জানান, এই অনুষ্ঠানে এশিয়ার ৮টি দেশের মোট ৩২জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করে।

জায়ান বিল্ডার্স এন্ড ডেভলপার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুর রহমান বলেন, আজকের এই অর্জন পুরো জায়ান বিল্ডার্স টিমের সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমের ফসল। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের। আমরা টেকসই ও উদ্ভাবনী নগর জীবন গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামীতে আমাদের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো।

অনুষ্ঠান শেষে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গালা ডিনারের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ এশিয়ার ৫টি দেশের শিল্পীরা অংশগ্রহণ করে। পরে ৮ টি দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার এই গালা ডিনারে পরিবেশন করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১. জুলাই ২০২৫ ০২:৪৯:এএম ১১ মাস আগে
বিষাক্ত কীটনাশক বন্ধে প্রয়োজনে রাস্তায় নামবো:  উপদেষ্টা ফরিদা আখতার - Ekotar Kantho

বিষাক্ত কীটনাশক বন্ধে প্রয়োজনে রাস্তায় নামবো: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

আরমান কবীরঃ মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, কীটনাশকের প্রচারণা দেখে এটি ভাল কিছু মনে হলেও এটি আসলে বিষ। বিষকে কিভাবে আমরা খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহার করি? এই বিষাক্ত কীটনাশক বন্ধ করতে প্রয়োজনে রাস্তায় নামবো।

শনিবার (২৮ জুন) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের মেইন রোডে অবস্থিত বুরো বাংলাদেশের আঞ্চলিক কার্যালয়ের হলরুমে সবুজ পৃথিবী ও নয়াকৃষি আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত নিরাপদ খাদ্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বিষ দিয়ে মাছও ধরা হচ্ছে। গরু ছাগল ঘাস খেতে পারছে না। সেখানে আগাছা নাশক ছিটিয়ে দিয়ে ঘাস মেরে ফেলে তা বিষাক্ত করা হচ্ছে। এ বিষাক্ত পরিবেশ থেকে আমাদের বের হতে হবে। বাংলাদেশ অনেক সুন্দর দেশ, সমৃদ্ধশালী দেশ। আমরা চাইলে এ দেশকে আরও সুখী সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।

জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য আরো রাখেন, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. আবু নইম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, বুরো ময়মনসিংহ বিভাগের ব্যবস্থাপক ইশতিয়াক আহমেদ, আসপাডা পরিবেশ আন্দোলনের নির্বাহী পরিচালক লায়ন এম এ রশিদ, উবিনিগেরর পরিচালক সীমা দাস সীমু, সবুজ পৃথিবীর সাধারণ সম্পাদক শহিদ মাহমুদ, কৃষক ছানোয়ার হোসেন প্রমুখ।

এ সময় বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা ওপরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ পৃথিবী ও নয়াকৃষি আন্দোলনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. জুন ২০২৫ ০৩:৫৩:এএম ১১ মাস আগে
২৪ ঘন্টায় যমুনা সেতুতে ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার টোল আদায় - Ekotar Kantho

২৪ ঘন্টায় যমুনা সেতুতে ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার টোল আদায়

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের যমুনা সেতুতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ হাজার ৫৬৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৬ লাখ ৬৩ হাজার ৯০০ টাকা।

বুধবার (৪ জুন) সকালে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ হাজার ৫৬৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। তার মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ১৭ হাজার ৫৬৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৪ লাখ ৮২ হাজার ৮৫০ টাকা।
অপরদিকে, ঢাকাগামী ১৫ হাজার ৯০৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ৮১ হাজার ৫০ টাকা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. জুন ২০২৫ ০২:৪৬:এএম ১২ মাস আগে
টাঙ্গাইলে ৫ বছরেও শেষ হয়নি ব্রিজের নির্মাণ কাজ, ঠিকাদার লাপাত্তা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ৫ বছরেও শেষ হয়নি ব্রিজের নির্মাণ কাজ, ঠিকাদার লাপাত্তা

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ঝিনাই নদীর ওপর একটি ব্রিজের নির্মাণকাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। প্রায় ছয় মাস আগে কাজটি ফেলে রেখে লাপাত্তা হয়েছেন ঠিকাদার। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ। নদীটির দুইপাড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৌকায় করে প্রতিনিয়ত পারাপার হতে হচ্ছে।

জানা গেছে, বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার সংযোগস্থল কাঞ্চনপুর কাজিরাপাড়া এলাকায় ঝিনাই নদীর ওপর ব্রিজটি প্রায় ১০ বছর আগে পানির স্রোতে ভেঙে যায়। এরপর ২০২০ সালে ২৭ কোটি ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮ টাকা ব্যয়ে সেখানে নতুন করে ২৫৬ মিটার গার্ডার ব্রিজের অনুমোদন হয়। কাজটি পায় হায়দার কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড এন্ড মো. লিয়াকত আলী জেবি নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ওই বছরের ১৮ মার্চ নতুন ব্র্রিজের কাজ শুরু করে। ব্রিজটির নির্মাণকাজ ২০২২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও শেষ করতে পারেনি। ঠিকাদানী প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬ মাস আগে নির্মাণকাজটি বন্ধ রেখে রাতের আধাঁরে পালিয়ে যায়। এই দীর্ঘ ছয় মাসেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কেউই ব্রিজটি দেখতেও আসেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান বলেন, ‘একজন মানুষ মারা গেলে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক ঘুরে লাশ দাফন করতে হয়। ব্রিজটির কারণে নদীর দুইপাড়ের মানুষের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্ভোগ লাগবে এই নদীতে ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলমান ছিল। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ ফেলে রেখে চলে গেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল আলম খান বলেন, ‘এই ব্রিজটি বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার জন্য খুবই জরুরি। এই ব্রিজ দিয়ে লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতস্থল। এখানে একটি ঈদগা মাঠ রয়েছে, সেখানে ছয়টি গ্রামের মানুষ একত্রে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এছাড়াও তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য একটি কবরস্থান রয়েছে। মানুষ মারা গেলে নৌকায় করে লাশ নিয়ে দাফন করতে হয়। নদীর দুইপাড়ে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্রিজ না থাকায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ নৌকাযোগে পারাপার হচ্ছে। প্রায় ছয় বছর ধরে ব্রিজের নির্মাণকাজ চলমান ছিল। এই দীর্ঘ সময়েও কাজটি শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। এমতাবস্থায় প্রায় ছয় মাস হলো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্রিজের নির্মাণকাজ বন্ধ করে পালিয়ে গেছে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আশরাফুজ্জামান বক্তার বলেন, ‘কাঞ্চনপুর কাজিরাপাড়ায় ঝিনাই নদীর ওপর ২৬৬ মিটার ব্রিজের কাজটি ২০১৯ সালে টেন্ডার হয়। ঠিকাদানী প্রতিষ্ঠান শুরুতেই বিলম্ব করে কাজ শুরু করে। প্রথমে কাজের কিছুটা অগ্রগতি ছিল। এক বছর পর থেকে কাজের গতি কমে যায়। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন- ঠিদাকারী প্রতিষ্ঠান যদি যথা সময়ে কাজ না করে তাহলে টেন্ডার বাতিল করা হবে। ব্রিজটির কারণে অসংখ্য মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। ব্রিজটি দ্রুতসময়ের মধ্যে নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ‘বাসাইল উপজেলার কাজিরাপাড়ায় ঝিনাই নদীর ওপর ২৫৬ মিটার ব্রিজের কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজটির বর্তমানে অগ্রগতি ৬০ শতাংশ। বেশ কিছুদিন ধরে কাজটি বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন সময় ঠিকাদারকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কাজ শুরু করে আবার বন্ধ করে দেয়। কাজটি বাতিলের জন্য আমাদের জেলা কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যেহেতু কাজটি অনেক ধরে বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার। সুতরাং কাজটি বাতিল করার জন্য আবার সুপারিশ করা হবে। কাজটি বন্ধ রাখায় ঠিকাদারকে জরিমানার আওতায় আনার জন্য প্রস্তাব করা হবে। রি-টেন্ডার করে খুব দ্রুত কাজটি শেষ করা হবে।’

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাইড ইঞ্জিনিয়ার মো. আখতার হোসেন বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকিং-এ সমস্যা হচ্ছে। এজন্য কাজটি বন্ধ রয়েছে। আমাদের সাথে ন্যাশনাল ব্যাংকের চুক্তি রয়েছে। সেখানে আমার একটি বিল পড়ে আছে। ব্যাংকিং-এ সমস্যা সমাধান না হলে তো ব্রিজের কাজটি আমাদের করতে দিবে না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও )মোছা. আকলিমা বেগম বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে। মূলত ঠিকাদারের কারণে কাজটি বন্ধ রয়েছে। তার প্রেক্ষিতে ঠিকাদারকে সর্বশেষ পত্র দিয়েছে কাজটি করার জন্য। ঠিকাদার কাজটি না করলে পুনরায় টেন্ডার করে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কাজটি দ্রুত শেষ করবেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. মে ২০২৫ ০২:০৯:এএম ১ বছর আগে
দেশের দীর্ঘতম যমুনা রেলসেতুর উদ্বোধন - Ekotar Kantho

দেশের দীর্ঘতম যমুনা রেলসেতুর উদ্বোধন

সাহান হাসানঃ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে সেতু ‘যমুনা রেলসেতু’। এটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যমুনার বুকে ১২০ কিলোমিটার গতিতে চলবে ট্রেন।

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হলো এটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। একই সঙ্গে দু’অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলো।

মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) দুপুর সোয়া ১২টায় সেতুতে ওঠে ট্রেন। সাড়ে তিন মিনিটে সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জ অংশে পৌঁছায় ট্রেনটি।

এর আগে পৌনে ১২টার দিকে সেতুর পূর্ব পাশে ইব্রাহিমাবাদ স্টেশন এলাকায় ফলক উন্মোচন, ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব এম ফাহিমুল ইসলাম সেতুটির উদ্বোধন করেন।

এর ফলে যোগাযোগ, বাণিজ্য ও অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। বিশেষ করে উত্তর-দক্ষিণ ও পশ্চিম অঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ আরও সহজ হলো। এতে বাংলাদেশর সম্ভাবনাময় অগ্রযাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো।

তবে ডাবল লেনের হলেও বর্তমানে সিঙ্গেল লেন চালু হওয়ায় সেতুটির পুরোপুরি সুফল সহসাই মিলছে না যাত্রীদের।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক এম আফজাল হোসেনের সভাপতিত্ব উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং জাপানের বৈদেশিক উন্নয়ন সংস্থা জাইকার দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মহা-পরিচালক ইতো তেরুয়ুকি।

এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মাসুদুর রহমান।

সেতুটি ৫০টি পিলার এবং ৪৯টি স্প্যানের ওপর নির্মিত। নতুন রেলওয়ে সেতুটি যমুনা বহুমুখী সেতুর ৩০০ মিটার উজানে অবস্থিত। দেশের দীর্ঘতম ও আধুনিক এই সেতুর ওপর দিয়ে দিনে ৮৮টি ট্রেন দ্রততগতিতে চলাচল করতে পারবে। ১৯৯৮ সালে যমুনা বহুমুখী সেতু উদ্বোধনের পর থেকে প্রায় ৩৮টি ট্রেন প্রতিদিন তুলনামূলকভাবে ধীর গতিতে যাতায়াত করে।

উদ্বোধন শেষে ট্রেনের অতিথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পূর্ব ইব্রাহিমাবাদ স্টেশন থেকে সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জের পশ্চিম প্রান্তে সায়দাবাদ রেলওয়ে স্টেশনে যান। সেখানে সংবাদ সম্মেলন শেষে পুনরায় সেতুর পূর্ব প্রান্তে ফিরে আসবেন৷ এর আগে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী থেকে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রথমবারের মতো যাত্রী নিয়ে যমুনা রেল সেতু পার হয়ে ঢাকায় পৌঁছায়। পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানোর সময় একটি ট্রেন ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে সেতুটি অতিক্রম করেছিল। এতে সেতুটি পাড়ি দিতে সময় লেগেছিল প্রায় সাড়ে ৩ মিনিট৷

সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৬ হাজার ৭৮০ দশমিক ৯৬ কোটি টাকা। যার ৭২ দশমিক ৪ শতাংশ ঋণ হিসেবে দিয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এবং বাকি অর্থ সরকার দিয়েছে। জাপানের ওটিজি এবং আইএইচআই যৌথভাবে সেতুটি নির্মাণ করেছে।

২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি এই সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে। ২০২১ সালের মার্চে পিলার নির্মাণের জন্য পাইলিং কাজ শুরু হয়। ৪.৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই রেলসেতু দেশের দীর্ঘতম প্রথম ডাবল ট্রাকের ডুয়েল গেজের সেতু।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. মার্চ ২০২৫ ০৮:১৪:পিএম ১ বছর আগে
রূপালী ব্যাংকের ময়মনসিংহ বিভাগীয় ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত - Ekotar Kantho

রূপালী ব্যাংকের ময়মনসিংহ বিভাগীয় ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আরমান কবীরঃ রূপালী ব্যাংক পিএলসি’র ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের আওতাধীন শাখা ব্যবস্থাপকদের অংশগ্রহণে ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার দাপনাজোর ওয়াটার গার্ডেনের সম্মেলন কক্ষে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

এই ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুপালী ব্যাংক পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।

এসময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক “সময় নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা” অনুযায়ী খেলাপী ঋণ আদায় এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে শাখা ব্যবস্থাপকদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

এতে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. ইকবাল হোসেন খাঁ । সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান তানভীর।

এ সময় বিভাগের আওতাধীন ৪ জন জোনাল ম্যানেজার ও ৪৯টি শাখার ব্যবস্থাপক এবং ৭ টি উপশাখার ইনচার্জ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১. মার্চ ২০২৫ ০২:০২:এএম ১ বছর আগে
গত ৫ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ বিলিয়ন ডলার: আহসান এইচ মনসুর - Ekotar Kantho

গত ৫ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ বিলিয়ন ডলার: আহসান এইচ মনসুর

একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, বাংলাদেশে এখন রিজার্ভ ২০ বিলিয়নের উপরে রয়েছে। গত পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ বিলিয়ন। প্রথম দিকে বলেছিলাম ১০টি ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার পথে। কিন্তু সেগুলো এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রেক্ষাপট এখন পরিবর্তন হচ্ছে।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা অডিটরিয়ামে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র ৪০০ তম শাখা হিসেবে ঘাটাইল শাখার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংকিং খাতের ধস নিয়ে অনেকেই চিন্তিত ছিলেন। সেখান থেকে এখন ব্যাংকগুলো যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সেটাই বড় বিষয়। এখন আর এগুলো পড়ে যাবে না। একটিকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে আগাতে পারবে না। রাষ্ট্রের অর্থনীতি পূর্ণ গঠন করতে হলে এই ব্যাংকিং খাতকে পূর্ণ গঠন করতে হবে। সব মিলিয়ে ইসলামী ব্যাংক এখন শীর্ষেই অবস্থান করছে এবং আন্তর্জাতিক মানে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। ইসলামী ব্যাংকিং খাতকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অর্থনীতিতে কতগুলো সংকট ছিল। বৈশ্বিক বাণিজ্য আমাদের বিশাল ঘাটতি ছিল। রিজার্ভের পতন হচ্ছিল। এই জায়গা থেকে আমরা অনেকটুকু বের হয়ে এসেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ আর কমছে না। গত আগস্ট মাসের পরে বাংলাদেশ ব্যাংক কোন ডলার বিক্রি করেনি। কাজেই আমাদের রিজার্ভ কমবে না, বাড়বেই। রেমিট্যান্সের বিরাট প্রবাহ পরিবর্তন হয়েছে। গত পাঁচ মাসে আমাদের ৩ বিলিয়ন অতিরিক্ত রেমিট্যান্স এসেছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় অর্থের পাচার কমে গেছে।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ মাসুদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ড. এম মাসুদ রহমান, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, ইনডিপেন্ডেন্ট ডাইরেক্টর মোহাম্মদ খুরশীদ ওয়াহাব প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্ট মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. ডিসেম্বর ২০২৪ ০২:১৬:এএম ১ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।