/ হোম / জাতীয়
মুঘল প্রেমের ঐতিহ্যের খাবার বাকরখানি এখন টাঙ্গাইলে - Ekotar Kantho

মুঘল প্রেমের ঐতিহ্যের খাবার বাকরখানি এখন টাঙ্গাইলে

আরমান কবীর:বাকরখানি শুধু একটা রুটি না, এটা মুঘল আমলের একটা প্রেম-কাহিনী আর ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যবাহী ঢাকার বাকরখানি এখন তৈরি হচ্ছে টাঙ্গাইল শহরেই।

শহরের পার্ক বাজারের ব্যস্ততম এলাকা শনির আখড়ার সামনে ৩৭ বছরের অভিজ্ঞ কারিগর সোহেল মিয়া তৈরি করছেন বাকরখানি। তার হাত ধরেই মুঘল আমলের স্বাদ এখন টাঙ্গাইলবাসীর ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে।

সোহেল মিয়ার দোকানে মিষ্টি ও নোনতা দুই ধরনের বাকরখানি পাওয়া যায়।

দাম প্রতি কেজি মিষ্টি বাকরখানি ২২০ টাকা, নোনতা ২০০ টাকা। প্রতি পিস ১০ টাকা। কেজিতে গড়ে ২৪টি বাকরখানি ধরে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাকরখানির মিষ্টি সুগন্ধ পুরো এলাকায় এক ধরনের আবেশ তৈরি করছে। দিনে গড়ে ৪ হাজার টাকার বাকরখানি বিক্রি হচ্ছে এখানে। ভাগিনা শাহিন মিয়া মামাকে সাহায্য করেন। পরিবার নিয়ে তারা থাকেন শহরের আদালত পাড়া এলাকায়।

সোহেল মিয়ার আদি বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে। প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জে এসে বাকরখানি তৈরির কাজ শেখেন। দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে এই পেশায় আছেন।

দুই বছর হলো টাঙ্গাইলে এসেছেন। পার্ক বাজারে মির্জা বাহরুলের দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন।

তিনি বলেন, “আগে লাকড়ি বা কয়লার চুলায় বাকরখানি তৈরি হতো। এখন মাইক্রোওভেনে বানাই। টাঙ্গাইলের মানুষ এখনও পুরোপুরি বাকরখানি খাওয়া শেখেনি। তবে ধীরে ধীরে বিক্রি বাড়ছে।”

তিনি আরো বলেন,ঘি, ময়দা, চিনি, দুধ, তিল – এগুলোই বাকরখানির মূল উপাদান।

কোদালিয়া এলাকার নাজমুল আহসান ঢাকার লালবাগে থাকতেন। সেখান থেকেই সকালের চায়ের সাথে বাকরখানি খাওয়ার অভ্যাস। তিনি বলেন, “পরিবারের জন্য ২ কেজি নোনতা বাকরখানি নিলাম। সকাল-সন্ধ্যার চায়ের সাথে খাব।”

স্কুলপড়ুয়া ছেলে মাহিনকে নিয়ে আসা মিলি বেগম বলেন, “ছেলের পছন্দ মিষ্টি বাকরখানি। তাই ১ কেজি ২২০ টাকা দিয়ে কিনলাম। এখানকার স্বাদ ও মান দুইটাই ভালো। বাজার করার ফাঁকে মাঝে মাঝে কিনে নিয়ে যাই।”

জানা গেছে,বাকরখানির জন্ম ১৭ শতকে মুঘল আমলের ঢাকায়। মুঘল সুবেদার ও নবাবরা সকালের নাস্তা ও চায়ের সাথে এটা খেতেন কারণ এটি সহজে নষ্ট হয় না।

নামকরণের পেছনে আছে করুণ প্রেম কাহিনী। মুঘল আমলে ঢাকার নায়েবে নাজিম মির্জা বাকর খান প্রেমে পড়েন নর্তকী খানি বেগমের। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে তাদের মিলন হয়নি। শোকে বাকর খানের জন্য রাঁধুনি যে শক্ত রুটি বানিয়েছিলেন তার নাম হয় বাকর + খানি = বাকরখানি।

আদিতে এই সুস্বাদু খাদ্য ২ প্রকার ছিল, গায়ে গায়ে বাকরখানি: পাতলা, খাস্তা। চায়ে ভিজিয়ে খাওয়া হতো। চাল্লা বাকরখানি: মোটা, নরম। উপরে তিল-পোস্ত দেওয়া থাকতো।পরে যোগ হয় মিষ্টি, নোনতা, চিনি ও মাওয়া বাকরখানি। ব্রিটিশরা একে “Bengal Biscuit” বলতো। পুরান ঢাকার লালবাগ, নাজিরাবাজার, চকবাজার ছিল এর মূল কেন্দ্র। দেশভাগের পর এটি সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

মুঘল আমলের সেই প্রেম আর ঐতিহ্যের বাকরখানি এখন টাঙ্গাইলের পার্ক বাজারে নতুন করে প্রাণ পাচ্ছে। সোহেল মিয়ার মতো কারিগরদের হাত ধরে ঐতিহ্য টিকে থাকুক – এমনটাই প্রত্যাশা টাঙ্গাইলবাসীর।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. জুলাই ২০২৬ ১১:৩২:পিএম ১ সপ্তাহ আগে
জেলার মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি: প্রতিমন্ত্রী টুকু - Ekotar Kantho

জেলার মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি: প্রতিমন্ত্রী টুকু

আরমান কবীরঃ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, টাঙ্গাইল জেলার মানুষ যাতে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে লক্ষ্যে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। হাসপাতালের জনবল সংকট দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করা হবে। তবে নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সভায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই সব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত মানবিক ও দায়িত্বপূর্ণ। মানুষ অসুস্থ হলেই সর্বপ্রথম হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়। তাই চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সীমিত জনবল থাকলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।

এ সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক শরীফা হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন মিঞা, হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু ,সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন, চিকিৎসকবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে হাসপাতালের পরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

সভায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকট দূরীকরণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান বৃদ্ধি, ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নয়ন, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. জুলাই ২০২৬ ১২:৫৫:এএম ১ সপ্তাহ আগে
ঢাকামুখি স্রোত কমেছে: টাঙ্গাইলের দু’টি হাসপাতালে মিলছে উন্নত চিকিৎসা  - Ekotar Kantho

ঢাকামুখি স্রোত কমেছে: টাঙ্গাইলের দু’টি হাসপাতালে মিলছে উন্নত চিকিৎসা 

আরমান কবীরঃ একসময় টাঙ্গাইলের মানুষ জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকা-ময়মনসিংহমুখী হতেন। অ্যাম্বুলেন্সে ৩-৪ ঘণ্টার যাত্রা, পথে রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা ছিল নিত্যসঙ্গী। সাথে যোগ হতো অতিরিক্ত অর্থ খরচ।

কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই চিত্র পাল্টেছে। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ৭৫০ সজ্জার সমন্বিত মেডিকেল হাব। এটিকে এখন জেলার চিকিৎসা খাতের ‘নতুন দিগন্ত’ বলছেন সবাই। সঙ্গত কারণেই চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও ময়মনসিংহ মুখি রোগীর স্রোত কমেছে অনেকটাই।

শহরের উত্তর দিকে পাশাপাশি অবস্থিত এই দুটি হাসপাতাল। জেনারেল হাসপাতাল ৫০ শয্যার সেবা দিয়ে আসছে সেই ১৯৭৪ সাল থেকে। পরে এটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি কলেজটির প্রথম ব্যাচের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার মাধ্যমে এর একাডেমিক যাত্রা শুরু হয়।এখন চিকিৎসা ও শিক্ষার বড় কেন্দ্র এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দুই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রোগী রেফার, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কনসালটেশন ও যন্ত্রপাতির শেয়ারিং হওয়ায় সেবার মান বেড়েছে বহুগুণ।

বৈশ্বিক মহামারি করোনার সময় এই হাবই ছিল জেলার ভরসা। আইসোলেশন ওয়ার্ড, আইসিইউ, অক্সিজেন সাপ্লাই সব একসাথে ম্যানেজ করে প্রাণ বাঁচিয়েছে জেলার হাজারো মানুষের।

আগে সিটি স্ক্যান, হার্টের ইকোর জন্য ঢাকায় দৌড়াতে হতো। এখন টাঙ্গাইলেই মিলছে এই সেবা। গত ৩ বছরে সরকারি বরাদ্দে যুক্ত হয়েছে, ১টি সিটি স্ক্যান, ল্যাপারোস্কপি সেট ও আধুনিক ল্যাব।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস জানান ,“আমরা এখন ব্রেন স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, বড় অপারেশন, ট্রমা কেস সবই এখানে ম্যানেজ করছি। মেডিকেল শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নরা ২৪ ঘণ্টা থাকায় জরুরি সেবা আগের চেয়ে ৫০% দ্রুত হয়েছে।”

তিনি আরো জানান,খুব দ্রুতই নাক,কান গলা (ইএনটি) বিভাগ, চক্ষু বিভাগ ও আই সি ইউ ইউনিটের চালুর প্রচেষ্টা চলছে। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সহযোগিতায় খুব দ্রুতই এই বিভাগ গুলো চালু করা হবে।আরেকটি চ্যালেঞ্জ জনবল। ৫০০ শয্যার বিপরীতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও নার্সের সংখ্যা কম। পদ ফাঁকা থাকায় চাপ বাড়ছে কর্মরতদের উপর।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডঃ সাইফুর রহমান খান বলেন, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সম্প্রতি ১০ শয্যার আইসিইউ চালু করা হয়েছে। এ ছাড়াও ডাইরিয়ার ও হামের আলাদা ইউনিট রয়েছে। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার পরও ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে এখন প্রায় ৪০০ রোগীর সেবা দেওয়া হচ্ছে, যেটা জেনারেল হাসপাতালে সেবার মান ভালোর অন্যতম নির্দেশক। আশা করি, ভবিষ্যতে এই সেবার মান নিশ্চিত করতে সরকার মহোদয় জেনারেল হাসপাতালের জনবলের অভাব পুরণে সহায়তা করবেন।

সখীপুরের রেহেনা বেগম সিজারের জন্য এসেছেন। তিনি বলেন, “আগে ঢাকার কথা শুনলেই ভয় লাগত। এখন এখানেই ভালো ডাক্তার, ভালো অপারেশন। খরচ অর্ধেক।”সরকারকে ধন্যবাদ।

দেলদুয়ার উপজেলার জাঙ্গালিয়ার গ্রামের আহমেদ আলী(৭৪)র স্ট্রোক হয়েছিল আট দিন আগে। আট দিনের চিকিৎসার শেষে পর আজকে তাকে রিলিজ করেছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট, তিনি জানান, টাঙ্গাইলে চিকিৎসা সেবার অনেক উন্নত হয়েছে, আগে স্ট্রোকের চিকিৎসা টাঙ্গাইলে ছিলনা, ঢাকায় রেফার্ড করা হতো, এখন টাঙ্গাইলে স্ট্রোকের উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের দেলদা গ্রামের মিনা চৌধুরী (৬০) পেটে ব্যথা ও জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।তিন দিনের চিকিৎসা শেষে আজকেই তিনি বাড়ি ফিরছেন, হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় তিনি সন্তুষ্ট। পরিবার পরিজনের সাথে হাসি মুখে বাড়ী ফিরছেন তিনি।

তবে অভিযোগও আছে বিস্তর। ওয়ার্ডে বেডের চাপ, টয়লেটের সংকট ও বিশুদ্ধ পানির দাবি জানিয়েছেন অনেকে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে। এ ছাড়াও এক শ্রেণীর ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল ও মেডিকেল রিপ্রেসেন্টেটিভদের দৌরাত্ম্যে রয়েছে।

এছাড়াও লোকেশনের সমস্যা আছে। হাসপাতালের কাছেই নতুন বাস টার্মিনাল। ফলে অ্যাম্বুলেন্স আটকায়, রোগীর স্বজনদের ভোগান্তি হয় যানজটের কারণে।

টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি অকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “রাবনায় নতুন টার্মিনাল হলে এই মেডিকেল হাব আরও প্রাণ ফিরে পাবে।”

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন,সরকারের পরিকল্পনা বড়। ক্যান্সার ইউনিট, বার্ন ইউনিট, ক্যাথল্যাব ও পেডিয়াট্রিক আইসিইউ স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। মেডিকেল কলেজে গবেষণা সেল চালু হলে নতুন ওষুধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও কাজ হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালনা পরিষদের গত ১১ জুন সভাপতি নির্বাচিত হন।

দায়িত্ব নিয়েই তিনি বলেন “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে টাঙ্গাইলকে আমরা স্বাস্থ্যসেবার মডেল জেলা হিসেবে গড়তে চাই। ৭৫০ সজ্জার এই হাব হবে তারই শুরু।”

টাঙ্গাইলের এই মেডিকেল হাব এখন আর শুধু একটি জেলার হাসপাতাল নয়। এটি উত্তরবঙ্গের ৫-৬টি জেলার মানুষের ভবিষ্যতে ভরসার স্থল হয়ে উঠবে এমন প্রত্যাশা অভিজ্ঞ জনের । চ্যালেঞ্জ আছে, তবে সম্ভাবনা তার চেয়ে বড়।

পর্যাপ্ত বরাদ্দ, জনবল ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে টাঙ্গাইল হবে দেশের অন্যতম আধুনিক চিকিৎসা নগরী। আর তখন ঢাকামুখী রোগীর স্রোত কমে, টাঙ্গাইল মুখী হবে স্বাস্থ্যসেবার নতুন স্রোত। এমন প্রত্যাশা টাঙ্গাইলের সাধারণ মানুষের।

টাঙ্গাইলের দু’টি হাসপাতালে মিলছে উন্নত চিকিৎসা

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. জুলাই ২০২৬ ০৮:৫৯:পিএম ২ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইলের রাবনায় আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ কাজে শম্ভুক গতি  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের রাবনায় আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ কাজে শম্ভুক গতি 

আরমান কবীর: টাঙ্গাইল শহরের কোদালিয়ায় আশির দশকে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে টাঙ্গাইল পৌর বাস টার্মিনালের কার্যক্রম। ছাউনি পরিত্যক্ত ঘোষণার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি মাথায় নিয়ে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী সেবা নিচ্ছেন এখান থেকেই। অথচ আধুনিক বাস টার্মিনালের জন্য প্রায় ৫ একর সরকারি জমি বরাদ্দ পেয়েছে পৌরসভা ৫ বছর আগেই। কিন্তু জমি পরে আছে, শুরু হয়নি মূল ভবন নির্মাণ কাজ। সম্প্রতি বরাদ্দকৃত জায়গাটিতে মাটি ভরাটের কাজও শুরু করা হয়েছে, কিন্তু চলছে শম্ভুক গতিতে, ফলে কবে নাগাদ শুরু হবে মূল টার্মিনাল নির্মাণের কাজ তা নিয়ে শুরু হয়েছে সংশয়।

টাঙ্গাইল পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৪ জুলাই ১ লাখ ১ হাজার টাকা মূল্যের দলিল মূলে টাঙ্গাইল পৌরসভা শহরের রাবনা বাইপাসের দক্ষিণ পাশে সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের মাগুরাটা মৌজা ও পৌরসভার এনায়েতপুর মৌজার ৪.৯৪ একর সরকারি খাস জমি ৩০ বছর মেয়াদে লিজ বন্দোবস্ত পায়। উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বাস টার্মিনাল নির্মাণ।

পৌরসভা সূত্রে আরও জানা যায়, নির্মাণ কাজের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত জলাভূমিতে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করা হয়। তবে ধীরগতির কারণে কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাবনা বাইপাসের দক্ষিণ দিকে আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গায় পৌরসভা কর্তৃক মাত্র কয়েক ট্রাক মাটি ফেলা হয়েছে। বাকি অংশ ময়লা আবর্জনা দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। এই বছরের ৩ মে থেকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাত্র ৭ ট্রাক মাটি ফেলা হয়। তার পর থেকে আর কোনো মাটি ফেলা হচ্ছে না। অথচ পৌরসভার দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী মাটি ভরাটের শেষ সময় ছিল ৩০ জুন ২০২৬। একই ঘটনা ঘটেছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে, মাটি ভরাট না করায় ড্রেনেজ এর কাজ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

টাঙ্গাইল পৌরসভার নাম প্রকাশ্য অনিচ্ছুক এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “জমির মাটি ভরাটের কাজ চলছে। বাস টার্মিনাল এর জন্য নির্ধারিত জায়গা জলাভূমি হওয়ায় প্রচুর মাটি লাগবে। মাটি ভরাট হলে, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনের ব্যবস্থা জন্য দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ ও ডিজাইন চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই মূল অবকাঠামোর কাজ শুরু হবে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত শেষ করতে।”

তবে তিনি কবে নাগাদ টেন্ডার হবে বা কাজ শেষ হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাতে পারেননি তিনি।

রাবনা এলাকার সুভাষ চন্দ্র দাস, মাজম মিয়া ও আকবর আলী তালুকদার জানান, ৫ বছর যাবত শুনছি এখানে আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে, তবে কাজির গরু যেমন খাতায় থাকে, গোয়ালে থাকে না, তেমনি টাঙ্গাইল পৌরসভা ঢাকঢোল পিটিয়ে বাস টার্মিনাল নির্মাণ এর ঘোষনা দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মাত্র ৭ ট্রাক মাটি ফেলা হয়েছে। অবিলম্বে আধুনিক বাস টার্মিনালের মূল ভবনের নির্মাণের কাজ শুরু করার জোর দাবী জানাচ্ছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাস শ্রমিক নেতার সাথে কথা হয় রাবনা এলাকায় তিনি বলেন “প্রতিদিন মাথার উপর ছাউনি ভেঙে পড়ার ভয় নিয়ে কাজ করি নতুন বাস স্ট্যান্ড ভবনে। যাত্রীরাও আতঙ্কে থাকে। রাবনা বাইপাসের কাছে নতুন টার্মিনালের কথা শুনে আসছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই দেখি না।”

টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র পুরাতন বাস টার্মিনালটি নির্মিত হয় আশির দশকে। ২০১৩ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র টার্মিনালের ছাউনিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত’ ঘোষণা করেন। এরপর এক যুগ কেটে গেলেও নতুন ভবন হয়নি। বর্তমানে জরাজীর্ণ শেড, ভাঙা টিন ও ফাটল ধরা পিলারের নিচেই দাঁড়িয়ে থাকে ঢাকা, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুরসহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের দূরপাল্লার বাসগুলো। বৃষ্টি হলেই যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।

ঢাকাগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, “টার্মিনালে বসার জায়গা নেই, টয়লেটের অবস্থা খারাপ, পানি নেই। রাবনা বাইপাসে নতুন টার্মিনাল হবে শুনেছি। দ্রুত হলে আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের কষ্ট লাঘব হবে।”

জামালপুরগামী সরকারি চাকুরে রাবেয়া খাতুন রাব্বানী বলেন, টার্মিনালে মহিলাদের জন্য কোন পৃথক টয়লেট নেই, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তো অনেক দুরের কথা। ফলে মহিলা ও শিশুদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব সহকারে অনুধাবন করে প্রস্তাবিত আধুনিক বাস টার্মিনালিটির নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করবেন।

টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি অকিবুর রহমান ইকবাল জানান, টাঙ্গাইল জেলা সদর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন হাব। এখানে আধুনিক বাস টার্মিনাল না থাকায় শহরের যানজট বাড়ছে, পাশাপাশি যাত্রী নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে। তাই দ্রুত মাটি ভরাট শেষ করে আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু করার দাবি জানাচ্ছি।

 

এছাড়াও বর্তমান বাস টার্মিনালের কাছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল এবং টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় বাস টার্মিনালের এই যানজটের কারণে। তাই যত দ্রুত এই বাস টার্মিনাল রাবনা বাইপাসে নেওয়া যাবে, ততই শহরের যানজট নিরসনের ভূমিকা রাখবে।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, ১৯৮১ সালের ৩১ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মরহুম বিচারপতি আব্দুর সাত্তার বর্তমান নতুন বাসস্ট্যান্ডের টার্মিনাল ভবনটি উদ্বোধন করেন। ভবনটি ২০১৩ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে এই পরিত্যক্ত ভবনেই যাত্রী সেবা সহ টার্মিনালের যাবতীয় কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

আশাকরি, টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ বিষয়ে দ্রুত প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ ব্যাপারে আমার সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পৌর প্রশাসক ও উপ-পরিচালক(স্থানীয় সরকার) সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, রাবনা বাইপাস এলাকায় আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য মাটি ভরাট ও ড্রেন নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, কিন্তু দু’টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কাজ সম্পন্ন করার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে প্রকল্প পরিচালক বরাবর কাজ দুটির সময় সীমা বৃদ্ধির বিষয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, মাটি ভরাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শেষ হলে মূল ভবনের নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে। যত দ্রুত সম্ভব এই আধুনিক বাস টার্মিনালটির নির্মাণ সম্পূর্ণ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. জুলাই ২০২৬ ০৯:৩৮:পিএম ২ সপ্তাহ আগে
দীর্ঘ তিন দশক পর টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন অনুষ্ঠিত  - Ekotar Kantho

দীর্ঘ তিন দশক পর টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন অনুষ্ঠিত 

আরমান কবীরঃ দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) টাঙ্গাইল ক্লাব মিলনায়তনে ভোট গ্রহণ শেষে রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

এতে ‘এ’ শ্রেণিতে ১৮ জন এবং ‘বি’ শ্রেণিতে ১২ জন পরিচালক পদে নির্বাচিত হন। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ হয়।

এ’ শ্রেণিতে নির্বাচিত পরিচালকেরা হচ্ছেন বেনজীর আহমেদ, মো. নূরুল আলম, নাজমুল আহসান, শংকর সরকার, স্বপন ঘোষ, আখতার হোসেন খান, খন্দকার রাশেদুল আলম, তারেকুল ইসলাম, বিশ্বজিৎ কুমার সাহা, আনবসুর রহমান চৌধুরী, সামসুর রহমান চৌধুরী, প্রভাত কুমার ধর, দুলাল চন্দ্র সাহা, খন্দকার আবদুল মোকাদ্দেম, মির্জা জিয়াউর রহমান, মো. নূরুল ইসলাম, মো. সরোয়ার হোসেন খান, মো. আবদুল্লাহ হেল কাফি।

বি’ শ্রেণিতে নির্বাচিত ১২ জন পরিচালক হচ্ছেন মো.রোকনউদ্দিন, সৈয়দ যুবায়ের আবদুল্লাহ, ইকবাল হোসেন জুয়েল, আবু সাঈদ চৌধুরী, মো. ফয়জুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, কাজী শফিকুল ইসলাম (লিটন), মো. আরিফ হোসেন, মীর মিরাজ হোসেন, আজিম উদ্দিন রবিন, পলাশ চন্দ্র বসাক ও খন্দকার নাজমুল হায়দার।

চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সূত্র জানায়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘এ’ ও ‘বি’—উভয় শ্রেণি থেকে নির্বাচিত ৩০ জন পরবচালকের মধ্য থেকে সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচন করা হবে। তবে পরিচালকদের সভা কবে হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম জানান, বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর ভোটদানের সুযোগ পেয়ে আনন্দিত সাধারণ ভোটাররা। ভোট দেওয়ার পর সাম্য রহমান বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিতে এসেছেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পেয়ে সবাই খুশি। এমন গণতান্ত্রিক চর্চা যেন অব্যাহত থাকে।

টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বদানকারী এই সংগঠনের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তিন দশকের আগে। তার পর থেকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শুরু হয়। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকত, সেই দলের নেতারা তাঁদের পছন্দের লোকদের দিয়ে পরিচালনা পরিষদ গঠন করে দিতেন। সাধারণ ভোটাররা ভোটদানের সুযোগ পেতেন না।

উল্লেখ্য, নির্বাচিত পরিচালকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সরাসরি ক্ষমতাসীন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ‘এ’ শ্রেণিতে নির্বাচিত পরিচালক বেনজীর আহমেদ বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। রাশেদুল আলম জেলা যুবদলের আহ্বায়ক। তারেকুল ইসলাম ঝলক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা।

এ ছাড়া কাজী শফিকুল ইসলাম লিটন ও আবদুল্লাহ- হেল-কাফি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, যদিও তাঁরা এখন পদে নেই।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. জুন ২০২৬ ০১:৪০:এএম ২ মাস আগে
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ - Ekotar Kantho

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

আরমান কবীরঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।

সোমবার (২৫ মে) ভোর প্রায় সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রডবোঝাই ট্রাকটি মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়লে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিচয় সনাক্তকরণের কাজ চলছে।

স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রডবোঝাই ট্রাকটিতে যাচ্ছিলেন অনেক যাত্রী। দুর্ঘটনার সময় তাদের অধিকাংশই ছিলেন ঘুমিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘুমিয়ে থাকার কারণেই হতাহতের সংখ্যা এত বেশি হয়েছে। ট্রাকটি উল্টে গেলে ট্রাক ও রডের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় অনেকের।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস, যমুনা সেতু পূর্ব থানা-পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় ১৫ জনের মরদেহ এবং আহত অন্তত ১০ জনকে পাঠানো হয় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে।

এদিকে উদ্ধারকাজের কারণে ভোর ৪টা ২৫ মিনিট থেকে ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ ছিল। পরে সেতু পূর্ব ভূঞাপুর লিংক রোড দিয়ে ঢাকাগামী এবং পুরাতন সড়ক ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এতে বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি বলে জানা গেছে।

যমুনা সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানালেন, বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল আগের তুলনায় স্বাভাবিক রয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. মে ২০২৬ ০৫:৫৫:পিএম ২ মাস আগে
টাঙ্গাইলে লৌহজং নদী পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে লৌহজং নদী পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে এবং টাঙ্গাইল পৌর এলাকার নদী তীরবর্তী জনপদ রক্ষায় মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার(২ মে) সকালে সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ক্ষুদিরামপুর এলাকায় লৌহজং নদীপুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আঙুল থেকে ভোটের কালি না শুকাতেই বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ‘টাঙ্গাইল জেলার ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদী পুনঃখনন এবং টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় নদীতীর প্রতিরক্ষা’ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হলো।

তিনি বলেন, নদী বাঁচলে টাঙ্গাইল বাঁচবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ঘটবে, অন্যদিকে টাঙ্গাইল পৌরসভা ভাঙন ও বন্যা থেকে রক্ষা পাবে। বর্তমান সরকার জলাশয় ও নদী রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিনের পলি জমে ভরাট এবং দখল-দূষণের শিকার হওয়া ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদী খনন করার ফলে এই অঞ্চলের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং কৃষি ও পরিবেশের আমূল পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় নদীতীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের ফলে শহরের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২. মে ২০২৬ ০৮:৩২:পিএম ৩ মাস আগে
টাঙ্গাইলের মেয়ে মেঘলার ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যাত্রা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের মেয়ে মেঘলার ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যাত্রা

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মেধাবী শিক্ষার্থী যারিন সুবাহ মেঘলা উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাচ্ছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনার ক্লেমসন ইউনিভার্সিটির বায়োলজিক্যাল সাইন্স বিভাগে ফুলব্রাইট স্কলারশিপসহ স্নাতকোত্তর (পোস্টগ্রাজুয়েট) করার সুযোগ পেয়েছেন। আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। এসময় তিনি টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ সুবিধাও পাবেন।

মেঘলা ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ ও মেরিন সাইন্স বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

তিনি টাঙ্গাইল শহরের ভিক্টোরিয়া রোড ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রকিবউদ্দীন বাবুল এবং তাহমিনা আক্তার দম্পতির জ্যেষ্ঠ কন্যা। তার ছোট ভাই আহনাফ উদ্দিন অর্ক বর্তমানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিউপি)-এর ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে অধ্যয়নরত।

শিক্ষাজীবনে মেঘলা সবসময়ই মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সরকারি কুমুদিনী মহিলা কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ফিসারিজ ও মেরিন সাইন্স বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

এ বিষয়ে মেঘলার বাবা রকিবউদ্দীন বাবুল বলেন, “মেয়ের এই অর্জনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। সে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর পিএইচডি করার ইচ্ছা পোষণ করেছে। আল্লাহ যেন তার সেই স্বপ্ন পূরণ করেন। আমি টাঙ্গাইলবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া কামনা করছি।”

উল্লেখ্য, ফুলব্রাইট স্কলারশিপ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অর্থায়নে পরিচালিত একটি মর্যাদাপূর্ণ ও সম্পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি। এর মাধ্যমে বিশ্বের মেধাবী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করার সুযোগ পেয়ে থাকেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. এপ্রিল ২০২৬ ০২:১৮:এএম ৩ মাস আগে
টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২৬ মার্চ) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনি ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হয়।

জেলা সদরের জনসেবা চত্বরে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে রাষ্ট্রের পক্ষে জেলা প্রশাসক শরীফা হক এবং জেলা পরিষদের পক্ষে প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট নিরবতা পালন ও দোয়া করা হয়।

অন্যদিকে, শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে সকাল ৮টায় মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড, বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, রেড ক্রিসেন্ট, শ্রমিক, নাট্য, নৃত্য, ব্যাংক-বীমা, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

অপরদিকে, দিনটি উপলক্ষে সকাল ৮টায় শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে প্রদর্শণ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দিবসের আলোচনা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, জেলা প্রশাসক শরীফা হক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক মন্ডল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া প্রমুখ। পরে বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. মার্চ ২০২৬ ১২:০৭:এএম ৪ মাস আগে
সৌদিতে মিসাইল হামলায় নিহত মোশাররফের পরিবারে শোকের মাতম   - Ekotar Kantho

সৌদিতে মিসাইল হামলায় নিহত মোশাররফের পরিবারে শোকের মাতম  

আরমান কবীরঃ প্রায় ৮ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তনখোলা গ্রামের মোশাররফ হোসেন (৪০)।

তিনি আল খারিজ শহরের পাশে একটি কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ করতেন । কর্মরত অবস্থায় ইরানের মিসাইল হামলায় থেমে গেল তার জীবন সংগ্রাম।

রোববার (৮ মার্চ) সৌদি আরবের আল-খারিজ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে দেশটির সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে।

নিহত মোশাররফ হোসেন জেলার সখীপুর উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তনখোলা গ্রামের সূর্যত আলীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, নিহতের পরিবারে রয়েছে দুই ছোট ছেলে। বড় ছেলে মাহিম স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং ছোট ছেলে মিহান প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। তিন বছর আগে মাত্র তিন মাসের জন্য ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। এরপর আবার ফিরে গিয়েছিলেন সংসারের হাল ধরতে। গতকালও মুঠোফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তার।

স্ত্রী কবরী আক্তার বলেন, রাতে আমার সাথে কথা হয়েছিল। বলেছিলেন ঈদের জন্য টাকা পাঠাবেন, ছেলেদের জন্য কিছু কেনার জন্য। কিন্তু কে জানতো সেই কথাই হবে শেষ কথা। রাত প্রায় ৩টার দিকে খবর আসে— আমার স্বামী আর নেই।

মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। মা জহুরা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। ছোট ছেলে মিহান নানার কোলে বসে অবাক দৃষ্টিতে চারপাশের মানুষের কান্না দেখছে, হয়তো এখনো বুঝে উঠতে পারেনি,তার বাবা আর কোনো দিন ফিরবেন না।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও )আব্দুল্লাহ আল রনী। এ সময় তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. মার্চ ২০২৬ ১০:০৫:পিএম ৪ মাস আগে
বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশনে ফ্রি ওয়াফাই জোন হবে : প্রযুক্তি মন্ত্রী - Ekotar Kantho

বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশনে ফ্রি ওয়াফাই জোন হবে : প্রযুক্তি মন্ত্রী

আরমান কবীরঃ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বর্তমান যুগে আইসিটি সব চেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। আইটি সেক্টর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা অনেক জব ক্রিয়েট করতে চাই এবং ইন্টারনেট সকলের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই। প্রধানমন্ত্রী আমাদের নিদের্শনা দিয়েছেন বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন এমনকি হাইস্পিড গাড়িগুলোকে ফ্রি ওয়াফাই ব্যবস্থা করার জন্য।

শুক্রবার(২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের নিদের্শনা দিয়েছেন তিনটি বড় বড় টেকপার্কে কিভাবে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি বিদেশ থেকে বিনিয়োগ করার জন্য। আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাবো। জনবান্ধব সরকার হতে চাই।

তিনি বলেন, টাঙ্গাইলেও আমরা কিছু চাই। জেলার প্রতিটি উপজেলায় আইসিটি পার্ক করার কথা চিন্তা করতে পারি আমরা।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্তসহ সরকারি দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ০১:৪৪:এএম ৫ মাস আগে
টাঙ্গাইলে সুলভ মূল্যে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য সামগ্রী বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সুলভ মূল্যে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য সামগ্রী বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন 

আরমান কবীরঃ জেলা পর্যায়ে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মুরগির মাংসসহ বিভিন্ন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যসামগ্রী বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।এরই অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলে এই বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

শনিবার ( ২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন,কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

এ সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন,সারাদেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, রমজানকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে প্রোটিনজাতীয় খাদ্য পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। কোনোভাবেই কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত মূল্য আদায় বরদাস্ত করা হবে না।

এছাড়াও তিনি জানান, পোলট্রি শিল্প যেন টিকে থাকতে পারে সেজন্য খামারিদের সাথে বসে তাদের সমস্যাগুলো শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ সময় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক সহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১১:৫৪:পিএম ৫ মাস আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।