আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সামিয়া আক্তারকে মুক্তিপণের আশায় অপহরণের পর হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. ন. ম. ইলিয়াস এ দণ্ডাদেশ দেন।
দণ্ডিত আসামি সাব্বির মিয়া টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর উত্তরপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। আসামির উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে আসামিকে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দীপু জানান, সখিপুরের দাড়িয়াপুর গ্রামের রনজু মিয়ার মেয়ে সামিয়া আক্তার (৯) দাড়িয়াপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রতিদিনের মতো সে প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে আসামি সাব্বির পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে সামিয়াকে অপহরণ করে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে সামিয়া নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আসামি।
পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পাশের একটি ধানক্ষেতের ড্রেনে কাঁদামাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এরপর আসামি সাব্বির নিজের পরিচয় গোপন রেখে একটি ইমু আইডি থেকে ভয়েস এসএমএস-এর মাধ্যমে সামিয়ার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
এ ঘটনায় পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর সামিয়ার বাবা রনজু মিয়া সখিপুর থানায় মামলা করেন। মামলার এক দিন পর ৮ সেপ্টেম্বর সেই ধানক্ষেতের ড্রেন থেকে সামিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাব্বিরকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে সাব্বির নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। মোট ১৮ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, স্টেট ডিফেন্স।
রায়ের পর সামিয়ার পরিবার ও এলাকাবাসী আদালতের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এমন নৃশংস হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়ায় সমাজে অপরাধ কমবে।
আরমান কবীর:গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইল জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় শহরের নিচু এলাকাগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে অস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও যানজট। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরের কর্মজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ।
তবে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, জেলার সব নদ-নদীর পানি বিপদ সীমার নিচে রয়েছে। আপাতত জেলায় বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
শুক্রবার থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইল পৌরসভার পার্ক বাজার, আকুর-টাকুর পাড়া, দক্ষিণ থানাপাড়া, বিশ্বাস বেতকা, সাবালিয়া, কোদালিয়া ও কান্দাপাড়াসহ বেশ কিছু এলাকার রাস্তা-ঘাট হাঁটু সমান পানিতে ডুবে গেছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলোতেও পানি জমে থাকায় রোগী ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিশ্বাস বেতকার বাসিন্দা নাজমুল মিয়া বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের ঘরে পানি ওঠে। খালগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় পানি নামার কোনো জায়গা নেই। এর মাঝে কারেন্টও নেই। বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাঙ্গাইল শহরে কাগজ-কলমে ২৭টি খাল থাকলেও বাস্তবে বেশিরভাগ খাল প্রভাবশালীদের দখলে। খাল ভরাট করে মার্কেট, বাসা-বাড়ি ও রাস্তা নির্মাণ করায় শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি আকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “সাবালিয়া খাল, শ্যামা বাবুর খাল, কচুয়াডাঙ্গা খালসহ শহরের প্রধান খালগুলো উদ্ধার না করলে প্রতি বছরই এমন জলাবদ্ধতা হবে। এখনই খাল উদ্ধারে জেলা প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।”
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে টাঙ্গাইল-ঢাকা ও টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কে যান চলাচল ধীরগতিতে চলছে। শহরের অটো, রিকশা ও সিএনজি চালকরা যাত্রী পেলেও পানির কারণে ভাড়া দ্বিগুণ আদায় করছেন।
পার্ক বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “দোকানে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়েছে। ক্রেতাও নেই। গত ৩ দিনে বিক্রি একদম নেই বললেই চলে।”
প্যারাডাইস পাড়ার চা দোকানদার গনেশ চৌহান বলেন, “টানা বৃষ্টিতে দোকানে কাস্টমার নেই বললেই চলে। ফলে আমাদের জীবনযাপন স্থবির হওয়ার পথে।”
বৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং ও ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসায় পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
টাঙ্গাইল পৌরসভার পক্ষ থেকে জলাবদ্ধ এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মনিটরিং করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল আবহাওয়া অফিসের জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘন্টায় টাঙ্গাইলে ৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টায় টাঙ্গাইলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইনুদ্দিন জানান, টাঙ্গাইলের কোনো নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত টাঙ্গাইলে বন্যা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে টানা বৃষ্টিতে জেলার কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যমুনার তীরে ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে।
টানা বৃষ্টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও টাঙ্গাইল শহরের জলাবদ্ধতা অনেকাংশেই মানবসৃষ্ট। খাল দখল, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে প্রতি বছরই এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। খাল উদ্ধার ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত টাঙ্গাইলবাসীর এই দুর্ভোগ চলতেই থাকবে।
আরমান কবীর:বাকরখানি শুধু একটা রুটি না, এটা মুঘল আমলের একটা প্রেম-কাহিনী আর ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যবাহী ঢাকার বাকরখানি এখন তৈরি হচ্ছে টাঙ্গাইল শহরেই।
শহরের পার্ক বাজারের ব্যস্ততম এলাকা শনির আখড়ার সামনে ৩৭ বছরের অভিজ্ঞ কারিগর সোহেল মিয়া তৈরি করছেন বাকরখানি। তার হাত ধরেই মুঘল আমলের স্বাদ এখন টাঙ্গাইলবাসীর ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে।
সোহেল মিয়ার দোকানে মিষ্টি ও নোনতা দুই ধরনের বাকরখানি পাওয়া যায়।
দাম প্রতি কেজি মিষ্টি বাকরখানি ২২০ টাকা, নোনতা ২০০ টাকা। প্রতি পিস ১০ টাকা। কেজিতে গড়ে ২৪টি বাকরখানি ধরে।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাকরখানির মিষ্টি সুগন্ধ পুরো এলাকায় এক ধরনের আবেশ তৈরি করছে। দিনে গড়ে ৪ হাজার টাকার বাকরখানি বিক্রি হচ্ছে এখানে। ভাগিনা শাহিন মিয়া মামাকে সাহায্য করেন। পরিবার নিয়ে তারা থাকেন শহরের আদালত পাড়া এলাকায়।
সোহেল মিয়ার আদি বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে। প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জে এসে বাকরখানি তৈরির কাজ শেখেন। দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে এই পেশায় আছেন।
দুই বছর হলো টাঙ্গাইলে এসেছেন। পার্ক বাজারে মির্জা বাহরুলের দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন।
তিনি বলেন, “আগে লাকড়ি বা কয়লার চুলায় বাকরখানি তৈরি হতো। এখন মাইক্রোওভেনে বানাই। টাঙ্গাইলের মানুষ এখনও পুরোপুরি বাকরখানি খাওয়া শেখেনি। তবে ধীরে ধীরে বিক্রি বাড়ছে।”
তিনি আরো বলেন,ঘি, ময়দা, চিনি, দুধ, তিল – এগুলোই বাকরখানির মূল উপাদান।
কোদালিয়া এলাকার নাজমুল আহসান ঢাকার লালবাগে থাকতেন। সেখান থেকেই সকালের চায়ের সাথে বাকরখানি খাওয়ার অভ্যাস। তিনি বলেন, “পরিবারের জন্য ২ কেজি নোনতা বাকরখানি নিলাম। সকাল-সন্ধ্যার চায়ের সাথে খাব।”
স্কুলপড়ুয়া ছেলে মাহিনকে নিয়ে আসা মিলি বেগম বলেন, “ছেলের পছন্দ মিষ্টি বাকরখানি। তাই ১ কেজি ২২০ টাকা দিয়ে কিনলাম। এখানকার স্বাদ ও মান দুইটাই ভালো। বাজার করার ফাঁকে মাঝে মাঝে কিনে নিয়ে যাই।”
জানা গেছে,বাকরখানির জন্ম ১৭ শতকে মুঘল আমলের ঢাকায়। মুঘল সুবেদার ও নবাবরা সকালের নাস্তা ও চায়ের সাথে এটা খেতেন কারণ এটি সহজে নষ্ট হয় না।
নামকরণের পেছনে আছে করুণ প্রেম কাহিনী। মুঘল আমলে ঢাকার নায়েবে নাজিম মির্জা বাকর খান প্রেমে পড়েন নর্তকী খানি বেগমের। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে তাদের মিলন হয়নি। শোকে বাকর খানের জন্য রাঁধুনি যে শক্ত রুটি বানিয়েছিলেন তার নাম হয় বাকর + খানি = বাকরখানি।
আদিতে এই সুস্বাদু খাদ্য ২ প্রকার ছিল, গায়ে গায়ে বাকরখানি: পাতলা, খাস্তা। চায়ে ভিজিয়ে খাওয়া হতো। চাল্লা বাকরখানি: মোটা, নরম। উপরে তিল-পোস্ত দেওয়া থাকতো।পরে যোগ হয় মিষ্টি, নোনতা, চিনি ও মাওয়া বাকরখানি। ব্রিটিশরা একে “Bengal Biscuit” বলতো। পুরান ঢাকার লালবাগ, নাজিরাবাজার, চকবাজার ছিল এর মূল কেন্দ্র। দেশভাগের পর এটি সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
মুঘল আমলের সেই প্রেম আর ঐতিহ্যের বাকরখানি এখন টাঙ্গাইলের পার্ক বাজারে নতুন করে প্রাণ পাচ্ছে। সোহেল মিয়ার মতো কারিগরদের হাত ধরে ঐতিহ্য টিকে থাকুক – এমনটাই প্রত্যাশা টাঙ্গাইলবাসীর।
আরমান কবীরঃ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, টাঙ্গাইল জেলার মানুষ যাতে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে লক্ষ্যে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। হাসপাতালের জনবল সংকট দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করা হবে। তবে নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সভায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই সব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত মানবিক ও দায়িত্বপূর্ণ। মানুষ অসুস্থ হলেই সর্বপ্রথম হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়। তাই চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সীমিত জনবল থাকলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।
এ সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক শরীফা হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন মিঞা, হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু ,সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন, চিকিৎসকবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে হাসপাতালের পরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
সভায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকট দূরীকরণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান বৃদ্ধি, ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নয়ন, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।
আরমান কবীরঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, বিগত কয়েক বছরে আমাদের আনাচে কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো মাদ্রাসা ও গার্ডেন গড়ে উঠেছে। তবে শিক্ষার মান বাড়েনি। এতে অনেক শিক্ষার্থী মান সম্মত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে না।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা হলরুমে শিক্ষার মানোন্নয়নে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থী মুল ভিত্তি হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা। সেই প্রাথমিক শিক্ষার পেছনে সরকারের অর্থের বড় একটা অংশ ব্যয় হচ্ছে। সেই প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারের জন্য প্রতিটি শিক্ষককে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি ও স্কুলমুখী করতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়াও মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণে শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও দায়িত্ব রয়েছে বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব বেগম নার্গিস সিদ্দিকা, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সখীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি খুরশিদ জাহান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক টিটু,উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম মাস্টার, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সহ-সভাপতি আকবর হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কবির হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক সিকদার মোহাম্মদ সবুর রেজা প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ একসময় টাঙ্গাইলের মানুষ জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকা-ময়মনসিংহমুখী হতেন। অ্যাম্বুলেন্সে ৩-৪ ঘণ্টার যাত্রা, পথে রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা ছিল নিত্যসঙ্গী। সাথে যোগ হতো অতিরিক্ত অর্থ খরচ।
কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই চিত্র পাল্টেছে। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ৭৫০ সজ্জার সমন্বিত মেডিকেল হাব। এটিকে এখন জেলার চিকিৎসা খাতের ‘নতুন দিগন্ত’ বলছেন সবাই। সঙ্গত কারণেই চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও ময়মনসিংহ মুখি রোগীর স্রোত কমেছে অনেকটাই।
শহরের উত্তর দিকে পাশাপাশি অবস্থিত এই দুটি হাসপাতাল। জেনারেল হাসপাতাল ৫০ শয্যার সেবা দিয়ে আসছে সেই ১৯৭৪ সাল থেকে। পরে এটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়।
২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি কলেজটির প্রথম ব্যাচের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার মাধ্যমে এর একাডেমিক যাত্রা শুরু হয়।এখন চিকিৎসা ও শিক্ষার বড় কেন্দ্র এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দুই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রোগী রেফার, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কনসালটেশন ও যন্ত্রপাতির শেয়ারিং হওয়ায় সেবার মান বেড়েছে বহুগুণ।
বৈশ্বিক মহামারি করোনার সময় এই হাবই ছিল জেলার ভরসা। আইসোলেশন ওয়ার্ড, আইসিইউ, অক্সিজেন সাপ্লাই সব একসাথে ম্যানেজ করে প্রাণ বাঁচিয়েছে জেলার হাজারো মানুষের।
আগে সিটি স্ক্যান, হার্টের ইকোর জন্য ঢাকায় দৌড়াতে হতো। এখন টাঙ্গাইলেই মিলছে এই সেবা। গত ৩ বছরে সরকারি বরাদ্দে যুক্ত হয়েছে, ১টি সিটি স্ক্যান, ল্যাপারোস্কপি সেট ও আধুনিক ল্যাব।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস জানান ,“আমরা এখন ব্রেন স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, বড় অপারেশন, ট্রমা কেস সবই এখানে ম্যানেজ করছি। মেডিকেল শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নরা ২৪ ঘণ্টা থাকায় জরুরি সেবা আগের চেয়ে ৫০% দ্রুত হয়েছে।”
তিনি আরো জানান,খুব দ্রুতই নাক,কান গলা (ইএনটি) বিভাগ, চক্ষু বিভাগ ও আই সি ইউ ইউনিটের চালুর প্রচেষ্টা চলছে। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সহযোগিতায় খুব দ্রুতই এই বিভাগ গুলো চালু করা হবে।আরেকটি চ্যালেঞ্জ জনবল। ৫০০ শয্যার বিপরীতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও নার্সের সংখ্যা কম। পদ ফাঁকা থাকায় চাপ বাড়ছে কর্মরতদের উপর।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডঃ সাইফুর রহমান খান বলেন, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সম্প্রতি ১০ শয্যার আইসিইউ চালু করা হয়েছে। এ ছাড়াও ডাইরিয়ার ও হামের আলাদা ইউনিট রয়েছে। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার পরও ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে এখন প্রায় ৪০০ রোগীর সেবা দেওয়া হচ্ছে, যেটা জেনারেল হাসপাতালে সেবার মান ভালোর অন্যতম নির্দেশক। আশা করি, ভবিষ্যতে এই সেবার মান নিশ্চিত করতে সরকার মহোদয় জেনারেল হাসপাতালের জনবলের অভাব পুরণে সহায়তা করবেন।
সখীপুরের রেহেনা বেগম সিজারের জন্য এসেছেন। তিনি বলেন, “আগে ঢাকার কথা শুনলেই ভয় লাগত। এখন এখানেই ভালো ডাক্তার, ভালো অপারেশন। খরচ অর্ধেক।”সরকারকে ধন্যবাদ।
দেলদুয়ার উপজেলার জাঙ্গালিয়ার গ্রামের আহমেদ আলী(৭৪)র স্ট্রোক হয়েছিল আট দিন আগে। আট দিনের চিকিৎসার শেষে পর আজকে তাকে রিলিজ করেছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট, তিনি জানান, টাঙ্গাইলে চিকিৎসা সেবার অনেক উন্নত হয়েছে, আগে স্ট্রোকের চিকিৎসা টাঙ্গাইলে ছিলনা, ঢাকায় রেফার্ড করা হতো, এখন টাঙ্গাইলে স্ট্রোকের উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের দেলদা গ্রামের মিনা চৌধুরী (৬০) পেটে ব্যথা ও জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।তিন দিনের চিকিৎসা শেষে আজকেই তিনি বাড়ি ফিরছেন, হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় তিনি সন্তুষ্ট। পরিবার পরিজনের সাথে হাসি মুখে বাড়ী ফিরছেন তিনি।
তবে অভিযোগও আছে বিস্তর। ওয়ার্ডে বেডের চাপ, টয়লেটের সংকট ও বিশুদ্ধ পানির দাবি জানিয়েছেন অনেকে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে। এ ছাড়াও এক শ্রেণীর ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল ও মেডিকেল রিপ্রেসেন্টেটিভদের দৌরাত্ম্যে রয়েছে।
এছাড়াও লোকেশনের সমস্যা আছে। হাসপাতালের কাছেই নতুন বাস টার্মিনাল। ফলে অ্যাম্বুলেন্স আটকায়, রোগীর স্বজনদের ভোগান্তি হয় যানজটের কারণে।
টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি অকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “রাবনায় নতুন টার্মিনাল হলে এই মেডিকেল হাব আরও প্রাণ ফিরে পাবে।”
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন,সরকারের পরিকল্পনা বড়। ক্যান্সার ইউনিট, বার্ন ইউনিট, ক্যাথল্যাব ও পেডিয়াট্রিক আইসিইউ স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। মেডিকেল কলেজে গবেষণা সেল চালু হলে নতুন ওষুধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও কাজ হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালনা পরিষদের গত ১১ জুন সভাপতি নির্বাচিত হন।
দায়িত্ব নিয়েই তিনি বলেন “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে টাঙ্গাইলকে আমরা স্বাস্থ্যসেবার মডেল জেলা হিসেবে গড়তে চাই। ৭৫০ সজ্জার এই হাব হবে তারই শুরু।”
টাঙ্গাইলের এই মেডিকেল হাব এখন আর শুধু একটি জেলার হাসপাতাল নয়। এটি উত্তরবঙ্গের ৫-৬টি জেলার মানুষের ভবিষ্যতে ভরসার স্থল হয়ে উঠবে এমন প্রত্যাশা অভিজ্ঞ জনের । চ্যালেঞ্জ আছে, তবে সম্ভাবনা তার চেয়ে বড়।
পর্যাপ্ত বরাদ্দ, জনবল ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে টাঙ্গাইল হবে দেশের অন্যতম আধুনিক চিকিৎসা নগরী। আর তখন ঢাকামুখী রোগীর স্রোত কমে, টাঙ্গাইল মুখী হবে স্বাস্থ্যসেবার নতুন স্রোত। এমন প্রত্যাশা টাঙ্গাইলের সাধারণ মানুষের।
টাঙ্গাইলের দু’টি হাসপাতালে মিলছে উন্নত চিকিৎসা
আরমান কবীর: টাঙ্গাইল শহরের কোদালিয়ায় আশির দশকে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে টাঙ্গাইল পৌর বাস টার্মিনালের কার্যক্রম। ছাউনি পরিত্যক্ত ঘোষণার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি মাথায় নিয়ে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী সেবা নিচ্ছেন এখান থেকেই। অথচ আধুনিক বাস টার্মিনালের জন্য প্রায় ৫ একর সরকারি জমি বরাদ্দ পেয়েছে পৌরসভা ৫ বছর আগেই। কিন্তু জমি পরে আছে, শুরু হয়নি মূল ভবন নির্মাণ কাজ। সম্প্রতি বরাদ্দকৃত জায়গাটিতে মাটি ভরাটের কাজও শুরু করা হয়েছে, কিন্তু চলছে শম্ভুক গতিতে, ফলে কবে নাগাদ শুরু হবে মূল টার্মিনাল নির্মাণের কাজ তা নিয়ে শুরু হয়েছে সংশয়।
টাঙ্গাইল পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৪ জুলাই ১ লাখ ১ হাজার টাকা মূল্যের দলিল মূলে টাঙ্গাইল পৌরসভা শহরের রাবনা বাইপাসের দক্ষিণ পাশে সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের মাগুরাটা মৌজা ও পৌরসভার এনায়েতপুর মৌজার ৪.৯৪ একর সরকারি খাস জমি ৩০ বছর মেয়াদে লিজ বন্দোবস্ত পায়। উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বাস টার্মিনাল নির্মাণ।
পৌরসভা সূত্রে আরও জানা যায়, নির্মাণ কাজের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত জলাভূমিতে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করা হয়। তবে ধীরগতির কারণে কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাবনা বাইপাসের দক্ষিণ দিকে আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গায় পৌরসভা কর্তৃক মাত্র কয়েক ট্রাক মাটি ফেলা হয়েছে। বাকি অংশ ময়লা আবর্জনা দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। এই বছরের ৩ মে থেকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাত্র ৭ ট্রাক মাটি ফেলা হয়। তার পর থেকে আর কোনো মাটি ফেলা হচ্ছে না। অথচ পৌরসভার দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী মাটি ভরাটের শেষ সময় ছিল ৩০ জুন ২০২৬। একই ঘটনা ঘটেছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে, মাটি ভরাট না করায় ড্রেনেজ এর কাজ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

টাঙ্গাইল পৌরসভার নাম প্রকাশ্য অনিচ্ছুক এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “জমির মাটি ভরাটের কাজ চলছে। বাস টার্মিনাল এর জন্য নির্ধারিত জায়গা জলাভূমি হওয়ায় প্রচুর মাটি লাগবে। মাটি ভরাট হলে, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনের ব্যবস্থা জন্য দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ ও ডিজাইন চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই মূল অবকাঠামোর কাজ শুরু হবে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত শেষ করতে।”
তবে তিনি কবে নাগাদ টেন্ডার হবে বা কাজ শেষ হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাতে পারেননি তিনি।
রাবনা এলাকার সুভাষ চন্দ্র দাস, মাজম মিয়া ও আকবর আলী তালুকদার জানান, ৫ বছর যাবত শুনছি এখানে আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে, তবে কাজির গরু যেমন খাতায় থাকে, গোয়ালে থাকে না, তেমনি টাঙ্গাইল পৌরসভা ঢাকঢোল পিটিয়ে বাস টার্মিনাল নির্মাণ এর ঘোষনা দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মাত্র ৭ ট্রাক মাটি ফেলা হয়েছে। অবিলম্বে আধুনিক বাস টার্মিনালের মূল ভবনের নির্মাণের কাজ শুরু করার জোর দাবী জানাচ্ছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাস শ্রমিক নেতার সাথে কথা হয় রাবনা এলাকায় তিনি বলেন “প্রতিদিন মাথার উপর ছাউনি ভেঙে পড়ার ভয় নিয়ে কাজ করি নতুন বাস স্ট্যান্ড ভবনে। যাত্রীরাও আতঙ্কে থাকে। রাবনা বাইপাসের কাছে নতুন টার্মিনালের কথা শুনে আসছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই দেখি না।”
টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র পুরাতন বাস টার্মিনালটি নির্মিত হয় আশির দশকে। ২০১৩ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র টার্মিনালের ছাউনিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত’ ঘোষণা করেন। এরপর এক যুগ কেটে গেলেও নতুন ভবন হয়নি। বর্তমানে জরাজীর্ণ শেড, ভাঙা টিন ও ফাটল ধরা পিলারের নিচেই দাঁড়িয়ে থাকে ঢাকা, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুরসহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের দূরপাল্লার বাসগুলো। বৃষ্টি হলেই যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।
ঢাকাগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, “টার্মিনালে বসার জায়গা নেই, টয়লেটের অবস্থা খারাপ, পানি নেই। রাবনা বাইপাসে নতুন টার্মিনাল হবে শুনেছি। দ্রুত হলে আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের কষ্ট লাঘব হবে।”
জামালপুরগামী সরকারি চাকুরে রাবেয়া খাতুন রাব্বানী বলেন, টার্মিনালে মহিলাদের জন্য কোন পৃথক টয়লেট নেই, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তো অনেক দুরের কথা। ফলে মহিলা ও শিশুদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব সহকারে অনুধাবন করে প্রস্তাবিত আধুনিক বাস টার্মিনালিটির নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করবেন।
টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি অকিবুর রহমান ইকবাল জানান, টাঙ্গাইল জেলা সদর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন হাব। এখানে আধুনিক বাস টার্মিনাল না থাকায় শহরের যানজট বাড়ছে, পাশাপাশি যাত্রী নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে। তাই দ্রুত মাটি ভরাট শেষ করে আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু করার দাবি জানাচ্ছি।
এছাড়াও বর্তমান বাস টার্মিনালের কাছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল এবং টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় বাস টার্মিনালের এই যানজটের কারণে। তাই যত দ্রুত এই বাস টার্মিনাল রাবনা বাইপাসে নেওয়া যাবে, ততই শহরের যানজট নিরসনের ভূমিকা রাখবে।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, ১৯৮১ সালের ৩১ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মরহুম বিচারপতি আব্দুর সাত্তার বর্তমান নতুন বাসস্ট্যান্ডের টার্মিনাল ভবনটি উদ্বোধন করেন। ভবনটি ২০১৩ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে এই পরিত্যক্ত ভবনেই যাত্রী সেবা সহ টার্মিনালের যাবতীয় কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
আশাকরি, টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ বিষয়ে দ্রুত প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ ব্যাপারে আমার সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পৌর প্রশাসক ও উপ-পরিচালক(স্থানীয় সরকার) সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, রাবনা বাইপাস এলাকায় আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য মাটি ভরাট ও ড্রেন নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, কিন্তু দু’টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কাজ সম্পন্ন করার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে প্রকল্প পরিচালক বরাবর কাজ দুটির সময় সীমা বৃদ্ধির বিষয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, মাটি ভরাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শেষ হলে মূল ভবনের নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে। যত দ্রুত সম্ভব এই আধুনিক বাস টার্মিনালটির নির্মাণ সম্পূর্ণ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আরমান কবীরঃ জ্যৈষ্ঠের শেষ থেকে আষাঢ়ের শুরু — বাঙালির ‘মধু মাস’। আর এই মাস মানেই টাঙ্গাইলের বাজারজুড়ে আম-জাম-কাঁঠাল, লটকন, জামরুলের উৎসব। গ্রীষ্মের কড়া রোদের মাঝে রসালো ফলের সমাহারে এখন টইটম্বুর পৌরশহরের প্রতিটি ফলপট্টি।
ক্রেতা-বিক্রেতার কোলাহলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে শহরের পার্ক বাজার, ছয় আনি বাজার, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, জগলু রোডের ফলপট্টিসহ বিভিন্ন ফলের বাজার। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টাঙ্গাইলের ফলের বাজারগুলোতে এখন ক্রেতার ঢল। ঝুড়ি ভর্তি আম, কাঁঠাল, লটকন, জামরুল নিয়ে ভ্যান-রিকশা থেকে শুরু করে দোকানে দোকানে বিক্রির মহোৎসব চলছে শহরে। গৃহিণী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী — সবাই ছুটছেন মধু মাসের স্বাদ নিতে। আর দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় ক্রেতার মুখে সন্তুষ্টির হাসি।
বর্তমানে বাজারের প্রধান আকর্ষণ দেশি-বিদেশি জাতের আম। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে সুরমা ফজলি ৪৫ টাকা কেজি, হাঁড়ি ভাঙ্গা ৭০ টাকা কেজি, ব্যানানা ম্যাংগো ১২০ টাকা, বারি-৪ ৭০ টাকা ও আম্রপালি ৮০ টাকা কেজি দরে। ইতিপূর্বে বিক্রি হয়েছে রাজশাহীর ল্যাংড়া, সাতক্ষীরার গোপালভোগ ও হিমসাগর।
নতুন মৌসুমের লটকন ১০০ টাকা কেজি, জামরুল ১২০ টাকা কেজি। কাঁঠাল আকারভেদে ৭০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও বাজারে উঠেছে আতাফল, জাম্বুরা ও বেল। দাবদাহের কারণে বেলের শরবতের চাহিদা এখন তুঙ্গে।
পার্ক বাজারের আড়তদার মোহাম্মদ আনোয়ার, আলমগীর, মনির, আব্দুল হক ও রফিক মিয়া জানান, “মধু মাস মানেই আমাদের কাছে বছরের সেরা মাস। জেলায় প্রতিদিন রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর থেকে ১৫-২০টি ট্রাক ফল আসছে। গত বছরের তুলনায় এবার ফলের ফলন ভালো হওয়ায় দামও কম। যে কারণে ফলের দোকানগুলোতে ক্রেতার ভিড় অনেক বেশি এবং পরিমাণেও বেশি কিনছেন তাঁরা।”
শুধু বড় আড়ত না, শহরের অলিগলিতেও এখন ফলের ভ্রাম্যমাণ দোকান বসেছে। জগলু রোডের তরুণ উদ্যোক্তা সাদিকুর রহমান জানান, “অনার্সে পড়ার পাশাপাশি এই ব্যবসা করছি। প্রতিদিন ৩০-৪০ কেজি আম বিক্রি হয়। মানুষ এখন সরাসরি বাগান থেকে আনা পাকা ফল কিনতে চায়।”
শহরের প্যারাডাইস পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল আলীম পরিবার নিয়ে ফল কিনতে এসেছেন। তিনি বলেন, “বছরের এই তিন মাস ছাড়া আর ফলের আসল স্বাদ পাওয়া যায় না। তাই বাচ্চাদের নিয়ে প্রতিদিনই কিছু না কিছু ফল কিনছি।” তিনি ৪৫ টাকা কেজি দরে ৪ কেজি সুরমা ফজলি কিনেছেন।
আরেক ক্রেতা ব্যবসায়ী নাজমুল হাসান জানান, তিনি ৭০ টাকা কেজি দরে ৫ কেজি হাঁড়িভাঙ্গা আম কিনেছেন। “বলতে গেলে প্রায় প্রতিদিনই আম কিনছি।” বাজারে আমের দরে তিনি খুশি।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা. ফারহানা সুলতানা বলেন, “কার্বাইড মিশ্রিত ফল খেলে পেটের পীড়া, মাথাব্যথা এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। তাই ফল কেনার পর কমপক্ষে ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে, ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া উচিত।”
এদিকে ভেজাল রোধে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে। জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল জানান, “এখন আমের পূর্ণ মৌসুম। যে কারণে ফল পাকাতে ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করছেন না। প্রাকৃতিক নিয়মেই বর্তমানে আম পাকানো হচ্ছে, তাই ভোক্তারা নির্দ্বিধায় আম কিনে খেতে পারেন।”
মধু মাস শুধু ব্যবসা না, টাঙ্গাইলের গ্রামীণ অর্থনীতির জন্যও বড় সময়। বিশেষ করে মির্জাপুর, সখীপুর, ঘাটাইলের হাজারো কৃষক এই সময় কাঁঠাল বিক্রি করে সারা বছরের খরচ মেটান। অন্যদিকে শহরের মানুষের কাছে এটি আবেগের বিষয়। আম কাটা, জাম খাওয়া আর কাঁঠালের কোয়া ভাগাভাগি — মধু মাস মানেই উৎসব।
রোদ-গরমের এই দিনে টাঙ্গাইলের বাজার এখন প্রকৃতির দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহারে ভরা। ফলের মিষ্টি গন্ধে ভরে উঠুক টাঙ্গাইলের প্রতিটি ঘর।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের নারান্দিয়া টি. আর. কে. এন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে ৩৮ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার(৩০ জুন )দিনব্যাপী টাঙ্গাইল জেলা দুদকের উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে নথিপত্র যাচাই, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।
এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার, সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি ও চরম স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নারান্দিয়া টি.আর.কে.এন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে আঁতাত করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গোলাম মোস্তফা আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের চাকরির বিষয় গোপন করে এবং ভূঞাপুর লোকমান ফকির ডিগ্রী কলেজের নিয়োগ যোগদান পত্রের তারিখে অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করে ২০১৪ সালে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন।
অভিযোগ রয়েছে, যোগাদানের পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার সময় কালে দুর্নীতিতে জড়িয়ে নারান্দিয়া স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২১ টি খাত থেকে মোট ৩৮ লক্ষ ৭২ হাজার ৫ শত ৪৮ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।
তবে প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করে জানান ,দুর্নীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পূর্ণভাবে যাচাই না করেই তদন্ত দল ফিরে গেছে। এতে তারা সন্তুষ্ট নন। তাদের দাবি, অভিযোগের প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অভিযোগকারি সহকারি অধ্যাপক আব্দুল সালাম তালুকদার বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২১ টি খাতে তার আত্মসাৎকৃত টাকার পরিমান ৩৮ লক্ষ ৭২ হাজার ৫ শত ৪৮ টাকা। দুদকে অভিযোগ দেয়ার পর দুদকের উপ পরিচালক তদন্তে আসেন।
কলেজের সহকারি অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ৫ আগষ্টের পর অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা পালিয়ে যাবার পর সকল শিক্ষক কর্মচারি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তি মিলে আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়। আমি গত ১১ মাস দ্বায়িত্ব পালনের পর তিনি আবার স্বপদে বহাল হয়ে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেয়। গত ১০ মাস যাবৎ আমার বেতন বন্ধ রয়েছে।
একই কলেজের সহকারি অধ্যাপক সুমির কুমার মোদক অভিযোগ করে বলেন, অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার দূর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় আমার বেতন বন্ধ করে দেয়। আমি এখনো সে বেতন পাই নাই। বেতন বন্ধ করলেও আমি পিছপা হবো না। আমি প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। দুদকের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেন এই শিক্ষক।
তিনি বলেন, অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা ২০১৪ সালে আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের চাকরির বিষয় তথ্য গোপন করেন এবং ভূঞাপুর লোকমান ফকির ডিগ্রী কলেজের নিয়োগ যোগদান পত্রের তারিখ অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন।
তিনি আরও বলেন,এর আগে অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে চাকরিতে বয়স জালিয়াতি, ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, টিউশন ফি’র টাকা আত্মসাৎ, ক্রয় সংক্রান্ত অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগে শিক্ষা অধিদপ্তরও পৃথকভাবে তদন্ত করে।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তদন্তাধীন বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না।
টাঙ্গাইল জেলা দুদকের উপ পরিচালক ফখরুল ইসলাম বলেন. মঙ্গলবার সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তদন্ত চলমান রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
আরমান কবীরঃ শহরের ব্যস্ততা, সময়ের অভাব আর জীবনযাত্রার ধরন বদলের সাথে আমাদের খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাসও পাল্টে গেছে। এক সময়ের হোটেল-রেস্তোরাঁর জায়গা এখন ধীরে ধীরে দখল নিচ্ছে ফুড কার্ট। শপিং মল, অফিস কমপ্লেক্স, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস — সব জায়গাতেই ফুড কার্ট এখন জীবন যাপনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। আমাদের টাঙ্গাইল শহরও এর ব্যতিক্রম নয়।
পৌরশহরের জেলা সদর রোড, ৯০ বাড়ি রোড, ক্যাপসুল মার্কেটের সামনে সহ কয়েকটি ব্যস্ত পয়েন্টেই এখন গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ফুড কার্ট। তরুণ-তরুণী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী — এখানে সন্ধ্যার পর সবার ভিড় লেগেই থাকে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই চিত্রটা কিছুটা বদলেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টাঙ্গাইল শহরে আগমন উপলক্ষে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির অংশ হিসেবে সদর উপজেলা ভূমি অফিসের দক্ষিণ সাইড, ঢাকা রোড, রেজিস্ট্রি পাড়ার রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি ফুড কার্ট উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফলে শহরের খাবার মানচিত্রে এখন নতুন ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে।
ফুড কার্ট এখন শুধু খাওয়ার জায়গা না, এটা আড্ডার জায়গা। বন্ধুদের সাথে দেখা, পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে হালকা কিছু খাওয়া, প্রেমিক প্রেমিকার সময় কাটানো,সবকিছু এখানেই হয়। আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা থাকায় তরুণদের কাছে এটা একটা আড্ডার “থার্ড প্লেস” হয়ে উঠেছে — বাসা আর অফিসের বাইরে তৃতীয় ঠিকানা।
আধুনিক মানুষের হাতে সময় কম। অফিসের এক ঘণ্টার লাঞ্চ ব্রেক, ক্লাসের ফাঁকে, কিংবা শপিংয়ের মাঝে বসে খাওয়ার জন্য ফুড কার্ট আদর্শ। ফাস্ট ফুড, চাইনিজ,দেশি খাবার, কফি — সব পাওয়া যায়। অর্ডার দাও, বসো, খাও। রান্না, ওয়েটিং, বিলের ঝামেলা নেই।
ছোট ছোট উদ্যোক্তাদের জন্যও ফুড কার্ট একটা সহজ প্ল্যাটফর্ম। আলাদা দোকান ভাড়া না নিয়ে একটা কিয়স্ক দিয়েই ব্যবসা শুরু করা যায়। আবার ভোক্তার জন্যও বাজেট-ফ্রেন্ডলি। ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত খাবার মেলে। একা খেলে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় ভালো পেট ভরে যায়, যা আলাদা রেস্তোরাঁয় সম্ভব না।
টাঙ্গাইল শহরের ফুড কোর্টগুলোতে এখন মোটামুটি সবই পাওয়া যায়। তরুণদের মূল আকর্ষণ বার্গার, পিজ্জা, ফ্রাইড চিকেন, নাগেটস, শর্মা, মম। সাথে আছে ফ্রাইড রাইস, চাউমিন, সিজুয়ান চিকেন, থাই স্যুপের মতো চাইনিজ-থাই আইটেম। হালকা খাওয়ার জন্য চটপটি, ফুচকা, ঝালমুড়ির স্টলও চোখে পড়ে।
টাঙ্গাইল শহরের উল্লেখযোগ্য কার্টগুলো হচ্ছে ,জেলা সদর রোডে Drip n dip, dumplings ,আপ্যায়ন অন্যতম।
এ ছাড়া ৯০ বাড়ি রোডে SAODA’S kitchen , সি ফুড কর্নার, হাংরি প্যালেস, জান্নাতি ফাষ্ট ফুড,
ভিক্টোরিয়া রোডের ক্যাপসুল মার্কেটের সামনে হালাল ফুড কর্নার সহ সাতটি ফুডকোর্টে রয়েছে।
Drip n dip এর স্বত্বাধিকারী নাফিস আবির খান সাদাব জানান, আমি সাদা’ত কলেজে অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ি ।পড়ালেখার পাশাপাশি মায়ের অনুপ্রেরণায় এই পেশায় এসেছি। প্রায় ৬ মাস হলো এই পেশায় এসে বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। আমার চিকেন শর্মাটি সবচেয়ে বেশি চলে,। এছাড়াও এখনে চিকেন বার্গার, হটডগ, চিকেন উইংস ভালোই চলে। টাঙ্গাইলের ফাস্টফুড প্রেমিদের এখানে আমন্ত্রণ রইল।
এখানে কথা হয় পরিবার নিয়ে খেতে আসা ব্যবসায়ী নাইমুল হাসানের সাথে, তিনি জানান Drip n dip এর শর্মা হলো শহরের সেরা শর্মা। তাই তিনি সুযোগ পেলেই পরিবার পরিজন নিয়ে এখানে খেতে আসেন।
পাশের dumplings ফুড কার্টের স্বত্বাধিকারী সাদিকুর জানান, তিনি অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়েন । পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি চিকেন বারবিকিউ মম ও চিকেন স্টিম মম বিক্রি করেন। এতে করে যেমন তার পড়ালেখার খরচ নির্বাহ হয়, পাশাপাশি পরিবারের জন্য কিছু খরচ করতে পারেন। তার স্টিম মম সবচেয়ে বেশি চলে।
dumplings ফুড কার্টে মম খেতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সাদিয়া ও আনিছা জানান, তাঁরা প্রায় সময়ই এখানে মম খেতে আসেন। এখনকার মম এর মান বেশ ভালো ও টেষ্টি। তারা আরও জানান, টাঙ্গাইলে ফুড কার্ট সংস্কৃতি দেশের অন্যান্য জেলার মতো সেভাবে গড়ে উঠেনি। ফুটপাতে ব্যতীত শহরের বিভিন্ন জায়গায় এই সব ফুড কার্ট আরও হলে, ব্যস্ত শহরবাসীর জন্য, অনেকটাই সাহায্য করবে। পৌর প্রশাসকের এই বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া উচিত।
সব সুবিধার সাথে কিছু সমস্যাও আসে। পুষ্টিবিদের মতে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার আর অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস মানুষের মাঝে রোগব্যাধি বাড়াচ্ছে। ফাস্টফুডের আধিক্য মুটিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ফুড কার্টের কারণে প্লাস্টিক বর্জ্য বাড়ছে, যা পরিবেশের জন্যও চ্যালেঞ্জিং ও বটে।
ফুড কার্ট আধুনিক জীবনের গতির সাথে তাল মিলিয়ে চলা একটা কালচার। এটা শুধু খাবার বিক্রির জায়গা না, এটা সময়, সমাজ আর শহরের ছন্দের প্রতিফলন। স্বাস্থ্যকর খাদ্য বাড়ানো আর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলে ফুড কার্টের ভূমিকা শহরের জন্য আরও ইতিবাচক হবে। টাঙ্গাইল শহর যত আধুনিক হবে, ফুড কার্টের ছবিটাও ততই বদলাতে থাকবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের মধ্য দিয়ে এককালে বয়ে যাওয়া শ্যামাবুর খাল দখলের কারণে আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। শহরের প্যারাডাইস পাড়া খাদ্য গুদামের কাছে লৌহজং নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে খালটি তৎকালীন টাঙ্গাইল শহরকে উত্তর-দক্ষিণে ভাগ করে শহরের পূর্ব প্রান্তে বিল ঘারিন্দায় গিয়ে মিশেছিল। বর্তমানে খালটির বিভিন্ন অংশ দখল করে টাঙ্গাইল পৌরসভাসহ নানা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে ভোগদখল করছে। ফলে শহরে দেখা দিয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা।
জানা যায়, শ্যামা বাবুর খালটি ছিল কৃত্রিমভাবে খন করা একটি খাল। ১৯০০ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রানি ভিক্টোরিয়ার সিংহাসন আরোহণের সম্মানে টাঙ্গাইল মহকুমার প্রধান সড়ক ভিক্টোরিয়া রোড তৈরির জন্য খালটি খন করা হয়। পরে ১৯৮৮ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যার পর ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশের জন্য প্রণীত ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যানের অন্যতম উপাদান ছিল কম্পার্টমেন্টালাইজেশন পাইলট প্রজেক্ট। এর মূল লক্ষ্য ছিল যমুনা নদীর প্লাবনভূমিতে ছোট-বড় ‘কম্পার্টমেন্ট’ বা বন্যানিয়ন্ত্রণ বেষ্টনী তৈরি করে স্থানীয় পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও মৎস্য চাষের উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে একসময়ের প্রমত্তা শ্যামা বাবুর খালকে ১৯৯৬ সালে ড্রেনে রূপান্তর করা হয়। এরপরই শুরু হয় খালের জায়গা দখলের পালা।
টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান জামিলুর রহমান মিরন শহরের টাউন প্রাইমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ভিক্টোরিয়া রোডের পাশে খালের জায়গার ওপর ২০০৩ সালে প্রথম শওকত আলী তালুকদার পৌর সুপার মার্কেট বা ক্যাপসুল মার্কেট নির্মাণ করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে শামছুল হক মার্কেট বা ভিক্টোরিয়া ফুডজোন, শামসুর রহমান খান পৌর মার্কেট, পৌর সুপার মার্কেট, পৌর সুপার মার্কেট-১, পৌর সুপার মার্কেট-২, পৌর সুপার মার্কেট-৩ নির্মাণ করেন পৌরসভায় নির্বাচিত বিভিন্ন চেয়ারম্যান ও মেয়র। এছাড়া সম্প্রতি ফায়ার সার্ভিস মার্কেট-১ ও ২-ও খালের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে।
খালের প্রবেশমুখ প্যারাডাইস পাড়া খাদ্য গুদামের কাছে খালের জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে আল মাদরাসাতুল আরাবিয়্যাহ মার্কাস মাদ্রাসা। এর পূর্ব দিকে আরও গড়ে উঠেছে মুক্তিযোদ্ধা ভবন, প্যারাডাইস পাড়া পূজা মণ্ডপ, পার্ক বাজারের পাইকারি বাজার। খালের মাঝামাঝি, অর্থাৎ শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে তৈরি হয়েছে হোটেল নিরালা, হোটেল কিছুক্ষণ, সিডিসি শপিং কমপ্লেক্স, সিডিসি ক্লাব, বই মার্কেটসহ আরও অনেক স্থাপনা। ফলে শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভিক্টোরিয়া রোড সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে যানবাহনের চাপে ভিক্টোরিয়া রোডে যান চলাচল প্রায় অচল।
আগে এই খালের মাধ্যমেই শহরের বৃষ্টির পানি লৌহজং নদী ও বিল ঘারিন্দায় গিয়ে পড়ত। খালটি দখলের পর বৃষ্টি হলেই টাঙ্গাইল শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
দখলের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্যারাডাইস পাড়ার সুবল গৌড় ও হারাধন শীল জানান, কয়েক যুগ আগে নৌকা যোগে লৌহজং নদী হয়ে শ্যামা বাবুর খাল দিয়ে শহরের নিরালা মোড়ে ব্যবসায়ীরা আসতেন। সেই খালটি এখন ড্রেনে পরিণত হয়েছে। পচা পানির দুর্গন্ধে খালের পাশ দিয়ে হাঁটাচলাই দায়। অবিলম্বে খালটি উদ্ধারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি আকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, আমরা যখন প্রাইমারি স্কুলের ছাত্র, তখন দেখেছি শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহমান খাল ছিল, যেটি শ্যামা বাবুর খাল নামে পরিচিত ছিল। তৎকালীন শহরের পণ্য পরিবহনের অন্যতম মাধ্যম ছিল এই শ্যামা বাবুর খাল। সরকারের একটি ভুল প্রকল্প খালটির মৃত্যু ঘটিয়েছে। বর্তমানে এটি পুঁতিগন্ধময় নালায় পরিণত হয়েছে। টাঙ্গাইলের সচেতন নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে অবিলম্বে খালটি উদ্ধারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, খালটি কোনোভাবে উদ্ধার করা যায় কি না, সে বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একদল বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলছেন। আশা করা যায়, খুব দ্রুতই খালটি উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার বিভাগীয় কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র চন্দ জানান, খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি ও অবৈধ। নদী, খাল, বিল ও জলাশয় উদ্ধারে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া হাইকোর্টের দিকনির্দেশনাও আছে। অবিলম্বে শ্যামা বাবুর খাল উদ্ধারে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইন উদ্দিন বলেন, টাঙ্গাইল সদরের ৭টি খাল বর্তমানে খনন প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে, তার মধ্যে শহরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শ্যামা বাবুর খালও রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব খালটি দখলমুক্ত করে খননের কাজ শুরু করা হবে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার নিখোঁজের চার দিন পর সাবেক যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে আটক করা হয়েছে পাঁচজনকে।
বুধবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার কাউটেনগর মাছুয়া বিল থেকে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোকছেদুর রহমান জানিয়েছেন।
নিহত আমিনুল ইসলাম খান মিন্টু(৩০) উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের ছনখোলা আমুয়াবাইদ এলাকার আব্দুল মজিদ মাস্টারের ছেলে। তিনি সংগ্রামপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তার বড় ভাই আব্দুল মান্নান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
মিন্টু গাজীপুরের টঙ্গী পাগার এলাকায় অবস্থিত ‘জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেবিক্স লিমিটেড’ কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। কোরবানি ঈদের ছুটিতে তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।
পুলিশ জানায়, রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চাপড়ী বাজার থেকে মিন্টু নিখোঁজ হন। এ নিয়ে সোমবার তার বড় ভাই আব্দুল মান্নান ঘাটাইল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
ঘটনার তদন্তে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে সোহেল রানাকে (৩৫) আটক করে এবং তার তথ্যানুযায়ী পরে আরো চারজনকে আটক করলে হত্যার প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে মাইচা বিলের প্রায় পানিশূন্য একটি খালের মধ্যে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় মিন্টুর লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের বড় ভাই আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাইকে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করেছিল। আমি আমার ভাই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মোকছেদুর রহমান বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরোও জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্থানীয় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের স্বার্থে এখনই তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
নিহত আমিনুল ইসলাম খান মিন্টু(৩০)