/ হোম / অপরাধ
এবার কালভার্টে কাঠের পরিবর্তে বাঁশ, কার্যসহকারী চাকরিচ্যুত - Ekotar Kantho

এবার কালভার্টে কাঠের পরিবর্তে বাঁশ, কার্যসহকারী চাকরিচ্যুত

আরমান কবীর: টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজারে ঐতিহ্যবাহী শ্যামা বাবু খালের ওপর নির্মিত কালভার্টের সাটারিংয়ে কাঠের পরিরবর্তে বাঁশ ব্যবহার করার কারণে ঢালাইয়ের সময় ধসে পড়েছে।

এ ঘটনায় অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগকৃত কার্যসহকারী মো. আব্দুল আওয়ালকে চাকরিচ্যুত ও সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. নাজমুল হাসানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।ঘটনাটি জেলাজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

এর আগে জেলার বাসাইলে এলজিইডির ব্রিজে বাঁশ ব্যবহার করায় দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।

এ ঘটনায় শনিবার(১৮ অক্টোবর )গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভুরাম পালকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান।

কমিটির সদস্য সচিব এলজিইজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহনাজ পারভীন ও সদস্য করা হয়েছে জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলামকে।

কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্তের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জানা যায়, ১৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫৪ টাকা ব্যয়ে খালের ওপর কালভার্ট নির্মাণের জন্য এফ এ ট্রেডার্স নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয় টাঙ্গাইল পৌরসভা।

নির্মিত কালভার্টের সাটারিংয়ে কাঠের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই করার সময় গত বুধবার ধসে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে টাঙ্গাইল পৌরসভা থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এছাড়াও কার্যসহকারীকে চাকরিচ্যুত ও সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিন শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়- কয়েকজন শ্রমিক পুনরায় সাটারিংয়ের কাজ করছেন। বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের কাছ থেকে কালভার্টটি ধসে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাচ্ছেন।

হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, বাজারের কালভার্টটি নির্মাণের কাজ খুব ধীর গতিতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষসহ ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অপরদিকে কাজের মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান রেজাউল করিম বলেন, তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিলে মূল বিষয়টি জানা যাবে। তবে এখনও ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি।

টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য পৌরসভা পৌরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছে। আমি ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধ করা হয়েছে। নতুন করে সাটারিং করে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. অক্টোবর ২০২৬ ০১:১৭:এএম ২ দিন আগে
মধুপুরে বনভূমি দখল করে বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের নোটিশ - Ekotar Kantho

মধুপুরে বনভূমি দখল করে বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের নোটিশ

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের মধুপুরে সরকারি বনভূমি দখল করে বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বন বিভাগের জমিতে বিভিন্ন ধরনের বাগান ও স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের গাছাবাড়ি গ্রামের মামুন নামের এক ব্যক্তি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামুনের পরিবার একসময় আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছিল। তার বাবা আবদুল খালেক ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মামুনও একসময় পুরোনো মোটরসাইকেল কিনে ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে সংসার চালাতেন।

তবে কয়েক বছরের ব্যবধানে তার আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন এবং বিপুল অর্থ ব্যয়ে বড় ভবন নির্মাণ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছাবাড়ি বিটের আওতাধীন ২ নম্বর কৃষি প্লটের কয়েক বিঘা জমি দখল করে সেখানে বিশাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন বিভাগের জমিতে বিভিন্ন ধরনের বাগান ও অন্যান্য স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার অরণখোলা মৌজার গাছাবাড়ি এলাকায় গিয়ে বন বিভাগের বিট অফিসের পাশে সরকারি জমিতে নির্মিত একটি বড় ভবন দেখা গেছে।

সম্প্রতি ওই ভবন অপসারণের বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ভবনটির মালিকানা সম্পর্কে জানতে চাইলে মামুন দাবি করেন, জায়গাটি তিনি পৈতৃক সূত্রে পেয়েছেন। তার ভাষ্য, দখলে থাকা জমিটি রেকর্ডভুক্ত এবং এর দাগ নম্বর ১৩৪১৫।

তবে মামুনের এ দাবির সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান, দাগ নম্বর, রেকর্ড, মালিকানার দলিল এবং বন বিভাগের জমির সীমানা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জমিটি পৈতৃক সম্পত্তি হলে তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে কি না, সেটিও যাচাইয়ের কথা বলেছেন তারা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “একজন ব্যক্তি কীভাবে সম্পদ অর্জন করবেন, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে সেই সম্পদ অর্জন বা স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করা জরুরি।”

তাদের মতে, মামুনের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পাশাপাশি জমির বৈধতা ও ভবন নির্মাণের অর্থের উৎসও যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা উচিত।

এ জন্য বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে গাছাবাড়ি বিটের কর্মকর্তা আবদুল কদ্দুস জানান, সংশ্লিষ্ট জায়গাটি খালি করার জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অতি শিগগিরই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, জমির রেকর্ড, মালিকানা, বনভূমির সীমানা এবং ভবন নির্মাণের বৈধতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে আনা হোক। সরকারি বনভূমি দখলের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. অক্টোবর ২০২৬ ০৮:১১:পিএম ৫ দিন আগে
টাঙ্গাইলে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের অভিযোগ: মূল হোতা উজ্জ্বল সরকার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের অভিযোগ: মূল হোতা উজ্জ্বল সরকার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

আরমান কবীর: প্রলোভন, গোপন যোগাযোগ আর ব্ল্যাকমেইলের ফাঁদ। এমন নানা অভিযোগ ঘিরে এখন টাঙ্গাইলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি ‘হানিট্র্যাপ’ চক্র।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে এ চক্রের মাধ্যমে নারীদের দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মূল হোতা হিসেবে কালিহাতীর এলেঙ্গা পৌরসভার রাজাবাড়ী এলাকার মো. উজ্জ্বল সরকারের নাম সামনে এলেও তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, উজ্জ্বল বিভিন্ন উঠতি বয়সের নারী ও স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের দিয়ে টাকাওয়ালা ব্যক্তিদের টার্গেট করতেন। পরে ওই নারীদের দিয়ে বিভিন্ন পন্থায় আটক করে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন উজ্জ্বল ও তার চক্রের সদস্যরা।

এ নিয়ে ৭ মিনিট ৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দুই মেয়ের সাথে উজ্জ্বলকে মুঠোফোনে কথা বলতে শোনা যায়।

এক মেয়ে উজ্জ্বলকে বলছে, _“ভাই আমরা এতো রিক্স নিচ্ছি, আমরা যাতে খালি হাতে না ফিরি।”_

জবাবে উজ্জ্বল ওই মেয়েদের বলছে, _“রুমে প্রবেশের সময় এসএমএস দিবে ‘ভাই আমরা ঢুকলাম’। তারপর আমাদের রুম পর্যন্ত যেতে ৩ থেকে ৫ মিনিট লাগবে। তারপর আমরা ভিডিও ধারণ করবো। টাকা কিভাবে দিবো, সেটা আমার উপর ছেড়ে দাও। টাকা নেয়ার বিষয়ে আমার পড়াশোনা করা আছে। টাকা না দেয়, এক কোটি টাকা কাবিন করে তোমাদের বিয়ে করাবো।”_

অভিযোগ রয়েছে, পরিচিতি ও ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে প্রথমে আস্থা অর্জন, এরপর ব্যক্তিগত তথ্য বা স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টি করা হতো। কখনো অর্থ আদায়, কখনো সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের জিম্মি করার অভিযোগও রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা উজ্জ্বল এখনো কেন গ্রেপ্তার হননি? তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেগুলোর তদন্ত কত দূর এগিয়েছে? এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না?

এদিকে, এ ধরনের প্রতারণার শিকার অনেকেই সামাজিক সম্মানহানি, ভয়ভীতি কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের আশঙ্কায় মুখ খুলতে চান না। ফলে অপরাধের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে দেরি হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উজ্জ্বল সরকার বলেন, “আমি এ ধরনের কোন কাজের সাথে জড়িত না। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

এ বিষয়ে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের সচেতন মহল।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৩১:পিএম ৫ দিন আগে
টাঙ্গাইলে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল: মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল: মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ছবি ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে খাইরুল ইসলাম (৩৩) নামে এক মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে র‍্যাব-১৪ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা কলেজ মোড় এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারীর মেয়েকে পড়ানোর সুবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক খাইরুল ইসলাম ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট তিনি ওই নারীকে ধর্ষণ করেন এবং তাঁর আপত্তিকর ছবি ধারণ করেন। পরে ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী গত ২ অক্টোবর টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।

পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে র‍্যাব-১৪ এর একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তারকৃতকে কালিহাতী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র‍্যাব জানিয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. অক্টোবর ২০২৬ ১২:৫৯:এএম ৭ দিন আগে
রাজনৈতিক মামলায় আত্মসমর্পণ করে শ্রমিকদল নেতা মোকলেস কারাগারে - Ekotar Kantho

রাজনৈতিক মামলায় আত্মসমর্পণ করে শ্রমিকদল নেতা মোকলেস কারাগারে

আরমান কবীর:২০১৭ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করার ঘটনায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা রাজনৈতিক মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রমিকদল নেতা মোকলেস মিয়া ও যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াদ হাসান তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মোকলেস মিয়া ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা।

অপর আসামি জাহিদুল ইসলাম যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর তালিকা দেওয়া হলেও রাষ্ট্রপক্ষ নয়জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২৬-এর বিচারক মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামকে দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। তাদের প্রত্যেককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে মামলার অন্য ধারাগুলো থেকে তাদের খালাস দেওয়া হয়।

এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি আপিল করেন মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম। আপিলে বলা হয়েছে, মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর নাম থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষ মাত্র নয়জনকে আদালতে হাজির করেছে। গুরুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি বলেও আপিলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য ও মামলার অন্যান্য উপাদান বিবেচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

আপিল আবেদনে নিম্ন আদালতের রায় ও সাজা বাতিল করে তাদের খালাস দেওয়ার পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনের আবেদন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “২০১৭ সালে মিথ্যা মামলায় ফ্যাসিস্ট সরকার সাজা দিয়েছিল। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আমরা পরবর্তী সময়ে সাজা বাতিল ও জামিনের জন্য আইনগতভাবে আবারও আবেদন করব।”

এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামের মুক্তির দাবি জানান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. অক্টোবর ২০২৬ ১২:৪২:এএম ২ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইলে চোরের ছুরিকাঘাতে গৃহকর্তা নিহত ; গ্রেপ্তার ১ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে চোরের ছুরিকাঘাতে গৃহকর্তা নিহত ; গ্রেপ্তার ১

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় চোর ধরতে গিয়ে চোরের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেলো এক গৃহকর্তার। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুই জন।

বুধবার(৩০ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার বারাপুষা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহকর্তা মজনু মিয়া (৫০) ওই গ্রামের মৃত বেল্লাল মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিন্ত্রী ছিলেন । তিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন।

গ্রেপ্তার চোর ছামিনুর মিয়া উপজেলার গয়হাটা গ্রামের মুন্নাফ মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার ভোর রাত সাড়ে ৪ টার দিকে চোর মজনু মিয়ার বাড়িতে চুরি করতে যায়। এসময় তার ছোট মেয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হয়ে চোরকে দেখতে পায়। পরে চোর চোর বলে ডাক- চিৎকার করলে চোর বাড়ির খড়ের গাদার পিছনে লুকায়। এসময় মজনু মিয়া তাকে ঝাপটে ধরলে চোরের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে তার ঘাড়ে ও গলায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এ সময় প্রতিবেশি আলতাফ ও নাজমুল তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে চোর তাদেরকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মজনু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার( ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মীর রকিবুল ইসলাম লীন জানান, ছুরির আঘাতে মজনু মিয়ার ক্যারোটিড আর্ট্যরি কেটে যাওয়ায় তার মৃত্যু হয়। অপর, আহত দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো জহুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। জড়িত চোর ছামিনুর মিয়াকে গ্রেপ্তার করে নাগরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসা চলছে। আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১. অক্টোবর ২০২৬ ০১:২৫:এএম ৩ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালে লক্কর-ঝক্কর মার্কা বাস, জন দুর্ভোগ চরমে  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালে লক্কর-ঝক্কর মার্কা বাস, জন দুর্ভোগ চরমে 

আরমান কবীর: ১৯৮১ সালে ৬ একর জায়গার উপর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালের উদ্বোধন করেন। দীর্ঘ ৪৫ বছর অতিবাহিত হলেও এই টার্মিনালের আর নতুন করে কোন অবকাঠামগত উন্নয়ন হয়নি।

টাঙ্গাইল শহর বেড়েছে, স্ট্যান্ডে গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে, গাড়ির রুট বেড়েছে, কিন্তু বাড়েনি নতুন বাসটার্মিনালের জায়গার পরিমাণ। ফলে নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা জুড়ে গাড়ির জট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন রুটের লক্কর-ঝক্কর মার্কা বাস। ফলে জনদুর্ভোগ কমছেই না।

বিশেষ করে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রুটে ফিটনেস বিহীন প্রান্তিক গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি এবং সেবার মানও খুবই খারাপ বলে অভিযোগ বাস যাত্রীদের।

সরেজমিনে, বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে গিয়ে দেখা যায়, বাস টার্মিনালের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে সারি সারি লক্কর-ঝক্কর মার্কা প্রান্তিক গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। এদের অধিকাংশই সড়কে চলাচলের জন্য অনুপযোগী বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রান্তিক গাড়ির চালক রুবেল ও আলমাস বলেন, “মালিক যে গাড়ি দেয় আমরা তাই চালাই। ফিটনেস বিহীন লক্কর-ঝক্কর মার্কা গাড়ির জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকেরা। তবে তারা স্বীকার করেন প্রান্তিক পরিবহনে অধিকাংশ গাড়ি ফিটনেস বিহীন।

ঢাকা রুটে চলাচলকারী নিরালা পরিবহনের যাত্রী সৃষ্টি একাডেমিক কলেজের ইন্টার প্রথম বর্ষের ছাত্র হাসান ও ধলেশ্বরী পরিবহনের যাত্রী এএসআই শাজাহান বলেন, “গাড়ির সিট গুলো ভালো না। ছারপোকায় ভরা। গাড়ির সিট গুলো আরেকটু আধুনিকায়ন করলে ভালো হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে গাড়িগুলো ছাড়ে এবং পৌঁছায়। সিটিং সার্ভিস হলেও বিভিন্ন স্পটে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলেন। এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।”

টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনি বাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক বলেন, “আমি দায়িত্ব নেয়ার পর বিভিন্ন রুট থেকে লক্কর-ঝক্কর মার্কা বাস অপসারণ ও যানজট নিরসনে মালিক সমিতির পক্ষে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়াও নিরালা বাস কাউন্টারের জন্য নতুন করে জায়গার ব্যবস্থা করেছেন তারা।

তিনি আরও বলেন, “যাত্রীরা গাড়িতে নিরাপত্তা চায়, পরিবহন যেমনই হোক তারা যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে সেই বিষয়টিকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সরকারের পক্ষ থেকে নিরালা পরিবহনের কাউন্টার উচ্ছেদ করার পর আমরা দায়িত্ব নিয়েই নিরালা পরিবহনের জন্য নতুন কাউন্টারে জায়গার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়াও নতুন বাস স্ট্যান্ডে যানজট নিরসনে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছি।”

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, “শহরে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত সিএনজি, অটো রিক্সা ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা চলাচল করছে। বিশেষ করে অটো রিক্সা গুলো যেন দুই শিফটে চলাচল করে এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণ সমন্বয় করা হচ্ছে। আশা করা যায়, খুব দ্রুতই অটোরিকশা, সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা দ্বারা সৃষ্ট শহরে যানজট দ্রুতই নিরসন হবে। শহরের যানজট কমলে, নতুন বাসস্ট্যান্ডের যানজট অটোমেটিক কমে আসবে। তবে একটু সময় লাগবে।”

১৯৮১ সালে ৬ একরে শুরু হওয়া টার্মিনাল আজ ২০২৬ সালেও একই জায়গায়। শহর ও যাত্রী বেড়েছে, কিন্তু অবকাঠামো আটকে আছে সেই পুরনো ফ্রেমেই। ফিটনেসবিহীন বাস, অতিরিক্ত অটো-সিএনজি আর জায়গার সংকট মিলিয়ে টাঙ্গাইলবাসীর দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছেই। যাত্রীদের দাবি, দ্রুত টার্মিনাল সম্প্রসারণ ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৪৯:পিএম ৩ সপ্তাহ আগে
আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের দখলে টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্য খাত  - Ekotar Kantho

আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের দখলে টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্য খাত 

আরমান কবীর: ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের ২ বছর হলেও টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্য খাত এখনও আওয়ামীপন্থী স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) চিকিৎসকদের হাতে জিম্মি।

জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ সব সরকারি হাসপাতালে আওয়ামীপন্থি পেশাজীবী সংগঠন স্বাচিপের আধিপত্য ও প্রভাব বিদ্যমান, ফলে ডক্টরস এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ড্যাব) সদস্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

পুরোনো আওয়ামী পন্থী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে ওষুধের টেন্ডার।

স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম আর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমএসআর টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে।

সম্প্রতি ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২৫ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নদীতে ফেলে দেওয়ার সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে। গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে এ নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়। নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ওষুধকাণ্ডের ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা স্বাচিপ সদস্য আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেলকে ওএসডি করা হয়। অধিকতর তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলায় ১টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ১টি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে।

আওয়ামী শাসনামলে প্রায় ১৫ বছর এসব হাসপাতালের চিকিৎসক নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে স্বাচিপের সদস্যপদই ছিল যোগ্যতার প্রধান মাপকাঠি।

টাঙ্গাইলের বর্তমান সিভিল সার্জন ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু – স্বাচিপের আজীবন সদস্য। গত বছরের ৯ মার্চ তিনি টাঙ্গাইলে যোগদান করেন।ডেপুটি সিভিল সার্জন মুহাম্মদ আজিজুল হক স্বাচিপ সদস্য।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১১৭ জন চিকিৎসকের বেশিরভাগই স্বাচিপের সদস্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর উপ-পরিচালক পদে স্বাচিপের দুই সদস্য কামরুল কিবরিয়া ও মারুফ আহমেদ খান সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারদের মধ্যে ১২ উপজেলার মধ্যে ৯ জনই আওয়ামী সরকারের আমলে নিয়োগ পান। যাদের প্রায় সবাই স্বাচিপ সদস্য বা আওয়ামী সুবিধাভোগী।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ৪৮ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসকসমাজ। জুলাই গণবিপ্লবের বিরোধিতা ও গণহত্যায় মদদদাতার অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। এ তালিকার কয়েকজন বদলি হলেও বাকিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন এখনও।

১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ৪৫০টি পদের মধ্যে শূন্যপদ ১৭৭টি। পদায়ন করা ২৭৩ জনের মধ্যে বেশিরভাগই আওয়ামীপন্থি সুবিধাভোগী। ৫ আগস্টের পরে যে ১৪৫ জনের পদায়ন করা হয় তার মধ্যেও প্রাধান্য পায় আওয়ামী সুবিধাভোগীরা।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭৯০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৬৩ জন চিকিৎসক ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ৮৭ জনের বিপরীতে ৫৪ জন চিকিৎসক।১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৩৯টি পদ শূন্য। এখানকার চিকিৎসকের অধিকাংশ আওয়ামী পরিবারের সদস্য বা সুবিধাভোগী।

এ প্রসঙ্গে ড্যাবের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ডা. আব্দুল মতিন বলেন, “জেলার চিকিৎসা ক্ষেত্র এখনো স্বাচিপ ও আওয়ামী সুবিধাবাদী চিকিৎসকদের দখলে। নানা অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে আগের মতোই। শূন্যপদে আওয়ামী দুঃশাসনে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার চিকিৎসকদের পদোন্নতি ও পদায়নের সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলের নজরে আনা হয়েছে।”

এদিকে জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে মির্জাপুর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ভূঞাপুর, গোপালপুর, ধনবাড়ী ও সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল, সার্জিকেল অ্যান্ড রিকোজিট টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব উপজেলায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার বহির্ভূত শর্ত আরোপ করে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, “ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধকাণ্ডের ঘটনায় কর্মকর্তাকে ওএসডি এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলার টেন্ডারে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে তিনি নিজে স্বাচিপের সদস্য নন বলেও দাবি করেন।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোহাম্মদ আব্দুল কদ্দুস অভিযোগ খন্ডন করে বলেন, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সরকার যাকে পোস্টিং দিয়েছে, তিনি চাকুরী করছেন, এখানে কে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের, কে ডক্টরস এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশে সদস্য সেটা দেখবেন সরকার। এটা পলিসির ব্যাপার।

আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্য খাতে স্বাচিপের আধিপত্য ভাঙেনি। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন এবং অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৩৬:এএম ৩ সপ্তাহ আগে
হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক এমপি ছানোয়ার হোসেন শ্যোন অ্যারেস্ট  - Ekotar Kantho

হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক এমপি ছানোয়ার হোসেন শ্যোন অ্যারেস্ট 

আরমান কবীর: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মিছিলে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সোহেলী তামান্নাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেনকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

এর আগে ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক মো. আমিনুর রহমান ছানোয়ার হোসেনকে আদালতে হাজির করে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে ছানোয়ার হোসেনের পক্ষে আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ভাটারা থানার এলাকায় ২০০ থেকে ৩০০ জন আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় গুলিবর্ষণ ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী সোহেলী তামান্না আহত হন। তাঁর বাম হাতের কব্জিতে গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি কোমরের পেছনে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় সোহেলী তামান্না বাদী হয়ে ভাটারা থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে আরও বলা হয়, তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীদের হামলায় ছানোয়ার হোসেন উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে মদদ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৩৫:এএম ৩ সপ্তাহ আগে
ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ কান্ডে বাসাইলের প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ - Ekotar Kantho

ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ কান্ডে বাসাইলের প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে বাসাইল উপজেলা থেকে বান্দরবন জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অফিস আদেশ বলা হয়েছে- ‘স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাকে তার নামের পাশে বর্ণিত পদবি ও কর্মস্থলে স্ব-বেতন স্কেলে বদলি করা হইল। বর্ণিত কর্মকর্তা আগামী ২৭-০৯-২০২৬ তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে।

অন্যথায় ২৭-০৯-২০২৬ তারিখ দুপুরে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হইবেন। একইসঙ্গে আর্থিক ক্ষমতাসহ উপজেলা প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব (৬ষ্ঠ গ্রেডভুক্ত উপজেলা প্রকৌশলী পদায়ন না করা পর্যন্ত) প্রদান করা হইল।

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান তার স্ট্যান্ড রিলিজের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে সেতুতে বাঁশ কাণ্ডের ঘটনাটি এখন সারাদেশে বেশ আলোচনার কেন্দুবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।দফায় দফায় চলছে তদন্ত। এ ঘটনায় মামলার পর সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত একজন উপ-সহকারীকে বরখাস্ত ও একই সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ দুই প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অভিযানে নেমেছে দুদক।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদক টাঙ্গাইলের কার্যালয় থেকে সেতুটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন।

দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘দুদকের পক্ষ থেকে সেতুটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, এখানে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা ফুটপাত স্ল্যাব ও রেলিংয়ের পিলার ভেঙে দেখেছি। এখানে রডের পরিমাণটা কম রয়েছে। রড ততটুকু থাকা দরকার, সেটুকু নেই।

সরেজমিনে যে রিপোর্টটি তৈরি করেছি, সেটা আমাদের এক্সপার্ট আছে, ওনারা সরেজমিন প্রতিবেদন দেবে। সেটার ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিক সত্যতা পেলে আমরা কমিশনকে বিস্তারিতভাবে জানাবো। তারপর কমিশন থেকে যে নির্দেশনা দেবে আমরা পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবো।

বাঁশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলো আমরা সরেজমিনে দেখতে পাইনি। তবে মিডিয়ার মাধ্যমে সেগুলো দেখেছি। সেখানে সাটারিং-এ বাঁশের ব্যবহার আমরা দেখেছি।’

একই ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন এবং বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়।

এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি অফিস আদেশ ও চিঠির মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলায় প্রধান আসামি ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও অপর আসামি সাব-ঠিকাদার শাহ আলম। সেতুটি পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক।

ঘটনার তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক এবং বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে।

জানা গেছে, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর (বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়ক) ৯০ দশমিক শূন্য ৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণ করা হচ্ছিল। এতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ নামের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া কাজটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। তবে নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই শুরু করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় তারা মোবাইল ফোনে কাজটির ভিডিও ধারণ করে। স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর আবার রাতে কাজ শুরু করে ঢালাই শেষ করা হয়। পরে স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেতুটি পরিদর্শন ও তদন্তের উদ্যোগ নেয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর সেতুটি পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন মোবাইল ফোনে কাজী ফাত্তাউর রহমানের স্ট্যান্ড রিলিজের বিষয়টি এড়িয়ে যান। এসময় তিনি শোকজের বিষয়টি স্বীকার করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:২১:এএম ৪ সপ্তাহ আগে
হত্যা মামলায় টাঙ্গাইলের বহুল আলোচিত খান পরিবারের সন্তান বাপ্পাসহ ৩ জনের ফাঁসি - Ekotar Kantho

হত্যা মামলায় টাঙ্গাইলের বহুল আলোচিত খান পরিবারের সন্তান বাপ্পাসহ ৩ জনের ফাঁসি

আরমান কবীর: ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে ফারুক হত্যা মামলায় টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে বহুল আলোচিত ‘খান পরিবারের’ সন্তান সানিয়াত খান (বাপ্পা)সহ তিনজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় আরও চার জনকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে আদালত বেকুসুর খালাস দিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন সোমবার(২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই রায় দেন।

মামলায় রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌশুলি মোহাম্মদ সাইদুর রহমান (স্বপন) এই রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সানিয়াত খান (বাপ্পা) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি। তিনি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের ছেলে। এবং একই আসনের সাবেক সদস সদস্য আমানুর রহমান খানের (রানা) ছোট ভাই। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামী হলেন- টাঙ্গাইল শহরের কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ ও সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের শ্রীফলিআটা গ্রামের শহীদ মিয়ার ছেলে মো. শাজাহান মিয়া। এদের প্রত্যেককে ১লাখ টাকা করে জরিমানাও করেছেন আদালত। এরা সবাই পলাতক রয়েছেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কাঠুয়া যোগিনী গ্রামের আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে মো. সুজন, শ্রীফলিআটা গ্রামের রওশন আলীর ছেলে মো. সানোয়ার হোসেন, বাঘিল ইউনিয়নের ছিটকি বাড়ি গ্রামের নুরু বখ্শের ছেলে রুজবেল ওরফে ইমন এবং শহরের উত্তর কাগমারার নুরুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম। এদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ মামলার অপর আসামী সঞ্জিত ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার পর মো. সুজন ও সানোয়ার হোসেনকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্য আসামীরা পলাতক রয়েছেন।

অতিরিক্ত সরকারি কৌশুলি মোহাম্মদ সাইদুর রহমান (স্বপন) জানান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রাত ভ্রমণে বের হন। সকাল ৬টার দিকে শহরের বটতলা বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনার পরদিন তার ভাই মো. লাভলু মিয়া বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলার তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালে ২০১৬ সালে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাজাহান, সুজন ও সানোয়ার হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তাদের জবানবন্দিতে বের হয়ে আসে সানিয়াত খান (বাপ্পা) ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড করিয়েছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫৬:পিএম ৪ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইলে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে সুরমান রেজা(৩৮) নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের দরুন এলাকার একটি পরিত্যক্ত ফিলিং স্টেশনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত সুরমান রেজা সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের ভাটচান্দা গ্রামের হানিফ রেজার ছেলে।

তিনি গালা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি একবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের ভাই হালিম রেজা জানান, সুরমান ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ইউপি সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে কী কারণে বা কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না।

তিনি আরও জানান, ‘কী থেকে কী হলো, কিছুই বুঝতে পারছি না।’ এ ঘটনায় সঠিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য জানা যাবে।হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত করছে পুলিশ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৪২:এএম ৪ সপ্তাহ আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।