/ হোম / টাঙ্গাইল সদর
রাজনৈতিক মামলায় আত্মসমর্পণ করে শ্রমিকদল নেতা মোকলেস কারাগারে - Ekotar Kantho

রাজনৈতিক মামলায় আত্মসমর্পণ করে শ্রমিকদল নেতা মোকলেস কারাগারে

আরমান কবীর:২০১৭ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করার ঘটনায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা রাজনৈতিক মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রমিকদল নেতা মোকলেস মিয়া ও যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াদ হাসান তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মোকলেস মিয়া ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা।

অপর আসামি জাহিদুল ইসলাম যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর তালিকা দেওয়া হলেও রাষ্ট্রপক্ষ নয়জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২৬-এর বিচারক মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামকে দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। তাদের প্রত্যেককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে মামলার অন্য ধারাগুলো থেকে তাদের খালাস দেওয়া হয়।

এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি আপিল করেন মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম। আপিলে বলা হয়েছে, মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর নাম থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষ মাত্র নয়জনকে আদালতে হাজির করেছে। গুরুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি বলেও আপিলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য ও মামলার অন্যান্য উপাদান বিবেচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

আপিল আবেদনে নিম্ন আদালতের রায় ও সাজা বাতিল করে তাদের খালাস দেওয়ার পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনের আবেদন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “২০১৭ সালে মিথ্যা মামলায় ফ্যাসিস্ট সরকার সাজা দিয়েছিল। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আমরা পরবর্তী সময়ে সাজা বাতিল ও জামিনের জন্য আইনগতভাবে আবারও আবেদন করব।”

এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামের মুক্তির দাবি জানান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. অক্টোবর ২০২৬ ১২:৪২:এএম ৩ দিন আগে
টাঙ্গাইল শহর :অপরিকল্পিত নগরায়নে নাভিশ্বাস নাগরিকদের - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল শহর :অপরিকল্পিত নগরায়নে নাভিশ্বাস নাগরিকদের

আরমান কবীর: ১৩৯ বছরের প্রাচীন টাঙ্গাইল পৌরশহর এখন অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, জলাবদ্ধতা, গ্যাস সংকট আর নাগরিক সুবিধার অভাবে দিন দিন বসবাসের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

১৯৬৯ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ময়মনসিংহ জেলার একটি মহকুমা থেকে টাঙ্গাইল জেলায় রূপান্তরিত হয়।

এর অনেক পূর্বে টাঙ্গাইল মহকুমায় ১৮৮৭ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত টাঙ্গাইল পৌরসভা। এটি ১৩৯ বয়সী দেশের অন্যতম প্রাচীন পৌরসভা। প্রতিষ্ঠার সময় ওয়ার্ড ছিল ৫টি, বর্তমানে ১৮টি। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী পৌরসভার মোট জনসংখ্যা ২ লাখ ১২ হাজার ৮৮৭ জন।২৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের দ্রুত বর্ধনশীল এই পৌর শহরের জনসংখ্যা বাড়লেও সেই তুলনায় রাস্তা, ড্রেনেজ, পার্কিং ও পাবলিক সার্ভিস বাড়েনি।

পৌর শহরের প্রধান সড়ক – ভিক্টোরিয়া রোড, মেইন রোড, জেলা সদর রোড (কবি নজরুল সরনী) ময়মনসিংহ রোড, বেবি স্ট্যান্ড সড়ক অত্যন্ত সরু। ফলে যানজট নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা ।

জেলা ট্রাফিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ,শহরে বৈধ সিএনজি ৪ হাজার ২০০টি,ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা দুই শিফটে ৫ হাজার। এ ছাড়াও ব্যাটারি চালিত রিক্সার (টেসলা) কোনো পরিসংখ্যান নেই

দিনের কর্মব্যস্ত সময়ে এই পরিমাণ সিএনজি, অটো, ব্যাটারি রিক্সা ও বাসের চাপে ভিক্টোরিয়া রোড, নিরালা মোড়, মেইন রোড, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, নতুন বাসস্ট্যান্ড, পার্কের বাজারের মোড়ে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে। শহর স্থবির হয়ে পড়ে।

জেলার একমাত্র টার্মিনাল, নতুন বাস টার্মিনাল ১৯৮১ সালের ৬ একরেই আটকে আছে। অথচ গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে এখানে যানজটের কারণে পাশের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও প্রায়ই ব্যাহত হয়।

শহরের প্রাণকেন্দ্র বেবি স্ট্যান্ড, পুরাতন বাস স্ট্যান্ড, কলেজ মোড়, নতুন বাস স্ট্যান্ড, বেড়াডোমা, শান্তি কুঞ্জের মোড়ে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে সিএনজি স্ট্যান্ড। ফলে প্রতিদিন সকাল-বিকাল শহরের এই স্থানে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ছে। যার প্রভাব পড়ছে পুরো শহরে।

জেলা শহরের একমাত্র বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক খাল শ্যামা বাবুর খাল পৌর সভা কর্তৃক দখল করে ৭ টি মার্কেট নির্মাণের ফলে,সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

বিশেষ করে শহরের আকুর-টাকুর পাড়া, আদালতপাড়া, থানা পাড়া, সাহাপাড়া, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও আট পুকুর পাড় সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। শহরের প্রধান ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ। নালা-নর্দমা সংস্কার ও শ্যামাবাবুর খাল উদ্ধারের বিষয়ে নেই কোনো মাস্টারপ্ল্যান।

অপরদিকে,পৌর সভার রাস্তার অধিকাংশ ফুটপাত হকারদের দখলে। পথচারীদের রাস্তা দিয়েই হাঁটতে হচ্ছে। নতুন মার্কেট, আবাসিক ভবন গড়ে উঠছে কিন্তু পার্কিং, খোলা জায়গা, খেলার মাঠ রাখা হচ্ছে না। ১৩৯ বছরের প্রাচীন এই শহরে নেই কোনো শিশু পার্ক, নেই বয়স্কদের জন্য কোনো পার্ক। জেলার একমাত্র শিশু পার্কে গড়ে উঠেছে পার্ক বাজার।

নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার জায়গা নেই। ডাস্টবিনের অভাবে ময়লা রাস্তায় পড়ে থাকে। গ্রীষ্মে পানির সংকট। অনেক এলাকায় এখনো গ্যাস লাইন পৌঁছায়নি।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপের তুলনায় চিকিৎসক ও অবকাঠামো অপ্রতুল। স্কুল-কলেজেও একই অবস্থা।

ব্যাংকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “টাঙ্গাইল এখন আর আগের টাঙ্গাইল নেই। রাস্তায় বের হলেই ধুলা আর জ্যাম। বাচ্চাদের নিয়ে একটু হাঁটার জায়গা নেই। শিশুদের জন্য এই শহর নিরাপদ নয়।”

ব্যবসায়ী মো. রফিক বলেন, “পৌরসভা ট্যাক্স বাড়াচ্ছে কিন্তু সেবা বাড়ছে না। ড্রেন পরিষ্কার হয় না, রাস্তা ভাঙা থাকে মাসের পর মাস। দেওয়া হয় না মশার ওষুধ। গ্রীষ্মকালে তিন মাস সাপ্লাইয়ের পানি পাওয়া যায় না।” পৌর সভার নাগরিক সেবা অত্যন্ত সীমিত, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

বেবি স্ট্যান্ড সিএনজি ও অটোরিকশা শ্রমিক সমিতির আহবায়ক হাদিউজ্জামান সোহেল বলেন, “কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এনডিএ বেবিস্ট্যান্ডের বেশ কিছু জায়গা দখল করে আছে। সেই জায়গাটি উদ্ধার করে সিএনজি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করলে টাঙ্গাইল-নাগরপুর আঞ্চলিক সড়কে যানজট কমবে। কচুয়াডাঙ্গা-এয়ারপোর্ট রোডে কিছু অটো রিকশা সিফট করলে মূল সড়কের উপর চাপ কমবে।”

টাঙ্গাইল পৌর সভার নগর পরিকল্পনাবিদ শহিদুল ইসলাম জানান, একটি পরিকল্পিত নগরে ২০% জায়গা রাস্তার জন্য বরাদ্দ থাকে। ৪০% বসতি ও ১০% জায়গায় খেলার মাঠ তথা বিনোদন কেন্দ্র থাকতে হয়, টাঙ্গাইল পৌরসভায় এর কোন কিছুই নেই।

তিনি আরও জানান,শহরের যানজট নিরসনে অটো-রিক্সা দুই শিফটে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান চলছে। শহরের জন্য নতুন মাস্টারপ্ল্যানের কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, “শহরে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহন চলছে। প্রশাসন ও পৌরসভা সমন্বয় করে কাজ করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি অকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “দ্রুত টাঙ্গাইলের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নগর পরিকল্পনা প্রয়োজন। নতুন বাস টার্মিনাল ও ট্রাক টার্মিনাল শহরের বাইরে স্থানান্তর, ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন প্রয়োজন। ফুটপাত ও পার্কিং জোন নির্ধারণ এবং খেলার মাঠ ও শিশু পার্ক পুনরুদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” টাংগাইল কে বাসযোগ্য করতে হলে দ্রুত এই বিষয়গুলি বাস্তবায়ন করতে হবে।

টাঙ্গাইল জেলা শহর হিসেবে দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু পরিকল্পনা ছাড়া এই বৃদ্ধি, শহরটাকে বসবাসের অনুপযোগী করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এখনই সঠিক পরিকল্পনা ও কঠোর বাস্তবায়ন না হলে আগামী ৫-১০ বছরে টাঙ্গাইলবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩. অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫১:পিএম ৫ দিন আগে
টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালে লক্কর-ঝক্কর মার্কা বাস, জন দুর্ভোগ চরমে  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালে লক্কর-ঝক্কর মার্কা বাস, জন দুর্ভোগ চরমে 

আরমান কবীর: ১৯৮১ সালে ৬ একর জায়গার উপর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালের উদ্বোধন করেন। দীর্ঘ ৪৫ বছর অতিবাহিত হলেও এই টার্মিনালের আর নতুন করে কোন অবকাঠামগত উন্নয়ন হয়নি।

টাঙ্গাইল শহর বেড়েছে, স্ট্যান্ডে গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে, গাড়ির রুট বেড়েছে, কিন্তু বাড়েনি নতুন বাসটার্মিনালের জায়গার পরিমাণ। ফলে নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা জুড়ে গাড়ির জট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন রুটের লক্কর-ঝক্কর মার্কা বাস। ফলে জনদুর্ভোগ কমছেই না।

বিশেষ করে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রুটে ফিটনেস বিহীন প্রান্তিক গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি এবং সেবার মানও খুবই খারাপ বলে অভিযোগ বাস যাত্রীদের।

সরেজমিনে, বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে গিয়ে দেখা যায়, বাস টার্মিনালের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে সারি সারি লক্কর-ঝক্কর মার্কা প্রান্তিক গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। এদের অধিকাংশই সড়কে চলাচলের জন্য অনুপযোগী বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রান্তিক গাড়ির চালক রুবেল ও আলমাস বলেন, “মালিক যে গাড়ি দেয় আমরা তাই চালাই। ফিটনেস বিহীন লক্কর-ঝক্কর মার্কা গাড়ির জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকেরা। তবে তারা স্বীকার করেন প্রান্তিক পরিবহনে অধিকাংশ গাড়ি ফিটনেস বিহীন।

ঢাকা রুটে চলাচলকারী নিরালা পরিবহনের যাত্রী সৃষ্টি একাডেমিক কলেজের ইন্টার প্রথম বর্ষের ছাত্র হাসান ও ধলেশ্বরী পরিবহনের যাত্রী এএসআই শাজাহান বলেন, “গাড়ির সিট গুলো ভালো না। ছারপোকায় ভরা। গাড়ির সিট গুলো আরেকটু আধুনিকায়ন করলে ভালো হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে গাড়িগুলো ছাড়ে এবং পৌঁছায়। সিটিং সার্ভিস হলেও বিভিন্ন স্পটে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলেন। এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।”

টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনি বাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক বলেন, “আমি দায়িত্ব নেয়ার পর বিভিন্ন রুট থেকে লক্কর-ঝক্কর মার্কা বাস অপসারণ ও যানজট নিরসনে মালিক সমিতির পক্ষে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়াও নিরালা বাস কাউন্টারের জন্য নতুন করে জায়গার ব্যবস্থা করেছেন তারা।

তিনি আরও বলেন, “যাত্রীরা গাড়িতে নিরাপত্তা চায়, পরিবহন যেমনই হোক তারা যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে সেই বিষয়টিকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সরকারের পক্ষ থেকে নিরালা পরিবহনের কাউন্টার উচ্ছেদ করার পর আমরা দায়িত্ব নিয়েই নিরালা পরিবহনের জন্য নতুন কাউন্টারে জায়গার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়াও নতুন বাস স্ট্যান্ডে যানজট নিরসনে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছি।”

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, “শহরে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত সিএনজি, অটো রিক্সা ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা চলাচল করছে। বিশেষ করে অটো রিক্সা গুলো যেন দুই শিফটে চলাচল করে এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণ সমন্বয় করা হচ্ছে। আশা করা যায়, খুব দ্রুতই অটোরিকশা, সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা দ্বারা সৃষ্ট শহরে যানজট দ্রুতই নিরসন হবে। শহরের যানজট কমলে, নতুন বাসস্ট্যান্ডের যানজট অটোমেটিক কমে আসবে। তবে একটু সময় লাগবে।”

১৯৮১ সালে ৬ একরে শুরু হওয়া টার্মিনাল আজ ২০২৬ সালেও একই জায়গায়। শহর ও যাত্রী বেড়েছে, কিন্তু অবকাঠামো আটকে আছে সেই পুরনো ফ্রেমেই। ফিটনেসবিহীন বাস, অতিরিক্ত অটো-সিএনজি আর জায়গার সংকট মিলিয়ে টাঙ্গাইলবাসীর দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছেই। যাত্রীদের দাবি, দ্রুত টার্মিনাল সম্প্রসারণ ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৪৯:পিএম ১ সপ্তাহ আগে
আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের দখলে টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্য খাত  - Ekotar Kantho

আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের দখলে টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্য খাত 

আরমান কবীর: ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের ২ বছর হলেও টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্য খাত এখনও আওয়ামীপন্থী স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) চিকিৎসকদের হাতে জিম্মি।

জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ সব সরকারি হাসপাতালে আওয়ামীপন্থি পেশাজীবী সংগঠন স্বাচিপের আধিপত্য ও প্রভাব বিদ্যমান, ফলে ডক্টরস এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ড্যাব) সদস্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

পুরোনো আওয়ামী পন্থী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে ওষুধের টেন্ডার।

স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম আর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমএসআর টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে।

সম্প্রতি ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২৫ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নদীতে ফেলে দেওয়ার সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে। গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে এ নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়। নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ওষুধকাণ্ডের ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা স্বাচিপ সদস্য আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেলকে ওএসডি করা হয়। অধিকতর তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলায় ১টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ১টি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে।

আওয়ামী শাসনামলে প্রায় ১৫ বছর এসব হাসপাতালের চিকিৎসক নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে স্বাচিপের সদস্যপদই ছিল যোগ্যতার প্রধান মাপকাঠি।

টাঙ্গাইলের বর্তমান সিভিল সার্জন ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু – স্বাচিপের আজীবন সদস্য। গত বছরের ৯ মার্চ তিনি টাঙ্গাইলে যোগদান করেন।ডেপুটি সিভিল সার্জন মুহাম্মদ আজিজুল হক স্বাচিপ সদস্য।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১১৭ জন চিকিৎসকের বেশিরভাগই স্বাচিপের সদস্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর উপ-পরিচালক পদে স্বাচিপের দুই সদস্য কামরুল কিবরিয়া ও মারুফ আহমেদ খান সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারদের মধ্যে ১২ উপজেলার মধ্যে ৯ জনই আওয়ামী সরকারের আমলে নিয়োগ পান। যাদের প্রায় সবাই স্বাচিপ সদস্য বা আওয়ামী সুবিধাভোগী।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ৪৮ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসকসমাজ। জুলাই গণবিপ্লবের বিরোধিতা ও গণহত্যায় মদদদাতার অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। এ তালিকার কয়েকজন বদলি হলেও বাকিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন এখনও।

১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ৪৫০টি পদের মধ্যে শূন্যপদ ১৭৭টি। পদায়ন করা ২৭৩ জনের মধ্যে বেশিরভাগই আওয়ামীপন্থি সুবিধাভোগী। ৫ আগস্টের পরে যে ১৪৫ জনের পদায়ন করা হয় তার মধ্যেও প্রাধান্য পায় আওয়ামী সুবিধাভোগীরা।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭৯০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৬৩ জন চিকিৎসক ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ৮৭ জনের বিপরীতে ৫৪ জন চিকিৎসক।১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৩৯টি পদ শূন্য। এখানকার চিকিৎসকের অধিকাংশ আওয়ামী পরিবারের সদস্য বা সুবিধাভোগী।

এ প্রসঙ্গে ড্যাবের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ডা. আব্দুল মতিন বলেন, “জেলার চিকিৎসা ক্ষেত্র এখনো স্বাচিপ ও আওয়ামী সুবিধাবাদী চিকিৎসকদের দখলে। নানা অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে আগের মতোই। শূন্যপদে আওয়ামী দুঃশাসনে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার চিকিৎসকদের পদোন্নতি ও পদায়নের সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলের নজরে আনা হয়েছে।”

এদিকে জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে মির্জাপুর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ভূঞাপুর, গোপালপুর, ধনবাড়ী ও সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল, সার্জিকেল অ্যান্ড রিকোজিট টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব উপজেলায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার বহির্ভূত শর্ত আরোপ করে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, “ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধকাণ্ডের ঘটনায় কর্মকর্তাকে ওএসডি এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলার টেন্ডারে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে তিনি নিজে স্বাচিপের সদস্য নন বলেও দাবি করেন।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোহাম্মদ আব্দুল কদ্দুস অভিযোগ খন্ডন করে বলেন, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সরকার যাকে পোস্টিং দিয়েছে, তিনি চাকুরী করছেন, এখানে কে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের, কে ডক্টরস এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশে সদস্য সেটা দেখবেন সরকার। এটা পলিসির ব্যাপার।

আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্য খাতে স্বাচিপের আধিপত্য ভাঙেনি। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন এবং অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৩৬:এএম ১ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫টি লিফট বিকল, রোগী দুর্ভোগ চরমে  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫টি লিফট বিকল, রোগী দুর্ভোগ চরমে 

আরমান কবীর: টাঙ্গাইল ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য বরাদ্দকৃত ১২ টি লিফটের ৫টি বিকল থাকায় রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে এই লিফট বিড়ম্বনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা অধিকাংশ রোগী ও তার স্বজনদের লিফটের জন্য হাসপাতালের বিভিন্ন ফ্লোরে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। লিফট বিকলের বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গণপূর্ত বিভাগের ওপর চাপিয়ে দিয়ে তাদের দায় সেরেছে।

২০১৪ সালে স্থাপিত টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবকাঠামো ও আধুনিক সুবিধার প্রত্যাশা থাকলেও হাসপাতালটির সেবা ব্যবস্থাপনায় মান নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগভুক্তভোগীদের।

জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা, পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি, চিকিৎসক-স্টাফদের অনুপস্থিতি এবং লিফট বিকল থাকার মতো বিষয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় টাংগাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়,হাসপাতালের প্রথম তালায় লিফট গুলোর সামনে রোগী ও তাদের স্বজনদের দীর্ঘ লাইন।

তারা জানায়, ১৫ তলা হাসপাতালে বিভিন্ন ফ্লোরে যেতে লিফটের কোন বিকল্প নেই । তাই তারা মুমূর্ষ রোগী নিয়ে লিফটের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। বেলা১১টা ৩০ মিনিটে হাসপাতালের পঞ্চম তলায় গিয়ে দেখা যায়, গুরুতর অসুস্থ্য শম্ভুনাথ পাল লিফটের জন্য অপেক্ষা করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে ফ্লোরে পড়ে রয়েছে। স্বজনৈ তাকে খবরের কাগজ দিয়ে বাতাস বাতাস করছে। স্বজনরা জানায়, শম্ভুনাথ পাল এসেছেন রেডিওলজি বিভাগে। ডাক্তার দেখানোর পর নিচ তলায় নামতে লিফটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তারা। এমতাবস্থায় অবস্থায় সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

বহুতল হাসপাতাল ভবনে রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের জন্য লিফট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগী, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য লিফটের বিকল্প খুবই সীমিত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বহুতল ভবনের বেশিরভাগ লিফট প্রায়ই নষ্ট থাকে ।ফলে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তির শেষ নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ ৭৪০ জন ডাক্তার, স্টাফ ও নার্সদের বিপরীতে মাত্র ৩২২ জন জনবল কর্মরত। ৫০০ শয্যার বিপরীতে হাসপাতালে ৮৪০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। অতিরিক্ত রোগী ও তার স্বজনদের সামলাতে অপ্রতুল জনবল নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ডাক্তার ও নার্সদের।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ফারুক হোসেন, আনিসুর রহমান ও সালমা বেগম জানায়, লিফটের জন্য ৩০ মিনিট ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, প্রচুর ভিড় আর লম্বা লাইন থাকায় এখনো ডাক্তার দেখাতে পারিনি। মুমূর্ষু রোগী নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, আজকে আমার মার যদি গুরুতর কোন কিছু হয় সেটা এই লিফটের কারণেই হবে। অপর একজন অসুস্থ রোগী সকাল দশটায় এসেছে লিফটে ভিড়ও লম্বা লাইন থাকায় সে বেলা দুই টায়ও ডাক্তার দেখাতে পারেনি।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: আব্দুল কুদ্দুস বলেন, হাসপাতালের ১২টি লিফটের মধ্যে বর্তমানে ৫টি লিফট বিকল রয়েছে। লিফট মেরামতের বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগকে বারবার চিঠি দেয়া সত্ত্বেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এছাড়া ১২টি লিফট রক্ষণাবেক্ষণ এর পুরো দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। গণপূর্ত বিভাগ ওটিজ ও ক্রিয়েটিভ এই দু’টি কোম্পানির মাধ্যমে লিফট গুলো সারা বছর রক্ষণাবেক্ষণ করিয়ে থাকে গণপূর্ত বিভাগ। তিনি আরও জানান, টাংগাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সমস্ত ক্রয় ইজিপি টেন্ডারের মাধ্যমে হয়, এখানে হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের কোন হাত নেই। তিনি আরো বলেন, অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সুপারভাইজারগণ অভিযোগগুলো মীমাংসা করে থাকেন। এছাড়া হাসপাতালে ৭৪০ জন জনবলের বিপরীতে মাত্র ৩২২ জন থাকায় সমস্যার সমাধানে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে ।

লিফটের অভিযোগ প্রসঙ্গে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভুরাম পাল বলেন, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ টি লিফট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি চালু আছে। ৫টি বিকল লিফট আমরা এখনো চালু করতে পারিনি। তবে আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে। বিকল লিফট গুলোতে অনেক দামি পার্টস প্রয়োজন । যা টাঙ্গাইলে পাওয়া যায় না। ঢাকা থেকে আনতে হয়। এ বিষয়ে আমি লিফট কোম্পানিকে ইতিমধ্যে অবহিত করেছি। আমাদের রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ বাৎসরিক ব্যয় ধরা আছে মাত্র ১২ লক্ষ টাকা। এই টাকা ১২টি লিফট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিতান্তই অপ্রতুল। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি ৫টি চালু হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩৪:পিএম ১ সপ্তাহ আগে
হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক এমপি ছানোয়ার হোসেন শ্যোন অ্যারেস্ট  - Ekotar Kantho

হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক এমপি ছানোয়ার হোসেন শ্যোন অ্যারেস্ট 

আরমান কবীর: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মিছিলে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সোহেলী তামান্নাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেনকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

এর আগে ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক মো. আমিনুর রহমান ছানোয়ার হোসেনকে আদালতে হাজির করে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে ছানোয়ার হোসেনের পক্ষে আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ভাটারা থানার এলাকায় ২০০ থেকে ৩০০ জন আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় গুলিবর্ষণ ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী সোহেলী তামান্না আহত হন। তাঁর বাম হাতের কব্জিতে গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি কোমরের পেছনে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় সোহেলী তামান্না বাদী হয়ে ভাটারা থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে আরও বলা হয়, তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীদের হামলায় ছানোয়ার হোসেন উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে মদদ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৩৫:এএম ১ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইল শহরের মরণ ফাঁদ যুগনির স্লুইস গেট - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল শহরের মরণ ফাঁদ যুগনির স্লুইস গেট

আরমান কবীর: ১৯৮৮ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যায় বিপর্যস্ত হয় পুরো দেশ। পরের বছর ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশের জন্য প্রণীত হয় ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান ফ্যাপ-২০। এই পরিকল্পনার অন্যতম উপাদান ছিল কম্পার্টমেন্টালাইজেশন পাইলট প্রজেক্ট (সিপিপি) টাঙ্গাইল।

এর মূল লক্ষ্য ছিল টাঙ্গাইল জেলার যমুনা নদীর প্লাবনভূমিতে ছোট-বড় ‘কম্পার্টমেন্ট’ বা বন্যানিয়ন্ত্রণ বেষ্টনী তৈরি করে স্থানীয় পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও মৎস্য চাষের উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সেই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধের সাথে নির্মাণ করা হয় যুগনির স্লুইস গেট। কিন্তু ৩৬ বছর পর সেই স্লুইস গেটই আজ টাঙ্গাইল শহরের জন্য ‘গলার ফাঁ’স’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়ভাবে সিলিমপুর-করটিয়া বাঁধ নামে পরিচিত ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধ টাঙ্গাইল পৌরসভা এবং এর আশেপাশের এলাকাকে যমুনা, পুংলী, ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদীর ভাঙন এবং বন্যার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

এই বাঁধের ভেতরে বর্ষা ও বন্যার পানি প্রবেশের জন্য একমাত্র ইনলেট হিসেবে নির্মাণ করা হয় সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কাঠুয়া যুগনিতে লৌহজং নদীর উপর স্লুইস গেটটি।

তত্ত্ব অনুযায়ী, বর্ষায় গেট খুলে দিয়ে পানি প্রবেশ করানো এবং শুষ্ক মৌসুমে বন্ধ করে ভেতরের জমি রক্ষার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

দীর্ঘদিন স্লুইস গেটের ভুল ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী না খোলার কারণে লৌহজং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। উৎস মুখে পলি জমে, নাব্যতা হারিয়ে নদীটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে।

গেট বন্ধ থাকায় মাছের অবাধ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে জেলার বিল-ঝিলে মাছের উৎপাদন কমেছে। পাশাপাশি নদীর অববাহিকায় পলি জমে খাল-বিল ভরাট হয়ে জলাশয়গুলো নষ্ট হয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় একসময়ের প্রমত্তা শ্যামা বাবুর খালকে ১৯৯৬ সালে ড্রেনে রূপান্তর করা হয়। ফলে নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় বর্ষায় টাঙ্গাইল শহর ও আশেপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যায়।

গেটের কারণে অভ্যন্তরীণ এলাকায় পানি জমে থাকায় রবি ফসলের আবাদ ব্যাহত হয়। আবার পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ডেঙ্গুসহ পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

পানি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদ ড. মোবাশ্বেরা বলেন, “একটি মাত্র গেট দিয়ে ২১ কিলোমিটার বাঁধের ভেতরের পানি ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। এতে নদীর সাথে মানুষের সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। ফ্যাপ-২০ এর ধারণা তখনকার বাস্তবতায় ভালো ছিল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং নগরায়ণের কারণে সেই মডেল এখন অকার্যকর।”

তিনি প্রস্তাব করেন ,স্লুইস গেটের আধুনিকায়ন ও বড় আকারের স্বয়ংক্রিয় গেট বসিয়ে জোয়ার ও বৃষ্টির সাথে সমন্বয় করে পরিচালনা করা। বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে আরও ২-৩টি স্লুইস বা কালভার্ট নির্মাণ করা। লৌহজং নদী ও শ্যামা বাবুর খাল খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা। এবং গেট পরিচালনায় স্থানীয় পানি ব্যবহারকারী সমিতিকে যুক্ত করা।

স্থানীয় কাঠুয়া যুগনির বাসিন্দা রহিম শেখ ও কৃষক রইজ উদ্দিনের অভিযোগ, স্লুইস গেট পরিচালনায় স্বচ্ছতা নেই। কখন খোলা হবে, কখন বন্ধ হবে তার কোনো নীতিমালা নেই। অনেক সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় বা ব্যক্তি স্বার্থে গেট খোলা-বন্ধ করা হয়। ফলে উপকৃত হওয়ার বদলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষ।

টাঙ্গাইল জেলা সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি অকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “৩৬ বছর আগের প্রকল্পটি বর্তমানে অকার্যকর। ভারত-বাংলাদেশের ৫৫টি অভিন্ন নদীতে বাঁধ দেওয়ার কারণে সব নদীতে পানি প্রবাহ কমে গেছে। ফলে যুগনি স্লুইস গেট এখন আর প্রয়োজনীয় কোন বিষয় নয়। গেটটি যদি একান্তই রাখতে হয়, তাহলে এর আধুনিকায়ন করা জরুরি।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, “নদী, মানুষ ও শহর—তিনটিকেই বাঁচাতে হলে যুগনির স্লুইস গেটের বিষয়ে নতুন করে, বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। নইলে এই রক্ষা বাঁধই একদিন টাঙ্গাইল শহরের জন্য সবচেয়ে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

এই বিষয়ে জানতে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইন উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধ নিঃসন্দেহে শহরকে নদী ভাঙন ও বন্যা থেকে বাঁচিয়েছে। কিন্তু বাঁধের ভেতরের পরিবেশ, কৃষি ও নদীকে বাঁচাতে পারেনি। যুগনির স্লুইসগেট এখন প্রমাণ করছে, একপাক্ষিক বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:৩৯:এএম ২ সপ্তাহ আগে
জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু  - Ekotar Kantho

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু 

আরমান কবীর:জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, রাজপথে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করলে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা বিএনপির আয়োজনে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে’ অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “একটা গোষ্ঠী, ফ্যাসিস্ট এই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। জনগণ দ্বারা বিতাড়িত হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে গেছে। তারা গুম, খুন, নির্যাতন ও নিপীড়ন করেছে। এই দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, নির্বিচারে গুলি করেছে। তারা আজ আবার বিভিন্ন কায়দায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।”

তিনি বলেন, “তাদের এখনো বোধোদয় হয়নি, কী কারণে পালিয়ে গেল। তারা একবারও লজ্জিত হয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাচ্ছে না। এই ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশে কী রাজনীতি করতে পারবেন? পারবেন না। আপনাদের এই দেশের জনগণ বিতাড়িত করেছে। জনগণই আপনাদের প্রতিহত করবে। কারণ বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রপ্রিয়।”

বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশকে ধ্বংস করেছে। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন দেশনায়ক তারেক রহমান।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণের দল বিএনপিকে এত সহজে ষড়যন্ত্র করে পার পাবেন—ভাবলে আহাম্মকের স্বর্গে বাস করা ছাড়া কিছুই না। জনগণ ভোটের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে। জনগণের দাবি ও অধিকার নিয়ে যখনই কেউ ষড়যন্ত্র করেছে, তারাই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জনগণই তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে, ভবিষ্যতেও দেবে।”

রাজপথে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৭ বছর জনগণের দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করেছে। কাজেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই রাজপথে যারা বিশৃঙ্খলা করবে, তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেব, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি বলেন, “কোনো অপশক্তি, কোনো ফ্যাসিস্ট যাতে এই দেশের ক্ষতি করতে না পারে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এ ব্যাপারে সজাগ থেকে একদিকে আমরা সাংগঠনিক কাজ করব, অন্যদিকে সরকারকে দেশ পরিচালনায় সহযোগিতা করব। আর জনগণের উন্নয়নের জন্য সমান্তরালভাবে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।”

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু।

এর আগে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথক মিছিল নিয়ে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এসে সমাবেশে অংশ নেন।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শফিকুল রহমান লিটন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অমল ব্যানার্জি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী ও শফিকুর রহমান খান শফিক, টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি আহমেদুল হক শাতিল, টাঙ্গাইল জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুল হক (ভিপি মনির), টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিমুদ্দিন বিপ্লব, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব জাহিদ হোসেন মালা, জেলা মহিলা বিএনপির সভাপতি নিলুফা ইয়াসমিন এবং টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দূর্জয় হোড় শুভ।

এ ছাড়া জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:০৩:এএম ২ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ড্যাবের সচেতনতামূলক র‍্যালি  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ড্যাবের সচেতনতামূলক র‍্যালি 

আরমান কবীর:টাঙ্গাইলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগেজনসচেতনতামূলক র‍্যালি, আলোচনা সভা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে ড্যাব টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক একটি র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় ড্যাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, শুধু কীটনাশক স্প্রে বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ঘরের ফুলের টব, ভাঙা টায়ার, ছাদ বাগান ও এয়ারকন্ডিশনারে যেন ৩ দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীদের ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা রোধ করতে পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার যেমন—লেবুর শরবত, ডাবের পানি, খাবার স্যালাইন ও স্যুপ বেশি খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ডা.আব্দুল মতিন, সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিন্সিপাল, প্রফেসর ডা.আবু হানিফ।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভাইস-প্রিন্সিপাল ডা.রফিকুল আলম তালুকদারসহ হাসপাতালের নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

ড্যাব নেতারা র‍্যালি শেষে সাধারণ মানুষের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে লিফলেট বিতরণ করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:১২:পিএম ২ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইলে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী আমারুল্লাহ আমান। বুধবার(২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আমানুল্লাহ আমান।

আমারুল্লাহ আমান বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর জমি সংক্রান্ত বিষয়ে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে মোস্তাফিজুর রহমান আমাকে এবং আরফান মোল্লাকে নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর তথ্য উপস্থাপন করে সংবাদ সম্মেলন করেন। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানাচ্ছি। প্রকৃত সত্য আড়াল করতেই আমাদের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালানো হয়েছে। প্রতিপক্ষের অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিবাদীপক্ষের লোকজনের ভয় ও হুমকিতে তাঁদের প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে। যেকোনো সময় তাঁদের শারীরিক, মানসিক, আর্থিক ও সম্পত্তির ক্ষতি করা হতে পারে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় তিনি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র‌্যাব, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন। একই সাথে কোনো প্রকার মিথ্যা মামলার মাধ্যমে যেন তাঁকে হয়রানি করা না হয়, সেজন্য তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং সঠিক তথ্য তুলে ধরার অনুরোধ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে এডভোকেট আরমান মোল্লা, আব্দুর রাজ্জাক, মাসুদ, আহাদ, আজম, হাশেম মিয়াসহ ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৪৩:পিএম ২ সপ্তাহ আগে
‘জনতার সংযোগ’: ফোন দিলে রিসিভ করে না কেউ - Ekotar Kantho

‘জনতার সংযোগ’: ফোন দিলে রিসিভ করে না কেউ

আরমান কবীর: টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু’র সাথে সদরের জনগণের সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে এবং তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডে স্থাপন করা হয়েছে জনতার সংযোগ টেলিফোন বুথ।

কিন্তু বাস্তবে সেই বুথগুলো এখন কার্যত অচল। অভিযোগ উঠেছে, নির্দিষ্ট নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও অধিকাংশ সময় ফোন কল রিসিভ করা হয় না। কোথাও কোথাও বুথে টেলিফোন সেটই নেই।

সরেজমিনে সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের সামনের বুথে গিয়ে দেখা যায়, নির্দিষ্ট বুথে কোনো টেলিফোন সেট নেই। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, টেলিফোন সেটটি চেয়ারম্যানের কক্ষে রাখা হয়েছে।

ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম আরমিছ জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে টেলিফোন সেটসহ সংযোগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে এনে রাখা হয়েছে। যদি কেউ অভিযোগ করতে চায়, এখান থেকে সরাসরি ফোন করবে।

টেলিফোন স্থানান্তরের কোনো নোটিশ টানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, সেই ধরনের কোনো নোটিশ টানানো হয়নি। পরে চেয়ারম্যানের কক্ষে গিয়ে সংযোগ বিহীন টেলিফোন সেট দেখা যায়।

দাইন্যা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আবু সাঈদ মিয়া জানান, প্রথমদিকে বেশ কিছু লোক টেলিফোনের মাধ্যমে অভিযোগ করেছে। বর্তমান অবস্থা জানি না। আমি বিষয়টি জেনে আপনাকে জানাব।

সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের অবস্থাও একই রকম। ইউনিয়নের পার বহুলির গোল চত্বর এলাকায় টেলিফোন বুথ স্থাপন করা হলেও, ভেতরে কোনো টেলিফোন সেট নেই।

স্থানীয় সিএনজি চালক জামাল উদ্দিন জানান, কিছুদিন পূর্বে আমি একটি জরুরি প্রয়োজনে উক্ত লাইনে বহুবার ফোন দিয়েছি কিন্তু কেউ রিসিভ করেনি।

একই অভিযোগ স্থানীয় বৃদ্ধ রহিজ উদ্দিনের। তিনি জানান, অনেক চেষ্টা করেও তিনি স্থাপিত টেলিফোনের কোনো সংযোগ পাননি।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব ও পৌর এলাকার দায়িত্বে থাকা মাহমুদুল হক সানু জানান, পৌর এলাকার কাজীপুর (১০ নং ওয়ার্ড), সন্তোষ (৭ নং ওয়ার্ড) ও বৈল্লা (২ নং) ওয়ার্ডে তিনটি টেলিফোন দেওয়া হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফোনগুলো বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। বিকল্প উপায় হিসেবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হট লাইন নাম্বার পোস্টার আকারে টানিয়ে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে।

তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যেই টেলিফোন বুথের ভেতরের লোহার বক্স কেটে কয়েকবার ফোন গুলো চুরি হয়েছে। এ ছাড়াও অনেক জায়গায় এই ফোন থেকে ব্যক্তিগত ফোন করে ফোনের কার্ডের টাকা ফুরিয়ে ফেলে। এ ছাড়াও যান্ত্রিক সমস্যা তো আছেই, ফলে কিছু কিছু বুথে সমস্যা তৈরি হচ্ছে এটা সত্যি। যত দ্রুত সম্ভব বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে, যেন এই আসনের জনগণের সাথে মাননীয় সংসদ সদস্যদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করা যায়। তবে এই ফোন বুথ রক্ষায় জনগণের দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন আছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ইটালীতে সরকারি সফরে থাকায় তার পার্সোনাল সেক্রেটারি সৈয়দ টিটোর সাথে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি জানান, এই বিষয়ে এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। এখন পেলাম, যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনগণ ও জনপ্রতিনিধির মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সেতু হিসেবে ‘জনতার সংযোগ’ প্রকল্পের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে বুথগুলোতে টেলিফোন না থাকা, সংযোগ না থাকা এবং ফোন রিসিভ না করার কারণে প্রকল্পটি তার লক্ষ্য থেকে ছিটকে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অনেকের মতে, বুথগুলো জনসম্মুখে না রেখে ইউপি চেয়ারম্যানের কক্ষে নিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে অভিযোগ জানানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার নোটিশ না থাকায় অনেকে বুথের অবস্থান সম্পর্কেও জানেন না।

স্থানীয়দের দাবি, ‘জনতার সংযোগ’ নাম সার্থক করতে হলে বুথগুলোতে দ্রুত টেলিফোন সেট স্থাপন, সংযোগ সচল রাখা এবং নির্দিষ্ট সময়ে ফোন রিসিভ করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনে এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ করতে জনতার সংযোগ ফোন বুথ উদ্বোধন করা হয়। ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নে চারাবাড়ি ঘাটে ফোন বুথ উদ্বোধন করেন আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর উদ্যোগে টাঙ্গাইল-৫ আসনে মোট ৩০টি ফোন বুথ স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ১২টি ইউনিয়নে ১২টি বুথ এবং পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ১৮টি বুথ থাকবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:০১:এএম ২ সপ্তাহ আগে
হত্যা মামলায় টাঙ্গাইলের বহুল আলোচিত খান পরিবারের সন্তান বাপ্পাসহ ৩ জনের ফাঁসি - Ekotar Kantho

হত্যা মামলায় টাঙ্গাইলের বহুল আলোচিত খান পরিবারের সন্তান বাপ্পাসহ ৩ জনের ফাঁসি

আরমান কবীর: ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে ফারুক হত্যা মামলায় টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে বহুল আলোচিত ‘খান পরিবারের’ সন্তান সানিয়াত খান (বাপ্পা)সহ তিনজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় আরও চার জনকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে আদালত বেকুসুর খালাস দিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন সোমবার(২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই রায় দেন।

মামলায় রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌশুলি মোহাম্মদ সাইদুর রহমান (স্বপন) এই রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সানিয়াত খান (বাপ্পা) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি। তিনি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের ছেলে। এবং একই আসনের সাবেক সদস সদস্য আমানুর রহমান খানের (রানা) ছোট ভাই। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামী হলেন- টাঙ্গাইল শহরের কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ ও সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের শ্রীফলিআটা গ্রামের শহীদ মিয়ার ছেলে মো. শাজাহান মিয়া। এদের প্রত্যেককে ১লাখ টাকা করে জরিমানাও করেছেন আদালত। এরা সবাই পলাতক রয়েছেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কাঠুয়া যোগিনী গ্রামের আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে মো. সুজন, শ্রীফলিআটা গ্রামের রওশন আলীর ছেলে মো. সানোয়ার হোসেন, বাঘিল ইউনিয়নের ছিটকি বাড়ি গ্রামের নুরু বখ্শের ছেলে রুজবেল ওরফে ইমন এবং শহরের উত্তর কাগমারার নুরুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম। এদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ মামলার অপর আসামী সঞ্জিত ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার পর মো. সুজন ও সানোয়ার হোসেনকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্য আসামীরা পলাতক রয়েছেন।

অতিরিক্ত সরকারি কৌশুলি মোহাম্মদ সাইদুর রহমান (স্বপন) জানান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রাত ভ্রমণে বের হন। সকাল ৬টার দিকে শহরের বটতলা বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনার পরদিন তার ভাই মো. লাভলু মিয়া বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলার তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালে ২০১৬ সালে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাজাহান, সুজন ও সানোয়ার হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তাদের জবানবন্দিতে বের হয়ে আসে সানিয়াত খান (বাপ্পা) ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড করিয়েছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫৬:পিএম ৩ সপ্তাহ আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।