আরমান কবীরঃ একসময় যে মঞ্চে নাটকের সংলাপে মুখরিত হতো টাঙ্গাইল, আজ সেই মঞ্চের বারান্দায় বসে পানের দোকান। যে চত্বরে বইমেলার ভিড় লাগত, সেই চত্বর এখন ট্রাকস্ট্যান্ড। মাঝরাতে সেখানে বসে মাদকের আড্ডা।
এটি টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী ভাসানী হলের বর্তমান অবস্থা। ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত। টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক প্রাণ আজ অক্সিজেনের অভাবে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
জানা গেছে,টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির ওপর “টাঙ্গাইল টাউন হল” নামে মিলনায়তনটি নির্মিত হয়। ১৯৭৬ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতির শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল ফজল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
১৯৭৮ সালের ২ এপ্রিল ঢাকা বিভাগের কমিশনার খানে আলম খান উদ্বোধন করেন।
পরবর্তীতে টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান সামছুল হকের উদ্যোগে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “ভাসানী হল”। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই নামকরণ।
প্রায় এক হাজার আসনবিশিষ্ট এই মিলনায়তনটি একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল।
স্থানীয় প্রবীণ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, কয়েক দশক ধরে টাঙ্গাইলের নাটক, সংগীত, আবৃত্তি, বইমেলা এবং রাজনৈতিক কর্মীদের মহামিলন ক্ষেত্র ছিল এটি।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও মওলানা ভাসানীর দৌহিত্র মাহমুদুল হক সানু বলেন, ভাসানী হল সংস্কার এখন সময়ের দাবি। শুধুমাত্র মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নামে নামকরণ করা হয় বিধায় দীর্ঘদিন ধরে হলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গত ১২ জুন হলটি পরিদর্শন করেন, আশা করছি, খুব দ্রুতই বর্তমান সরকার এই মিলনায়তনটি আধুনিক ও যুগোপযোগী করে সংস্কার করার পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
বিশিষ্ট সুরকার-গীতিকার ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু বলেন, এই মিলনায়তনটি ঘিরেই নাট্যচর্চাসহ সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়মিত আড্ডা বসত। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে এর চত্বরে হতো বইমেলা। ঈদের সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্টের আয়োজন করত। এ ছাড়া এ ভাসানী হলে জেলার অনেক রাজনৈতিক সভা-সমাবেশও অনুষ্ঠিত হতো। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মূল কেন্দ্র ছিল হলটি।
ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নামকরা থিয়েটার দল আসত। হতো নাট্যোৎসব। পাড়া-মহল্লার সংগঠনগুলো এখানেই মঞ্চ মাতাত।
তিনি আরো বলেন,কালের বিবর্তনে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো হারিয়ে গেছে। সংস্কারের অভাবে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। প্রায় এক যুগ আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র আজ অপরাধের হটস্পট।
তরুণ ইউসুফ, টাঙ্গাইলের অন্যতম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বলেন, “টাঙ্গাইলকে সাংস্কৃতিক নগরী বলা হয়। কিন্তু এই সাংস্কৃতিক নগরীর জন্য একটি সুন্দর মানসম্মত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নেই। একসময় ভাসানী হল ঘিরে যে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছিল, তা বন্ধ হয়ে গেছে এক যুগ আগেই। তাই দ্রুত ভাসানী হল পুনর্নির্মাণ করা জরুরি হয়ে উঠেছে।”
মৌসুমী রহমান শৈলী শিল্প চর্চা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা বলেন, “টাঙ্গাইলে একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ খুবই জরুরি। একসময় ভাসানী হল আমাদের প্রাণকেন্দ্র ছিল। ভাসানী হল পুনর্নির্মাণ হলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়বে।
কামরুজ্জামান খান, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “মাদকের ছোবল এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত থেকে মুক্তি পেতে হলে ক্রীড়া অঙ্গন এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে মুখরিত রাখতে হবে। তাই সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে গতিশীল করতে ভাসানী হল সংস্কার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কবি মাহমুদ কামাল বলেন, হলটি মওলানা ভাসানীর নামে থাকায় বিগত সরকার সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি, ভাসানী হলটি পুনর্নির্মাণ কিংবা সংস্কার করা হোক।
এটি শুধু একটি ইট-সিমেন্টের স্থাপনা নয় ,স্থানীয়রা মনে করেন, এটি টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জেলার গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।
টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গত ১২ জুন হলটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি দ্রুত এই ঐতিহাসিক হলটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, “ভাসানী হল টাঙ্গাইলের জন্য অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। এটি পুনর্নির্মাণের ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।”
একটি শহর বাঁচে তার সংস্কৃতি দিয়ে। ভাসানী হল মরে গেলে টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক আত্মা মরে যাবে। ট্রাকস্ট্যান্ড সরিয়ে, মাদকের আড্ডা বন্ধ করে, আবার যদি মঞ্চে আলো জ্বলে, তবেই টাঙ্গাইল ফিরে পাবে তার “সাংস্কৃতিক নগরী”র পরিচয়।এখন দেখার বিষয়, আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনায় আলোচিত প্রবাসফেরত জামাল উদ্দিন (৫৫) মারা গেছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। জামাল উদ্দিনের ভাতিজি ইসমত আরা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ২ আগস্ট রাতে উপজেলার কালমেঘা এলাকায় অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। পরদিন স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে যান। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। গত ৬ আগস্ট এলাকাবাসীর আর্থিক সহায়তায় তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
জানা যায়, জামাল উদ্দিন দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। কয়েক মাস আগে অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর থেকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছিলেন না।
এদিকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও স্ত্রী ও সন্তানরা তার খোঁজ নেননি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে স্ত্রী রিনা আক্তার দাবি করেছেন, প্রায় আড়াই মাস আগে তিনি জামাল উদ্দিনকে তালাক দিয়েছেন।
একজন অসুস্থ মানুষ জীবনের শেষ সময়ে স্বজনদের কাছ থেকে দূরে থেকে অন্যের সহায়তায় চিকিৎসা নিয়েই চলে গেলেন—ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দেয়।
ভাতিজি ইসমত আরা জানান ,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শুক্রবার চাচাকে আমার বাড়িতে নিয়ে আসি। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে চাচার মৃত্যু হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল পৌর শহরে বেড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী সহ কিশোরদের মাদকের প্রতি আসক্তি। তারা যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনের সাথে। বিশেষ করে ভয়ংকর মাদক ইয়াবা ও গাঁজা সেবনের সাথে বেশি যুক্ত স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে এইসব শিক্ষার্থী সহ কিশোররা। প্রশাসনের লাগাতার অভিযান চললেও কমেনি মাদক সেবনের প্রবণতা।ফলে শহরে বেড়েছে অপরাধের হার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর শহরের ক্যাপসুল মার্কেট, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, বেড়াডোমা ব্রিজ পার, টাঙ্গাইল আউটার স্টেডিয়াম, হাউজিং মাঠ, সবুর খান টাওয়ারের সামনের রাস্তা, ছয়আনি পুকুর পার, টাঙ্গাইল সরকারি বিন্দুবাসিনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনের বড় পুকুর পার, শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের পেছনের নজরুল সেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তাসহ পুরো গলি, পরিত্যক্ত ভাসানী হল চত্বর, কান্দাপাড়া, বাজিতপুর টেক্সটাইল মোড়, রাবনা বাইপাস , সৌখিন মৎস্য শিকারি সমিতির পাশে লেক পার সহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে এরা দলবেঁধে সন্ধ্যার পর মিলিত হয় মাদক সেবনে। এই সব আড্ডায় একই সাথে চলে মোবাইল জুয়া।
মাদকাসক্ত এই সব কিশোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন নামে গ্রুপ খুলে নিজেদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখে। প্রশাসন কিম্বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কোন অভিযানের খবর এইসব গ্রুপের মাধ্যমে মুহূর্তেই সদস্যদের কাছে পৌঁছে যায়।
এইসব ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে কোথায় মিলিত হতে হবে, কোন ধরনের মাদক বর্তমানে সহজলভ্য – এমন খবর সহজেই পেয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট গ্রুপের সদস্যরা।
এছাড়া শহরে মাদকের সংকট হলেই তারা মাদক সংগ্রহের জন্য মোটরসাইকেল , সিএনজি অটোরিকশা যোগে চলে যাচ্ছে শহরতলীর গালা ইউনিয়নের মনতলা, মগড়া ইউনিয়নের ছোট বাসালিয়া, ঘারিন্দা রেল স্টেশন, সন্তোষ, দাইন্না ইউনিয়নের শ্যামার ঘাট, অলোয়া জমিদার বাড়ির আশপাশের এলাকাসহ বাইপাস এলাকায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদক বিক্রেতা জানান, এখন আর মাদক বিক্রির কোন নির্দিষ্ট স্পট নেই। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় চাহিদা অনুযায়ী মাদক পৌঁছে দেওয়া হয়। ইয়াং জেনারেশনের কাছে এখন সবচেয়ে বেশি চাহিদা ইয়াবা ও গাঁজার। অর্ডার পেলে পৌর এলাকার যে কোন স্থানে তিনি ৩০ মিনিটের মধ্যে অর্ডারকৃত মাদকদ্রব্য পৌঁছে দেন। তবে দূরত্ব অনুযায়ী চার্জ ধরা হয়।”
শহরের নামকরা একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র জানায়, শহরের আদালত পাড়ার এক বন্ধুর সাথে থেকে সে ইয়াবা খাওয়া শিখেছে। ইয়াবা না পেলে গাঁজা চলে। তবে মাদক ছাড়া তার একদমই ভালো লাগে না। এমনকি পরীক্ষার হলেও পরীক্ষা দেওয়ার পূর্বে মাদক সেবন করে যেতে হয়, না হলে তার মাথা কাজ করে না।
সে আরও জানান, বেশ কিছু দিন হলো প্রশাসনের কড়াকড়ির কারণে মাদক সেবনের সমস্যা হচ্ছে ও দামও বেড়েছে, তাই চেষ্টায় আছে কিভাবে মাদক সেবন থেকে বিরত থাকা যায়।
টাঙ্গাইল আউটার স্টেডিয়ামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকানদার জানান, প্রতিদিনই ঈদগাহে বসে জমজমাট মাদকের আড্ডা। শহরের বিভিন্ন এলাকার কিশোর-যুবকেরা এসে জড়ো হয় এই মাঠে, মাঝ রাত পর্যন্ত চলে মাদক সেবন, একই সাথে চলে মোবাইল জুয়া। মাঝে মাঝে প্রশাসন অভিযান চালালে কিছু দিন বন্ধ থাকে, তারপর আবার আগের মত চলে মাদক সেবন ও জুয়া।
এ প্রসঙ্গে সরকারি সৈয়দ মহব্বত আলী ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, সরকার ইদানিং মাদক ব্যবসায়ী সহ মাদক সেবীদের আটকে বেশ তৎপর। তারপরও থেমে নেই মাদক সেবন। শুধুমাত্র প্রশাসনিক তৎপরতা মাদকের ভয়াবহতা বন্ধ করতে পারবে না, এর জন্য প্রয়োজন পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সচেতনতা।
টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি আকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, বিগত দিনে স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, রাজনৈতিক বড় ভাইয়ের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কিশোর গ্যাং ও কিশোরদের মধ্যে মাদকাসক্তি তৈরি হয়েছিল। সেই কালচার থেকে বের হয়ে আসতে কিছুটা সময় লাগবে। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। আশা করছি, খুব শীঘ্রই অবস্থার উন্নতি হবে। এ ছাড়াও মাদকের বিরুদ্ধে পারিবারিক ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”
এ বিষয়ে জানতে টাঙ্গাইল জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আহসান কবীর বুলবুলের সরকারি মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মাদকাসক্তি ও কিশোরদের মোবাইল গেমে আসক্তির কারণে টাঙ্গাইল পৌর শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা দ্রুত প্রশাসনিক অভিযান ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই পরিস্থিতি উন্নতির দাবি জানিয়েছেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের পৌর শহরে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৪টি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। এ সময় পাইলট হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ সিলগালা করা হয়।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে প্যাথলজিস্টের অনুপস্থিতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ, ওষুধ রাখার ফ্রিজের তাপমাত্রা সঠিক না থাকা এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া রক্ত সংরক্ষণের মতো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পাইলট হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা, অ্যাপলো হাসপাতালকে ২৫ হাজার টাকা, সেনা কম্বাইন্ড হাসপাতালকে ২৫ হাজার টাকা এবং জনতা ক্লিনিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ক্লিনিকগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এখানে এসে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হওয়ায় তাদের জরিমানা এবং সিলগালা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরমান কবীর:টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির সুনাম ছড়িয়ে আছে দেশ-বিদেশে। বাংলাদেশ তথা দেশের বাহিরে টাঙ্গাইলের পরিচিতি রয়েছে তাঁতের শাড়ি, চমচম ও মধুপুরের আনারসের জন্য। কিন্তু কালের আবর্তে সেই ঐতিহ্যের তাঁতের শাড়ির কারিগররা আজ অস্তিত্বের সংকটে।
উৎপাদন খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ, অথচ বাড়েনি তাঁতিদের মজুরি। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর ডিপিডিটি টাঙ্গাইল শাড়িকে ভৌগোলিক নির্দেশক জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দিলেও বাস্তবে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প নানা সংকটে ধুঁকছে।
অন্যদিকে, বাজারে পাওয়ার লুমে তৈরি কম দামের শাড়ির দাপটে হস্তচালিত তাঁতের শাড়ির চাহিদা আরও কমেছে। এ ছাড়াও বর্তমানে নারীদের শাড়ির চেয়ে থ্রি পিস, সালোয়ার কামিজের প্রতি ঝুঁকে পড়াও এই শিল্পের সংকটের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন তাঁত সংশ্লিষ্ট অনেকে।
এই ত্রিমুখী সংকটে সংসারের চাকা সচল রাখতে পূর্বপুরুষের শত বছরের পেশা ছেড়ে রিকশা, অটোরিকশা চালানো, চায়ের দোকান কিংবা দিনমজুরির মতো পেশায় ঝুঁকছেন টাঙ্গাইলের অনেক তাঁতি। অনেকেই পার্শ্ববর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে এই পেশায় যুক্ত হয়েছেন।
জেলা তাঁত বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী, বাসাইল ও দেলদুয়ারসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার হস্তচালিত তাঁত চালু রয়েছে। বন্ধ রয়েছে প্রায় তিন হাজার তাঁত। অন্যদিকে, পাওয়ার লুমের সংখ্যা জেলায় ২০ থেকে ২৫ হাজার। কম দামে বেশি উৎপাদনের কারণে পাওয়ার লুমের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে হস্তচালিত তাঁত শিল্প।
সরেজমিনে টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লী খ্যাত দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, সুতা, রং ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় শাড়ি উৎপাদনের ব্যয় অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় শ্রমিকদের পারিশ্রমিক বাড়েনি।
সপ্তাহজুড়ে কঠোর পরিশ্রম করে দুই থেকে তিনটি শাড়ি বুনে যে আয় হয়, তা দিয়ে বর্তমান বাজারে একটি পরিবারের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পাথরাইল এলাকার তাঁতি অভিজিৎ বসাক বলেন, “তাঁত বুনে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। তাই সব তাঁত বিক্রি করে দিয়েছি। এখন তাঁতঘরে চায়ের দোকান করেছি। এই কাজ না করলে পরিবার চালানো সম্ভব হতো না।”
একই এলাকার তাঁতি অমিত বসাক বলেন, “আগে একটি শাড়ি বুনতে তিন থেকে চার দিন লাগলেও তখন হাতে বোনা শাড়ির মূল্য ছিল। কিন্তু এখন পাওয়ার লুমে দিনে ১৫ থেকে ২০টি শাড়ি তৈরি হচ্ছে। সেই প্রতিযোগিতায় হস্তচালিত তাঁত টিকতে পারছে না।” ফলে অনেকেই বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশাকে বেছে নিয়েছে।
পাথরাইলের চন্ডী এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তাতী জানান,“একটি টাঙ্গাইল জামদানি শাড়ি বুনতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। একটি শাড়ির জন্য মজুরি পান ৮৫০ টাকা। সপ্তাহে দুই-তিনটির বেশি শাড়ি তৈরি করা সম্ভব হয় না। ফলে এই আয় দিয়ে কোনোভাবেই সংসারের ব্যয় মেটানো যায় না।”
অনেকেই পার্শ্ববর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে সুনামের সাথে তাঁতের শাড়ি বুনছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালো আছেন তারা। কিন্তু টাঙ্গাইলের তাঁতীদের অধিকাংশই ভালো নেই।
পাথরাইল এলাকার শাড়ি ব্যবসায়ী সুবির বসাক বলেন, “হাতে বোনা কাপড়ের এখনও আলাদা কদর রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় এর দামও বেশি পড়ে। একই ডিজাইনের শাড়ি পাওয়ার লুমে অনেক কম খরচে তৈরি হওয়ায় ক্রেতারা সেদিকেই ঝুঁকছেন। এতে ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে।”
টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক বলেন, “শাড়ির দাম কমে যাওয়ায় তাঁতিদের ন্যায্য মজুরি দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে দক্ষ কারিগররা একে একে পেশা ছাড়ছেন। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল তাঁত শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, “তাঁতিদের পাশাপাশি লোকসানের মুখে পড়ে অনেক ছোট ও মাঝারি তাঁত মালিকও তাদের কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। দক্ষ কারিগরের সংকটে অনেক সচল তাঁতও এখন অচল হয়ে পড়ছে।”
বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের টাঙ্গাইল বেসিস সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার জায়দুর রহমান জানান, হস্তচালিত তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকার প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ ও বিপণন সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে তাঁতিদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু হয়েছে। পাশাপাশি টাঙ্গাইলে একটি শাড়ি বিপণন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম টাঙ্গাইলের বাজিতপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। টাঙ্গাইলে তাঁতের শাড়ি জিআই পন্য স্বীকৃতি । আধুনিক প্রযুক্তি যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তাঁতিদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং তরুণ প্রজন্মকে তাঁত শিল্পে আগ্রহী করে তুলবে। তাঁতিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা সহায়তা করা হবে।
তাঁত সংশ্লিষ্টদের মতে, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, বাজারে প্রকৃত টাঙ্গাইল শাড়ির সুরক্ষা, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্প।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় এক আসামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের দায়রা জজ আদালতের বিচারক সিনিয়র দায়রা জজ মো: হাফিজুর রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন।
দন্ড প্রাপ্তরা হলো,টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার কাহারতা রামখা পাড়া গ্রামের আ: খালেকের ছেলে হোসেন আলী (৩৫)। এই মামলার অপর আসামি সখিপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাদশা মিয়ার ছেলে হিরু মিয়া ওরফে হায়দাকে (৫৫) পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।
টাঙ্গাইল দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো: শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, বিগত ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সখিপুর থানার বড়চওনা এলাকায় কালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে অভিযান চালিয়ে আসামি হোসেন আলী ও হিরু মিয়াকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামি হোসেন আলীর কাছ থেকে ৯০ গ্রাম ও হিরু মিয়ার কাছ থেকে ১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় টাঙ্গাইল ডিবি (দক্ষিণ) পুলিশের এসআই নুরুজ্জামান বাদি হয়ে সখিপুর থানায় মামলা করেন। বিচার শেষে আসামিদের এই সাজা দেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় আসামি হিরু মিয়া আদালতে হাজির থাকলেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হোসেন আলী পলাতক রয়েছে। আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান পারভেজ ও অ্যাডভোকেট খ: মনিরুল ইসলাম মনির।
আরমান কবীর:গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইল জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় শহরের নিচু এলাকাগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে অস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও যানজট। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরের কর্মজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ।
তবে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, জেলার সব নদ-নদীর পানি বিপদ সীমার নিচে রয়েছে। আপাতত জেলায় বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
শুক্রবার থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইল পৌরসভার পার্ক বাজার, আকুর-টাকুর পাড়া, দক্ষিণ থানাপাড়া, বিশ্বাস বেতকা, সাবালিয়া, কোদালিয়া ও কান্দাপাড়াসহ বেশ কিছু এলাকার রাস্তা-ঘাট হাঁটু সমান পানিতে ডুবে গেছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলোতেও পানি জমে থাকায় রোগী ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিশ্বাস বেতকার বাসিন্দা নাজমুল মিয়া বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের ঘরে পানি ওঠে। খালগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় পানি নামার কোনো জায়গা নেই। এর মাঝে কারেন্টও নেই। বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাঙ্গাইল শহরে কাগজ-কলমে ২৭টি খাল থাকলেও বাস্তবে বেশিরভাগ খাল প্রভাবশালীদের দখলে। খাল ভরাট করে মার্কেট, বাসা-বাড়ি ও রাস্তা নির্মাণ করায় শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি আকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “সাবালিয়া খাল, শ্যামা বাবুর খাল, কচুয়াডাঙ্গা খালসহ শহরের প্রধান খালগুলো উদ্ধার না করলে প্রতি বছরই এমন জলাবদ্ধতা হবে। এখনই খাল উদ্ধারে জেলা প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।”
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে টাঙ্গাইল-ঢাকা ও টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কে যান চলাচল ধীরগতিতে চলছে। শহরের অটো, রিকশা ও সিএনজি চালকরা যাত্রী পেলেও পানির কারণে ভাড়া দ্বিগুণ আদায় করছেন।
পার্ক বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “দোকানে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়েছে। ক্রেতাও নেই। গত ৩ দিনে বিক্রি একদম নেই বললেই চলে।”
প্যারাডাইস পাড়ার চা দোকানদার গনেশ চৌহান বলেন, “টানা বৃষ্টিতে দোকানে কাস্টমার নেই বললেই চলে। ফলে আমাদের জীবনযাপন স্থবির হওয়ার পথে।”
বৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং ও ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসায় পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
টাঙ্গাইল পৌরসভার পক্ষ থেকে জলাবদ্ধ এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মনিটরিং করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল আবহাওয়া অফিসের জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘন্টায় টাঙ্গাইলে ৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টায় টাঙ্গাইলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইনুদ্দিন জানান, টাঙ্গাইলের কোনো নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত টাঙ্গাইলে বন্যা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে টানা বৃষ্টিতে জেলার কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যমুনার তীরে ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে।
টানা বৃষ্টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও টাঙ্গাইল শহরের জলাবদ্ধতা অনেকাংশেই মানবসৃষ্ট। খাল দখল, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে প্রতি বছরই এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। খাল উদ্ধার ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত টাঙ্গাইলবাসীর এই দুর্ভোগ চলতেই থাকবে।
আরমান কবীর:বাকরখানি শুধু একটা রুটি না, এটা মুঘল আমলের একটা প্রেম-কাহিনী আর ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যবাহী ঢাকার বাকরখানি এখন তৈরি হচ্ছে টাঙ্গাইল শহরেই।
শহরের পার্ক বাজারের ব্যস্ততম এলাকা শনির আখড়ার সামনে ৩৭ বছরের অভিজ্ঞ কারিগর সোহেল মিয়া তৈরি করছেন বাকরখানি। তার হাত ধরেই মুঘল আমলের স্বাদ এখন টাঙ্গাইলবাসীর ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে।
সোহেল মিয়ার দোকানে মিষ্টি ও নোনতা দুই ধরনের বাকরখানি পাওয়া যায়।
দাম প্রতি কেজি মিষ্টি বাকরখানি ২২০ টাকা, নোনতা ২০০ টাকা। প্রতি পিস ১০ টাকা। কেজিতে গড়ে ২৪টি বাকরখানি ধরে।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাকরখানির মিষ্টি সুগন্ধ পুরো এলাকায় এক ধরনের আবেশ তৈরি করছে। দিনে গড়ে ৪ হাজার টাকার বাকরখানি বিক্রি হচ্ছে এখানে। ভাগিনা শাহিন মিয়া মামাকে সাহায্য করেন। পরিবার নিয়ে তারা থাকেন শহরের আদালত পাড়া এলাকায়।
সোহেল মিয়ার আদি বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে। প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জে এসে বাকরখানি তৈরির কাজ শেখেন। দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে এই পেশায় আছেন।
দুই বছর হলো টাঙ্গাইলে এসেছেন। পার্ক বাজারে মির্জা বাহরুলের দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন।
তিনি বলেন, “আগে লাকড়ি বা কয়লার চুলায় বাকরখানি তৈরি হতো। এখন মাইক্রোওভেনে বানাই। টাঙ্গাইলের মানুষ এখনও পুরোপুরি বাকরখানি খাওয়া শেখেনি। তবে ধীরে ধীরে বিক্রি বাড়ছে।”
তিনি আরো বলেন,ঘি, ময়দা, চিনি, দুধ, তিল – এগুলোই বাকরখানির মূল উপাদান।
কোদালিয়া এলাকার নাজমুল আহসান ঢাকার লালবাগে থাকতেন। সেখান থেকেই সকালের চায়ের সাথে বাকরখানি খাওয়ার অভ্যাস। তিনি বলেন, “পরিবারের জন্য ২ কেজি নোনতা বাকরখানি নিলাম। সকাল-সন্ধ্যার চায়ের সাথে খাব।”
স্কুলপড়ুয়া ছেলে মাহিনকে নিয়ে আসা মিলি বেগম বলেন, “ছেলের পছন্দ মিষ্টি বাকরখানি। তাই ১ কেজি ২২০ টাকা দিয়ে কিনলাম। এখানকার স্বাদ ও মান দুইটাই ভালো। বাজার করার ফাঁকে মাঝে মাঝে কিনে নিয়ে যাই।”
জানা গেছে,বাকরখানির জন্ম ১৭ শতকে মুঘল আমলের ঢাকায়। মুঘল সুবেদার ও নবাবরা সকালের নাস্তা ও চায়ের সাথে এটা খেতেন কারণ এটি সহজে নষ্ট হয় না।
নামকরণের পেছনে আছে করুণ প্রেম কাহিনী। মুঘল আমলে ঢাকার নায়েবে নাজিম মির্জা বাকর খান প্রেমে পড়েন নর্তকী খানি বেগমের। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে তাদের মিলন হয়নি। শোকে বাকর খানের জন্য রাঁধুনি যে শক্ত রুটি বানিয়েছিলেন তার নাম হয় বাকর + খানি = বাকরখানি।
আদিতে এই সুস্বাদু খাদ্য ২ প্রকার ছিল, গায়ে গায়ে বাকরখানি: পাতলা, খাস্তা। চায়ে ভিজিয়ে খাওয়া হতো। চাল্লা বাকরখানি: মোটা, নরম। উপরে তিল-পোস্ত দেওয়া থাকতো।পরে যোগ হয় মিষ্টি, নোনতা, চিনি ও মাওয়া বাকরখানি। ব্রিটিশরা একে “Bengal Biscuit” বলতো। পুরান ঢাকার লালবাগ, নাজিরাবাজার, চকবাজার ছিল এর মূল কেন্দ্র। দেশভাগের পর এটি সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
মুঘল আমলের সেই প্রেম আর ঐতিহ্যের বাকরখানি এখন টাঙ্গাইলের পার্ক বাজারে নতুন করে প্রাণ পাচ্ছে। সোহেল মিয়ার মতো কারিগরদের হাত ধরে ঐতিহ্য টিকে থাকুক – এমনটাই প্রত্যাশা টাঙ্গাইলবাসীর।
আরমান কবীরঃ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, টাঙ্গাইল জেলার মানুষ যাতে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে লক্ষ্যে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। হাসপাতালের জনবল সংকট দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করা হবে। তবে নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সভায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই সব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত মানবিক ও দায়িত্বপূর্ণ। মানুষ অসুস্থ হলেই সর্বপ্রথম হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়। তাই চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সীমিত জনবল থাকলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।
এ সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক শরীফা হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন মিঞা, হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু ,সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন, চিকিৎসকবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে হাসপাতালের পরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
সভায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকট দূরীকরণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান বৃদ্ধি, ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নয়ন, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।
আরমান কবীরঃ একসময় টাঙ্গাইলের মানুষ জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকা-ময়মনসিংহমুখী হতেন। অ্যাম্বুলেন্সে ৩-৪ ঘণ্টার যাত্রা, পথে রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা ছিল নিত্যসঙ্গী। সাথে যোগ হতো অতিরিক্ত অর্থ খরচ।
কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই চিত্র পাল্টেছে। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ৭৫০ সজ্জার সমন্বিত মেডিকেল হাব। এটিকে এখন জেলার চিকিৎসা খাতের ‘নতুন দিগন্ত’ বলছেন সবাই। সঙ্গত কারণেই চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও ময়মনসিংহ মুখি রোগীর স্রোত কমেছে অনেকটাই।
শহরের উত্তর দিকে পাশাপাশি অবস্থিত এই দুটি হাসপাতাল। জেনারেল হাসপাতাল ৫০ শয্যার সেবা দিয়ে আসছে সেই ১৯৭৪ সাল থেকে। পরে এটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়।
২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি কলেজটির প্রথম ব্যাচের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার মাধ্যমে এর একাডেমিক যাত্রা শুরু হয়।এখন চিকিৎসা ও শিক্ষার বড় কেন্দ্র এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দুই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রোগী রেফার, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কনসালটেশন ও যন্ত্রপাতির শেয়ারিং হওয়ায় সেবার মান বেড়েছে বহুগুণ।
বৈশ্বিক মহামারি করোনার সময় এই হাবই ছিল জেলার ভরসা। আইসোলেশন ওয়ার্ড, আইসিইউ, অক্সিজেন সাপ্লাই সব একসাথে ম্যানেজ করে প্রাণ বাঁচিয়েছে জেলার হাজারো মানুষের।
আগে সিটি স্ক্যান, হার্টের ইকোর জন্য ঢাকায় দৌড়াতে হতো। এখন টাঙ্গাইলেই মিলছে এই সেবা। গত ৩ বছরে সরকারি বরাদ্দে যুক্ত হয়েছে, ১টি সিটি স্ক্যান, ল্যাপারোস্কপি সেট ও আধুনিক ল্যাব।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস জানান ,“আমরা এখন ব্রেন স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, বড় অপারেশন, ট্রমা কেস সবই এখানে ম্যানেজ করছি। মেডিকেল শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নরা ২৪ ঘণ্টা থাকায় জরুরি সেবা আগের চেয়ে ৫০% দ্রুত হয়েছে।”
তিনি আরো জানান,খুব দ্রুতই নাক,কান গলা (ইএনটি) বিভাগ, চক্ষু বিভাগ ও আই সি ইউ ইউনিটের চালুর প্রচেষ্টা চলছে। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সহযোগিতায় খুব দ্রুতই এই বিভাগ গুলো চালু করা হবে।আরেকটি চ্যালেঞ্জ জনবল। ৫০০ শয্যার বিপরীতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও নার্সের সংখ্যা কম। পদ ফাঁকা থাকায় চাপ বাড়ছে কর্মরতদের উপর।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডঃ সাইফুর রহমান খান বলেন, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সম্প্রতি ১০ শয্যার আইসিইউ চালু করা হয়েছে। এ ছাড়াও ডাইরিয়ার ও হামের আলাদা ইউনিট রয়েছে। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার পরও ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে এখন প্রায় ৪০০ রোগীর সেবা দেওয়া হচ্ছে, যেটা জেনারেল হাসপাতালে সেবার মান ভালোর অন্যতম নির্দেশক। আশা করি, ভবিষ্যতে এই সেবার মান নিশ্চিত করতে সরকার মহোদয় জেনারেল হাসপাতালের জনবলের অভাব পুরণে সহায়তা করবেন।
সখীপুরের রেহেনা বেগম সিজারের জন্য এসেছেন। তিনি বলেন, “আগে ঢাকার কথা শুনলেই ভয় লাগত। এখন এখানেই ভালো ডাক্তার, ভালো অপারেশন। খরচ অর্ধেক।”সরকারকে ধন্যবাদ।
দেলদুয়ার উপজেলার জাঙ্গালিয়ার গ্রামের আহমেদ আলী(৭৪)র স্ট্রোক হয়েছিল আট দিন আগে। আট দিনের চিকিৎসার শেষে পর আজকে তাকে রিলিজ করেছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট, তিনি জানান, টাঙ্গাইলে চিকিৎসা সেবার অনেক উন্নত হয়েছে, আগে স্ট্রোকের চিকিৎসা টাঙ্গাইলে ছিলনা, ঢাকায় রেফার্ড করা হতো, এখন টাঙ্গাইলে স্ট্রোকের উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের দেলদা গ্রামের মিনা চৌধুরী (৬০) পেটে ব্যথা ও জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।তিন দিনের চিকিৎসা শেষে আজকেই তিনি বাড়ি ফিরছেন, হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় তিনি সন্তুষ্ট। পরিবার পরিজনের সাথে হাসি মুখে বাড়ী ফিরছেন তিনি।
তবে অভিযোগও আছে বিস্তর। ওয়ার্ডে বেডের চাপ, টয়লেটের সংকট ও বিশুদ্ধ পানির দাবি জানিয়েছেন অনেকে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে। এ ছাড়াও এক শ্রেণীর ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল ও মেডিকেল রিপ্রেসেন্টেটিভদের দৌরাত্ম্যে রয়েছে।
এছাড়াও লোকেশনের সমস্যা আছে। হাসপাতালের কাছেই নতুন বাস টার্মিনাল। ফলে অ্যাম্বুলেন্স আটকায়, রোগীর স্বজনদের ভোগান্তি হয় যানজটের কারণে।
টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি অকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “রাবনায় নতুন টার্মিনাল হলে এই মেডিকেল হাব আরও প্রাণ ফিরে পাবে।”
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন,সরকারের পরিকল্পনা বড়। ক্যান্সার ইউনিট, বার্ন ইউনিট, ক্যাথল্যাব ও পেডিয়াট্রিক আইসিইউ স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। মেডিকেল কলেজে গবেষণা সেল চালু হলে নতুন ওষুধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও কাজ হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালনা পরিষদের গত ১১ জুন সভাপতি নির্বাচিত হন।
দায়িত্ব নিয়েই তিনি বলেন “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে টাঙ্গাইলকে আমরা স্বাস্থ্যসেবার মডেল জেলা হিসেবে গড়তে চাই। ৭৫০ সজ্জার এই হাব হবে তারই শুরু।”
টাঙ্গাইলের এই মেডিকেল হাব এখন আর শুধু একটি জেলার হাসপাতাল নয়। এটি উত্তরবঙ্গের ৫-৬টি জেলার মানুষের ভবিষ্যতে ভরসার স্থল হয়ে উঠবে এমন প্রত্যাশা অভিজ্ঞ জনের । চ্যালেঞ্জ আছে, তবে সম্ভাবনা তার চেয়ে বড়।
পর্যাপ্ত বরাদ্দ, জনবল ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে টাঙ্গাইল হবে দেশের অন্যতম আধুনিক চিকিৎসা নগরী। আর তখন ঢাকামুখী রোগীর স্রোত কমে, টাঙ্গাইল মুখী হবে স্বাস্থ্যসেবার নতুন স্রোত। এমন প্রত্যাশা টাঙ্গাইলের সাধারণ মানুষের।
টাঙ্গাইলের দু’টি হাসপাতালে মিলছে উন্নত চিকিৎসা
আরমান কবীর: টাঙ্গাইল শহরের কোদালিয়ায় আশির দশকে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে টাঙ্গাইল পৌর বাস টার্মিনালের কার্যক্রম। ছাউনি পরিত্যক্ত ঘোষণার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি মাথায় নিয়ে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী সেবা নিচ্ছেন এখান থেকেই। অথচ আধুনিক বাস টার্মিনালের জন্য প্রায় ৫ একর সরকারি জমি বরাদ্দ পেয়েছে পৌরসভা ৫ বছর আগেই। কিন্তু জমি পরে আছে, শুরু হয়নি মূল ভবন নির্মাণ কাজ। সম্প্রতি বরাদ্দকৃত জায়গাটিতে মাটি ভরাটের কাজও শুরু করা হয়েছে, কিন্তু চলছে শম্ভুক গতিতে, ফলে কবে নাগাদ শুরু হবে মূল টার্মিনাল নির্মাণের কাজ তা নিয়ে শুরু হয়েছে সংশয়।
টাঙ্গাইল পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৪ জুলাই ১ লাখ ১ হাজার টাকা মূল্যের দলিল মূলে টাঙ্গাইল পৌরসভা শহরের রাবনা বাইপাসের দক্ষিণ পাশে সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের মাগুরাটা মৌজা ও পৌরসভার এনায়েতপুর মৌজার ৪.৯৪ একর সরকারি খাস জমি ৩০ বছর মেয়াদে লিজ বন্দোবস্ত পায়। উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বাস টার্মিনাল নির্মাণ।
পৌরসভা সূত্রে আরও জানা যায়, নির্মাণ কাজের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত জলাভূমিতে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করা হয়। তবে ধীরগতির কারণে কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাবনা বাইপাসের দক্ষিণ দিকে আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গায় পৌরসভা কর্তৃক মাত্র কয়েক ট্রাক মাটি ফেলা হয়েছে। বাকি অংশ ময়লা আবর্জনা দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। এই বছরের ৩ মে থেকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাত্র ৭ ট্রাক মাটি ফেলা হয়। তার পর থেকে আর কোনো মাটি ফেলা হচ্ছে না। অথচ পৌরসভার দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী মাটি ভরাটের শেষ সময় ছিল ৩০ জুন ২০২৬। একই ঘটনা ঘটেছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে, মাটি ভরাট না করায় ড্রেনেজ এর কাজ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

টাঙ্গাইল পৌরসভার নাম প্রকাশ্য অনিচ্ছুক এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “জমির মাটি ভরাটের কাজ চলছে। বাস টার্মিনাল এর জন্য নির্ধারিত জায়গা জলাভূমি হওয়ায় প্রচুর মাটি লাগবে। মাটি ভরাট হলে, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনের ব্যবস্থা জন্য দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ ও ডিজাইন চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই মূল অবকাঠামোর কাজ শুরু হবে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত শেষ করতে।”
তবে তিনি কবে নাগাদ টেন্ডার হবে বা কাজ শেষ হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাতে পারেননি তিনি।
রাবনা এলাকার সুভাষ চন্দ্র দাস, মাজম মিয়া ও আকবর আলী তালুকদার জানান, ৫ বছর যাবত শুনছি এখানে আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে, তবে কাজির গরু যেমন খাতায় থাকে, গোয়ালে থাকে না, তেমনি টাঙ্গাইল পৌরসভা ঢাকঢোল পিটিয়ে বাস টার্মিনাল নির্মাণ এর ঘোষনা দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মাত্র ৭ ট্রাক মাটি ফেলা হয়েছে। অবিলম্বে আধুনিক বাস টার্মিনালের মূল ভবনের নির্মাণের কাজ শুরু করার জোর দাবী জানাচ্ছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাস শ্রমিক নেতার সাথে কথা হয় রাবনা এলাকায় তিনি বলেন “প্রতিদিন মাথার উপর ছাউনি ভেঙে পড়ার ভয় নিয়ে কাজ করি নতুন বাস স্ট্যান্ড ভবনে। যাত্রীরাও আতঙ্কে থাকে। রাবনা বাইপাসের কাছে নতুন টার্মিনালের কথা শুনে আসছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই দেখি না।”
টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র পুরাতন বাস টার্মিনালটি নির্মিত হয় আশির দশকে। ২০১৩ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র টার্মিনালের ছাউনিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত’ ঘোষণা করেন। এরপর এক যুগ কেটে গেলেও নতুন ভবন হয়নি। বর্তমানে জরাজীর্ণ শেড, ভাঙা টিন ও ফাটল ধরা পিলারের নিচেই দাঁড়িয়ে থাকে ঢাকা, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুরসহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের দূরপাল্লার বাসগুলো। বৃষ্টি হলেই যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।
ঢাকাগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, “টার্মিনালে বসার জায়গা নেই, টয়লেটের অবস্থা খারাপ, পানি নেই। রাবনা বাইপাসে নতুন টার্মিনাল হবে শুনেছি। দ্রুত হলে আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের কষ্ট লাঘব হবে।”
জামালপুরগামী সরকারি চাকুরে রাবেয়া খাতুন রাব্বানী বলেন, টার্মিনালে মহিলাদের জন্য কোন পৃথক টয়লেট নেই, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তো অনেক দুরের কথা। ফলে মহিলা ও শিশুদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব সহকারে অনুধাবন করে প্রস্তাবিত আধুনিক বাস টার্মিনালিটির নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করবেন।
টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি অকিবুর রহমান ইকবাল জানান, টাঙ্গাইল জেলা সদর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন হাব। এখানে আধুনিক বাস টার্মিনাল না থাকায় শহরের যানজট বাড়ছে, পাশাপাশি যাত্রী নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে। তাই দ্রুত মাটি ভরাট শেষ করে আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু করার দাবি জানাচ্ছি।
এছাড়াও বর্তমান বাস টার্মিনালের কাছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল এবং টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় বাস টার্মিনালের এই যানজটের কারণে। তাই যত দ্রুত এই বাস টার্মিনাল রাবনা বাইপাসে নেওয়া যাবে, ততই শহরের যানজট নিরসনের ভূমিকা রাখবে।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, ১৯৮১ সালের ৩১ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মরহুম বিচারপতি আব্দুর সাত্তার বর্তমান নতুন বাসস্ট্যান্ডের টার্মিনাল ভবনটি উদ্বোধন করেন। ভবনটি ২০১৩ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে এই পরিত্যক্ত ভবনেই যাত্রী সেবা সহ টার্মিনালের যাবতীয় কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
আশাকরি, টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ বিষয়ে দ্রুত প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ ব্যাপারে আমার সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পৌর প্রশাসক ও উপ-পরিচালক(স্থানীয় সরকার) সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, রাবনা বাইপাস এলাকায় আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য মাটি ভরাট ও ড্রেন নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, কিন্তু দু’টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কাজ সম্পন্ন করার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে প্রকল্প পরিচালক বরাবর কাজ দুটির সময় সীমা বৃদ্ধির বিষয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, মাটি ভরাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শেষ হলে মূল ভবনের নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে। যত দ্রুত সম্ভব এই আধুনিক বাস টার্মিনালটির নির্মাণ সম্পূর্ণ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আরমান কবীরঃ জ্যৈষ্ঠের শেষ থেকে আষাঢ়ের শুরু — বাঙালির ‘মধু মাস’। আর এই মাস মানেই টাঙ্গাইলের বাজারজুড়ে আম-জাম-কাঁঠাল, লটকন, জামরুলের উৎসব। গ্রীষ্মের কড়া রোদের মাঝে রসালো ফলের সমাহারে এখন টইটম্বুর পৌরশহরের প্রতিটি ফলপট্টি।
ক্রেতা-বিক্রেতার কোলাহলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে শহরের পার্ক বাজার, ছয় আনি বাজার, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, জগলু রোডের ফলপট্টিসহ বিভিন্ন ফলের বাজার। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টাঙ্গাইলের ফলের বাজারগুলোতে এখন ক্রেতার ঢল। ঝুড়ি ভর্তি আম, কাঁঠাল, লটকন, জামরুল নিয়ে ভ্যান-রিকশা থেকে শুরু করে দোকানে দোকানে বিক্রির মহোৎসব চলছে শহরে। গৃহিণী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী — সবাই ছুটছেন মধু মাসের স্বাদ নিতে। আর দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় ক্রেতার মুখে সন্তুষ্টির হাসি।
বর্তমানে বাজারের প্রধান আকর্ষণ দেশি-বিদেশি জাতের আম। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে সুরমা ফজলি ৪৫ টাকা কেজি, হাঁড়ি ভাঙ্গা ৭০ টাকা কেজি, ব্যানানা ম্যাংগো ১২০ টাকা, বারি-৪ ৭০ টাকা ও আম্রপালি ৮০ টাকা কেজি দরে। ইতিপূর্বে বিক্রি হয়েছে রাজশাহীর ল্যাংড়া, সাতক্ষীরার গোপালভোগ ও হিমসাগর।
নতুন মৌসুমের লটকন ১০০ টাকা কেজি, জামরুল ১২০ টাকা কেজি। কাঁঠাল আকারভেদে ৭০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও বাজারে উঠেছে আতাফল, জাম্বুরা ও বেল। দাবদাহের কারণে বেলের শরবতের চাহিদা এখন তুঙ্গে।
পার্ক বাজারের আড়তদার মোহাম্মদ আনোয়ার, আলমগীর, মনির, আব্দুল হক ও রফিক মিয়া জানান, “মধু মাস মানেই আমাদের কাছে বছরের সেরা মাস। জেলায় প্রতিদিন রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর থেকে ১৫-২০টি ট্রাক ফল আসছে। গত বছরের তুলনায় এবার ফলের ফলন ভালো হওয়ায় দামও কম। যে কারণে ফলের দোকানগুলোতে ক্রেতার ভিড় অনেক বেশি এবং পরিমাণেও বেশি কিনছেন তাঁরা।”
শুধু বড় আড়ত না, শহরের অলিগলিতেও এখন ফলের ভ্রাম্যমাণ দোকান বসেছে। জগলু রোডের তরুণ উদ্যোক্তা সাদিকুর রহমান জানান, “অনার্সে পড়ার পাশাপাশি এই ব্যবসা করছি। প্রতিদিন ৩০-৪০ কেজি আম বিক্রি হয়। মানুষ এখন সরাসরি বাগান থেকে আনা পাকা ফল কিনতে চায়।”
শহরের প্যারাডাইস পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল আলীম পরিবার নিয়ে ফল কিনতে এসেছেন। তিনি বলেন, “বছরের এই তিন মাস ছাড়া আর ফলের আসল স্বাদ পাওয়া যায় না। তাই বাচ্চাদের নিয়ে প্রতিদিনই কিছু না কিছু ফল কিনছি।” তিনি ৪৫ টাকা কেজি দরে ৪ কেজি সুরমা ফজলি কিনেছেন।
আরেক ক্রেতা ব্যবসায়ী নাজমুল হাসান জানান, তিনি ৭০ টাকা কেজি দরে ৫ কেজি হাঁড়িভাঙ্গা আম কিনেছেন। “বলতে গেলে প্রায় প্রতিদিনই আম কিনছি।” বাজারে আমের দরে তিনি খুশি।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা. ফারহানা সুলতানা বলেন, “কার্বাইড মিশ্রিত ফল খেলে পেটের পীড়া, মাথাব্যথা এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। তাই ফল কেনার পর কমপক্ষে ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে, ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া উচিত।”
এদিকে ভেজাল রোধে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে। জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল জানান, “এখন আমের পূর্ণ মৌসুম। যে কারণে ফল পাকাতে ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করছেন না। প্রাকৃতিক নিয়মেই বর্তমানে আম পাকানো হচ্ছে, তাই ভোক্তারা নির্দ্বিধায় আম কিনে খেতে পারেন।”
মধু মাস শুধু ব্যবসা না, টাঙ্গাইলের গ্রামীণ অর্থনীতির জন্যও বড় সময়। বিশেষ করে মির্জাপুর, সখীপুর, ঘাটাইলের হাজারো কৃষক এই সময় কাঁঠাল বিক্রি করে সারা বছরের খরচ মেটান। অন্যদিকে শহরের মানুষের কাছে এটি আবেগের বিষয়। আম কাটা, জাম খাওয়া আর কাঁঠালের কোয়া ভাগাভাগি — মধু মাস মানেই উৎসব।
রোদ-গরমের এই দিনে টাঙ্গাইলের বাজার এখন প্রকৃতির দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহারে ভরা। ফলের মিষ্টি গন্ধে ভরে উঠুক টাঙ্গাইলের প্রতিটি ঘর।