আরমান কবীর:জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, রাজপথে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করলে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা বিএনপির আয়োজনে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে’ অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “একটা গোষ্ঠী, ফ্যাসিস্ট এই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। জনগণ দ্বারা বিতাড়িত হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে গেছে। তারা গুম, খুন, নির্যাতন ও নিপীড়ন করেছে। এই দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, নির্বিচারে গুলি করেছে। তারা আজ আবার বিভিন্ন কায়দায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।”
তিনি বলেন, “তাদের এখনো বোধোদয় হয়নি, কী কারণে পালিয়ে গেল। তারা একবারও লজ্জিত হয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাচ্ছে না। এই ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশে কী রাজনীতি করতে পারবেন? পারবেন না। আপনাদের এই দেশের জনগণ বিতাড়িত করেছে। জনগণই আপনাদের প্রতিহত করবে। কারণ বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রপ্রিয়।”
বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশকে ধ্বংস করেছে। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন দেশনায়ক তারেক রহমান।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের দল বিএনপিকে এত সহজে ষড়যন্ত্র করে পার পাবেন—ভাবলে আহাম্মকের স্বর্গে বাস করা ছাড়া কিছুই না। জনগণ ভোটের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে। জনগণের দাবি ও অধিকার নিয়ে যখনই কেউ ষড়যন্ত্র করেছে, তারাই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জনগণই তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে, ভবিষ্যতেও দেবে।”
রাজপথে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৭ বছর জনগণের দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করেছে। কাজেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই রাজপথে যারা বিশৃঙ্খলা করবে, তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেব, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি বলেন, “কোনো অপশক্তি, কোনো ফ্যাসিস্ট যাতে এই দেশের ক্ষতি করতে না পারে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এ ব্যাপারে সজাগ থেকে একদিকে আমরা সাংগঠনিক কাজ করব, অন্যদিকে সরকারকে দেশ পরিচালনায় সহযোগিতা করব। আর জনগণের উন্নয়নের জন্য সমান্তরালভাবে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু।
এর আগে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথক মিছিল নিয়ে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এসে সমাবেশে অংশ নেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শফিকুল রহমান লিটন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অমল ব্যানার্জি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী ও শফিকুর রহমান খান শফিক, টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি আহমেদুল হক শাতিল, টাঙ্গাইল জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুল হক (ভিপি মনির), টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিমুদ্দিন বিপ্লব, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব জাহিদ হোসেন মালা, জেলা মহিলা বিএনপির সভাপতি নিলুফা ইয়াসমিন এবং টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দূর্জয় হোড় শুভ।
এ ছাড়া জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু’র সাথে সদরের জনগণের সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে এবং তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডে স্থাপন করা হয়েছে জনতার সংযোগ টেলিফোন বুথ।
কিন্তু বাস্তবে সেই বুথগুলো এখন কার্যত অচল। অভিযোগ উঠেছে, নির্দিষ্ট নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও অধিকাংশ সময় ফোন কল রিসিভ করা হয় না। কোথাও কোথাও বুথে টেলিফোন সেটই নেই।
সরেজমিনে সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের সামনের বুথে গিয়ে দেখা যায়, নির্দিষ্ট বুথে কোনো টেলিফোন সেট নেই। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, টেলিফোন সেটটি চেয়ারম্যানের কক্ষে রাখা হয়েছে।

ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম আরমিছ জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে টেলিফোন সেটসহ সংযোগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে এনে রাখা হয়েছে। যদি কেউ অভিযোগ করতে চায়, এখান থেকে সরাসরি ফোন করবে।
টেলিফোন স্থানান্তরের কোনো নোটিশ টানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, সেই ধরনের কোনো নোটিশ টানানো হয়নি। পরে চেয়ারম্যানের কক্ষে গিয়ে সংযোগ বিহীন টেলিফোন সেট দেখা যায়।
দাইন্যা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আবু সাঈদ মিয়া জানান, প্রথমদিকে বেশ কিছু লোক টেলিফোনের মাধ্যমে অভিযোগ করেছে। বর্তমান অবস্থা জানি না। আমি বিষয়টি জেনে আপনাকে জানাব।
সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের অবস্থাও একই রকম। ইউনিয়নের পার বহুলির গোল চত্বর এলাকায় টেলিফোন বুথ স্থাপন করা হলেও, ভেতরে কোনো টেলিফোন সেট নেই।
স্থানীয় সিএনজি চালক জামাল উদ্দিন জানান, কিছুদিন পূর্বে আমি একটি জরুরি প্রয়োজনে উক্ত লাইনে বহুবার ফোন দিয়েছি কিন্তু কেউ রিসিভ করেনি।
একই অভিযোগ স্থানীয় বৃদ্ধ রহিজ উদ্দিনের। তিনি জানান, অনেক চেষ্টা করেও তিনি স্থাপিত টেলিফোনের কোনো সংযোগ পাননি।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব ও পৌর এলাকার দায়িত্বে থাকা মাহমুদুল হক সানু জানান, পৌর এলাকার কাজীপুর (১০ নং ওয়ার্ড), সন্তোষ (৭ নং ওয়ার্ড) ও বৈল্লা (২ নং) ওয়ার্ডে তিনটি টেলিফোন দেওয়া হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফোনগুলো বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। বিকল্প উপায় হিসেবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হট লাইন নাম্বার পোস্টার আকারে টানিয়ে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যেই টেলিফোন বুথের ভেতরের লোহার বক্স কেটে কয়েকবার ফোন গুলো চুরি হয়েছে। এ ছাড়াও অনেক জায়গায় এই ফোন থেকে ব্যক্তিগত ফোন করে ফোনের কার্ডের টাকা ফুরিয়ে ফেলে। এ ছাড়াও যান্ত্রিক সমস্যা তো আছেই, ফলে কিছু কিছু বুথে সমস্যা তৈরি হচ্ছে এটা সত্যি। যত দ্রুত সম্ভব বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে, যেন এই আসনের জনগণের সাথে মাননীয় সংসদ সদস্যদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করা যায়। তবে এই ফোন বুথ রক্ষায় জনগণের দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন আছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ইটালীতে সরকারি সফরে থাকায় তার পার্সোনাল সেক্রেটারি সৈয়দ টিটোর সাথে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি জানান, এই বিষয়ে এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। এখন পেলাম, যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনগণ ও জনপ্রতিনিধির মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সেতু হিসেবে ‘জনতার সংযোগ’ প্রকল্পের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে বুথগুলোতে টেলিফোন না থাকা, সংযোগ না থাকা এবং ফোন রিসিভ না করার কারণে প্রকল্পটি তার লক্ষ্য থেকে ছিটকে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অনেকের মতে, বুথগুলো জনসম্মুখে না রেখে ইউপি চেয়ারম্যানের কক্ষে নিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে অভিযোগ জানানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার নোটিশ না থাকায় অনেকে বুথের অবস্থান সম্পর্কেও জানেন না।
স্থানীয়দের দাবি, ‘জনতার সংযোগ’ নাম সার্থক করতে হলে বুথগুলোতে দ্রুত টেলিফোন সেট স্থাপন, সংযোগ সচল রাখা এবং নির্দিষ্ট সময়ে ফোন রিসিভ করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনে এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ করতে জনতার সংযোগ ফোন বুথ উদ্বোধন করা হয়। ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নে চারাবাড়ি ঘাটে ফোন বুথ উদ্বোধন করেন আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর উদ্যোগে টাঙ্গাইল-৫ আসনে মোট ৩০টি ফোন বুথ স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ১২টি ইউনিয়নে ১২টি বুথ এবং পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ১৮টি বুথ থাকবে।
আরমান কবীর: ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে ফারুক হত্যা মামলায় টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে বহুল আলোচিত ‘খান পরিবারের’ সন্তান সানিয়াত খান (বাপ্পা)সহ তিনজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় আরও চার জনকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে আদালত বেকুসুর খালাস দিয়েছেন।
টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন সোমবার(২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই রায় দেন।
মামলায় রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌশুলি মোহাম্মদ সাইদুর রহমান (স্বপন) এই রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সানিয়াত খান (বাপ্পা) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি। তিনি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের ছেলে। এবং একই আসনের সাবেক সদস সদস্য আমানুর রহমান খানের (রানা) ছোট ভাই। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামী হলেন- টাঙ্গাইল শহরের কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ ও সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের শ্রীফলিআটা গ্রামের শহীদ মিয়ার ছেলে মো. শাজাহান মিয়া। এদের প্রত্যেককে ১লাখ টাকা করে জরিমানাও করেছেন আদালত। এরা সবাই পলাতক রয়েছেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কাঠুয়া যোগিনী গ্রামের আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে মো. সুজন, শ্রীফলিআটা গ্রামের রওশন আলীর ছেলে মো. সানোয়ার হোসেন, বাঘিল ইউনিয়নের ছিটকি বাড়ি গ্রামের নুরু বখ্শের ছেলে রুজবেল ওরফে ইমন এবং শহরের উত্তর কাগমারার নুরুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম। এদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ মামলার অপর আসামী সঞ্জিত ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
রায় ঘোষণার পর মো. সুজন ও সানোয়ার হোসেনকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্য আসামীরা পলাতক রয়েছেন।
অতিরিক্ত সরকারি কৌশুলি মোহাম্মদ সাইদুর রহমান (স্বপন) জানান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রাত ভ্রমণে বের হন। সকাল ৬টার দিকে শহরের বটতলা বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনার পরদিন তার ভাই মো. লাভলু মিয়া বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলার তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালে ২০১৬ সালে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাজাহান, সুজন ও সানোয়ার হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তাদের জবানবন্দিতে বের হয়ে আসে সানিয়াত খান (বাপ্পা) ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড করিয়েছেন।
আরমান কবীর:‘আপনারা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করেছেন। বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। জ্বালানির চরম সংকটে মানুষ অতি কষ্টে জীবন যাপন করছে, বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান।
শনিবার(১৯ সেপ্টেম্বর)সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের লংমার্চের পথসভার বক্তব্যে এ কথা বলেছেন তিনি।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে ।
জামায়াতের আমির জানিয়েছেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোট এ লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করেছে।
জনতার যৌক্তিক দাবি না মানলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অব্যাহত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আহসান হাবিব মাসুদ।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপি’র চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কাশেম কাশেমী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি এবং টাঙ্গাইল জেলার এনসিপি নেতা রাসেল আহমেদ, তুষার আহমেদ সহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতারা।
উল্লেখ্য,শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুরমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান। পরে সড়ক পথে ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে লং মার্চ।
পথসভায় বক্তব্য রাখেন জামাত ইসলামের আমির ডাঃ সফিকুর রহমান
আরমান কবীর:টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক তিনবারের চেয়ারম্যান ও দাইন্যা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে টাঙ্গাইলে আলোচনা সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদ ফারুক স্মৃতি সংসদের আয়োজনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাঙ্গাইল কোর্ট চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
দাইন্যা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেনের সভাপতিত্বে ও ফারুক চেয়ারম্যানের ছোট ভাই ও দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম লাবু’র সঞ্চালনায় উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলী।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী, শফিকুর রহমান শফিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালেহ মোহাম্মদ শাফি ইথেন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, থানা মহিলা দলের সভাপতি পারুল আক্তার, সাধারণ সম্পাদক শিল্পী আজম প্রমুখ।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ,সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের একমাত্র সন্তান ইঞ্জিনিয়ার ফুয়াদ ইসলাম অনিক ও ভাগিনা মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাজিত ইসলাম দিপু।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ রফিকুল ইসলাম ফারুক চেয়ারম্যান ছিলেন,টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তাঁর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন অন্যথায় বর্তমানে শান্ত টাঙ্গাইলের পশ্চিমাঞ্চল অশান্ত হয়ে উঠবে।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বিএনপি, ছাত্রদল যুবদলের নেতাকর্মী সহ,দাইন্যা ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য,২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর সকালে তিনি প্রাতভ্রমনে বের হয়ে শহরের আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাঁর ওপর হামলা চালায়। ফলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
আরমান কবীরঃ দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) টাঙ্গাইল ক্লাব মিলনায়তনে ভোট গ্রহণ শেষে রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
এতে ‘এ’ শ্রেণিতে ১৮ জন এবং ‘বি’ শ্রেণিতে ১২ জন পরিচালক পদে নির্বাচিত হন। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ হয়।
এ’ শ্রেণিতে নির্বাচিত পরিচালকেরা হচ্ছেন বেনজীর আহমেদ, মো. নূরুল আলম, নাজমুল আহসান, শংকর সরকার, স্বপন ঘোষ, আখতার হোসেন খান, খন্দকার রাশেদুল আলম, তারেকুল ইসলাম, বিশ্বজিৎ কুমার সাহা, আনবসুর রহমান চৌধুরী, সামসুর রহমান চৌধুরী, প্রভাত কুমার ধর, দুলাল চন্দ্র সাহা, খন্দকার আবদুল মোকাদ্দেম, মির্জা জিয়াউর রহমান, মো. নূরুল ইসলাম, মো. সরোয়ার হোসেন খান, মো. আবদুল্লাহ হেল কাফি।
বি’ শ্রেণিতে নির্বাচিত ১২ জন পরিচালক হচ্ছেন মো.রোকনউদ্দিন, সৈয়দ যুবায়ের আবদুল্লাহ, ইকবাল হোসেন জুয়েল, আবু সাঈদ চৌধুরী, মো. ফয়জুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, কাজী শফিকুল ইসলাম (লিটন), মো. আরিফ হোসেন, মীর মিরাজ হোসেন, আজিম উদ্দিন রবিন, পলাশ চন্দ্র বসাক ও খন্দকার নাজমুল হায়দার।
চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সূত্র জানায়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘এ’ ও ‘বি’—উভয় শ্রেণি থেকে নির্বাচিত ৩০ জন পরবচালকের মধ্য থেকে সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচন করা হবে। তবে পরিচালকদের সভা কবে হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম জানান, বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর ভোটদানের সুযোগ পেয়ে আনন্দিত সাধারণ ভোটাররা। ভোট দেওয়ার পর সাম্য রহমান বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিতে এসেছেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পেয়ে সবাই খুশি। এমন গণতান্ত্রিক চর্চা যেন অব্যাহত থাকে।
টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বদানকারী এই সংগঠনের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তিন দশকের আগে। তার পর থেকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শুরু হয়। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকত, সেই দলের নেতারা তাঁদের পছন্দের লোকদের দিয়ে পরিচালনা পরিষদ গঠন করে দিতেন। সাধারণ ভোটাররা ভোটদানের সুযোগ পেতেন না।
উল্লেখ্য, নির্বাচিত পরিচালকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সরাসরি ক্ষমতাসীন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ‘এ’ শ্রেণিতে নির্বাচিত পরিচালক বেনজীর আহমেদ বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। রাশেদুল আলম জেলা যুবদলের আহ্বায়ক। তারেকুল ইসলাম ঝলক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা।
এ ছাড়া কাজী শফিকুল ইসলাম লিটন ও আবদুল্লাহ- হেল-কাফি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, যদিও তাঁরা এখন পদে নেই।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে অতি দ্রুত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শুক্রবার (২২ মে) বেলা ১২টার দিকে সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলি এলাকার নদীভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন করেন মন্ত্রীদ্বয়। পরে নদীর তীরবর্তী মিন্টু মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভাঙনকবলিত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারা।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ এবং জনগণের স্বার্থে আগামী অর্থবছর থেকেই যমুনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনে প্রতি বছর নদীপাড়ের অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। টাঙ্গাইলের যমুনা নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলো সুরক্ষায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরেই এর কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। যমুনার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যেই নিজে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমরা যা বলি, তাই করি।নির্বাচনের আগে যমুনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এ অঞ্চলের উন্নয়নে সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহজাহান সিরাজসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী এবং ভাঙনকবলিত এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ: টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলামের (ভিপি জোয়াহের) জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে সখীপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের বেরবাড়ি গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।এর আগে সোমবার ভোরে ভারত থেকে সাবেক এই এমপির মরদেহ টাঙ্গাইলে এসে পৌঁছায়।
গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। রবিবার রাতে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তার মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়।
সোমবার দুপুর ১২টায় টাঙ্গাইল জেলা সদর হেলিপ্যাডে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা ৩টায় সখীপুরের বেরবাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় সামাজিক গোরস্থানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। জানাজায় বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও মাল্টি অর্গান ফেইলিওরসহ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুর তিন দিন আগে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার পর তার মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়।
অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম টাঙ্গাইল আদালতের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ছিলেন। তিনি করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদের দু’বারের নির্বাচিত ভিপি এবং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি ভারতে চলে যান। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক মামলা রয়েছে
আরমান কবীরঃ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বর্তমান যুগে আইসিটি সব চেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। আইটি সেক্টর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা অনেক জব ক্রিয়েট করতে চাই এবং ইন্টারনেট সকলের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই। প্রধানমন্ত্রী আমাদের নিদের্শনা দিয়েছেন বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন এমনকি হাইস্পিড গাড়িগুলোকে ফ্রি ওয়াফাই ব্যবস্থা করার জন্য।
শুক্রবার(২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের নিদের্শনা দিয়েছেন তিনটি বড় বড় টেকপার্কে কিভাবে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি বিদেশ থেকে বিনিয়োগ করার জন্য। আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাবো। জনবান্ধব সরকার হতে চাই।
তিনি বলেন, টাঙ্গাইলেও আমরা কিছু চাই। জেলার প্রতিটি উপজেলায় আইসিটি পার্ক করার কথা চিন্তা করতে পারি আমরা।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্তসহ সরকারি দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ জেলা পর্যায়ে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মুরগির মাংসসহ বিভিন্ন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যসামগ্রী বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।এরই অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলে এই বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
শনিবার ( ২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন,কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এ সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন,সারাদেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, রমজানকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে প্রোটিনজাতীয় খাদ্য পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। কোনোভাবেই কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত মূল্য আদায় বরদাস্ত করা হবে না।
এছাড়াও তিনি জানান, পোলট্রি শিল্প যেন টিকে থাকতে পারে সেজন্য খামারিদের সাথে বসে তাদের সমস্যাগুলো শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ সময় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক সহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের কোনো ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত মজুত আছে বলে জানিয়েছেন কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা যেভাবে দেখছি, আল্লাহর রহমতে সবকিছু ঠিকভাবেই আছে, কোনো ঘাটতি নেই। ইনশাআল্লাহ, আমরা তদারকির মাধ্যমে এগুলো সুন্দরভাবে ম্যানেজ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধকল্পে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বাজার মনিটরিং সেল করা হয়েছে। যারা বাজারের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছেন, তারা কাজ করে যাচ্ছেন। আজকের মিটিংয়ে তারা বিস্তারিত উপস্থাপন করেছে। আশা করি, মনিটরিং এবং তদারকির মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব হবে।’
সভায় জেলা প্রশাসক শরিফা হক সভাপতিত্বে ছিলেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক সঞ্জয় কুমার মহন্ত এবং জেলা পর্যায়ের সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা।
আরমান কবীরঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বিশাল ‘আখেরি মিছিল’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পৌর উদ্যানে এসে শেষ হয়। মিছিলটির নেতৃত্ব দেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এর আগে বেলা সাড়ে ৩টা থেকেই পৌর উদ্যানে নেতাকর্মীদের জমায়েত শুরু হয়। পরে টুকুর নেতৃত্বে মিছিলটি নিরালা মোড়, মেইন রোড, থানার সামনে, বড় কালিবাড়ি, পুরান বাসস্ট্যান্ড ও রেজিস্ট্রিপাড়া ঘুরে পৌর উদ্যানে এসে শেষ হয়।
মিছিলে জেলা বিএনপি, মহিলা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও তাঁতী দলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো। পুরো আয়োজনকে ঘিরে পুরো শহর উৎসবের নগরে পরিণত হয়।
মিছিলের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সারা টাঙ্গাইলের মানুষ আমাকে যেভাবে সমর্থন দিয়েছেন, তাতে আমি সবার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আজ থেকে আমি আমার এই জীবন টাঙ্গাইল সদরবাসীর জন্য উৎসর্গ করে দিলাম।
তিনি বলেন, আজকের উপস্থিতি প্রমাণ করে টাঙ্গাইলে ধানের শীষের বিকল্প কেউ নেই। টাঙ্গাইলের উন্নয়নের জন্য তিনি যে সাত দফা দাবি উত্থাপন করেছেন, জনগণের ভোটে বিএনপি নির্বাচিত হলে সেগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
টুকু বলেন, ১৪, ১৮ ও ২৪ সালে আমরা ভোট দিতে পারিনি। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াসহ অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমি নিজেও পাঁচ বছরের বেশি সময় কারাগারে থেকেছি, রিমান্ডে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এত শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।
দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, তিনি কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না এবং নিজেও কোনো অন্যায় করবেন না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, ধানের শীষ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতীকই নয়, এটি দেশের মানুষের প্রতীক। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের বিজয় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।