আরমান কবীরঃ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্তলালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা: বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন,শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে শিক্ষার পরিবেশটা আনন্দদায়ক হতে হবে। আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশুর মধ্যে সুপ্ত সম্ভবনাগুলোকে বিকাশ করা। এছাড়াও শিশুকে সুনাগরিক এবং সমাজে দক্ষ নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলা।
এই কাজটি আমরা করব পাঠ্যক্রম ও সহ পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে অথবা উচ্চ পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে।
রবিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল শিল্পকলা একাডেমি ভবনে শিক্ষার গুনগতমান উন্নয়নে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীজনের ভুমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলে।
তিনি বলেন, শিক্ষার পরিবেশটা যেন আনন্দদায়ক হয়। সেটা শিশু পড়ে যেন আনন্দ পায়। একটা শিশুকে স্বপ্ন দেখাতে হবে স্বপ্ন শিখাতে হবে। সে যেন স্বপ্ন দেখতে পারে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে কেন পড়বে তার একটা স্বপ্ন থাকা দরকার। ফলে শিশুকে স্বপ্ন দেখানো টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুকে সব সময়ই আমিও পারি এই সাহসটা জাগ্রত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের প্রশ্ন পড়বে যেটা জানতে পারলাম এতে করে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীসহ সব কিছুরই সমস্যা চিহ্নিত করছি।আগামীতে প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র পাল্টে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি ।
অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্তলালয়ের সচিব আবু তাহের মো:মাসুদ রানা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো: আজমুল হক এবং প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্তলালয়ের মহাপরিচালক আবু নৃর মো,শামসুজ্জামান প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা বৃন্দ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের জামুর্কি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) মো. ওমর আলী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নানা অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃক তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে পাকুল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মস্তমাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) থাকাকালীনও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। তার এই দুর্নীতির প্রতিবাদে ও তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
জানা গেছে, ২০০৭ সালে জামুর্কি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক থাকাকালীন ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে কোচিং করানোর নামে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে আদায় করেন ওমর আলী। তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ওবায়দুল্লাহ বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে তাকে অন্যত্র বদলি ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করার সুপারিশ করেন যাহার স্বারক নাম্বার – উশিঅ/মির্জা/তদন্ত/৪২১। পরবর্তীতে ওমর আলীকে প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পাকুল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। সেখানেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তাকে একই উপজেলার ওয়ারর্শী ইউনিয়নের মস্তমাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়।
পাকুল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকাকালীন ওমর আলী বহিরাগত কিছু লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ে হামলা চালায়। পরবর্তীতে পাকুল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রোমেজ উদ্দীন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সুপারিশ ক্রমে মির্জাপুর থানায় ওমর আলীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেন (যাহার নাম্বার -১৩২৯)।
এছাড়া মস্তমাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বকালীন সময়ে ওমর আলী ২০১৮ সালের আগস্ট মাসের ১০ তারিখে সহকারী শিক্ষক ইকলিমা আক্তার, নুরুল ইসলাম, নৈশপোহরী আমিনুল ইসলামকে ফোন করে বিদ্যালয়ে আসতে বলেন। তারা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে দেখতে পান প্রধান শিক্ষক ওমর আলী বিদ্যালয়ের দৈনিক হাজিরা খাতার দুটি হাজিরা পৃষ্ঠা ছিঁড়ে হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছেন। তারা এর প্রতিবাদ করলে তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দেওয়া হয়। পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহ আলম তদন্ত করে বিষয়টির সত্যতা পেলে প্রধান শিক্ষক ওমর আলীসহ শিক্ষকদয়কে কৈফত তলব করেন। পরে ওমর আলী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তিন বছর ৫ মাস চলার পর বাদির আরজির বক্তব্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হওয়ায় মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। অর্থাৎ মামলায় ওমর আলী হেরে যান। এছাড়া ওমর আলীর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ৩ লক্ষ্য ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের বিষয়টি পরপর দু’জন তদন্ত অফিসারের তদন্তে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় প্রাথমিক জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শাহাবুদ্দিন কর্তৃক বিভাগীয় মামলা দায়ের ও চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় ( যাহার স্বারক নাম্বার -৩৮.০১.৯৩০০.০০০.২৭.০০১.২৫)।
জামুর্কি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য মনিরুজ্জামান মনির, বর্তমান এডহক কমিটির সদস্য মো. খোকন মিয়া, স্থানীয় রায়হান মিয়া জানান, বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) ওমর আলী বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও অনিয়মের সাথে জড়িত। তার কারণে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান অত্যন্ত নিম্নমানের হয়েছে। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে যেতে অনিহা প্রকাশ করছে। আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি ওমর আলীকে সাময়িক বরখাস্ত নয়, প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হোক।
জামুর্কি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক মোঃ ওমর আলী জানান, ইতিমধ্যে আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্ত হয়েছে। আমি তদন্ত কমিটির কাছে যথাযথ প্রমাণ দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয়।
জামুর্কি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি মো. মুছা রাহিম জানান, দরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক ওমর আলীর দুর্নীতির শেষ নেই। এই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে আমি চাই উনি যেন এই বিদ্যালয়ে আর কোন দায়িত্ব পালন না করেন। তাকে যেখানে বদলী করা হয়, সেই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেই আবার অনিয়মের সাথে যুক্ত হয়। তাকে স্থায়ী ভাবে বরখাস্তের দাবি জানাচ্ছি।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহাব উদ্দিন জানান, শিক্ষক ওমর আলীর বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে অনূর্ধ্ব-১৬ বালক কাবাডির প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ন ফাইনালে হুগড়ার হাবিব কাদের উচ্চ বিদ্যালয় ৩৬-৩০ পয়েন্টে বিন্দুবাসিনী সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে অনুর্দ্ধ-১৬ বালকদের কাবাডি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
সদর উপজেলার ৪টি বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতার বাকী দুটি দল হলো বিবেকানন্দ হাইস্কুল এন্ড কলেজ ও শিবনাথ উচ্চ বিদ্যালয়।
প্রতিযোগিতার ১ম সেমিফাইনালে বিন্দুবাসিনী সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় ৪৪- ৭ পয়েন্টে এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনালে হুগড়া হাবিব কাদের উচ্চ বিদ্যালয় ৪২- ১১ পয়েন্টে শিবনাথ উচ্চ বিদ্যালয়কে হারিয়ে ফাইনালে উঠে।
খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার বিতরন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা মোঃ আকতারুজ্জামান।
জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম কাবাডি প্রতিযোগিতার সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়াও কামরুল ইসলাম রনি, কাবাডি আম্পায়ার ও কোচ গোলাম মোস্তফা, বিবেকানন্দ হাইস্কুল এন্ড কলেজর গোলাম মোস্তফা খোকন প্রতিযোগিতা আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইল শহরের মুসলিমপাড়া বায়তুল্লাহ জামে মসজিদ সংযুক্ত ইকরা নূরানী মক্তবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানমালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পৌর এলাকার ১৬নং ওয়ার্ডের মুসলিমপাড়া বায়তুল্লাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে ইকরা নূরানী মক্তবের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানমালা অনুষ্ঠিত হয়।
মক্তব কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে বর্ণাঢ্য ও শিক্ষামূলক। অনুষ্ঠানে মক্তবের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি টাঙ্গাইলের দরিদ্র ও অসহায় শিশুরাও অংশগ্রহণ করেন।
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মুশফিকুর রহমান করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সমাজসেবা অফিসার আবদুর রাজ্জাক।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল শিশুদের কিরাত, হামদ-নাত ও গজল প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুদের আত্মবিশ্বাস ও প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে ধর্মীয় জ্ঞান ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো হয়। প্রতিযোগিতার শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অভিভাবকদের জন্য বিশেষভাবে আয়োজন করা হয় দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে আলোচনা, যাতে তারা সন্তানদের শিক্ষাজীবন ও নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
আয়োজকরা জানান, মক্তব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান ও নৈতিক গঠন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধা মুশফিকুর রহমান করিম বলেন, “শিক্ষা ও নৈতিকতা শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে মূল ভিত্তি। এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে আলোর দিশা প্রদর্শন করছে।”
উল্লেখ্য, ইকরা নূরানী মক্তব একটি মানবিক উদ্যোগ হিসেবে অসহায় শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছে এবং টাঙ্গাইলের সমাজে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং শেখার আগ্রহ গত এক দশকে অনেক বেড়েছে। তরুণ প্রজন্ম বুঝতে শুরু করেছে যে ভবিষ্যতের দুনিয়ায় টিকে থাকার অন্যতম শর্ত হচ্ছে প্রযুক্তি দক্ষতা। মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা সাইবার সিকিউরিটি প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রোগ্রামিং অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, আগ্রহ বাড়লেও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনো কাটেনি। শহরের কিছু শিক্ষার্থী সুযোগ পেলেও গ্রামের অধিকাংশ তরুণ এই প্রতিযোগিতা থেকে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।
বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, উন্নত দেশগুলো প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের কোডিং শেখাচ্ছে। এস্তোনিয়া প্রথম শ্রেণি থেকেই প্রোগ্রামিং শিক্ষা চালু করেছে। চীন শিক্ষার্থীদের জন্য রোবোটিক্স ও এআই ভিত্তিক কারিকুলাম তৈরি করেছে। ভারত সরকার কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে কোডিং শেখানোর জাতীয় পরিকল্পনা নিয়েছে। অথচ বাংলাদেশে স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে এখনো প্রোগ্রামিংকে একটি মৌলিক দক্ষতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে তরুণরা আগ্রহী হলেও সঠিক পথ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে।
শহর ও গ্রামের মধ্যে সুযোগের বৈষম্যও এখানে বড় বাধা। ঢাকাসহ বড় শহরে কিছু আইটি ট্রেনিং সেন্টার, বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ল্যাব কিংবা কো-ওয়ার্কিং স্পেস আছে। কিন্তু গ্রামের শিক্ষার্থীরা পুরনো কম্পিউটার, ধীরগতির ইন্টারনেট এবং সীমিত শিক্ষকের উপর নির্ভর করছে। অনেকে ইউটিউব বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে শিখতে চেষ্টা করে, কিন্তু ইংরেজি দুর্বলতা ও লজিক্যাল চিন্তার অভাবে বেশিরভাগই মাঝপথে থেমে যায়। এর ফলে শেখার আগ্রহ থাকলেও সেটি পূর্ণতা পায় না।
অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুতগতির ইন্টারনেট এখনও সবার কাছে পৌঁছেনি। অনেক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত কম্পিউটার নেই, আর যারা আছে তাদের ডিভাইসগুলো বেশিরভাগ সময় পুরনো এবং ধীরগতির। ফলে সফটওয়্যার ইন্সটল করা, কোড রান করা বা অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়ার মতো মৌলিক কাজগুলো করতে গিয়েই তারা সমস্যায় পড়ে। একদিকে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকতার অভাব, অন্যদিকে প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের স্বল্পতা এই দ্বৈত সংকটে মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশের বিশাল একটি অংশ।
বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং শেখার পেছনে প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। তরুণরা বিশ্বাস করে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত আয় করা সম্ভব, তাই তারা এই দিকেই ঝুঁকছে। নিঃসন্দেহে এতে আর্থিক উপার্জন হচ্ছে, অনেকেই বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। কিন্তু এর বাইরে গবেষণা, উদ্ভাবন কিংবা নতুন প্রযুক্তি তৈরি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে। যখন ভারত, চীন কিংবা ভিয়েতনাম নিজেদের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করছে, তখন আমরা আউটসোর্সিংয়ের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছি।
তবে সম্ভাবনা কম নয়। বাংলাদেশ যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়, তবে তরুণদের এই আগ্রহকে জাতীয় শক্তিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে প্রোগ্রামিংকে আধুনিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ইংরেজি দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাতৃভাষায় মানসম্পন্ন কনটেন্ট তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজে বুঝতে পারে। গ্রাম পর্যন্ত দ্রুত ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে হবে এবং সাশ্রয়ী দামে কম্পিউটার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গবেষণা, স্টার্টআপ কালচার এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং শেখার আগ্রহ যেমন বাড়ছে, বাস্তবতার চ্যালেঞ্জও তেমনি বড়। যদি আমরা সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে বাংলাদেশ শুধু ফ্রিল্যান্সিংয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। এটাই হতে পারে ডিজিটাল বাংলাদেশের পরবর্তী বড় অর্জন।
লেখক – সামির তালুকদার
বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে রেজিস্ট্রার ড. মোহা. তৌহিদুল ইসলামকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক নোটিশে সাময়িক অব্যাহতির এই নির্দেশ জানানো হয়। সেই সঙ্গে আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজজাদ ওয়াহিদকে অস্থায়ীভাবে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শিক্ষার্থীরা জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের বিরোধিতাকারী রেজিস্ট্রার ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিচারের দাবিতে রেজিস্ট্রার অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় তারা উপাচার্যের কাছে দুই দফা দাবি উত্থাপন করেন।
তাদের দাবি গুলো হলো—বিচার কমিটি গঠন না হওয়া ও রেজিস্ট্রারকে সাময়িক অব্যাহতি না দেওয়া পর্যন্ত রেজিস্ট্রার অফিস তালাবদ্ধ রাখা এবং ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাভাবিপ্রবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (মাকসু) গঠনের রোডম্যাপ প্রকাশ।
পরবর্তীতে আরেকদল শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দিলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এবং বুধবার আবারও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এতে দুপক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে শর্তসাপেক্ষে তালা খুলে দেন শিক্ষার্থীরা।
আরমান কবীরঃ দুই দফা দাবি আদায়ে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার(২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রেজিস্ট্রারকে তার কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে তালা দেওয়া হয়। পরে উপাচার্যের কাছে দাবি উপস্থাপন করে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো—২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতাকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও রেজিস্ট্রারের বিচারের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন এবং বুধবার সকালের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ গঠনের রূপরেখা ঘোষণা করা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের বলেন, গণ-আন্দোলনের সময় ‘স্বৈরাচারের সহযোগী’ হিসেবে ভূমিকা রাখা শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিচারের দাবিতে তারা দুইবার রেজিস্ট্রারের দপ্তরে আবেদন জমা দিয়েছেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের অভিযোগ, উল্টো কিছু শিক্ষক অভিযুক্তদের আশ্রয় দিচ্ছেন। চার দিন আগে অভিযুক্তদের বিচার ও সাময়িক বরখাস্তের জন্য কমিটি গঠনে তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা পার হওয়ার পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা এই কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
এবিষয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী তুষার আহমেদ বলেন, আমরা পরপর দুইবার রেজিস্ট্রার অফিসে স্বৈরাচারের দোসর শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিচারের জন্য আবেদন জমা দিয়েছিলাম। তারপরও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি। এমনকি কিছু শিক্ষক তাদেরকে শেল্টারও দিচ্ছেন। আমরা চার দিন আগে রেজিস্ট্রারকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিচারের জন্য কমিটি গঠনের ৩দিন সময় বেঁধে দিয়ে আসার পরও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এইজন্য আমাদের এই কর্মসূচি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজিম আখন্দ সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ করলেও অন্য একটি অংশ প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত করার পক্ষে নয়।
উপাচার্য আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল, ছাত্রশিবির সহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টারের রুমের দরজার তালা খুলে দিয়েছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক সারোয়ার হোসেনকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
শনিবার (৯ আগষ্ট ) রাতে সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের বানিয়াবাড়ি গ্রামের ‘মাদ্রাসা ক্বাসিমুল উলূম’ প্রতিষ্ঠানের অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় ওই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক সারোয়ার হোসেন সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের বানিয়াবাড়ি গ্রামের ‘মাদ্রাসা ক্বাসিমুল উলূম’ নামক প্রতিষ্ঠানের হেফজ বিভাগের এক ছাত্রকে (১৩) জোরপূর্বক বলাৎকার করেছেন। বৃহস্পতিবার( ৭ আগষ্ট) রাত আনুমানিক ১০ টায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শুক্রবার (৮ আগষ্ট) সকালে পরিবারকে বিষয়টি জানালে শনিবার রাতে তারা অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক সানোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার রাতে ড্রাগন ফল খাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে মাদ্রাসার ভিতর ডেকে নেয় ও তার সাথে রাত্রিযাপন করতে বলে। রুমের বাতি বন্ধ করে তার হাত পা টিপে দিতে বলে। এক পর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে বলৎকার করে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক সানোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক অপরাধ স্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা করানো হবে। এ বিষয়ে শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত আইনে মামলা রজ্জু করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে স্থানীয় কুরুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্ণমালা শিক্ষা বৃত্তি ফাউন্ডেশন কর্তৃক এই শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন সেবা এনজিওর আশুলিয়া শাখার ব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম।
বর্ণমালা শিক্ষা বৃত্তি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও দৈনিক যুগধারা পত্রিকার সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথা সাহিত্যিক ও কালিহাতী উপজেলা বিএনপি’র সহ-দপ্তর সম্পাদক হামিদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষানুরাগী নাজিমউদ্দীন তালুকদার, সাবেক প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান, শ্রীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম, জয়নাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় লাইব্রেরীতে সাত শিক্ষার্থীর গোপনে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৫ম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে বেসরকারি লিটন একাডেমির ওই সাত শিক্ষার্থীকে সম্প্রতি ভর্তি করাসহ প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা।
বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২ টায় বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী কক্ষে ওই সাত শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেওয়াসহ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জড়িত শিক্ষকদের বদলী ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকসহ সুধীজনেরা।
জানা যায়, ১৯৬৭ সালে টাঙ্গাইল পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের পাড়দিঘুলিয়া মৌজায় স্থাপিত হয় মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টির মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা-৭৯০। এর মধ্যে বালক-৪০৬ আর বালিক ৩৮৪। এছাড়া পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সংখ্যা-২১০। এর মধ্যে বালক-১২৪ আর বালিকা-৮৪। ২০১০ সালের ১ জুলাই থেকে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন তসলিমা জাহান।
নিয়ম বর্হিঃভুত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন, আরাধ্যা শীল, খন্দকার আফসানা হেরা, জাকিয়া তাবাসুম বুশরা, সাবিহা বিনতে শামীম, সৈয়দ আনানূর, আয়শা সিদ্দিকা মুন, রনিত বসাক অর্পণ ও কুঞ্জ রায়।
বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মন্ত্রণালয় নির্দেশিত ওই সাত শিক্ষার্থীর শিখন অবস্থান যাচাই করা হচ্ছিল বলে শিক্ষকরা দাবি করলেও শিক্ষার্থীদের শিখন অবস্থান যাচাইয়ের কোন খাতা দেখাতে পারেননি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও লিটন একাডেমির ৫ম শ্রেণীর উপস্থিতি খাতায় বিদ্যালয়ের গোপন ওই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থীর নাম পাওয়া গেছে।
সরকারি নিয়মানুযায়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সর্বশেষ ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভর্তির সুযোগ থাকলেও এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে সম্প্রতি ওই সাত শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।
সরেজমিনে অভিভাবকদের তোলা অবৈধভাবে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় চলমান ওই পরীক্ষার ভিডিও ও ছবি ধারণ করেন এই সংবাদের প্রতিবেদকসহ উপস্থিত সংবাদকর্মীরা।
কোচিং শিক্ষার্থীদের গোপনে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় অভিভাবক ও সংবাদকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ দরজা বন্ধ করে দেন সহকারি শিক্ষক আফরোজা আক্তার ও লায়লা সিদ্দিকী। কৌশলে পরীক্ষার খাতা সরিয়ে ওই শিক্ষার্থীদের গল্পের বই পরতে দেন তারা।
গত ১৭ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে আগামী ২২ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃত্তি পরীক্ষায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকার সর্বশেষ তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে বলে জানানো হয়েছে।
ইতোমধ্যে টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক বিদ্যালয়ে বৃত্তি পরীক্ষায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা টাঙ্গিয়ে দেওয়া হলেও প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
প্রথম সাময়িক পরীক্ষার মূল্যায়নের ভিত্তিতে অধ্যায়নরত ৫ম শ্রেণীর ৪০ভাগ বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে বলে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ২১,২২,২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃত্তি প্রাপ্তির সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য কোচিং সেন্টারে অধ্যায়নরত ওই সাত শিক্ষার্থীকে গোপনে ভর্তি করানোসহ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার লাইব্রেরী কক্ষে গোপনে মে মাসে শেষ হওয়া প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নিচ্ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তসলিমা জাহান, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সদর উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসাইন। এ সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সহকারি শিক্ষক আফরোজা আক্তার, লায়লা সিদ্দিকী আর স্বপন কুমারকে পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
টানা পনের বছর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতি বছরই অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে আর বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে বেসরকারি কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তসলিমা জাহান বলেও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগি অভিভাবকরা।
গোপনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ না হলে এবারও বিদ্যালয়টিতে অধ্যায়নরত বেশ কিছু শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হত। এখনও কেন নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা টাঙ্গানো হয়নি এমন প্রশ্ন তোলাসহ গোপনে পরীক্ষা নেওয়া কোচিং শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত শিক্ষার্থী তালিকায় তোলার শঙ্কা দেখছেন অভিভাবকরা। বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সুযোগ বঞ্চিত করা সকল শিক্ষকের অন্যত্র বদলীসহ জড়িত সকলের কঠোর বিচার দাবি করেছেন তারা।

অভিভাবক কানিজের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধির অপচেষ্টায় বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরতদের বাদ দিয়ে কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীদের সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছেন। ওই সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা সুবিধা ভোগ করছেন তারা। তাদের যোগসাজসে প্রতিবছরই বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা বৃত্তি দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বুধবার (৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টায় বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী কক্ষে কোচিংয়ের সাত শিক্ষার্থীর গোপনে মে মাসে শেষ হয়ে যাওয়া প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। আমিসহ সাংবাদিকরা পরীক্ষা চলাকালীন লাইব্রেরী কক্ষে প্রবেশ করি। শিক্ষার্থী আমাদের কাছে পরীক্ষা দেওয়ার কথা স্বীকার করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দায়িত্বরত সহকারি শিক্ষক আফরোজা আক্তার ও লায়লা সিদ্দিকী। তারা আমাদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন ও লাইব্রেরী কক্ষ বন্ধ করে দেন। আমার মেয়েও পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী, তাদের এই অনৈতিক চেষ্টায় আমার মেয়েটি বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ পাবে কি? এ নিয়ে চরম শঙ্কায় আছি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নষ্টকারী শিক্ষকদের শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারি শিক্ষক আফরোজা আক্তার ও লায়লা সিদ্দিকী।
লিটন একাডেমির পরিচালক লিটন রাহা বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করাই। কোন শিক্ষার্থী কোন স্কুলে ভর্তি আছে বা হবে সেটি আমার কাজ না।
বুধবার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গোপনে নেওয়া পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের অধিকাংশের নাম আপনার পঞ্চম শ্রেণীর উপস্থিতি তালিকায় কিভাবে আসলো এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এক নামে একাধিক জন থাকতেই পারে। মডেলের গোপন পরীক্ষার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমার একাডেমির খ্যাতি দেখে আমার বিরুদ্ধে এখন অনেকেই ষড়যন্ত্র করছে বলেও জানান তিনি।
মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তসলিম জাহান বলেন, বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছাত্রীর অভিভাবক কানিজ বৃত্তি তালিকায় তার মেয়ের নাম দেওয়া হবেনা এমন শঙ্কা থেকে সাংবাদিকদের অভিযোগ করেছেন।
শ্রেণী কক্ষ থাকতে কেন লাইব্রেরীতে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার কারণে লাইব্রেরী কক্ষে নিয়ে ওই সাত শিক্ষার্থীর শিখন অবস্থান যাচাইয়ের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন শ্রেণী শিক্ষক লায়লা। কানিজ সেটিকে ওই শিক্ষার্থীদের গোপনে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রচার করছে। সাংবাদিকদের দেখে কেন ওই শিক্ষার্থীদের শিখন অবস্থান যাচাই পরীক্ষার খাতা সরিয়ে গল্পের বই পরতে দেওয়া হয় এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। এছাড়াও ওই শিক্ষার্থীদের শিখন যাচাইয়ের খাতা দেখতে চাওয়া হলে সেটি দেখাতে পারেননি তিনি। এবার বিদ্যালয় থেকে ৮৫ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মোজাহারুল বলেন, প্রধান শিক্ষকের ফোন পেয়ে তিনি এসেছেন। পরীক্ষার বিষয়টি জানতেন না তিনি। তবে বিতর্কিত ওই সাত শিক্ষার্থীর নাম বৃত্তি তালিকায় যাবেনা বলে আমাকে কথা দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক তসলিমা জাহান।
বুধবার বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে তাকে কিছু বলা হয়নি বলে জানান সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. আলমগীর হোসাইন। তাহলে কর্মস্থল ছেড়ে বিদ্যালয়ে কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক ফোন দিয়ে বিদ্যালয়ে সাংবাদিকরা এসেছে বলে জানানোর কারণেই তার আসা। অভিযোগের বিষয় যাচাই বাছাই করার আশ্বাস দেন তিনি।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো.শামসুজ্জামান বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে গুরুত্বের সাথে বিষয়টি দেখতে বলা হবে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের এনায়েতপুরস্থ হযরত ফাতেমা (রা.) মাদ্রাসার হিফজ শাখার এক শিশু শিক্ষার্থীকে (১০) যৌন নিগ্রহের অভিযোগে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ওবায়দুল্লাহ (২৫) ও তার বড় ভাই ওই মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদুল্লাহকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ডের এনায়েতপুর (বৈল্যা) থেকে ওই মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদুল্লাহকে ও বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে অভিযুক্ত শিক্ষক ওবায়দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা যায়, শহরের এনায়েতপুর (বৈল্যা) পালপাড়ার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদুল্লাহ ধুলেরচর মাদ্রাসার পাশে হযরত ফাতেমা (রা.) মহিলা মাদ্রাসা নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করে পরিচালক হিসেবে চালাচ্ছিল। পরে তার ছোট ভাই ওবায়দুল্লাহকে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তিনি নানা অজুহাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া, অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া ইত্যাদি অপকর্ম করে আসছিলেন।
গত ২৭ জুলাই আবাসিকে থেকে মাদ্রাসার হিফজ শ্রেণির এক ছাত্রীকে নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে ‘জিনের’ ভয় দেখিয়ে চোখ বেঁধে পড়নের কাপড় খুলে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ সহ যৌন নিগ্রহের চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে ওই শিশু শিক্ষার্থী পালিয়ে কক্ষ থেকে দৌঁড়ে বেড়িয়ে গিয়ে নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করে। পরে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে তার মাকে ঘটনা খুলে বলে। তার মা স্থানীয় মাতব্বরদের সঙ্গে পরামর্শ করে মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদুল্লার কাছে বিচার চান। পরিচালক মাদ্রাসার ওই শিক্ষক তার ভাই হওয়ায় এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ায় স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) মাদ্রাসার পরিচালকের কাছে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চায়।
এ সময় পরিচালক মোহাম্মদুল্লাহ তার ভাই ওবায়দুল্লাহকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে বলেন, শিক্ষক ওবায়দুল্লাহ পালিয়ে গেছে, সে যদি অপরাধী হয়ে থাকে আইন তাকে শাস্তি দিবে- আপনারা থানায় যান।
এ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোহাম্মদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। পরে ওই শিশুশিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (নং-৮, তাং-৬/৮/২০২৫ইং) দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার পর বুধবার বিকালে পুলিশ মাদ্রাসার শিক্ষক ওবায়দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে।
এলাকাবাসী জানায়, হযরত ফাতেমা (রা.) মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক ওবায়দুল্লাহ মাদ্রাসার ওয়াশরুমে ক্যামেরা লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের নগ্ন ভিডিও ধারণ করে ‘জিনের’ ভয় দেখিয়ে অনৈতিক অপকর্ম করে। ইতোপূর্বে ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থীকে তিনি শিকার বানিয়েছেন। মাদ্রাসার পরিচালকের কাছে অভিযোগ করা হলে মোহাম্মদুল্লাহ সব ক্ষেত্রেই ঘটনা ধামাচাপা দেন। হিফজ শ্রেণির শিক্ষার্থীর ঘটনাটিও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। শিক্ষার্থীর বুদ্ধিমত্তা ও অভিভাকদের সচেতনতায় এবার তিনি সফল হতে পারেনি। এলাকাবাসী শিক্ষা প্রতিষ্ঠনটির পরিচালক ও তার লম্পট ভাইয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
যৌন নিগ্রহের শিকার শিশু শিক্ষার্থীর মা ও মামলার বাদী জানান, লম্পট শিক্ষক ওবায়দুল্লাহ ইতোপূর্বেও এ ধরণের কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছে। কোনটিরই বিচার হয়নি। শাস্তি না হওয়ায় সাহসী হয়ে তার শিশুকন্যাকে তার লালসার শিকার বানিয়েছে। তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহাম্মেদ জানান, মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিগ্রহ করার চেষ্টার অভিযোগে তার মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদুল্লাহ ও তার ভাই ওবায়দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে সম্মিলনের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে ওই সম্মিলনে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক আল-আমিন, সদস্য সচিব আবু আহমেদ শেরশাহ, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ফাতেমা রহমান বীথি সহ আহত ও শহীদদের পরিবারের সদস্যরা।
আলোচনার এক পর্যায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং শুরুতে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জুলাই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
এসময় জেলার জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ও শহর বিএনপি’র আয়োজনে বিজয় র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজামিল শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।
সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. আজগর আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল শহর বিএনপি’র সভাপতি মেহেদী হাসান আলীম।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, সদর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রউফ।
এরআগে একটি বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অনুষ্ঠানে জেলা-উপজেলা ও শহর বিএনপি’র বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নেতাকর্মী অংশ নেয়।

দিনটি উপলক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে একাডেমিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মঙ্গলবার দুপুর দেড় টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
বিকাল সাড়ে ৫টায় মুক্তমঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংগীত, কবিতা ও নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে গণআন্দোলনের চেতনা তুলে ধরেন।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়।