/ হোম / নাগরপুর
টাঙ্গাইলে বিএনপি’র মনোনয়ন বঞ্চিতদের মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিএনপি’র মনোনয়ন বঞ্চিতদের মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আরমান কবীরঃ বিএনপি’র দলীয় মনোনয়নেকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কতিপয় মনোনয়ন বঞ্চিতদের মিথ্যা ভিত্তিহীন বানোয়াট সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সন্মেলন করেছে টাঙ্গাইল -৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রবিউল আউয়াল লাভলু।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে নাগরপুরে তার নিজ বাসভবনে এই সংবাদ সন্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, আমি টাঙ্গাইল -৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে একটি গোষ্ঠী আমার মনোনয়ন বাতিলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি জানান, ১৯৮৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করি। ছাত্রদলের রাজনীতিতে অংশগ্রহন করে ছাত্রদলকে সু-প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে নিজের জীবন বাজী রেখে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি। তারই ফলশ্রুতিতে ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আমাকে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মহসিন হল শাখায় ক্রীড়া সম্পাদক মনোনয়ন প্রদান করলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হই। ৯০ এর স্বৈরাচার এরশাদ পতনের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হই। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে আমাকে আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিএসএফ হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করি। ২০০৯ সালে নাগরপুর উপজেলা বিএনপি’র সম্মানিত সদ্য ও ২০১০ সালে ঢাকা মহানগর বিএনপি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হই। ২০১১ সালে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও ২০২০ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে সহ-সভাপতি পদ লাভ করি। ২০২২ সালে নাগরপুর উপজেলা বিএনপি কমিটি গঠন হলে আমাকে সম্মানিত সদস্য নির্বাচিত করা হয়। ২০০৭ সাল থেকে নাগরপুরে বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহনের মাধ্যমে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রার্থনা করে মনোনয়ন বঞ্চিত হই। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রার্থী হয়ে আবারও মনোনয়ন বঞ্চিত হই। এডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী মনোনয়ন লাভ করেন। দলীয় নির্দেশনায় ও গৌতম চক্রবর্তীর আহবানে আমি দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করতে গিয়ে আমাকে আমার বাড়ী হতে ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশ দ্বারা গ্রেপ্তার হই এবং আমাকে পুলিশ থানা হাজতে নিয়ে যায়। অধ্যবধি পর্যন্ত নাগরপুর ও দেলদুয়ারের বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতৃত্বের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থেকে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, মনোনয়ন ঘোষনার পর আমাকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য নাগরপুর-দেলদুয়ারের দলীয় নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার সাধারণ জনতার ঢল নেমে আসে। পরবর্তীতে নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপি ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলাদল, কৃষকদল, ওলামা দল, তাতীদল, মৎসজীবীদল সহ সকল অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতা কর্মীরা ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে প্রচার প্রচারনা ত্বরান্বিত করার লক্ষে স্ব-স্ব ইউনিটের সাথে মত বিনিময় অব্যাহত আছে। আমার এহেন কর্মকান্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে মনোনয়ন বঞ্চিত কতিপয় কিছু স্বার্থোন্বেষী মহল বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে মিথ্য বানোয়াট ভুল তথ্য উপস্থাপন করে আমাকে ও আমার দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে নাগরপুর উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আহমেদ আলী রানা, তোফায়েল আহমেদ বাসেদ, যুগ্ম-সম্পাদক ফারুক আহমেদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিজ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল রানাসহ নাগরপুর উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. নভেম্বর ২০২৫ ০২:২৬:এএম ২ মাস আগে
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন আর নেই - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন আর নেই

আরমান কবীরঃ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন মৃত্যুবরণ করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া-ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সোমবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল আলম জানান, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে হামিদুল হক মোহনকে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে আমরা দ্রুত তার ইসিজি করি। ইসিজি রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যায় তিনি পথিমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও তিন কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

হামিদুল হক মোহনের জ্যেষ্ঠ পুত্র নাজমুল হক মিল্টন জানান, সোমবার বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেলদুয়ার উপজেলার দেউলি ইউনিয়নের দেউলি গ্রামে লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণা শেষে বাদ মাগরিব টাঙ্গাইল শহরের কলেজ পাড়ার নিজ বাসভবনে ফেরার পথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন হামিদুল হক মোহন। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বাদ যোহর হামিদুল হক মোহনের নামাজে জানাজা টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

বিএনপি’র এই প্রবীণ রাজনীতিবিদদের মৃত্যুতে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, হামিদুল হক মোহন ৮ আগস্ট ১৯৫২ সালে টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের মঙ্গলহোড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আইনউদ্দিন আহমেদ ছিলেন পাথরাইল ইউনিয়ন পরিষদের দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান ছিলেন। হামিদুল হক মোহনের শিক্ষাজীবন শুরু টাঙ্গাইল শহরে, পরে বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও জামুর্কী নবাব স্যার আব্দুল গণি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি (১৯৬৫), এইচএসসি (১৯৬৬) ও স্নাতক (১৯৬৮) সালে সম্পন্ন করেন সা’দত কলেজ থেকে। মাওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে তিনি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আহ্বানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগদান করেন। তিনি দীর্ঘদিন জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. অক্টোবর ২০২৫ ০৪:৪২:এএম ৩ মাস আগে
টাঙ্গাইলে অবৈধ সীসা কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে অবৈধ সীসা কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে পুরাতন ব্যাটারি থেকে সীসা উৎপাদনকারী দু’টি অবৈধ কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের বীর সলিল এলাকায় (এলসিন ব্রিজ সংলগ্ন) এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন, নাগরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ ভৌমিক।

অভিযানকালে একটি অবৈধ কারখানা সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং অপর একটি কারখানায় তালা ঝুলিয়ে সীলগালা করে দেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর মো. মাসুদ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিপ্রব কুমার সূর্যসেন উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পরিচালিত এই অভিযানে সেনাবাহিনীর একটি দল সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ ভৌমিক জানান, পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ও অননুমোদিত কারখানার বিরুদ্ধে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১. অগাস্ট ২০২৫ ০২:০৪:এএম ৬ মাস আগে
যুক্তরাষ্ট্র ফেরত টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

যুক্তরাষ্ট্র ফেরত টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক তারেক শামস খান হিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৪ জুলাই) ভোরে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নাগরপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত তারেক শামস খান হিমু নাগরপুর উপজেলার তেবারিয়া গ্রামের মৃত হুমায়ন খানের ছেলে। তিনি ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ঈগল’ প্রতীক নিয়ে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন।

নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তার নামে নাগরপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক থাকার পর সোমবার ভোরে দেশে ফিরলে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে নাগরপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে নাগরপুর থানা পুলিশের একটি দল তাকে থানায় নিয়ে আসে।

তিনি আরও জানান, নাগরপুর থানা পুলিশ সোমবার বেলা ৩টার দিকে তারেক শামস হিমুকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করেছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. জুলাই ২০২৫ ০১:২১:এএম ৬ মাস আগে
টাঙ্গাইলে আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ কাজে গাফিলতি, জনদুর্ভোগ চরমে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ কাজে গাফিলতি, জনদুর্ভোগ চরমে

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদারের কাজের গাফিলতিতে নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ কাজ। দীর্ঘ প্রায় তিন বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় এই সড়ক ব্যবহারকারী কয়েক লাখ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে এই বর্ষায় এই রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই সড়ক ব্যবহারকারী জনসাধারণের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রহস্যজনক কারণে ঠিকাদার কাজ শেষ করছেন না।

টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল অংশে টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণের আওতায় ২৪.৬৫০ কি.মি. অংশে রিজিড প্রেভমেন্ট ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ। এতে টাঙ্গাইল অংশে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয় ২শত ৯৪ কোটি ৬০ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা।

প্রকল্পের কাজ পায় আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ও এনডিই নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালের ৩০ জুন ৫টি প্যাকেজের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দীর্ঘ সময় প্যাকেজ ১ ও প্যাকেজ ২ এর কাজ স্থবির হয়ে পড়ে।

তবে আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ ৫ এর অন্তর্ভুক্ত ২টি ব্রীজ ও ২টি কালভার্টের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বাকি দুটি প্যাকেজ ৩ ও ৪ এ কাজ করছে এনডিই নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এরমধ্যে আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ ১ এ ৬ কি.মি. এর বিপরীতে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয়েছে ৬৭ কোটি ৮৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন করেছে মাত্র ৮.৭৫ শতাংশ। এর বিপরীতে বিল উত্তোলন করেছে ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

প্যাকেজ ২ এ ৬ কি.মি. এর বিপরীতে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয়েছে ৬৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন করেছে ২৯.৭৭ শতাংশ। এর বিপরীতে বিল উত্তোলন করা হয়েছে ১৯ কোটি ৮১ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

প্যাকেজ ৫-এর ২টি ব্রীজ ও ২টি কালভার্টের বিপরীতে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয়েছে ৪৪ কোটি ১৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন করেছে মাত্র ২.২১ শতাংশ। এর বিপরীতে বিল উত্তোলন করেছে ৯৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় শেষ করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন, আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। সময় বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে কোন আবেদন জমা করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি।

তবে এনডিই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ২টি প্যাকেজর মধ্যে একটির ৩-এর ৯২ শতাংশ কাজ শেষ করেছে। বাকি প্যাকেজ ৪-এর ৬৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বেশিরভাগ অংশে খানাখন্দসহ বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

এই নির্মানাধীন সড়কে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আব্দুর রহমান বলেন, সড়কের এমন অবস্থা একটু বৃষ্টি হলেই যাওয়ার উপায় নেই। না যায় হাটা না চালানো যায় রিকশা। যে টাকা আয় করি তার বেশিরভাগই রিকশা মেরামত করতেই খরচ হয়ে যায় ।

মোটরসাইকেল আরোহী ইকবাল কবীর বলেন, উন্নয়নের নামে ভোগান্তি শুরু হয়েছে। কষ্ট লাঘবের জন্য সড়কের উন্নয়ন অথচ কষ্ট আরো বেড়ে গেছে। লাভ হলো কি?

স্থানীয় বাসিন্দা আনিসুল হক বলেন, আওয়ামী লীগের দোসররা তো নাই। তাহলে ভোগান্তি লাঘব হচ্ছে না কেন? এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তদন্ত করার জোর দাবি জানান তিনি।

আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নমিনেটেড সাব ঠিকাদারের প্রজেক্ট ম্যানেজার আব্দুল মান্নান বলেন, আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রথমে যে সাব ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ শুরু করে তাদের অপারগতায় দীর্ঘদিন কাজ স্থবির হয়ে পড়ে। পরে আমরা উক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নমিনেটেড সাব ঠিকাদার হিসেবে কাজ শুরু করি।

তিনি আরও বলেন, ব্রিজ নির্মাণের সময় আছে। নির্দিষ্ট সময়েই তা শেষ হবে বলে আশা করছি। রাস্তার কাজ শেষ করতে ব্যাংক জটিলতা দেখা দিয়েছে। একারনে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। আশা করছি আমাদের প্রতিষ্ঠান খুবশীঘ্রই ব্যাংক জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারবে । তাছাড়া নকশায় রাস্তা অন্তর্ভুক্ত জমির মালিকগণ তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বিলম্ব করা ও জমি অধিগ্রহনের টাকা পরিশোধ না করায় কাজের গতি ধীর হয়েছে। তবে শীঘ্রই এইসব সমস্যা সমাধান পূর্বক প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মোল্লা বলেন, আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ (প্যাকেজ ১, প্যাকেজ ২ ও প্যাকেজ ৫) গাফিলতির কারনে গত কয়েক মাস যাবত কাজটি শেষ করার কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, দাপ্তরিক তাগিদ ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মহাদয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। তবুও কাজটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কাজের চুক্তির সাথে নিরাপত্তা জামানতের মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নতুন নিরাপত্তা জামানত দাখিল না করায় সময় বৃদ্ধির আবেদন গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয়কে গত ৫ জানুয়ারী এ বিষয়ে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান বলেন, গত বছরই ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাদেরকে গত ৪ মার্চ সড়ক বিভাগ টাঙ্গাইল, ১০ মার্চ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মহোদয় ও পিপিআর ২০০৮ মোতাবেক চুক্তি বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশসহ একাধিক নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ২৩ জুন স্টিয়ারিং কমিটির সভায় ওই সড়কের বিষয়ে সচিব মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে টার্মিনেশন করা হবে। পরবর্তীতে তাদের লাইন্সেস হ্যাম্পার করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. জুলাই ২০২৫ ০২:১৯:এএম ৬ মাস আগে
সাবেক প্রতিমন্ত্রী টিটুর কথিত দেহরক্ষী গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

সাবেক প্রতিমন্ত্রী টিটুর কথিত দেহরক্ষী গ্রেপ্তার

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুর কথিত দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিত ইয়াকুব ওরফে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করেছে দেলদুয়ার থানা পুলিশ।

সোমবার (২৩ জুন) দিবাগত গভীর রাতে সদর উপজেলার সিলিমপুর ইউনিয়নের সিলিমপুর পেট্রোল পাম্পের কাছের একটি বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদরসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

অত্যন্ত দুর্ধর্ষ ইয়াকুব ওরফে সিয়ামকে দিয়ে সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু নির্বাচনের সময় প্রতিপক্ষের উপর সংঘঠিত হামলাগুলো পরিচালনা করাতেন।

ফ্যসিস্ট আওয়ামী লীগ শাসনামলে সিয়ামের নেতৃত্বে দেলদুয়ার উপজেলায় একটি শক্তিশালী মাদকের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে একাধিকবার আটক হলেও সাবেক প্রতিমন্ত্রী টিটুর সুপারিশে প্রতিবারই পার পেয়ে যায় সিয়াম।

গত বছরের ৫ আগস্টের পর সে সম্ভাব্য গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিল।

এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেব খান বলেন, নানা অপকর্মের হোতা ইয়াকুব ওরফে সিয়ামকে গভীর রাতে সিলিমপুর ইউনিয়নের পেট্রোল পাম্পের কাছের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিয়মিত মামলায় মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে তাকে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. জুন ২০২৫ ০১:৪৪:এএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইলে হত্যা মামলার ৩ আসামি গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে হত্যা মামলার ৩ আসামি গ্রেপ্তার

সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে হত্যা মামলার পলাতক ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার বটতলা দিঘীরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (১৮ জুন) সকালে র‌্যাব-১৪, সিপিসি-৩ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের সুদামপাড়া গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মান্নান (৪৫), একই এলাকার আব্দুল মান্নানের স্ত্রী আকলিমা বেগম (৩৫) ও রাবেয়া বেগম (৪৫)।

র‌্যাব-১৪, সিপিসি-৩ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, নিহত আব্দুর জব্বার মিয়ার (৭০) সাথে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের  দীর্ঘদিন যাবত জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার (১৯ মে) জেলার নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের সুদামপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে নিহত জব্বার মিয়ার সাথে আসামিদের কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আব্দুল মান্নান, আকলিমা বেগম ও রাবেয়া বেগম নিহত জব্বার মিয়া ও তার ও পরিবারের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এঘটনায় আব্দুর জব্বার গুরুত্বর আহত হয়। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে সোমবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ঘটনার পর নিহতের ছেলের বউ পলী আক্তার (৩০) বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নাগরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. জুন ২০২৫ ০৪:০৬:এএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইলে এলজিইডির ৪ প্রকৌশলী ও ২ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে এলজিইডির ৪ প্রকৌশলী ও ২ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় দুটি রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চার প্রকৌশলী এবং দুই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রবিবার (২৭ এপ্রিল) টাঙ্গাইল জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. বাসেদ আলী টাঙ্গাইলের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা দুটি দায়ের করেন। দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে।

একটি মামলার আসামিরা হলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফ্রেন্ডস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী শহীদুর রহমান খান, এলজিইডির টাঙ্গাইলের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্তমানে এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ের মনিটরিং ও মূল্যায়ন শাখায় কর্মরত) রফিকুল ইসলাম, নাগরপুরের সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান (বর্তমানে বিদেশে শিক্ষা ছুটিতে), একই উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম খান এবং মাইনুল হক (বর্তমানে ঘাটাইলে কর্মরত)।

অপর মামলায় আসামি করা হয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সৈয়দ মজিবর রহমানের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ মজিবর রহমান এবং এলজিইডির টাঙ্গাইলের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, নাগরপুরের সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম খানকে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ রিজিওনাল রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এমআরআরআইডিপি) প্রকল্পের আওতায় নাগরপুরের তেবাড়িয়া জিসি-দপ্তিয়র ইউপিসি অফিস সড়কে বিসি দ্বারা উন্নয়ন কাজে ডাব্লিউবিএম ও সাববেইজের ৬ লাখ ৫১ হাজার ৫০৯ টাকার কাজ কম করা হয়। এছাড়া, ৭৫ মিটার সড়কের কোনো কাজ না করেই ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৩৬ টাকা অর্থাৎ মোট ১০ লাখ ৯ হাজার ৫৪৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। একই রাস্তায় প্রাইম কোট এবং ২৫ এমএম থিক কমপ্যাকটেড ডেন্স কার্পেটিংয়ের কোনো কাজ না করেই পরস্পর যোগসাজশে ৩১ লাখ ১ হাজার ৫৯১ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অপরদিকে, এমআরআরআইডিপি প্রকল্পের আওতায় নাগরপুরের সিংজোড়া-গয়হাটা (ভাররা জিসি-সলিমাবাদ আরডিএস ভায়া গয়হাটা ইউপি) ১১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কে বিসি সার্ফেস উন্নয়ন কাজে প্রাইম কোট এবং ২৫ এমএম থিক কমপ্যাকটেড ডেন্স কার্পেটিংয়ের কোনো কাজ না করেই ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৫১০ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফখরুল ইসলাম জানান, রাস্তা নির্মাণে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে গত ২০ এপ্রিল একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালানো হয়। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, নাগরপুরের উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে নিরপেক্ষ প্রকৌশলী, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী, বর্তমানে কর্মরত উপজেলা প্রকৌশলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেখানো রাস্তাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে নিরপেক্ষ প্রকৌশলী দ্বারা পরিমাপ গ্রহণ করা হয়।

তিনি আরও জানান, তদন্তে কাজ না করেই পরস্পর যোগসাজশে বিল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. এপ্রিল ২০২৫ ০৩:২২:এএম ৯ মাস আগে
টাঙ্গাইলে ডাকাতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ডাকাতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সদরে ডাকাতির ঘটনায় মামলা দায়ের করায় প্রকাশ্যে হামলা ও ক্রমাগত হুমকীতে বাদি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

এ কারণে অবিলম্বে ডাকাতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রবিবার (৯ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের অডিটরিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাদী বিএনপি নেত্রী জাহানারা আক্তার।

টাঙ্গাইল জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভাপতি জাহানারা আক্তার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তার নাগরপুর উপজেলা সদরের বাড়িতে ডাকাতি সংঘটিত হয়। ডাকাতরা তাকে ও তার ছোট ছেলে জাহিদ হাসানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারপিট ও নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে নাগরপুর থানায় মামলা (নং-২, তাং-১/০৩/২০২৫) দায়ের করেন। এদিন তিনি ও তার বড় ছেলে সিরাজ আল মাসুদ ছোট ছেলে জাহিদ হাসানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে বাড়ি থেকে বের হলেই ৫ থেকে ৬ জনের একদল লোক দেশিয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা করে। এ সময় তার বড় ছেলে সিরাজ আল মাসুদ হামলা প্রতিহত করতে গেলে অন্যরা পালিয়ে গেলেও স্থানীয়দের সহযোগিতায় রনক (১৯) নামে একজনকে আটকে ফেলেন। পরে তাকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

নাগরপুর উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী জাহানারা আক্তার বলেন, রনককে পুলিশে সোপর্দ করার পর থেকে ডাকাতরা নানা পরিচয়ে নানাভাবে (ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মোবাইল) হুমকী-ধমকি দিতে থাকে। ইতোমধ্যে থানা পুলিশ উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের বাবনাপাড়া গ্রামের কিরন মিয়ার ছেলে ফাহাতকে (২০) গ্রেপ্তার করে। এতে ডাকাতরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকী-ধমকি দিয়ে অতিষ্ঠ করে ফেলেছে। থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করা হলেও তারা কার্যত বাস্তব কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি জানান, মামলার প্রধান আসামি এসএম মহিউদ্দিন মাহমুদ ওরফে মোহন (তিনটি মামলার আসামি) প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করায় তিনি নিজে এবং অন্যদের সহযোগিতায় গুলি করে মেরে লাশ গুম করাসহ নানা হুমকী-ধমকি দিচ্ছেন। তাদের ক্রমাগত হুমকীতে ভীত হয়ে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে পুলিশের অধিক কর্মতৎপরতার পাশাপাশি প্রধান আসামিসহ অন্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী নিলুফার ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রক্সি মেহেদী, দেলদুয়ার উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রেবেকা পারভিনসহ পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সাহাবউদ্দিন মানিক, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলাসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিণ্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. মার্চ ২০২৫ ০৩:৫২:এএম ১১ মাস আগে
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চোর সন্দেহে ছানোয়ার হোসেন (৩৭) নামে একজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ১ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে শহরের কোদালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতের যুবককে নাম সাইফুল্লাহ সিরাজ(২৭)ওরফে সোহাগ। সে টাঙ্গাইল পৌরসভার কোদালিয়া এলাকার সিরাজুল হকের ছেলে। সাইফুল্লাহ সিরাজের গ্রামের বাড়ি জেলার নাগরপুর উপজেলায়। সিরাজ কোদালিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ।

এর পুর্বে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিহত ছানোয়ার হোসেনের পিতা হাসমত আলী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দিনে-দুপুরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মতো জায়গায় চুরির অভিযোগে একজন যুবকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শহরের ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, নিহতের পিতা হাসমত আলী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অজ্ঞাত ৮/ ১০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে সাইফুল্লাহ সিরাজ(২৭)ওরফে সোহাগকে সনাক্তকরণের পর শনিবার রাতে শহরের কোদালিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরো জানান, রবিবার(১৯ জানুয়ারি )সকালে সাইফুল্লাহ সিরাজের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে টাঙ্গাইল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য,বৃহস্পতিবার(১৬ জানুয়ারি) বিকালে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার মেডিসিন ওয়ার্ড (মহিলা) থেকে ৮/ ১০ জন যুবক নিহত ছানোয়ার হোসেনকে জোর করে ধরে এনে চোর বলে বেধড়ক পেটাতে থাকে। এ সময় ছানোয়ার হোসেন জীবন বাঁচাতে যুবকদের হাতে পায়ে ধরে রক্ষা পায়নি। এমনকি ছানোয়ার হোসেনকে বাঁচাতে হাসপাতালের কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে ছানোয়ার হোসেন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লে যুবকরা পালিয়ে যায়।নিহত ছানোয়ার হোসেন জেলার মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নের ভট্টবাড়ী গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে‌ । সে শহরের আকুর-টাকুর পাড়ায় জনৈক পায়েলের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতো।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. জানুয়ারী ২০২৫ ১২:৩১:এএম ১ বছর আগে
যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি- ফয়জুল করীম - Ekotar Kantho

যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি- ফয়জুল করীম

একতার কণ্ঠঃ ছাত্র জনতার গণবিপ্লবে ঘটিত গণহত্যার বিচার,দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার, অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও তাদেরকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করা,সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (PR) জাতীয় সংসদ নির্বাচন,  ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির প্রত্যাশা পূরণে ইসলামভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে গণসমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বিকালে নাগরপুর সরকারি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নাগরপুর উপজেলা শাখা এই গণসমাবেশের আয়োজন করে।

এ উপলক্ষে দুপুরের পর থেকে ইসলামী আন্দোলনের সমর্থকরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সভাস্থলে উপস্থিত হতে থাকে। পরে বিকালে নাগরপুর সরকারি কলেজ মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।

গণসমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন, ১৯৭১ সালের পর থেকে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। শাসন, শোষণ, নির্যাতন, নিপীড়ন এবং লুটতরাজের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে রেখেছিল। তারা দুর্নীতিতে পরপর পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবর্জন দেখেছেন। অবশেষে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে এদেশের মানুষ আবার দেশ স্বাধীন করেছে।

ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির আরও বলেন, কেবলমাত্র দল ও নেতা পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের শান্তি আসতে পারে না। যতদিন পর্যন্ত ন্যায়, নীতির পরিবর্তন আসবে না, ততদিন পর্যন্ত দেশের মানুষের শান্তি শৃঙ্খলা এবং আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারবে না

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ,নাগরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ বাবুল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মুফতি আব্দুর রাজ্জাক এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম, শায়খে চরমোনাই।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব আকরাম আলী, সেক্রেটারি মোহাম্মদ আখিনুর মিয়া, সদস্য হাফেজ মাওলানা রেজাউল করীম ও আলহাজ্ব মাওলানা আলী আকবর নাগরপুরী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে ইসলামী আন্দোলন এ ধরনের গণ সমাবেশের আয়োজন করছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. নভেম্বর ২০২৪ ০২:২৩:এএম ১ বছর আগে
প্রাচীন স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন সলিমাবাদ তেবাড়িয়া জামে মসজিদ - Ekotar Kantho

প্রাচীন স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন সলিমাবাদ তেবাড়িয়া জামে মসজিদ

একতার কন্ঠঃ মসজিদে দান করলেই পূরণ হয় মনের বাসনা এবং পাশের পুকুরে গিয়ে বলে এলেই ভেসে ওঠে পিতলের থালা-বাসন। এছাড়াও রাতের আঁধারে এতে নামাজ পড়তে আসে জ্বীন’রা! এমন সব আলোচিত ধারণা প্রচলিত আছে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের তেবাড়িয়া গ্রামে অবস্থিত প্রায় ৪০০ শত বছরের পুরাতন মসজিদকে ঘিরে।

মোঘল আমলে নির্মিত এই মসজিদ ঘিরে রয়েছে নানা রহস্য, যমুনা নদীর ভাঙ্গনে পুরো এলাকা বিলীন হলেও অক্ষত রয়েছে এই অলৌকিক আল্লাহ’র ঘর। নদীর স্রোত আর ঢেউয়ের প্রখরতায় মসজিদটি দোলতে থাকে কিন্তুু ভেঙে যায় না বলে দাবি স্থানীয়দের।

মসজিদটির নির্মাণ লগ্ন থেকে একটি দৃষ্টি নন্দন বড় গম্বুজ সহ চার পাশে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১২ টি মিনার ও উত্তর-দক্ষিন দিকে দুইটি দৃষ্টি নন্দন ঘর রয়েছে। যেখানে বিশ্বাসী জনসাধারণ দাঁড়িয়ে মানত করেন হাঁস-মুরগী ও গরু-ছাগল থেকে শুরু করে স্বর্ণ সহ নগদ টাকার বিনিময়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইতিহাস-ঐতিহ্য সমৃদ্ধ তেবাড়িয়া জামে মসজিদ প্রবাহমান যমুনা নদীর কোলঘেষে আনুমানিক ১৬০১ খ্রীষ্টাব্দে ২৫৩ শতাংশ জায়গা নিয়ে মৃধা বংশোদ্ভূত আব্দুল মালেক খাঁ মৃধা এই মসজিদ নির্মাণ করেন।

যখন এটি নির্মিত হয় তখন মূল ভবনের পাশে একটি বিশাল আকারের জাম গাছে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত পণ্যবাহী নৌযান বেধে রাখা হত। তৎকালীন নদী থেকে মসজিদ একটু উচু স্থানে নির্মাণ করা হয়েছিলো, যেখানে সিঁড়ি চড়ে মসজিদে প্রবেশ করা হতো। মসজিদটি নির্মাণ করার পর আব্দুল মালেক খাঁ মৃধা মিম্বারে দাড়িয়ে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে অছিয়ত করে বলেন, ওনার মৃত্যু যে স্থানে হবে তাকে যেন ওইখানে কবর দেওয়া হয় পরবর্তীতে উনি মিম্বার থেকে নেমে যাওয়ার পর পরই তিনি ইন্তেকাল করেন।

পরবর্তীতে মৃধা বংশোদ্ভূত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আতিকুর রহমান তালুকদার মসজিদের পশ্চিম দিকের এলাকা থেকে মোট ৩৭ শতাংশ জমি নিজস্ব অর্থায়নে এবং অত্র এলাকার মৃত মোহাম্মদ আতোয়ার খান ১০ শতাংশ ও মৃত আকাজত খা’র ৬ কন্যাদ্বয় ৬ বিঘা জমি মসজিদের নামে দান করেন। উক্ত জমির উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে অর্জিত অর্থ মসজিদের কোষাগারে জমা করা হয়। আরও দেড় বিঘা জমি মোসলেম তালুকদার মসজিদের নামে দান করেছিলেন, যা বিগত কয়েক বছর আগে যমুনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

কথিত আছে, তৎকালীন সময়ে মসজিদের ভিতরে একজন নেককার পরহেজগার ব্যক্তি অবস্থান করতেন উনাকে সবাই পাগল ভাবতেন কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উনি একজন আল্লাহর ওলি ছিলেন। মসজিদটি যখন প্রবাহমান যমুনা নদীর গ্রাসে বিলীন হতে ছিল তখন উক্ত ব্যক্তি নদীর উপর দিয়ে হেটে মসজিদের পশ্চিম দিকে অনেক দূর পর্যন্ত চলে যান পরবর্তীতে উনাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারপর থেকে যমুনা নদী মসজিদ থেকে অনেক দূর পর্যন্ত পশ্চিম দিকে সরে যায়। পরবর্তীতে মসজিদটিতে পর্যায়ক্রমে মুসুল্লিদের নামাজের জন্য সন্মুখভাগে দুইটি ছাদ নির্মাণ করা হয়। নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া পূর্বের মিনারটি বর্তমানে মসজিদের উত্তর-পশ্চিম পাশে প্রায় ১০০ ফিট উঁচু করে নির্মাণাধীন আছে। বর্তমানে মসজিদটিতে প্রায় ২,২০০ জন মুসল্লী এক সাথে নামাজ আদায় করতে পারেন । মসজিদ নির্মাণের পর থেকে মৃধা বংশোদ্ভূত সদস্যরা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। বর্তমানে মুতাওয়াল্লীর দায়িত্তে আছেন মৃধা বংশোদ্ভূত বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. হাফিজ খান তালুকদার এবং সভাপতি হিসেবে আছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আতিকুর রহমান তালুকদার ।

সলিমাবাদ ইউনিয়নের কৃতি সন্তান সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সুজায়েত হোসেন জানায়,জেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরবর্তী পল্লী অঞ্চলে মোগল স্থাপওে নির্মিত মসজিদটি ওয়াকফো বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত। সঠিক ব্যবস্থাপনায় মুসুল্লিদের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিকায়ন সময়ের দাবি।

তেবাড়িয়া জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. শরিফ খান তালুকদার বলেন, বর্তমানে মসজিদের আরো বেশ কিছু নির্মাণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যাহা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. আতিকুর রহমান মন্টু জানায় দানকৃত জমির পরিমাণ ২৫৩ শতাংশ রয়েছে। জমি দাতার নাম মালেক খান মৃধা। দানকৃত জমি কিছুটা দখলে কম আছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. নভেম্বর ২০২৪ ০১:৫০:এএম ১ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।