আরমান কবীরঃ দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) টাঙ্গাইল ক্লাব মিলনায়তনে ভোট গ্রহণ শেষে রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
এতে ‘এ’ শ্রেণিতে ১৮ জন এবং ‘বি’ শ্রেণিতে ১২ জন পরিচালক পদে নির্বাচিত হন। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ হয়।
এ’ শ্রেণিতে নির্বাচিত পরিচালকেরা হচ্ছেন বেনজীর আহমেদ, মো. নূরুল আলম, নাজমুল আহসান, শংকর সরকার, স্বপন ঘোষ, আখতার হোসেন খান, খন্দকার রাশেদুল আলম, তারেকুল ইসলাম, বিশ্বজিৎ কুমার সাহা, আনবসুর রহমান চৌধুরী, সামসুর রহমান চৌধুরী, প্রভাত কুমার ধর, দুলাল চন্দ্র সাহা, খন্দকার আবদুল মোকাদ্দেম, মির্জা জিয়াউর রহমান, মো. নূরুল ইসলাম, মো. সরোয়ার হোসেন খান, মো. আবদুল্লাহ হেল কাফি।
বি’ শ্রেণিতে নির্বাচিত ১২ জন পরিচালক হচ্ছেন মো.রোকনউদ্দিন, সৈয়দ যুবায়ের আবদুল্লাহ, ইকবাল হোসেন জুয়েল, আবু সাঈদ চৌধুরী, মো. ফয়জুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, কাজী শফিকুল ইসলাম (লিটন), মো. আরিফ হোসেন, মীর মিরাজ হোসেন, আজিম উদ্দিন রবিন, পলাশ চন্দ্র বসাক ও খন্দকার নাজমুল হায়দার।
চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সূত্র জানায়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘এ’ ও ‘বি’—উভয় শ্রেণি থেকে নির্বাচিত ৩০ জন পরবচালকের মধ্য থেকে সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচন করা হবে। তবে পরিচালকদের সভা কবে হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম জানান, বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর ভোটদানের সুযোগ পেয়ে আনন্দিত সাধারণ ভোটাররা। ভোট দেওয়ার পর সাম্য রহমান বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিতে এসেছেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পেয়ে সবাই খুশি। এমন গণতান্ত্রিক চর্চা যেন অব্যাহত থাকে।
টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বদানকারী এই সংগঠনের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তিন দশকের আগে। তার পর থেকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শুরু হয়। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকত, সেই দলের নেতারা তাঁদের পছন্দের লোকদের দিয়ে পরিচালনা পরিষদ গঠন করে দিতেন। সাধারণ ভোটাররা ভোটদানের সুযোগ পেতেন না।
উল্লেখ্য, নির্বাচিত পরিচালকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সরাসরি ক্ষমতাসীন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ‘এ’ শ্রেণিতে নির্বাচিত পরিচালক বেনজীর আহমেদ বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। রাশেদুল আলম জেলা যুবদলের আহ্বায়ক। তারেকুল ইসলাম ঝলক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা।
এ ছাড়া কাজী শফিকুল ইসলাম লিটন ও আবদুল্লাহ- হেল-কাফি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, যদিও তাঁরা এখন পদে নেই।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে অতি দ্রুত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শুক্রবার (২২ মে) বেলা ১২টার দিকে সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলি এলাকার নদীভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন করেন মন্ত্রীদ্বয়। পরে নদীর তীরবর্তী মিন্টু মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভাঙনকবলিত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারা।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ এবং জনগণের স্বার্থে আগামী অর্থবছর থেকেই যমুনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনে প্রতি বছর নদীপাড়ের অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। টাঙ্গাইলের যমুনা নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলো সুরক্ষায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরেই এর কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। যমুনার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যেই নিজে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমরা যা বলি, তাই করি।নির্বাচনের আগে যমুনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এ অঞ্চলের উন্নয়নে সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহজাহান সিরাজসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী এবং ভাঙনকবলিত এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে এবং টাঙ্গাইল পৌর এলাকার নদী তীরবর্তী জনপদ রক্ষায় মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার(২ মে) সকালে সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ক্ষুদিরামপুর এলাকায় লৌহজং নদীপুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আঙুল থেকে ভোটের কালি না শুকাতেই বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ‘টাঙ্গাইল জেলার ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদী পুনঃখনন এবং টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় নদীতীর প্রতিরক্ষা’ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হলো।
তিনি বলেন, নদী বাঁচলে টাঙ্গাইল বাঁচবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ঘটবে, অন্যদিকে টাঙ্গাইল পৌরসভা ভাঙন ও বন্যা থেকে রক্ষা পাবে। বর্তমান সরকার জলাশয় ও নদী রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিনের পলি জমে ভরাট এবং দখল-দূষণের শিকার হওয়া ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদী খনন করার ফলে এই অঞ্চলের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং কৃষি ও পরিবেশের আমূল পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় নদীতীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের ফলে শহরের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে জ্বালানি তেল পরিমাপে কম দেওয়ার অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশন মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টাঙ্গাইল।
মঙ্গলবার(২৮ এপ্রিলে) দুপুরে শহরের আমিন বাজার এলাকায় মেসার্স রাসেল এলপিজি এন্ড ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল।
এসময় তিনি জানান, মেসার্স রাসেল এলপিজি এন্ড ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, ডিজেল ও পেট্রোল প্রতি ৫ লিটারে প্রায় ৩৩০ মিলি লিটার পরিমানে কম দেওয়া হচ্ছে। পরে ওই প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তিনি আরো জানান, ফিলিং স্টেশনের মেশিনের ত্রুটি ঠিক না করা পর্যন্ত এই পাম্পে তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
অভিযানে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার শহরের আমিন বাজার এলাকায় মেসার্স রাসেল এলপিজি এন্ড ফিলিং স্টেশনে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়
আরমান কবীরঃ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, বিগত সরকার হামের টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল এবং সঠিক সময়ে টিকা আনার ব্যবস্থা করেনি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় টাঙ্গাইল পৌর শহরের পৌর উদ্যানে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বর্তমান সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা এই টিকার ব্যবস্থা করেছেন। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সরকারের দায়িত্বহীনতার কারণে জনগণ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। এ ধরণের অবহেলার জন্য তিনি তাদের নিন্দা জানান। তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে ইতোমধ্যে সারা দেশে হামের টিকা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া মানুষের জীবনে স্বাস্থ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই সবাইকে সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যের বিষয়ে কোনো ধরণের অবহেলা না করার পাশাপাশি, আগামী দিনে স্বাস্থ্য সচেতনতা আরও বাড়াতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক, সিভিল সার্জন ডা. এ এফ এম মাহবুবুল আলম মঞ্জু, পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইলের ১২০টি কেন্দ্রে ৩৯০টি ওয়ার্ডে হাম-রুবেলার টিকা পাবে তিন লাখ ৮৭ হাজার ৩৬৯ জন শিশু। সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তিন হাজার ১২০ টি কেন্দ্রে এই টিকা দেওয়া হবে। এ কার্যক্রম আগামী ১০ মে পর্যন্ত চলবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মেধাবী শিক্ষার্থী যারিন সুবাহ মেঘলা উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাচ্ছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনার ক্লেমসন ইউনিভার্সিটির বায়োলজিক্যাল সাইন্স বিভাগে ফুলব্রাইট স্কলারশিপসহ স্নাতকোত্তর (পোস্টগ্রাজুয়েট) করার সুযোগ পেয়েছেন। আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। এসময় তিনি টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ সুবিধাও পাবেন।
মেঘলা ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ ও মেরিন সাইন্স বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
তিনি টাঙ্গাইল শহরের ভিক্টোরিয়া রোড ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রকিবউদ্দীন বাবুল এবং তাহমিনা আক্তার দম্পতির জ্যেষ্ঠ কন্যা। তার ছোট ভাই আহনাফ উদ্দিন অর্ক বর্তমানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিউপি)-এর ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে অধ্যয়নরত।
শিক্ষাজীবনে মেঘলা সবসময়ই মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সরকারি কুমুদিনী মহিলা কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ফিসারিজ ও মেরিন সাইন্স বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
এ বিষয়ে মেঘলার বাবা রকিবউদ্দীন বাবুল বলেন, “মেয়ের এই অর্জনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। সে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর পিএইচডি করার ইচ্ছা পোষণ করেছে। আল্লাহ যেন তার সেই স্বপ্ন পূরণ করেন। আমি টাঙ্গাইলবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া কামনা করছি।”
উল্লেখ্য, ফুলব্রাইট স্কলারশিপ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অর্থায়নে পরিচালিত একটি মর্যাদাপূর্ণ ও সম্পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি। এর মাধ্যমে বিশ্বের মেধাবী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করার সুযোগ পেয়ে থাকেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(২ এপ্রিল) ভোর রাতে শিশুটি মারা যায়। তার নাম সাইফাল। বয়স ৮ মাস। সে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের হাতিলা গ্রামের সোহেল রানার ছেলে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাদিকুর রহমান জানান, গত কয়েকদিনে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৪ জন শিশু ভর্তি হয়। সাইফাল নামের ওই শিশুটিকে বুধবার বিকেল ৪টার সময় ভর্তি করা হয়। রাত তিনটার দিকে সে মারা যায়। আমরা ধারণা বা (সন্দেহ) করছি, হামের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু আমরা তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে পারেনি। আরও ১৩ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। আমরা তাদের চিকিৎসার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
তিনি আরও জানান, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের কয়েকটি রুম খালি করে হামে আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি করা হয়েছে। প্রায় ২০ শয্যাবিশিষ্ট একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, অনেক অভিভাবক তাদের শিশুদের টিকা দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। যারা টিকা দেননি সেই সব শিশুদের হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হতে হচ্ছে। জ্বর, শরীর ফুলে যাওয়া, চোখ লাল হওয়া এসব দেখলেই শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে। উপজেলার প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিতে আইসোলেশন সেন্টার খোলা হচ্ছে। গত এক বছরে হামের টিকার ব্যাপক ক্রাইসিস ছিল। মাঝখানে টিকা পাওয়া গেলেও তা ছিল খুবই অপ্রতুল। এখন জেলায় মাত্র তিনদিনে টিকা রয়েছে। যা ৭ হাজার ১২৫ জন শিশুকে দেওয়া যাবে। আগামী রোববার থেকে ছয় থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। যেসব শিশুকে টিকা দেওয়া হয়নি তাদের নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে টিকা নেওয়া অনুরোধ জানান।
আরমান কবীরঃ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সবুজ পৃথিবী’র উদ্যোগে টাঙ্গাইলে সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ)সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের শহরের নগরজলফৈ বাইপাস এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডঃ আজিজুল হক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইব্রাহিম খাঁ সরকারী কলেজের অধ্যাপক অনিক রহমান বুলবুল, শাপলা ইউনিভার্সাল সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক আমির হোসেন বাবু, সবুজ পৃথিবীর উপদেষ্টা দিলআরা বেগম মিনা, সেবক সংস্থার নির্বাহী পরিচালক নাজমুজ সালেহীন, সবুজ পৃথিবীর পরিচালক শারমিন আলম, সংগঠক নাদিয়া ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌস জলি প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সবুজ পৃথিবীর সাধারণ সম্পাদক সহিদ মাহমুদ।
বৃক্ষরোপণকালে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। স্বাধীনতা দিবসের এই ঐতিহাসিক ক্ষণে দেশকে সবুজে শ্যামলে ভরিয়ে তোলার শপথ নিয়ে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তারা কেবল গাছ রোপণই নয়, বরং রোপিত গাছের সঠিক পরিচর্যার ওপরও বিশেষ জোর দেন।
দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে মহাসড়কের নগরজলফৈ বাইপাস সংলগ্ন খালি জায়গায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
এ সময় সংগঠনের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং পরিবেশকর্মী ও তরুণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২৬ মার্চ) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনি ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হয়।
জেলা সদরের জনসেবা চত্বরে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে রাষ্ট্রের পক্ষে জেলা প্রশাসক শরীফা হক এবং জেলা পরিষদের পক্ষে প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট নিরবতা পালন ও দোয়া করা হয়।
অন্যদিকে, শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে সকাল ৮টায় মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড, বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, রেড ক্রিসেন্ট, শ্রমিক, নাট্য, নৃত্য, ব্যাংক-বীমা, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
অপরদিকে, দিনটি উপলক্ষে সকাল ৮টায় শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে প্রদর্শণ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দিবসের আলোচনা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, জেলা প্রশাসক শরীফা হক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক মন্ডল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া প্রমুখ। পরে বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে অনুমোদনহীন একটি ‘মিনি পেট্রোল পাম্প’-এর কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রোববার(৮ মার্চ) বিকেলে সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে পাম্পটি বন্ধের পাশাপাশি মালিককে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল শহর সংলগ্ন বাসাখানপুর বাজারে আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি গত কয়েক মাস ধরে ‘এআর ট্রেডার্স’ নামক এই মিনি পেট্রোল পাম্পটি পরিচালনা করছিলেন। পাম্পটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। এছাড়া চলমান সংকটকালীন সময়ে এই পাম্পে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছিল এবং প্রতিটি মোটরসাইকেলে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছিল না।
সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, বাজার তদারকির অংশ হিসেবে আমরা নিয়মিত কাজ করছি। সদর উপজেলার বাসাখানপুর বাজারে অনুমোদনহীনভাবে পাম্প গড়ে তুলে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রির অপরাধে এআর ট্রেডার্সের মালিক আব্দুর রাজ্জাককে নগদ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসাথে পাম্পটির পেট্রোল বিক্রি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযান চলাকালে টাঙ্গাইলের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শাহিদা আক্তার এবং কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জলসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রোববার বিকেলে সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুর বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের ৩ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম আকুর টাকুর এলাকার লৌহজং নদীর পাড় থেকে সামনা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সে শহরের পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়া এলাকার আবুল কাশেমের স্ত্রী।
শনিবার (৭ মার্চ) সকালে শহরের লৌহজং নদীর পাড়ে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্বজনরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় সামনা বেগমের ভাগিনা শাওন তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন সকালে নদীর পারে তার মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানায়।
স্থানীয়রা জানান, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে নিহত সামনা বেগমের সঙ্গে তার ভাগিনা শাওনের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ ছিল।
এ বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের দেহের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ: টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলামের (ভিপি জোয়াহের) জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে সখীপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের বেরবাড়ি গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।এর আগে সোমবার ভোরে ভারত থেকে সাবেক এই এমপির মরদেহ টাঙ্গাইলে এসে পৌঁছায়।
গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। রবিবার রাতে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তার মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়।
সোমবার দুপুর ১২টায় টাঙ্গাইল জেলা সদর হেলিপ্যাডে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা ৩টায় সখীপুরের বেরবাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় সামাজিক গোরস্থানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। জানাজায় বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও মাল্টি অর্গান ফেইলিওরসহ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুর তিন দিন আগে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার পর তার মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়।
অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম টাঙ্গাইল আদালতের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ছিলেন। তিনি করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদের দু’বারের নির্বাচিত ভিপি এবং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি ভারতে চলে যান। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক মামলা রয়েছে