/ হোম / বাসাইল
আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরনবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ - Ekotar Kantho

আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরনবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

আরমান কবীর:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮(বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরনবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠেছে। একই অভিযোগ উঠেছে সখীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আশরাফুল আলম তাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।

জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থী আহমেদ আযম খান নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে ভোট প্রার্থনা ও অনুদান ঘোষণা করছিলেন। এ অভিযোগ পেয়ে ওই আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের গত ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠান।

নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আশরাফুল আলম লিখিত অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ভিডিও ও ছবি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে আপনি অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বক্তব্যে বলেছেন, ‘১২ বার তো ভোট দিয়েছেন এবার ১৩ বার এর নির্বাচনে হিসেব করে ভোট দেন। আমি ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছি। আমার দল বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে আগামি নির্বাচনে বিএনপি পাস করলে দুই কোটি ফ্যামিলি কার্ড দিবে।’ এছাড়া তিনি নির্বাচনের প্রথম বছরে দুইটি রাস্তা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ভিডিও যাচাই করে সত্যতা পাওয়ায় আহমেদ আযম খানের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর বিধান লঙ্ঘনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

অপরদিকে, একই সংসদীয় আসনে সখীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ছবিসমূহ পর্যালোচনায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। ফলে তাদের দুজনকে টাঙ্গাইলের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে স্থাপিত নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আদালতের কাছে কারণ দর্শাতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. জানুয়ারী ২০২৬ ০৫:৫৪:পিএম ২ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইলে বাসে আগুন দিয়ে তরুণীকে হত্যা মামলার আসামী গ্রেপ্তার  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বাসে আগুন দিয়ে তরুণীকে হত্যা মামলার আসামী গ্রেপ্তার 

আরমান কবীরঃ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের লক ডাউন চলা কালে টাঙ্গাইল বাসাইলে আলোচিত দাহ্য পদার্থ দিয়ে যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বাসযাত্রী সদ্য বিবাহিত তরুণী মিম (২২) হত্যা মামলায় জড়িত সহ একাধিক মামলার পলাতক আসামী মোঃ নজরুল ইসলাম (৬০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার চরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

গ্রেপ্তারকৃত নজরুল উপজেলার বাঐখোলা গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।

শুক্রবার(২৮ নভেম্বর)সকালে র‌্যাব-১৪,সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্প হতে দেয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

র‌্যাব-১৪, সিপিসি-৩ এর টাঙ্গাইল ক্যাম্পের অধিনায়কের পক্ষে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া অফিসার) লুৎফা বেগম প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ১৩ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটের সময় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন) ডাকা লক ডাউন সফল করার উদ্দেশ্যে ঢাকা-যমুনাসেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার বাঐখোলা স্টেট ফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিস অফিসের সামনে যমুনা সেতুগামী লেনের উপর অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারী সন্ত্রাসীরা নারায়ণগঞ্জ হতে ছেড়ে আসা পাবনাগামী “বাংলা স্টার” নামক যাত্রীবাহী বাসে দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করলে আগুন লাগিয়ে দেয়। ফলে বাসে থাকা যাত্রীরা জীবন বাঁচানোর জন্য দ্রুত বাস থেকে নেমে গেলেও মহিলা যাত্রী তরুণী মিম (২২) আগুনে দগ্ধ হয় এবং ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। উক্ত ঘটনায় ১৩ নভেম্বর বাসাইল থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা হয়। উক্ত মামলা রুজু হওয়ার পর র‍্যাব-১৪,সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্প ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে তৎপর হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাব-১৪ টাঙ্গাইল এর একটি চৌকস আভিযানিক দল ধৃত আসামীর বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার চরপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত মামলায় জড়িতসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামী মোঃ নজরুল ইসলাম (৬০) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

ধৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাসাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. নভেম্বর ২০২৫ ০৩:৩৭:এএম ২ মাস আগে
আহমেদ আযমের বিরুদ্ধে আ’লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগে বিএনপি নেতাদের গণহারে পদত্যাগ - Ekotar Kantho

আহমেদ আযমের বিরুদ্ধে আ’লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগে বিএনপি নেতাদের গণহারে পদত্যাগ

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি ও বহিষ্কৃত সভাপতিসহ ছয় নেতা দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে তাদের পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ এনে তারা পদত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।

পদত্যাগকারীরা হলেন- উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদ মাস্টার, সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, উপজেলা বিএনপি’র বহিষ্কৃত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান সাজু, সদস্য আশরাফুল ইসলাম বাদল, উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ ও বহুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ মিয়া।

তারা ২১ নভেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর মধ্যে বিভিন্ন সময় পদত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। তাদের পদত্যাপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ছয়জনের পদত্যাগপত্রে একই ধরনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তারা পদত্যাগপত্রে লিখেছেন- ‘বিগত ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার অবৈধ সরকারের আমলে দলের সব রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে আসছি। যে কারণে আওয়ামী লীগের পেটুয়া পুলিশ বাহিনী দ্বারা মিথ্যা মামলা-হামলায় একাধিকবার জেল-জুলুমসহ নানাবিধ অত্যাচার সহ্য করে দলীয় আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে দলের সব কর্মসূচি পালন করে আসছি। বর্তমানে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান দ্বারা আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের দোসরদের দলীয় কার্যক্রমে সামনের সারিতে এনে পুনর্বাসন করার প্রতিবাদ করলে তিনি বিএনপি’র এই নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ অনাকাঙ্ক্ষিত অসদাচরণ করেন; যা দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি। তার মতো একজন জাতীয় নেতার এমন বিমাতাসুলভ অসাংগঠনিক আচরণের জন্য ক্ষুব্ধ হয়ে এই ছয় নেতা দলীয় সব পদ-পদবি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।

এই পদত্যাগপত্রের অনুলিপি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে দেওয়া হয়।

বাসাইল-সখীপুর আসনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর আগে থেকেই তিনি নির্বাচনি গণসংযোগ, জনসভা, উঠান বৈঠক, সামাজিক অনুষ্ঠান ও ওয়াজ মাহফিলে অংশগ্রহণ করে আসছেন; কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই বাসাইল ও সখীপুর উপজেলা বিএনপি’র শীর্ষপর্যায়ের একটি পক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কোন্দল সৃষ্টি হয়ে আছে। আহমেদ আযম খান মনোনয়ন পেলেও দুই উপজেলার বিএনপি’র শীর্ষপর্যায়ের একটি পক্ষ তার নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না।

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সখীপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান সাজুকে তার দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয় জেলা বিএনপি। তার অব্যাহতিতে আহমেদ আযম খানের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। এ কারণে সখীপুর উপজেলা বিএনপি’র মধ্যে নতুন করে ভেতরে ভেতরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ছয় নেতার পদত্যাগের পর কোন্দল আরও প্রকাশ্যে এসেছে।

অপরদিকে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডারের আহ্বায়ক আব্দুল খালেক মণ্ডলকে আহমেদ আযম খানের হুমকি ও অশালীন ভাষায় কথা বলার একটি অডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মানববন্ধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এর আগে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমকে নিয়েও সমালোচনা করা হয়।

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে আহমেদ আযম খান নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন। এসব বিষয় নিয়ে আহমেদ আযম খান বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

সদ্য পদত্যাগ করা সখীপুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদ মাস্টার বলেন, বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খান জিয়ার আদর্শের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমিসহ এ পর্যন্ত ২০ থেকে ৩০ জন পদত্যাগ করেছি। প্রায় ২শ নেতাকর্মী পর্যায়ক্রমে পদত্যাগ করবেন। আমরা সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাব।

সখীপুর উপজেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, তাদের পদত্যাগের বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করব না।

জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমরা এখনো কোনো পদত্যাগপত্র হাতে পাইনি। এটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। ইনশাআল্লাহ আবার সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন।

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেন, আমি অতীত ও বর্তমানে কোনো দিন আওয়ামী লীগকে কখনো পুনর্বাসন করিনি, ভবিষ্যতেও করব না। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি কুচক্রী মহল অনৈতিকভাবে দুই-একজন বহিষ্কৃত নেতাদের মাধ্যমে কিছু নেতাকর্মীকে অনুরোধ করে আবার কিছু নেতাকর্মীকে জোর করে স্বাক্ষর করিয়েছে বলে আমি শুনেছি।

তিনি আরও বলেন, তবে অনেক নেতাকর্মী আমাকে জানিয়েছেন- তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হলেও তারা আমাদের নেতৃত্বে ধানের শীষের পক্ষেই থাকবেন। ধানের শীষের বিরুদ্ধে আচরণকারী, ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করে নেতাকর্মী তথা বাসাইল-সখীপুরবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. নভেম্বর ২০২৫ ০১:৪৩:এএম ২ মাস আগে
টাঙ্গাইলে বাসে আগুনে: চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় তরুণীর মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বাসে আগুনে: চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় তরুণীর মৃত্যু

আরমান কবীরঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত অবস্থায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ এক তরুণী ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। তাঁর নাম মীম (২২)।

মঙ্গলবার(১৮ নভেম্বর )সকাল ১০টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

গত ১২ নভেম্বর দিবাগত রাত একটার দিকে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাঐখোলা এলাকায় চলন্ত অবস্থায় যাত্রীবাহী ওই বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

নিহত মীমের স্বামী মোহাম্মদ আলী জানান, তাঁরা ঢাকার তুরাগ এলাকায় থাকেন। মীমের দাদার মৃত্যুর খবর পেয়ে ১২ নভেম্বর রাতে তাঁরা পাবনার বেড়া উপজেলায় যাচ্ছিলেন। তাঁদের বাস টাঙ্গাইলের বাসাইল এলাকায় আসার পর বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে তিনি সামান্য দগ্ধ হলেও মীমের শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথমে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মীমকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

মঙ্গলবার(১৮ নভেম্বর) রাতে টাঙ্গাইলের বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি) জালালউদ্দিন জানান, ঘটনার পর তাঁরা জানতেন না কেউ আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপর সব যাত্রী চলে যান। দুই দিন পর জানতে পারেন মীম নামের একজন আহত হয়েছেন। তিনি পাবনার বেড়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমে চিকিৎসা নেন। পরে ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নেন।

আগুনের ঘটনায় ১৩ নভেম্বর গোড়াই হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মারুফা লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পাঠান। বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনেরা মৃতদেহ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নিয়ে যান। মীমের বাড়ি পাবনার বেড়া উপজেলার চর প্যাচাকোলা গ্রামে।

মীমের চাচা সাইদুল ইসলাম বলেন, গত তিন মাস আগে মীমের বিয়ে হয়। তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে ডিপ্লোমা কোর্স করছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. নভেম্বর ২০২৫ ০৫:৩৫:পিএম ২ মাস আগে
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে আগুন - Ekotar Kantho

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে আগুন

আরমান কবীরঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাঐখোলা এলাকায় চলন্ত একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (১২ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘বাংলা স্টার’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকা থেকে পাবনার উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা চলন্ত অবস্থায় বাসটিতে আগুন দেয়। এ সময় যাত্রীরা দ্রুত বাস থেকে নেমে প্রাণে রক্ষা পান। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার এস এম হুমায়ূন কার্ণায়েন বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

গোড়াই হাইওয়ে থানার (ওসি) মো: সোহেল সারোয়ার বলেন, বাঐখোলা এলাকায় দুর্ঘটনার কারণে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছিল। এ সময় স্টার গাড়ির ভিতর পেছনের অংশে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. নভেম্বর ২০২৫ ০৬:০৯:পিএম ২ মাস আগে
টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩

আরমান কবীরঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নারীসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ১২ জন।

বুধবার(১৫ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে জেলার বাসাইল উপজেলার বাঐখোলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হতাহতরা সবাই বাসযাত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জামালপুরের তারাকান্দি থেকে ছেড়ে আসা ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ নামের যাত্রীবাহী বাসটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। সেটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাঐখোলা এলাকায় পৌছালে ঢাকাগামী একটি ট্রাককে অতিক্রম করার চেষ্টা করে। এ সময় ঢাকাগামী রড ভর্তি অন্য একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে বাসের এক নারী যাত্রী নিহত হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ১৪ জনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরও ২ জনকে মৃত ঘোষণা করে।

এ বিষয়ে বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘নিহত ওই তিন বাসযাত্রীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. অক্টোবর ২০২৫ ১১:৫৮:পিএম ৩ মাস আগে
পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় টাঙ্গাইলের যুবলীগ নেতার মৃত্যু - Ekotar Kantho

পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় টাঙ্গাইলের যুবলীগ নেতার মৃত্যু

আরমান কবীরঃ পুলিশ হেফাজতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজানের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মিজানুর রহমান মিজান কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া বাসাইল উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তিনি উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের নাকাছিম গ্রামের বাসিন্দা। যুবলীগ নেতা হলেও তার বিরুদ্ধে ট্রেন্ডারবাজি, জমি দখল বা কোথাও চাঁদা তোলার অভিযোগ শোনা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় চার মাস আগে বাসাইল থানা পুলিশ উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজানকে নাকাছিম এলাকা থেকে আটক করে। পরে তাকে টাঙ্গাইল সদর থানার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। আদালতে পাঠানোর পর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর মিজান অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেসময় তাকে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। মিজান দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভূগছিলেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল জজ আদালতে তার জামিন শুনানি ছিল। সেসময় গুরুতর অসুস্থজনিত বিভিন্ন কাগজপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু আদালতের বিচারক জামিন নামঞ্জুর করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবি মিজানের অসুস্থজনিত বিষয়টি সামনে এনে জামিনের জন্য জোর দাবি জানালেও কাজ হয়নি। আগামী ৭ অক্টোবর তার পরবর্তী জামিন শুনানির তারিখ ধার্য ছিল।

টাঙ্গাইল কারাগারের জেল সুপার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কিছুদিন আগে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার মৃত্যুর বিষয়টি এখনও জানতে পারিনি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পর থেকে তিনি কেরানীগঞ্জের অধিনে রয়েছে।’

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. অক্টোবর ২০২৫ ০৫:০৯:পিএম ৪ মাস আগে
সখীপুরে বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন কাদের সিদ্দিকী - Ekotar Kantho

সখীপুরে বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন কাদের সিদ্দিকী

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বর্ধিত সভায় শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম।

উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে একটি টিনের ঘরে প্রচণ্ড গরমে দুই ঘণ্টা বসে থেকে বক্তব্য দেওয়ার কারণে কাদের সিদ্দিকী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন সিদ্দিকী বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জানান, কাদের সিদ্দিকী আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ আছেন। তাঁর রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস মাপা হয়েছে। ইসিজি করা হয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলেও তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। চিকিৎসকেরা বলেছেন, প্রচণ্ড গরমের কারণেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

তুহিন সিদ্দিকী আরও বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বর্ধিত সভা শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে কাদের সিদ্দিকী বর্ধিত সভায় যোগ দেন। টিনের ঘরে প্রচণ্ড গরমে তিনি দুই ঘণ্টা স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বক্তব্য শোনেন। বেলা সোয়া দুইটার দিকে তাঁর বক্তব্য শুরু হয়। মিনিট দশেক তিনি দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। এরপর বসে পড়েন। বসে তিনি মাত্র এক মিনিট বক্তব্য দিয়েছিলেন। এরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি দুই কর্মীর সহায়তায় তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িতে ওঠেন। এরপর তাঁকে সখীপুরের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন জানান, কাদের সিদ্দিকী এখন অনেকটা সুস্থ অনুভব করছেন। দেশবাসীর কাছে তিনি দোয়া চেয়েছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০২:৫৬:এএম ৫ মাস আগে
টাঙ্গাইলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদক ব্যবসায়ীর ২ বছরের কারাদণ্ড - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদক ব্যবসায়ীর ২ বছরের কারাদণ্ড

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মামুন মিয়া নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটকের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. আকলিমা বেগম এ দণ্ডাদেশ দেন।

শনিবার (৩০ আগস্ট) তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত মামুন মিয়া (৩০) উপজেলার কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।

জানা গেছে, মামুন দীর্ঘদিন ধরে বাসাইল, দেলদুয়ার ও মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে বাসাইল থানায় তিনটি ও দেলদুয়ার থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও দুইটি সাধারণ ডায়েরিও রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে প্রশাসন উৎপেতে ছিল। এক পর্যায়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. আকলিমা বেগম রাত আড়াইটার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে আটক করে। তার কাছ থেকে ইয়াবা, গাঁজা ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। এসময় তাকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে শনিবার সকালে বাসাইল থানা পুলিশের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ী মামুনকে ২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। পরে সকালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩১. অগাস্ট ২০২৫ ০২:০১:এএম ৫ মাস আগে
Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ট্রাকের পেছনে মাইক্রোবাসের ধাক্কা, একই পরিবারের ৩ জন নিহত

সাহান হাসানঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের জেলার বাসাইল উপজেলার করাতিপাড়া বাইপাস এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পিছনে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

মঙ্গলবার (৩ জুন) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল- যমুনা সেতু মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার করাতিপাড়া বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- শেরপুর সদর উপজেলার কামারচর এলাকার অতুল মন্ডল (১৪), রাতুল মন্ডল (২৪) ও তাদের পিতা আমজাদ মন্ডল (৫০)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি শেরপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে গাড়িটি ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের করাতিপাড়া বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পিছনে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত ৩ জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের লাশ গোড়াই হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোড়াই হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩. জুন ২০২৫ ১০:৩০:পিএম ৮ মাস আগে
টাঙ্গাইলে ৫ বছরেও শেষ হয়নি ব্রিজের নির্মাণ কাজ, ঠিকাদার লাপাত্তা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ৫ বছরেও শেষ হয়নি ব্রিজের নির্মাণ কাজ, ঠিকাদার লাপাত্তা

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ঝিনাই নদীর ওপর একটি ব্রিজের নির্মাণকাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। প্রায় ছয় মাস আগে কাজটি ফেলে রেখে লাপাত্তা হয়েছেন ঠিকাদার। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ। নদীটির দুইপাড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৌকায় করে প্রতিনিয়ত পারাপার হতে হচ্ছে।

জানা গেছে, বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার সংযোগস্থল কাঞ্চনপুর কাজিরাপাড়া এলাকায় ঝিনাই নদীর ওপর ব্রিজটি প্রায় ১০ বছর আগে পানির স্রোতে ভেঙে যায়। এরপর ২০২০ সালে ২৭ কোটি ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮ টাকা ব্যয়ে সেখানে নতুন করে ২৫৬ মিটার গার্ডার ব্রিজের অনুমোদন হয়। কাজটি পায় হায়দার কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড এন্ড মো. লিয়াকত আলী জেবি নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ওই বছরের ১৮ মার্চ নতুন ব্র্রিজের কাজ শুরু করে। ব্রিজটির নির্মাণকাজ ২০২২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও শেষ করতে পারেনি। ঠিকাদানী প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬ মাস আগে নির্মাণকাজটি বন্ধ রেখে রাতের আধাঁরে পালিয়ে যায়। এই দীর্ঘ ছয় মাসেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কেউই ব্রিজটি দেখতেও আসেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান বলেন, ‘একজন মানুষ মারা গেলে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক ঘুরে লাশ দাফন করতে হয়। ব্রিজটির কারণে নদীর দুইপাড়ের মানুষের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্ভোগ লাগবে এই নদীতে ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলমান ছিল। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ ফেলে রেখে চলে গেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল আলম খান বলেন, ‘এই ব্রিজটি বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার জন্য খুবই জরুরি। এই ব্রিজ দিয়ে লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতস্থল। এখানে একটি ঈদগা মাঠ রয়েছে, সেখানে ছয়টি গ্রামের মানুষ একত্রে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এছাড়াও তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য একটি কবরস্থান রয়েছে। মানুষ মারা গেলে নৌকায় করে লাশ নিয়ে দাফন করতে হয়। নদীর দুইপাড়ে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্রিজ না থাকায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ নৌকাযোগে পারাপার হচ্ছে। প্রায় ছয় বছর ধরে ব্রিজের নির্মাণকাজ চলমান ছিল। এই দীর্ঘ সময়েও কাজটি শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। এমতাবস্থায় প্রায় ছয় মাস হলো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্রিজের নির্মাণকাজ বন্ধ করে পালিয়ে গেছে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আশরাফুজ্জামান বক্তার বলেন, ‘কাঞ্চনপুর কাজিরাপাড়ায় ঝিনাই নদীর ওপর ২৬৬ মিটার ব্রিজের কাজটি ২০১৯ সালে টেন্ডার হয়। ঠিকাদানী প্রতিষ্ঠান শুরুতেই বিলম্ব করে কাজ শুরু করে। প্রথমে কাজের কিছুটা অগ্রগতি ছিল। এক বছর পর থেকে কাজের গতি কমে যায়। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন- ঠিদাকারী প্রতিষ্ঠান যদি যথা সময়ে কাজ না করে তাহলে টেন্ডার বাতিল করা হবে। ব্রিজটির কারণে অসংখ্য মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। ব্রিজটি দ্রুতসময়ের মধ্যে নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ‘বাসাইল উপজেলার কাজিরাপাড়ায় ঝিনাই নদীর ওপর ২৫৬ মিটার ব্রিজের কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজটির বর্তমানে অগ্রগতি ৬০ শতাংশ। বেশ কিছুদিন ধরে কাজটি বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন সময় ঠিকাদারকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কাজ শুরু করে আবার বন্ধ করে দেয়। কাজটি বাতিলের জন্য আমাদের জেলা কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যেহেতু কাজটি অনেক ধরে বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার। সুতরাং কাজটি বাতিল করার জন্য আবার সুপারিশ করা হবে। কাজটি বন্ধ রাখায় ঠিকাদারকে জরিমানার আওতায় আনার জন্য প্রস্তাব করা হবে। রি-টেন্ডার করে খুব দ্রুত কাজটি শেষ করা হবে।’

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাইড ইঞ্জিনিয়ার মো. আখতার হোসেন বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকিং-এ সমস্যা হচ্ছে। এজন্য কাজটি বন্ধ রয়েছে। আমাদের সাথে ন্যাশনাল ব্যাংকের চুক্তি রয়েছে। সেখানে আমার একটি বিল পড়ে আছে। ব্যাংকিং-এ সমস্যা সমাধান না হলে তো ব্রিজের কাজটি আমাদের করতে দিবে না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও )মোছা. আকলিমা বেগম বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে। মূলত ঠিকাদারের কারণে কাজটি বন্ধ রয়েছে। তার প্রেক্ষিতে ঠিকাদারকে সর্বশেষ পত্র দিয়েছে কাজটি করার জন্য। ঠিকাদার কাজটি না করলে পুনরায় টেন্ডার করে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কাজটি দ্রুত শেষ করবেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. মে ২০২৫ ০২:০৯:এএম ৯ মাস আগে
টাঙ্গাইলে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যা

সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে রঞ্জু খন্দকার (৩৫) নামের এক মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (২৩ মার্চ) রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার (২২ মার্চ) রাতে উপজেলার কাশিল পশ্চিমপাড়া এলাকার মনির খানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রঞ্জু খন্দকার জেলার ভূঞাপুর উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামের রাজ্জাক খন্দকারের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল শহরের বৃজ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কাশিল পশ্চিমপাড়া এলাকার মনির খানের মাদকাসক্ত ছেলে ফরিদ খানকে টাঙ্গাইল শহরের বৃজ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে যোগাযোগ করেন। সেই প্রেক্ষিতে গত শনিবার (২২ মার্চ) রাতে বৃজ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের ছয় জন ব্যক্তি মনির খানের বাড়িতে যান। পরে মনিরের ছেলে ফরিদকে ঘর থেকে বের করার সময় তার চিৎকারে পাশের বাড়ির পলাশ, রিপন ও তালেব খানসহ কয়েকজন এগিয়ে আসে। পরে ফরিদ, পলাশ, রিপন ও তালেব খানসহ কয়েকজনে মিলে বৃজ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের লোকজনের ওপর অতর্কিহামলা চালায়। এ সময় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের কর্মচারী রঞ্জু খন্দকার মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। সেখানে তার সঙ্গে থাকা অপর লোকজন স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিরাময় কেন্দ্রের আরও চারজন আহত হন।

এদিকে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (২৩ মার্চ) রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে রঞ্জু খন্দকারের মৃত্যু হয়। পরে সোমবার (২৪ মার্চ) সকালে তার লাশ বাসাইল থানায় আনা হয়। পুলিশ তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফরিদ ও পলাশ মাদক কারবারি বলে স্থানীয়দের দাবি।

টাঙ্গাইল শহরের বৃজ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের মালিক খন্দকার মজিবর রহমান তপন বলেন, মাদকাসক্ত ফরিদকে বৃজ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে দেওয়ার জন্য তার বাবা মনির খান আমাদের কাছে আবেদন করেন। সেই প্রেক্ষিতে আমাদের মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের ছয়জন ফরিদকে আনতে তাদের বাড়িতে যান। সেখানে ফরিদকে আনার জন্য চেষ্টা করলে আমাদের লোকজনের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়। হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রঞ্জুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. মার্চ ২০২৫ ১২:০০:এএম ১০ মাস আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।