আরমান কবীরঃ বিএনপি’র দলীয় মনোনয়নেকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কতিপয় মনোনয়ন বঞ্চিতদের মিথ্যা ভিত্তিহীন বানোয়াট সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সন্মেলন করেছে টাঙ্গাইল -৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রবিউল আউয়াল লাভলু।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে নাগরপুরে তার নিজ বাসভবনে এই সংবাদ সন্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, আমি টাঙ্গাইল -৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে একটি গোষ্ঠী আমার মনোনয়ন বাতিলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি জানান, ১৯৮৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করি। ছাত্রদলের রাজনীতিতে অংশগ্রহন করে ছাত্রদলকে সু-প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে নিজের জীবন বাজী রেখে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি। তারই ফলশ্রুতিতে ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আমাকে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মহসিন হল শাখায় ক্রীড়া সম্পাদক মনোনয়ন প্রদান করলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হই। ৯০ এর স্বৈরাচার এরশাদ পতনের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হই। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে আমাকে আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিএসএফ হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করি। ২০০৯ সালে নাগরপুর উপজেলা বিএনপি’র সম্মানিত সদ্য ও ২০১০ সালে ঢাকা মহানগর বিএনপি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হই। ২০১১ সালে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও ২০২০ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে সহ-সভাপতি পদ লাভ করি। ২০২২ সালে নাগরপুর উপজেলা বিএনপি কমিটি গঠন হলে আমাকে সম্মানিত সদস্য নির্বাচিত করা হয়। ২০০৭ সাল থেকে নাগরপুরে বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহনের মাধ্যমে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রার্থনা করে মনোনয়ন বঞ্চিত হই। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রার্থী হয়ে আবারও মনোনয়ন বঞ্চিত হই। এডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী মনোনয়ন লাভ করেন। দলীয় নির্দেশনায় ও গৌতম চক্রবর্তীর আহবানে আমি দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করতে গিয়ে আমাকে আমার বাড়ী হতে ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশ দ্বারা গ্রেপ্তার হই এবং আমাকে পুলিশ থানা হাজতে নিয়ে যায়। অধ্যবধি পর্যন্ত নাগরপুর ও দেলদুয়ারের বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতৃত্বের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থেকে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, মনোনয়ন ঘোষনার পর আমাকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য নাগরপুর-দেলদুয়ারের দলীয় নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার সাধারণ জনতার ঢল নেমে আসে। পরবর্তীতে নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপি ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলাদল, কৃষকদল, ওলামা দল, তাতীদল, মৎসজীবীদল সহ সকল অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতা কর্মীরা ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে প্রচার প্রচারনা ত্বরান্বিত করার লক্ষে স্ব-স্ব ইউনিটের সাথে মত বিনিময় অব্যাহত আছে। আমার এহেন কর্মকান্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে মনোনয়ন বঞ্চিত কতিপয় কিছু স্বার্থোন্বেষী মহল বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে মিথ্য বানোয়াট ভুল তথ্য উপস্থাপন করে আমাকে ও আমার দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নাগরপুর উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আহমেদ আলী রানা, তোফায়েল আহমেদ বাসেদ, যুগ্ম-সম্পাদক ফারুক আহমেদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিজ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল রানাসহ নাগরপুর উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে একই সময়ে তিন সংগঠনের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (১ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ ধারা বলবৎ ছিলো। ফলে তিন সংগঠনের কেউই নির্ধারিত সমাবেশ করতে পারেনি।
এরমধ্যে উল্লেখিত স্থানে কোনো ধরেনের গণসংযোগ মিছিল, সভা-সমাবেশ, শ্লোগান, শোভাযাত্রা, পিকেটিং, অস্ত্র-শস্ত্র বিস্ফোরক দ্রব্য পরিবহনের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায় , শনিবার দেলদুয়ার মিনি স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ আয়োজনের জন্য কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর যুদ্ধকালীন কোম্পানি কমান্ডার ও টাঙ্গাইল জেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার একে ফজলুল হক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অনুমতির আবেদন করেন।
অন্যদিকে, একই স্থান ও তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল দেলদুয়ার উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ এবং দেলদুয়ার সদর ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক ওয়াহেদুল্লাহ মিয়া সমাবেশ করার অনুমতি চান। একই স্থানে একই সময়ে পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ঘোষণায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা এবং গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কবার্তার প্রেক্ষিতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোহরা সুলতানা যুথী বলেন, একই স্থানে একাধিক সংগঠন সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে বিশৃঙ্খলা এড়াতে জনগণের জানমাল রক্ষার্থে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেলদুয়ার উপজেলার স্টেডিয়াম চত্বরের ৫০০ গজ পরিসীমার মধ্যে সব ধরনের সমাবেশ, শ্লোগান, মিছিল, শোভাযাত্রা, পিকেটিং, মাইক্রোফোন ব্যবহার, ঢাকঢোল পিটানো, গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারবে না।
আরমান কবীরঃ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন মৃত্যুবরণ করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া-ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সোমবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল আলম জানান, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে হামিদুল হক মোহনকে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে আমরা দ্রুত তার ইসিজি করি। ইসিজি রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যায় তিনি পথিমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও তিন কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
হামিদুল হক মোহনের জ্যেষ্ঠ পুত্র নাজমুল হক মিল্টন জানান, সোমবার বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেলদুয়ার উপজেলার দেউলি ইউনিয়নের দেউলি গ্রামে লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণা শেষে বাদ মাগরিব টাঙ্গাইল শহরের কলেজ পাড়ার নিজ বাসভবনে ফেরার পথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন হামিদুল হক মোহন। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বাদ যোহর হামিদুল হক মোহনের নামাজে জানাজা টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
বিএনপি’র এই প্রবীণ রাজনীতিবিদদের মৃত্যুতে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, হামিদুল হক মোহন ৮ আগস্ট ১৯৫২ সালে টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের মঙ্গলহোড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আইনউদ্দিন আহমেদ ছিলেন পাথরাইল ইউনিয়ন পরিষদের দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান ছিলেন। হামিদুল হক মোহনের শিক্ষাজীবন শুরু টাঙ্গাইল শহরে, পরে বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও জামুর্কী নবাব স্যার আব্দুল গণি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি (১৯৬৫), এইচএসসি (১৯৬৬) ও স্নাতক (১৯৬৮) সালে সম্পন্ন করেন সা’দত কলেজ থেকে। মাওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে তিনি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আহ্বানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগদান করেন। তিনি দীর্ঘদিন জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের দু’টি বিক্রয় কেন্দ্রে সরকার নির্ধারিত নিয়মে ও সঠিক পরিমাণে হত-দরিদ্রদের জন্য স্বল্প মূল্যে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
রবিবার(২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ইউনিয়নের নান্দুরিয়া চক বাজার ও বারো আটিয়া বিক্রয় কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
সরেজমিনে, রবিবার সকালে নান্দুরিয়া চক বাজার বিক্রয় কেন্দ্র গিয়ে দেখা যায়, চাল নিতে আসা মহিলাদের দীর্ঘ লাইন। আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একজন মহিলা গ্রাম পুলিশকে নিয়োজিত করা হয়েছে এই বিক্রয় কেন্দ্রের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য।
এ ছাড়াও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাজ্জাত হোসেন আজাদ নিজে দাঁড়িয়ে থেকে উপকারভোগীদের ক্রেতাদের তদারকি করছেন।
এই কেন্দ্রে মোট ৪৮২ জন নিবন্ধিত উপকারভোগী রয়েছে। তাঁদের জন প্রতি ১৫ টাকা কেজি হারে ৩০ কেজি চালের মূল্য রাখা হচ্ছে ৪৫০ টাকা। এখানে জন প্রতি ৩০ কেজি চালের বস্তা দেওয়া হচ্ছে। ফলে চাল কম দেওয়ার কোনো রকম সুযোগ এখানে নেই।
কথা হয় চাল নিতে আসা মোছাঃ আসিয়া খাতুন, মোছাঃ ফাহিমা বেগম, রুবিনা আক্তারের সাথে। তাঁরা জানান, চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। ১৫ টাকা দরে তাঁরা ৩০ কেজির চালের বস্তা নিয়েছেন ৪৫০ টাকা দিয়ে।
তবে তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তার পর চাল নিতে হচ্ছে। এই বিতরণ প্রক্রিয়াটা আরও সহজ করার দাবি জানান।
বিক্রয় কেন্দ্রের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা গ্রাম পুলিশ হাসনা বেগম জানান, বিক্রয় কেন্দ্রে কোন ধরনের অনিয়ম কিম্বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি। সবাই লাইন ধরে দাঁড়িয়ে চাল নিচ্ছে।
সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির নান্দুরিয়া চক বাজারের ডিলার মেসার্স কথা টেডার্সের মালিক মোঃ লাল মিয়া জানান, গত মাসে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ১৫ তারিখে চাল বিতরণ করা হবে বলে মাইকিং করা হয়। অথচ আমি খাদ্য গুদাম থেকে চাল পেয়েছি ১৯ তারিখ। আর বিতরণ শুরু করেছি ২১ আগস্ট থেকে। আমার বিরুদ্ধে শহর বানু সহ আরো দুই জন চাল বিতরণে কম দেওয়ার অভিযোগ করেছে আগস্টের ২১ তারিখে অথচ আমার মাস্টার রোলের তথ্য অনুযায়ী তাঁরা চাল উত্তোলন করেছেন আগস্টের ২৩ তারিখে। তাহলে তাঁরা উত্তোলনের দুই দিন আগেই কিভাবে অভিযোগ করেন আমি তাদের পরিমাণে কম দিয়েছি?
তিনি আরও জানান, আমার এলাকার আরও কয়েকজন সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার শিপের জন্য আবেদন করেছিল। তাঁরা ডিলারশিপ পেতে ব্যর্থ হয়ে এই ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছে।
এই বিক্রয় কেন্দ্রে পরিদর্শনে আসা আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সাজ্জাত হোসেন আজাদ মাইকিং এর ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতার কথা স্বীকার করে জানান, আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এই কেন্দ্রে একজন মহিলা গ্রাম পুলিশকে নিয়োজিত করা হয়েছে। আটিয়া ইউনিয়নের দু’টি বিক্রয় কেন্দ্রে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। এ ছাড়াও সরকারের তরফ থেকেও একজন ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কার্যালয়ের আমিনুল ইসলাম চাল বিতরণ সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।
ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাইনুল হাসান জানান, সরকার নির্ধারিত দামে ও নিয়ম অনুযায়ী আটিয়া ইউনিয়নের নান্দুরিয়া চক বাজার ও বারো আটিয়া বিক্রয় কেন্দ্র থেকে চাল বিক্রয় করা হচ্ছে। আমি যতটুকু জানি, এই দু’টি বিক্রয় কেন্দ্রে কোন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কোন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক তারেক শামস খান হিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৪ জুলাই) ভোরে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নাগরপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত তারেক শামস খান হিমু নাগরপুর উপজেলার তেবারিয়া গ্রামের মৃত হুমায়ন খানের ছেলে। তিনি ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ঈগল’ প্রতীক নিয়ে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তার নামে নাগরপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক থাকার পর সোমবার ভোরে দেশে ফিরলে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে নাগরপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে নাগরপুর থানা পুলিশের একটি দল তাকে থানায় নিয়ে আসে।
তিনি আরও জানান, নাগরপুর থানা পুলিশ সোমবার বেলা ৩টার দিকে তারেক শামস হিমুকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করেছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদারের কাজের গাফিলতিতে নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ কাজ। দীর্ঘ প্রায় তিন বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় এই সড়ক ব্যবহারকারী কয়েক লাখ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে এই বর্ষায় এই রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই সড়ক ব্যবহারকারী জনসাধারণের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রহস্যজনক কারণে ঠিকাদার কাজ শেষ করছেন না।
টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল অংশে টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণের আওতায় ২৪.৬৫০ কি.মি. অংশে রিজিড প্রেভমেন্ট ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ। এতে টাঙ্গাইল অংশে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয় ২শত ৯৪ কোটি ৬০ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা।
প্রকল্পের কাজ পায় আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ও এনডিই নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালের ৩০ জুন ৫টি প্যাকেজের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দীর্ঘ সময় প্যাকেজ ১ ও প্যাকেজ ২ এর কাজ স্থবির হয়ে পড়ে।
তবে আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ ৫ এর অন্তর্ভুক্ত ২টি ব্রীজ ও ২টি কালভার্টের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বাকি দুটি প্যাকেজ ৩ ও ৪ এ কাজ করছে এনডিই নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এরমধ্যে আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ ১ এ ৬ কি.মি. এর বিপরীতে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয়েছে ৬৭ কোটি ৮৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন করেছে মাত্র ৮.৭৫ শতাংশ। এর বিপরীতে বিল উত্তোলন করেছে ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
প্যাকেজ ২ এ ৬ কি.মি. এর বিপরীতে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয়েছে ৬৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন করেছে ২৯.৭৭ শতাংশ। এর বিপরীতে বিল উত্তোলন করা হয়েছে ১৯ কোটি ৮১ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
প্যাকেজ ৫-এর ২টি ব্রীজ ও ২টি কালভার্টের বিপরীতে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয়েছে ৪৪ কোটি ১৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন করেছে মাত্র ২.২১ শতাংশ। এর বিপরীতে বিল উত্তোলন করেছে ৯৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় শেষ করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন, আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। সময় বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে কোন আবেদন জমা করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিসিএল-র্যাব-আরসি।
তবে এনডিই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ২টি প্যাকেজর মধ্যে একটির ৩-এর ৯২ শতাংশ কাজ শেষ করেছে। বাকি প্যাকেজ ৪-এর ৬৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বেশিরভাগ অংশে খানাখন্দসহ বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
এই নির্মানাধীন সড়কে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আব্দুর রহমান বলেন, সড়কের এমন অবস্থা একটু বৃষ্টি হলেই যাওয়ার উপায় নেই। না যায় হাটা না চালানো যায় রিকশা। যে টাকা আয় করি তার বেশিরভাগই রিকশা মেরামত করতেই খরচ হয়ে যায় ।
মোটরসাইকেল আরোহী ইকবাল কবীর বলেন, উন্নয়নের নামে ভোগান্তি শুরু হয়েছে। কষ্ট লাঘবের জন্য সড়কের উন্নয়ন অথচ কষ্ট আরো বেড়ে গেছে। লাভ হলো কি?
স্থানীয় বাসিন্দা আনিসুল হক বলেন, আওয়ামী লীগের দোসররা তো নাই। তাহলে ভোগান্তি লাঘব হচ্ছে না কেন? এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তদন্ত করার জোর দাবি জানান তিনি।
আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নমিনেটেড সাব ঠিকাদারের প্রজেক্ট ম্যানেজার আব্দুল মান্নান বলেন, আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রথমে যে সাব ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ শুরু করে তাদের অপারগতায় দীর্ঘদিন কাজ স্থবির হয়ে পড়ে। পরে আমরা উক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নমিনেটেড সাব ঠিকাদার হিসেবে কাজ শুরু করি।
তিনি আরও বলেন, ব্রিজ নির্মাণের সময় আছে। নির্দিষ্ট সময়েই তা শেষ হবে বলে আশা করছি। রাস্তার কাজ শেষ করতে ব্যাংক জটিলতা দেখা দিয়েছে। একারনে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। আশা করছি আমাদের প্রতিষ্ঠান খুবশীঘ্রই ব্যাংক জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারবে । তাছাড়া নকশায় রাস্তা অন্তর্ভুক্ত জমির মালিকগণ তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বিলম্ব করা ও জমি অধিগ্রহনের টাকা পরিশোধ না করায় কাজের গতি ধীর হয়েছে। তবে শীঘ্রই এইসব সমস্যা সমাধান পূর্বক প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মোল্লা বলেন, আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ (প্যাকেজ ১, প্যাকেজ ২ ও প্যাকেজ ৫) গাফিলতির কারনে গত কয়েক মাস যাবত কাজটি শেষ করার কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, দাপ্তরিক তাগিদ ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মহাদয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। তবুও কাজটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কাজের চুক্তির সাথে নিরাপত্তা জামানতের মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নতুন নিরাপত্তা জামানত দাখিল না করায় সময় বৃদ্ধির আবেদন গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয়কে গত ৫ জানুয়ারী এ বিষয়ে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান বলেন, গত বছরই ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাদেরকে গত ৪ মার্চ সড়ক বিভাগ টাঙ্গাইল, ১০ মার্চ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মহোদয় ও পিপিআর ২০০৮ মোতাবেক চুক্তি বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশসহ একাধিক নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২৩ জুন স্টিয়ারিং কমিটির সভায় ওই সড়কের বিষয়ে সচিব মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে টার্মিনেশন করা হবে। পরবর্তীতে তাদের লাইন্সেস হ্যাম্পার করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুর কথিত দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিত ইয়াকুব ওরফে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করেছে দেলদুয়ার থানা পুলিশ।
সোমবার (২৩ জুন) দিবাগত গভীর রাতে সদর উপজেলার সিলিমপুর ইউনিয়নের সিলিমপুর পেট্রোল পাম্পের কাছের একটি বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদরসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
অত্যন্ত দুর্ধর্ষ ইয়াকুব ওরফে সিয়ামকে দিয়ে সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু নির্বাচনের সময় প্রতিপক্ষের উপর সংঘঠিত হামলাগুলো পরিচালনা করাতেন।
ফ্যসিস্ট আওয়ামী লীগ শাসনামলে সিয়ামের নেতৃত্বে দেলদুয়ার উপজেলায় একটি শক্তিশালী মাদকের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে একাধিকবার আটক হলেও সাবেক প্রতিমন্ত্রী টিটুর সুপারিশে প্রতিবারই পার পেয়ে যায় সিয়াম।
গত বছরের ৫ আগস্টের পর সে সম্ভাব্য গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিল।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেব খান বলেন, নানা অপকর্মের হোতা ইয়াকুব ওরফে সিয়ামকে গভীর রাতে সিলিমপুর ইউনিয়নের পেট্রোল পাম্পের কাছের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিয়মিত মামলায় মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে তাকে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সাইফুল আলম (৪০) নামে এক মৎস্য ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার ডুবাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফুল আলম টাঙ্গাইল পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সাকরাইল পশ্চিম পাড়া এলাকার মৃত সাব্বির আহমেদের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল পার্ক বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী ছিলেন।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে তিন টার দিকে সাইফুল আলম এক জেলেকে সাথে নিয়ে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাযোগে মির্জাপুরের একটি হ্যাচারিতে মাছের রেনু কিনতে যাচ্ছিলেন। মহাসড়কের ডুবাইল এলাকায় পৌঁছলে তিন ছিনতাই মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরে পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে নগদ টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। সাইফুল আলম তাদের বাঁধা দিলে তাকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। পরে সাইফুল আলমকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেব খান জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কটুক্তি ও অশোভন কার্টুন পোষ্টের জেরে গণপিটুনির শিকার হয়েছে এক হিন্দু যুবক। বর্তমানে এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ওই যুবককে উদ্ধার করে প্রথমে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে নিরাপত্তা জনিত কারণে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রবিবার (৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে দেলদুয়ার সদর উপজেলার দেলদুয়ার দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃত ওই যুবকের নাম অখিল চন্দ্র মন্ডল (৪০)। সে দেলদুয়ার সদর উপজেলার দেলদুয়ার দক্ষিণ পাড়া এলাকার গেদু চন্দ্র মন্ডলের ছেলে। সে পেশায় একজন স্বর্ণকার।
জানা যায়, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কটুক্তি ও অশোভন কার্টুন পোস্ট করে উপজেলা সদর ইউনিয়নের দেলদুয়ার দক্ষিণ পাড়া এলাকার গেদু চন্দ্র মন্ডলের ছেলে অখিল চন্দ্র মন্ডল নামের এক হিন্দু যুবক। পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ বিক্ষুব্দ হয়ে ওঠেন। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ওই যুবকের নিজ কর্মস্থল দেলদুয়ার দক্ষিণ পাড়া বাজারের জুয়েলারী দোকানে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চায় ওই যুবকের কাছে। পরে চারপাশের অবস্থা উত্তপ্ত দেখে অভিযুক্ত অখিল পাশের আরেকটি দোকানে আশ্রয় নেয়। এসময় বিক্ষুব্ধ জনগণ তার বিচার চেয়ে দোকানটির চারপাশ ঘিরে রেখে স্লোগান দিতে থাকে।
খবর পেয়ে দেলদুয়ার থানা পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীকেও জানানো হয়। এরমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহমেদ ঘটনাস্থলে পৌছে সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এসময় সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিক্ষুব্ধ জনতা ওই যুবককে দোকানের ভিতরে ঢুকে গণপিটুনি দিতে শুরু করে।
এ সময় পুলিশ সদস্য ও উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আজাদ মিয়া জনতার হাত থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে সিএনজিতে তুলে দেন। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ওই যুবককে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে গণপিটুনিতে আহত ওই যুবক টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ নিয়ে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানায় এবং স্লোগান দিতে থাকে।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহমে তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে যতদ্রুত সম্ভব সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল হক হাওলাদার জানান, অভিযুক্ত ওই যুবককে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে সে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোমবার (৭ এপ্রিল) সকালে তাকে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে তেলের লরির আগুনে ২১টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আনুমানিক ৮০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার (২১ মার্চ) সকালে উপজেলার লাউহাটি বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট প্রায় ৫ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে লাউহাটি বাজারে তেলের দোকানের একটি মোটরসাইকেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে মুহূর্তেই আগুন আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে। পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টার পর দুপুর ২টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডে খাবারের দোকান, মুদি দোকান, কম্পিউটারের দোকানসহ প্রায় ২১টি দোকান পুড়ে হাই হয়ে যায়।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা হাদিউল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে টাঙ্গাইল, নাগরপুর, দেলদুয়ার এবং মির্জাপুরের ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহত হয়নি। আনুমানিক ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ৮০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৯টার দিকে দেলদুয়ার-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক সড়কের পাথরাইল বটতলা এলাকায় একটি ট্রাকের ধাক্কায় বেল্লাল হোসেন (৫৫) নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহত বেল্লাল হোসেন উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের পাথরাইল গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, বেল্লাল হোসেন বটতলায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি ট্রাক পিছন দিক থেকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাটিয়াপাড়া এলাকায় ভোর সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী একটি পিকআপ অপর একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে পিকআপ চালক রাশেদ (৩৪) ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহত রাশেদ বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার বৃকুষ্টিয়া গ্রামের মৃত নায়েব আলীর ছেলে।
উভয় ঘটনায় নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেলদুয়ার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেব খান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামান তোতার বাসায় রাতের আধারে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মালামাল ও নগদ অর্থসহ চুরি যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গত বুধবার (১ জানুয়ারি) ভুক্তভোগীর মেয়ে শাহনাজ আক্তার তৃষ্ণা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মঙ্গরবার দিবাগত রাতে দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের শুভকী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শাহনাজ আক্তার তৃষ্ণা উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের শুভকী গ্রামে চাঁন মিয়ার স্ত্রী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামান তোতার মেয়ে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার শুভকী গ্রামে তার বাড়িতে প্রতিদিনের ন্যায় রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে তার ভাগনী জামাই সজীব ঘরের দরজা-জানালা ভালভাবে আটকিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। রাতের যেকোন সময় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা উক্ত বাড়ি-ঘরের দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে ঘরে রাখা আলমারীর তালা ভেঙ্গে আলমারীতে রাখা নগদ ১ লাখ সত্তুর হাজার টাকা এবং ১ ভরি ৫ আনা ওজনের স্বর্ণের গহনা (যার মূল্য অনুমান ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা) নিয়ে যায়। অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা চলে যাওয়ার সময় উক্ত ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখে যায়। তার ভাগনী জামাই ও ভাগনী শব্দ পেয়ে ঘুম থেকে উঠে দেখে যে, ঘরের দরজা এবং ঘরের আলমারী খোলা। আলমারীতে রাখা উক্ত টাকা এবং গহনা অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা নিয়ে গেছে। পরে শাহনাজ আক্তার তৃষ্ণা বুধবার (১ জানুয়ারি) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রতিবেশী সামেদা আক্তার, রাশেদা বেগম, নুরুল ইসলাম ,মো. আফজাল হোসেনসহ অনেকেই জানায়, আযান দেওয়ার আধঘন্টা পুর্বে মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামান তোতার বাড়িতে হাউমাউ করার শব্দ পেয়ে তারা এগিয়ে যান। পরে দেখেন স্টিলের আলমারী ও সুকেচ ভাঙা। ওই বাড়িতে বেড়াতে আসা আলতাফ হোসেন নামের এক ব্যক্তি জানান, মুক্তিযোদ্ধার ছেলে আরিফ তার খালাতো ভাই। কিছুদিন পুর্বে তার খালাতো ভাই আরিফ ৩ লাখ টাকা ধার করেন। সেই ধারের টাকার জন্য বাড়িতে সাইনবোর্ড লাগিয়েছে পাওনাদার। পাওনাদারের টাকা পরিশোধ করার জন্য তিনি গরু বিক্রি করে ১ লাখ সত্তুর হাজার টাকা নিয়ে এসেছেন।
মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে ও মামলার বাদী শাহনাজ আক্তার তৃষ্ণা বলেন, তার ভাই সম্প্রীতি ৩ লাখ টাকা সুদ করেন। সেই টাকার জন্য সুদ কারবারীরা আদালতে মামলা দায়ের করেন। ইতোমধ্যে তিনি ওই সুদকারবারীকে কিছু টাকা পরিশোধ করেছেন। সাকুল্য টাকা দিতে না পারায় তাদের বাড়িতে ওই সুদ কারবারীরা সাইনবোর্ড লাগায়। ওই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য আমার খালতো ভাই আক্তার হোসেন গরু বিক্রি টাকা নিয়ে আসছিলো। সেই টাকা ও আমাদের স্বর্ণ অলংকার গুলো চুরি করে নিয়ে যায়। এঘটনায় তিনি দেলদুয়ার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোয়েব খান বলেন, ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত পুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।