/ হোম / এক্সক্লুসিভ
টাঙ্গাইলে বিএনপিতে যোগ দিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের শতাধিক নেতাকর্মী - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিএনপিতে যোগ দিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের শতাধিক নেতাকর্মী

আরমান কবীরঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর হাত ধরে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতি মিলনায়তনে এই যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় তাদের বরণ করে নেন বিএনপি নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

এ সময় সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলী গ্রামের শাহাদত খান, ফিরোজ, আতোয়ার খান, গোলাপ খান, মহির খান, নজরুল মেম্বার, আবু বক্কর সিদ্দিকীসহ শতাধিক নেতাকর্মী এ সময় বিএনপিতে যোগদান করেন।

নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা গামছা প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন। এবার সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর প্রতি আস্থা রেখে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে বিজয়ী করতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলেও অঙ্গীকার করেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজিমুক্ত, কিশোর গ্যাংমুক্ত, নিরাপদ ও আধুনিক টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে কাজ করবেন।

এই যোগাযোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কাজী শফিকুর রহমান লিটন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুর আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. জানুয়ারী ২০২৬ ০৬:০৪:পিএম ৭ ঘন্টা আগে
টাঙ্গাইলে গণভোটের প্রচারণায় স্থবিরতা, জেলা তথ্য অফিসের বিস্ময়কর নীরবতা!  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে গণভোটের প্রচারণায় স্থবিরতা, জেলা তথ্য অফিসের বিস্ময়কর নীরবতা! 

আরমান কবীরঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চললেও টাঙ্গাইল জেলা তথ্য অফিসের কোনো প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়ছে না। গণভোটকে কেন্দ্র করে বিস্ময়কর নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে জেলা তথ্য অফিস জুড়ে।

জেলার সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে গণভোটের হ্যাঁ ও না ভোটের আমেজ নির্বাচনী মাঠে উজ্জীবিত করা হোক।

ভোটগ্রহণের সময় ঘনিয়ে এলেও সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে মাইকিং, ডিজিটাল ডিসপ্লে,পোস্টারিং বা উঠান বৈঠকের মতো ন্যূনতম কার্যক্রমও শুরু করেনি সংস্থাটি। ফলে রাষ্ট্র সংস্কার তথা পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় জনমনে এক ধরনের অস্পষ্টতা ও অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে জেলা সদর ও জেলার ১২টি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখা গেছে, গণভোটের সমর্থনে বা তথ্য সম্বলিত কোনো ডিজিটাল ডিসপ্লে বা ব্যানার টাঙ্গাইল তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে স্থাপন করা হয়নি।

অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটারদের সচেতন করতে তৃণমূল পর্যায়ে এ দপ্তরের প্রচারণা চালানোর কথা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক ভোটার এখনও জানেন না গণভোটের ভোটদানের নিয়মাবলী। শুধুমাত্র ২-১টি স্থানে নির্বাচন কমিশনের বড় বড় ব্যানার টানানো হয়েছে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ধরেরবাড়ি গ্রামের আজমত আলী, সবদের মিয়া, মজনু প্রামাণিক, কোনাবাড়ি গ্রামের আমজাদ আলী সরকার ও নাছির উদ্দিন; কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুরের আজাহার তালুকদার, ময়ছের আলী, নাগবাড়ীর আকবর সওদাগর, রতনগঞ্জের লাবু মিয়া, হোসেন আলী, বল্লা গ্রামের মিন্টু মিয়া ও আব্দুস সামাদ; নাগরপুর উপজেলার ছলিমাবাদের আব্দুল হাকিম ও নওশের তালুকদার; মির্জাপুর উপজেলার ফতেহপুরের আরশেদ আলী ও জমির উদ্দিন; সখীপুর উপজেলার মাইধারচালা গ্রামের নসীব উদ্দিন ও কালোমেঘার জমির আলী; ধনবাড়ী উপজেলার মুসুদ্দীর আবুল কাশেম ও নাজমুল হোসেনসহ বিভিন্ন উপজেলার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গণভোট সম্পর্কে তথ্য অফিসের কোনো প্রচারণা তাদের চোখে পড়েনি।

প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে তা-ই জানেন না। তাদের কাছে হ্যাঁ ভোট বা না ভোট দিলে কী হবে সে প্রশ্ন তো অবান্তর। অনেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে অবগত হলেও গণভোট সম্পর্কে কোনো ধারণা রাখেন না।

স্ব স্ব স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, তথ্য অফিসের এই রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তার কারণে সাধারণ ভোটাররা গণভোট বিমুখ হতে পারেন যা মোট ভোটদানের হারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে প্রচারণার অভাব প্রকট। রাজনৈতিক দলগুলো ও তাদের প্রার্থীরা স্ব স্ব প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালালেও গণভোটের বিষয়ে কোনো প্রচারণা নেই। ফলে রাষ্ট্র সংস্কারের ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে নেতিবাচকতা দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা তথ্য অফিসের জনৈক কর্মচারী জানান, তারা মাঠ পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে শুধুমাত্র দুই দিন সদর উপজেলার দুই স্থানে মাইকিং করার বাইরে কোনো প্রচারণার তথ্য তিনি দিতে পারেন নাই। তারা মাঠ পর্যায়ের প্রচারণার চেয়ে দাপ্তরিক কাজেই বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।

 

টাঙ্গাইল জেলা তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা তাহলিমা জান্নাত জানান, বিভিন্ন দপ্তর থেকে আসা নির্দেশনা অনুযায়ী তারা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছেন আলাদাভাবে, তারা কোনো বিশেষ প্রচারণা চালান না। তারা গণভোটের প্রচার-প্রচারণা তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত করেছেন। তবে দু’টি স্থানে মাইকিং ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে প্রচারণার তথ্য তিনি দিতে পারেননি।

সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকেই গণভোটের প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তারা ৩৬০টি বড় বড় ব্যানার ও এক লাখ ৮০ হাজার লিফলেট বরাদ্দ পেয়েছেন। ব্যানারগুলো প্রতিটি উপজেলা ও জেলা সদরে টানানো হয়েছে। লিফলেটগুলোও দ্রুতই জনসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. জানুয়ারী ২০২৬ ১২:১৪:এএম ৬ দিন আগে
পদত্যাগ করলেন সখিপুর উপজেলা কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক - Ekotar Kantho

পদত্যাগ করলেন সখিপুর উপজেলা কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর–বাসাইল) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে দল থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সখীপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীব।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে তিনি দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান।পদত্যাগপত্রে তিনি শারীরিক ও পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। রাত ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে ওই আবেদনপত্র তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেন।

এর আগে কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাতে সখীপুর উপজেলার সিলিমপুর এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সানোয়ার হোসেন সজীব তাকে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য দেন।

ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ সময় কেউ কেউ দাবি করেন, তিনি কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সানোয়ার হোসেন সজীব। সোমবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে তিনি বলেন,‘আমি শুধু কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছি। অন্য কোনো দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেইনি। আপাতত রাজনীতির বাইরে আছি।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন,‘আমি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর দলের রাজনীতি করেছি। বিএনপিও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। সে কারণে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে আমার অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব সমর্থন থাকবে।

এবিষয়ে কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে দলের কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুন্নবী সোহেল তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন,‘রাজনৈতিক দল একটি আদর্শিক ঠিকানা। এখানে কেউ আসে, কেউ যায়, কেউ নিষ্ক্রিয় হয়—এটাই স্বাভাবিক। দল এগিয়ে যাবে জনতার সমর্থনে, তার আপন মহিমায়।’

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. জানুয়ারী ২০২৬ ০২:০৭:এএম ২ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইলে মগড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অপসারণের দাবিতে অনাস্থা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মগড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অপসারণের দাবিতে অনাস্থা

আরমান কবীরঃ নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হারুণ অর রশীদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা।

গত ২৩ নভেম্বর দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন তাঁরা। অভিযোগটি বর্তমানে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)এর কাছে তদন্তাধীন রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের পর ইউপি সদস্য মো. হারুণ অর রশীদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পে সুষম বণ্টন না করে নিজের ইচ্ছামতো প্রকল্প বাস্তবায়ন, কাজ না করেই প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, প্রকল্পের টাকা লুটপাট এবং নিজের পছন্দের ইউপি সদস্যদের দিয়ে পরিষদের যাবতীয় কাজ করানোর মতো নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এ ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বরাদ্দ কাজের অধিকাংশ তার ৬ নং ওয়ার্ডের করেছে বলে অভিযোগ করেছেন অধিকাংশ ইউপি সদস্য। ফলে তাদের এলাকাবাসীকে উন্নয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি পরিষদের অন্যান্য ইউপি সদস্যদের অবজ্ঞা করতে থাকেন এবং কাউকে তোয়াক্কা না করে একক সিদ্ধান্তে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এরই মধ্যে তিনি একটি অপহরণ মামলায় জড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ওই মামলাটি স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসা করা হয় বলে দাবি করেছেন ইউপি সদস্যরা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হারুণ অর রশীদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,ইউপি সদস্যরা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে অপসারণের দাবি তুলেছেন। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া বলেন,মগড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হারুণ অর রশীদের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের দেওয়া অনাস্থার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. জানুয়ারী ২০২৬ ১২:৩৯:এএম ২ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইলে অধিক দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি: তিন ব্যবসায়ীকে দুই লাখ টাকা জরিমানা  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে অধিক দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি: তিন ব্যবসায়ীকে দুই লাখ টাকা জরিমানা 

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে তিন ব্যবসায়ীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে এই অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল ।

আসাদুজ্জামান রুমেল জানান ,বিক্রয় রশিদ না থাকায় এবং অধিক দামে বিক্রি করার দায়ে সদর উপজেলায় করটিয়া ইউনিয়নের গড়াসিন বাজারে জামান ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা, একই ইউনিয়নের কুমুল্লি বাজারের আসমা ট্রেডার্সকে ১ লাখ টাকা এবং করটিয়া বাজারের আজাদ ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে কজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল বলেন, জেলায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক দামে বিক্রি করছে।

ফলে ভোক্তা পর্যায়ে বাধ্য হয়ে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে তিন থেকে চারশো টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার সংগ্রহে বাধ্য হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যোক্তিক। প্রান্তিক পর্যায়ের ভোক্তারা যেন সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে পারে সে ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

অভিযানে সদর উপজেলার সেনেটারি ইন্সপেক্টর সাহিদা আক্তারসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. জানুয়ারী ২০২৬ ০৪:৪১:পিএম ২ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে ২৮ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে ২৮ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

আরমান কবীরঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের আটটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে পর ২৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শনিবার ও শুক্রবার দুই দিনের যাচাই-বাছাইয়ে এসব মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের আটটি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মোট ৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে বিভিন্ন ত্রুটি ও শর্ত পূরণ না করায় ২৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এর মধ্যে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) চারটি আসনের নয়জন এবং শনিবার (৩ জানুয়ারি) বাকি চারটি আসনের ১৯জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিভিন্ন কারণে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তারা হচ্ছেন- গণসংহতি আন্দোলনের ফাতেমা আক্তার, খেলাফতে মজলিসের হাসনাত আল আমিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাকির হোসেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির হাসরত খান ভাসানী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ছানোয়ার হোসেন।

টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলমুয়ার) আসনে আসনে মোট ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হচ্ছেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী জুয়েল সরকার, রিপন মিয়া, শরিফুল ইসলাম, সাইফুর রহমান ও জাতীয় পার্টির মো. মামুনুর রহিম।

টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। তারা হচ্ছেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম রেজাউল করীম আল রাজি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ হায়দার খান, খেলাফত মজলিসের মো. আবু তাহের।

টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের প্রার্থীতা বাতিল হয়েছে। তারা হচ্ছেন- বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির আওয়াল মাহমুদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল ফজল মাহমুদুল হক, এসএম হাবিবুর রহমান, হাবিবুর রহমান কামাল, আমজনতা দলের মো. আলমগীর হোসেন, খেলাফত মজলিসের মো. শহিদুল ইসলাম।

এর আগে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) চারটি আসনের নয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোন্তাজ আলী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হারুন অর রশীদের মনোনয়ন বাতিল হয়। টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মনোয়ার হোসেন সাগরের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

টাঙ্গাইল-৩(ঘাটাইল) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আইনিন নাহার ও শাহজাহান মিয়া।টাঙ্গাইল-৪(কালিহাতী) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলী আমজাদ হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম মিঞা ও ডা. শাহ আলম তালুকদারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, দুই দিনের যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়ন বাতিলের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি, আয়-ব্যয়ের সত্যায়িত কপি জমা না দেওয়া, সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা এবং অবসর পরবর্তী নির্ধারিত সময় পূর্ণ না হওয়া। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. জানুয়ারী ২০২৬ ১২:০৬:এএম ৩ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইল সদরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল সদরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল

আরমান কবীরঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শরীফা হকের কাছে তার মনোনয়ন পত্র জমা দেন।

এসময় ফরহাদ ইকবালের মনোনয়ন পত্রের প্রস্তাবকারী, সমর্থনকারী ও দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার পর ফরহাদ ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মানুষ সদর উপজেলার ছেলেকেই এমপি নির্বাচিত করতে চায়। সদর উপজেলাবাসীর চাওয়া কে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছি। আমি এখনও বিশ্বাস করি দলীয় নেতৃবৃন্দ তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আমাকেই সমর্থন দিবে। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী টাঙ্গাইল সদরের জনগন ব্যালট বিপ্লব ঘটিয়ে আমাকে বিজয়ী করবে।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

 

 

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. ডিসেম্বর ২০২৫ ০১:২৮:এএম ৩ সপ্তাহ আগে
মডেল টাঙ্গাইল গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু - Ekotar Kantho

মডেল টাঙ্গাইল গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

আরমান কবীরঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার শরীফা হকের কাছে তিনি তার মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি মো. হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি আহমেদুল হক শাতিল এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলী।

মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত, কিশোর গ্যাংমুক্ত, নিরাপদ ও আধুনিক টাঙ্গাইল গড়ার যে অঙ্গীকার তিনি করেছেন, ইনশাআল্লাহ সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করবেন। জনগণের ভালোবাসা ও দোয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত হলে টাঙ্গাইল সদরকে উন্নয়ন ও সুশাসনের ক্ষেত্রে একটি মডেল টাঙ্গাইল হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। আগামী দিনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে ধানের শীষের পক্ষে সব ভেদাভেদ ভুলে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। ব্যক্তি নয়, দল বড়- আর দলের চেয়েও দেশ বড়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এই আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমরা সামনে এগিয়ে যাব।

তিনি সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপি থেকে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে ২১ ডিসেম্বর তিনি জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জেলা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

এদিকে,সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মনোনয়নপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

উল্লেখ্য, প্রথমবারের মতো টাঙ্গাইল-৫ সদর আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাকে প্রায় ৩৫০টি হয়রানিমূলক মামলার মুখোমুখি হতে হয় এবং ১২ দফা কারাভোগ করেন। এ সময়ে তিনি মোট প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে ছিলেন এবং টানা ৪৬ দিন রিমান্ডে থাকতে হয় তাকে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৫৬:এএম ৩ সপ্তাহ আগে
এনসিপি ছাড়ার ঘোষণা মওলানা ভাসানীর নাতির - Ekotar Kantho

এনসিপি ছাড়ার ঘোষণা মওলানা ভাসানীর নাতির

আরমান কবীরঃ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির কৃষক উইং এর প্রধান সমন্বয়কারী ও মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি আজাদ খান ভাসানী।

রবিবার (২৮ ডিসেম্বর )রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।তিনি জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা ও মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শের পক্ষাবলম্বনই আমার কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের হাত ধরে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে আমি যুক্ত হয়েছিলাম। শুরু থেকেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে মহান মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত লড়াইয়ের এক ধারাবাহিক অধ্যায় হিসেবে আত্মস্থ করেছি। তেপ্পান্ন বছরের পুঞ্জীভূত বৈষম্য, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখাই ছিল আমার সেই পথচলার প্রেরণা।’

তিনি আরও বলেন, ‘মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর দেখানো গণমানুষনির্ভর, আধিপত্যবাদ-সাম্রাজ্যবাদ ও বৈষম্যবিরোধী পালনবাদী রাজনীতির স্বপ্ন থেকেই প্রথমে জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গে যুক্ত হই। সেই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় দলের কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্বও গ্রহণ করি।’

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, বাস্তব অভিজ্ঞতায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা, গণমানুষের প্রতি দরদ ও ত্যাগের যে গভীরতা প্রয়োজন এখানে তার স্পষ্ট ঘাটতি আমি অনুভব করেছি। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত সাফল্য দেখা যায়নি।’

মওলানা ভাসানীর নাতি বলেন, ‘এই বাস্তবতায় বেশ কিছুদিন ধরে সরাসরি সক্রিয় না থেকেও দলটির সঠিক রাজনীতি ও সাফল্য কামনা করে গেছি। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা ও মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শের পক্ষাবলম্বনই আমার কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই দায় ও আদর্শের প্রতি অবিচল থাকতেই আজ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গে আমার আনুষ্ঠানিক সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি।’

তিনি বলেন, ‘এনসিপির সঙ্গে আমার এই স্বল্পকালীন পথচলায় কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো। তারুণ্যের অভিযাত্রী দলটির প্রতি রইলো আন্তরিক শুভকামনা। গণমানুষের রাষ্ট্র বিনির্মাণের সংগ্রামে তারা যেন সঠিক পথ খুঁজে পায় এই প্রত্যাশাই থাকলো।’

এর আগে এ বছরের গত ৬ সেপ্টেম্বর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর অনুমোদনক্রমে কৃষক উইংয়ের প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে প্রধান সমন্বয়কারী করা হয়েছিল আজাদ খান ভাসানীকে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. ডিসেম্বর ২০২৫ ০৪:৫৫:পিএম ৩ সপ্তাহ আগে
সংসদ নির্বাচনে অংশ নিবেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী - Ekotar Kantho

সংসদ নির্বাচনে অংশ নিবেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী

আরমান কবীরঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমানে কার্য্যক্রম স্থগিত থাকা রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের কালিহাতী সদরের তার নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

এ সময় আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে আমি দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলাম-নির্বাচনে অংশ নেবো কি নেবো না। আমি সবসময় জনগণের মতামত ও জনরায়কে প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করি। আমার কর্মী-সমর্থক এবং এলাকার সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়েই আমি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দিবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে গণসংযোগ ও নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি। ঘোষণার সময় তার শুভানুধ্যায়ী ও কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে কালিহাতী আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. ডিসেম্বর ২০২৫ ০৫:১৪:পিএম ৪ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-মেয়ে নিহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-মেয়ে নিহত

আরমান কবীরঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াইয়ে পর পর চারটি যানবাহনের ধাক্কায় একটি প্রাইভেটকারের যাত্রী মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ফ্লাইওভারের পূর্বপাশে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহতরা হচ্ছেন- ফেনী জেলার জিসান কবির টিপুর স্ত্রী সাদিয়া কবির (৩৭) ও তাঁর ১০ মাস বয়সী কন্যা তাজরিয়া কবির পিয়ম।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিহত সাদিয়া কবির টাঙ্গাইলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে প্রাইভেটকারযোগে ঢাকার মিরপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মহাসড়কের গোড়াই ফ্লাইওভারের পূর্বপাশে পৌঁছালে তাদের বহনকারী সাদা রঙের (ঢাকা মেট্রো খ-১৩-০৪৩০) প্রাইভেটকারটি সামনে থাকা ঢাকাগামী (ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-৩৭৬৩) ট্রাককে ধাক্কা দেয়। ওই প্রাইভেটকারটিকে অপর একটি লাল রঙের (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪-৮৫৪৯) প্রাইভেটকার সজোরে ধাক্কা দেয়। অন্যদিকে পেছনে থাকা অপর একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৮২৩৮) লাল রঙের প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দেয়।

এ ঘটনায় সাদা প্রাইভেটকারে থাকা যাত্রী মা ও মেয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এতে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে রেকারের মাধ্যমে মহাসড়ক থেকে গাড়িগুলো সরিয়ে নিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ট্রাকের ড্রাইভার পলাতক রয়েছেন।

এ বিষয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সোহেল সারোয়ার বলেন, চারটি পরিবহন পর্যায়ক্রমে ধাক্কা দেয়। এতে দুইজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. ডিসেম্বর ২০২৫ ০৪:৪২:পিএম ৪ সপ্তাহ আগে
ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় টাঙ্গাইলে জনজীবন বিপর্যস্ত - Ekotar Kantho

ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় টাঙ্গাইলে জনজীবন বিপর্যস্ত

আরমান কবীরঃ পৌষের মাঝামাঝি সময়ে কনকনে হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে টাঙ্গাইলের দিগন্ত।

বুধবার(২৪ ডিসেম্বর) ভোররাত থেকেই জেলা শহরসহ ১২টি উপজেলার পথ-ঘাট ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।

এদিন, বুধবার সকাল থেকে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। কুয়াশার তীব্রতায় দৃষ্টিসীমা কমে আসায় চালকরা হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকগুলো নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা দেরি করছে। মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ মোড়গুলোতে দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

মহাসড়কে চলাচলকারী নাদের পরিবহনের চালক সুমন মিয়া জানান, ঢাকা থেকে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন। মহাসড়কে ভোর থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি কুয়াশা পড়েছে। ফলে গাড়ি চালাতে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। অতিরিক্ত ঘনকুয়াশার কারণে সামনে কি আছে তা সহজে বোঝাও যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।

সিলেট থাকা আসা পাবনাগামী ট্রাক চালক আব্দুল মোমেন জানান, ঘন কুয়াশার কারণে সামনে কী আছে তা বোঝা মুশকিল হয়ে পড়েছে। ধীর গতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এছাড়া এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পূর্ব পর্যন্ত মহাসড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি। এ কারণে হেডলাইন জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।

যমুনা নদীবেষ্টিত ভূঞাপুর ও কালিহাতী উপজেলার অংশে ঘন কুয়াশার কারণে নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যমুনা বহমুখী সেতু এলাকায় কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোও ধীরগতিতে যাতায়াত করতে দেখাগেছে।

কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও কৃষকরা। প্রচন্ড ঠান্ডায় বোরো ধানের চারা রোপণ ও সবজি ক্ষেতের পরিচর্যা করতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষি শ্রমিকরা। কৃষি বিভাগ থেকে কুয়াশাজনিত রোগবালাই থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, বেলা বাড়ার সাথে সাথে সূর্যের দেখা মিললেও কুয়াশার দাপট পুরোপুরি কমেনি।

যমুনা সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি জানান, অতিরিক্ত কুয়াশা থাকলেও স্বাভাবিক মতোই যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়া মহাসড়কে দুর্ঘটনারোধে সার্বক্ষণিক পুলিশ কাজ করছে।

টাঙ্গাইল আবহাওয়া অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যবেক্ষক জামাল উদ্দিন জানান, সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও গত কয়েকদিন ধরে অতিরিক্ত কুয়াশা পড়ছে। বুধবার টাঙ্গাইলে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

তিনি জানান, আগামি কয়েকদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এবং কুয়াশায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. ডিসেম্বর ২০২৫ ০৮:১৩:পিএম ৪ সপ্তাহ আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।