/ হোম / টাঙ্গাইল
এবার কালভার্টে কাঠের পরিবর্তে বাঁশ, কার্যসহকারী চাকরিচ্যুত - Ekotar Kantho

এবার কালভার্টে কাঠের পরিবর্তে বাঁশ, কার্যসহকারী চাকরিচ্যুত

আরমান কবীর: টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজারে ঐতিহ্যবাহী শ্যামা বাবু খালের ওপর নির্মিত কালভার্টের সাটারিংয়ে কাঠের পরিরবর্তে বাঁশ ব্যবহার করার কারণে ঢালাইয়ের সময় ধসে পড়েছে।

এ ঘটনায় অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগকৃত কার্যসহকারী মো. আব্দুল আওয়ালকে চাকরিচ্যুত ও সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. নাজমুল হাসানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।ঘটনাটি জেলাজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

এর আগে জেলার বাসাইলে এলজিইডির ব্রিজে বাঁশ ব্যবহার করায় দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।

এ ঘটনায় শনিবার(১৮ অক্টোবর )গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভুরাম পালকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান।

কমিটির সদস্য সচিব এলজিইজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহনাজ পারভীন ও সদস্য করা হয়েছে জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলামকে।

কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্তের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জানা যায়, ১৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫৪ টাকা ব্যয়ে খালের ওপর কালভার্ট নির্মাণের জন্য এফ এ ট্রেডার্স নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয় টাঙ্গাইল পৌরসভা।

নির্মিত কালভার্টের সাটারিংয়ে কাঠের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই করার সময় গত বুধবার ধসে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে টাঙ্গাইল পৌরসভা থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এছাড়াও কার্যসহকারীকে চাকরিচ্যুত ও সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিন শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়- কয়েকজন শ্রমিক পুনরায় সাটারিংয়ের কাজ করছেন। বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের কাছ থেকে কালভার্টটি ধসে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাচ্ছেন।

হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, বাজারের কালভার্টটি নির্মাণের কাজ খুব ধীর গতিতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষসহ ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অপরদিকে কাজের মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান রেজাউল করিম বলেন, তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিলে মূল বিষয়টি জানা যাবে। তবে এখনও ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি।

টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য পৌরসভা পৌরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছে। আমি ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধ করা হয়েছে। নতুন করে সাটারিং করে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. অক্টোবর ২০২৬ ০১:১৭:এএম ৯ ঘন্টা আগে
টাঙ্গাইলে ৫৩ পূজামণ্ডপে জেলা পরিষদের চেক প্রদান - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ৫৩ পূজামণ্ডপে জেলা পরিষদের চেক প্রদান

আরমান কবীর: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলার ৫৩টি পূজামণ্ডপে চেক প্রদান করেছে জেলা পরিষদ, টাঙ্গাইল।

জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে সহায়তার অংশ হিসেবে প্রতিটি পূজামণ্ডপকে ১০ হাজার টাকা করে চেক প্রদান করা হয়।

রোববার(১৮ অক্টোবর) সকালে জেলা পরিষদের হলরুমে এই চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট ওবায়দুল হক নাসির।

এ সময় তিনি বলেন,গত বছরের তুলনায় এবার বেশি অনুদান দেওয়া হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনে পূজামণ্ডপ উদযাপন কমিটিগুলোকে সহযোগিতা করার লক্ষ্যেই জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এ অর্থ উপহার দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এ দেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই,সবাই বাংলাদেশি। তার নির্দেশনায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রয়োজনে পূজামণ্ডপ পাহারা দেবেন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশি হিসেবে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে বসবাস করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

তিনি বলেন,বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালনের অধিকার রয়েছে। দুর্গাপূজা যাতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়,সে জন্য সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সামছুন্নাহার স্বপ্না,রসুলপুর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রীভাস চন্দ্র, সাবালিয়া পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ, ঘাটাইল উপজেলার লাহেরী বাড়ি পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গোপীনাথসহ জেলার ১২টি পূজামণ্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

চেক গ্রহণকারী টাঙ্গাইল বড় কালীবাড়ি পূজা উদ্যাপন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সরকার জেলা পরিষদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

তিনি বলেন,ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে এ ধরনের সহযোগিতা পূজামণ্ডপগুলোর জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. অক্টোবর ২০২৬ ১২:০৪:এএম ১০ ঘন্টা আগে
টাঙ্গাইলে বাস-পিকআপ-মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বাস-পিকআপ-মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২

আরমান কবীর: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী এলাকায় যাত্রীবাহী বাস-পিকআপ ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার মোটরসাইকেল আরোহী আসিফ (১৮) এবং সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পিকআপের হেলপার আব্দুল রহিম (৪০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী লেনে এস আই ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। পরে মোটরসাইকেলের সামনে থাকা একটি পিকআপকেও ধাক্কা দেয় বাসটি। এতে মোটরসাইকেল আরোহী আসিফ ও পিকআপের হেলপার আব্দুল রহিম ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

খবর পেয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

গোড়াই হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও পিকআপ পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. অক্টোবর ২০২৬ ০২:৪৫:এএম ১ দিন আগে
মধুপুরে বনভূমি দখল করে বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের নোটিশ - Ekotar Kantho

মধুপুরে বনভূমি দখল করে বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের নোটিশ

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের মধুপুরে সরকারি বনভূমি দখল করে বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বন বিভাগের জমিতে বিভিন্ন ধরনের বাগান ও স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের গাছাবাড়ি গ্রামের মামুন নামের এক ব্যক্তি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামুনের পরিবার একসময় আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছিল। তার বাবা আবদুল খালেক ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মামুনও একসময় পুরোনো মোটরসাইকেল কিনে ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে সংসার চালাতেন।

তবে কয়েক বছরের ব্যবধানে তার আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন এবং বিপুল অর্থ ব্যয়ে বড় ভবন নির্মাণ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছাবাড়ি বিটের আওতাধীন ২ নম্বর কৃষি প্লটের কয়েক বিঘা জমি দখল করে সেখানে বিশাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন বিভাগের জমিতে বিভিন্ন ধরনের বাগান ও অন্যান্য স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার অরণখোলা মৌজার গাছাবাড়ি এলাকায় গিয়ে বন বিভাগের বিট অফিসের পাশে সরকারি জমিতে নির্মিত একটি বড় ভবন দেখা গেছে।

সম্প্রতি ওই ভবন অপসারণের বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ভবনটির মালিকানা সম্পর্কে জানতে চাইলে মামুন দাবি করেন, জায়গাটি তিনি পৈতৃক সূত্রে পেয়েছেন। তার ভাষ্য, দখলে থাকা জমিটি রেকর্ডভুক্ত এবং এর দাগ নম্বর ১৩৪১৫।

তবে মামুনের এ দাবির সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান, দাগ নম্বর, রেকর্ড, মালিকানার দলিল এবং বন বিভাগের জমির সীমানা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জমিটি পৈতৃক সম্পত্তি হলে তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে কি না, সেটিও যাচাইয়ের কথা বলেছেন তারা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “একজন ব্যক্তি কীভাবে সম্পদ অর্জন করবেন, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে সেই সম্পদ অর্জন বা স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করা জরুরি।”

তাদের মতে, মামুনের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পাশাপাশি জমির বৈধতা ও ভবন নির্মাণের অর্থের উৎসও যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা উচিত।

এ জন্য বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে গাছাবাড়ি বিটের কর্মকর্তা আবদুল কদ্দুস জানান, সংশ্লিষ্ট জায়গাটি খালি করার জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অতি শিগগিরই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, জমির রেকর্ড, মালিকানা, বনভূমির সীমানা এবং ভবন নির্মাণের বৈধতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে আনা হোক। সরকারি বনভূমি দখলের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. অক্টোবর ২০২৬ ০৮:১১:পিএম ৪ দিন আগে
টাঙ্গাইলে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের অভিযোগ: মূল হোতা উজ্জ্বল সরকার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের অভিযোগ: মূল হোতা উজ্জ্বল সরকার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

আরমান কবীর: প্রলোভন, গোপন যোগাযোগ আর ব্ল্যাকমেইলের ফাঁদ। এমন নানা অভিযোগ ঘিরে এখন টাঙ্গাইলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি ‘হানিট্র্যাপ’ চক্র।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে এ চক্রের মাধ্যমে নারীদের দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মূল হোতা হিসেবে কালিহাতীর এলেঙ্গা পৌরসভার রাজাবাড়ী এলাকার মো. উজ্জ্বল সরকারের নাম সামনে এলেও তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, উজ্জ্বল বিভিন্ন উঠতি বয়সের নারী ও স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের দিয়ে টাকাওয়ালা ব্যক্তিদের টার্গেট করতেন। পরে ওই নারীদের দিয়ে বিভিন্ন পন্থায় আটক করে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন উজ্জ্বল ও তার চক্রের সদস্যরা।

এ নিয়ে ৭ মিনিট ৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দুই মেয়ের সাথে উজ্জ্বলকে মুঠোফোনে কথা বলতে শোনা যায়।

এক মেয়ে উজ্জ্বলকে বলছে, _“ভাই আমরা এতো রিক্স নিচ্ছি, আমরা যাতে খালি হাতে না ফিরি।”_

জবাবে উজ্জ্বল ওই মেয়েদের বলছে, _“রুমে প্রবেশের সময় এসএমএস দিবে ‘ভাই আমরা ঢুকলাম’। তারপর আমাদের রুম পর্যন্ত যেতে ৩ থেকে ৫ মিনিট লাগবে। তারপর আমরা ভিডিও ধারণ করবো। টাকা কিভাবে দিবো, সেটা আমার উপর ছেড়ে দাও। টাকা নেয়ার বিষয়ে আমার পড়াশোনা করা আছে। টাকা না দেয়, এক কোটি টাকা কাবিন করে তোমাদের বিয়ে করাবো।”_

অভিযোগ রয়েছে, পরিচিতি ও ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে প্রথমে আস্থা অর্জন, এরপর ব্যক্তিগত তথ্য বা স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টি করা হতো। কখনো অর্থ আদায়, কখনো সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের জিম্মি করার অভিযোগও রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা উজ্জ্বল এখনো কেন গ্রেপ্তার হননি? তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেগুলোর তদন্ত কত দূর এগিয়েছে? এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না?

এদিকে, এ ধরনের প্রতারণার শিকার অনেকেই সামাজিক সম্মানহানি, ভয়ভীতি কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের আশঙ্কায় মুখ খুলতে চান না। ফলে অপরাধের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে দেরি হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উজ্জ্বল সরকার বলেন, “আমি এ ধরনের কোন কাজের সাথে জড়িত না। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

এ বিষয়ে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের সচেতন মহল।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৩১:পিএম ৪ দিন আগে
টাঙ্গাইলে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল: মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল: মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ছবি ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে খাইরুল ইসলাম (৩৩) নামে এক মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে র‍্যাব-১৪ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা কলেজ মোড় এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারীর মেয়েকে পড়ানোর সুবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক খাইরুল ইসলাম ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট তিনি ওই নারীকে ধর্ষণ করেন এবং তাঁর আপত্তিকর ছবি ধারণ করেন। পরে ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী গত ২ অক্টোবর টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।

পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে র‍্যাব-১৪ এর একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তারকৃতকে কালিহাতী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র‍্যাব জানিয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. অক্টোবর ২০২৬ ১২:৫৯:এএম ৫ দিন আগে
রাজনৈতিক মামলায় আত্মসমর্পণ করে শ্রমিকদল নেতা মোকলেস কারাগারে - Ekotar Kantho

রাজনৈতিক মামলায় আত্মসমর্পণ করে শ্রমিকদল নেতা মোকলেস কারাগারে

আরমান কবীর:২০১৭ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করার ঘটনায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা রাজনৈতিক মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রমিকদল নেতা মোকলেস মিয়া ও যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াদ হাসান তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মোকলেস মিয়া ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা।

অপর আসামি জাহিদুল ইসলাম যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর তালিকা দেওয়া হলেও রাষ্ট্রপক্ষ নয়জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২৬-এর বিচারক মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামকে দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। তাদের প্রত্যেককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে মামলার অন্য ধারাগুলো থেকে তাদের খালাস দেওয়া হয়।

এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি আপিল করেন মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম। আপিলে বলা হয়েছে, মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর নাম থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষ মাত্র নয়জনকে আদালতে হাজির করেছে। গুরুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি বলেও আপিলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য ও মামলার অন্যান্য উপাদান বিবেচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

আপিল আবেদনে নিম্ন আদালতের রায় ও সাজা বাতিল করে তাদের খালাস দেওয়ার পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনের আবেদন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “২০১৭ সালে মিথ্যা মামলায় ফ্যাসিস্ট সরকার সাজা দিয়েছিল। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আমরা পরবর্তী সময়ে সাজা বাতিল ও জামিনের জন্য আইনগতভাবে আবারও আবেদন করব।”

এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামের মুক্তির দাবি জানান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. অক্টোবর ২০২৬ ১২:৪২:এএম ২ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইল শহর :অপরিকল্পিত নগরায়নে নাভিশ্বাস নাগরিকদের - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল শহর :অপরিকল্পিত নগরায়নে নাভিশ্বাস নাগরিকদের

আরমান কবীর: ১৩৯ বছরের প্রাচীন টাঙ্গাইল পৌরশহর এখন অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, জলাবদ্ধতা, গ্যাস সংকট আর নাগরিক সুবিধার অভাবে দিন দিন বসবাসের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

১৯৬৯ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ময়মনসিংহ জেলার একটি মহকুমা থেকে টাঙ্গাইল জেলায় রূপান্তরিত হয়।

এর অনেক পূর্বে টাঙ্গাইল মহকুমায় ১৮৮৭ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত টাঙ্গাইল পৌরসভা। এটি ১৩৯ বয়সী দেশের অন্যতম প্রাচীন পৌরসভা। প্রতিষ্ঠার সময় ওয়ার্ড ছিল ৫টি, বর্তমানে ১৮টি। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী পৌরসভার মোট জনসংখ্যা ২ লাখ ১২ হাজার ৮৮৭ জন।২৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের দ্রুত বর্ধনশীল এই পৌর শহরের জনসংখ্যা বাড়লেও সেই তুলনায় রাস্তা, ড্রেনেজ, পার্কিং ও পাবলিক সার্ভিস বাড়েনি।

পৌর শহরের প্রধান সড়ক – ভিক্টোরিয়া রোড, মেইন রোড, জেলা সদর রোড (কবি নজরুল সরনী) ময়মনসিংহ রোড, বেবি স্ট্যান্ড সড়ক অত্যন্ত সরু। ফলে যানজট নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা ।

জেলা ট্রাফিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ,শহরে বৈধ সিএনজি ৪ হাজার ২০০টি,ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা দুই শিফটে ৫ হাজার। এ ছাড়াও ব্যাটারি চালিত রিক্সার (টেসলা) কোনো পরিসংখ্যান নেই

দিনের কর্মব্যস্ত সময়ে এই পরিমাণ সিএনজি, অটো, ব্যাটারি রিক্সা ও বাসের চাপে ভিক্টোরিয়া রোড, নিরালা মোড়, মেইন রোড, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, নতুন বাসস্ট্যান্ড, পার্কের বাজারের মোড়ে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে। শহর স্থবির হয়ে পড়ে।

জেলার একমাত্র টার্মিনাল, নতুন বাস টার্মিনাল ১৯৮১ সালের ৬ একরেই আটকে আছে। অথচ গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে এখানে যানজটের কারণে পাশের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও প্রায়ই ব্যাহত হয়।

শহরের প্রাণকেন্দ্র বেবি স্ট্যান্ড, পুরাতন বাস স্ট্যান্ড, কলেজ মোড়, নতুন বাস স্ট্যান্ড, বেড়াডোমা, শান্তি কুঞ্জের মোড়ে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে সিএনজি স্ট্যান্ড। ফলে প্রতিদিন সকাল-বিকাল শহরের এই স্থানে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ছে। যার প্রভাব পড়ছে পুরো শহরে।

জেলা শহরের একমাত্র বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক খাল শ্যামা বাবুর খাল পৌর সভা কর্তৃক দখল করে ৭ টি মার্কেট নির্মাণের ফলে,সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

বিশেষ করে শহরের আকুর-টাকুর পাড়া, আদালতপাড়া, থানা পাড়া, সাহাপাড়া, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও আট পুকুর পাড় সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। শহরের প্রধান ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ। নালা-নর্দমা সংস্কার ও শ্যামাবাবুর খাল উদ্ধারের বিষয়ে নেই কোনো মাস্টারপ্ল্যান।

অপরদিকে,পৌর সভার রাস্তার অধিকাংশ ফুটপাত হকারদের দখলে। পথচারীদের রাস্তা দিয়েই হাঁটতে হচ্ছে। নতুন মার্কেট, আবাসিক ভবন গড়ে উঠছে কিন্তু পার্কিং, খোলা জায়গা, খেলার মাঠ রাখা হচ্ছে না। ১৩৯ বছরের প্রাচীন এই শহরে নেই কোনো শিশু পার্ক, নেই বয়স্কদের জন্য কোনো পার্ক। জেলার একমাত্র শিশু পার্কে গড়ে উঠেছে পার্ক বাজার।

নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার জায়গা নেই। ডাস্টবিনের অভাবে ময়লা রাস্তায় পড়ে থাকে। গ্রীষ্মে পানির সংকট। অনেক এলাকায় এখনো গ্যাস লাইন পৌঁছায়নি।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপের তুলনায় চিকিৎসক ও অবকাঠামো অপ্রতুল। স্কুল-কলেজেও একই অবস্থা।

ব্যাংকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “টাঙ্গাইল এখন আর আগের টাঙ্গাইল নেই। রাস্তায় বের হলেই ধুলা আর জ্যাম। বাচ্চাদের নিয়ে একটু হাঁটার জায়গা নেই। শিশুদের জন্য এই শহর নিরাপদ নয়।”

ব্যবসায়ী মো. রফিক বলেন, “পৌরসভা ট্যাক্স বাড়াচ্ছে কিন্তু সেবা বাড়ছে না। ড্রেন পরিষ্কার হয় না, রাস্তা ভাঙা থাকে মাসের পর মাস। দেওয়া হয় না মশার ওষুধ। গ্রীষ্মকালে তিন মাস সাপ্লাইয়ের পানি পাওয়া যায় না।” পৌর সভার নাগরিক সেবা অত্যন্ত সীমিত, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

বেবি স্ট্যান্ড সিএনজি ও অটোরিকশা শ্রমিক সমিতির আহবায়ক হাদিউজ্জামান সোহেল বলেন, “কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এনডিএ বেবিস্ট্যান্ডের বেশ কিছু জায়গা দখল করে আছে। সেই জায়গাটি উদ্ধার করে সিএনজি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করলে টাঙ্গাইল-নাগরপুর আঞ্চলিক সড়কে যানজট কমবে। কচুয়াডাঙ্গা-এয়ারপোর্ট রোডে কিছু অটো রিকশা সিফট করলে মূল সড়কের উপর চাপ কমবে।”

টাঙ্গাইল পৌর সভার নগর পরিকল্পনাবিদ শহিদুল ইসলাম জানান, একটি পরিকল্পিত নগরে ২০% জায়গা রাস্তার জন্য বরাদ্দ থাকে। ৪০% বসতি ও ১০% জায়গায় খেলার মাঠ তথা বিনোদন কেন্দ্র থাকতে হয়, টাঙ্গাইল পৌরসভায় এর কোন কিছুই নেই।

তিনি আরও জানান,শহরের যানজট নিরসনে অটো-রিক্সা দুই শিফটে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান চলছে। শহরের জন্য নতুন মাস্টারপ্ল্যানের কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, “শহরে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহন চলছে। প্রশাসন ও পৌরসভা সমন্বয় করে কাজ করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি অকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “দ্রুত টাঙ্গাইলের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নগর পরিকল্পনা প্রয়োজন। নতুন বাস টার্মিনাল ও ট্রাক টার্মিনাল শহরের বাইরে স্থানান্তর, ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন প্রয়োজন। ফুটপাত ও পার্কিং জোন নির্ধারণ এবং খেলার মাঠ ও শিশু পার্ক পুনরুদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” টাংগাইল কে বাসযোগ্য করতে হলে দ্রুত এই বিষয়গুলি বাস্তবায়ন করতে হবে।

টাঙ্গাইল জেলা শহর হিসেবে দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু পরিকল্পনা ছাড়া এই বৃদ্ধি, শহরটাকে বসবাসের অনুপযোগী করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এখনই সঠিক পরিকল্পনা ও কঠোর বাস্তবায়ন না হলে আগামী ৫-১০ বছরে টাঙ্গাইলবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩. অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫১:পিএম ২ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইলে চোরের ছুরিকাঘাতে গৃহকর্তা নিহত ; গ্রেপ্তার ১ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে চোরের ছুরিকাঘাতে গৃহকর্তা নিহত ; গ্রেপ্তার ১

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় চোর ধরতে গিয়ে চোরের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেলো এক গৃহকর্তার। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুই জন।

বুধবার(৩০ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার বারাপুষা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহকর্তা মজনু মিয়া (৫০) ওই গ্রামের মৃত বেল্লাল মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিন্ত্রী ছিলেন । তিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন।

গ্রেপ্তার চোর ছামিনুর মিয়া উপজেলার গয়হাটা গ্রামের মুন্নাফ মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার ভোর রাত সাড়ে ৪ টার দিকে চোর মজনু মিয়ার বাড়িতে চুরি করতে যায়। এসময় তার ছোট মেয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হয়ে চোরকে দেখতে পায়। পরে চোর চোর বলে ডাক- চিৎকার করলে চোর বাড়ির খড়ের গাদার পিছনে লুকায়। এসময় মজনু মিয়া তাকে ঝাপটে ধরলে চোরের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে তার ঘাড়ে ও গলায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এ সময় প্রতিবেশি আলতাফ ও নাজমুল তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে চোর তাদেরকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মজনু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার( ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মীর রকিবুল ইসলাম লীন জানান, ছুরির আঘাতে মজনু মিয়ার ক্যারোটিড আর্ট্যরি কেটে যাওয়ায় তার মৃত্যু হয়। অপর, আহত দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো জহুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। জড়িত চোর ছামিনুর মিয়াকে গ্রেপ্তার করে নাগরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসা চলছে। আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১. অক্টোবর ২০২৬ ০১:২৫:এএম ৩ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালে লক্কর-ঝক্কর মার্কা বাস, জন দুর্ভোগ চরমে  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালে লক্কর-ঝক্কর মার্কা বাস, জন দুর্ভোগ চরমে 

আরমান কবীর: ১৯৮১ সালে ৬ একর জায়গার উপর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালের উদ্বোধন করেন। দীর্ঘ ৪৫ বছর অতিবাহিত হলেও এই টার্মিনালের আর নতুন করে কোন অবকাঠামগত উন্নয়ন হয়নি।

টাঙ্গাইল শহর বেড়েছে, স্ট্যান্ডে গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে, গাড়ির রুট বেড়েছে, কিন্তু বাড়েনি নতুন বাসটার্মিনালের জায়গার পরিমাণ। ফলে নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা জুড়ে গাড়ির জট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন রুটের লক্কর-ঝক্কর মার্কা বাস। ফলে জনদুর্ভোগ কমছেই না।

বিশেষ করে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রুটে ফিটনেস বিহীন প্রান্তিক গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি এবং সেবার মানও খুবই খারাপ বলে অভিযোগ বাস যাত্রীদের।

সরেজমিনে, বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে গিয়ে দেখা যায়, বাস টার্মিনালের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে সারি সারি লক্কর-ঝক্কর মার্কা প্রান্তিক গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। এদের অধিকাংশই সড়কে চলাচলের জন্য অনুপযোগী বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রান্তিক গাড়ির চালক রুবেল ও আলমাস বলেন, “মালিক যে গাড়ি দেয় আমরা তাই চালাই। ফিটনেস বিহীন লক্কর-ঝক্কর মার্কা গাড়ির জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকেরা। তবে তারা স্বীকার করেন প্রান্তিক পরিবহনে অধিকাংশ গাড়ি ফিটনেস বিহীন।

ঢাকা রুটে চলাচলকারী নিরালা পরিবহনের যাত্রী সৃষ্টি একাডেমিক কলেজের ইন্টার প্রথম বর্ষের ছাত্র হাসান ও ধলেশ্বরী পরিবহনের যাত্রী এএসআই শাজাহান বলেন, “গাড়ির সিট গুলো ভালো না। ছারপোকায় ভরা। গাড়ির সিট গুলো আরেকটু আধুনিকায়ন করলে ভালো হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে গাড়িগুলো ছাড়ে এবং পৌঁছায়। সিটিং সার্ভিস হলেও বিভিন্ন স্পটে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলেন। এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।”

টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনি বাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক বলেন, “আমি দায়িত্ব নেয়ার পর বিভিন্ন রুট থেকে লক্কর-ঝক্কর মার্কা বাস অপসারণ ও যানজট নিরসনে মালিক সমিতির পক্ষে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়াও নিরালা বাস কাউন্টারের জন্য নতুন করে জায়গার ব্যবস্থা করেছেন তারা।

তিনি আরও বলেন, “যাত্রীরা গাড়িতে নিরাপত্তা চায়, পরিবহন যেমনই হোক তারা যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে সেই বিষয়টিকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সরকারের পক্ষ থেকে নিরালা পরিবহনের কাউন্টার উচ্ছেদ করার পর আমরা দায়িত্ব নিয়েই নিরালা পরিবহনের জন্য নতুন কাউন্টারে জায়গার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়াও নতুন বাস স্ট্যান্ডে যানজট নিরসনে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছি।”

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, “শহরে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত সিএনজি, অটো রিক্সা ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা চলাচল করছে। বিশেষ করে অটো রিক্সা গুলো যেন দুই শিফটে চলাচল করে এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণ সমন্বয় করা হচ্ছে। আশা করা যায়, খুব দ্রুতই অটোরিকশা, সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা দ্বারা সৃষ্ট শহরে যানজট দ্রুতই নিরসন হবে। শহরের যানজট কমলে, নতুন বাসস্ট্যান্ডের যানজট অটোমেটিক কমে আসবে। তবে একটু সময় লাগবে।”

১৯৮১ সালে ৬ একরে শুরু হওয়া টার্মিনাল আজ ২০২৬ সালেও একই জায়গায়। শহর ও যাত্রী বেড়েছে, কিন্তু অবকাঠামো আটকে আছে সেই পুরনো ফ্রেমেই। ফিটনেসবিহীন বাস, অতিরিক্ত অটো-সিএনজি আর জায়গার সংকট মিলিয়ে টাঙ্গাইলবাসীর দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছেই। যাত্রীদের দাবি, দ্রুত টার্মিনাল সম্প্রসারণ ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৪৯:পিএম ৩ সপ্তাহ আগে
আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের দখলে টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্য খাত  - Ekotar Kantho

আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের দখলে টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্য খাত 

আরমান কবীর: ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের ২ বছর হলেও টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্য খাত এখনও আওয়ামীপন্থী স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) চিকিৎসকদের হাতে জিম্মি।

জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ সব সরকারি হাসপাতালে আওয়ামীপন্থি পেশাজীবী সংগঠন স্বাচিপের আধিপত্য ও প্রভাব বিদ্যমান, ফলে ডক্টরস এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ড্যাব) সদস্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

পুরোনো আওয়ামী পন্থী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে ওষুধের টেন্ডার।

স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম আর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমএসআর টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে।

সম্প্রতি ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২৫ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নদীতে ফেলে দেওয়ার সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে। গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে এ নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়। নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ওষুধকাণ্ডের ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা স্বাচিপ সদস্য আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেলকে ওএসডি করা হয়। অধিকতর তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলায় ১টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ১টি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে।

আওয়ামী শাসনামলে প্রায় ১৫ বছর এসব হাসপাতালের চিকিৎসক নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে স্বাচিপের সদস্যপদই ছিল যোগ্যতার প্রধান মাপকাঠি।

টাঙ্গাইলের বর্তমান সিভিল সার্জন ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু – স্বাচিপের আজীবন সদস্য। গত বছরের ৯ মার্চ তিনি টাঙ্গাইলে যোগদান করেন।ডেপুটি সিভিল সার্জন মুহাম্মদ আজিজুল হক স্বাচিপ সদস্য।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১১৭ জন চিকিৎসকের বেশিরভাগই স্বাচিপের সদস্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর উপ-পরিচালক পদে স্বাচিপের দুই সদস্য কামরুল কিবরিয়া ও মারুফ আহমেদ খান সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারদের মধ্যে ১২ উপজেলার মধ্যে ৯ জনই আওয়ামী সরকারের আমলে নিয়োগ পান। যাদের প্রায় সবাই স্বাচিপ সদস্য বা আওয়ামী সুবিধাভোগী।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ৪৮ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসকসমাজ। জুলাই গণবিপ্লবের বিরোধিতা ও গণহত্যায় মদদদাতার অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। এ তালিকার কয়েকজন বদলি হলেও বাকিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন এখনও।

১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ৪৫০টি পদের মধ্যে শূন্যপদ ১৭৭টি। পদায়ন করা ২৭৩ জনের মধ্যে বেশিরভাগই আওয়ামীপন্থি সুবিধাভোগী। ৫ আগস্টের পরে যে ১৪৫ জনের পদায়ন করা হয় তার মধ্যেও প্রাধান্য পায় আওয়ামী সুবিধাভোগীরা।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭৯০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৬৩ জন চিকিৎসক ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ৮৭ জনের বিপরীতে ৫৪ জন চিকিৎসক।১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৩৯টি পদ শূন্য। এখানকার চিকিৎসকের অধিকাংশ আওয়ামী পরিবারের সদস্য বা সুবিধাভোগী।

এ প্রসঙ্গে ড্যাবের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ডা. আব্দুল মতিন বলেন, “জেলার চিকিৎসা ক্ষেত্র এখনো স্বাচিপ ও আওয়ামী সুবিধাবাদী চিকিৎসকদের দখলে। নানা অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে আগের মতোই। শূন্যপদে আওয়ামী দুঃশাসনে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার চিকিৎসকদের পদোন্নতি ও পদায়নের সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলের নজরে আনা হয়েছে।”

এদিকে জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে মির্জাপুর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ভূঞাপুর, গোপালপুর, ধনবাড়ী ও সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল, সার্জিকেল অ্যান্ড রিকোজিট টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব উপজেলায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার বহির্ভূত শর্ত আরোপ করে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, “ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধকাণ্ডের ঘটনায় কর্মকর্তাকে ওএসডি এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলার টেন্ডারে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে তিনি নিজে স্বাচিপের সদস্য নন বলেও দাবি করেন।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোহাম্মদ আব্দুল কদ্দুস অভিযোগ খন্ডন করে বলেন, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সরকার যাকে পোস্টিং দিয়েছে, তিনি চাকুরী করছেন, এখানে কে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের, কে ডক্টরস এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশে সদস্য সেটা দেখবেন সরকার। এটা পলিসির ব্যাপার।

আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্য খাতে স্বাচিপের আধিপত্য ভাঙেনি। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন এবং অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৩৬:এএম ৩ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫টি লিফট বিকল, রোগী দুর্ভোগ চরমে  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫টি লিফট বিকল, রোগী দুর্ভোগ চরমে 

আরমান কবীর: টাঙ্গাইল ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য বরাদ্দকৃত ১২ টি লিফটের ৫টি বিকল থাকায় রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে এই লিফট বিড়ম্বনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা অধিকাংশ রোগী ও তার স্বজনদের লিফটের জন্য হাসপাতালের বিভিন্ন ফ্লোরে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। লিফট বিকলের বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গণপূর্ত বিভাগের ওপর চাপিয়ে দিয়ে তাদের দায় সেরেছে।

২০১৪ সালে স্থাপিত টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবকাঠামো ও আধুনিক সুবিধার প্রত্যাশা থাকলেও হাসপাতালটির সেবা ব্যবস্থাপনায় মান নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগভুক্তভোগীদের।

জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা, পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি, চিকিৎসক-স্টাফদের অনুপস্থিতি এবং লিফট বিকল থাকার মতো বিষয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় টাংগাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়,হাসপাতালের প্রথম তালায় লিফট গুলোর সামনে রোগী ও তাদের স্বজনদের দীর্ঘ লাইন।

তারা জানায়, ১৫ তলা হাসপাতালে বিভিন্ন ফ্লোরে যেতে লিফটের কোন বিকল্প নেই । তাই তারা মুমূর্ষ রোগী নিয়ে লিফটের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। বেলা১১টা ৩০ মিনিটে হাসপাতালের পঞ্চম তলায় গিয়ে দেখা যায়, গুরুতর অসুস্থ্য শম্ভুনাথ পাল লিফটের জন্য অপেক্ষা করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে ফ্লোরে পড়ে রয়েছে। স্বজনৈ তাকে খবরের কাগজ দিয়ে বাতাস বাতাস করছে। স্বজনরা জানায়, শম্ভুনাথ পাল এসেছেন রেডিওলজি বিভাগে। ডাক্তার দেখানোর পর নিচ তলায় নামতে লিফটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তারা। এমতাবস্থায় অবস্থায় সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

বহুতল হাসপাতাল ভবনে রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের জন্য লিফট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগী, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য লিফটের বিকল্প খুবই সীমিত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বহুতল ভবনের বেশিরভাগ লিফট প্রায়ই নষ্ট থাকে ।ফলে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তির শেষ নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ ৭৪০ জন ডাক্তার, স্টাফ ও নার্সদের বিপরীতে মাত্র ৩২২ জন জনবল কর্মরত। ৫০০ শয্যার বিপরীতে হাসপাতালে ৮৪০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। অতিরিক্ত রোগী ও তার স্বজনদের সামলাতে অপ্রতুল জনবল নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ডাক্তার ও নার্সদের।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ফারুক হোসেন, আনিসুর রহমান ও সালমা বেগম জানায়, লিফটের জন্য ৩০ মিনিট ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, প্রচুর ভিড় আর লম্বা লাইন থাকায় এখনো ডাক্তার দেখাতে পারিনি। মুমূর্ষু রোগী নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, আজকে আমার মার যদি গুরুতর কোন কিছু হয় সেটা এই লিফটের কারণেই হবে। অপর একজন অসুস্থ রোগী সকাল দশটায় এসেছে লিফটে ভিড়ও লম্বা লাইন থাকায় সে বেলা দুই টায়ও ডাক্তার দেখাতে পারেনি।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: আব্দুল কুদ্দুস বলেন, হাসপাতালের ১২টি লিফটের মধ্যে বর্তমানে ৫টি লিফট বিকল রয়েছে। লিফট মেরামতের বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগকে বারবার চিঠি দেয়া সত্ত্বেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এছাড়া ১২টি লিফট রক্ষণাবেক্ষণ এর পুরো দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। গণপূর্ত বিভাগ ওটিজ ও ক্রিয়েটিভ এই দু’টি কোম্পানির মাধ্যমে লিফট গুলো সারা বছর রক্ষণাবেক্ষণ করিয়ে থাকে গণপূর্ত বিভাগ। তিনি আরও জানান, টাংগাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সমস্ত ক্রয় ইজিপি টেন্ডারের মাধ্যমে হয়, এখানে হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের কোন হাত নেই। তিনি আরো বলেন, অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সুপারভাইজারগণ অভিযোগগুলো মীমাংসা করে থাকেন। এছাড়া হাসপাতালে ৭৪০ জন জনবলের বিপরীতে মাত্র ৩২২ জন থাকায় সমস্যার সমাধানে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে ।

লিফটের অভিযোগ প্রসঙ্গে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভুরাম পাল বলেন, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ টি লিফট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি চালু আছে। ৫টি বিকল লিফট আমরা এখনো চালু করতে পারিনি। তবে আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে। বিকল লিফট গুলোতে অনেক দামি পার্টস প্রয়োজন । যা টাঙ্গাইলে পাওয়া যায় না। ঢাকা থেকে আনতে হয়। এ বিষয়ে আমি লিফট কোম্পানিকে ইতিমধ্যে অবহিত করেছি। আমাদের রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ বাৎসরিক ব্যয় ধরা আছে মাত্র ১২ লক্ষ টাকা। এই টাকা ১২টি লিফট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিতান্তই অপ্রতুল। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি ৫টি চালু হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩৪:পিএম ৩ সপ্তাহ আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।