একতার কণ্ঠঃ অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন টাঙ্গাইলের গোপালপুরের সাজানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রনি প্রতাপ পাল।
কনে কালিহাতী উপজেলার মগড়া গ্রামের সত্য পালের মেয়ে স্বর্না পাল। স্বর্না অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী।
তবে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বিয়ের বিষয়ে কিছুই জানে না বলে জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পালপাড়ার বাসিন্দা রতন লাল পালের ছেলে রনি প্রতাপ পাল আর্শিবাদ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। আগামী ১৫ ডিসেম্বর বিয়ের বাকী কাজ সম্পন্ন হবে।
রনি প্রতাপ পাল জানান, কোন চাপে নয় পরিবারের পছন্দেই বিয়ে করতে যাচ্ছি। সবার কাছে দোয়া চাই। এখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান করায় কাউকে বলা হয়নি। বিয়ের অনুষ্ঠানে অবশ্যই প্রধান শিক্ষককে দাওয়াত দেওয়া হবে।
বিয়ের বিষয়ে অবগত না থাকায় প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রকাশ,নিয়মবহির্ভূত বিয়ের নোটিশ দেওয়ায় ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক সরকারি তদন্ত চলমান রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের বহিস্কার চেয়ে ছাত্র, ছাত্রী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষকরা ও স্থানীয়রা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
২০১৬ সালে সহকারী শিক্ষক পদে ওই বিদ্যালয়ে যোগ দেন রনি প্রতাপ পাল। গত ২৬ জুলাই তাকে নোটিশ দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। নোটিশে বলা হয়, বিদ্যালয়ে যোগদানের পর আপনাকে বারবার মৌখিকভাবে তাগিদ দিয়েছি বিবাহ করার জন্য। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও আপনি বিবাহ করেননি। বিদ্যালয়টিতে সহশিক্ষা চালু রয়েছে। অভিভাবকরা অবিবাহিত শিক্ষক নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। সুতরাং বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিবাহের কার্য সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য আপনাকে বিশেষভাবে পাক্কা নির্দেশ প্রদান করা হলো।
নোটিশটি পাওয়ার দুইদিন পর সহকারী শিক্ষক রনি প্রতাপ প্রধান শিক্ষককে লিখিত জবাব দেন। জবাবে তিনি বলেন, আমার অভিভাবকরা আমার বিয়ের চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুদের বিয়ের পাত্র-পাত্রী বাছাইয়ে গোত্র বা বর্ণের বিষয় রয়েছে। এছাড়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শ্রাবণ থেকে কার্তিক পর্যন্ত বিয়ে করাটা শুভ মনে করে না। সুতরাং পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতির কারণে আগামী অগ্রহায়ণ মাসে আমার অভিভাবকেরা আমাকে বিবাহ করাবেন।
একতার কণ্ঠঃ সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। গুমোট গরম। এর মধ্যেই শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করে টাঙ্গাইল শহরের শিবনাথ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। সেখানে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলাকালে নামে বৃষ্টি। থেমে যায় কিছুক্ষণ পরেই। এরপর কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি। প্রকৃতির এমন আচরণের মধ্যেও উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে টাঙ্গাইলের এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা।
প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় সারা দেশের ৬৪টি জেলায় পর্যায়ক্রমে জিপিএ-৫ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের উৎসবটি পাওয়ার্ড বাই ‘বিকাশ’। সহযোগিতা করছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।
টাঙ্গাইলে সম্বর্ধনা নিতে অনলাইনে নিবন্ধন করা কৃতী শিক্ষার্থীরা শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর)সকালে এসেই নির্দিষ্ট বুথ থেকে ক্রেস্ট, স্ন্যাকস ও উপহারসামগ্রী সংগ্রহ করে। এ সময় তারা বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলা ও আড্ডায় মেতে ওঠে। সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। এতে বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর। তিনি বক্তব্যের শুরুতে তিনজন শিক্ষার্থী এবং একজন অভিভাবকের অনুভূতি শোনেন। এরপর আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সামনের দিনগুলোয় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরস্পরকে সহযোগিতা করে এগিয়ে যেতে হবে। প্রত্যেকে যদি নিজের প্রতি দায়িত্বশীল হয়, তাহলেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল করিম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভালো ফলাফল করার জন্য তোমাদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। এটা শুরু। এইচএসসিতেও ভালো ফলাফল করতে হবে। তারপর মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে তোমরা কর্মক্ষেত্রে যাবে। সব ক্ষেত্রেই ভালো করার জন্য পরিশ্রম করতে হবে। তোমরা সব সময় দুর্নীতি, অনিয়ম ও খারাপ কাজকে ঘৃনা করবে, ভালো কাজের সঙ্গে থাকবে।’
শিবনাথ উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ওমর আলী বলেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই ভালো করেছ। তাই তোমাদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি তোমাদের প্রত্যেককে ভালো মানুষ হতে হবে। তোমরা আগামী দিনের দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে। তোমরা ভালো হলে দেশ ভালো নেতৃত্ব পাবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের নির্বাহী সালমুন ইকরাম। স্বাগত বক্তব্য ও প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান প্রথম আলোর টাঙ্গাইলের নিজস্ব প্রতিবেদক কামনাশীষ শেখর।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল বন্ধুসভার উপদেষ্টা জিনিয়া বখ্শ।
অনুষ্ঠানের মাঝে বৃষ্টি শুরু হয়। এতে কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। তবে পরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা মেতে উঠে আনন্দ–উল্লাসে। স্থানীয় ব্যান্ড সংগীত দল টাচে্র শিল্পী লিজু বাউলা ও সুফি শামীমের গানের সঙ্গে নেচে গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে অনুভূতি জানাতে এসে কৃতী শিক্ষার্থী নিশাত সিদ্দিকী বলে, ‘সব সময় মনে থাকবে জিপিএ-৫ পেয়েছিলাম বলে প্রথম আলো আমাদের সংবর্ধনা দিয়েছিল।’
শিক্ষার্থী তাসনিয়া শারমিন বলে, ‘ভালো ফলাফলের জন্য সংবর্ধনা দেওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল করার জন্য আমাদের প্রেরণা জোগাবে।’ অপর শিক্ষার্থী আজম খান বলে, ‘এই সংবর্ধনা পেয়ে আমরা অনুপ্রাণিত।’
দিনব্যাপী সংবর্ধনায় শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট, প্রথম আলো ই-পেপার (১ মাস) ও চরকির (১৫ দিন) ফ্রি সাবস্ক্রিপশন, শিখোর সৌজন্যে বিনা মূল্যে কোর্স ও ফ্রেশ ব্র্যান্ডের স্ন্যাকস বক্স।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বলরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. লিয়াকত হোসেন তালুকদারকে সাময়িক বরখাস্তের প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় বিদ্যালয় মাঠে ঘণ্টাব্যাপি এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
ক্লাস বর্জনের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. বেলাল হোসেন অর্জুনা ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল আলম খান মাহবুবকে ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠায়। পরে চেয়ারম্যান শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন থেকে ক্লাসে ফিরে যান।
শিক্ষার্থীরা বলেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. লিয়াকত হোসেন তালুকদার স্যারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বরখাস্ত করেছে পরিচালনা পরিষদ। মানববন্ধনে লিয়াকত স্যারকে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি।
ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল আলম খান মাহবুব বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি হিসেবে ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা ক্লাসে ফিরে যান। বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অবগত করে একটি মিটিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. লিয়াকত তালুকদার বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ অনিয়ম করায় বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলামকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কল রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. বেলাল হোসেন বলেন, ক্লাস বর্জনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি সমাধান করার জন্য পাঠানো হয়
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ‘বিবেকানন্দ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ-২০২৩’ এ ‘দুর্মর-২২’ শিরোপা জিতেছে। শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত ম্যাচে তারা জলন্ত-২৪ দলকে পরাজিত করে।
খেলার প্রথমআর্ধে জলন্ত-২৪ দলের রিয়াদ একটি গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। দ্বিতীআর্ধে দুর্মর-২২ এর গিয়াস গোল পরিশোধ করে খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনেন। এরপর কোন পক্ষই গোল করতে পারেনি। পরে ট্রাইব্রেকারে দুর্মর-২২ পাঁচ গোল এবং জলন্ত-২৪ তিন গোল করে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেব বিজয়ী দলকে ট্রফি প্রদান করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুনুর রশীদ মামুন।
অনুষ্ঠানে বিবেকানন্দ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে, আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান কামনাশীষ শেখর বক্তৃতা করেন। এসময় প্রাক্তন কৃতি ফুটবল খেলোয়াররা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অনিক রহমান বুুলবুল।

প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইল শহরের বিবেকানন্দ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ‘বিবেকানন্দ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ-২০২৩’ আয়োজন করা হয়। এতে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ১৪টি ব্যাচ অংশ নেয়। শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে ম্যাচের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন। এর আগে গত বুধবার বিবেকানন্দ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জার্সি উন্মোচন করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ‘বিবেকানন্দ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের (ভিএফসি)’ উদ্বোধন হয়েছে। বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের বিবেকানন্দ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে এর উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম।
বিবেকানন্দ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে’র সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আব্দুর রহিম সুজন, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিবেকানন্দ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের চেয়ারম্যান কামনাশীষ শেখর।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক অরণ্য ইমতিয়াজ।
পরে জেলা প্রশাসক বিবেকানন্দ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের জার্সি উন্মোচন করেন।
এর আগে বেলুন উড়িয়ে বিবেকানন্দ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার সকালে বিবেকানন্দ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দল গুলো এবং সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে।
শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কলেজ ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী ব্যান্ড সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।
আয়োজকরা জানান, বিবেকানন্দ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এই ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের আয়োজন করেছে। এতে প্রাক্তন ছাত্রদের ১৪টি দল অংশ গ্রহণ করছে। আগামী শনিবার টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে এ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।
একতার কণ্ঠঃ স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রায়ই উত্ত্যক্তের শিকার হতো এক শিক্ষার্থী। উল্টো তার ঘাড়েই দোষ চাপাতেন শিক্ষকরা। করতেন বকাঝকা। এসব সইতে না পেরে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছে ভুক্তভোগী ছাত্রী। বুধবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের মটরা সাহাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আলিফা খানম জুঁই বাসাইল উপজেলার লৌহজং উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
অভিযুক্ত বাঁধন ওরফে পিচ্চি বাঁধন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের বীরপুশিয়া নয়াপাড়া গ্রামের প্রবাসী কামরুল ইসলামের ছেলে।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) রাতে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা কারেছেন নিহত ছাত্রীর দাদা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাইয়ুম।
আসামিরা হলেন, বাঁধন ওরফে পিচ্চি বাঁধন, লৌহজং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজু জমাদার, সহকারী শিক্ষক আব্দুল লতিফ ও সহকারী শিক্ষক তাছলিমা খাতুন ছবি।
জানা গেছে, মেয়েটির মা-বাবা ঢাকায় থাকেন। গ্রামের বাড়িতে দাদা-দাদির কাছে থেকে লেখাপাড়া করতো সে। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে বাঁধন ওরফে পিচ্চি বাঁধন। সম্প্রতি উত্ত্যক্তের মাত্রা বেড়ে যায়। এসিড দিয়ে ছাত্রীর মুখ ঝলসে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে গত বুধবার বিকেলে বাঁধনসহ তার পরিবার এবং ছাত্রীসহ তার পরিবারকে ডেকে নেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। সেখানে বাঁধনকে শাসিয়ে দেওয়া হয়। ছাত্রীর ওপর দোষ চাপিয়ে বকাঝকা করা হয়। বিদ্যালয় থেকে বাড়িতে ফিরে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেয় সে। পাশেই একটি চিরকুট পাওয়া যায়। তাতে লেখা ছিল ‘আমি দোষী নই।’ খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় বাসাইল থানা পুলিশ।
শিক্ষার্থীর মা রূপা বেগম বলেন, বখাটে বাঁধনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজু জমাদার বলেন, আমরা দুই পরিবারের লোকজন নিয়ে বসেছিলাম। সেখানে বাঁধনকে শাসিয়ে দেওয়া হয়। তারপরও মেয়েটি কেন আত্মহত্যা করল আমরা বুঝতে পারছি না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মতিউর রহমান খানের ভাষ্য, খবর পেয়ে মেয়েটির বাড়ি ও বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। বখাটে বাঁধনের উত্ত্যক্তের বিষয়টি সত্য। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেস্তাফিজুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ে পড়াশোনার জায়গা, বিচারের জন্য নয়। প্রধান শিক্ষক বিষয়টি প্রশাসন অথবা পুলিশকে জানাতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। উল্টো ওই ছাত্রীকেই বিচারের নামে বহু মানুষের সামনে দোষারোপ করেছেন। অপমান সইতে না পেরে সে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া আক্তার জানান, উত্ত্যক্তের বিষয়টি আমাদের আগে জানানো হয়নি। জানলে হয়তো ব্যবস্থা নিতে পারতাম। যেহেতু মামলা হয়েছে, তাই পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে আমি আশা করি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছে স্থানীয় স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। উপজেলার কালিদাস থেকে বহুরিয়া সড়কের পানাউল্লাপাড়ায় এ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে।
গত দুই মাস ধরে ব্যাপক দুর্ভোগে ছিলো ওই এলাকার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ভেঙে যাওয়া গ্রমীণ সড়কের উপর দিয়ে পানির স্রোত থাকায় প্রায় এক মাস ধরে চলাচলে ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছিল। স্কুল কলেজে যেতে আমাদের খুব কষ্ট হতো। তাই বন্ধের দিনে সম্মিলিতভাবে এলাকার বড় ভাইদের সঙ্গে নিয়ে এই বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছি।
ওই এলাকার কামরুল হাসান জানান, বহুরয়িা-কালিদাস সড়কের মাঝখানে প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক কাঁচা। এই কাঁচা সড়ক ভেঙে বৃষ্টির পানির ঢল যাচ্ছিলো।
তিনি আরও জানান, এমন দূরবস্থা দেখে এলাকার স্কুল-কলেজ পড়ুয়া রিফাত, মেজবা, রায়হান, রাতুল, মামুন, জীবন, আশিক, শামিম, খালিদ, হাসান সহ ১০-১২ জন শিক্ষার্থী মিলে বিভিন্ন বাড়ি থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে এই সাঁকো নির্মাণ করায় এলাকাবাসী খুবই খুশি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর এলাকার আশেকপুরে ৫নং জোবায়দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরিয়ম বেগমের বিরুদ্ধে পরীক্ষার ফি’র নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
তিনি বিদ্যালয়ের প্রায় ২ শত কোমলমতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে শ্রেনী ভেদে ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করেছেন এমন তথ্য দিয়েছেন বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদের জানান,প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা পরিচালনা ব্যায় নির্বাহের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি বিদ্যালয় আলাদা অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে কোনক্রমেই পরীক্ষার ফি’র টাকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা যাবে না। অথচ সরকারী প্রজ্ঞাপণের তোয়াক্কা না করে জোবায়দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুইশত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষা ফি বাবদ প্রায় ২০ হাজার টাকা আদায় করেছে। সরেজমিনে এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

জানা গেছে,টাঙ্গাইল পৌরসভার আশেকপুর এলাকায় ৫০ শতাংশ জায়গার উপর ১৯৬৪ সালে স্থাপিত এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২শত। শিক্ষকের সংখ্যা ৮ জন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে বিভিন্ন শ্রেনীর অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পরীক্ষা শেষে বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীদের কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৭৫ টাকা হারে পরীক্ষা ফি আদায় করা হয়েছে। এছাড়া তৃতীয় শ্রেনী থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে ১ শত টাকা হারে পরীক্ষার ফি আদায় করা হয়েছে।
তারা আরো জানায়, শুরুতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর জন্য ১শত টাকা ও তৃতীয় শ্রেনী থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত ২শত টাকা পরীক্ষা ফ্রি নির্ধারন করা হয়।পরে অভিভাবকদের প্রতিবাদের মুখে পরীক্ষার ফি কমানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েক জন অভিভাবক জানায়,সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা থেকে শুরু করে বেতন-পরীক্ষা ফি সরকার বহন করে। এমনকি শিক্ষার্থীদের বছরের শুরুতেই বিনামুল্যে পাঠ্যপুস্তক দেওয়া হয়। এছাড়া মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখা উৎসাহ প্রদানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়।
অথচ জোবায়দা খানম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরিয়ম বেগমের একক সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের সন্তানের কল্যাণ চিন্তা করে নিয়মবর্হিভুত ভাবে দাবি করা টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক মরিয়ম বেগম বলেন, তিনি কোন পরীক্ষা ফি বাবদ অতিরিক্ত টাকা আদায় করেননি। তার বিদ্যালয়ের কিছু ঈর্ষান্বিত সহকর্মী তাকে বিপদে ফেলার জন্য এসব অভিযোগ করেছে।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি ব্যবসা সুত্রে ঢাকায় থাকেন। যদি পরীক্ষা বাবদ অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগের সত্যতা মেলে তাহলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, কোন অবস্থাতেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি আদায় করা যাবে না। যদি কোন প্রধান শিক্ষক পরীক্ষার ফি নিয়ে থাকেন তবে তিনি আইনগতভাবে অপরাধ করেছেন।
তিনি আরো জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য বলা হয়েছে। যদি তদন্তে দোষী প্রমানিত হয় তবে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরের একটি বিদ্যালয়ে এক শিক্ষককে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিয়ে করার নোটিশ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। নোটিশ পাওয়া ওই শিক্ষকের নাম রনি প্রতাপ পাল। তিনি উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের সাজানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তাঁকে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বিয়ে করার জন্য গত ২৬ জুলাই লিখিত নোটিশ দেন।
ওই নোটিশের বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষককে নানাভাবে হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রনি প্রতাপ গোপালপুর উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন। যোগদানের পরেই তিনি এমপিওভুক্ত হন।
নোটিশে বলা হয়, আপনি গত ৬/১১/২০১৬ তারিখ এই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (হিন্দু ধর্ম শিক্ষা) পদে যোগদান করেন। যোগদানের পর অবগত হলাম, আপনি অবিবাহিত রয়েছেন। পরবর্তী সময়ে আপনাকে বারবার মৌখিকভাবে তাগিদ দিয়েছি বিবাহ করার জন্য। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয়, যোগদানের কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও আপনি বিবাহ করেননি। বিদ্যালয়টিতে সহশিক্ষা চালু রয়েছে। অভিভাবকগণ অবিবাহিত শিক্ষক নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। সুতরাং বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে নোটিশপ্রাপ্তির ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিবাহকার্য সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য আপনাকে বিশেষভাবে নির্দেশ প্রদান করা হলো।
নোটিশ পাওয়ার দুই দিন পর শিক্ষক রনি প্রতাপ প্রধান শিক্ষককে লিখিত জবাব দেন। লিখিত জবাবে তিনি বলেন, আমার অভিভাবকেরা আমার বিয়ের চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুদের বিয়ের পাত্রপাত্রী বাছাইয়ে গোত্র বা বর্ণের বিষয় রয়েছে। এ ছাড়া হিন্দুধর্মাবলম্বীরা শ্রাবণ থেকে কার্তিক পর্যন্ত বিয়ে করাটা শুভ মনে করে না। সুতরাং পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতির কারণে আগামী অগ্রহায়ণ মাসে আমার অভিভাবকেরা আমাকে বিবাহ করাবেন বলে জানিয়েছেন।
রনি প্রতাপ বলেন, জবাব দেওয়ার পরও প্রধান শিক্ষক তাঁকে নানাভাবে মানসিক যন্ত্রণা দিতে শুরু করেন। পরে তিনি বিষয়টি তাঁর অন্য সহকর্মী এবং অন্যদের জানান। রনি প্রতাপ গত ৩০ জুলাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে প্রধান শিক্ষকের নোটিশের বিষয়টি জানান। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, আমি অবিবাহিত থাকলেও কোনো অভিভাবক বা শিক্ষার্থী কখনো কারও কাছে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি। কিন্তু বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলামের স্বাক্ষর জাল করে চেকের মাধ্যমে স্কুলের বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চলমান সরকারি তদন্তে যাতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য না দিই, সে জন্য আমাকে বিয়ের নামে চাপাচাপি ও হয়রানি করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়টির সহকারী প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন জানান, রনি প্রতাপ ভালো শিক্ষক। তাঁকে নিয়ে কেউ কখনো কোনো প্রশ্ন তোলেননি। অথচ দুটি সরকারি তদন্তে মিথ্যা সাক্ষী দিতে না চাওয়ায় প্রধান শিক্ষক তাঁকে এমন একটি নোটিশ দিয়ে হয়রানি করছেন।
নোটিশের ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, রনি প্রতাপের স্বভাব-চরিত্র নিয়ে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তবে সহশিক্ষা চলমান রয়েছে, এমন প্রতিষ্ঠানে কোনো অবিবাহিত শিক্ষক থাকলে নানা অসুবিধা হতেই পারে। নানা অনৈতিক কিছু ঘটতেও পারে। এ জন্য তাঁকে দ্রুত বিয়ে করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা জানান, ঘটনাটি খুবই লজ্জাজনক। এভাবে নোটিশ করার এখতিয়ার কোনো প্রধান শিক্ষকের নেই। মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) তিনি বিদ্যালয়টিতে গিয়েছিলেন। এই নোটিশ দেওয়ার ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক কোনো উত্তর দিতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে কয়েক বছরের। এটি তদন্তের জন্য সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে আহ্বায়ক এবং অন্য দুটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সদস্যসচিব করে একটি তদন্ত কমিটির প্রস্তাব করা হবে।
টাঙ্গাইল শহরের সরকারি এম এম আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদার মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, বিয়ে করা না-করা মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার। রনি প্রতাপকে বিয়ে করার জন্য প্রধান শিক্ষক যে নোটিশ দিয়েছেন, তা মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। এমন নোটিশ দেওয়া অনৈতিক।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম কে.আর.এস ইনস্টিটিউশনের শিক্ষার্থী দীপ্ত সরকার (১৪) দুই দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে।
পরিবার ও জিডি সূত্রে জানা যায়, দীপ্ত সরকার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ভাতগ্রাম কে.আর.এস ইনস্টিটিউশনে ৮ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।
বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) সকালে সে বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে যায়। দীর্ঘসময় পর বাড়িতে না ফেরায় তাকে খোঁজাখোঁজি করা হয়। এরপর থেকেই দীপ্তর পরিবার আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে শুক্রবার (১৮ আগস্ট) ওই ছাত্রের বাবা মির্জাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
দীপ্তর বাবা প্রণব কান্তি সরকার বলেন, মির্জাপুর ও পার্শ্ববর্তী দুটি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও তার কোনো সন্ধান মিলছে না। পুলিশ জানিয়েছে তারা দীপ্তকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ডিউটি অফিসার এস.আই মাহফুজুর রহমান জানান, একটি জিডির কপি পেয়েছি। ওই ছাত্রকে উদ্ধারের জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে জামাল হাটকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীনকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী ফারজানা আলম এ দণ্ডাদেশ দেন।
জয়নাল আবেদীন উপজেলার সাড়াশিয়া গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে।
জানা যায়, জামাল হাটকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নানা সময় উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে।
প্রতিকার চেয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক রেবেকা আক্তার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তিনি ওই শিক্ষককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, সোমবার বিকেলে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষকরা।
রোববার (১৩ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ব্যানারে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডক্টর এএসএম সাইফুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডক্টর মো. মাসুদার রহমান, নির্বাহী সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইফ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ উমর ফারুক, সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডক্টর মো. আহসান হাবিব, কোষাধ্যক্ষ ডক্টর মো. খাইরুল ইসলাম, যুগ্ম-সম্পাদক ডক্টর অনিমেষ সরকার, দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ জসীম উদ্দিন, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ডক্টর মো. জয়নুল আবেদীন, নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক ডক্টর লুৎফুননেছা বারি, অধ্যাপক ডক্টর মো. ফজলুল করিম, ডক্টর মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম সাইফুল্লাহ বলেন, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জাকর এবং অবমাননাকর। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্বেচ্ছাচারীভাবে নিজের মন মতো যে কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ডিন, চেয়ারম্যান কারো কোনো কথার তোয়াক্কা করছেন না। আমার ধারণা উপাচার্য তার নিজের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ঢাকাস্থ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বোর্ড ডেকেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধাকে অগ্রাহ্য করেছেন এবং গত দুই বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য আমরা তার কোনো কর্মকান্ড দেখিনি। এছাড়া এর আগে দুই বিভাগে চারজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে উপাচার্য তার নিজ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন বলেও জানান তিনি।
মানববন্ধনে মাভাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির নির্বাহী সদস্য এবং লাইফ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, ২০ বছরের অধিক সময়ের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সব সময় নিয়োগবোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়েছে। রবিবার যে নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়ার কথা ছিলো সেটি উপাচার্য নিজের স্বার্থকে চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে গেছেন। এর আগে তিনি শিক্ষকদের ব্লাডি বলেছেন এবং বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন পুরুষ আছে বাকি সব মহিলা। এমন আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে তার এই পদে থাকার নৈতিকতা কতটুকু।
শিক্ষক নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক নিয়োগ পরীক্ষা ঢাকায় না নিয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানে নেওয়ার দাবি জানান।