একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) এলাকায় ছাত্রীদের একটি মেসে ভিডিও ধারণের অভিযোগের যথাযথ বিচার না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বেলা ১১টায় শিক্ষার্থীরা মুক্তমঞ্চে অবস্থান নেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মুক্তমঞ্চে অবস্থা করছিলেন শিক্ষার্থীরা।
ছাত্রীদের অভিযোগ, সন্তোষ ঘোষপাড়া এলাকার সরকার বাড়ির মেস মালিকের ছেলে কৌশলে ভেন্টিলেটর দিয়ে বাথরুমের ভেতর মোবাইল ক্যামেরা স্থাপন করেন। এক পর্যায়ে তা দেখে ফেলেন চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রী। ক্যামেরা দেখে তিনি চিৎকার করেন। বাইরে এসে মেসের অন্য মেয়েদের নিয়ে ক্যামেরা আসলো কী ভাবে তা দেখতে তারা ছাদে যান। সেখানেই দেখতে পান মেস মালিকের ছেলে তুহিন সরকারকে। ছাত্রীরা দিশেহারা ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দ্রুত নিজ বিভাগের চেয়ারম্যানকে ঘটনাটি জানান। চেয়ারম্যান বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডিকে জানাতে বলেন। পরে গত ৮ মে প্রক্টরিয়াল বডিকে লিখিত অভিযোগ দেন ওই ভুক্তভোগী ছাত্রী।

প্রক্টর অফিসে দেওয়া অভিযোগ পত্রে তিনি জানান, আমি সন্তোষ ঘোষপাড়ার হানিফ সরকারের ছাত্রী মেসের পঞ্চম তলায় ছিলাম, গত ৭ মে জরুরি প্রয়োজনে মেসে আসার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গোসলে ঢুকি। গোসলরত অবস্থায় বাথরুমের জানালায় আমি লাঠি জাতীয় কিছুর সাথে একটি ফোনের ক্যামেরার দিকটা বাধা অবস্থায় দেখতে পাই। তাৎক্ষণিক আমি মেসে যারা ছিল তাদের সবাইকে একসাথে চিৎকার করে ডেকে খুঁজে দেখতে বলি যে ছাদে কেউ আছে কি না, যখন সবাই ছাদে গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে তখন তারা বুঝতে পারে কেউ লুকানোর চেষ্টা করছে, সিঁড়িঘরে ট্যাংকের পিছনে। যখন সবাই বুঝতে পারে এবং তাকে বের হয়ে আসতে বলে তখন সে কোনো শব্দ ছাড়া শুয়ে পড়ে, অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর সেখান থেকে বাড়িওয়ালার ছেলে তুহিন সরকার বের হয়ে আসে এবং পুরো বিষয়টিকে অস্বীকার করে। তখন তার পরিবারকে জানানো হলেও তারা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তারা চলে যাওয়ার পর পুনরায় খোঁজাখুজি করলে একটি লাঠি দড়ি বাঁধাসহ ট্যাংকের পাশে খুঁজে পাওয়া যায়। বর্তমানে মেসে অবস্থানরত মেয়েরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রয়েছে এই ভয়ে যে, এই লোক এই ধরনের ভিডিওগ্রাফি কতদিন যাবত করছে? কত মেয়ের অপ্রীতিকর ভিডিও এর আগে করা হয়েছে। এই মেসে অবস্থানরত মেয়েরা সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে অনুরোধ জানান মেসে অবস্থানরত মেয়ে শিক্ষার্থীরা।
এই ঘটনা জানাজানির পর ক্যাম্পাসে সকল শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। গত ১৯ মে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপর্যুক্ত শাস্তির দাবিতে ভিসি কার্যালয়ে অবস্থান নেন। তারপরেও সুষ্ঠু বিচার না পেয়ে বৃহস্পতিবার মুক্তমঞ্চে অবস্থান নেন। বৃহস্পতিবার সকালে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত মেসে থাকা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা শিক্ষার্থীদের মালামালসহ তাদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন। নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে প্রক্টর অফিসে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এ ব্যাপারে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর (দায়িত্বরত প্রক্টর) শাকিল মাহমুদ শাওনের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে সদ্য অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি নাগরপুর উপজেলা শাখার নির্বাচনে বিজয়ী সকল শিক্ষক নেতৃবৃন্দদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৮ মে) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দরা এই শপথ বাক্য পাঠ করান।
এতে শিক্ষকদের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন, শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে ভূমিকা রাখাসহ শিক্ষার পরিবেশের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. সহিনুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মুহা. সাজ্জাদুর রহমান খোশনবীশের সঞ্চালনায় উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাহী সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল মালেক, মিডিয়া সম্পাদক জি এম শামীম সুমন, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. বজলুর রহমান, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, নির্বাহী সম্পাদক মো. রকিবুল ইসলাম রিপন, সহ সম্পাদক মরিয়ম খান মিলন, শিক্ষক নেতা নুর মোহাম্মদ বাবুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।
একতার কণ্ঠঃ মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষার ফল নিয়ে টাঙ্গাইলের সখীপুরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দাবি, বিদ্যালয়টি থেকে এবার কেউ পাস করেনি। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক বলছেন, পাসের হার ৫০ শতাংশ।
এমন বিভ্রান্তিমূলক ঘটনায় জেলা-উপজেলাজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। উপজেলার কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিবরণীতে বিদ্যালয়টি থেকে এবার পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তারা সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে ওই বিদ্যালয়ে এবার পাসের হার শূন্য। এ নিয়ে বেশ কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। আর এতে তোপের মুখে পড়েছেন ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা।
তবে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, এ বছর সব শিক্ষার্থী ফেল করার তথ্যটি সঠিক নয়। আমাদের বিদ্যালয় থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচজন পাস করেছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১৭৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
শিক্ষা অফিসের সঙ্গে তথ্যের গরমিল যাচাই করতে প্রধান শিক্ষকের কাছে অনলাইনে প্রকাশিত ফলাফলের তালিকা জানতে চাওয়া হয়। গত রবিবারে সরকারি ভাবে অনলাইনে প্রকাশিত ফলাফল তালিকায় দেখা যায়, ওই বিদ্যালয় থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৫ জন কৃতকার্য হয়েছে।
বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে বিদ্যালয়ের এডুকেশনাল ইনস্টিটিউট আইডেনটিফিকেশন নম্বর (ইআইআইএন) দিয়ে যাচাই করা হলেও প্রধান শিক্ষকের কথার সত্যতা পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, কেন্দ্র থেকে আমাকে যে ফলাফল সরবরাহ করা হয়েছে, আমি সেটাই সরবরাহ করেছি। তবে তথ্য আবারও যাচাই করা হবে।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের একটি খেলার মাঠের পাশে ‘কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ ১১ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী রয়েছেন। বিদ্যালয়টি ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি পায়।
ওই বছর একজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়। পরে ২০২২ সালে দুজন এবং ২০২৩ সালে তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। এবার ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচজন পাস করেছে।
তবে সবাই অকৃতকার্য হওয়ার ‘ভুল’ তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী ও নাগরপুর উপজেলার ২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ জন এবছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও কেউ পাস করতে পারেনি।
প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- কালিহাতী উপজেলার সোমজানি উচ্চ বিদ্যালয় ও নাগরপুর উপজেলার ইসলামাবাদ দারুচ্ছুন্নাহ আলিম মাদ্রাসা।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাগেছে, সোমজানি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী ছিল ৩ জন ও নাগরপুরের ইসলামাবাদ দারুচ্ছুন্নাহ আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল ২৭ জন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এসব শিক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেনি।
স্থানীয়রা জানায়, ২০০৪ সালে সোমজানি গ্রামের ডা. ক্যাপ্টেন আব্দুল বাসেত তার নিজ নামে ‘ডা. ক্যাপ্টেন আব্দুল বাসেত ইবনে আইনউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে এটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল। পরে উচ্চ বিদ্যালয় করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর ৭ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে আসা বন্ধ করে দেন।
স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতা বিরোধী ভূমিকা পালন করেছেন- এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালে তার নাম স্কুল থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। নামকরণ করা হয় ‘সোমজানি উচ্চ বিদ্যালয়’। স্থানীয়দের ভাষায়, স্কুলে নিয়মিত ক্লাস হয় না। দুই চারজন শিক্ষার্থী এলেও শিক্ষকরা আসেন না।
স্কুলের শিক্ষক মো. মুছা মিয়া জানান, এমপিওভুক্ত না হওয়ায় কোনো শিক্ষক স্কুলে যান না। কাগজে কলমে তারা ওই স্কুলের শিক্ষক। কিন্তু বাস্তবে করোনাকালীন সময়ের পর থেকে কেউ স্কুলে যান না। মাঝে মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক গিয়ে খোঁজ-খবর নেন।
তিনি আরও জানান, নিজে রতনগঞ্জ বাজারে ওষুধের দোকান করেন। অন্য শিক্ষকরা কেউ কোচিং সেন্টার অথবা অন্য কোনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রজ্জাক জানান, বিনা বেতনে শিক্ষকরা থাকতে চান না। এবার যে তিনজন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল তারা কর্মজীবী। তাই ভালো ফলাফল করতে পারেনি।
জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, এবার জেলায় এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৮২ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০টি। মাদ্রাসায় পাশের হার ৭৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২২টি।
এছাড়া টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার নরিল্যা আ. খা. মহিলা দাখিল মাদ্রাসা এবং গাড়াখালি বালিকা দাখিল মাদ্রাসার একজন শিক্ষার্থীও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।
নাগরপুর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদির আহমদ জানান, ইসলামাবাদ দারুচ্ছুন্নাহ আলিম মাদ্রাসার ২৭ শিক্ষার্থীর একজনও কেন পাস করলো না এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। যেহেতু তিনি নতুন যোগদান করেছেন- তাই প্রতিষ্ঠানের বিগত ফলাফলের বিষয়ে অবগত নন। প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাখ্যা পাওয়ার পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার হাটকয়েড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসাইনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অর্থ আত্মাসাতের অভিযোগ উঠেছে।
আর প্রধান শিক্ষকের এসব কর্মকান্ডের ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে অভিভাকরা ক্রমাগত তাদের সন্তানদের পার্শ্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করায় বিদ্যালয়টি প্রায় শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে পরার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় গ্রামবাসী ও অভিভাবকদের মতে প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতায় বিদ্যালয়টি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাড়িয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের অভিযোগ প্রধান শিক্ষক আসবাবপত্র ক্রয় ও মেরামতের নামে প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও অভিভাবকরা জানান, গত ২০১১ সালের ২৭ মার্চ ঘাটাইল উপজেলার হাটকয়েড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন মো. সোহরাব হোসাইন। পার্শ্ববর্তী গ্রামে তার বসবাস হওয়ার কারণে স্থানীয় প্রভাবে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্রয়ে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম। এছাড়া প্রতি বছর স্লীপ ফান্ডের অর্থ কোথায় কিভাবে ব্যয় করেন এ ব্যাপারে কমিটির অন্যরা কিছুই জানেন না।
ওই গ্রামের বাসিন্দা ও ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী জানান, প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসাইন যোগদানের সময় ওই বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় আড়াইশ। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে প্রকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা শতকের নীচে।
সরেজমিনে ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মাহমুদুল হাসান মুকুল, কামরুল হাসান, অভিভাবক আবুল কালাম, গিয়াস উদ্দিন, নিতাই সুত্রধর সহ অনেকেই জানান, বিদ্যালয়ে পড়াশুনার কোন পরিবেশ নেই। প্রধান শিক্ষক নিজে চারজন সহকারী শিক্ষিকা নিয়ে অফিস রুমে প্রায়ই টাঙ্গাইলের কৌতুক অভিনেতা আহসানের ভাদাইমা নাটক দেখে সময় কাটান। এছাড়াও তিনি দাম্ভিকতার সাথে বলেন সরকারি চাকুরি করেন। এ স্কুলে শিক্ষার্থী না থাকলেও তার চাকুরি যাবেনা।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শামীম আল মামুন জানান, তিনি সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রধান শিক্ষক কোন মাসিক প্রতিবেদনে স্বাক্ষর নেয়নি। এছাড়া বিদ্যালয়ের ভাউচারের বিপরীতে তার স্বাক্ষর জাল করে প্রধান শিক্ষক টাকা উত্তোলন করেছেন। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও শিক্ষার মানোন্নয়ন হয়নি। বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ লাইন থাকলেও দীর্ঘদিন যাবত তা বিচ্ছিন্ন। বিদ্যালয়ের একমাত্র নলকূপটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
ঘাটাইল উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমুল হোসাইন জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি অন্যত্র বদলীর জন্য অফ লাইনে চেষ্টা করছেন।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার বণিক জানান, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ সর্বজনীন পেনশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রত্যাহারের দাবিতে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
শনিবার (১১ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মানববন্ধনে শিক্ষকরা বলেন, সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের নাম এসেছে। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার দরিদ্র ছেলে-মেয়েরা পড়ালেখা করেন। সর্বজনীন পেনশনে শিক্ষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেধাবীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিতে আর আগ্রহী হবে না। এতে দেশ মেধাশূন্য হবে।
তারা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে সুকৌশলে জাতিকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনার পাঁয়তারা করা হচ্ছে।
দ্রুত সর্বজনীন পেনশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সরিয়ে স্বতন্ত্র রাখার দাবি জানান শিক্ষকরা। দাবি না মানলে আগামীতে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহীন উদ্দিন, অধ্যাপক ড. মীর মো. মোজাম্মেল হক, সহযোগী অধ্যাপক ড. শিমুল রায়, সহকারী অধ্যাপক শাকিল মাহমুদ শাওনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।
একতার কণ্ঠঃ”রুখবো দুর্নীতি, গরবো দেশ, হবে সোনার বাংলাদেশ” এই স্লোগানে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির যৌথ আয়োজনে এক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৬ মে) সকালে স্থানীয় নয়ানখান মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সুজায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নুর আলম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাদির আহম্মদ প্রমূখ।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদুন নাহার ভূইয়া, সদস্য জাহানারা আক্তার, মো. সালাউদ্দিন।
বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার কামরুল হাসান, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার নুরুলহুদা।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা নাগরপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি এস.এম আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক বাবু।
উল্লেখ্য, বির্তক প্রতিযোগিতায় চুড়ান্ত রাউন্ডে নয়ানখান মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও শহীদ শামছুল হক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসেবে বিচারকগণ শহীদ শামছুল হক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়কে ঘোষনা করেন। পরে বিজয়ীদের মধ্যে ক্রেস্ট, সনদ ও শিক্ষা উপকরন বিতরন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ দেশজুড়ে চলছে তীব্র তাপদাহ। তীব্র গরম হতে দেশবাসীকে রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জনের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এরই ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
সোমবার (৬ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে ওই ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের উদ্যোগে এ বৃক্ষরোপণ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব হোসেন প্রান্ত, ছাত্রলীগ নেতা আসিফ হোসেন, রাকিব, নিরব, রিপন, রামিম, নাসিম, স্বাধীন, আবির প্রমুখ।
টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব হোসেন প্রান্ত বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের নির্দেশে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এই বৃক্ষরোপণ করা হয়। এসময় বিভিন্ন ধরনের ২০টি চারা রোপণ করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সন্তোষস্থ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-গভর্ন্যান্স ও উদ্ভাবন কমিটির উদ্যোগে ই-গভর্ন্যান্স ও উদ্ভাবন কর্ম-পরিকল্পনা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘ইনোভেশন প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৬ মে) সকালে তৃতীয় একাডেমিক ভবনের কনফারেন্স রুমে ওই প্রদর্শনীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও অফিসের উদ্ভাবনী উদ্যোগসমূহ স্থান পায়।
ওই উদ্ভাবনী প্রদর্শনী উদ্বোধন ও বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্জ (ভিসি) প্রফেসর ডক্টর মো. ফরহাদ হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপ-উপাচার্জ (প্রো-ভিসি) প্রফেসর ডক্টর এআরএম সোলাইমান ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ডক্টর মো. সিরাজুল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এপিএ কমিটির ই-গভর্ন্যান্স ও উদ্ভাবন কমিটির ফোকাল পয়েন্ট অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ শাহীন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, আইসিটি সেলের সহকারী রেজিস্ট্রার ও বিকল্প ফোকাল আরিফুল ইসলাম।
প্রদর্শনীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও অফিসের পক্ষ থেকে তাদের নিজেদের উদ্ভাবনী প্রদর্শন করা হয়। শেষে বিজয়ীদের মাঝে প্রধান অতিথি পুরস্কার বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিএলএস চাষী উচ্চ বিদ্যালয়ে রাতের আঁধারে মোমবাতি জ্বালিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পরিক্ষা স্থগিত করেন কর্তৃপক্ষ। শনিবার (৪ মে) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, উপজেলার বিএলএস চাষী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নয়জন পরীক্ষা দিতে যান। পরে প্রার্থীদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও রাত ৮টার দিকে
বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নেওয়া শুরু করে কর্তৃপক্ষ। রাতে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। রাত সাড়ে আটটার দিকে ঘটনাস্থলে সাংবাদিক উপস্থিত হলে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষাটি স্থগিত করেন।
বিদ্যালয়ের জমিদাতা আব্দুর রশিদ বলেন, রাতের আঁধারে নিয়োগ পরীক্ষা হচ্ছিল, কিন্তু আমরা এলাকাবাসী বিষয়টি জানি না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের আপন ভাই ও তার বোন জামাই পরীক্ষা দিচ্ছে। এ পরীক্ষা সুষ্ঠু হতে পারে না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান বলেন, তার ভাই ও বোন জামাই পরীক্ষা দিচ্ছেন তাই এ নিয়োগ পরীক্ষায় তিনি কোনো দায়িত্ব পালন করছেন না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা বিকেল ৪টার দিকে পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে পরীক্ষা নেওয়া দেরি হয়েছে। পরে সন্ধ্যার দিকে পরীক্ষা নেওয়া শুরু করা হয়। বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে এক পর্যায়ে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
রাতে পরীক্ষা নেওয়ার নিয়ম আছে কিনা এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমরা দিনেই পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করেছিলাম।
জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা) মো. আবুবকর সরকার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষা যথাসময়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। প্রার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
একতার কণ্ঠঃ প্রচন্ড তাপদাহে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ক্লাস শেষে শিক্ষক মন্ডলী কক্ষে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন এক মাদ্রাসা শিক্ষক। রবিবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার রাউৎবাড়ী দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
ওই শিক্ষকের নাম মো. জহিরুল ইসলাম। সে স্থানীয় রাউৎবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক।
ওই মাদ্রাসার সুপার ও বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন ভূঞাপুর উপজেলা শাখা’র সভাপতি মাওলানা মো. আফছার আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ক্লাস শেষে শিক্ষক মন্ডলী কক্ষে আসেন জহিরুল ইসলাম। পরে তিনি হঠাৎ জ্ঞান হারান এবং কথা বলা বন্ধ হয়ে যায় তাঁর। পরে তাৎক্ষণিক মাথায় পানি ঢাললে ১০ মিনিট পর তার জ্ঞান ফিরে আসে। তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, মাদ্রাসা শিক্ষকের জ্ঞান হারানোর বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিচ্ছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ছুরিকাঘাতে মোহাম্মদ সাইম (১৪) নামের এক কিশোরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও ডিবি যৌথ অভিযান চালিয়ে ওবাইদুল (৪৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের রানাগাছা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লোকমান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সাইম ঘারিন্দা ইউনিয়নের গোসাই জোয়াইর গ্রামের মো. আব্দুল হালিম মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় আজিম মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে ওবাইদুল নামে একজনকে প্রধান আসামি ও ৫ জনের নাম উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার রাতেই টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে রাতেই পুলিশ ও ডিবি যৌথ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি ওবাইদুল নামে একজনকে রানাগাছা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাদ্দাম হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের রানাগাছা নামক স্থানে (বাড়ির পাশে) যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় কিশোর সাইম। রানাগাছা এলাকার মুদি দোকানদার ওবাইদুলের সাথে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সাইম ও তার বন্ধুদের সাথে তর্কাতর্কি হয়। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে ওবাইদুলের হাতে থাকা দোকানের কাজে ব্যবহৃত ছুরি দিয়ে সাইমের বুকে আঘাত করে। পরে তাকে বন্ধুরা গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সাইমের বাড়িতে নিয়ে আসে। তার পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইমকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মামা সোহাগ বলেন, সাইমকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু কী এমন ঘটনা ঘটেছে যে আমার ভাগ্নেকে মেরে ফেলতে হবে। আমি অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ জানান, আমি যতটুক জেনেছি, পূর্বের একটি বাগবিতন্ডার জের ধরে সাইমকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমি অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতেই মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি ওবাইদুলকে পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় অভিযুক্ত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, এর পূর্বে রাতেই সাইমের মা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলাদার করেন। নিহত সাইমের লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।