/ হোম / শিক্ষাঙ্গন
টাঙ্গাইলে শিক্ষিকাকে কু-প্রস্তাব ও যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শিক্ষিকাকে কু-প্রস্তাব ও যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে কু-প্রস্তাব ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে অর্জুনা মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

কাজী জহুরুল ইসলাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ওই শিক্ষিকার পরিবারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ওই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিকেলে অর্জুনা মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটিসহ শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওই বৈঠকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কাজী জহুরুল ইসলাম শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানি করার বিষয়টি স্বীকার করেন।

জানা যায়, উপজেলার অর্জুনা মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী জহুরুল ইসলাম বিগত ২ বছর ধরে একই স্কুলের এক সহকারী শিক্ষিকাকে বিভিন্নভাবে অনৈতিক কাজের জন্য বারবার কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। পরে তার ব্যবহারে বিরক্ত হয়ে ওই শিক্ষিকা আভ্যন্তরিণ ভাবে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করেন। পরে এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের অন্য সহকর্মীদের বিষয়টি জানানো হয়। পরে ঘটনার বর্ণনা শুনে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একত্রিত হয়ে মিমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এরপর ওই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের সামনেই ওই শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। বিষয়টি ওই শিক্ষিকার পরিবার পর্যায়ে যাওয়ার পর শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। পরবর্তিতে প্রতিকার চেয়ে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে অভিযোগ জানান ওই ভুক্তভোগী শিক্ষিকা। শুধু ওই শিক্ষিকাই নয় তার আরও কয়েকজন শিক্ষিকাকে কু-প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম খান মাহবুব, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈবুর রহমান, নুরুল ইসলাম খান জোসনা এবং অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কাজী জহুরুল ইসলাম, অভিযোগকারী শিক্ষিকাসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকরা। এ সময় প্রধান শিক্ষক কাজী জহুরুল ইসলাম সবার সামনে নিজের দোষ স্বীকার করেন।

অজুনা মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষিকারা জানান, প্রধান শিক্ষক তার ক্ষমতা ব্যবহার করে নারী শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি করে। তার কু-প্রস্তাবে রাজি না হলে ওই শিক্ষিকার সাথে খারাপ আচরণ করেন জহুরুল ইসলাম। একই সাথে তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক হওয়ায় তার ভয়ে অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষিকাকে ওই প্রধান শিক্ষক গভীররাতে মোবাইলে বিভিন্ন ধরনের ম্যাসেস পাঠাতো। পরে বাধ্য হয়ে এক শিক্ষিকা তার বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটির বরাবর অভিযোগ দিয়েছে যেটা সত্য।

অভিযোগকারী শিক্ষিকা জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার করতো সব সময়। ম্যাসেস, মোবাইলে এবং সরাসরি কু-প্রস্তাব দিতো প্রধান শিক্ষক। মোবাইলে টাকাও পাঠিয়েছিল। এটি নিয়ে পারিবারিকভাবেও ঝমেলার সৃষ্টি হয়েছে। পরে সহকর্মীদের কাছে বলার পরও ওই প্রধান শিক্ষক ভাল হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে প্রতিকার চেয়ে ম্যানেজিং কমিটি বরাবর অভিযোগ দিয়েছি।

এবিষয়ে অভিযুক্ত অজুর্না মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী জহুরুল ইসলামের সাথে মোবাইল‌ ফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়া বিদ্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

অজুর্না মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দিদারুল আলম খান মাহবুব বলেন, শিক্ষিকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে মিটিং করা হয়েছে। মিটিংয়ে প্রধান শিক্ষক তার দোষ স্বীকার করেছেন। পরবর্তিতে তার বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুনুর রশীদ বলেন, বিষয়টি জানার পর ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. জুলাই ২০২৪ ০৩:৫৩:এএম ২ বছর আগে
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ - Ekotar Kantho

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ ও আন্দোলনে নেমেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সরকারি চাকরিতে কোটা-পদ্ধতি বাতিল ও ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন।

বুধবার (১০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটক হয়ে টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক সড়কের কাগমারি মোড়ে অবস্থান নেয়। এরপর প্রথম ফটকের সামনে দলে দলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করে।

এ সময় তারা সারা বাংলায় খবর দে-কোটা প্রথার কবর দে, আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই এর মত বিভিন্ন আগুনঝরা স্লোগানের মাধ্যমে আন্দোলনকে মুখরিত করে তোলে।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, বৈষম্যমূলক কোটার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। আমরা ইতোপূর্বেও সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। এ বৈষম্য দূর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা কোটা চাইনা, আমার মেধা দিয়ে চাকরি চাই।

মেহেদী হাসান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, এই আন্দোলন সরকার বিরোধী আন্দোলন না, এই আন্দোলন আমাদের সকলের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের আন্দোলন। যৌক্তিক দাবি আদায়ের আন্দোলন। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চাই।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. জুলাই ২০২৪ ০৩:০৫:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

একতার কণ্ঠঃ সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরী ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধু মূর‌্যাল চত্ত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মূল গেইটের সামনে টাঙ্গাইল-চারাবাড়ি সড়কে গিয়ে অবরোধ করে এই আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা সেখানে অবস্থানের পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে যায়।

বিক্ষোভ সমাবেশে- ‘মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে। ১৮-এর পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে (সব গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে এবং কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। যেকোনও বাধাকে উপেক্ষা করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। আমাদের দাবি একটাই, ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল করতে হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে বিএমবি বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা শিক্ষার্থীরা সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় আন্দোলন করতে চাই না, আমরা পড়াশোনা করতে চাই। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। কারণ যে পরিমাণ কোটা, তাতে দেশের মেধাবীরা চাকরি না পেয়ে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। দিনদিন দেশে সরকারি চাকরি করার আগ্রহও হারাচ্ছে। এজন্য কোটা প্রথা বাতিল করা জরুরি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, বৈষম্যমূলক কোটার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। আমরা ইতোপূর্বেও সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। এ বৈষম্য দূর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রাকিব বলেন, এই আন্দোলন কোনো সরকার বিরোধী আন্দোলন না, এই আন্দোলন আমাদের সকলের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের আন্দোলন। যৌক্তিক দাবি আদায়ের আন্দোলন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. জুলাই ২০২৪ ০২:৩৫:এএম ২ বছর আগে
কোটা বাতিলের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক শিক্ষার্থীদের অবরোধ - Ekotar Kantho

কোটা বাতিলের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক শিক্ষার্থীদের অবরোধ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে মহাসড়ক প্রায় দেড়ঘন্টা অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (৬ জুলাই) সকালে এই দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের জেলার নগরজলফৈ বাইপাস দেড়ঘন্টা অবরোধ করে রাখে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

প্রায় দেড় ঘন্টা অবরোধের পর দুপুর ১২টার দিকে অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা। এর আগে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে কোটা প্রথা বাতিল ও ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ঢাকা- টাঙ্গাইল- বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে নগরজলফৈ বাইপাস এলাকায় অবস্থান নেয়।

সেখানে তারা কোটা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করে। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। অবরোধের ফলে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

পুর্ব ঘোষনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা অবরোধ করলে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেয় মহাসড়কে। প্রায় দেড় ঘন্টা অবস্থানের পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়। দাবি মানা না হলে আরো কঠোর কর্মসুচির দেওয়ার ঘোষনা দেয়া হয় সমাবেশ থেকে।

সমাবেশে শিক্ষার্থী জানায়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারী চাকুরীর সুযোগ পাবে শিক্ষার্থী। কোটা প্রথা থাকলে সেখানে মেধাবীরা পিছিয়ে পড়বে। সে কারনে কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছে তারা।

এর আগে শুক্রবার (৫ জুলাই )সকালে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কোটা বাতিলের দাবিতে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. জুলাই ২০২৪ ০৭:৫৯:পিএম ২ বছর আগে
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা বাতিলের দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস - Ekotar Kantho

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা বাতিলের দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) কোটা বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ ও আন্দোলনে নেমেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার সকালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোটা বাতিলের স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ আশে-পাশে এলাকা। এ সময় একই দাবিতে শনিবার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের হুমকি দেওয়া হয়।

সরকারি চাকরিতে কোটা-পদ্ধতি বাতিল ও ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহন করেন।

শুক্রবার( ৫ জুলাই )সকাল ১০ টায় তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে এই  মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটক হয়ে প্রথম ফটকে  অবস্থান নেয়।

পরে প্রথম ফটকের সামনে দলে দলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করে। এ সময় তারা সারা বাংলায় খবর দে-কোটা প্রথার কবর দে, আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই এর মতো বিভিন্ন আগুনঝরা স্লোগানে স্লোগানে এলাকা মুখরিত করে তোলে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বিএমবি বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা শিক্ষার্থীরা কখনও সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় আন্দোলন করতে চাই না, আমরা পড়াশোনা করতে চাই। কিন্তু আমাদের কিছু করার নাই। কারণ যে পরিমাণ কোটা, তাতে দেশের মেধাবীরা চাকুরি না পেয়ে দেশের বাইরে চলে যাবে, দেশে সরকারি চাকুরিতে করার আগ্রহও হারাবে।

সমাবেশে  অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তৌকির আহমেদ বলেন, বৈষম্যমূলক কোটার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। আমরা ইতোপূর্বেও সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। এ বৈষম্য দূর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।

টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং  বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রাকিব বলেন,  এই আন্দোলন কোনো সরকার বিরোধী আন্দোলন না, এই আন্দোলন আমাদের সকলের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের আন্দোলন। যৌক্তিক দাবি আদায়ের আন্দোলন। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চাই।

সমাবেশে বক্তারা দাবি না মানলে শনিবার(৬ জুলাই) ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন পরিচালনা করার হুশিয়ারি দেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. জুলাই ২০২৪ ০১:২২:এএম ২ বছর আগে
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তৃতীয় দিনের কর্মবিরতি পালন - Ekotar Kantho

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তৃতীয় দিনের কর্মবিরতি পালন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষকরা অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত ‘প্রত্যয়’ পেনশন স্কিম সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অর্ন্তভুক্তি এবং শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেছেন।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের আহ্বানে বুধবার (৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম একাডেমিক ভবনের সামনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেন।

কর্মবিরতি চলাকালে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ শাহীন উদ্দিন, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর মো. ইকবাল মাহমুদ, এনভায়রনমেণ্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেণ্ট বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর মো. মাহবুবুল হক প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. জুলাই ২০২৪ ০২:৫৯:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি’র বাইসাইকেল পেল ৬০ জন নারী শিক্ষার্থী - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি’র বাইসাইকেল পেল ৬০ জন নারী শিক্ষার্থী

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬০ জন নারী শিক্ষার্থী’র মাঝে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি’র বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ বাইসাইলে বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বাইসাইকেল তুলে দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কায়ছারুল ইসলাম।

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহরুখ খানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নেয়ামত উল্ল্যা, বাসাইল পৌর মেয়র রাহাত হাসান টিপু ও উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলার কাউলজানী লুৎফা শান্তা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার সাইকেল পেয়ে খুশি। তিনি বলেন, আমি হেঁটে স্কুলে যাইতাম। এখন আর হেঁটে স্কুলে যেতে হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

কাউলজানী নওশেরীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেহা আক্তার বলেন, আমার স্কুলে আসা-যাওয়া সমস্যা ছিল। এখন সাইকেল পেলাম আর সমস্যা থাকবে না। আমাদের লেখাপড়ার আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে।

জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম বলেন, সামাজিক এই উন্নয়নে পাশে থাকার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ধন্যবাদ জানাই।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি’র অংশ হিসেবে তোমাদের সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে। তোমরা সামনাসামনি প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে না পারলেও তার এই উপহার, তার স্নেহ তোমাদের সাথে থাকবে। তোমরা ভালো থাকলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভালো থাকবেন।

উল্লেখ্য, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে ৬০ জন দরিদ্র, মেধাবী শিক্ষার্থীকে বাছাই করে তাদের মাঝে সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. জুন ২০২৪ ০২:২০:এএম ২ বছর আগে
আ’লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের শ্রদ্ধা - Ekotar Kantho

আ’লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের শ্রদ্ধা

একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (প্লাটিনাম জয়ন্তী)-উপলক্ষে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে রবিবার (২৩ জুন ২০২৪) সন্ধ্যা ৬ টা ৩০ মিনিটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যালে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শাহীন উদ্দিন, জননেতা আব্দুল মান্নান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. আশরাফ হোসাইন তালুকদার, জনসংযোগ ও প্রেস প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আজিজুল হক, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মানিক শীল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ন কবিরসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. জুন ২০২৪ ০৩:২৯:এএম ২ বছর আগে
বিবেকানন্দ ফুটবল চ্যাম্পিয়শীপের উদ্বোধন - Ekotar Kantho

বিবেকানন্দ ফুটবল চ্যাম্পিয়শীপের উদ্বোধন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিবেকানন্দ হাইস্কুল এন্ড কলেজের ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের (ভিএফসি) উদ্বোধন করা হয়েছে।

রবিবার (২৩ জুন)সকালে টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে এ চ্যাম্পিয়নশীপের উদ্বোধন করে জেলা প্রশাসক কায়সারুল ইসলাম।

টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মীর্জা মঈনুল ইসলাম লিম্টু, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, ভিএফসি’র উপদেষ্টা মীর নাসিমুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কলেজের অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে।

এ সময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বর্ষের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। চ্যাম্পিয়নশীপে ১৫ টি দল অংশ গ্রহণ করবে। এতে বিবেকানন্দ হাইস্কুল এন্ড কলেজের এসএসসি ব্যাচ ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সাবেক শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। আগামী ২৪ জুন ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. জুন ২০২৪ ০২:০৭:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বিবেকানন্দ ফুটবল চ্যাম্পিয়শীপের জার্সি উম্মোচন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিবেকানন্দ ফুটবল চ্যাম্পিয়শীপের জার্সি উম্মোচন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিবেকানন্দ হাইস্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহনে বিবেকানন্দ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের (ভিএফসি) জার্সি উম্মোচন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, সদর উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ইসতিয়াক আহমেদ রাজীব, বিবেকানন্দ হাইস্কুল এন্ড কলেজের পরিচালনা পরিষদের সদস্য আকরাম হোসেন কিসলু।

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অত্র কলেজের অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে, ভিএফসির উপদেষ্টা মীর নাসিমুল ইসলাম। এ সময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বর্ষের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে বিবেকানন্দ চ্যাম্পিয়নশীপ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌরউদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।

প্রসঙ্গত, বিবেকানন্দ হাইস্কুল এন্ড কলেজের এসএসসি ব্যাচ ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৫ টি টিম খেলায় অংশগ্রহণ করবে। আগামী ২৩ জুন থেকে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে এ খেলা শুরু হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২২. জুন ২০২৪ ০৪:৫৮:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে ২৯ বছর যাবত চলছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়! - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে ২৯ বছর যাবত চলছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়!

একতার কণ্ঠঃ টানা ২৯ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের অলোয়া তারিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।

বিদ্যালয় ভবনে কোচিং বাণিজ্য, উপবৃত্তির আবেদনের নামে টাকা নেওয়া, শিক্ষার্থী কমে যাওয়া, মাধ্যমিক পাশ করা পছন্দের ব্যক্তি টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফারুক হোসেনকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনয়ন দেওয়াসহ গুরুত্বর অসংখ্য শিক্ষা নৈরাজ্যের অভিযোগ রয়েছে ভারপ্রাপ্ত ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এরপরও উচ্চ আদালতে পদ বহাল রাখার মামলা করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল নামের ওই শিক্ষক।

পদটি বহাল রাখতে উচ্চ আদালতে নিজে বাদি হয়ে মামলা করে দায়িত্ব পালন করছেন রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন। মামলাটি চলমান থাকায় অসংখ্য অভিযোগ সত্ত্বেও তাকে বদলী করতে পারছেন না বলেও জানান তারা।

যদিও ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিদ্যালয়-২ শাখার জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে নূন্যতম স্নাতক ডিগ্রীধারী ব্যক্তি বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে অলোয়া তারিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমান সভাপতি টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফারুক হোসেনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচ.এস.সি পাশ বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও পৌরসভার ওয়েবসাইটে পৌর পরিষদের মেয়র ও কাউন্সিলরগণের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও শিক্ষাগত যোগ্যতা লেখা থাকলেও টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফারুক হোসেনের মোবাইল নম্বর ব্যতিত অন্য কোন তথ্য দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়ার বিধান থাকলেও এ বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই রয়েছে বঞ্চিত। অপরদিকে উপবৃত্তির আবেদনের নামে ৫০ থেকে ৩’শ টাকা ফি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, ১৯৯৪ সালে ৪২ শতাংশ জমির উপর টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নে স্থাপিত হয় অলোয়া তারিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৯৫ সালের ১১ মার্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল। তৎকালিন সময়ে এটি ছিল কমিউনিটি বিদ্যালয়। কিছুদিন পর এটি রেজিস্টার ও ২০১৩ সালে হয় জাতীয়করণ। বর্তমানে এর ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১১২জন। এর মধ্যে ৫ম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে ২৬ জন। বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ রয়েছেন চার জন সহকারি শিক্ষক।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, ২০১৭-১৮ সালে তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় দ্বিতল বিশিষ্ট অতিরিক্ত একটি শ্রেণী কক্ষ নির্মাণ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। আছে পাকা একটি সৌচাগারও। নেই পানিপানের কোন টিউবওয়েল। কোন এক সময় টিউবওয়েল থাকলেও স্মৃতি স্বরূপ এখন রয়েছে শুধু পাইপ।

ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, প্রায় তিন বছর যাবৎ আমাদের স্কুলের টিউবওয়েল নষ্ট হয়েছে। পানির অভাবে আমাদের ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। অন্যের বাড়িতে গিয়ে পানি খাই আমরা। এছাড়া আমাদের অনেকেই উপবৃত্তি পাচ্ছেনা। কাজল স্যারও প্রতিদিন স্কুলে আসেন না বলে জানায় তারা।

দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী নুসরাত, তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সামিরা, তানিসা আক্তার, জাকিয়া, চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী লামিয়া, জুঁই, ইব্রাহিম, শাহিন আলম,পঞ্চম শ্রেণীর সিহাব, সিয়ামসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেকে রয়েছে বঞ্চিত।

পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র রিফাতের মা বলেন, উপবৃত্তির জন্য ৫০ টাকা নিয়েছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাজল মাস্টার। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত আমার ছেলে উপবৃত্তির টাকা পেলেও গত তিন বছর যাবৎ পাচ্ছেনা। কেন উপবৃত্তির টাকা আসছেনা জানতে গেলে স্যার শুধু বলেন আসবোনি।

৩য় শ্রেণীর ছাত্রী জাকিয়ার নানী ও অলোয়া গ্রামের শেরিনা বলেন, উপবৃত্তির জন্য আমার ও জাকিয়ার নানার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপিসহ জন্ম নিবন্ধনের জন্য কাজল স্যার আমার কাছ থেকে ২’শ টাকা নিয়েছেন। এরপরও আমার নাতনী উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছেনা।

চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র আহাদ এর বাবা সবুজ মিয়া বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে উপবৃত্তি পেলেও তৃতীয় আর চতুর্থ শ্রেণীতে উপবৃত্তি পায়নি। কেন পাচ্ছে জানতে চাওয়ায় কাজল স্যার আমার কাছে ইংরেজী ও বাংলা জন্মসনদ দাবি করেন। জন্মসনদ দেওয়ার পরও উপবৃত্তি পাচ্ছেনা আমার সন্তান। এখন স্যার বলেছেন এটি দেলদুয়ার প্রাথমিক অফিসের সমস্যা।

নাহিদ, জিহাদসহ একাধিক ৫ম শ্রেণীর ছাত্ররা জানায়, মাসে ৩’শ টাকা নিয়ে তাদের বিদ্যালয় ভবনে কোচিং করাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল। মোট ২৬জন ছাত্র-ছাত্রী পড়ছে এই কোচিং এ। সকাল ৬ টা থেকে ৮টা পর্যন্ত তাদের পড়ানো হচ্ছে। এছাড়া সাড়ে ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত স্কুলে ক্লাস করে তারা।

অভিভাবক রিনা বলেন, টিউবওয়েল নেই, পায়খানায় তালা দিয়ে রাখাসহ বাচ্চাদের দিয়ে কাজ করানোর পাশাপাশি ঠিক মত পড়াশোনা করানো হয়না। প্রতিবাদ ও বক্তব্য দেয়ার কারণে আমাদের সন্তানদের সমস্যা করবেন কাজল মাস্টার বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
জীবন সুত্রধর বলেন, ইউনিয়নের স্থায়ি লোক ছাড়া স্কুলে চাকুরি দেয়া হবেনা নিয়োগে এমন শর্ত ছিল সে সময়। কাজল মাস্টারের বাড়ি পৌরসভার অংশে পরায় চাকুরিটা হচ্ছিলানা তার। এ কারণে কাজল মাস্টার আমার বাবা প্রয়াত তারাপদ সুত্রধরের কাছে অনুরোধ করে ও টাকা ছাড়া পাথরাইল ইউনিয়নের অলোয়া তারিনীর তিন শতাংশ জমি লিখে নিয়ে স্থায়ি ঠিকানা দেখায়। চাকুরি পাওয়ার পর জমিটি ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন কাজল মাস্টার। চাকুরি পেয়ে এখন জমিটি ফিরিয়ে দেয়ার কথাই বলছেননা। কাজল মাস্টার একজন প্রতারক। জমি লিখে নেয়ার বিষয়টি গ্রামের সকল মানুষই জানে বলে জানান তিনি। জমিটি ফিরে পেতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ শিক্ষা বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

স্থানীয় মাতাব্বর জুলহাস বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল ও সহকারি শিক্ষক কোরবান আলী এক হয়ে স্কুলে অনিয়ম ও দূর্নীতির স্বর্গ রাজ্য গড়ে তুলেছেন। উপবৃত্তির আবেদনের নামে টাকা নেয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তাদের কারণে দিনদিন স্কুলের মান নিচের দিকে যাচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীরা এখনও স্কুলের নামটিই ঠিক মত বলতে পারেনা, স্কুলের নাম বলে কাজল মাস্টারের স্কুল। ইতোপূর্বে আমরা তাদের অনিয়ম ও দূনীতির প্রতিবাদে লিখিত অভিযোগ করেছি, কিন্তু এরপরও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা হয়নি।

তিনি বলেন, এই স্কুলে চাকুরি নেয়ার জন্য পাথরাইল ইউনিয়নের স্থায়ি বাসিন্দা হওয়ার শর্ত ছিল। তবে কাজল মাস্টারের বাড়ি ছিল পৌরসভা এলাকায়। চাকুরি পেতে তিনি প্রয়াত তারাপদ সুত্রধরের কাছে অনুরোধ করে ও টাকা ছাড়া তিন শতাংশ জমি লিখে নিয়ে স্থায়ি ঠিকানা বানায়। চাকুরি পাওয়ার পর জমিটি ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিল কাজল মাস্টার, কিন্তু চাকুরি পেয়ে এখন তার সন্তানদের জমিটি ফিরিয়ে দিচ্ছেননা তিনি।

তিনি আরও বলেন, কাজল মাস্টার নিজের পছন্দের লোকজন নিয়ে পরিচালনা কমিটি করে দূর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। দ্রুত তার অপসারণ ও সরাসরি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তিনি।

দিনদিন ছাত্র ছাত্রী কমে যাওয়ার কথা স্বাীকার করে ১৯৯৫ সাল থেকে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত কোরবান আলী বলেন, এর আগে আমাদের বিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রী ছিল ১৮৫জন। এরপর কমে গত বছর হয় ১৩৫জন আর এখন আছে ১১২জন। পাশাপাশি অলোয়া তারিনী নূরাণী হাফিজিয়া মাদরাসা ও নতুন কূড়ি কিন্ডার গার্ডেন গড়ে উঠায় ছাত্র ছাত্রী কমছে বলে জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের জামিদাতা ও পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি দশ বছর যাবৎ এ বিদ্যালয়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। আমি সভাপতির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় জানতে পারি টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারুককে সভাপতি বানানো হয়েছে। কিভাবে আর কাদের নিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠণ করা হয়েছে, সেটি আমি বা স্থানীয় কেউই জানেন না।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল বলেন, মামলা চলমান থাকায় ২৯বছর যাবৎ আমি এ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সাক্ষাতে আপনার চাওয়া সকল তথ্য আমি দিব বলে আর যোগাযোগ করেননি।
একাধিকবার মুঠোফোনে চেষ্টা করা হলেও বিদ্যালয়ের সভাপতি ও টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফারুক হোসেন ফোন রিসিভ করেননি।

দেলদুয়ার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গৌড় চন্দ্র বলেন, আমরাও ওই শিক্ষকের অপকর্মের বেশ কিছু সংবাদ দেখেছি। তবে উচ্চ আদালতে উনার করা স্ব পদে বহাল রাখার একটি মামলা চলমান থাকায় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছিনা। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বিষয়টি আমি দেখবো এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে অবগত করা হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বনিক জানান, উচ্চ আদালতে স্ব পদে বহাল রাখার জন্য করা তার একটি মামলা চলমান থাকার সুযোগ নিয়ে রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল অলোয়া তারিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এতদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ওই মামলার কারণে উনাকে বদলীও করা যাচ্ছেনা।

তিনি বলেন, তবে উনার বিরুদ্ধে নানা ধরণের অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় শিক্ষকদের মানহানী হচ্ছে। শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করাসহ অনিয়মের বিষয়গুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. জুন ২০২৪ ০৩:১০:এএম ২ বছর আগে
সৃ‌ষ্টি স্কু‌লের শিক্ষার্থী‌কে বলাৎকার, অ‌ভি‌যুক্ত শিক্ষ‌ক পলাতক - Ekotar Kantho

সৃ‌ষ্টি স্কু‌লের শিক্ষার্থী‌কে বলাৎকার, অ‌ভি‌যুক্ত শিক্ষ‌ক পলাতক

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সৃ‌ষ্টি একা‌ডে‌মিক স্কু‌ল ক‌্যাম্পাস-২ এর আবা‌সিক ভব‌নের ৮ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী‌কে বলাৎকা‌রের অ‌ভি‌যোগ উঠে‌ছে ওই স্কুলের এক শিক্ষ‌কের বিরু‌দ্ধে।

এদি‌কে বলাৎকা‌রের ঘটনার পরই ওই ক‌্যাম্পা‌সের আবা‌সিক গণিত বিষ‌য়ের শিক্ষক প্রনয় সরকার পা‌লাতক রয়েছে।

অভিযুক্ত প্রনয় সরকার জেলার ঘাটাইল উপ‌জেলার রসুলপুর ইউনিয়‌নের ম‌মিনপুর গ্রা‌মের আনন্দ ম‌োহন সরকা‌রের ছে‌লে।

সোমবার (৩ জুন) বিষয়‌টি প্রকাশ হওয়ার পরই ওই শিক্ষার্থীর অ‌ভিভাবকরা সৃ‌ষ্টি একা‌ডে‌মিক স্কু‌লে গি‌য়ে অ‌ভিযুক্ত শিক্ষ‌কের বিচার দাবী ক‌রেন। প‌রে বিদ‌্যাল‌য় কর্তৃপ‌ক্ষ কোন ধরনের ব‌্যবস্থা গ্রহণ না করায় ওই শিক্ষার্থী‌কে তার অভিভাবকগণ সৃ‌ষ্টি একা‌ডে‌মিক স্ক‌ুল থেকে টি‌সি নি‌য়ে চ‌লে যান।

জানা গে‌ছে, জেলার বাসাইল উপজেলার এক প্রবাসীর ছে‌লে‌কে ৮ম শ্রেণীতে সৃ‌ষ্টি একা‌ডে‌মিক স্কু‌লের দ্বিতীয় ক‌্যাম্পা‌সের আবা‌সি‌কে ভ‌র্তি ক‌রা হয়। সম্প্রতি ওই আবা‌সি‌কের শিক্ষক প্রনয় সরকার রা‌তে শিক্ষার্থী‌কে তার রু‌মে নি‌য়ে বলাৎকার ক‌রেন। প‌রে ভব‌নে থাকা শিক্ষার্থী ও শিক্ষক‌দের সহায়তায় তা‌কে উদ্ধার করা হয়। প‌রে ঘটনা‌টি যা‌তে প্রকাশ না পায় এবং প্রকাশ পে‌লে ওই শিক্ষার্থী‌কে স্কুল থে‌কে বের ক‌রে দেয়া ম‌র্মে ভয় দেখা‌নো হয়। এই ঘটনার পর অ‌ভিযুক্ত শিক্ষক প্রনয় সরকার তার মা‌য়ের অসুস্থ‌্যতা দে‌খি‌য়ে স্কুল থে‌কে ছু‌টি নি‌য়ে আর বিদ‌্যাল‌য়ে আসেন‌নি।

এদি‌কে এই ঘটনার পরই ওই শিক্ষার্থী ভ‌য়ে জুবুথুবু হ‌য়ে প‌ড়ে এবং তার প‌রিবা‌রের সা‌থে কম কথা ব‌লে। প‌রে গত র‌বিবার (২ জুন) বিষয়‌টি প‌রিবার‌কে জানায় সে। প‌রে সোমবার (৩ জুন) সকা‌লে শিক্ষার্থীর অ‌ভিভাবকগণ বিদ‌্যাল‌য়ে গি‌য়ে ঘটনার বিচার দাবী ক‌রেন। কিন্তু বিদ‌্যাল‌য়ে অ‌ভিযুক্ত শিক্ষক না থাকায় সৃ‌ষ্টি স্কু‌লের আবা‌সিক ভব‌নের প্রধান মোস্তা‌ফিজুর রহমান হ‌্যা‌পি কোন সদুত্ত্বর দি‌তে পা‌রেন‌নি। প‌রে ওই শিক্ষার্থীর ভ‌র্তি বা‌তিল ক‌রে টি‌সি নেয় অ‌ভিভাবকগণ। এসময় বিদ‌্যালয় থে‌কে মিমাংসার প্রস্তাব দেয়াসহ ২৫ হাজার টাকা দি‌তে চাইলে তা গ্রহণ ক‌রে‌নি ওই শিক্ষার্থীর পরিবার।

বলাৎকা‌রের শিকার শিক্ষার্থীর চাচা ব‌লেন, ভাল লেখাপড়ার জন‌্য সৃ‌ষ্টির আবা‌সিকে ভ‌র্তি করা‌নো হ‌য়ে‌ছিল। ‌কিন্তু শিক্ষকই যখন শিক্ষার্থীর সা‌থে খারাপ কাজ ক‌রে তাহ‌লে নিরাপদ কোথায়। ঘটনা‌টি আমা‌দের জানা‌নো হয়‌নি। বিচার চাইলে কর্তৃপক্ষ তাল-বাহানা ক‌রে। মিমাংসার প্রস্তাব দেয়াসহ টাকা দি‌তে চে‌য়ে‌ছে। ওই শিক্ষকও পা‌লি‌য়ে‌ছে। ছে‌লেটার সা‌থে খুবই অন‌্যায় হ‌য়ে‌ছে। ছে‌লেটা মান‌সিকভ‌া‌বে বিপর্যস্ত হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছে। কা‌রোর সা‌থে তেমন কথা বল‌ছে না। তার ম‌নে ভয় কাজ কর‌ছে। আমরা আইনের আশ্রয় নি‌বো।

এবিষ‌য়ে অ‌ভিযুক্ত শিক্ষক প্রনয় সরকা‌রের সা‌থে মোবাইলে যোগা‌যোগ করা হ‌লে তার ব‌্যবহৃত ফোন‌টি বন্ধ পাওয়া যায়।

সৃ‌ষ্টি একা‌ডে‌মিকের স্কুল ক‌্যাম্পাস-২ এর আবা‌সিকের প্রধান শিক্ষক মোস্তা‌ফিজুর রহমান হ‌্যা‌পি জানান, বিষয়‌টি জান‌তে পে‌রে‌ছি। কিন্তু ওই শিক্ষক ক‌্যাম্পাসে নেই। তার মা‌য়ের অসুখ দে‌খি‌য়ে ছু‌টি নি‌য়ে আর বিদ‌্যাল‌য়ে আসে‌নি। ঘটনা‌টি অনাকা‌ঙ্খিত।

এবিষ‌য়ে জান‌তে সৃ‌ষ্টি একা‌ডে‌মিক স্কু‌লের চেয়ারম‌্যান ড. শরিফুল ইসলাম রিপনের মোবাইলে যোগা‌যোগ করা হ‌লে তি‌নি ফোন রি‌সিভ ক‌রেন‌নি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. জুন ২০২৪ ০১:৫০:এএম ২ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।