একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল হক মাস্টারকে পরিকল্পিভাবে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন ভূঞাপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও’র) মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এর আগে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ ও মিছিল করে শিক্ষকরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন – ‘পরিকল্পিতভাবে শিক্ষক আব্দুল হক মাস্টারকে হত্যা করা হয়েছে। নৃশংস এই হত্যার ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য একটি মহল পাঁয়তারা করছে। আমরা আমাদের সহকর্মী শিক্ষক আব্দুল হক মাস্টার হত্যার কঠোর শাস্তিসহ আসামিদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।’
উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আফসার আলীর সভাপতিত্বে সেখানে বক্তব্য রাখেন – উপজেলা চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম, শিক্ষক আব্দুস ছোবহান, আব্দুর রউফ তালুকদার, নূরুল হুদা, আতিকুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, নূরুন্নবী, মাহবুব আলম ও মাজহারুল ইসলাম তালুকদার প্রমুখ।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার নিকড়াইল ইউনিয়নের সারপলশিয়া গ্রামের শিক্ষক আব্দুল হক মাস্টার নিখোঁজ হন। মূলত, ওই সময় আসামি জাহানারা ওরফে জয়নব বেগম ও তার স্বামীসহ কয়েকজন মিলে শিক্ষক আব্দুল হককে হত্যা করে ঘরের সামনে বালুচাপা দিয়ে রাখে।
এরপর শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাহানারার বাড়ি থেকে ওই শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই রাতে শিক্ষককের স্ত্রী আয়েশা খাতুন বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের আসামিরা হলেন – জাহানারা ওরফে জয়নব বেগম, তার স্বামী আব্দুল বারেক, প্রতিবেশী ছবুর ও জাকির।
একতার কণ্ঠঃ এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলের জাতীয় মেধাক্রমে সারা দেশে নবম হয়েছেন টাঙ্গাইলের ছেলে ইরাম আহনাফ খোশনবীশ (১৮) । ভর্তি পরীক্ষায় তিনি ৮৯ দশমিক ৭৫ নম্বর পেয়ে নবম স্থান অর্জন করতে সক্ষম হন।
ইরাম আহনাফ খোশনবীশ টাঙ্গাইল পৌরসভার দক্ষিণ থানাপাড়ার ব্যাংকার আতিকুর রহমান খোশনবীশ ও ব্যাংকার ফরিদা ইয়াসমিন দম্পতির একমাত্র সন্তান। তিনি প্রয়াত ব্যাংকার যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা আনিসুর রহমান খোশনবীশের নাতি।
ইরাম আহনাফ খোশনবীশ ২০২১ সালে টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে থেকে এসএসসি পাস করেন। ২০২৩ সালে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন। তার এমন সাফল্যে পরিবার, এলাকাবাসী ও স্বজনদের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে।
এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় নবম স্থান অধিকারী ইরাম বলেন, এ এক স্বপ্নের মতো অনুভূতি যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
একমাত্র সন্তান ইরাম এর জন্য দোয়া চেয়েছেন পিতা আতিকুর রহমান খোশনবীশ। তিনি বলেন, আমার ছেলে ছোট বেলা থেকেই মেধাবী। তার এই ফলাফলে আমিসহ আমার পরিবার আনন্দিত।
উল্লেখ্য, এর আগে রবিবার (১১ফেব্রুয়ারি) সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন। এ বছর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেলের প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৩৬৯ জন।
একতার কণ্ঠঃ দীর্ঘদিন পর টাঙ্গাইলের করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজ প্রাঙ্গণে ওই কলেজের উদ্যোগে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন।
করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সুব্রত নন্দীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, সরকারি সা’দত কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর সুলতান আহম্মেদ, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আহবায়ক প্রফেসর শফিকুল ইসলাম ভূঁইঞা প্রমুখ।
এসময় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সাব্বির হাসান পল, অধ্যাপক ইমরুল কায়েস, ক্রীড়া শিক্ষক আব্দুস সাত্তার।
সা’দত কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সুব্রত নন্দীর প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিন পর সরকারি সা’দত কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়াতে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দরা আনন্দিত।
১৮টি ইভেন্টে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
একতার কণ্ঠঃ টানা ছয় মাস অনুপস্থিত স্কুল শিক্ষিকা জেবুন নাহার শিলাকে অবশেষে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন।
নোটিশে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, জেবুন নাহার শিলা গত বছরের ১০ জুলাই থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত তিন মাসের চিকিৎসা ছুটিতে ছিলেন। একই বছরের ১০ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত পুনরায় তিন মাসের চিকিৎসা ছুটির আবেদন করেন। নিয়ম অনুযায়ী, স্বাস্থ্যগত কারণে তিন মাসের অধিক ছুটির ক্ষেত্রে মেডিকেল বোর্ডের সনদ প্রয়োজন। মেডিকেল বোর্ডের সনদের জন্য ওই শিক্ষকের আবেদনপত্র টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে বিগত সময়ের চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও কাগজপত্র মেডিকেল বোর্ডে পাঠাতে চিঠি দেয় সিভিল সার্জন কার্যালয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিয়ে বোর্ডে অনুপস্থিত রয়েছেন শিক্ষক জেবুন নাহার শিলা।
এরআগে সখীপুর ইউএনওর নির্দেশে গত ১৬ ও ২৯ জানুয়ারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
এ বিষয়ে শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক জানান, ওই শিক্ষকের চিকিৎসা ছুটির আবেদন জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু মেডিকেল বোর্ড প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাইলে জমা দেননি শিক্ষক শিলা। ফলে ওই শিক্ষক চিকিৎসা ছুটি পাননি। এ কারণে সিভিল সার্জন কার্যালয় কাগজপত্র ফেরত পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জেবুন নাহার শিলা ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি সখীপুর উপজেলার পশ্চিম কালিদাস পানাউল্লা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন। তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।
একতার কণ্ঠঃ বেসরকারি বিদ্যালয় এমপিও নীতিমালার সুযোগ ভোগে মসজিদ প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে স্কুল। চাঞ্চল্যকর এমনটাই ঘটেছে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ভবানীপুর গ্রামে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আর জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের যোগসাজসে গড়ে তোলা হয়েছে ভবানীপুর শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে একটি বিদ্যাপিঠ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সদ্য স্থাপিত বিদ্যালয় আর কর্মরত শিক্ষকদের এমপিও ভুক্ত করতে শিক্ষক প্রতি মোটা অংকের টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ডে স্থাপিত ২০১৫ সাল দেখানো হলেও চলতি জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে স্কুল কার্যক্রম বলে স্বীকার করেছেন কর্মরত শিক্ষক আর অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগ উঠা জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশিদ সদর উপজেলার আনেহলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক। ইতোপূর্বেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে সরকারিভাবে বন্ধ থাকা বৃত্তি পরীক্ষা টাঙ্গাইলে নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ভবন বিক্রির অভিযোগ।
এছাড়া ভবানীপুর শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোতালেব মিয়া পেশায় একজন আইনজীবী সহকারি। কমিটির সভাপতি মোতালেব মিয়ার ছেলে শাকিল আহমেদ রয়েছেন ভবানীপুর শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (এমএলএসএস) পিয়ন পদে কর্মরত।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী সংখ্যা ১১০জন। কর্মরত শিক্ষক পদে ৫ আর (এমএলএসএস) পিয়ন পদে কর্মরত রয়েছেন ১ জন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দূর্গম এই গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রয়োজন। বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জমিও ক্রয় করা হয়েছে। ক্রয়কৃত জমির উপর বিদ্যালয় নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে মসজিদ প্রাঙ্গণে স্কুল স্থাপন আর জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির এমপিও ভুক্তির নাম ভাঙিয়ে আর অবৈধ প্রক্রিয়ার শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে মোটা টাকা বাণিজ্যের বিরোধীতা করছেন তারা।
বিদ্যালয়টির নির্দিষ্ট কোন ভবন না থাকলেও এটি এমপিও ভুক্ত হচ্ছে তথ্যটি যেমন সুখের, তেমনি শিক্ষক নিয়োগ আর এমপিও ভুক্তির লোভ দেখিয়ে ৫ শিক্ষকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেওয়ার সংবাদটি দুঃখজনক। নিয়োগপ্রাপ্ত তিন শিক্ষকের বয়স ৩২ বছরের উপরে হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে আর কোন পন্থায় নিয়োগ দেওয়া হলো সেটিসহ এত টাকা লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
ভবানীপুর গ্রামের মো. খাদেম আলী সরকার বলেন, চলতি মাসেই মসজিদ প্রাঙ্গণে বিদ্যালয়টি চালু করা হয়েছে।
স্থানীয় গ্রামের ছাত্র হারুন জানায়, মাসখানেক যাবৎ মসজিদ প্রাঙ্গণে বিদ্যালয়টি চালু হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রী কতজন সেটি না জানলেও পাঁচজন শিক্ষক বিদ্যালয়ে কর্মরত বলে জানান সে।
ভবানীপুর শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী লামিয়া জানায়, মাত্র ১৬ দিন যাবৎ এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে সে।
পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র জুনায়েদ জানায়, প্রায় তিন সপ্তাহ হলো সে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। আগে এখানে মক্তব ছিল, নতুন করে এই বিদ্যালয়টি চালু করা হয়েছে।
মসজিদের ঈমাম আবু রায়হান বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোতালেব মিয়ার আত্মীয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। বিদ্যালয়ের জন্য মোতালেব মিয়া আবেদন করার কারণে মনে হয় তাদের যোগাযোগ হয়েছে। তবে টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি।
বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক আমিনা খাতুন রিমু বলেন, এমপিও করার আশ্বাসে বিদ্যালয়টি সম্প্রতি চালু করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যায়নরত। এমপিও করে দেওয়ার আশ্বাসে তিনি এখানে শিক্ষকতা করছেন। টাকা লেনদেনের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি জানান, বিষয়টি আমার অভিভাবকরা বলতে পারবেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোজী বলেন, ২০১৫ সাল থেকে বিদ্যালয়ে কর্মরত। ভবন না থাকায় অস্থায়ীভাবে মসজিদ প্রাঙ্গণে চলতি জানুয়ারি থেকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নদী পাড় হয়ে এই গ্রামের ছাত্র ছাত্রীদের অন্যত্র বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয় বলেই এখানে বিদ্যালয়টি গড়ে তোলা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশিদ আর বিদ্যালয়ের সভাপতি মোতালেব আঙ্কেলের সরকারি হওয়ার আশ্বাসে বিনা বেতনে তারা বিদ্যালয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনিসহ বিদ্যালয়ে কর্মরত অধিকাংশ শিক্ষকের বাড়ি শহরে বলেও জানান তিনি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোতালেব মিয়া বলেন, টাকা লেনদেনের বিষয়টি তিনি জানেন না।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশিদ মিটিং এ আছি বলে এ বিষয়ে কোন বক্তব্য না দিয়েই ফোনটি কেটে দেন। এরপর থেকে অসংখ্যবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কাতুলী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড ভবানীপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ওই গ্রামে বিদ্যালয়টি চালু হয়েছে। টাকা লেনদেনের বিষয়টি তিনি জানেন না।
কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন মিয়া বলেন, ভবানীপুরে একটি বিদ্যালয় হবে, এটি আমি জানি। তবে মসজিদ প্রাঙ্গণে বিদ্যালয় স্থাপন ও শিক্ষক নিয়োগে টাকা লেনদেনের বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক জানান, কাতুলী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ভবানীপুর শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের একটি প্রস্তাবনা রয়েছে। এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের নামে যদি কেউ টাকা নেন বা চান তাহলে উনাকে থানায় হস্তান্তর করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
একতার কণ্ঠঃ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্বাবধানে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে তিনদিন ব্যাপী ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান মেলা ও ৮ম অলিম্পিয়াডের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক টাঙ্গাইল-৪ ( কালিহাতী ) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাত হুসেইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বিকম।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিফাত বিন সাদেক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কবীর প্রমুখ।
এতে কলেজ পর্যায়ে আলাউদ্দিন সিদ্দিকী মহাবিদ্যালয় প্রথম স্থান, শহীদ শাহেদ হাজারী কলেজ দ্বিতীয়, বল্লা করোনেশন হাইস্কুল এন্ড কলেজ তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে নূর জাহান খসরু আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রথম, এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় দ্বিতীয় ও খিলদা উচ্চ বিদ্যালয় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।
বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড সিনিয়র গ্রুপ কলেজ পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে সরকারি শামসুল হক কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র দেবজিৎ সরকার অর্পন, একই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র স্বর্ণদীপ সরকার দ্বিতীয় ও লায়ন ফেরদৌস আলম ফিরোজ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সানজিদা আফরিন।
জুনিয়র গ্রুপ মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে কালিহাতী সরকারি আর এস পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া শেখ সারা প্রথম স্থান, এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র আজমী আল আপন দ্বিতীয়, সরকারি আর এস পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী রাইসা ইসলাম।
বিজ্ঞান কুইজ প্রতিযোগীতায় প্রথম হয়েছে এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়, দ্বিতীয় আর এস সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, তৃতীয় হয়েছে করিমুন্নেছা সিদ্দিকী উচ্চ বিদ্যালয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। জেলায় মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বন্ধ রয়েছে জেলার সকল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা শিক্ষা অফিসার রেবেকা সুলতানা।
তিনি জানান, ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল জেলার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে চলে গেছে। এজন্য জেলার সকল মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) ও বুধবার (২৪ জানুয়ারি) ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তাপমাত্রা স্বাভাবিক না হলে এ ছুটি আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি জানান।
এদিকে গত কয়েক দিন ধরে হাড় কাঁপানো শীতে যবুথবু অবস্থা। হিমেল হাওয়ায় শীত বেড়েছে নদী ও বন পরিবেষ্টিত এ জেলায়। কাজে যেতে না পেরে দুর্ভোগ বেড়েছে খেটে খাওয়া মানুষের। কমেছে আয়। ব্যহত হচ্ছে বোরো আবাদ। প্রয়োজনীয় গরম কাপড়ের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে দরিদ্র ও ভাসমান জনগোষ্ঠী। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন গ্রামাঞ্চলের লোকজন। প্রচন্ড শীতে বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা ডায়রিয়া এবং শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে।
জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে টাঙ্গাইলের তাপমাত্রা কমেছে। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যা এ বছরের মধ্যে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম জানান, তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকায় জেলার সকল স্কুল-কলেজ বন্ধের ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া শীত নিবারনের জন্য গরিব-আসহায় মানুষের মাঝে প্রায় ৮০ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সোমবার (২২ জানুয়ারি) শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যা এই মৌসুমের এটাই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
টাঙ্গাইল জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামায় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) জেলার সকল স্কুল-কলেজ একদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন।
এদিকে, বছরের শুরু থেকেই টাঙ্গাইলের তাপমাত্রার পারদ ধীরে ধীরে কমছে। এর ফলে, শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ঘন কুয়াশার চাদর। ফলে গত সপ্তাহ থেকেই কোন দিন সূর্যের দেখা মিলছে আবার কোনদিন মিলছে না। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে কেউ বের হচ্ছেন না। আকাশে সূর্য উঁকি দিলেও রোদের তাপমাত্রা অত্যন্ত কম থাকে। প্রত্যান্ত গ্রামের মানুষ খড়ুকুটো ও গাছের গুড়িতে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। সব মিলিয়ে জেলার জনজীবন এক প্রকার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ ও ভাসমান জনগোষ্ঠী সবচেয়ে ভোগান্তির শিকার।

শীত প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পৌরসভার পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়া এলাকার মো. মাহবুব আলম উজ্জ্বল বলেন, আমি একজন মোবাইল ব্যবসায়ী। গত কয়েকদিনের প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে গ্রাহক কম আসায় মোবাইল বিক্রি অনেক কমে গেছে। ফলে শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
টাঙ্গাইল শহরের আশেকপুর এলাকার মো. এমদাদুল আহমেদ বাচ্চু বলেন, আমি একজন চাকরিজীবী। প্রতিদিন সকাল ৮টায় আমাকে অফিসে যেতে হয়। ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে সকাল বেলায় যানবাহন খুব কম থাকায় প্রায়ই অফিসে যেতে বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়া বাসার ছোট ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যেতেও সমস্যা হচ্ছে।
শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালক লুৎফর রহমান বলেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বাইরে আসছেন না। যাত্রী কমে গেছে অনেক। আগে প্রতিদিন ৮শত থেকে ১ হাজার টাকা আয় করতাম। এখন ৫শত টাকার বেশি আয় করা যাচ্ছে না।
টাঙ্গাইল জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দিন জানান, কয়েকদিন ধরে টাঙ্গাইলের তাপমাত্রা কমেছে। সোমবার টাঙ্গাইলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এ বছরের মধ্যে সর্বোনিম্ন। আরো কয়েক দিন শীত থাকবে।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম জানান, তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকায় জেলার সকল স্কুল-কলেজ মঙ্গলবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার আবহাওয়া দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শীত নিবারনের জন্য জেলার গরিব ও ভাসমান মানুষদের মধ্যে দুই দফায় প্রায় ৮০ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের আটিয়া ইউনিয়ন আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ কুমার পালের বিদায় অনুষ্ঠান ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসান মারুফ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. তারিকুল ইসলাম, আটিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম মল্লিক, ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন, দেউলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাহমিনা হক, ছিলিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মজিবর রহমান, বাবু সুনীল কুমার দে, ব্যারিস্টার গোলাম নবী, আটিয়া মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ইয়াছমিন আক্তার, সরকারি বিন্দুবাসিনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কানিজ সালমা, সাবেক অধ্যক্ষ নারায়ন চন্দ্র দে, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুল বারেক প্রমুখ।
আটিয়া ইউনিয়ন আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল হক মল্লিকের সভাপতিত্বে বক্তারা স্মৃতিচারণ করে বলেন, একজন জ্ঞানের আলো দানকারীর বিদায় জানাতে হচ্ছে। তিনি এ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর শিক্ষকতা করেছেন, ওনি এ বিদ্যালয়ে আসার পর পাশের হার শতভাগে উন্নিত হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ ফিরে এসেছে। আজকে এ মহান শিক্ষকের বিদায় জানাতে গিয়ে চোখে অশ্রু ঝরে যাচ্ছে। আমরা এ মহান শিক্ষকের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।
পরে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক রনজিৎ কুমার পালকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেন আটিয়া ইউনিয়ন আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, টাঙ্গাইল জেলা মুজিব বাহিনীর কমান্ডার গেরিলা (বিএলএফ) বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল হক মল্লিক।
এছাড়াও প্রধান শিক্ষক ও তার সহধর্মিনীকে বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. রফিকুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা ফুলেল শুভেচ্ছাসহ বিভিন্ন উপহার প্রদান করেন।
এসময় স্থানীয় এলাকাবাসী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মেধাবী ও ক্লাসে শতভাগ উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার খাস কাকুয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মৌলভী আব্দুস সবুর মাস্টার শিক্ষা কল্যাণ ফাউন্ডেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
শিক্ষা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহ আলম কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা সোলায়মান, মহাসচিব শাহনাজ বেগম লাইজু, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডাক্তার শাহাদৎ হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে খাস কাকুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ হতে নবম শ্রেণির মেধাবী ও ক্লাসে শতভাগ উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মাননা প্রদান ও উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বপ্নের অবৈতনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডশিপ স্কুলে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে “এসো মুক্তিযুদ্ধের গল্পশুনি” অনুষ্ঠান ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের টাঙ্গাইল জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) জেলা সদর বস্তি সংলগ্ন ‘ফ্রেন্ডশিপ স্কুলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাতের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাফিসা আক্তার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মনি খন্দকার ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক মোঃ রাশেদ খান মেনন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিবাভকগণ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই টাঙ্গাইল জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে ফ্রেন্ডশিপ স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য মহান বিজয়ের মাস উদযাপন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হয়। যে শিশুরা বেড়ে উঠেছে বস্তির ছোট্ট ঘরে, পড়ালেখাই যেখানে বিলাসিতা সেই স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ আয়োজনে আনন্দময় একটি দিন উপভোগ করে শিশু শিক্ষার্থীরা। জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) কর্মসূচির আওতায় এ অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
অনুষ্ঠান শেষে স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগীতা শেষে বিজয়ীদের পুরষ্কার প্রদান করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিজয় দিবস ও টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের আয়োজনে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠাগার প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়ের আনন্দ’ শীর্ষক এ প্রতিযোগিতা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী অর্ধশতাধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আল-আমিন এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিপন।
পরে বিজয়ীদের মাঝে বিশেষ পুরস্কার এবং অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে বই ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনন্দপাঠ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আমিনুল হক কায়সার।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের সভাপতি মোঃ শাহজাহান, পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ কামরুজ্জামান, লাইব্রেরিয়ান হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ‘এসো বই পড়ি, নিজেকে আলোকিত করি’ স্লোগানকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে ২০১০ সালে গড়ে ওঠে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঠাগারটি মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সেলুন, বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশন অণু-পাঠাগার স্থাপনসহ শিক্ষামূলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।