মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ (প্রকাশক)

টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা-ছেলের মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা-ছেলের মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাবা ছেলে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) ভোর চার টার দিকে উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের গোসাইজোয়াইর গ্রামে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ।

নিহতরা হলেন, ওই গ্রামের মৃত মাইন উদ্দিনের ছেলে মো. আইনউদ্দিন (৬৫) ও তার ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৩)। আইনউদ্দিন কৃষি কাজ করতেন ও আনোয়ার ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা চালক ছিলেন।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ জানান, আনোয়ার হোসেন গতকাল(১৫ নভেম্বর) নতুন একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা কিনেন। রাতে তার বাড়িতেই চার্জ দিয়ে রাখেন। ভোর চারটায় ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার চার্জ খুলতে গেলে আনোয়ার হোসেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় তার ডাকচিৎকারে বাবা আইন উদ্দিন গিয়ে তাকে স্পর্শ করলে তিনিও বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হন। বিদ্যুৎপৃষ্ট দুজনের ডাকচিৎকারে আনোয়ার হোসেনের মা গিয়ে বিদ্যুতে মেইন লাইন বন্ধ করে দেন। পরে তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান,কয়েক মাস আগেও ওই লিকেইজ তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছিলো।এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাদ যোহর তাদের নামাজে জানাযা শেষে দাফন করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. নভেম্বর ২০২১ ০৮:১৫:পিএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিন বন্ধু নিহত হয়েছে। শুক্রবার (১২ নভেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার রুহুলি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, চিতুলিয়াপাড়া গ্রামের বাছেদের ছেলে মকবুল (২০) মাটিকাটা গ্রামের রশিদের ছেলে আসাদুল (১৭) একই গ্রামের ইলিয়াসের ছেলে রাকিব (১৬)। এরা তিনজনই পেশায় ভেকু চালক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ দেড়টার দিকে তিন বন্ধু মিলে নতুন মোটরসাইকেল নিয়ে রহুলীর দিকে মহরা দিতে যান। এ সসময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দেয়ালের সাথে ধাক্কা লাগলে সাথে সাথেই চালক মকবুল ও আসাদুল মারা যায়। পরে রাকিবকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) রাতে বাবা বাছেদকে আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে নিহত মকবুল ভূঞাপুর থেকে দুই লক্ষ টাকা দিয়ে মোটরসাইকেলটি ক্রয় করে ।

ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল ওহাব ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে জানান, আইনী প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তাস্তর করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. নভেম্বর ২০২১ ০৩:২২:এএম ৫ বছর আগে
‘নেত্রী : দ্য লিডার’র সিনেমার দ্বিতীয় লটের শুটিং শুরু করবেন অনন্ত - Ekotar Kantho

‘নেত্রী : দ্য লিডার’র সিনেমার দ্বিতীয় লটের শুটিং শুরু করবেন অনন্ত

একতার কণ্ঠঃ কথা ছিল অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে তুরস্কে নতুন সিনেমা ‘নেত্রী : দ্য লিডার’র দ্বিতীয় লটের শুটিং শুরু করবেন অনন্ত।

সে লক্ষ্যে প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। শুটিং লোকেশন দেখতে এ সিনেমার নায়িকা স্ত্রী বর্ষাকে নিয়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি তুরস্কেও গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন ভিন্ন পরিবেশ। দেশটিতে এরই মধ্যে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। দিন কয়েকের মধ্যে বরফ পড়াও শুরু হবে। শুটিংয়ের জন্য যে সময় নির্ধারণ করা ছিল সে সময় অর্থাৎ নভেম্বর থেকে তুষারপাত হবে। তাই প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে শুটিং করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অনন্ত। এ কারণে আপাতত তুরস্কের শুটিং শিডিউল বাতিল করেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে অনন্ত বলেন, ‘এর আগে অন্য একটি সিনেমার শুটিংয়ে আমরা তুষারপাতের শিকার হয়েছি। এ সময় শুটিং করা বেশ মুশকিল। তাই নভেম্বরে আর তুরস্কে শুটিং করছি না। বরং এ সময়ের মধ্যে আমরা বাংলাদেশের পার্ট শেষ করব। আগামী মার্চ নাগাদ তুরস্কে শীতের প্রকোপ কমে গেলে সেখানে যাব শুটিং করতে।’

তুরস্ক ও বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘নেত্রী : দ্য লিডার’ সিনেমাটি পরিচালনা করছেন দক্ষিণ ভারতীয় নির্মাতা উপেন্দ্র মাধব। এ সিনেমায় দক্ষিণ ভারতের প্রদীপ রাওয়াত, তরুণ অরোরা ও কবির দুহান সিং অভিনয় করছেন। পাশাপাশি রয়েছেন তুরস্কের কয়েকজন জনপ্রিয় তারকাও। এ সিনেমার নাম ভূমিকা অর্থাৎ নেত্রীর চরিত্রে অভিনয় করছেন চিত্রনায়িকা বর্ষা। অনন্তকে দেখা যাবে তার বডিগার্ডের চরিত্রে।

প্রসঙ্গত, এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের হায়দ্রাবাদে রামুজি ফিল্ম সিটিতে ‘নেত্রী : দ্য লিডার’ সিনেমার প্রথম লটের শুটিং করেছেন অনন্ত বর্ষা। এ তারকা দম্পতির অভিনীত ‘দিন : দ্য ডে’ নামে একটি সিনেমা মুক্তি পাবে ২৪ ডিসেম্বর। ইরানের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ইরানি নির্মাতা মুস্তফা অতাশ জমজম।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২. নভেম্বর ২০২১ ০৫:২৩:পিএম ৫ বছর আগে
বানরের দেহে বঙ্গভ্যাক্স টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফল - Ekotar Kantho

বানরের দেহে বঙ্গভ্যাক্স টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফল

একতার কণ্ঠঃ বানরের দেহে বঙ্গভ্যাক্স টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফল নিয়ে প্রতিবেদন বিএমআরসিতে জমা দিয়েছে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড।

সোমবার( ১ নভেম্বর ) দুপুরে বিএমআরসিতে এ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন গ্লোব বায়োটেকের সিনিয়র ম্যানেজার (কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি) ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

বিএমআরসির নির্দেশনা অনুসারে বানরের দেহে চালানো বঙ্গভ্যাক্স পরীক্ষার ফলাফল সমপর্কিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদে (বিএমআরসি) জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদন জমার পর গ্লোব বায়োটেক কতৃর্পক্ষ আশা করছে, দ্রুত তাদের পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ মানবদেহে পরীক্ষার অনুমোদন দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ‘বঙ্গভ্যাক্স’ টিকা শতভাগ কার্যকর বলে দাবি করা হচ্ছে।

ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব ফার্মার সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক দেশে করোনাভাইরাসের মহামারী শুরুর পর গত বছরের ২ জুলাই কোভিড টিকা তৈরির কাজ শুরুর কথা জানায়।

এরপর খরগোশের উপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ‘সফল’ হয়েছেন দাবি করে মানবদেহেও পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করতে গত জানুয়ারিতে বিএমআরসিতে আবেদন করেছিল গ্লোব বায়োটেক।

তখন বিএমআরসি বানর কিংবা শিম্পাঞ্জির উপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করে সংশোধিত আবেদন জমা দিতে বলে। তা মেনে ৫৬টি বানরের উপর পরীক্ষা চালিয়ে এখন প্রতিবেদন দিল তারা।

গ্লোব বায়োটেকের সিনিয়র ম্যানেজার (কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি) ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, ইঁদুরের দেহে টিকাটি পরীক্ষা করে ৯৫ শতাংশ কার্যকারিতা মিলেছিল। এরপর বিএমআরসির নির্দেশনা অনুসারে বানরের দেহে পরীক্ষা চালানো হয়। প্রাথমিক ফলাফলে টিকাটি বানরের দেহে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম হয়। এরপর বানরের দেহে আরেক দফা পরীক্ষা চালানো হয় যাকে বলা হয় চ্যালেঞ্জ ট্রায়াল।

এই পরীক্ষায় করোনার কতটি ভেরিয়েন্টে বঙ্গভ্যাক্স কাজ করে তা দেখা হয়। ফলাফলে দেখা গেছে, এ পর্যন্ত করোনার যতগুলো ভেরিয়েন্ট এসেছে তার সব কটিতেই টিকাটি শতভাগ কার্যকর।

সূত্রঃ যুগান্তর নিউজ

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২. নভেম্বর ২০২১ ০৩:৩১:এএম ৫ বছর আগে
ই-কমার্স গেটওয়ে: গ্রাহকদের পাওনা নিয়ে হাইকোর্টের রুল - Ekotar Kantho

ই-কমার্স গেটওয়ে: গ্রাহকদের পাওনা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

একতার কণ্ঠঃ পণ্য কিনতে গিয়ে পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা টাকা গ্রাহকদের ফেরত দিতে গত ২১ অক্টোবর ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি’র (সিসিএস) পক্ষে ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিকাশ, নগদ কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়।

এই রিটের শুনানি নিয়ে সোমবার (১ নভেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন ও ব্যারিস্টার এম আব্দুল কাইয়ুম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

এর আগে গত ১৭ অক্টোবর ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে পণ্য কিনতে গিয়ে পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা টাকা গ্রাহকদের ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সাত প্রতিষ্ঠানকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠায় সিসিএস।

প্রসঙ্গত, ই-কমার্সে কোনো গ্রাহক পণ্যের অর্ডার দিলে তার টাকা বর্তমানে পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকে। পণ্য ডেলিভারি হওয়ার পর প্রমাণ জমা দিয়ে সেই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান টাকা ছাড় পান।

গত ৩০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ থেকে এক নির্দেশনায় এ পদ্ধতি চালু করা হয়। কিন্তু গ্রাহক পণ্য না পেলেও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া টাকা ফেরত পান না। ফলে গ্রাহকের টাকা আটকে থাকছে।

এ পদ্ধতি চালু হওয়ার পর থেকে ইতোমধ্যে গ্রাহকের কয়েকশ’ কোটি টাকা গেটওয়েগুলোতে আটকে আছে।

সূত্রঃ সময় নিউজ টিভি

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১. নভেম্বর ২০২১ ১০:২৭:পিএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে প্রেমিকার গলাকাটার পর আহত প্রেমিকেরও মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে প্রেমিকার গলাকাটার পর আহত প্রেমিকেরও মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার শামছুল হক ডিগ্রি কলেজের পাশে স্থানীয় খোকন ড্রাইভারের একটি নির্মাণাধীন ভবনের সিঁড়িতে স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আক্তারের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের রহস্য ছায়া তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র‌্যাব-১২)। র‌্যাবের তদন্তে প্রেমিক মনিরকে ছেড়ে অন্য এক ছেলের সাথে প্রেমে জড়ানোর কারণে স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আক্তারকে গলাকেটে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে উল্লেখ করা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত প্রেমিক মনির হোসেনকে বুধবার(২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে গ্রেপ্তার দেখায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আহত প্রেমিক মনির হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার(২৮ অক্টোবর) ভোরে মৃত্যুবরণ করেছে।

প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-১২ জানায়, ঘটনার আকস্মিকতা ও চাঞ্চল্য বিবেচনায় র‌্যাবের সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের একটি চৌকষ টিম স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করে।

নিহত স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আক্তার(১৫) কালিহাতী উপজেলার পালিমা গ্রামের ফেরদৌস রহমানের মেয়ে ও এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা এলেঙ্গা পৌরসভার মসিন্দা এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবারসহ বসবাস করতেন। গুরুতর আহত মনির হোসেন(১৭) এলেঙ্গা পৌরসভার মশাজান এলাকার মেহের আলীর ছেলে। তিনি ট্রাক চালকের সহকারী ছিলেন।

র‌্যাব-১২ জানায়, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে গঠিত একটি চৌকষ টিম র‌্যাবের গোয়েন্দা টিমের সহযোগিতায় ঘটনার ১০ ঘণ্টার মধ্যে স্কুলছাত্রী নিহতের রহস্য উন্মোচন করেছে।

র‌্যাব-১২ আরও জানায়, ভিকটিম সুমাইয়া আক্তারের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং বিভিন্ন লোকজনের সাথে প্রকাশ্য ও গোপনে কথা বলে র‌্যাবের টিম। তারা জানতে পারে ভিকটিম সুমাইয়ার সাথে ট্রাকের হেলপার মনির হোসেনের দীর্ঘ দুই বছর যাবত প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

সম্প্রতি মনির তার প্রেমিকা সুমাইয়ার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য একাধিকবার প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় মনির মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। মাদকাসক্ত অবস্থায় ইতোপূর্বে কয়েক দফায় সুমাইয়ার উপর শারীরিক নির্যাতনও করেছে। প্রায় দুই মাস আগে সুমাইয়া তার সাথে সম্পর্ক চ্ছেদ করে অন্য একটি ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এতে মনির অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়। ৫-৭ দিন আগেও ভিকটিম সুমাইয়াকে মনির রাস্তায় একা পেয়ে মারপিট করায় সুমাইয়া আহত হয়ে চিকিৎসা করায়।

ওই চড় থাপ্পরের দৃশ্য মনির ভিডিও করে রেখে তার বন্ধুদের দেখায়। ২৬ অক্টোবর রাতে মনির তার কয়েক বন্ধুকে নিয়ে এলেঙ্গা সামসুল হক কলেজের মাঠে বসে মিটিং করে এবং সুমাইয়া ও তার নতুন প্রেমিকের উপর প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে। এ সময় বন্ধুরা তাকে সুমাইয়ার পথ থেকে সরে যেতে পরামর্শ দেয়। এরপর থেকে মনির পাগলের মত আচরণ করতে থাকে এবং ২০-২৫ মিনিট পর সবাই বাড়ি চলে যায়।

র‌্যাব জানায়, সংশ্লিষ্ট বিবেচনায় একটি ভিডিও বিশ্লেষন করে দেখা যায়- ট্রাক হেলপার মনির একটি সুইচ গিয়ার সংগ্রহ করে এবং লাইকির জন্য ভিডিও তৈরি করে। বিভিন্ন স্টাইলে মনির ওই সুইচ গিয়ার ছুরির ব্যবহার করার ভিডিও করে। ওই সুইচ গিয়ারটিই ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ জব্দ করে। প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়ে র‌্যাবের তদন্ত টিম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত মনির হোসেনকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার দেখায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার ভোরে চিকিৎসাধীন মনিরের মৃত্যু হয়।

এলেঙ্গা পৌরসভার প্যানেল মেয়র সুকুমার ঘোষ জানান, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোর রাতে মনির হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে মরদেহ মশাজান গ্রামে আনা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. অক্টোবর ২০২১ ০৭:২৮:পিএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে কিশোরীকে গলা কেটে হত্যা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে কিশোরীকে গলা কেটে হত্যা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় এক কিশোরীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া একই স্থান থেকে গলাকাটা অবস্থায় আহত এক কিশোরকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২৭ অক্টোবর) সকালে এলেঙ্গা পৌর এলাকার শামসুল হক কলেজের সামনে ওই ঘটনা ঘটে।

নিহত কিশোরীর নাম ছুমাইয়া আক্তার (১৬)।সে কালিহাতী উপজেলার নারন্দিয়া ইউনিয়নের পালিমা গ্রামের ফেরদৌসুর রহমানের মেয়ে। নিহতের পরিবার এলেঙ্গা পৌরসভার রিসোর্ট এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ছুমাইয়া স্থানীয় এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ছিল।

আহত কিশোরের নাম মনির হোসেন (১৭)। সে এলেঙ্গা পৌর সভার মশাজান এলাকার মেহের আলীর ছেলে। সে বাস চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতো।

নিহত কিশোরীর বাবা ফেরদৌসুর রহমান জানান, বুধবার সকাল ৬টায় তার মেয়ে স্থানীয় প্রাইম একাডেমিতে প্রাইভেট পড়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। সকাল ৮ টায় স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পান যে তার মেয়েকে (ছুমাইয়া) কে বা কারা জবাই করে হত্যা করে শামসুল হক কলেজের সামনে লাশ ফেলে রেখেছে। তবে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা ছেলেটিকে তিনি চেনেন না বলে জানান।

আহত মনিরের খালা রোজিনা বেগম জানান, মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) রাতে বাড়ি থেকে মনির বের হয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সকালে স্থানীয় লোকজনদের কাছে খবর পেয়ে মনিরকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে তার সঙ্গে যে মেয়েটিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে তাকে তিনি চেনেন না।

হত্যাকান্ড প্রসঙ্গে কালিহাতী থানার অফিসার-ইন-চার্জ(ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, সকালে স্থানীয় লোকজন শামসুল হক কলেজের সামনে গলাকাটা এক কিশোরী ও এক কিশোরকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় ওই কিশোর জীবিত ছিল। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত ওই কিশোরের ঘাড়সহ বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তিনি আরো জানান, প্রেমঘটিত কোনো কারণে ওই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

 

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. অক্টোবর ২০২১ ০৮:৩৫:পিএম ৫ বছর আগে
প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কটুক্তি করায় পৌর কাউন্সিলর স্বপন কারাগারে - Ekotar Kantho

প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কটুক্তি করায় পৌর কাউন্সিলর স্বপন কারাগারে

একতার কণ্ঠঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান স্বপনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রবিবার (১৭ অক্টোবর)  টাঙ্গাইলের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাউদ হাসানের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন হাফিজুর রহমান।  বিচারক সেই আবেদন নামঞ্জুর করে হাফিজুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান। গত ৫ জুন হাফিজুর রহমান শহরের আকুর টাকুর পাড়ায় একটি জমি পরিমাপকে কেন্দ্র করে ওই জমির মালিকের জামাতার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন। কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি তাকে বলেন ‘আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও মানি না।’ এ সময় তিনি অশালীন মন্তব্যও করেন। তার ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদ বাদি হয়ে কাউন্সিলর স্বপনের বিরুদ্ধে ৯ জুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। এছাড়াও মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় শহরের আকুর টাকুর পাড়ার প্রয়াত আশরাফ চৌধুরীর জামাতা মফিজুর রহমান টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

মামলা হওয়ার পর থেকে হাফিজুর রহমান আত্মগোপনে ছিলেন। পরে উচ্চ আদালতে গিয়ে আট সপ্তাহের জামিন লাভ করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করে। পরে তার জামিন বাতিল করে এক সপ্তাহের মধ্যে হাফিজুর রহমানকে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার আদেশ দেন।

টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শন তানভীর আহমেদ জানান, কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান স্বপন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, মামলা দায়েরের পর হাফিজুর রহমানকে টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদ থেকে বহিস্কার করা হয়। এ ছাড়া টাঙ্গাইল পৌরসভার প্যানেল মেয়র পদ থেকেও অব্যহতি দেওয়া হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. অক্টোবর ২০২১ ০১:৩০:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে হামলার শিকার সেই ম‌্যা‌জিস্ট্রেটের মামলা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে হামলার শিকার সেই ম‌্যা‌জিস্ট্রেটের মামলা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ম‌্যা‌জি‌স্ট্রেটের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হ‌য়ে‌ছে। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) দিনগত রাত ১২টার পর হামলার শিকার উপ‌জেলা সহকা‌রী ক‌মিশনার (ভূ‌মি) ও নির্বাহী ম‌্যা‌জি‌স্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ আল রনী বাদী হ‌য়ে উপজেলা বাস মিনিবাস, কোচ শ্রমিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক পাপ্পু খানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫/২০ জ‌নের না‌মে ভুঞ‌াপুর থানায় মামলা দা‌য়ের ক‌রেন।

মামলায় সরকারি কাজে বাধা ও হামলায় আহত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) বিকেল থেকেই ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা‌কে কেন্দ্র ক‌রে থমথমে অবস্থা বিরাজ কর‌ছে। থানায় মামলা দা‌য়েরের পর প‌রিবহন শ্রমিকদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ কর‌ছে। এতে অন‌্যান‌্য দি‌নের মত ভুঞাপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে তেমন প‌রিবহন ছে‌ড়ে যায়‌নি।

ভূঞাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল ওহাব জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত প‌রিচালনার সময় পরিবহন শ্রমিকদের হামলার ঘটনায় ম‌্যা‌জি‌স্ট্রেট বাদী হ‌য়ে একজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জনের নামে মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. অক্টোবর ২০২১ ০৯:২৬:পিএম ৫ বছর আগে
আজ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী - Ekotar Kantho

আজ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

একতার কণ্ঠঃ আজ ১২ অক্টোবর(মঙ্গলবার) মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা আর গবেষণার বদৌলতে মানুষ আজ অনেক অজানাকে জেনেছে, অসাধ্যকে সাধন করেছে এবং পৌছেছে উন্নতির স্বর্ণশিখরে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার গুরুত্ব আজ সমগ্র পৃথিবীব্যাপী সমাদৃত ও অনস্বীকার্য।

বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মােকাবেলা করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তােলার লক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ভূমিকা সর্বজনবিদিত। বর্তমানে গবেষণায় বাংলাদেশে ২য় অবস্থানকারী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়কসহ বিশ্বের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলােতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এটি বর্তমানে দেশের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পছন্দের অন্যতম তালিকায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকমন্ডলী, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে।উপমহাদেশের ইতিহাসে ১৯৫৭ সালের ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে মাওলানা ভাসানী সন্তোষে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘােষণা দেন।

১৯৭০ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর সন্তোষে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সম্মেলনে মাওলানা ভাসানী “আমার পরিকল্পনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়” শিরোনামে একটি লিখিত বক্তব্য (নিবন্ধন) এর মাধ্যমে মাওলানা ভাসানী তার প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়) এর চূড়ান্ত প্রস্তাব পেশ করেন।

প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় এর ৫টি মূলনীতি ছিল ? ক. বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর জন্যে যে কোন একটি কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক থাকবে। খ. প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর জন্য নির্দিষ্ট মাত্রার দৈহিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক থাকবে। গ. প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে তার ধর্মের মূলশিক্ষা বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে দান করা হবে এবং তা অনুশীলন করা বাধ্যতামূলক থাকবে। ঘ. কেরােসিন তৈল ও লবণ ছাড়া বাকী সবকিছু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে উৎপাদন করে নিতে হবে । ঙ. প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষাবর্ষগুলির মধ্যে চার-পাঁচ সপ্তাহ কাল প্রত্যন্ত গ্রামে কিংবা শিল্প এলাকায় হাতে কলমে কাজ করতে হবে।

নানা প্রতিবন্ধকতার পর ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নামে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ হয় ২০০১ সালের ১২ জুলাই এবং একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে ২০০৩ সালের ২৫ অক্টোবর। যা টাঙ্গাইল শহর থেকে মাত্র ৫ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।

৫৭.৯৫ একর (২৩.৩২ অধিগ্রহণকৃত) আয়তনের উপর প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ টি অনুষদের অধীনে ১৮ টি বিভাগ চালু রয়েছে। সম্প্রতি ‘মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগ খোলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৩৩৩ জন (ছাত্র: ৩১০৩ জন ও ছাত্রী: ২২৩০ জন) শিক্ষার্থী রয়েছে। যার মধ্যে স্নাতক/ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যায়ে ৪৩২৬ জন, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৯৬৮ জন, পিএইচডিতে ১৫ জন ও পিজিডি-ইন-আইসিটি ২৪ জন অধ্যয়নরত। সর্বমোট শিক্ষক সংখ্যা ২৪৩ জন (পুরুষ: ১৮১ জন ও নারী: ৬২ জন)। যার মধ্যে অধ্যাপক ৩০ জন, সহযোগী অধ্যাপক ৭৭, সহকারী অধ্যাপক ৯৬ জন, প্রভাষক ৪০ জন এবং পিএইচডি ডিগ্রীধারী ৬০ জন। এছাড়া ২৪৯ জন কর্মকর্তা ও ৩৬৬ জন কর্মচারী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য মুক্তিযােদ্ধা আব্দুল মান্নান হল, আলেমা খাতুন ভাসানী হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শহীদ জিয়াউর রহমান হল, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম হল, শেখ রাসেল হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল নামে ৭ টি হল রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং) এ ১৪২৯ জন, বিএসসি (অনার্স) এ ২৬৩৪ জন, বিবিএ তে ২৭৯ জন, বিএসএস (অনার্স) এ ১৮৩ জন, বি ফার্ম এ ২৭ জন, এমএস/এমএসসি তে ১২৯৬ জন, এমএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং)/এম ইঞ্জিনিয়ারিং এ ২০৫ জন, এমএসএস এ ২৮ জন, এমবিএ তে ১০৮ জন, পিজিডি-ইন-আইসিটিতে ২৮৭ জন শিক্ষার্থী ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে প্রায় ২০০০০ টি বই, ৯৪১ টি জার্নাল এবং সাময়িকী ও প্রায় ৩০০০০ টি ই-বুক রয়েছে। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাথে চীনের স্বনামধন্য ৫ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্নারক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোঃ China Three Georges University, Hubei University PR China, Chengdu Textile College (CTC) China, University of Electronics Science & Technology China ও Shenyang University of Chemical Technology (SUCT) China

বর্তমান বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার ও বাংলাদেশের ‘রূপকল্প’ এবং ‘সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ২০৪১’ বাস্তবায়নের স্বপ্ন নিয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩শ ৪৫ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রায় সমাপ্তির পথে।বিশ্ববিদ্যালয়টি ২২ বছরে পদার্পণ করলেও ২০০৮ সাল পর্যন্ত অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র সন্তোষজনক ছিল না। বর্তমান সরকারের সময়ে এসে এর অগ্রযাত্রা শুরু হয়ে বর্তমানে এর উন্নয়ন চিত্র চোখে পড়ার মতো হয়েছে।

বর্ণিত প্রকল্পে ভৌত অবকাঠামোগত সকল কম্পোনেন্টের ই-জিপি তে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে ও কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

অনুমোদিত প্রকল্পটির আওতায় বাস্তবায়নাধীন ১২.৭৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন, ১২-তলা বিশিষ্ট একাডেমিক-কাম-রিসার্চ ভবন নির্মাণ, ১০-তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক অ্যানেক্স উত্তর ভবন নির্মাণ, ২৫০ ছাত্রের জন্য নির্মাণাধীন জননেতা আব্দুল মান্নান হলের অবশিষ্ঠ ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম তলার উর্দ্ধমূখী সম্প্রসারণ, ৭০০ ছাত্রীর জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট ”শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল” নির্মাণ, ৫৫০ ছাত্রের জন্য ১০-তলা ভিতে ০৫ তলা পর্যন্ত ”শেখ রাসেল হল” নির্মাণ, ১০-তলা ভিতে ০৫ তলা পর্যন্ত মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণ, সিনিয়র শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য  ১০ তলা ভিতে ০৫ তলা পর্যন্ত আবাসিক ভবন নির্মাণ।

এছাড়া বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট স্থাপন, মাটি ভরাটসহ অভ্যন্তরীণ আরসিসি রাস্তা নির্মাণ কালভার্ট নির্মাণ, আরসিসি ড্রেইন এবং ঢাকনাযুক্ত ডাষ্টবিন নির্মাণ, নতুন স্থাপনাসমূহে গ্যাস লাইন সংযোগ, প্রস্তাবিত ভবনসমূহের জন্য আসবাবপত্র ক্রয়, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি/ল্যাব যন্ত্রপাতি, মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয়, ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয়, অফিস যন্ত্রপাতি ক্রয়, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের জন্য বই ও সাময়িকি ক্রয়, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ০২ টি বাস, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য ০১টি মিনিবাস ও ০১টি মাইক্রোবাস ক্রয় কার্যক্রমসমূহের বাস্তবায়ন কাজ বর্তমানে সমাপ্তির পথে। আশা করা যাচ্ছে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কাজ সমাপ্ত হলে শিক্ষা, প্রশাসন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা নতুন ও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ পাবে যা দক্ষ মানব সম্পদ গঠনে সহায়ক হবে।

ইতোপূর্বে ”মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন”-শীর্ষক প্রকল্প (জুলাই ২০১৩ হতে জুন ২০১৭ মেয়াদে) ৫১ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা (সংশোধিত ৫৬ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা) ব্যয় সম্বলিত প্রকল্পটি গত ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ছিল: ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের বাসভবন নির্মাণ, জননেতা আব্দুল মান্নান হল নির্মাণ, আলেমা খাতুন ভাসানী হল নির্মাণ, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীদের জন্য ডরমিটরী নির্মাণ (২০ ইউনিট), নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সাব-ষ্টেশন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, গ্যাস লাইন, জেনারেটর যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ক্রয়, ১টি মাইক্রোবাস ও ১টি এ্যাম্বুলেন্স ক্রয় ইত্যাদি।

এছাড়াও “পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন”-শীর্ষক গুচ্ছ প্রকল্পের আওতায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই ২০০৮ হতে জুন ২০১৬ পর্যন্ত মেয়াদে মোট ৩৭ কোটি ০৫ লক্ষ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পের আওতায় ৫-তলা লাইব্রেরী কাম ক্যাফেটেরিয়া ভবন নির্মাণ, ৪০০ আসনের ছাত্র হল বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান হল নির্মাণ, ৫-তলা ৩০ ইউনিটের শিক্ষক কর্মকর্তা ডরমিটরী নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পে ৪-তলা ভিতে ২-তলা একাডেমিক ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলার উর্দ্ধমূখী সম্প্রসারণ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবি স্মৃতিস্তম্ভ ও এর চত্ত্বর নির্মাণ, মুক্তমঞ্চের উন্নয়ন, বিজয় অঙ্গন চত্ত্বর নির্মাণ, ঢাকাস্ত গেস্ট হাউজ ক্রয় (শ্যামলীতে দু’টি ফ্লাট), লাইব্রেরীতে ”মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার” স্থাপন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রায় ৪০০ পুস্তক ক্রয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে নির্মিত ”প্রত্যয় ৭১” এর সম্প্রসারণ ও সংস্কার এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আইপি ক্যামেরা-এর আওতায় আনয়ন।

একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে লাইব্রেরী অটোমেশন, ই-বুক, ই-জার্নাল, আইসিটি সেল স্থাপন, ইনিস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) স্থাপন, রিসার্স সেল-এর মাধ্যমে শিক্ষকগণের গবেষণা পরিচালনা, বিডিরেন কতৃক ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহেনসমেন্ট প্রজেক্ট  (হেকেপ) বাস্তবায়ন।

বিশ্ববিদ্যালয় আইনে সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হবে বলে বর্ণিত আছে। মাওলানা ভাসানীর উদ্যোগে এ ক্যাম্পাসে ৪৯.১৫ একর জমির মধ্যে ১২.৯০ একর জমিতে সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নামে একাধিক সরকারী (দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ইত্যাদি), স্বায়ত্ব শাসিত বা সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত (শিশু হােস্টেল, মাদ্রাসা, ভাসানী হুজুর এর দরবার হল, মুসাফির খানা, মাজার, মসজিদ ইত্যাদি), বেসরকারীভাবে পরিচালিত (ভােকেশনাল হাইস্কুল, সাধারণ হাই স্কুল, টেকনিক্যাল কলেজ, এদের আবাসিক ছাত্র/ছাত্রী হল), মন্দির, পুরাতন ঐতিহাসিক ভবন রয়েছে এবং অত্র ক্যাম্পাসে ১৫.৪০ একর জমিতে ১টি দিঘীসহ বড় বড় ৪টি পুকুর রয়েছে। অবশিষ্ট মাত্র ২০.৮৫ একর জমিতে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমুলক প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে। বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় ক্যাম্পাস অভ্যন্তরীণ রাস্তা দিয়ে পার্শ্বস্ত এলাকার জনসাধারণ অবাধে চলাচল করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নমুলক প্রকল্প নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে যার মধ্যে-কেন্দ্রীয় গবেষণাগার, একাডেমিক ভবন, ছাত্র হল, ছাত্রী হল, কেন্দ্রীয় মসজিদ, অডিটোরিয়াম, স্টেডিয়াম, জিম্নেসিয়াম, ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন, শিক্ষক ক্লাব, কর্মকর্তা ক্লাব নির্মাণ ইত্যাদি থাকবে। তাছাড়া ক্যাম্পাস চত্বরে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহযোগিতায় স্থানান্তর করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

করোনাকালীন পরিস্থিতি ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কারণে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমস্যা সেশনজট। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ স্নাতক/ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী সম্পন্ন করতে লাগছে ৫ থেকে ৬ বছর এবং স্নাতকোত্তরে লাগছে ১.৫ থেকে ২ বছর। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ৭ থেকে ৮ বছর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মানিক শীল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের বেশিই ভালবাসে এ কারণে ছাড়তে চায় না, আমাদেরও যেতে ইচ্ছা করে না। অভিমান-ক্ষোভ যতই থাক, প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি ছাপিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সেরা তালিকায় উঠে আসুক সেই প্রত্যাশা রাখি, এগিয়ে যাক সামনের দিকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নুরে আলম মাসুম বলেন, প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় এর কথা মনে পরলেই নস্টালজিয়ায় ভুগি। সংস্কৃতিমনা মানুষ ছিলাম বলে ক্যাম্পাসে ঘটনাবহুল সময় পার করেছি আমি। যৌবন এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়টা কাটিয়েছি সন্তোষের প্রতিটি অলি গলিতে। মাভাবিপ্রবি আমার পরিচয়, আমার এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সমগ্র বিশ্বে গবেষণা ও সৃষ্টিশীলতার এক অনন্য নাম হয়ে উঠুক মাভাবিপ্রবি। ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এই আমার প্রত্যাশা।

২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে, সরকার ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ সকল কর্মসূচি পালন করা হবে।

দিনটি উপলক্ষে  মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন, ১০ টা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যূরালে ও মাওলানা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ১০ টা ২০ মিনিটে পায়রা, বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা, কেককাটা এবং বাদ যোহর দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২. অক্টোবর ২০২১ ০৬:৫২:পিএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মাদকাসক্ত নাতির হাতে বৃদ্ধা দাদী খুন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মাদকাসক্ত নাতির হাতে বৃদ্ধা দাদী খুন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় সেফাতন নেছা খান (৯০) নামে এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ওই বৃদ্ধার নাতি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করেছেন স্থানীয়রা। রবিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের মহিষমারা গ্রামের বাগানবাড়ি চৌরাস্তা এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।

মৃত সেফাতন নেছা খান ওই গ্রামের মৃত সিরাজ খানের স্ত্রী। ঘাতক নাতির নাম মঞ্জুর হোসেন (২৫)। তিনি সেফাতন নেছার ছেলে মনসুর আলীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, মঞ্জুর মাদকাসক্ত। তিনি নেশার টাকার জন্য দাদির কাছে টাকা চেয়েছিলেন। না পেয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা ধারণা করছেন।

নিহতের স্বজনের বরাতে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক কামাল জানান, সেফাতন নেছা বাড়িতে একা ছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে তার নাতি মঞ্জুর হোসেন তার কাছে টাকা দাবি করেন। সেফাতন নেছা টাকা দিতে অস্বীকার করলে মঞ্জুর একপর্যায়ে কুপিয়ে প্রথমে সেফতন নেছাকে আহত ও পরে তাকে গলাকেটে হত্যা করেন। সেফাতন নেছার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসার পর মঞ্জুর পালিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে। তারা হত্যাকারীকে আটক করার অভিযানে আছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. অক্টোবর ২০২১ ০১:৩৮:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে দুর্গোৎসবে নিজস্ব অর্থায়নে শাড়ী বিতরণ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে দুর্গোৎসবে নিজস্ব অর্থায়নে শাড়ী বিতরণ

একতার কণ্ঠঃ “ধর্ম যার-যার, উৎসব সবার”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শারদীয় দুর্গোৎসবে দুইশত দুস্থ পরিবারের মাঝে নিজস্ব অর্থায়নে শাড়ী বিতরণ করেছেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান শামীমা আক্তার।শনিবার (৯অক্টোবর) সন্ধায় শহরের ছোট কালিবাড়ী পুজা মণ্ডপে ওই শাড়ী বিতরণ করা হয়।

বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন,টাঙ্গাইল-৮(বাসাইল-সখীপুর)আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম( ভিপি জোহের)।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন,জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি গোপাল চন্দ্র সাহা,সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার গুণ, যুগ্ম-সম্পাদক বিমল কুমারদে,দাইন্যা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিলিপ সুত্রধর,সম্পাদক লক্ষন চন্দ্র, পোড়াবাড়ি পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোপাল চন্দ্র সাহা ,গালা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি খুশি মোহন দাস প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিলিপ দাস।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. অক্টোবর ২০২১ ১০:০৪:পিএম ৫ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।