মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ (প্রকাশক)

টাঙ্গাইলে মেয়ে থেকে ছেলে হলেন লাভলী - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মেয়ে থেকে ছেলে হলেন লাভলী

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে লাভলী আক্তার (১৫)। এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী তিনি। কিন্তু হঠ্যাৎ করেই লিঙ্গ পরিবর্তন হয়ে তিনি মেয়ে থেকে ছেলেতে পরিণত হলেন। এমনকি নিজের নাম লাভলী থেকে পরিবর্তন করে রেখেছেন আব্দুল্লাহ জিসান।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের নঠুরচর পশ্চিম পাড়া গ্রামে। তাকে এক নজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেছেন বিভিন্ন এলাকার উৎসুক জনতা। শনিবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হালিমুজ্জামান তালুকদার।

লাভলী আক্তার (আব্দুল্লাহ জিসান) নঠুরচর পশ্চিম পাড়া গ্রামের লাভলু মিয়ার বড় মেয়ে ও মির্জাপুর বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

হালিমুজ্জামান তালুকদার জানান, প্রায় কয়েক মাস আগে লাভলী আক্তারের মধ্যে ছেলেদের মতো ভাব আসে। একবার তার বিয়েও ঠিক হয়েছিলো। লিঙ্গ পরিবর্তনের কারণে সে বিয়েতে মত দেয়নি। কিন্তু ওই সময়ে বিষয়টি কাউকে জানায়নি তার পরিবার। শুক্রবার (৮ অক্টোবর) বিষয়টি জানাজানি হলে লাভলী আক্তারের বাড়িতে উৎসুক জনতার ভীড় জমে। তাকে এক নজর দেখতে দূর দুরান্ত থেকে প্রচুর পরিমাণে লোকজন আসছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রানা খান জানান, প্রতিদিন লাভলী আক্তারের (আব্দুল্লাহ জিসান) বাড়িতে কয়েক হাজার মানুষ আসে তাকে দেখতে। সবাই কৌতুহল নিয়ে তাকে দেখছে।

লাভলী আক্তারের (আব্দুল্লাহ জিসান) বাবা লাভলু মিয়া বলেন, তিনি তার স্ত্রীর কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর দিনরাত মানুষ ভিড় করছে তাকে দেখার জন্য। এখন তার শারীরিক গঠন পুরুষের মতো। এছাড়া চেহারাতেও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। মেয়ে থেকে ছেলেতে পরিণত হওয়ার পর তার নাম রাখেন আব্দুলাহ জিসান।

তিনি আরো বলেন, শনিবার দুপুরে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। মাথার চুল কেটে দেয়া হয়েছে। পায়জামা, পাঞ্জাবি কিনে দেওয়া হয়েছে।

তার মা পারভিন আক্তার বলেন, ছয় মাস আগে লাভনী আক্তারের (আব্দুল্লাহ জিসান) বিয়ে ঠিক হয়। বিয়ে করতে অসন্মতি প্রকাশ করে সে সময় লাভলী আক্তার তার মাকে লিঙ্গ পরিবর্তনের বিষয়টি জানান। কিন্তু তার মা ঘটনাটি বিশ্বাস করেননি। পরে তিনি সবকিছু জেনে শুনে বিশ্বাস করেন।

লাভলী আক্তার (আব্দুল্লাহ জিসান) বলেন, সাত মাস আগে থেকেই তিনি বিষয়টি বুঝছেন। প্রথমে তিনি তার চাচীকে জানান। এরপর তার বাবা মা বিষয়টি জানে। এসএসসি পরীক্ষার পর বিষয়টি প্রকাশ করার তার ইচ্ছে ছিলো কিন্তু তার আগেই প্রকাশ পেয়েছে।

গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিম আল রাজি জানান, ‘স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমাদের দেশে মাঝে-মধ্যেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এটা সাধারণত হরমোন জনিত সমস্যার কারনে হয়ে থাকে। আমি এই বিষয়েরই ডাক্তার। রোববার (১০ অক্টোবর) পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা হবে। সেখানে টিউমার থাকতে পারে।’

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. অক্টোবর ২০২১ ০৮:০৬:পিএম ৫ বছর আগে
১ কাপ চায়ের দাম সাড়ে আট লাখ! - Ekotar Kantho

১ কাপ চায়ের দাম সাড়ে আট লাখ!

একতার কণ্ঠঃ শিরোনাম দেখে অনেকেরই চোখ কপালে উঠতে পারে। তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই বলা হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম দামি চা ‘দা হোং পাও’য়ের কথা। যার এক কাপ চায়ের দাম সাড়ে আট লাখ টাকা! একে বলা হয় সোনার চেয়েও দামি চা। কারণ এর এক গ্রামের দাম সোনার এক গ্রামের দামের থেকে ৩০ গুণ বেশি!

চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের উয়ি পর্বতে খুব বিরল জাতের এই চা উৎপন্ন হয়। তবে এই চায়ের এতো দামের পেছনে অন্যতম কারণ হলো সারা বিশ্বের মধ্যে একমাত্র চীনেই এই চায়ের ছয়টি গাছ রয়েছে। বিরল ও উৎকৃষ্ট মানের জন্য দা হোং পাও’কে চায়ের রাজা বলা হয়। ২০০৬ সালে এই ছয়টি চা গাছের প্রায় ১১৭ কোটি টাকার বিমা করিয়েছে চীন সরকার। এক কেজি এই চায়ের দাম প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। তিনশো বছর ধরে চীনে এই চায়ের চাষ হচ্ছে।

এই চায়ে রয়েছে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ক্যাফেইন, থিওফিলিন, পলিফেনলস এবং ফ্ল্যাবোনয়েড। প্রতিদিন এই চা খেলে ত্বক ভাল থাকে। মাটির পাত্রে বিশুদ্ধ পানিতে এই চা বানাতে হয়। সুগন্ধের জন্যও এই চায়ের রয়েছে আলাদা কদর।

সূত্রঃ যুগান্তর অনলাইন নিউজ

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. অক্টোবর ২০২১ ০৩:৪৫:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মোবাইল হেডফোন কেড়ে নিল যুবকের প্রাণ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মোবাইল হেডফোন কেড়ে নিল যুবকের প্রাণ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মোবাইল হেডফোন পরে রেল লাইন পার হওয়ার সময়  ঢাকাগামী টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল যুবকের। বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার আনালিয়াবাড়ী এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ওই যুবক ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার সাব্বির হোসেন (২৪)।

নিহতের ভাতিজা আবু রায়হান জানান, তারা ঠাকুরগাঁও থেকে বাস যোগে ঢাকা যাচ্ছিলেন। সকালে বাসটি কালিহাতী উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের আনালিয়াবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে বাসটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এ সময় সাব্বির প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে কানে হেডফোন লাগানো অবস্থায় মহাসড়ক থেকে রেললাইন পার হয়ে প্রকৃতিক ডাকে সাড়া দেয়। পরে ফেরার পথে কানে মোবাইল হেডফোন থাকায় ঢাকাগামী টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেনের হুঁইশেল শুনতে না পারায় ট্রেনে কাটা পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেতে মরদেহ উদ্ধার করে বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব থানায় নিয়ে আসা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. অক্টোবর ২০২১ ১২:৩১:এএম ৫ বছর আগে
কিভাবে ঘরে বসে জন্ম নিবন্ধন করবেন? - Ekotar Kantho

কিভাবে ঘরে বসে জন্ম নিবন্ধন করবেন?

একতার কণ্ঠঃ জন্ম নিবন্ধন করার জন্য আমাদের অনেক ভুগান্তির স্বীকার হতে হয়।এখন ডিজিটাল ইউ‌নিয়ন সেন্টার, অনলাইন সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

দোকানে বা নিজ মোবাইলে ঘরে বসে আপনি আপনার নিজের বা শিশুর জন্য জন্ম নিবন্ধন করতে পারবেন। আর নয় ঘুরাঘুরি সেবা পাবে নিজ পরিবার।

নিচের লিংক গুলোতে ক্লিক করুন, আপনার প্রয়োজনীয় সেবা নিন।

১) নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন
http://bdris.gov.bd/br/application

২) জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন
http://bdris.gov.bd/br/correction

৩) জন্ম নিবন্ধন তথ্য অনুসন্ধান
http://bdris.gov.bd/br/search

৪) জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা
http://bdris.gov.bd/br/application/status

৫) জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট
http://bdris.gov.bd/application/print

৬) জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনঃ মুদ্রন
http://bdris.gov.bd/br/reprint

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. অক্টোবর ২০২১ ০৮:৫৫:পিএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পুলিশের এসআইকে থাপ্পর মেরে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পুলিশের এসআইকে থাপ্পর মেরে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শককে(এসআই) থাপ্পর দেওয়ার ঘটনায় সাদেকুল ইসলাম নামে এক প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার বহেড়াতৈল গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের গণটিকা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে বহেড়াতৈল গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে গণটিকা কার্যক্রম চলছিল। বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে টিকা দিতে কেন্দ্রে যান। তিনি নিয়ম না মেনে তাদের নিয়ে কেন্দ্রের ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

তবে আগে টিকা নিতে আসা লোকজন এর প্রতিবাদ করে এবং পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে কেন্দ্রের দায়িত্ব পালনকারী সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সানিউল আলম প্রধান শিক্ষক সাদেকুল ইসলামকে কেন্দ্রে ঢুকতে বাঁধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই সানিউল আলমকে থাপ্পর দেন প্রধান শিক্ষক।

সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সানিউল আলম জানান, শৃঙ্খলা না মেনে ওই প্রধান শিক্ষক জোর করে কেন্দ্রে যাওয়ার চেষ্টা করায় টিকা নিতে আসা লাইনে দাঁড়ানো উত্তেজিত লোকজন অভিযোগ করায় তিনি কেন্দ্রে ঢুকতে বাঁধা দেন। এ কারণে প্রধান শিক্ষক তাকে থাপ্পর মারেন।

এ বিষয়ে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) একে সাইদুল হক ভূঁইয়া জানান, পুলিশের গায়ে হাত তোলায় ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৭:২৩:পিএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী সুন্দরী খাল দখলের পায়ঁতাড়া - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী সুন্দরী খাল দখলের পায়ঁতাড়া

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের করটিয়ার ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের হাট সংলগ্ন সুন্দরী খালটি দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। স্থানীয়া একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে ১৬-১৭ ব্যক্তি শত বছরের ঐতিহ্য ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সুন্দরী খালের হাটের অংশ জবরদখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়েছেন।

জানাগেছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়ার সুন্দরী খালটি কৃত্রিম ভাবে খনন করা হয় ।লৌহজং নদী হতে শুরু হয়ে  ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ  খালটি করটিয়া হাটখোলার পাশ দিয়ে জমিদার বাড়ীর সামনে দিয়ে  প্রবাহিত হয়ে হাবলা বিলে গিয়ে মিশেছে । স্থানীয় জমিদার তার চলাচলের জন্য খালটি খনন করেন। এক সময় জমিদার ও পরিবারবর্গের নৌপথে যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিল এই খালটি। সে সময় এ খাল দিয়ে পানসি নৌকাসহ বড় জাহাজও চলাচল করত। নানা দিক দিয়ে অপার সৌন্দর্যের কারণে জমিদাররা খালটি ‘সুন্দরী খাল’ নামে অভিহিত করেন।

কালের বিবর্তনে খালটির স্রোতধারা হারিয়ে গেছে। অবৈধ দখলদারদের থাবায় খালটি প্রায় বিলুপ্ত। যেটুকু রয়েছে- তাও ময়লার ভাগাড়। স্থানীয় প্রভাবশালী মো. ইউসুব আলীর নেতৃত্বে ১৬-১৭ ব্যক্তি সরকারি মালিকানাধীন সুন্দরী খালটি দখল করে নিয়েছেন।

খালের দুইতীরে গড়ে ওঠেছে স্থাপনা। তবে খালের হাটের অংশে স্থাপনা নির্মাণ করে রীতিমত ভাড়া দিয়ে ফায়দা লুটছে প্রভাবশালীরা। কেউ কেউ বাড়ি-ঘরও নির্মাণ করেছেন। অবশিষ্ট অংশে ময়লা-আবর্জনা ও দূষিত বর্জ্য ফেলায় এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, এক সময় দেশ-বিদেশের লাখো ক্রেতার সমাগম ঘটত করটিয়া শাড়ির হাটে। সরকারি সা’দত কলেজের  ২৭ হাজারসহ স্থানীয় পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন ওই খালের পাশ দিয়ে চলাচল করে থাকে। বর্জ্যরে দুর্গন্ধে পথচারীদের বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

২০১৬ সালে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সুন্দরী খালের কিছু অংশ দখলমুক্ত করা হলে আবারও দখলে নেমেছে ওই চক্র। স্থানীয় শ্রমিক সমিতির নামে সুন্দরী খালের উপর নির্মিত লাল ব্রিজের কাছে বাণিজ্যিকভাবে খোলা টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে। টয়লেটের মলমূত্র সরাসরি যাচ্ছে খালের  পানির সাথে মিশে যাচ্ছে।

সরকারি সা’দত কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, গুটি কয়েক লোকের কারণে করটিয়ারশত বছরের ঐতিহ্য বিলীনের পথে। যে যেভাবে পারছে সুন্দরী খাল দখল করে নিচ্ছে। তাছাড়া এলাকার সব ধরণের বর্জ্য ও মলমূত্র খালে ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধে খালের পাশ দিয়ে কেউ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারেনা।

করটিয়ার কাপড়ের হাটের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এক সময় তারা সুন্দরী খালে নৌকা বেঁধে করটিয়া হাট করতেন। বর্তমানে দখল-দূষণে সুন্দরী খাল মরে গেছে। তারা সুন্দরী খাল রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

মো.ইউসুব আলী জানান, তিনি এককভাবে সুন্দরী খাল দখল করেন নাই, আরও ১৫-১৬ জন ব্যক্তিও দখল করেছেন। তিনি সা’দত বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই মুহূর্তে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান তিনি।

করটিয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি সৈয়দ মাজেদুল আলম নাঈম জানান, সুন্দরী খালটি করটিয়ার অপার সৌন্দর্যের একটি নিদর্শন। এ খালের জায়গা কেউ কেউ জবরদখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন- যা এখনই অপসারণ করা প্রয়োজন।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো. খায়রুল ইসলাম জানান, ইতোপূর্বে যারা সুন্দরী খাল দখল করেছে তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছিল। এছাড়া কিছুদিন আগে খালের একাংশ জুড়ে এইচএম ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে ঘর উত্তোলন করার চেষ্টা করায় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদি পূনরায় খালের জায়গা দখল করে কেউ অবৈধ স্থাপনা নির্মান  করে থাকে তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী জানান, সুন্দরী খালটি জেলার বাণিজ্যিক রাজধানী করটিয়ার ফুসফুস। জবরদখলমুক্ত করে খালটি প্রবাহমান করা হলে এলাকার মানুষ স্বস্তি পাবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:০৩:পিএম ৫ বছর আগে
এ বছর জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা হচ্ছে না - Ekotar Kantho

এ বছর জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা হচ্ছে না

একতার কণ্ঠঃ চলতি বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা হচ্ছে না।

মঙ্গলবার(২৮ তারিখ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।প্রতি বছর নভেম্বর মাসে জেএসসি ও জেডিসি এবং পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

করোনা মহামারির কারণে গত বছরও এ পরীক্ষা হয়নি। তখন পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ওপরের শ্রেণিতে ওঠার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

গতকাল সোমবার(২৭ তারিখ) এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করে সরকার। এসএসসি পরীক্ষা ১৪ নভেম্বর শুরু হয়ে ২৩ নভেম্বর শেষ হবে। আর এইচএসসি পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ৩০ ডিসেম্বর শেষ হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:৪১:এএম ৫ বছর আগে
প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন আজ - Ekotar Kantho

প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন আজ

একতার কণ্ঠঃ সংকট, চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ৭৪ বছর অতিক্রম করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তাঁর ৭৫তম জন্মদিন। স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা। চার দশক ধরে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এখন চতুর্থ দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। দেশের ইতিহাসে এমন রেকর্ড আর কারও নেই।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেই দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপন করছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। আজ বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার ও গির্জায় আজ বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এসব আয়োজনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্যে স্বনির্ভরতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন তিনি। পার্বত্য চুক্তি, ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি চুক্তি, ছিটমহল সমস্যার সমাধান, একুশে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়সহ জাতীয় জীবনের বহুক্ষেত্রে সাফল্য এসেছে তাঁর সময়ে।

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেওয়া পদক্ষেপ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হয়েছে। মিয়ানমারে নৃশংসতার শিকার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে যে মানবিকতার পরিচয় তিনি দিয়েছেন, তা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। এ ছাড়া দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিতে তিনি রূপকল্প ২০৪১ ঘোষণা করেন। নদীমাতৃক বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ ও ভৌত উন্নয়নের জন্য তিনি ১০০ বছরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যা ‘ডেলটা প্ল্যান’ বা ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা’ নামে পরিচিত।

১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। এরপর সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম হন।

শৈশব, শিক্ষা, পরিবার ও ছাত্ররাজনীতি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্ম গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। তিনি পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে বড়। আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকার সময় তিনি ১৯৬২ সালের হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে পথে নেমে আন্দোলন করেছেন। তিনি শৈশব থেকেই ছিলেন স্পষ্টভাষী, স্কুলে তিনি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনেও নেতৃত্ব দিতেন।

বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের (সাবেক ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজে) ছাত্রী থাকা অবস্থায় ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন শেখ হাসিনা। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা আন্দোলনে অংশ নেন এবং কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন ১৯৬৭ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থাতেই তিনি পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন।

বঙ্গবন্ধু ষাটের দশকে প্রায়ই কারান্তরীণ থাকতেন। বড় মেয়ে শেখ হাসিনার বিয়ের সময়েও তিনি কারাগারে ছিলেন। বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের তত্ত্বাবধানেই ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর একমাত্র ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এখন প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন।

সংকটময় পথে

শেখ হাসিনার জীবনে গভীরতম সংকট নেমে এসেছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে। সামরিক বাহিনীর কতিপয় বিপথগামী কর্মকর্তা ও সদস্য সপরিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। তিনি তখন স্বামী-সন্তান, ছোট বোন শেখ রেহানাসহ অবস্থান করছিলেন বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে। দেশে না থাকায় সেদিন তাঁরা প্রাণে বেঁচে যান। তবে শুরু হয় দুঃসহ এক জীবন। প্রথমে জার্মানি এবং পরে ভারতে নির্বাসিত জীবন যাপন করতে বাধ্য হন।

সপরিবার বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে এক ক্রান্তিকাল দেখা দেয়। জাতীয় চার নেতা—সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মনসুর আলী ও কামারুজ্জামানকে কারাগারে হত্যা করায় গভীর সংকট দেখা দেয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। দলের সেই বেসামাল পরিস্থিতিতে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় ইডেন হোটেল প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে সভানেত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করা হয়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে আসে সেই দিন, ১৯৮১ সালের ১৭ মে। সেদিন বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দলের অগণিত নেতা-কর্মী বিমানবন্দরে সমবেত হন তাঁদের সভাপতি শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে।

স্বজন হারানোর ছয় বছর পর শোকাচ্ছন্ন শেখ হাসিনা দেশের ভেজা মাটিতে পা রাখলেন। তিনি সমবেত জনতাকে বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আজ আমি এসেছি বাংলায়। এ দেশের মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অংশ নিতে। আমার আজ হারানোর কিছুই নেই।’ দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অন্তত ২২ বার হামলা হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

সংগ্রামী পথচলা

দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তাঁর দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার সঙ্গে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৬ সালে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে।

প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রথম মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকারের অন্যতম সাফল্য ছিল ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে ৩০ বছরের চুক্তি এবং পাহাড়ে সংঘাত নিরসনে সম্পাদিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি। এ ছাড়া কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারপ্রক্রিয়াও শুরু করেছিলেন তিনি।

বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে ২০০৬ সালে বিচারপতি কে এম হাসানের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের উদ্যোগ নিলে আন্দোলন শুরু করে আওয়ামী লীগ। নানা সংকটময় পরিস্থিতির পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের দলগুলো নিয়ে গঠিত হয় ১৪-দলীয় মহাজোট। এই জোট ভোটে জয়লাভ করে।

শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দায়িত্ব নেন। এরপর ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে তৃতীয়বার এবং ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। এ ছাড়া তিনি তিন মেয়াদে সংসদে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। বিনা মূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, গড় আয়ু বৃদ্ধি, শিশুমৃত্যুর হার কমানো, নারীশিক্ষায় অগ্রগতি, বিভিন্ন ভাতা ও বৃত্তি প্রদানের মধ্য দিয়ে প্রান্তিক জনগণের আর্থিক সুরক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সূচকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, উড়ালসড়ক, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উন্নয়ন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে রেকর্ড, জিডিপির ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধিসহ জাতীয় জীবনের নানা ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের সাফল্য রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৫:১০:পিএম ৫ বছর আগে
ই-কমার্সের প্রতারণা: গ্রাহকের ৩৪৪৪ কোটি টাকা আদায় অনিশ্চিত - Ekotar Kantho

ই-কমার্সের প্রতারণা: গ্রাহকের ৩৪৪৪ কোটি টাকা আদায় অনিশ্চিত

একতার কণ্ঠঃ ইভ্যালিসহ প্রতারিত ১২ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের টাকা ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত। এসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপও নিতে পারছে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনও পাওনা আদায়ে কাজ করতে পারছে না। এ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা হচ্ছে দেওয়ানি আইনে। নিবন্ধন দেওয়ার পরও রেজিস্ট্রার অব জয়েনস্টক কোম্পানি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪২০ ধারায় মামলা হয়েছে। ধারাটি জামিনযোগ্য। ফলে যে কোনো সময়ে গ্রেফতারকৃতরা বৈধভাবেই জামিনে বেরিয়ে আসতে পারেন। সংশ্লিষ্টদের থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বহুল আলোচিত ইভ্যালি নিবন্ধন নিয়েছে রেজিস্ট্রার অব জয়েনস্টক কোম্পানি (আরজেসি) থেকে। কিন্তু ই-অরেঞ্জ, ধামাকা কোনো নিবন্ধন নেয়নি। এতদিন ব্যবসা পরিচালনা করছে শুধু একটি ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে। বাকি প্রতারক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা একই।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে আমরা চাপ সৃষ্টি করতে পারি ইভ্যালির ওপর। প্রকৃত অর্থে আমাদের আইনের কিছু দুর্বলতা আছে। এই আইনে আটকে আছি। তবে নতুনভাবে যাতে ই-কমার্স খাতে এ ধরনের প্রতারণা না হয় এজন্য এ বিষয়ে কাজ হচ্ছে। আইনমন্ত্রীকে বলা হয়েছে। তিনি কাজ করছেন। একটি আইন করে তার বিধিমালা করা হবে। পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকেরও সহায়তা লাগবে। মন্ত্রী আরও বলেন, ইভ্যালি চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৪২০ ধারায়। এটি জামিনযোগ্য ধারা। তারা জামিনে বের হতে পারে।

প্রসঙ্গত নীতিমালা এবং আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ই-অরেঞ্জের গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের ১১০০ কোটি টাকা পকেটে ভরেছে। ইভ্যালিও নিয়েছে ১০০০ কোটি টাকা। এছাড়া ধামাকা নিয়েছে ৮০৩ কোটি টাকা, এসপিসি ওয়ার্ল্ড ১৫০ কোটি টাকা, এহসান গ্রুপ ১১০ কোটি টাকা, নিরাপদডটকম ৮ কোটি টাকা, চলন্তিকা ৩১ কোটি টাকা, সুপম প্রডাক্টের ৫০ কোটি টাকা, নিউ নাভানার ৩০ কোটি টাকা এবং কিউ ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং ১৫ কোটি টাকা, সিরাজগঞ্জশপ ৪৭ কোটি, আলাদিনের প্রদীপ ১০০ কোটি টাকা নিয়েছে।

দেশে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাজারে যাতে কেউ অসুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য কাজ করছে বাংলাদেশ প্রতিযোগী কমিশন। ইতোমধ্যে স্বপ্রণোদিত হয়ে ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি মামলা করছে। তবে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিতে পারেনি প্রতিযোগী কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠান চলছে দেওয়ানি আইনের ওপর। এর অধীনে বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করার প্রমাণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে তার বার্ষিক টার্ন ওভারের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান আছে। প্রতিযোগিতা কমিশন কোনো ক্রিমিনাল আইনে পরিচালিত হয় না। তিনি আরও বলেন, ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই রায় দেওয়া হবে।

টাকা ফেরত পাওয়া প্রসঙ্গে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, গ্রাহকরা টাকা না পেয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে ইভ্যালির বিরুদ্ধে ৪২০ ধারায় মামলা হয়েছে। এখন গ্রাহকদের টাকা ফেরত চেয়ে একটি আবেদন করে আদালতের নজরে আনতে হবে। আবেদনের পর হয়তো আদালত বিবেচনায় নেবে।

জানা গেছে, সিআইডি মোট ১৪টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্ত করছে। বেশিরভাগ গ্রাহককে পণ্য বা টাকা ফেরত না দেওয়া সংক্রান্ত। বিদ্যমান মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় এনে এর বিচার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়। কারণ এ আইনে ই-কমার্স খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে মানি লন্ডারিং আইনটি সংশোধন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। যদি এটি শেষ পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে।

জানা গেছে, বর্তমান অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকায় নাম পাওয়া গেছে এক হাজার প্রতিষ্ঠানের।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চলিত আইন সংশোধনের মাধ্যমে যথাযথ প্রয়োগ করে প্রতারণামূলক ই-কমার্স ব্যবসাগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগের ক্ষমতা বাড়াতে হবে। এছাড়া দক্ষ জনবল বৃদ্ধিও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এছাড়া ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে যেন তারা আরও সতর্কভাবে ই-কমার্স খাতে ব্যবসা করতে পারে এবং প্রতারণামূলক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে সাবধান থাকতে পারে।

সংবাদ সূত্র-যুগান্তর আনলাইন

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৫:৪৮:পিএম ৫ বছর আগে
ডিসেম্বরে চালু হতে যাচ্ছে ৫জি সেবা: মোস্তাফা জব্বার - Ekotar Kantho

ডিসেম্বরে চালু হতে যাচ্ছে ৫জি সেবা: মোস্তাফা জব্বার

একতার কণ্ঠঃ রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক আগামী ১২ বা ১৬ ডিসেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে দেশে ৫জি চালু করবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

শনিবার(২৫ তারিখ) টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘৫জি ইকোসিস্টেম ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড আপকামিং টেকনোলজিস’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি। ডিসেম্বর মাসেই চালু হবে। ডিসেম্বর মাসের ১২ তারিখ হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস, ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। বিশেষ এবং বড় কোনো দিবসেই ৫জি চালু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ৫জি ডিভাইসের সংকটের কথা বলা হচ্ছে। ৫জি পুরোপুরি চালুর আগেই দেশে ডিভাইস সংকট থাকবে না। এখনই বাংলাদেশে ৫জি স্মার্টফোন তৈরি হচ্ছে। চাহিদার ৯০ শতাংশ ৪জি স্মার্টফোন এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে।

জানা গেছে, টেলিটকের অনুকূলে ৩ দশমিক ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডে (৩৩৪০-৩৪০০ মেগাহার্জ) ৬০ মেগাহার্জ তরঙ্গ শর্ত সাপেক্ষে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

টেলিটক নিজেদের উদ্যোগে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ৫টি এলাকায় (সাইট) প্রাথমিকভাবে ৫জি সেবা চালু করবে। পরবর্তীকালে একটি ছোট প্রকল্পের আওতায় ঢাকাকেন্দ্রিক ২০০টি সাইটে এই সেবা চালু করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৩:৪৩:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে চারজন আশ্রয়হীনকে ঘর হস্তান্তর - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে চারজন আশ্রয়হীনকে ঘর হস্তান্তর

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের চার জন আশ্রয়হীনকে টিনশেড ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার( ২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই ঘরগুলো হস্তান্তর করেন টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব মোঃ ছানোয়ার হোসেন।

হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা নবীন,টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষায়ক সম্পাদক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মির্জা মইনুল হোসেন লিন্টু, ,সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান,শহর আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকশনা সম্পাদক কাজী শফিকুল মওলা দোয়েল, ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ আবুল কালাম আজাদ, ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আব্দুর রফিক প্রমুখ।

উল্লেখ্য,‘‘আশ্রয়নের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার” শ্লোগানে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টি.আর) কর্মসূচি এর আওতায়,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এর অধীনে টাঙ্গাইলে আশ্রয়হীনদের মাঝে টিনশেড ঘর প্রদান প্রকল্পের আওতায় ওই ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়। প্রতিটি টিনশেড ঘরে আছে দুটি রুম, একটি বড় বারান্দা, রান্নাঘর ও শৌচাগার।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. সেপ্টেম্বর ২০২১ ০২:৪১:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে অটোরিকশা উল্টে আ.লীগ নেতা নিহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে অটোরিকশা উল্টে আ.লীগ নেতা নিহত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.আব্দুস সোবহান (৫৫) ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উল্টে নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে পৌর শহরের ডুবাইল বাজার রোডে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুস সোবহান ডুবাইল গ্রামের উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ইকবাল হোসাইনের পিতা।

জানা যায়, আব্দুস সোবহান ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ডুবাইল বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কয়েকটি ছাগল সড়কের মাঝে চলে এলে চালক ছাগল বাঁচাতে গিয়ে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। তখন অটোরিকশাটি যাত্রীসহ উল্টে যায়। অটো থেকে পড়ে আব্দুস সোবহান মাথায় গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তার মৃত্যুর খবর পেয়ে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. সেপ্টেম্বর ২০২১ ০১:০৪:এএম ৫ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।