একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হাসানের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে ছাত্রলীগের একাংশ। এরআগে সোমবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধায় শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হাসানের উপর হামলার ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়।
সভায় শহর ছাত্রলীগের সভাপতি মীর ওয়াছেদুল হক তানজীল, সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রাসেল আলম মামুন, যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম হৃদয়, সখীপুর শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান, এলেঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. মিজান, ঘাটাইল পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তপু চন্দ্র ঘোষ, টাঙ্গাইল টেক্সাইল ইন্সটিটিউটের সভাপতি আকাশ আহমেদ সূর্য, সাধারণ সম্পাদক মীর আজিজ, টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সাধারণ সম্পাদক মুক্তার দুর্জয়, ভূঞাপুর ইব্রাহিম খাঁ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হায়দার আলী, ভূঞাপুর শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান চকদার প্রমুখ অংশ নেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হাসান অভিযোগ করে বলেন, টাঙ্গাইল শহর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনি কারাগারে যাওয়ার আগে তাকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গেলে বড় মনির ৪ থেকে ৫ জন অনুসারী তার উপর হামলা করে। জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল শহর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনি জানান, একটি সাজানো যৌন নিগ্রহের মামলায় তিনি সবেমাত্র জামিনে মুক্ত হয়ে অসুস্থাবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এরই মধ্যে অপর একটি ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের উপর হামলার বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ঘটে থাকতে পারে। এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। অহেতুক তাকে দোষারোপ করে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছে।
একতার কণ্ঠঃ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণ, সংসদ বিলুপ্ত ও ১দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে কেন্দ্রিয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলে অনশন কর্মসূচী পালন করেছে জেলা বিএনপি।
শনিবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শহরের বেপাড়ীপাড়া ঈদগাহ্ মাঠ প্রাঙ্গনে এ অনশন কর্মসূচী পালন করা হয়।
এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারন সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ।
পরে টাঙ্গাইল জেলা বার সমিতির সভাপতি এডভোকেট মাঈদুল ইসলাম শিশির, জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের আহ্বায়ক ফায়জুর রহমান ফায়েজ, জেলা বার সমিতির সাবেক সভাপতি এডভেকেট শফিকুল ইসলাম রিপন অনশনরত নেতাকর্মীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান।
অনশনে জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, কাজি শফিকুর রহমান লিটন, জেলা শ্রমিকদলের সাধারন সম্পাদক একেএম মনিরুল হক মনির, জেলা যুবদল আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি তারিকুল ইসলাম ঝলক, জেলা মহিলাদলের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, শহর বিএনপির সভাপতি মেহেদীহাসান আলীম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি দূর্জয় হোড় শুভসহ বিভিন্ন উপজেলার সভাপতি-সম্পাদক ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলামের আয়োজনে সরকারের উন্নয়নমূলক শোভাযাত্রার প্রস্তুতি সভাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শনিবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে প্রস্তুতি সভাকে ঘিরে এ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সরকারের ১৫ বছরের উন্নয়নমূলক শোভাযাত্রার প্রস্তুতি সভা আহবান করেন। এক পর্যায়ে সভা শুরুর পূর্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মতিয়ার রহমান গাউস ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা রাজিকের নেতৃত্বে একটি মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এক পর্যায়ে প্রস্তুতি সভার আয়োজনে ব্যবহৃত চেয়ার ভাংচুর করা হয়। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে উন্নয়ন প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সাবেক এমপি অনুপম শাহজাহান জয় অংশ নেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মতিয়ার রহমান গাউস বলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বিএনপি-জামায়াতের লোকজন নিয়ে সরকার বিরোধী কর্মকান্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে আমরা তা প্রতিহত করেছি।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, আমাদের সভা শুরুর দেড় ঘণ্টা পূর্বে সভাপতি মতিয়ার রহমান গাউস ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা রাজিকের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা বাদলের লোকজন ১০ থেকে ১৫ টি চেয়ার ভাংচুর করে। এ সময় আমাদের লোকজন উপস্থিত হলে তারা চলে যায়। পরে আমরা যথারীতি প্রস্তুতি সভা করেছি।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল আমিন জানান, দু’গ্রুপের উত্তেজনার খবর পেয়ে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনি। এর পূর্বে কয়েকটি চেয়ার ভাংচুর করা হয়েছে বলে শুনেছি।
একতার কণ্ঠঃ উপজেলা আওয়ামীলীগের উপর হামলার অভিযোগে করা মামলায় টাঙ্গাইল বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান নূর তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত পরিদর্শক তানবীর আহমেদ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কারাবন্দীরা হলেন, গোপালপুর উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হানিফ কিসলু, ইউনিয়র সেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক আলম খান, যুবদলের সদস্য সচিব হারুন, শ্রমিকদলের সদস্য সচিব জাফর মিয়া ও উপজেলা জিয়া মঞ্চের আহ্বায়ক বদিউজ্জামান বাদলসহ বিভিন্ন স্তরের ৪০ নেতাকর্মী।
আদালত পরিদর্শক তানবীর জানান, বৃহস্পতিবার সকালে গোপালপুর উপজেলা বিএনপি’র ৪০ নেতাকর্মী টাঙ্গাইল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জামিন নিতে আসেন। আদালতের বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল জানান, গায়েবী ও মিথ্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন ওই নেতাকর্মীরা। উচ্চ আদালতের নির্দেশে অনুসারে বৃহস্পতিবার সকালে গোপালপুর উপজেলার বিএনপি’র ওই ৪০ নেতাকর্মী টাঙ্গাইল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন নিতে আসেন। আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে তাদের অন্যায়ভাবে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি আরও জানান, নিপীড়ন-নির্যাতনের নীতি অবলম্বন করে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিশ্চিহ্ন করার পায়তারা চলছে। বিএনপির কর্মসূচিগুলোতে বিপুল জনসমাগম দেখে সরকার দিশেহারা বলেই জামিন বাতিলের হিড়িক পড়েছে। গ্রেফতার, জামিন বাতিল ও নির্যাতন করে আন্দোলনকে দমানো যাবে না। অবিলম্বে কারাবন্দী সকল নেতাকর্মীদের মুক্তির জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিক উদযাপন অনুষ্ঠানে গোপলপুর উপজেলা বিএনপি ও আওয়ামীলীগের মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ২ সেপ্টেম্বর ৬১জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে ২৮ দিনের জামিন পান ওই মামলার আসামীরা।
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে বিএনপি’র সঙ্গে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। তবে এখনও আওয়ামী লীগের দরজা খোলা আছে। তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। তারা নির্বাচনে আসবে। আন্দোলন সংগ্রাম করে সরকার পতন ঘটাবে, এটি কোনোভাবেই পারবে না।
বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিতসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেছেন।
মন্ত্রী বলেন, ৯০ দিন বিএনপি দেশ অচল করার চেষ্টা করেছে, গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ মেরেছে, স্কুল কলেজে আগুন দিয়েছে, রেল লাইন তুলেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের পতন ঘটাতে পারেনি।
সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন ইস্যুতে বিদেশিদের চাপ রয়েছে, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, কোনো চাপের কাছে আওয়ামী লীগ মাথানত করবে না। জেল জুলুমের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। প্রয়োজনে আমরা জেলে যাব। তবুও কোনো চাপে আমরা মাথানত করব না। বিএনপি বলছে, তারা তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। সংবিধানে সুস্পষ্ট লেখা আছে যে, সরকার থাকবে তার অধীনেই নির্বাচন হবে। সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতা করবে। যেকোনো আন্দোলন রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে।
এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, কেন্দ্রীয় সদস্য তারানা হালিম, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট মামুন উর রশিদ, এমপি ছানোয়ার হোসেন, তানভীর হাসান ছোট মনির, হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী, আহসানুল ইসলাম টিটু, আতাউর রহমান আজাদ ও খান আহমেদ শুভ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ বর্ধিতসভা শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে মন্ত্রী টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলীতে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় অংশ নেয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন পেতে তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
বুধবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদের সদ্য পদত্যাগকারী চেয়ারম্যান ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্বাক্ষরিত কাগজে বলা আছে- আমি গোপালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে চেয়ারম্যানের পদের দায়িত্ব পালন করতে পারছি না বিধায় আমি উক্ত পদ হতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে ইচ্ছুক। আমাকে গোপালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ হতে পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করছি।
জানা যায়, ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা পরিষদের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি টাঙ্গাইল-২ (ভুঞাপুর-গোপালপুর) আসন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি গত ১৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের বরাবর আবেদন করেন। পরে ৩ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ শূন্য ঘোষণা করেন।
সদ্য পদত্যাগকারী চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল-২ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু গণমাধ্যমকে বলেন, আমি গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম কিন্তু চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ না করায় দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। আমি তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। ভূঞাপুর-গোপালপুরের জনগণ আমাকে এমপি হিসেবে দেখতে চান। জনগণের চাপের কারণে তফসিল ঘোষণার আগেই চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করলাম।
তিনি আরও বলেন, আমার দীর্ঘ বিশ্বাস জননেত্রী শেখ হাসিনা এবার আমাকে মনোনয়ন দিবেন। গোপালপুর-ভূঞাপুর আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নৌকা উপহার দিব। এই দুই উপজেলাকে স্মার্ট, মডেল ও সন্ত্রাসমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শামীম আরা রিনি গণমাধ্যমকে জানান, গোপালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদত্যাগের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের বরাবর আবেদন করেন। পরে মন্ত্রণালয় পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মীর রেজাউল হক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক গণমাধ্যমকে জানান, আমি ভাররপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি । আমি সঠিক ভাবে দায়িত্ব পাালনের চেষ্টা করবো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো, সংসদ বিলুপ্ত ও একদফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়ে শান্তিকুঞ্জ মোড়ে আটকে দেয়। পরে সেখানেই বিএনপি নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে।
সোমবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে শহরের ভাসানী হলের সামনে এসে সমবেত হয়। সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করতে চাইলে প্রথম দফায় পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশি বাধায় নেতাকর্মীরা শহরের বেপারীপাড়া এলাকায় গিয়ে সমবেত হয়। পরে সেখান থেকে পুনরায় বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরে প্রবেশ করতে চাইলে শান্তিকুঞ্জ মোড় এলাকায় পুলিশ তাদেরকে দ্বিতীয় দফায় বাধা দেয়। পরে সেখানেই তারা সংক্ষিপ্ত সমাবেশে করে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহাবুব আনাম স্বপন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ।
এ সময় জেলা বিএনপি, বিভিন্ন উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সম্পাদক এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।
একতার কণ্ঠঃ পুত্র সন্তানের পিতা হয়েছেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির ।
রবিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. তৃপ্তি রানী জান্নাত ও ডা. জান্নাতুল ফেরদৌসীর তত্ত্বাবধানে সিজারের মাধ্যমে নবজাতকের জন্ম হয়। ডাক্তার জানান বর্তমানে মা ও নবজাতক উভয়েই সুস্থ আছেন।
নবজাতকের আগমনের খবর পেয়েই শ্বশুর সাবেক নৌ পরিবহনমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান খান এমপিকে মিষ্টি মুখ করান জামাতা ছোট মনির।
জানা যায়, দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছোট মনির ও ঐশী খান দম্পতির প্রথম সন্তানের নাম রাখা হবে।
তানভীর হাসান ওরফে এমপি ছোট মনির জানান, পৃথিবীতে এর থেকে আর কোন বড় পাওয়া নেই, ঘর আলোকিত হওয়ায় আমরা অনেক খুশি। সন্তানের জন্য সকলের নিকট দোয়া কামনা করছি।
একতার কণ্ঠঃ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের ব্যানার খুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগসহ আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার বিরোধীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মীসভা উপলক্ষে নানা ধরণের ব্যানার ফেস্টুন লাগায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের ব্যানার লাগায় ছাত্রলীগ নেতা মানিক শীল।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে গত ৪ অক্টোবর (বুধবার) থেকে ছাত্রলীগের লাগানো সকল ব্যানার খোলা শুরু করে নিরাপত্তা শাখায় কর্মরত কর্মচারীরা। ছাত্রলীগ নেতা মানিক শীল সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের ব্যানার গুলো না খোলার জন্য অনুরোধ করলেও তা উপেক্ষা করেই ব্যানার গুলো খুলে ফেলা হয়।
ছাত্রলীগ নেতা মানিক শীলের অভিযোগ, বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের ব্যানার ছেঁড়ার ঘটনায় আমাদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ যারা আওয়ামীপন্থী আছেন সবাই ক্ষুব্ধ। উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের ব্যানারে আমার ব্যক্তিগত কোন ছবি নেই। ছাত্রলীগের সাধারন কর্মী হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের প্রচারণা চালাচ্ছি। যা বিভিন্ন সরকারী অফিস বা দপ্তরেও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে তারা আবার ব্যানার লাগিয়ে দিতে চেয়েছেন। ইতোমধ্যেই নাকি বড় বড় করে ব্যানার বানাতে দেয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নিবিড় পালের অভিযোগ, ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অজুহাতে আর বিশ্ববিদ্যায়ল কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের ব্যানার গুলো খুলে ফেলা হয়েছে। তবে এটা খুবই দুঃখজনক। বর্তমান সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডগুলো ওই ব্যানারের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানতে পারতো। এতে সরকারের ভাবমুর্তি বৃদ্ধি পেত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যানার গুলো পুনরায় টাঙিয়ে দেয়ার কথা বললেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের মিটিং হচ্ছে বলে ফোন কেটে দেন এস্টেট শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মুছা মিয়া।
প্রক্টর প্রফেসর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হক বলেন, মোবাইলে কোন বক্তব্য দিব না। প্রয়োজন থাকলে ক্যাম্পাসে আসেন।
মোবাইলে বক্তব্য দিতে রাজি হননি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. ফরহাদ হোসেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন জানান, সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের ব্যানার খুলে ফেলার বিষয়টি ঠিক করেননি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মীসভা উপলক্ষে ব্যানার গুলো যেহেতু টাঙানো হয়েছিল, কর্তৃপক্ষ ব্যানার গুলো সরিয়ে নেয়ার জন্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে বলতো তারা দায়িত্ব নিয়ে খুলে ঠিক করেননি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করতে হবে।
একতার কণ্ঠঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করেছেন টাঙ্গাইল জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
শনিবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছিমা বাসিত ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসী আক্তার রুনুর নেতৃত্বে এই শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মরিয়ম বিনতে হোসাইন খেয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহেনিগার হোসেন তন্ময়, টাঙ্গাইল জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিনা বেগম, শামসুন্নাহার বেগম, মাহমুদা বেগম শেলী, ফাতেমা রহমান, ফরিদা বেগম, রেহানা বেগম, রুমা খান, হোসনে আরা রোজি, আফরোজা বেগম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফারজানা হোসেন মুক্তি, ডাঃ জাকিয়া ইসলাম জ্যোতি, সাংগঠনিক সম্পাদক ডলি আক্তার, মুক্তি হাসানসহ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেত্রীবৃন্দ।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, আগামী ৩ মাস পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা গোটা পৃথিবীর কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। কোন দল এই নির্বাচনকে বানচাল করতে পারবে না। কোন ষড়যন্ত্রই এই নির্বাচনকে বানচাল করতে পারবেনা বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
শনিবার (৭ অক্টোবর ) দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি দোখলা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজরিত দোখলা রেস্ট হাউজে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও দুইটি বন বিভাগের ব্যারাক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের একটি বড় দল এই জাতীয় নির্বাচনকে বানচাল করতে চেষ্টা করছে কিন্তু বর্তমানে পুলিশ প্রশাসন খুবই তৎপর রয়েছে। তারা সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে। এদেশের জণগন আমাদের সাথে আছে। এদেশের মানুষ যদি আবারো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ভোট দেয় তাহলে এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। নির্বাচন নিয়ে যদি কোন দেশ বানচাল করার চেষ্টা করে তাহলে সেই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করবো।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমেরিকায় ক’জন মানুষ যায়। তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কি করবে। যারা গুলশান বানানীর বড় লোকের ছেলেরা তারাই আমেরিকায় যায়। তারা না গেলে বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হবে না। দু-একজন মন্ত্রী না গেলেও ক্ষতি হবে না। আমরা জেলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত, ভিসা দিয়ে আমেরিকা যেতে পারবো না এটা আমাদের কোন বিষয় না। নয় মাস একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। অর্থনীতিক ভাবে যদি তারা স্যাংশন দেয় আমরাও দেখবো কিভাবে মোকাবেলা করা যায়। আন্তর্জাতিক বিশ্বে আমেরিকাসহ অনেক দেশ মুক্তিযোদ্ধের সময় আমাদের বিপক্ষে ছিল।
কিছু মানুষকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে যারা গুলশান বনানীতে বসবাস করে তারাই আমেরিকা যায়। আমাদের আমেরিকা না গেলেও চলবে।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাহাব উদ্দিন বলেন, সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ২২% বনায়ন করতে পারছি, তবে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় ২৫ % করার চেষ্টা করছি। সামাজিক বনায়নের কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।
অবৈধ করাতকল প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, করাতকল অবৈধভাবে চলছে তবে কিছু হাইকোর্টে মামলা থাকার কারণে সমস্যা হচ্ছে। সেই মামলার জবাব দিবো কোর্টের মাধ্যমে অবৈধভাবে যে কয়লা উৎপাদন হয় সে বিষয়ে নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আইরিন আক্তার, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাজ্জাদুজ্জামান, মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক এমপি’র পাঁচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পতিত জমিতে হচ্ছে ড্রাগন ফল চাষ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ে থাকা পতিত জমিতে লাগানো ড্রাগন ফল থেকে প্রতি মৌসুমে আয় হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। লাভের সেই টাকা ব্যয় হচ্ছে নিজ উদ্যোগে নির্মিত এতিমখানায়। এতে সুরক্ষিত হয়েছে এতিমখানাসহ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ।
একান্ত সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক এমপি আলহাজ্ব মো. আবুল কাশেম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দেলদুয়ার উপজেলায় দেউলি ইউনিয়নের আলালপুর গ্রামে পাশাপাশি কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বোরহানুল উলুম আহমাদিয়া ইয়াছিনিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা, সুফিয়া কাশেম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, আবুল কাশেম ট্রাষ্ট মসজিদ, আল জামিয়াতুল কাছেমিয়া ও জামেরুন্নেছা এতিমখানা, কমিউনিটি ক্লিনিক, পোস্ট অফিস ও সামাজিক কবরস্থান। প্রায় ১৮ একর জমির উপর গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠানগুলো ১০ একর পতিত জমিতে চাষ করা হয়েছে ড্রাগন ফল।
বাগানের কৃষক মো. আব্দুল কাদের বলেন, ১০ একর জমির উপর এই ড্রাগন বাগান করা হয়েছে। বাগানে ড্রাগনের চারা রয়েছে পনের হাজার। আমাদের বাগানে লাল, গোলাপী, বেগুনী, হলুদ ও সাদা জাতের ফল রয়েছে।
তিনি বলেন, এখন ড্রাগন ফলের মৌসুম। তবে আমাদের বাগানে ফল বেশি বড় হচ্ছে না। কেজিতে ধরছে পাঁচ ছয়টা।

তিনি আরও বলেন, ড্রাগন ফল বাজারজাত করতে কোন কষ্ট হয় না। আমরা স্থানীয় পাইকারীদের কাছে বিক্রি করে থাকি। এছাড়াও নিজস্ব খরচে ঢাকায় পৌছিয়ে দিলে পাইকারীরা ন্যয্যমুল্যে দিয়ে থাকেন। প্রতিদিন প্রায় ৬শ থেকে ৮শ কেজি ড্রাগন ফল উত্তোলন করা যায়। তবে আমরা তা না করে মাসে মাসে উত্তোলন করছি। মাঝে মাঝে স্থানীয় পাইকারদের দাবির কারণে এর আগেও উত্তোলন করে বিক্রি করি। স্থানীয় পাইকারদের কাছে প্রতি কেজি দুই থেকে আড়াইশ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে আমাদের ড্রাগন ফল।
বোরহানুল উলুম আহমাদিয়া ইয়াছিনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী কবিরসহ কয়েক জন জানায়, ড্রাগন ফলের বাগানে সজ্জিত আমাদের বিদ্যাপিঠ। এই বাগান দেখে শুধু আমরাই আনন্দ পাইনা, বিভিন্ন এলাকা থেকেও বাগানগুলো দেখতে মানুষ আসছেন। এছাড়াও আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অনেক জায়গায় থাকায় পর্যাপ্ত আলো বাতাস পাওয়া যায়। শিক্ষা ব্যবস্থাও ভালো বলে জানান তারা।
আল জামিয়াতুল কাছেমিয়া ও জামেরুন্নেছা এতিমখানার মুহতামিম হাফেজ ইমরান হোসেন বলেন, এতিমখানা ও হিফজ শাখায় বর্তমানে অধ্যায়ন শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪২জন। অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের খানাপিনা ভোরণ পোষণের দায়িত্ব পালন করছেন প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক এমপি আলহাজ্ব মো. আবুল কাশেম।
তিনি আরও বলেন, এতিমখানার শিক্ষার্থীদের ভোরণ পোষণের চাহিদা মেটাতে তিনি ১০ একর পতিত জমিতে ড্রাগন বাগান করেছেন। ওই ফল বিক্রির টাকা ব্যয় হচ্ছে এতিমখানার শিক্ষার্থীদের পিছনে বলেও জানান তিনি।
বোরহানুল উলুম আহমাদিয়া ইয়াছিনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চারদিকে ড্রাগন ফলের বাগান। বাগানটি দেখতে অসাধারণ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির মনোরম পরিবেশে বেড়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রতিষ্ঠাতা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েই এই ড্রাগন বাগান করেছেন। উনার অবর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বন্ধ না হয়, সে লক্ষেই উনার এই বাগান করা। বাগান থেকে উপার্জিত টাকা এতিমখানাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনায় ব্যয় করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও আবুল কাশেম ট্রাষ্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আবুল কাশেম জানান, ১৯৭৩ সালে আমার পিতা ইন্তেকাল করেন। উনার রুহের মাগফিরাতের জন্য ওই সালেই আমি এখানে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করি। আমার প্রতিষ্ঠিত বোরহানুল উলুম আহমাদিয়া ইয়াছিনিয়া ফাজিল মাদ্রাসাটি বর্তমানে ডিগ্রী মাদ্রাসার উন্নিত হয়েছে। এর পাশাপাশি এখানে প্রতিষ্ঠা করেছি সুফিয়া কাশেম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, আবুল কাশেম ট্রাষ্ট মসজিদ, আল জামিয়াতুল কাছেমিয়া ও জামেরুন্নেছা এতিমখানা, কমিউনিটি ক্লিনিক, পোস্ট অফিস আর একটি সামাজিক কবরস্থান। এই প্রতিষ্ঠাগুলোর পরিচালনার ব্যয় মিটাতে আমার এই ড্রাগন বাগান করার উদ্যোগ।

তিনি জানান, আমার ১৮ একর জমির ৮ একর জমিতে প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মিত হয়েছে। বাকি ১০ একর পতিত জমিতে ড্রাগন বাগান করা হয়েছে। আমার এই ড্রাগন বাগানের বয়স প্রায় দেড় বছর। এ বছর আমি প্রায় ১৩/১৪ লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে পেরেছি। ড্রাগন ফল বিক্রির টাকা এতিমখানাসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর পিছনে ব্যয় করা হচ্ছে। ওই টাকা আমি আমার ব্যক্তিগত কোন কাজে খাটাই না। আমার ইচ্ছে আমার সকল সম্পতি আমি ট্রাস্টের নামে দিয়ে যাবো। সম্পতির সকল আয়ে চলবে আমার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো।
তিনি আরও জানান, আগামীতে প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে পরনির্ভরশীল না হয় সেই লক্ষেই আমার এই বাগান করার উদ্যোগ। আমার প্রতিষ্ঠিত এতিমখানায় যাতে দুই থেকে তিনশ এতিম সন্তান থাকতে পারে। তাদের আর্থিক কোন কষ্ট না হয় সেটিকেই প্রাধান্য দিয়ে আমি ড্রাগন চাষে এগিয়ে যাচ্ছি। বাগানটি করতে আমাকে দেশের অনেক জায়গাতে ঘুরতে হয়েছে। সর্বশেষ নাটোর থেকে এই ড্রাগনের চারা এনে বপন করা হয়েছে।