একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে অন্তত ২০জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টিয়ার গ্যাস ও গুলি ছুড়েন।
এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়ী, অন্তত ২০টি মটরসাইকেল, কাজী ডিজিটাল হাসাপাতাল, উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয় ভাঙ্গচুর করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার(১৩ জুন ) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে মধুপুর শহরে পৃথক সমাবেশ পালনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা হয়।

বিবাদমান দুই গ্রুপের এক পক্ষ স্থানীয় এমপি ও কৃষিমন্ত্রীর অনুসারী এবং আরেক পক্ষ মধুপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খান আবুর সমর্থক।
জানা যায়, মধুপুর পৌর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে যৌথভাবে দলীয় কার্যালয়ের সামনে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আয়োজন করা হয়।
অপর দিকে, মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফিউদ্দিন মনি ও সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খান আবু থানা মোড়ের দক্ষিণে পৃথকভাবে কর্মসূচির আয়োজন করে।
এ সভায় যোগদান করতে আসা ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পথিমধ্যে হামলার শিকার হন। এই ঘটনাকে ঘিরে মধুপুরে উত্তেজনা দেখা দেয়।
আহতরা হলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও লাউফুলা গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে খলিলুর রহমান (৩২), দামপাড়া গ্রামের মোর্শেদের ছেলে মাসরাফি (২৩), ইদিলপুর গ্রামের আহমেদ আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৬০), ভবানটেকী গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে সোয়াইফ (২০), গাংগাইর গ্রামের খালেদ আহমেদের ছেলে মাসরুর আহমেদ প্রিতম (৩০), দানবাবান্দা গ্রামের আহসান আলীর ছেলে চাঁন মিয়া (৬৫)।

আহতদের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে । এ ছাড়া ইদিলপুর গ্রামের আহমেদ আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৬০) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
মধুপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান জানান, আলোকদিয়া ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল হোসেনের নেতৃত্বে মটরসাইকেল ও অটোরিক্সা যোগে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডের সমাবেশে আসার সময় থানা মোড়ে কতিপয় ছাত্র ও শ্রমিক নেতা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার নিকটে থাকা ৬০ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। হামলাকারীরা সকলেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবুর নেতৃত্বাধীন কর্মী বলে দাবি করেন তিনি।
এই ঘটনার পর মধুপুর পৌরসভার মেয়র সমর্থিত নেতাকর্মীরা লাঠি-শোঠা নিয়ে এগিয়ে থানা মোড়ের দিকে এগিয়ে আসে। এরই মধ্যে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন ও সভা শেষে ছরোয়ার আলম খান আবুর নেতৃত্বাধীন মিছিলটি ফিরছিল। থানা মোড়ে মিছিল আসা মাত্রই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে । এ সময় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়। ভাঙ্গচুর করা হয় উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয়, তার ব্যবহৃত সরকারি গাড়ি, অন্তত ২০টি মোটর সাইকেল, কাজী ডিজিটাল হসপিটাল। দুই গ্রুপের ইট পাটকেল নিক্ষেপ, পুলিশের গ্যাস গান ব্যবহারে থানা মোড় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পার্শ্ববর্তী বাসা বাড়ির লোকজন আতংকিত হয়ে পড়ে। মধুপুরের দোকান পাট মুহুর্তের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পাশ্ববর্তী থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত পৌনে আটটা পর্যন্তও বিক্ষিপ্তভাবে ককটেল বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া যায়।
রাত আটটায় মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছরোয়ার আলম খান আবু তার বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, পৌর মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান, চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাবেশ করা সম্পূর্ণ সংগঠন বিরোধী। তাদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করার এখতিয়ার নেই। তারপরও মেয়রের নেতৃত্বে গাড়ী, মটরসাইকেল, দোকান, হাসপাতাল ভাঙ্গচুর নেতাকর্মীদের পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটিয়েছে। সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের উপরে হামলা করে অন্তত ৫০ জনকে তারা আহত করেছে। তারা নিরাপত্তার কথা ভেবে বিভিন্নস্থানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খান আবু আরো বলেন, পৌর মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান কৃষি মন্ত্রী ও স্থানীয় এমপি ড. আব্দুর রাজ্জাকের অনুসারী। এ ঘটনায় আমরা থানায় অভিযোগ দিবো।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফিউদ্দিন মনি, সহসভাপতি কাজী আব্দুল মালেকসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে মধুপুর পৌরসভার মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে সংগঠন বিরোধী কার্যক্রম করার অপরাধে কেন বহিষ্কার করা হবে না মর্মে শোকজ করা হয়েছে। বর্তমানে দলীয় কার্যক্রম করার এখতিয়ার তিনি হারিয়েছেন। তাই উপজেলা আওয়ামী লীগ ও পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের থানা মোড়ে আবুর কর্মীরা হামলা করে আহত করে। পরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আমি বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত করে ফিরিয়ে নিয়ে আসি।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মুরাদ হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মারামারি হয়েছে। কোন পক্ষই এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় অভিযোগ করেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ৭৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।
শুক্রবার(২৩ জুন) সকালে উপজেলার আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মোল্লা`র সঞ্চালনায় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন উপলক্ষে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বর্ণাঢ্য র্যালী, পুষ্পমাল্য অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বি.কম, জেলা আ.লীগের সাবেক সদস্য আবু নাসের,দশকিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মালেক ভূইয়া, কালিহাতী পৌরসভার মেয়র নুরনবী সরকার, কালিহাতী পৌর আ. লীগের সভাপতি মালেক তালুকদার, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন রিন্টু, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক লতিফ মোল্লা, উপজেলা যুব লগের সাধারণ সম্পাদক শাহআলম মোল্লা, উপজেলা শ্রমিক লীগের শেখ জাহিদুল ইসলাম শিপলু, উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান মনির প্রমূখ।
এ সময় উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন আ’লীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জুন) বিকেলে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট মামুনুর রশীদ, জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহসভাপতি খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, শাহজাহান আনছারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুভাস চন্দ্র সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন, দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট খোরশেদ আলম, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হোসেন মানিক, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ প্রমুখ ।
এ সময় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ জামালপুরে বাংলা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যার প্রতিবাদে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জুন) সকাল বেলা পৌনে ১২ টায় টাঙ্গাইল জেলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলানিউজের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি সুমন কুমার রায়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এড.জাফর আহমেদ, একুশে টেলিভিশনের প্রতিনিধি কাজী তাজউদ্দিন রিপন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি মামুনুর রহমান মিয়া, নয়াদিগন্তের প্রতিনিধি মালেক আদনান প্রমূখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের ঘটনার বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা এমন নির্মম ঘটনা ঘটাতে সাহস পেয়েছে। বক্তারা নাদিম হত্যার সুষ্ঠ বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
মানববন্ধনে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিল।
আরমান কবীরঃ সরকারের সাম্প্রতিক নির্বাচন ব্যবস্থা অনেকটা ভালো উল্লেখ করে কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইস্যুতে বিদ্যমান আইনে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ত্যাগ করার কোন সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইচ্ছে করলে সব মন্ত্রী বাদ দিয়ে আরও ১০০ জনকে মন্ত্রী বানাতে পারেন। একজন পাগলকেও মন্ত্রী বানাতে পারেন। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগ করার কোন সুযোগ নেই। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র রুটিন ওয়ার্ক করবেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবেন। সরকারের সকল কর্মকর্তারা ইসির অধীনে থাকবে।
আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আগামি জাতীয় সংবদ নির্বাচনে কোনো জোটে যাবো কি না জানি না। তবে বিএনপির সাথে কোনো নির্বাচনী জোটে যাবেন না।
তিনি বলেন, আমি সব সময় গণমানুষের পক্ষে বা ন্যায় সংগত কারণের পক্ষে কথা বলে থাকি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলে পৃথিবীর কোথাও কোনো সরকার নেই। কিন্তু বাংলাদেশে হয়েছিল। এখন সংবিধানে নাই। এরশাদকে বাধ্য করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার করা হয়েছিল। রাজনীতিতে আন্দোলনের মাধ্যমে বাধ্য করতে পারলে সেখানে সবই আইন আর না পারলে সবটাই বেআইনি বলেও মন্তব্য করেন। এখন দেখতে হবে বিএনপি যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার আনতে পারে তাহলে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবার হতে পারে। আর না হলে আমার বোনের (প্রধানমন্ত্রী) অধীনেই নির্বাচন হবে- এর কোন বিকল্প আপাতত নেই।
মহান মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তী বঙ্গবীর বলেন, একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে তাচ্ছিল্য করে কথা সমিচীন নয়- এটা কোনো সভ্যতা নয়। আবার একজন বয়স্ক নেতাকে তাচ্ছিল্য করে কথা বলাও ভালো না। আমাদের স্বাভাবিক হওয়া উচিত। কিন্তু যতদিন যাচ্ছে আমরা অস্বাভাবিক হচ্ছি এবং আমাদের মান মর্যাদা নিজেরাই ক্ষুন্ন করছি। সোমবার (১২ জুন) দুপুরে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম তার টাঙ্গাইলের বাসভবন ‘সোনার বাংলা’য় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
বঙ্গবীর বলেন, আমেরিকার কোন মতেই এই ভিসা নীতি এই মুহূর্তে করার কোনো মানে হয় নাই। কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দরকার পড়লে যাবো না সাত সাগরের ওপার। অনেকে এ কথার সমালোচনা করেছেন। যে কোন সরকার তার ইচ্ছেমত ভিসা দেয়। আমাদের প্রতিবেশি ভারত দুইজনে দরখাস্ত করলে রোগীকে ভিসা দেয় আর তার সঙ্গে যে থাকেন তাকে দেয় না। এটা তাদের ইচ্ছেমত এবং পৃথিবীর সব দেশই নিজেদের ইচ্ছেমতই ভিসা দেয়। বাইরের লোকেরা যে আমাদের দেশে আসে, আমাদের অ্যাম্বেসীগুলোও ওই একই কাজই করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এই ভিসানীতি নিয়ে কোন কথা থাকতো না। ভিসা নিয়ে কথা আসছে রাজনীতির কারণে। আমি মনে করি এই ভিসার যে কড়াকড়ি বা জাতীয় নির্বাচনে কেউ বাধা দিলে ভিসা দেওয়া হবে না, তার উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। এটা আমাদের অপমান করা ছাড়া আর কিছুই না।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খোকা বীর প্রতীক, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ এবং জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিণ্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক।
আরমান কবীরঃ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, শ্রীলঙ্কাকে ফলো করেন, দেখবেন তাদের রিজার্ভ সংকট ছিলো। তারা তেল আনতে পারেনি, কয়লা আনতে পারেনি। যার কারনে তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। এক সঙ্গে তারা বিভিন্ন পন্য ইমপোর্ট করতে পারেননি। সাধারনভাবে মানুষের মধ্যে বিরাট মূল্যস্ফীতি হয়েছিলো। সাধারণ মানুষ চাকরি হারাচ্ছিলো। সাধারণ মানুষ আয় ইনকাম হারাচ্ছিলো, সঙ্গে সঙ্গে দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতি হচ্ছিলো।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন সেই পরিস্থিতি চলছে। শ্রীলঙ্কা অনেক পন্য বাংলাদেশের চেয়ে কম দামে পাচ্ছে। আমাদের মূল্যস্ফীতি হয়েছে, আমাদের মানুষের আয় ইনকাম কমেছে, বেকারত্ব বেড়েছে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের রিজার্ভ কমেছে, আমাদের ইমপোর্ট কমেছে। সব কিছু মিলে আমরা শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি চলে গেছি।
সোমবার (১২ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলে জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রধান অতিথি বক্তব্যে এ সব কথা বলেন তিনি।
জিএম কাদের বলেন, শ্রীলঙ্কার সাথে আমাদের একটি পার্থক্য আছে। শ্রীলঙ্কার মানুষ রাস্তায় নেমেছিলো, সে দেশের সরকার যেভাবে ট্যাকেল দিয়েছে, তাতে প্রমাণ হয়েছে, পুলিশ যে তাদের বন্ধু, সেটাই তারা দেখিয়েছে। সেখানে বড় কোন বিরোধী দল ছিলো না। মানুষই স্বতঃস্ফুর্তভাবে নেমেছে। আমাদের দেশের মানুষ এখনও নামেনি, এটাই পার্থক্য।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান শাসন প্রদ্ধতিতে শতকরা ১০০ ভাগ শক্তি প্রধানমন্ত্রীর হাতে। সেখানে নির্বাচনকালীন মন্ত্রী বা সংসদে কে কতটা আসন পেলো সেটি ম্যাটার নয়। প্রধানমন্ত্রী যদি থাকেন তাহলে নির্বাচনকালীন সরকার, সব সরকার একই ধরনের হবে।
শহরের রাইফেল ক্লাবে আয়োজিত সম্মেলনে ভিসানীতির বিষয়ে গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, আমরা ভিসানীতিকে সমর্থন করি। ভিসানীতিতে যা বলা হয়েছে তা জনগনের পক্ষে বলা হয়েছে, বিপক্ষে নয়। অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন যারা বাধাগ্রস্ত করবে, তাদের সে দেশে ঢুকতে দেয়া হবে না। সেখানে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থাকবে। এখানে অখুশি হওয়ার মতো কিছু দেখি না, সরকারও এখানে অখুশি হননি। অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন কেউ চায় না এ কথা প্রকাশ্যে কেউ বলছেন না। মনে মনে কেউ বলতে পারেন।
জিএম কাদের আরও বলেন, মুক্তিযদ্ধের সময় আমরা একটা পোস্টার দিতাম, সোনার বাংলা শ্মশান কেন ? এখন মনে হয় সোনার বাংলা মরুভূমি কেন ? পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই খাবার নেই। মরুভূমি না এটি।
তিনি বলেন, আমরা অনেক কিছুইতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এবার হয়েছি মাদক দ্রব্য সংক্রান্ত অর্থ সরবরাহ কাজে এশিয়ায় প্রথম আর বিশ্বে পঞ্চম হয়েছি। বিদেশী একটি সংস্থার জরিপে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তথ্যে জানানো হয়েছে এ সংক্রান্ত কাজে পাঁচ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ হয়েছে।
জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক আব্দুস ছালাম চাকলাদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল কাশেম, রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, ঢাকা বিভাগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা প্রমুখ।
এসময় জাতীয় পার্টির জেলা ও উপজেলা নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে স্মার্ট কর্নারের উদ্বোধন করা হয়েছে।
রবিবার (১১ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর শহরের মেইন রোডস্থ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে স্মার্ট কর্নারের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান কবির বিন আনোয়ার।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুনুর রশীদ মামুন, জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সভাপতি খন্দাকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুভাস চন্দ্র সাহা, তারেক মাহমুদ পুলু,সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন, দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট খোরশেদ আলম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সোলায়মান হাসান প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যারে নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিল।
একতার কণ্ঠঃ জনগনের বিপুল ভোটে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়া টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহম্মেদ রাতদিন পরিশ্রম করছেন তার নির্বাচনী প্রতিশ্রতি বাস্তবায়নের জন্য।
ইউনিয়নে ২২টি গ্রামে অবাধ যাতায়াত তার। বাংলাদেশের অন্যতম কনিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যানকে কাছে পেয়ে খুশি তার ইউনিয়নের জনগন। তার পিতা মরহুম রুহুল আমীন খান খোকন ছিলেন ইউনিয়নের দুই বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। ফলে তোফায়েল আহম্মেদকে এক প্রকার ঘরের ছেলে মনে করেই তার প্রতিটা কর্মসুচিতে ইউনিয়নের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে স্বর্তস্ফুতভাবে অংশ গ্রহন করছে।
২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর দ্বিতীয়বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই ইউনিয়নের অসমাপ্ত ৪৬টি গ্রামীণ রাস্তা উন্নয়নের কাজ করেছেন তিনি। এদের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হচ্ছে, সুরুজ পুর্বপাড়া থেকে হাজী বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার ইটের সোলিং ও আরসিসি ঢালাই। আউলটিয়া থেকে কলেজ গেইট পর্যন্ত রাস্তা পাঁকাকরণ। দরুণ জামাই পাড়া থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত নতুন রাস্তা তৈরী। নিয়োগী জোয়াইর পাকা রাস্তা থেকে পুরাতন মসজিদ পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন। সুরুজ কবরস্থানের রাস্তার উন্নয়নসহ এ পর্যন্ত ৪৬টি রাস্তার উন্নয়নের কাজ করেছেন তিনি।
এছাড়া ইউনিয়নের ৫টি মসজিদ,৩ টি গোরস্থান ও ৩টি মন্দিরের সংস্কারের কাজ করেছেন তিনি। দায়িত্ব নেয়ার পর ইউনিয়নে বয়স্কভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা,বিধবা ভাতার কার্ড প্রদান করেছেন প্রায় ১ হাজার জনকে। ইতোমধ্যে ইউনিয়নের ৩’শ মা পেয়েছেন মাতৃকালীন ভাতা। এর বাইরেও প্রতিমাসে ১৩জনকে নতুন করে দেওয়া হচ্ছে মাতৃকালীন ভাতা।

দরুণ গ্রামের জব্বার আলী,জোয়াইর গ্রামের আবু বক্কর, পাকের আলী, ঘারিন্দা গ্রামের রুবেল মিঞা, বীর নাহালী গ্রামের ওসমান মিঞা, রানাগাছা গ্রামের সোনাভানু, অনিতা রাণী জানান, আমাদের ইউনিয়নে এর আগেও অনেক চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। কিন্তু কেও আমাগো তোফায়েল চেয়ারম্যানের মতো এত্ত কাজ ও জনগনের খোঁজখবর রাখেনাই। তার কাছে প্রয়োজনে দিনেরাতে যেকোন সময় যাওয়া যায়।
তারা আরও জানান, ইউনিয়নবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো আমাদের ওই রাস্তাগুলোর সংস্কার ও নতুন রাস্তা তৈরী করার জন্য। সামান্য বৃষ্টি হলেই যাতায়াত বন্ধ হয়ে যেত গ্রামবাসীর, জনদূর্ভোগ পৌঁছাতো চরমে। রাস্তাগুলো তৈরী হওয়াতে এখন আমাদের চলাচলের আর কোন সমস্যা হয়না। এছাড়া বৃষ্টির দিনে সুরুজ কবরস্থানে যাতায়াত খুব কষ্টকর ছিলো। রাস্তাটি করে দেওয়ার ফলে বৃষ্টির দিনেও মৃতদের দাফনে কোন প্রকার সমস্যা হবেনা। দরুণ গ্রামটি টাঙ্গাইল পৌর এলাকার একদম লাগোয়া হলেও বিশ্বরোড কিম্বা শহরে যাতায়াতের কোন রাস্তা ছিলো না। বর্ষাকালে আমাদের নৌকায় যাতায়াত করতে হতো। বর্তমানে রাস্তাটি হওয়ায় আমরা শহরে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারছি।
ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, ইউনিয়নটি টাঙ্গাইল শহরের লাগোয়া হওয়ায় ইউনিয়নের অনেক লোক শহরে গিয়ে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে শহরের গিয়ে তাদের কাজ করা খুবই কঠিন হয়ে পরতো। আমি দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরে ইউনিয়নের ২২টি গ্রামের কাঁচাপাকা ৪৬টি গ্রামীন সড়ক নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ ও সংস্কার করেছি। বিশেষ করে দরুণ গ্রামের যাতায়াতের জন্য কোন রাস্তাই ছিলোনা। বর্তমানে বিশ্বরোড থেকে দরুণ জামাইপাড়া পর্যন্ত রাস্তাটি তৈরী করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ ছানোয়ার হোসেনের সার্বিক সহযোগীতায় ইউনিয়নের ব্যাপক উন্নয়নমুলক কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নমুলক কাজের চিত্র প্রায় প্রতি দিনই বিভিন্ন গ্রামে, চা স্টলে ও শুক্রবার জুম্মা নামাজের পুর্বে বিভিন্ন মসজিদে ইউনিয়নের জনগনের মাঝে তুলে ধরা হচ্ছে। এতে জনগনের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার ইউনিয়ন থেকে নৌকা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পথসভা করেছে আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাদুসুল হক মাসুদ।
শনিবার (১০ জুন) বিকেলে উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচার উপলক্ষে এই পথসভার আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ (ভূঁঞাপুর-গোপালপুর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, গোপালপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক লুৎফুর রহমান, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সরন দত্ত, যুগ্ম সম্পাদক সাহিনুল ইসলাম তরফদার বাদল, ভূঞাপুর পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল বাছেদ মিঞা, অজুর্না ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী মোল্ল্যা, গোবিন্দাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকরাম উদ্দিন তারা মৃধা, সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম আমিন, গোপালপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান আজাদ প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে উপজেলার আলমনগর, মির্জাপুর ইউনিয়ন ও গোপালপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরে সাধারণ মানুষজনের মাঝে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড নিয়ে তৈরি করা লিফলেট বিতরণ করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ আগামী ২১ জুন টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র আব্দুর রহিম আহমেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল ও কৃষক শ্রমিক জনতালীগের উপজেলা শাখার সভাপতি রাহাত হাসান টিপু মেয়র পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এছাড়াও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৭ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পৌরসভার ১০টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৪৩৭। এর মধ্যে নারী ভোটার ৯ হাজার ৫৩০ জন এবং পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ৯০৭জন।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট হয়ে উঠছে। আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ তারা গোপনে আব্দুর রহিম আহমেদের বিরোধীতা করছে। আব্দুর রহিম আহমেদ স্থানীয় সংসদ সংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহেরের অনুসারী। তাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে এমপি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। একারণে এমপি বিরোধী গ্রুপ চায়না এমপির অনুসারী মেয়র পদে জয়লাভ করুক। তারা প্রকাশ্যে বিরোধীতা না করলেও গোপনে বিরোধীতা করছেন এবং নির্বাচন থেকে দূরে রয়েছেন বলে জানান আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী।
এছাড়াও মেয়র হয়েও গত পাঁচ বছরে তিনি পৌরসভার তেমন কোন কাজ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। রাস্তা ঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ গত পাঁচ বছরে পৌরসভার কোন উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ বিরোধীদের।
তবে এসব বিষয় উড়িয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রহিম আহমেদ বলেন, গত পাঁচ বছর মেয়র হয়ে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। দলের ভেতরে কোন দ্বন্দ নেই। শুধু আওয়ামী লীগই নয় দল মত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাকে ভোট দিয়ে জয়জুক্ত করবে। আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী ও পৌরসভার জনগণ একত্রিত হয়েছে। গত পৌরসভার নির্বাচনের ন্যায় এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নৌকা উপহার দিবে।
এদিকে বাসাইল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত দূর্বল। দলের ভেতরেও রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। আওয়ামী লীগ সরকারের অধিনে বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করলেও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল করিম অটল এবারও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি গত মঙ্গলবার জেলা বিএনপির সভাপতির কাছে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছেন। তাঁর পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করেছেনও বলে জানান জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন ।
তবে এনামুল করিম অটল বলেন, উপজেলা বিএনপির সকল নেতাকর্মী আমার সাথে রয়েছে। জীবন যৌবন শেষ করেছি এ দলের জন্য। বাসাইল কলেজের ভিপি ছিলাম। বিএনপির দুইবার উপজেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে বাসাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি।
তিনি আরও বলেন, গত পৌরসভা নির্বাচনে আমি মাত্র ১৯ ভোটে হেরে গেছি। বর্তমান সরকার আমাকে নীলনক্সা করে হারিয়েছে। এবার ৭০ ভাগ ভোটার আমার পক্ষে। জনগণ ভোট দিতে পারলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো। এ অবস্থায় মাঠ ছেড়ে দিলে জনগণ আমাকে ক্ষমা করবে না। জনগণ আমার সাথে আছে। আমি শতভাগ আশাবাদী জয়ের ব্যাপারে ।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন বলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল করিম অটল দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। সে এখন দলের কেউ নন। বিএনপির কোন নেতাকর্মী তাঁর নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম তার মনেনাীত প্রার্থী উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি রাহাত হাসান টিপুকে জয়ী করার জন্য ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। সভা সমাবেশ করছেন।
কৃষক শ্রমিক জনতালীগের মেয়র প্রার্থী রাহাত হাসান টিপু বলেন, গত নির্বাচনে সামান্য ভোটে হেরেছিলাম। ১০ বছর ধরে মাঠে রয়েছি। বাসাইলের জনগণ আমাকে চায়। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমার বিজয় সুনিশ্চিত।
তবে সাধারণ ভোটাররা সন্ত্রাস, মাদক মুক্ত ও উন্নয়নশীল ও আধুনিক পৌরসভা গড়তে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়জুক্ত করবেন বলে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনি শংকর রায় বলেন, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য ব্যাপক সংখ্যক আইনশৃংখলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ দেশব্যাপী বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুতখাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিবাদে অবস্থান ধর্মঘট করেছে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি।
বৃহস্পতিবার(৮ জুন) দুপুরে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের রেজিস্ট্রিপাড়ায় সিলমি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।
এই অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারন সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, দেশটা চোরে ভরে গেছে আমরা শহরে দুই চার ঘন্টা বিদ্যুত পেলেও গ্রামে তাউ পাচ্ছে না। আগামী তিন দিনের মধ্যে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত ব্যবস্থা না করা হলে জেলার সকল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বক্তারা আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এদেশে কোন নির্বাচন হবে না। আর জোর করে নির্বাচন দেয়ার চেষ্টা করলে আমরা যে কোন কিছুর বিনিময়ে তা প্রতিহত করবো।
এই কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল হক সানু, জেলা বিএনপি নেতা জিয়াউল হক শাহীন, আবুল কাশেম, আতাউর রহমান জিন্নাহ, শ্রমিকদল নেতা একেএম মনিুরুল হক, জেলা মহিলা দলের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম, সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি তারিকুল ইসলাম ঝলক, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সাধারন সম্পাদক আব্দুর রৌফ, শহর বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান আলিম, জেলা তাঁতীদলের সভাপতি শাহ আলম, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভ প্রমুখ।
এছাড়া বিএনপির সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার (৭ জুন)সকালে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয় ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সভাপতি খন্দকার আশরাউজ্জামান স্মৃতি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুভাস চন্দ্র সাহা, তারেক মাহমুদ পুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার আজাদ, দপ্তর সম্পাদক খোরশেদ আলম, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক কিসলু মিয়া, প্রচার সম্পাদক বদিউজ্জামান ফারুক, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রব চান মিয়া, টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হাসান প্রমুখ।
এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের অন্যন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।