একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ বর্ণাঢ্য আয়োজনে বুধবার(১৭ মার্চ) টাঙ্গাইলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষো আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল- বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, কেক কাটা, আলোচনা সভা, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুস্পার্ঘ অর্পন, চিত্রাঙ্কন, রচনা, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, সঙ্গীত ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ভিডিও চিত্র প্রদর্শন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ইত্যাদি।
বুধবার সকালে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তাদের সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুস্পার্ঘ অর্পন করা হয়। পরে জেলা আ’লীগের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করে।
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, জেলা প্রশাসক ডক্টর মো. আতাউল গনি। বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আ’লীগের সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম(ভিপি জোয়াহের) এমপি, মো. ছানোয়ার হোসেন এমপি, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, জেলা আ’লীগের যুগ্ম-সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার জহিরুল ইসলাম ডিপটি প্রমুখ।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আর নেই। ইন্নানিল্লাহি…রাজিউন। বাংলাদেশ সময় ৬টা ৩০ মিনিটে সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাঃস ত্যাগ করেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ (জন্ম: ২৪ মে ১৯৪০) বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিএনপির ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। সাবেক সাংসদ ও অষ্টম জাতীয় সংসদে তিনি আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ২৪ মে ১৯৪০ সালে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মাওলানা মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং মা বেগম আম্বিয়া খাতুন। ছয় ভাইবোনের মধ্যে মওদুদ আহমেদ চতুর্থ।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান পাশ করে বৃটেনের লন্ডনস্থ লিঙ্কন্স ইন থেকে ব্যারিস্টার-এ্যাট-ল’ ডিগ্রি অর্জন করেন। লন্ডনে পড়াশুনা করে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং হাইকোর্টে ওকালতি শুরু করেন। তিনি ব্লান্ড ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলনে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবু ররহমান এর ম্যুরাল ও মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারে সোমবার(১৫ মার্চ) সকালে পুস্পস্তবক অর্পণ করেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদ।
পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবার, মজলুম জন নেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃআলাউদ্দিনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় ও পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুলিপি প্রদান করা হয়।
এ সময় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি সরদার আতিকুর রহমান নিশান ও সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম সহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি ক্ষুদ্র জায়গায় রয়েছেন বলে মন্তব্য করে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন; এটি ইতিহাসে সেভাবেই থাকবে। তিনি যুদ্ধের নির্দেশক বা পরিচালক কিছুই ছিলেন না। একটি সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন, এই টুকুই তার পরিচয়। ইতিহাসের মূল নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’
মন্ত্রী বলেন- ‘জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগের নেতাদের অনুরোধে স্বাধীনতাপত্রটি প্রথমে নিজের নামে, পরে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে পাঠ করেন। তখন সবাই মনে করেছিলেন একজন সামরিক বাহিনীর লোক দিয়ে ঘোষণাপত্রটি পাঠ করালে গুরুত্ব বাড়ে। এ জন্য কৌশলগত কারণে তাকে দিয়ে ঘোষণাপত্রটি পাঠ করানো হয়। যতই বলা হোক, ইতিহাসে স্বাধীনতার ঘোষক বা মূল নেতা হিসেবে তিনি স্থান পাবেন না।’
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘যারা পাকিস্তানে উচ্ছিষ্টভোগী ছিল, পা চাটা কুকুর ছিল, যারা পাকিস্তানের সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে, তারাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে চায়। কিন্তু সত্য উদঘাটন হয়েছে। আমাদের এ প্রজন্মও এখন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানে। মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
তিনি আরও বলেন- ‘১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, পরবর্তীতে ৫৪’র নির্বাচন, ৬২’র স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র স্বায়ত্বশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলনের মাধ্যমে ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র নির্বাচন ও ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।’
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ প্রথমবারের মতো জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়েছে ঐতিহাসিক ৭মার্চ। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার(৭ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমিতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক।মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ারহোসেন।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার কাজী নুসরাত এদীব লুনা।
সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, টাঙ্গাইল জেলা সাবেক কমান্ডার মো. ফজলুল হক (বীর প্রতিক), খন্দকার জহুরুল হক ডিপটি, টাঙ্গাইর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ জাহান আনছারী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ।
আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ দলের ভেতর-বাইরে চাপের মুখে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে বিএনপি। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ত্যাগের চাপ থাকলেও আমলে নেয়নি দলটি। একযুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি এখন কিছুটা আত্মোপলব্ধি করছে বলে জানিয়েছে দলটির নীতিনির্ধারক মহল। তারই অংশ হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বছরব্যাপী কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না জামায়াতকে।
অথচ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ মহাজোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দলীয় জোটের শরিকসহ বিকল্পধারাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যজোট’ গঠনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জামায়াতকে ত্যাগ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। জোট গঠনের খসড়া রূপরেখাও তৈরির কাজ চলছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ‘ইতিবাচক’ রাজনীতির অংশ হিসেবে এবার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের পাশাপাশি আগামী ১০ এপ্রিল ‘মুজিবনগর সরকার গঠনে’র দিনসহ বছরব্যাপী সব ঐতিহাসিক দিনকে উদযাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে ২ মার্চ আ স ম আবদুর রবের পতাকা উত্তোলন দিবস এবং ৩ মার্চ শাজাহান সিরাজ কর্তৃক স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠের দিনটিকে উদযাপনে কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচিতে জেএসডির সভাপতি আ স ম রবকেও আমন্ত্রণ করেছে বিএনপি।
এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতের ইস্যুসহ সব জোট নিয়েই বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ে পুনর্মূল্যায়ন চলছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দলের হাইকমান্ড জামায়াতকে জোটে রাখা না রাখার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াত ২০ দলীয় জোটের শরিক হলেও বিএনপির সব দলীয় কর্মসূচিতে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় না। জোটের শরিক দলগুলো যার যার মতো করে দলীয় কর্মসূচি পালন করে থাকে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৃহত্তর ঐক্যজোট গঠন নিয়েও আলোচনা চলছে।
এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় যোগাযোগ করলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বিএনপির সূত্র জানিয়েছে, আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যকে ওই জোটের ‘রূপরেখা’র খসড়া তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি ওই খসড়া রূপরেখা তৈরি করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত নিচ্ছেন। ওই জোটে যেসব দলকে টানতে চাচ্ছে, তারা জামায়াত ইস্যুতে কৌশলী ভূমিকা পরিহার করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের শর্ত দিয়েছে। দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বাম ও অন্যান্য বড় ইসলামী দল।
সূত্র জানিয়েছে, ওই দলগুলোর বক্তব্য হচ্ছে, বিএনপি জামায়াত ইস্যুতে সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রেখে বৃহত্তর ঐক্য গড়তে চায়। বিগত ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সময়ও কৌশলী ভূমিকা নিয়েছিল। ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের না জানিয়ে নিবন্ধনহীন জামায়াতকে ঐক্যফ্রন্টের বাইরে রাখলেও শেষ মুহূর্তে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের সুযোগ করে দিয়েছিল, যা ঐক্যফ্রন্টসহ বিএনপির মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নেতাকর্মীরা বিষয়টি ভালোভাবে নেননি।
নাম প্রকাশ না করে বৃহত্তর জোটে আসতে আগ্রহী কয়েক নেতা জানান, বিএনপিকে এবার বৃহত্তর ঐক্যজোট গড়তে হলে অবশ্যই জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে হবে। জামায়াতকে সঙ্গে রেখে বিএনপির রাজনৈতিক গুণগত মানোন্নয়ন হবে না। তারা বিষয়টি এখনই নিষ্পত্তি করতে চান। বিএনপিকে এবার আরও কৌশলী ভূমিকা নিলে ক্ষমতার বাইরে থাকার মেয়াদ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। একই সঙ্গে তারা স্বৈরাচার এরশাদ সরকারবিরোধী তিন জোটের রূপরেখা বা প্রতিশ্রুতি ছিল, তা বাস্তবায়ন না করার বিষয়টিও সামনে স্মরণ করে দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, জামায়াতকে জোট থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এখন বৃহত্তর ঐক্য গঠনের কাজ চলছে। ওই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে জামায়াতকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বোঝানো হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তাদের। তারা আশা করেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, শুধু দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি নয়, প্রতিবেশী ভারতসহ পশ্চিমা শক্তিশালী দেশগুলোর পক্ষ থেকেও জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে চাপ অব্যাহত রয়েছে। ২০১২ সালে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাত দিনের ভারত সফরের সময়ও জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে অনুরোধ করেছিল দেশটি। তখন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান শিব শঙ্কর মেননের একান্ত বৈঠকে জামায়াত ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে কাশ্মীরে বিভিন্ন হামলায় জড়িত বলে অভিযোগ করেন। ওই সময় খালেদা জিয়া অভিযোগের প্রমাণ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। প্রমাণিত হলে জামায়াতকে জোটে রাখার বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।
জানা গেছে, দেশে আসার পর ছয় মাসের মাথায় জামায়াতের ডাকা হরতালের কারণে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎ বাতিল করেন খালেদা জিয়া। জামায়াতপন্থি বিএনপি নেতাদের পরামর্শে খালেদা জিয়ার ওই সিদ্ধান্ত বিএনপির অনেক ‘বড় ভুল’ হয়েছে বলে মনে করেন দলের অনেক শীর্ষ নেতাও। এমনকি ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের তৃণমূল নেতাদের মতামত নিয়েছিল বিএনপি। তৃণমূল নেতারাও জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পক্ষে মত দিয়েছেন। ওই মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে কৌশলী ভূমিকা নিয়ে জামায়াত ছাড়াই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করেছিল দলটির হাইকমান্ড।
নাম প্রকাশ না করে বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, এখন সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিএনপি রাজনৈতিক গুণগতমান উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও জামায়াত ইস্যুতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিকে এ বিষয়ে আলোচনা করে প্রস্তাবনা তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন। বিএনপির সার্বিক রাজনৈতিক গুণগতমান উন্নয়নের জন্য একজন সদস্যকে একটি প্রস্তাবনা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই নেতা তার প্রস্তাবনায় জামায়াতে ইসলামীকে জোট থেকে বের করে দেওয়ার সুপারিশ করেন। ওই প্রস্তাবের পর সম্প্রতি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অধিকাংশ সদস্য জামায়াতের সঙ্গ ছাড়লে বিএনপির ভবিষ্যৎ মঙ্গল হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তবে স্থায়ী কমিটির দু’জন সদস্য জামায়াতের ভোটব্যাংকের কথা স্মরণ করে জোট থেকে বাদ দিলে সরকারের ফাঁদে পা দেওয়া হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
সূত্র জানিয়েছে, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনও তার মতামত দেননি। এটি বিএনপির কৌশল বলে মনে করেন দলটির জামায়াতবিরোধী নেতারা। মির্জা ফখরুল দলের চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পরামর্শের বাইরে মতামত দেবেন না। তা ছাড়া স্থায়ী কমিটির নেতারা যাই বলুন- শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দুই শীর্ষ নেতার মতামতই চূড়ান্ত।
২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই নানা ইস্যুতে জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে বিএনপিতে। জামায়াতের যুদ্ধাপরাধী নেতাদের ফাঁসিতে বিএনপির প্রতিক্রিয়া না দেওয়া, ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনার দায়ভার, খালেদা জিয়ার কারাবন্দি হওয়ার পরও জামায়াতের কোনো ভূমিকা না রাখাসহ নানা ইস্যুতে দূরত্ব দিন দিন বাড়ছে। এক যুগের টানাপোড়েনের বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আলোচনার পর দলের হাইকমান্ড কবে নাগাদ জামায়াত ছাড়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন- তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে বিএনপির ভেতরে ও বাইরে।
১০ এপ্রিল ‘মুজিবনগর সরকার গঠনে’র দিন ‘দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তাব করবে :বিএনপির নীতিনির্ধারক সূত্র জানিয়েছে, নানামুখী চাপ ও ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে ইতিবাচক রাজনীতিতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শে ১ মার্চ থেকে বছরব্যাপী বিভিন্ন ঐতিহাসিক দিনগুলোতেও প্রথমবারের মতো নানা কর্মসূচি দিয়ে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মহাজোটের শরিক দলগুলোকে দিবসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দিবসেও কর্মসূচি রেখেছে দলটি। আগামী ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের দিনকে দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে বছরব্যাপী অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দিবসগুলো পালন করবে, যা অতীতে কখনও পালন করেননি।
অবশ্য এ বিষয়ে বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস ও স্বপ্ন নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। কোন স্বপ্নটি পূরণ হয়েছিল, কোনটি পূরণ হয়নি- তা জানানো। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার প্রধান আকাঙ্ক্ষা গণতন্ত্র স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও পূরণ হয়নি। আমাদের এ উদ্যোগে নতুন প্রজন্মের যাতে প্রকৃত ইতিহাস পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হয়।
সংবাদ সূত্রঃ- সমকাল আনলাইন নিউজ পোর্টাল
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ লেখক ও সাংবাদিক মুসতাক আহমেদ ও সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে এবং স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েলের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে টাঙ্গাইল জেলা সেচ্ছাসেবকদল আয়োজিত একটি বিক্ষোভ মিছিল পুলিশির বাঁধায় পন্ড হয়ে গেছে।
শনিবার(৬মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার আনসার ক্যাম্প রোড থেকে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে জেলা প্রেসক্লাবের সামনে পৌঁছুলে পুলিশ তাতে বাঁধা দেয়। বাঁধা পেয়ে সেখানেই বিক্ষোভ মিছিলটির সমাপ্তি ঘোষনা করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এই বিক্ষোভ কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রৌফ, সহ-সভাপতি মনির হোসেন, লিটন পাল, অ্যাডভোকেট রিপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান খান, প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সদর থানা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট সামিম আল মামুন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকী জুয়েলসহ স্বেচ্ছাসেবকদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ কারাবন্দী লেখক মুশতাক হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদল ।
সোমবার (১ মার্চ) সকালে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের পুরাতন বাসট্যান্ডে ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা সমবেত হয়। পরে ছাত্রদলের একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের গুরুত্ব পূর্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে বিশ্বাস বেতকা গো-ডাউন বাজারের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে সংক্ষিত বক্তব্য রাখেন, জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালে মোহাম্মদ সাফি ইথেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মোস্তফা কামাল, সহ-সম্পাদক হাফিজুর রহমান তুহিন, সদর থানা ছাত্রদলের সভাপতি আজিম উদ্দিন বিপ্লব, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাত কবির সুমন প্রমুখ ।
প্রসঙ্গত, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমেদকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি প্রিজন সেলে বন্ধি ছিলেন।
একাতার কন্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা ও রাজনীতিক মোহাম্মদ আলীর ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় একমঞ্চে উপস্থিত হয়েছিলেন আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয়পার্টির নেতারা। সোমবার(২২ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল ক্লাব মিলনায়তনে ওই স্মরণসভায় প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের জেলা পর্যায়ের শীর্ষনেতাদের সৌহার্দপূর্ণ উপস্থিতি জনমনে নানা আলোচনার জন্ম দেয়।
টাঙ্গাইলের বিশিষ্ট রাজনীতিক বীরমুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহনের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক(একুশে পদক প্রাপ্ত)।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি ও ভাসানী ফাউন্ডেশনের সভাপতি খন্দকার নাজিম উদ্দিন
, জেলা বিএনপি নেতা ও ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খালেক মন্ডল, ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হারুন অর রশিদ, করটিয়া সরকারি সাদৎ কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলাল, জেলা কুলি-মজদুর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি উদয় লাল গৌড় প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর আদর্শে দীক্ষিত শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ আলী আজীবন শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার থেকেছেন। জেলার বিড়ি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে তিনি অনশন পালন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। গড্ডালিকায় গা ভাসিয়ে না দিয়ে তিনি সারা জীবন সাধারণ জীবন-যাপন করেছেন।
স্মরণসভায় জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ, বিড়ি শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ আলী ৬২ বছর বয়সে টাঙ্গাইল শহরের আদালত পাড়ার নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন।