একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো, সংসদ বিলুপ্ত ও একদফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়ে শান্তিকুঞ্জ মোড়ে আটকে দেয়। পরে সেখানেই বিএনপি নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে।
সোমবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে শহরের ভাসানী হলের সামনে এসে সমবেত হয়। সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করতে চাইলে প্রথম দফায় পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশি বাধায় নেতাকর্মীরা শহরের বেপারীপাড়া এলাকায় গিয়ে সমবেত হয়। পরে সেখান থেকে পুনরায় বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরে প্রবেশ করতে চাইলে শান্তিকুঞ্জ মোড় এলাকায় পুলিশ তাদেরকে দ্বিতীয় দফায় বাধা দেয়। পরে সেখানেই তারা সংক্ষিপ্ত সমাবেশে করে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহাবুব আনাম স্বপন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ।
এ সময় জেলা বিএনপি, বিভিন্ন উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সম্পাদক এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।
একতার কণ্ঠঃ পুত্র সন্তানের পিতা হয়েছেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির ।
রবিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. তৃপ্তি রানী জান্নাত ও ডা. জান্নাতুল ফেরদৌসীর তত্ত্বাবধানে সিজারের মাধ্যমে নবজাতকের জন্ম হয়। ডাক্তার জানান বর্তমানে মা ও নবজাতক উভয়েই সুস্থ আছেন।
নবজাতকের আগমনের খবর পেয়েই শ্বশুর সাবেক নৌ পরিবহনমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান খান এমপিকে মিষ্টি মুখ করান জামাতা ছোট মনির।
জানা যায়, দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছোট মনির ও ঐশী খান দম্পতির প্রথম সন্তানের নাম রাখা হবে।
তানভীর হাসান ওরফে এমপি ছোট মনির জানান, পৃথিবীতে এর থেকে আর কোন বড় পাওয়া নেই, ঘর আলোকিত হওয়ায় আমরা অনেক খুশি। সন্তানের জন্য সকলের নিকট দোয়া কামনা করছি।
একতার কণ্ঠঃ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের ব্যানার খুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগসহ আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার বিরোধীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মীসভা উপলক্ষে নানা ধরণের ব্যানার ফেস্টুন লাগায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের ব্যানার লাগায় ছাত্রলীগ নেতা মানিক শীল।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে গত ৪ অক্টোবর (বুধবার) থেকে ছাত্রলীগের লাগানো সকল ব্যানার খোলা শুরু করে নিরাপত্তা শাখায় কর্মরত কর্মচারীরা। ছাত্রলীগ নেতা মানিক শীল সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের ব্যানার গুলো না খোলার জন্য অনুরোধ করলেও তা উপেক্ষা করেই ব্যানার গুলো খুলে ফেলা হয়।
ছাত্রলীগ নেতা মানিক শীলের অভিযোগ, বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের ব্যানার ছেঁড়ার ঘটনায় আমাদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ যারা আওয়ামীপন্থী আছেন সবাই ক্ষুব্ধ। উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের ব্যানারে আমার ব্যক্তিগত কোন ছবি নেই। ছাত্রলীগের সাধারন কর্মী হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের প্রচারণা চালাচ্ছি। যা বিভিন্ন সরকারী অফিস বা দপ্তরেও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে তারা আবার ব্যানার লাগিয়ে দিতে চেয়েছেন। ইতোমধ্যেই নাকি বড় বড় করে ব্যানার বানাতে দেয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নিবিড় পালের অভিযোগ, ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অজুহাতে আর বিশ্ববিদ্যায়ল কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের ব্যানার গুলো খুলে ফেলা হয়েছে। তবে এটা খুবই দুঃখজনক। বর্তমান সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডগুলো ওই ব্যানারের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানতে পারতো। এতে সরকারের ভাবমুর্তি বৃদ্ধি পেত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যানার গুলো পুনরায় টাঙিয়ে দেয়ার কথা বললেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের মিটিং হচ্ছে বলে ফোন কেটে দেন এস্টেট শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মুছা মিয়া।
প্রক্টর প্রফেসর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হক বলেন, মোবাইলে কোন বক্তব্য দিব না। প্রয়োজন থাকলে ক্যাম্পাসে আসেন।
মোবাইলে বক্তব্য দিতে রাজি হননি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. ফরহাদ হোসেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন জানান, সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের ব্যানার খুলে ফেলার বিষয়টি ঠিক করেননি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মীসভা উপলক্ষে ব্যানার গুলো যেহেতু টাঙানো হয়েছিল, কর্তৃপক্ষ ব্যানার গুলো সরিয়ে নেয়ার জন্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে বলতো তারা দায়িত্ব নিয়ে খুলে ঠিক করেননি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করতে হবে।
একতার কণ্ঠঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করেছেন টাঙ্গাইল জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
শনিবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছিমা বাসিত ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসী আক্তার রুনুর নেতৃত্বে এই শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মরিয়ম বিনতে হোসাইন খেয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহেনিগার হোসেন তন্ময়, টাঙ্গাইল জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিনা বেগম, শামসুন্নাহার বেগম, মাহমুদা বেগম শেলী, ফাতেমা রহমান, ফরিদা বেগম, রেহানা বেগম, রুমা খান, হোসনে আরা রোজি, আফরোজা বেগম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফারজানা হোসেন মুক্তি, ডাঃ জাকিয়া ইসলাম জ্যোতি, সাংগঠনিক সম্পাদক ডলি আক্তার, মুক্তি হাসানসহ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেত্রীবৃন্দ।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, আগামী ৩ মাস পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা গোটা পৃথিবীর কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। কোন দল এই নির্বাচনকে বানচাল করতে পারবে না। কোন ষড়যন্ত্রই এই নির্বাচনকে বানচাল করতে পারবেনা বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
শনিবার (৭ অক্টোবর ) দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি দোখলা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজরিত দোখলা রেস্ট হাউজে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও দুইটি বন বিভাগের ব্যারাক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের একটি বড় দল এই জাতীয় নির্বাচনকে বানচাল করতে চেষ্টা করছে কিন্তু বর্তমানে পুলিশ প্রশাসন খুবই তৎপর রয়েছে। তারা সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে। এদেশের জণগন আমাদের সাথে আছে। এদেশের মানুষ যদি আবারো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ভোট দেয় তাহলে এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। নির্বাচন নিয়ে যদি কোন দেশ বানচাল করার চেষ্টা করে তাহলে সেই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করবো।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমেরিকায় ক’জন মানুষ যায়। তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কি করবে। যারা গুলশান বানানীর বড় লোকের ছেলেরা তারাই আমেরিকায় যায়। তারা না গেলে বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হবে না। দু-একজন মন্ত্রী না গেলেও ক্ষতি হবে না। আমরা জেলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত, ভিসা দিয়ে আমেরিকা যেতে পারবো না এটা আমাদের কোন বিষয় না। নয় মাস একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। অর্থনীতিক ভাবে যদি তারা স্যাংশন দেয় আমরাও দেখবো কিভাবে মোকাবেলা করা যায়। আন্তর্জাতিক বিশ্বে আমেরিকাসহ অনেক দেশ মুক্তিযোদ্ধের সময় আমাদের বিপক্ষে ছিল।
কিছু মানুষকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে যারা গুলশান বনানীতে বসবাস করে তারাই আমেরিকা যায়। আমাদের আমেরিকা না গেলেও চলবে।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাহাব উদ্দিন বলেন, সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ২২% বনায়ন করতে পারছি, তবে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় ২৫ % করার চেষ্টা করছি। সামাজিক বনায়নের কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।
অবৈধ করাতকল প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, করাতকল অবৈধভাবে চলছে তবে কিছু হাইকোর্টে মামলা থাকার কারণে সমস্যা হচ্ছে। সেই মামলার জবাব দিবো কোর্টের মাধ্যমে অবৈধভাবে যে কয়লা উৎপাদন হয় সে বিষয়ে নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আইরিন আক্তার, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাজ্জাদুজ্জামান, মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক এমপি’র পাঁচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পতিত জমিতে হচ্ছে ড্রাগন ফল চাষ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ে থাকা পতিত জমিতে লাগানো ড্রাগন ফল থেকে প্রতি মৌসুমে আয় হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। লাভের সেই টাকা ব্যয় হচ্ছে নিজ উদ্যোগে নির্মিত এতিমখানায়। এতে সুরক্ষিত হয়েছে এতিমখানাসহ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ।
একান্ত সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক এমপি আলহাজ্ব মো. আবুল কাশেম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দেলদুয়ার উপজেলায় দেউলি ইউনিয়নের আলালপুর গ্রামে পাশাপাশি কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বোরহানুল উলুম আহমাদিয়া ইয়াছিনিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা, সুফিয়া কাশেম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, আবুল কাশেম ট্রাষ্ট মসজিদ, আল জামিয়াতুল কাছেমিয়া ও জামেরুন্নেছা এতিমখানা, কমিউনিটি ক্লিনিক, পোস্ট অফিস ও সামাজিক কবরস্থান। প্রায় ১৮ একর জমির উপর গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠানগুলো ১০ একর পতিত জমিতে চাষ করা হয়েছে ড্রাগন ফল।
বাগানের কৃষক মো. আব্দুল কাদের বলেন, ১০ একর জমির উপর এই ড্রাগন বাগান করা হয়েছে। বাগানে ড্রাগনের চারা রয়েছে পনের হাজার। আমাদের বাগানে লাল, গোলাপী, বেগুনী, হলুদ ও সাদা জাতের ফল রয়েছে।
তিনি বলেন, এখন ড্রাগন ফলের মৌসুম। তবে আমাদের বাগানে ফল বেশি বড় হচ্ছে না। কেজিতে ধরছে পাঁচ ছয়টা।

তিনি আরও বলেন, ড্রাগন ফল বাজারজাত করতে কোন কষ্ট হয় না। আমরা স্থানীয় পাইকারীদের কাছে বিক্রি করে থাকি। এছাড়াও নিজস্ব খরচে ঢাকায় পৌছিয়ে দিলে পাইকারীরা ন্যয্যমুল্যে দিয়ে থাকেন। প্রতিদিন প্রায় ৬শ থেকে ৮শ কেজি ড্রাগন ফল উত্তোলন করা যায়। তবে আমরা তা না করে মাসে মাসে উত্তোলন করছি। মাঝে মাঝে স্থানীয় পাইকারদের দাবির কারণে এর আগেও উত্তোলন করে বিক্রি করি। স্থানীয় পাইকারদের কাছে প্রতি কেজি দুই থেকে আড়াইশ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে আমাদের ড্রাগন ফল।
বোরহানুল উলুম আহমাদিয়া ইয়াছিনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী কবিরসহ কয়েক জন জানায়, ড্রাগন ফলের বাগানে সজ্জিত আমাদের বিদ্যাপিঠ। এই বাগান দেখে শুধু আমরাই আনন্দ পাইনা, বিভিন্ন এলাকা থেকেও বাগানগুলো দেখতে মানুষ আসছেন। এছাড়াও আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অনেক জায়গায় থাকায় পর্যাপ্ত আলো বাতাস পাওয়া যায়। শিক্ষা ব্যবস্থাও ভালো বলে জানান তারা।
আল জামিয়াতুল কাছেমিয়া ও জামেরুন্নেছা এতিমখানার মুহতামিম হাফেজ ইমরান হোসেন বলেন, এতিমখানা ও হিফজ শাখায় বর্তমানে অধ্যায়ন শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪২জন। অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের খানাপিনা ভোরণ পোষণের দায়িত্ব পালন করছেন প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক এমপি আলহাজ্ব মো. আবুল কাশেম।
তিনি আরও বলেন, এতিমখানার শিক্ষার্থীদের ভোরণ পোষণের চাহিদা মেটাতে তিনি ১০ একর পতিত জমিতে ড্রাগন বাগান করেছেন। ওই ফল বিক্রির টাকা ব্যয় হচ্ছে এতিমখানার শিক্ষার্থীদের পিছনে বলেও জানান তিনি।
বোরহানুল উলুম আহমাদিয়া ইয়াছিনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চারদিকে ড্রাগন ফলের বাগান। বাগানটি দেখতে অসাধারণ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির মনোরম পরিবেশে বেড়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রতিষ্ঠাতা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েই এই ড্রাগন বাগান করেছেন। উনার অবর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বন্ধ না হয়, সে লক্ষেই উনার এই বাগান করা। বাগান থেকে উপার্জিত টাকা এতিমখানাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনায় ব্যয় করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও আবুল কাশেম ট্রাষ্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আবুল কাশেম জানান, ১৯৭৩ সালে আমার পিতা ইন্তেকাল করেন। উনার রুহের মাগফিরাতের জন্য ওই সালেই আমি এখানে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করি। আমার প্রতিষ্ঠিত বোরহানুল উলুম আহমাদিয়া ইয়াছিনিয়া ফাজিল মাদ্রাসাটি বর্তমানে ডিগ্রী মাদ্রাসার উন্নিত হয়েছে। এর পাশাপাশি এখানে প্রতিষ্ঠা করেছি সুফিয়া কাশেম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, আবুল কাশেম ট্রাষ্ট মসজিদ, আল জামিয়াতুল কাছেমিয়া ও জামেরুন্নেছা এতিমখানা, কমিউনিটি ক্লিনিক, পোস্ট অফিস আর একটি সামাজিক কবরস্থান। এই প্রতিষ্ঠাগুলোর পরিচালনার ব্যয় মিটাতে আমার এই ড্রাগন বাগান করার উদ্যোগ।

তিনি জানান, আমার ১৮ একর জমির ৮ একর জমিতে প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মিত হয়েছে। বাকি ১০ একর পতিত জমিতে ড্রাগন বাগান করা হয়েছে। আমার এই ড্রাগন বাগানের বয়স প্রায় দেড় বছর। এ বছর আমি প্রায় ১৩/১৪ লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে পেরেছি। ড্রাগন ফল বিক্রির টাকা এতিমখানাসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর পিছনে ব্যয় করা হচ্ছে। ওই টাকা আমি আমার ব্যক্তিগত কোন কাজে খাটাই না। আমার ইচ্ছে আমার সকল সম্পতি আমি ট্রাস্টের নামে দিয়ে যাবো। সম্পতির সকল আয়ে চলবে আমার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো।
তিনি আরও জানান, আগামীতে প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে পরনির্ভরশীল না হয় সেই লক্ষেই আমার এই বাগান করার উদ্যোগ। আমার প্রতিষ্ঠিত এতিমখানায় যাতে দুই থেকে তিনশ এতিম সন্তান থাকতে পারে। তাদের আর্থিক কোন কষ্ট না হয় সেটিকেই প্রাধান্য দিয়ে আমি ড্রাগন চাষে এগিয়ে যাচ্ছি। বাগানটি করতে আমাকে দেশের অনেক জায়গাতে ঘুরতে হয়েছে। সর্বশেষ নাটোর থেকে এই ড্রাগনের চারা এনে বপন করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ বিশেষ বর্ধিত সভার মধ্য দিয়ে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল টাঙ্গাইলের মধুপুর আওয়ামী লীগের বিভক্তি। উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে অনুষ্ঠিত হয় ‘বিশেষ বর্ধিত সভা’। কিন্তু তাতে উপস্থিত ছিলেন না দলটির উপজেলা শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অনেক নেতা।
মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খান ওরফে আবু খাঁ টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দেন। গত মে মাসে এ ঘোষণা দেওয়ার পর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভক্তি প্রকাশ হতে থাকে। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। তাঁর অনুসারীরা সরোয়ার আলম খানের প্রার্থিতাকে ভালোভাবে নেননি। এ নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগে বিভক্তি বাড়তে থাকে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফি উদ্দিন মনি ও সরোয়ার আলম খান গত ২৩ জুন সমাবেশের আয়োজন করেন। ওই সমাবেশকে কেন্দ্র করে আব্দুর রাজ্জাকের অনুসারীদের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। এর পর থেকে দুই পক্ষের ‘মুখ দেখাদেখি’ বন্ধ হয়ে যায়।
আব্দুর রাজ্জাকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াকুব আলী, পৌর মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর ফরহাদুল ইসলাম ও সাদিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গতকালের বিশেষ বর্ধিত সভা ডাকা হয়।
মধুপুর অডিটরিয়ামে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও তাঁদের অনুসারীরা অংশ নেননি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খান বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের নামে বিশেষ বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে। কিন্তু আমরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কিছুই জানি না। যাঁরা এই সভা ডেকেছেন, তাঁরা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হবে।’
সভা সূত্র জানায়, বিশেষ বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াকুব আলী।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইয়াকুব আলী গণমাধ্যমকে বলেছেন, বিশেষ বর্ধিত সভা সফল হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এবং ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দু-একজন অনুসারী ছাড়া সব নেতা-কর্মী আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল।
তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খান বলেছেন, অনেক নেতাদের ভয় ও লোভ দেখিয়ে বর্ধিত সভায় নেওয়া হয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলোচনা করে খুব শিগগিরই উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ডাকবেন।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা বলেছেন, মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-১ আসনে ২০০১ সালে আব্দুর রাজ্জাক দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তিনি সংসদ সদস্য হন। দুবার তিনি মন্ত্রীও হয়েছেন। মধুপুরে দলীয় ও সরকারি বিভিন্ন বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক দায়িত্ব দিয়ে রাখতেন সরোয়ার আলম খানকে। একসময় সরোয়ার দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে মে মাসে ঘোষণা দেন। গণমাধ্যমে কৃষিমন্ত্রীকে কটুক্তি করে বক্তব্য দেন। এর পর থেকেই দলীয় কোন্দল প্রকাশ পায়।
একতার কণ্ঠঃ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, বিএনপি নিজেদের কবর নিজেরাই খুঁড়ছে। আপনারা যে কবরে পা দিয়েছিলেন, সেখান থেকে এখনও উঠতে পারেন নাই। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে আন্দোলন করছেন। হরতাল, সন্ত্রাসসহ দেশকে অস্থিতিশীল করছেন। আপনাদের আন্দোলন সংগ্রামে এ দেশের জনগণ নাই। আওয়ামী লীগ উন্নয়ন করেছে, জননেত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় রাখবেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিএনপি-জামায়াতের সংগ্রাম লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। বিএনপি যে ভয় দেখাচ্ছে এই ভয় জানি আমাদের আক্রমণ ও গ্রাস না করতে পারে। আমরা তাদের রাজপথে থেকেই মোকাবেলা করবো। অতীতেও করেছি রাজপথে থেকে আগামীতেও তাদের প্রতিহত করা হবে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের শান্তি দিয়েছে, জীবনের নিরাপত্তা দিয়েছে, ব্যবসা বাণ্যিজের নিশ্চয়তা দিয়েছি।
মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা অডিটরিয়ামে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা জাতীয় নির্বাচনের জন্য কর্মীরা প্রস্তুত থাকবো। পাশাপাশি আন্দোলনের জন্যও রাজপথে থাকবো। এভাবেই নির্বাচনের প্রস্তুতিও চলবে। নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে তুলে ধরা হবে। জনগণকে বুঝাবো আওয়ামী লীগ সরকারের প্রয়োজনীয়তা। উন্নয়নের গল্প কাহিনী সারা পৃথিবীর মানুষ জানে। সেগুলো আমরা দেশবাসীর মাঝে তুলে ধরবো। সাথে সাথে বিএনপির ষড়যন্ত্র, হুমকি বিদেশীদের দিয়ে ষড়যন্ত্র সব কিছুতে মোকাবেলা করবো। আওয়ামী লীগের শক্তি এদেশের জনগণ। যুক্তরাষ্ট্র, আমেরিকা, লন্ডন আওয়ামী লীগের শক্তির উৎস না। আওয়ামী লীগের শক্তির উৎস তৃণমূলের সাধারণ কর্মীরা। আওয়ামী লীগের ক্ষমতা কোন বাহিনী নয়, আওয়ামী লীগ কখনও ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসে নাই। আমাদের জনগণই শক্তি, এই শক্তিকে নিয়ে পৃথিবীর যে কোন শক্তিকে নিয়ে আমরা মোকাবেলা করার যোগ্যতা রাখি।
মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইয়াকুব আলীর সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বাপ্পু সিদ্দিকী, পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিক হোসেন খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান সাদিক, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শরীফ আহমেদ নাসির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য খন্দকার আব্দুল গফুর মন্টু, ডা. মীর ফরহাদুল আলম মনি প্রমূখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী যুবলীগের প্রাথমিক সদস্য নবায়ন ও ফরম সংগ্রহ কার্যক্রম কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার(২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একুশে পদকপ্রাপ্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক ওই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
ওই কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন।
অনুষ্ঠানে জেলা যুবলীগের সভাপতি মাসুদ পারভেজের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইম তালুকদার বিপ্লব।
এ সময় জেলা, শহর, সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের যুবলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণের দাবিতে টাঙ্গাইলে সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি এবং তাদের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন।
রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর শহরের ভাসানী হল প্রাঙ্গণ এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশের শুরুতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা,শহর ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়।
জেলা বিএনপির সভাপতি মো. হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।
বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াউল হক শাহিন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী শফিকুর রহমান লিটন,সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রৌফ, জেলা যুবদল আহবায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তারিকুল ইসলাম ঝলক, জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুল হক মনির, জেলা মহিলাদলের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রক্সি মেহেদী, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি দূর্জয় হোড় শুভ, সদস্য সচিব আব্দুল বাতেন প্রমুখ।
সমাবেশ বক্তারা বলেন, আমাদের দেশের চিকিৎসা পদ্ধতি খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাকে দ্রুত বিদেশে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় তাকে বিদেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। অতি দ্রুত খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো ও তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানান।
এ দিকে সমাবেশে উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম)।
শনিবার(২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার কীর্তনখোলা গজারিয়া কালিয়ানপাড়া (কেজিকে) উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ মিয়ার কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।
দীর্ঘদিন পর সংসদীয় আসন টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) থেকেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন—এ কথা স্পষ্ট করলেন। এর আগে ঋণখেলাপির কারণে বঙ্গবীরের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এ আসন থেকে তাঁর মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী বিএনপি জোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি ২ কোটি টাকা নিয়েছিলাম, ১৩ কোটি দিয়েছি। তবুও নাকি শোধ হয় নাই! এখনো নাকি আরও ২২ কোটি পায়। এবার নিয়ত করেছি, কবে মরে যাব ঠিক নাই, এবার ওইগুলো পরিশোধ করে দাঁড়িয়ে পড়ি। দেখা যাক কী হয়! মানুষেরও একটা ইচ্ছা আছে, মানুষের কাছে মাফ-মুক্তি চাইতে পারব। সে জন্য আল্লাহ যদি বিপদ না করেন তবে, আমি ভোটে আপনাদের এখানে (টাঙ্গাইল-৮) দাঁড়াব। আপনারা দোয়া করবেন।’
তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও তিনি কোন রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন তা স্পষ্ট করেননি।
উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আহ্বায়ক আব্দুস ছবুরের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা (বীর প্রতীক), কাদের সিদ্দিকীর সহোদর শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সালেক হিটলু, সখীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীব, যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুন্নবী সোহেল, আলমগীর সিদ্দিকী প্রমুখ বক্তব্য দেন।
একতার কণ্ঠঃ মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কণিষ্ঠ পুত্র আবুবকর খান ভাসানীর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের সন্তোষে আবুবকর খান ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এ সময় ন্যাপ-ভাসানী ও খোদা-ই-খেদমতগারের সভাপতি হাসরত খান ভাসানী, ভাসানী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আজাদ খান ভাসানীসহ ভক্ত-মুরিদানরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সোমবার বিকালে ঐতিহাসিক দরবার হলে ওরশ মোবারক ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, আবুবকর খান ভাসানী ১৯৪৭ সালের ২৪ এপ্রিল (মেট্রিকুলেশন সনদ অনুযায়ী) আসামের ধুবরী জেলার দক্ষিণ শালমারা থানার আমতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও হামিদা খানম ভাসানীর জ্যেষ্ঠ পুত্র।
তিনি ১৯৬৫ সালের ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভুরুঙ্গামারীর ঐতিহাসিক কৃষক সম্মেলনের সক্রিয় কর্মী ও সংগঠক ছিলেন। এই সময়ে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে গড়ে তোলেন মাতা হামিদা খানম ভাসানীর নামে জুনিয়র স্কুল। এখানেই তিনি শিক্ষকতা দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন।
এরপর ’৬৮-র আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ’৬৯-র গণঅভ্যুত্থান এবং ’৭১-র মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ শেষে স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করেন।
২০১২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। ১৯ সেপ্টেম্বর সন্তোষে পিতার কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।