একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মাস্ক না পরার অপরাধে ৮ জনকে অর্থদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে শহরের নিরালা মোড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই ৮ জনকে মাস্ক না পরার অপরাধে ২ হাজার ১০০ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রানুয়ারা খাতুন।
এসময় ৫ শতাধিক পথচারীদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রানুয়ারা খাতুন বলেন, সরকার ঘোষিত করোনা ভাইরাসে মাস্ক ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। সকলকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরন করতে হবে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
জানা যায়, দেশে ওমিক্রনে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে নির্দেশনা দেয় সরকার। স্বাস্ব্য বিধি না মেনে চললে মাস্ক বিহিন চলাচল করলে ভ্র্যম্যমান আদালত পরিচালনা নির্দেশ প্রদান করেছে সরকার।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর এলাকার সন্তোষ বাগবাড়ির একটি পুকুর থেকে শামসুল হক খান(৫৭) নামের এক আসবাবপত্র ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ।সোমবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন।
নিহত শামছুল হক ওই এলাকার মৃত রশিদ খানের ছেলে।
নিহতের বড় ভাই হাবিবুর রহমান খান বলেন, আমার ভাইয়ের কাছ থেকে এক ব্যক্তি দুই লাখ টাকা ধার নিয়েছিলো। ওই পাওনা টাকা দাবি করলে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিতো। আমরা ধারণা করছি ওই ব্যক্তিই আমার ভাইকে হত্যা করেছে।
নিহতের মেয়ে শিউলি বেগম বলেন, সন্তোষ ঘোষবাড়ী এলাকার নুরুল ইসলাম নামে এক কাঠমিস্ত্রি আমার বাবার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলো। সে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে।
টাঙ্গাইল পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর খালেদা আক্তার স্বপ্না বলেন, পুকুর পাড়ে রক্ত পরে রয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড। তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, মরদেহ মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশটি ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠনো হয়েছে ।তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহজনক নূরুল নামে একজনকে আটক করা হয়েছে
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাসে সোমবার(২৪ জানুয়ারি) ভোরে অভিযান চালিয়ে ১৮৪ বোতল নিষিদ্ধ ভারতীয় ফেন্সিডিলসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এ সময় ফেন্সিডিল বহনকারী একটি ট্রাকও জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার বাহির মাদী গ্রামের হেরেশ মন্ডলের ছেলে আপিনু রহমান(২৫) ও একই গ্রামের হারান মন্ডলের ছেলে মিঠুন মন্ডল(১৯)।
সোমবার(২৪ জানুয়ারি) দুপুরে র্যাব এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, র্যাব-১২, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার সিনিয়র এএসপি আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে আশেকপুর বাইপাসে জয় গোপাল মিষ্টান্ন ভান্ডারের পাশে অভিযান চালিয়ে ব্যক্তিদ্বয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছে ১৮৪ বোতল ফেন্সিডিল, নগদ তিন হাজার টাকা ও তিনটি সিমকার্ড এবং ফেন্সিডিল বহনকারী ট্রাক জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ফেন্সিডিলের দাম প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
র্যাব আরো জানায়,তারা দীর্ঘদিন যাবত মাদক কারবারের সাথে জড়িত। গ্রেপ্তারকৃতদের নামে টাঙ্গাইল সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে গোপালপুরে মারধর করে হ্যান্ডকাপসহ পুলিশের কাছ থেকে আসামী ছিনতাই করা হয়। হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিন ও শফিকুল এবং পুলিশ সদস্য মাখন সূত্রধর। শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের ভুটিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে হ্যান্ডকাপসহ আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী রিপন (৩৮) চিলাবাড়ি গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং মিজানুর রহমান (৪০) ভুটিয়া গ্রামের মৃত ইনতাজ আলীর ছেলে। শনিবার (২২ জানুয়ারি) দুইজনকে টাঙ্গাইলে কোর্টে প্রেরণ করেছে থানা পুলিশ।
জানা যায়, আসামী রিপনের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও অপহরণ মামলায় ওয়ারেন্ট ছিল। পরে গোপালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিন ও শফিকুল ও পুলিশ সদস্য মাখন আসামী ধরতে শুক্রবার রাতে ধোপাকান্দি ইউনিয়নের ভুটিয়া এলাকায় যান। এসময় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী রিপনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় ধোপাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনীত প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের ভাই মিজানুর রহমান তার লোকজন নিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। এসময় পুলিশদের মারধর করে হ্যান্ডকাপসহ আসামী ছিনিয়ে নেয় তারা।
পরে পুলিশ আহত হওয়ার ঘটনায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পুনরায় হ্যান্ডকাপসহ আসামী রিপনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় হামলায় নেতৃত্ব দেয়া মিজানুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিকে হামলায় আহত ৩ পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গোপালপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পুলিশ আসামীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসার সময় মিজানুর ও তার লোকজন পুলিশের উপর হামলা চালায়। এসময় হামলায় ৩ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে হ্যান্ডকাপসহ আসামী রিপন ও মিজানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মিজান ধোপাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের ভাই। সে মাদকসেবী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ৪ কেজি গাঁজা সহ মো. জহুরুল ইসলাম (৪০) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে নাগরপুর থানা পুলিশ। শুক্রবার(২১ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের পালপাড়া নিজ বাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত জহুরুল ওই ইউনিয়নের মো. জব্বার মিয়ার ছেলে। এ বিষয়ে নাগরপুর থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাগরপুর থানা পুলিশ উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের পালপাড়াস্থ জহুরুলের বাড়ীতে অভিযান চালায়। তার বসত ঘর তল্লাশি করে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় জহুরুল পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে আটক করে।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ( ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গয়হাটা ইউনিয়নের পালপাড়া থেকে ৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী জহুরুল নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাগরপুর থানায় তার বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, শনিবার(২২ জানুয়ারি) সকালে গ্রেপ্তারকৃত জহিরুলকে টাঙ্গাইল কোর্টে প্রেরন করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের লোগো ব্যবহার করে প্রাইভেটকারে ফেন্সিডিল নিয়ে যাওয়ার সময় দুইজনকে আটক ও দুটি প্রাইভেটকার জব্দ করেছে র্যাব।
সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ১১ টার দিকে নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি র্যাব-১২-এর ৩ নম্বর কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃতরা হচ্ছেন, যশোরের বেনাপোল উপজেলার ভবেরবেড় গ্রামের মো. বাবুল হোসেনের ছেলে মো. সোহেল রানা (২৮) ও একই উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মৃত মমতাজ আলীর ছেলে মো. রিয়াজুল ইসলাম (৪৪)।
আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের লোগো ব্যবহার করে এবং ভুয়া সাংবাদিকের পরিচয়ে যশোরের বেনাপোল থেকে ৬০২ বোতল ফেন্সিডিল টাঙ্গাইলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে গোপন সূত্রে জানতে পারি। পরে অভিযান চালিয়ে নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর গ্রাম থেকে দুইজনকে আটক ও দুটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে ফেন্সিডিল সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করতেন।’
তিনি আরো জানান, ‘আটককৃতদের বিরুদ্ধে নাগরপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এর ৩৬ (১) এর ১৪ (গ) ধারায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ফেনসিডিল পাচারের দায়ে দুই মাদক কারবারিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৭ জনিুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মাসুদ পারভেজ এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হচ্ছেন- পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদ সিকদারের ছেলে মো. দুলাল (৪০) ও একই উপজেলার দুমকি সাতানি গ্রামের মান্নান হাওলাদারের ছেলে রিপন (২৬)।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান জানান, ২০১৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল টাঙ্গাইল শহর বাইপাস সড়কের কান্দিলা এলাকায় উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালায়।
এসময় ওই মাইক্রোবাসের আরোহী দণ্ডপ্রাপ্ত দুইজনের কাছ থেকে ৬০০ বোতল নিষিদ্ধ ফেনসিডিল উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক শাহীনুল কবির বাদী হয়ে ওই দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।পরে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। মামলায় নয়জন সাক্ষীর মধ্যে ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. দুলাল জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার পর অপর আসামি রিপনকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে কাঠবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও চারজন। বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার কাতুলী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গেছে। তিনি সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের পারবহুলী গ্রামের ছলিম উদ্দিনের ছেলে সরোয়ার হোসেন (৩৫)।
কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন জানান, কাতুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ইটভাটার কাঠ কিনে কয়েকজন শ্রমিককে নিয়ে ট্রাকটি টাঙ্গাইল শহরের দিকে যাচ্ছিল। চালক হেলপারকে দিয়ে ট্রাক চালাতে দিয়ে ভেতরেই ঘুমাচ্ছিলেন। পরে ট্রাকটি কাতুলী এলাকায় আসলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের নিচে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন শ্রমিক নিহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহত তিনজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ঘরোয়া ভাবে শালিসি বৈঠক শেষে সোমা আক্তার (১৯) নামের এক গৃহবধূ শরীরে আগুন জ্বালিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার(১২ জানুয়ারী) ভোর রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় তার স্বজনরা। উপজেলার বোয়ালী পশ্চিমপাড়া গ্রামে ওই গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত সোমা আক্তার ওই এলাকার এরশাদ মিয়ার স্ত্রী।
তবে আত্মহত্যা নয় আগুন জ্বালিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী করেছেন নিহত সোমার মা পারভীন আক্তার। এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করে নাই বলে জানিয়েছে সখীপুর থানা পুলিশ।
এলাকাবাসী জানায়, পারিবারিকভাবে বনাবনি না হওয়ায় গত শনিবার(৮ জানুয়ারী) দুপুরে এরশাদের বাড়িতে একটি শালিসি বৈঠক হয়। তার কিছুক্ষণ পর বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে সোমা নিজেই শরীরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এ ঘটনার চার দিন পর চিকিৎসারত অবস্থায় সে মারা যায়।
ওই এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানায়, মেয়েটা নিজেই শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমি তখন ওই বাড়ির রান্না ঘরের পাশে ছিলাম। শালিসি বৈঠকের কথা জিজ্ঞাস করলে তিনি বলেন আমি ঢাকায় যাচ্ছি। সন্ধ্যায় সব বলবো বলে ফোন কেটে দেয়।
মেয়ের মা পারভীন আক্তার বলেন, আমার মেয়েকে আগুন দিয়ে পুড়ার সময় মেয়ে কাইন্দ্যা কাইন্দ্যা কইছে আমারে বাঁচাও, কেউ এক কলসি পানি নিয়ে আসো। কিন্তু কেউ পানি নিয়ে এগিয়ে আসে নাই। এর আগেও আমার মেয়েকে লোহার প্যারাক (রড) দিয়ে শ্যাক দিতো। কত কইছি তোরে নিয়া যামুগা, আমার ম্যায়ায় (মেয়ে) কইছে একটা বাচ্ছা হইছে, আমি এখান থেকে যামুনা। কিন্তু পাশান স্বামী, শ্বশুর মিলে আমার মেয়েকে আগুন ধরিয়ে পুইড়া মারছে। আমি এর বিচার চাই।
মেয়ের মা পারভীন আক্তার আরও জানায়, প্রায় চার বছর আগে মির্জাপুর উপজেলার গয়রামপুর গ্রামের নইমুদ্দিনের মেয়ে সোমা আক্তারের সাথে সখীপুর উপজেলার বোয়ালীা পশ্চিমপাড়া ্এলাকার সোমেশ আলীর ছেলে এরশাদ মিয়ার সাথে বিয়ে হয়। এর আগেও এরশাদ একটি বিয়ে করেছিলেন। আর এ ঘটনা আমরা বিয়ে পরে জানি। সেই ঘরে একটি ১৫ বছরের মেয়ে আছে। সেই সংসার নিয়েও মামলা চলছে।
সখীপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) এ.কে সাইদুল হক ভূ্ইঁয়া বলেন, আগুনে পুড়ে এক গৃহ বধূর মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি কিন্তু কেউ থানায় লিখিত ভাবে অভিযোগ করেনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্যা এলাকায় সোমবার(১০ জানুয়ারী) দিনগত রাতে অভিযান চালিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে মো. লুৎফুর রহমান(৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃত মো. লুৎফুর রহমান মির্জাপুরের চিতেশ্বরী গ্রামের মো. মাইনুল হকের ছেলে। তিনি একটি ওষুধ কোম্পানীতে চাকুরিরত।
র্যাব-১২ জানায়, ওষুধ কোম্পানীতে চাকুরির সুবাদে মো. লুৎফুর রহমান জনৈক মহিলার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। প্রেমের এক পর্যায়ে তিনি ওই নারীকে ফুসলিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে এবং তা গোপনে মোবাইলে ভিডিও ধারণ ও ছবি তুলে রাখে। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা ও ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয় এবং ধর্ষণ করে। মো. লুৎফুর রহমান ওই নারীকে নানা সময়ে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে ডেকে নেয়। এতে ওই নারী মানসিকভাবে চাপের মুখে পড়ে। এক পর্যায়ে ওই নারী টাঙ্গাইল র্যাব কার্যালয়ে অভিযোগ করেন।
র্যাব-১২ আরও জানায়, অভিযোগ পেয়ে সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে র্যাবের একটি টিম তদন্তে নামে। তারা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাকুল্যা থেকে মো. লুৎফুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় তার কাছে থাকা ভিডিও ও ছবি জব্দ করা হয়। মো. লুফুর রহমান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে ওই নারীকে ধর্ষণ ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানায় পর্ণোগ্রাফি আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কৃষক মেছের আলী ও কৃষিবিদ মো. দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মির্জাপুরের সিংজুরী গ্রামের দুলাল মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে দুলাল মিয়া বলেন, উপজেলার সিংজুরী গ্রামে আশুতোশ সরকার, গৌড় সরকার, নুরুল ইসলামসহ গ্রামের একাধিক ব্যক্তি একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলেছেন। চক্রটি স্থানীয় মেছের আলীর মতো অসহায় ব্যক্তিদের জায়গা জমি দখল, ধান চুরি, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপকর্ম লিপ্ত রয়েছে। তাদের এই অপকর্ম প্রতিবাদ করায় ওই গ্রামের মেছের আলী ও তার পরিবারকে মসজিদে নামাজ পড়া, সমাজে কোরবানি ও তার মুদি দোকান বন্ধ করাসহ দীর্ঘদিন ধরে এক ঘরে করে রেখেছেন আমাদের পরিবারকে। এ ব্যাপারে মেছের আলী একাধিক মামলা করেছেন। এছাড়া মেছের আলী এসব অপকর্মের প্রতিকার চেয়ে গত ২০ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালকের বরারর একটি লিখিত আবেদন করেছে।
তিনি আরো বলেন, আমি একজন মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ও কৃষিবিদ। আমি এসব অপকর্মমের প্রতিবাদ করায় আমাকে হুমকি দিচ্ছে। এ চক্রটি বিভিন্ন ধরনের মিথ্যাচার করছে। আমি নিরীহ গ্রামবাসীর পাশে দাঁড়ানোয় তাদের রোষানলের শিকার হয়েছি। মেছের আলীর মামলা এবং লিখিত আবেদনে ভিত হয়ে আশুতোশ সরকার ও তার সহযোগিরা গত ২২ ডিসেম্বর একটি মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে আমার এবং মেছের আলী ও শুকুর আলীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য দেয়া হয়। পরে সেটি বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ চক্রের হাত থেকে গ্রামকে রক্ষা করার জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ভুক্তভোগী মেছের আলী, সুকুর আলী, আনোয়ারা বেগম প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান লাভলু মিয়া লাবু নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ তুলেছেন। বুধবার(২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি নানা অভিযোগ করেন। সেই সাথে সহিংসতা বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন। এসময় চেয়ারম্যান লাভলু মিয়ার সাথে কয়েকজন ভুক্তভোগী অনুসারী উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে লাভলু মিয়া লাবু লিখিত বক্তব্যে জানান, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আফজাল হোসেনের কাছে তিনি পরাজিত হন। জয়লাভ করেই আফজাল হোসেন ও তার বাহিনী এলাকায় চাঁদা দাবি, কর্মী-সমর্থকদের ঘরবাড়ি -ভাংচুর সন্ত্রাসী কর্মকা- করছেন। যার প্রমাণাদী রয়েছে। তার কর্মী ফতেপুর গ্রামের আব্দুল মালেক, মিথিল, আজাহার উদ্দিন, আলিশাকান্দা গ্রামের আব্দুল হাকিম, ইউনুস আলী, আব্দুল মানিককে সন্ত্রাসী বাহিনী পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। তাদের চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতর একজনকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। এদিকে ফতেপুর, আলিশাকান্দা, বিন্যাফৈর ও চারাবাড়ি গ্রামে কয়েকজন কর্মী-সমর্থকরা বাড়িতে থাকতে পারছে না। ইউনিয়নে সাধারণ মানুষও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এছাড়া নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগও তুলেন তিনি।
লাভলু মিয়া লাবু আরো বলেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে আমি জনগণের ভোটে বিজয়ী হতাম। এলাকায় সহিংসতা চাই না। জনগণের শান্তি চাই। নির্বাচনের পর সহিংসতার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। আমরা নির্বাচন ও এসপি অফিসে লিখিত আবেদন দিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দাইন্যা ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী আব্দুল লতিফ, গিয়াস, আনোয়ার, রফিকুল, আব্দুল লতিফসহ গ্রাম ছাড়া বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থক।
সংবাদ সম্মেলনে আনিত অভিযোগ প্রসঙ্গে নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন। আমার জনপ্রিয়তায় পরাজিত হয়ে লাভলু মিয়া তাল-বেতাল হয়ে গেছেন। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার সকল ষড়যন্ত্র তিনি শুরু থেকেই করছেন এবং এখনও চালাচ্ছেন। এটা পুলিশ প্রশাসন এবং এলাকাবাসী সবাই অবগত আছেন।