একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় সখীপুর উপজেলা বিএনপির ৪৯ জন নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সখীপুর) আমলী আদালতে ৫৯ নেতাকর্মী আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় বিচারক ফারজানা হাছানাত ১০ জনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন এবং ৪৯ নেতাকর্মীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আটককৃতরা হলেন— উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশ নেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী। ওই নির্বাচনের আগে ২০ ডিসেম্বর রাতে সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের বড়চওনা এলাকায় টহলরত পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এ সময় সখীপুর থানা পুলিশ বাদী হয়ে ১৯৬ জনের নামে মামলা দায়ের করে। পরে তদন্ত শেষে ওই মামলায় ১২৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এসএম ফায়জুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণা ঠেকাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত, হয়রানিমূলক, গায়েবি ও মিথ্যা মামলাটি দায়ের করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে যমুনা নদী খনন প্রকল্পের কাজ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কালিহাতী থানা পুলিশ ১০ জনকে আটক করেছে।
শনিবার(১২ ফেব্রয়ারি) দুপুরে উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের জোকারচর গ্রামে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদ-নুরুল ইসলাম মেম্বার ও সাবেক মেম্বার সুলতান গ্রুপের মধ্যে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে সুলতান গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাসুদ-নুরুল ইসলামের বালুরঘাটে অতর্কিত হামলা চালায়। পরে মাসুদ গ্রুপের লোকজনও পাল্টা হামলা চালায়। এসময় দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সাবেক মেম্বার সুলতান ও তার ভাইয়ের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় মাসুদ গ্রুপের লোকজন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।পুলিশ দুই গ্রুপের ১০ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে সাবেক মেম্বার সুলতান জানায়, জোকারচর এলাকার মাসুদ সরকার ও নুরুল ইসলাম মেম্বারের লোকজন আমার এবং আমার ভাইয়ের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করে। আমার ঘরের ভিতরে থাকা আলমারি ভেঙে নগদ ১৫ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। আমি সরকারের কাছে এর বিচার চাই।
অপরদিকে মাসুদ সরকার অভিযোগ করে বলেন, বালুর ঘাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সুলতান মেম্বারের লোকজন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আর নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনা একটি সাজানো নাটক।
কালিহাতীর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান,জোকারচর এলাকায় বালুরঘাট দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় দুই গ্রুপের ১০ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নুরভানু (৫৮) নামে এক বৃদ্ধা নারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার(১২ফেব্রয়ারি) সকালে উপজেলার দুয়াজানী গ্রামে ওই হত্যার ঘটনা ঘটে। নাগরপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ(ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত নুরভানু নাগরপুর সদর উপজেলার দুয়াজানী গ্রামের বাবুল মিয়ার স্ত্রী।
এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুয়াজানী গ্রামের আব্দুল মিয়া তিন ছেলে সন্তান রেখে প্রায় ১২ বছর আগে মারা যান। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী নুরভানু পুনরায় পাশের ভঙ্গবকুটিয়া গ্রামের তিন সন্তানের জনক বাবুল মিয়াকে বিয়ে করে দুয়াজানীর নিজ বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। শনিবার বাবুল মিয়া সকালে কৃষি জমিতে কাজ করতে যান। এসময় তার স্ত্রী নুরভানু বাড়িতে সকালের রান্নার কাজ কাজ করছিলেন। কে বা কারা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে রান্নার চুলার পাশেই ফেলে রেখে চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে।
নিহত নুরভানুর স্বামী বাবুল মিয়া বলেন, সকালে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য সার নিয়ে চলে যাই। স্ত্রীর হত্যার খবর পেয়ে বাড়িতে এসে রান্না ঘরের সামনে আমার স্ত্রীর রক্তাক্ত মৃতদেহ পরে থাকতে দেখি।
নাগরপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ(ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাশ উদ্ধার করে। এছাড়াও লাশের ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ওই পরিবারের ছেলে ও ছেলের বৌ এবং নিহতের স্বামীসহ কয়েক জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের জামুর্কী পালপাড়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার( ৯ ফেব্রয়ারি) সন্ধ্যায় ওই হামলার ঘটনাটি ঘটে। হামলায় শিশুসহ চারজন আহত হয়।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জামুর্কী ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের শংকর পালের সাথে প্রতিবেশী মৃত সুনীল পালের ছেলে তন্ময় পালের(২২) বাড়ীর সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে।
ওই বিরোধের জের ধরে বুধবার সন্ধ্যায় শংকর পাল বাড়িতে না থাকায় তন্ময় তার মা অনিতা পাল (৪৭) ও একই এলাকার গনেশ পালের ছেলে সুভাষ পালসহ আরো ৪ থেকে ৫জন অজ্ঞাত লোক এসে বাড়িতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে লক্ষাধিক টাকা ও স্বর্নালংকার লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ সময় শিশুসহ ৪ জন আহত হয়।
আহতরা হলেন, শংকর পালের স্ত্রী জোসনা পাল (৪৫), ছেলে দুর্জয় পাল (১৮), মেয়ে স্বপ্না পাল (২৩) ও নাতনী অধরা পাল (৫)।
গুরুত্বর আহত জোসনা পালকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মির্জাপুর কুমুদিনি হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বাকী আহতরা স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
হামলার শিকার আহত দুর্জয় পাল জানান, বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকায় প্রতিবেশীর আত্নীয় প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের উপর হামলা করে মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে। হামলার পর আমাদের পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গেছে। বর্তমানে পরিবার পরিজন নিয়ে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. লুৎফর রহমান বলেন , ঘটনাটি পারিবারিক, বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ভাবে বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আলম চাঁদ জানান, ঘটনার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় শর্ত সাপেক্ষে টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান মুক্তির অন্তবর্তী কালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রথম অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ মাসুদ পারভেজ তার জামিন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম।
অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণের দিন ছিল। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিউলী রাণী দাসের সাক্ষ্য গ্রহণ ছিল। তবে স্বাক্ষী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় আসামী পক্ষের আইনজীবীরা সুচিকিৎসার দাবিতে আসামীর জামিন আবেদন করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম ও বাদি পক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করেন। পরে বিচারক শর্ত সাপেক্ষে মুক্তিকে অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন মঞ্জুরের সময় মুক্তি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এই মামলার পরবর্তী তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি।
সহিদুর রহমান খান মুক্তি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ভাই ও বাবা আতাউর রহমান খান একই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্টে আনিসুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। আদালতে দেওয়া ওই দুজনের স্বীকারোক্তিতে হত্যার সঙ্গে তৎকালীন ঘাটাইল আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তাঁর তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি অভিযুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর তিনি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁর অন্য দুই ভাই ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা এখনো পলাতক রয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সন্ত্রাসী হামলায় মোমিনুল রহমান(৪২) নামে এক ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী গুরুত্বর আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে। বুধবার(৯ ফেব্রয়ারি) রাত সাড়ে নয়টার দিকে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বেড়াডোমা ডাইভারশন সেতুর উপর ওই হামলার শিকার হন তিনি।
মোমিনুল টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের পার-দিঘুলিয়ার মৃত আজিজুর রহমান চৌধুরীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বেড়াডোমা সাবান ফ্যাক্টরির কাছে অবস্থিত ইউজার চয়েজ ক্যাবল ও ইন্টারনেট অফিস থেকে প্রতিদিনের মতো ব্যবসায়ী মোমিনুল তার পার-দিঘুলিয়ার বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বেড়াডোমা ডাইভারশন ব্রিজের মাঝামাঝি পৌঁছাতেই কয়েকজন মুখোশধারি সন্ত্রাসী তার উপর বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
হামলায় তার ডান হাত, মাথা, ডান পা ও নাক গুরুত্বর জখম হয়। তার ডান হাতের তিনটি আগুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া কোপের আঘাতে তার নাক কেটে ঝুলে যায়।তার ডান পায়ের রানের উপর আঘাতও গুরুত্বর । গুরুত্বর আহত অবস্থা তিনি হেঁটে কোন রকমে বেড়াডোমা বেবিস্ট্যান্ডে অবস্থিত বিসমিল্লাহ মেডিসিন সপের সামনে গিয়ে পরে যায়। পরে আহতের ভাই মামুন ও মামুনের বন্ধু আলাউদ্দিন মোটরসাইকেল যোগে দ্রুত তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে অপরেশন থিয়েটারে নিয়ে জরুরী অপারেশন করা হয়। কিন্তু তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
মনিমুলের বড়বোন কামরুন্নাহার বলেন, হামলার খবর পেয়ে তার ভাই মামুন ও তার বন্ধু আলাদিন মোমিনুলকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে হামলাকারিরা মুখোশ পরে থাকায় কাউকে চিনতে পারা যায়নি। ঘটনার পর হামলাকারিরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
মমিনুলের বড় ভাই মাহবুব চৌধুরী মনি বলেন, ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে বুধবার রাতেই মোমিনুলের জরুরি অপারেশন করা হয়েছে।তিনি বর্তমানে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি রয়েছে।মমিনুলের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাই তারা আইনগত কোন ব্যবস্থার দিকে যায়নি। অবস্থার উন্নতি হলে তারা আইনগত প্রক্রিয়া যাবেন।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার-ইন-চার্জ( ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, বুধবার রাতেই ঘটনাটি জেনে ঘটনাস্থল ও টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছেন। তবে আহতের পরিবার থেকে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রেমিকার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাওয়ায় প্রিতম কুমার সিংহ আকাশ (২১) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। রোববার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি বিষপান করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু।
প্রিতম কুমার সিংহ আকাশ মধুপুর পৌরসভায় সাথী সিনেমা হল রোডের পার্শ্বের উত্তম কুমার সিংহের ছেলে। তিনি ঢাবির চারুকলা বিভাগের স্নাতক (সম্মান) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি মহিলা কলেজের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল প্রিতমের। সম্প্রতি মেয়েটির অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। প্রেমিকাকে হারানোর বেদনা ও ক্ষোভে রোববার(৬ ফেব্রয়ারি) রাতে নিজ বাড়িতে ইঁদুর মারার বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন প্রিতম। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে সোমবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইলের রানিদিনমনি মহাশ্মশান ঘাটে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
মধুপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাবলু আকন্দ বলেন, প্রেমঘটিত কারণে প্রিতম আত্মহত্যা করেছেন বলে জানতে পেরেছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ১ হাজার ৩ পিস ইয়াবাসহ মোঃ জলিল(৩৫) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।রবিবার( ৬ ফেব্রয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর রাজাবাড়ী গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার বিকেলে র্যাব-১২ সিপিসি-৩ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত মোঃ জলিল রাজাবাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন (জি), (পিপিএম), (বিএন) এর নেতৃত্বে কালিহাতী উপজেলার রাজাবাড়ী গ্রামে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রেলক্রসিং এর উত্তর পাশে অভিয়ান চালিয়ে মোঃ জলিল নামের এক মাদকব্যবসায়ীকে ১ হাজার ৩ পিস ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার করা হয়। সে রাজাবাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব আরো জানায়, জব্দকৃত ইয়াবার বাজার মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৯ শত টাকা। গ্রেপ্তারকৃত জলিলের বিরুদ্ধের কালিহাতি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বালুমহাল দখল নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছে । শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল ওহাব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, গত ৩ জানুয়ারি ভূঞাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে ৫৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৮শ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকেই এলাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ কারণে অনেক পুরুষ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের বাগানবাড়ি এলাকায় বালু মহাল দখল করতে যায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার ও তার লোকজন। খবর পেয়ে বাধা দেয় বর্তমান নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বহিস্কৃত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হক মাসুদের সমর্থকরা। এসময় পুলিশের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করতে ৪ রাউন্ড গুলিও করা হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হন।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওহাব জানান, সংঘর্ষের সময় গুলি করার কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা সেটা তদন্ত হচ্ছে। সংঘর্ষের সময়ের ভিডিও দেখে আসামি শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় বালু ঘাট ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ টি ইট ভাটায় অভিযান চালিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। অভিযানে ৩ টি ইটভাটার মালিককে ১৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং ২ টি ইটভাটার বিভিন্ন অবকাঠামো ভেঙ্গে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত ইট ভাটায় অভিযান পরিচালনা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুন্নেছা আক্তার।
অভিযানে উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নে এস কে এস ব্রিকসকে ৩ লাখ, সহবতপুর ইউনিয়নের আমিন ব্রিকসকে ৫ লাখ আর মেসার্স প্যাসিফিক ব্রিকসকে ৫ লাখ টাকাসহ মোট ১৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়াও গয়হাটা ইউনিয়নের মেসার্স তাজ ব্রিকস আর সহবতপুর ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিকস ইটভাটার বিভিন্ন অবকাঠামো ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুন্নেছা আক্তার বলেন, ইটভাটায় যে মাটি ব্যবহার করা হবে সেটার জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমিত নিতে হয়। এছাড়াও ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী ইটভাটার মালিকদের জরিমানা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে প্রসিকিউটির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক বিপ্লব কুমার সূত্রধর। এ সময় জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তাপস চন্দ্র পালসহ পুলিশ ও নাগরপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের পুংলী নদীর অংশে দিন-রাত অবাধে চলছে বালু উত্তোলন।জেলা প্রশাসনের কোন প্রকার বৈধ অনুমোদন না থাকলেও প্রকাশ্যে একটি ভেকু ও ১৪টি ড্রাম ট্রাকের সাহায্য দিন-রাত চলছে ওই অবৈধ বালু উত্তোলন। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধ, স্থানীয় বসতভিটা ,ফসলি জমিসহ সরকারি রাস্তা।অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাগণ কোন ধরনের প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের পৌলি দক্ষিন পাড়ার পুংলী নদীর অংশ থেকে একটি ভেকুর মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলনকৃত বালু ১৪টি ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন জায়গায় রশীদের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত বোঝাইকৃত বালু ভর্তি ড্রাম ট্রাক চলাচলের ফলে পৌলি দক্ষিন পাড়া থেকে বঙ্গবন্ধুসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে যাওয়ার ওই এলাকাবাসীর যাতায়াতের একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি বিভিন্ন জায়গায় দেবে গেছে।এ ছাড়া ট্রাক চলাচলের সময় উড়া ধুলা-বালিতে স্থানীয়দের বাড়ী-ঘর ধুলায় ঢেকে গেছে। এই রাস্তাটি টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধের অংশ হওয়ায়, হুমকির মুখে পড়েছে ওই বাঁধ।
স্থানীয়বাসিন্দা জহের আলী, আলেয়া বেগম, শহিদুল্যা সহ বেশ কয়েকজন বলেন, নদী থেকে দিন-রাত বালু উত্তোলনের ফলে তাদের বসতভিটা নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া বালু বোঝাই ট্রাক চলাচলের ফলে এলাকাটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
এলেঙ্গা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুকুমার ঘোষ প্রথমে বালু উত্তোলনের বৈধতার কথা বুঝানোর চেষ্টা করলেও পরে আইনগত দিক সর্ম্পকে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি যতদুর জানি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার মো. নজরুল ইসলামের প্রয়োজনে টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধে বালু ফেলার জন্য ওই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, স্থানীয় কিছু বাসিন্দা বাঁধে সরবরাহ করার জন্য ওই বালু নদী থেকে তুলছে। বালু উত্তোলনের কোন বৈধ কাগজ পত্র আছে কিনা তা তিনি জানেন না।
এ বিষয়ে,কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোবাশ্বের আলী জানান, কালিহাতীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত চলমান রয়েছে। পুংলি নদীর ওই অংশ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার(৩১ জানুয়ারি) কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল ওই রায় ঘোষণা করেন।

নিহত মেজর(অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান
রায়ে টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত এবং কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও সাগর দেবের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজারের বাহারছড়ার মারিশবুনিয়া গ্রামের মো. নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াজ ও মো. নিজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বাকি সাতজন আসামি খালাস পেয়েছেন।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন কর্মকর্তা পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সিনহা মো. রাশেদ খান। তাঁর সঙ্গে থাকা সাহেদুল ইসলামকে (সিফাত) পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর সিনহা যেখানে ছিলেন, সেই নীলিমা রিসোর্টে ঢুকে তাঁর ভিডিও দলের দুই সদস্য শিপ্রা দেবনাথ ও তাহসিন রিফাত নুরকে আটক করে। পরে তাহসিনকে ছেড়ে দিলেও শিপ্রা ও সিফাতকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এই দুজন পরে জামিনে মুক্তি পান।
ছেলের হত্যার রায় শুনতে সিনহার মা নাসিমা আক্তার কক্সবাজারে আসেন। মামলার বাদী ও সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার ভাই সিনহা হত্যা মামলায় রায় শুনতে সকালে মাকে নিয়ে আমরা উত্তরার বাসা থেকে রওনা হই। এখন আমরা কক্সবাজারে।’

সিনহা হত্যা মামলার ১৫ জন আসামির ছবি
সিনহা হত্যায় মামলা চারটি
সিনহা হত্যার ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। এর মধ্যে দুটি মামলা হয় টেকনাফ থানায়, একটি রামু থানায়। তিনটি মামলার দুটি মাদক রাখার অভিযোগে এবং একটি পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে।
এ ঘটনায় হত্যা মামলাটি করেন সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। ওই বছরের ৫ আগস্ট আদালতে করা ওই মামলায় তিনি টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ পুলিশের ৯ সদস্যকে আসামি করেন।
চারটি মামলারই তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। পরে র্যাব এ ঘটনায় প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলীসহ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের ১১ জন পুলিশ সদস্য ও ৩ জন গ্রামবাসী। পুলিশের করা তিনটি মামলার তদন্তে উত্থাপিত অভিযোগের কোনো সত্যতা না পাওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে র্যাব। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, ওসি প্রদীপ কুমার দাশের পূর্বপরিকল্পনায় আসামিরা মেজর (অব.) সিনহাকে গুলি করে হত্যা করেন।
গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে আসামি করে কক্সবাজার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় র্যাব। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন । তবে ওসি প্রদীপ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। এর আগে আসামিদের তিন দফায় ১২ থেকে ১৫ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।
গত বছরের ২৭ জুন প্রদীপসহ ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার শুরু হয়।
অভিযোগপত্রে থাকা ৮৩ সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। ১২ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।