একতার কণ্ঠঃ কন্যাসন্তানসহ এক তৃতীয়লিঙ্গের ব্যক্তিকে আটকের প্রতিবাদে টাঙ্গাইল সদর পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়েছে তৃতীয়লিঙ্গের লোকজন।এ সময় তাদের আক্রমণে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।বুধবার (১৬ ফেব্রয়ারি) রাতে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার এলজিইডি মোড়ে অবস্থিত সদর পুলিশ ফাঁড়িতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এঘটনায় তিন তৃতীয়লিঙ্গের ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় যুবক নিহত
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মনিকা নামের এক তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি কন্যাসন্তান নিয়ে সন্ধায় জামালপুর থেকে বাসযোগে ঢাকা যাচ্ছিলেন। এসময় বাসে থাকা অন্যান্য যাত্রীদের সন্দেহ হলে এক যাত্রী ‘৯৯৯’ এ ফোন নিয়ে বিষয়টি অবগত করেন। পরে টাঙ্গাইল সদর পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। আটকের খবরটি ছড়িয়ে পড়লে শহরের অন্যান্য তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিরা একত্রি হয়ে ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এসময় এক পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় জড়িত তৃতীয় লিঙ্গের তিন ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আটককৃত মনিকা জানান, তার বাড়ি জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার শেহরীপূর্বপাড়া গ্রামে। তিনি আগে কামরুজ্জামান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১০ সালে পারিবারিক ভাবে একই উপজেলার পপি খাতুন নামের এক নারীর সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছর পর তাদের ঘরে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। এরপর থেকেই তার শারীরিক পরিবর্তন হতে থাকে। এ কারণে তার স্ত্রী পপি খাতুন তাকে ছেড়ে তার চাচাতো ভাইকে বিয়ে করে অন্যত্র চলে যান। ২০১৮ সালে তিনি তৃতীয় লিঙ্গে পরিণত হয়ে তার নাম রাখেন মনিকা। এরপর থেকেই তিনি তার কন্যা সন্তানানকে লালন-পালন করছেন। তিনি গ্রামের বাড়ি জামালপুর থেকে তার মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন। এসময় টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক শামীম হোসেন বলেন, ‘মনিকা তার মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন। তার কোলে সন্তান দেখে বাসে থাকা অন্যান্য যাত্রীদের সন্দেহ হয়।এরপর এক নারী যাত্রী ৯৯৯এ ফোন করে জানায়। পরে তাকে শহরের রাবনা বাইপাস মোড় থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়। এ খবর পেয়ে অন্যান্য তৃতীয়লিঙ্গের ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় তিনজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে আটক করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেনে আসে।’

তিনি আরও জানান, মনিকা ওরফে কামরুজ্জামানের সাবেক স্ত্রী পপি খাতুনকে খবর দেয়া হয়েছিল। তিনি এসেছেন এবং তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই সন্তান তাদেরই ঔরসজাত। তার স্বামীর শারীরিক পরিবর্তন হওয়ায় তিনি তাকে তালাক দিয়েছেন। এ কারণে তার সন্তানটি স্বামী মনিকা ওরফে কামরুজ্জামানের কাছেই থাকে। এজন্য মনিকাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আর আটককৃতদের বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অপহরণ হওয়া ব্যবসায়ী মো. মশিউর রহমান খান মুরাদকে (৩৫) উদ্ধার করেছে র্যাব। এ সময় অপহরণকারী চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল কালেক্টরেট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এন্ড কলেজ সংলগ্ন জেলা সদর মাঠে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১২-এর ৩ নম্বর কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন টাঙ্গাইল পৌর শহরের দেওলা এলাকার মজিদ খানের ছেলে ওয়াসীম খান (৪৫), মৃত. আ. ছালামের ছেলে মো. হাবিবুল কবির জনি (৪৮), মো. শাহজাহান ফারুকের ছেলে মেহেদী হাসান শিশির (৩০) ও কোদালিয়া এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. জুয়েল (৩৫)।
এর আগে সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১২টার দিকে মশিউর রহমানকে অপহরণ করা হয়।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে চোলাই মদসহ এক নারী গ্রেপ্তার
র্যাব-১২-এর ৩ নম্বর কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সোমবার রাতে শহরের কোদালিয়া এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে একদল সন্ত্রাসী মশিউর রহমাকে অপহরণ করে। পরে অপরহণকারীরা ব্যবসায়ীর পরিবারের কাছে মুক্তিপন হিসেবে দুই লাখ টাকা দাবি করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই টাঙ্গাইল র্যাব অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে র্যাব। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে টাঙ্গাইল কালেক্টরেট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এন্ড কলেজ সংলগ্ন জেলা সদর মাঠ থেকে অপহৃতকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় অপহরণ চক্রের ৪ সদস্যকে।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় মশিউর রহমান টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ সিনেমাটিক স্টাইলে অবৈধ পথে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ গজারি কাঠ জব্দ করেছে টাঙ্গাইল বন বিভাগ।রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সদর উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাওইখোলা এলাকা থেকে ১৮০ পিস গজারি কাঠ জব্দ করে বন বিভাগ।
এ ব্যাপারে বন বিভাগের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া স্টেশন অফিসার সোলাইমান হোসেন জানান, দিবাগত রাত ৩ টার দিকে মহাসড়ক দিয়ে ট্রাক ভর্তি কাঠ ঢাকার দিকে যাচ্ছিলো। এ সময় ট্রাকটিকে সিগনাল দিলে তারা না থামিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে তাদেরকে ধাওয়া করে মহাসড়কের বাওইখোলা এলাকা থেকে ট্রাকটিকে আটক করা হয়।
তিনি আরো জানান, এ সময় ঢাকা মেট্রো-ট ২২-২৮৪২ নাম্বার ট্রাকের চালক পালিয়ে যায়। পরে ট্রাকটি আটক করে বন বিভাগের প্র্রধান কার্যলয়ে নিয়ে আসা হয়। এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ৭৫ লিটার দেশীয় চোলাই মদসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। রোববার(১৩ ফেব্রয়ারি) রাতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের করটিয়া গরুর হাটের উত্তর পাশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতনারী উপজেলার করটিয়া এলাকার নরেশ রবিদাসের স্ত্রী জ্যোৎস্না রাণী দাস (৪০)।
র্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জ্যোস্না রাণী দাসকে ২২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৭৫ লিটার দেশীয় চোলাই মদ, একটি মোবাইল, একটি সিম কার্ডসহ হাতেনাতে আটক করে র্যাব।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানান হয়, সে দীর্ঘদিন যাবৎ দেশীয় চোলাই মদ অবৈধভাবে সংগ্রহ করে টাঙ্গাইল সদর থানাসহ অন্যান্য থানা এলাকায় বিক্রি করে আসছিলো। আটককৃত নারীর বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় সখীপুর উপজেলা বিএনপির ৪৯ জন নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সখীপুর) আমলী আদালতে ৫৯ নেতাকর্মী আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় বিচারক ফারজানা হাছানাত ১০ জনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন এবং ৪৯ নেতাকর্মীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আটককৃতরা হলেন— উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশ নেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী। ওই নির্বাচনের আগে ২০ ডিসেম্বর রাতে সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের বড়চওনা এলাকায় টহলরত পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এ সময় সখীপুর থানা পুলিশ বাদী হয়ে ১৯৬ জনের নামে মামলা দায়ের করে। পরে তদন্ত শেষে ওই মামলায় ১২৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এসএম ফায়জুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণা ঠেকাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত, হয়রানিমূলক, গায়েবি ও মিথ্যা মামলাটি দায়ের করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে যমুনা নদী খনন প্রকল্পের কাজ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কালিহাতী থানা পুলিশ ১০ জনকে আটক করেছে।
শনিবার(১২ ফেব্রয়ারি) দুপুরে উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের জোকারচর গ্রামে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদ-নুরুল ইসলাম মেম্বার ও সাবেক মেম্বার সুলতান গ্রুপের মধ্যে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে সুলতান গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাসুদ-নুরুল ইসলামের বালুরঘাটে অতর্কিত হামলা চালায়। পরে মাসুদ গ্রুপের লোকজনও পাল্টা হামলা চালায়। এসময় দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সাবেক মেম্বার সুলতান ও তার ভাইয়ের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় মাসুদ গ্রুপের লোকজন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।পুলিশ দুই গ্রুপের ১০ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে সাবেক মেম্বার সুলতান জানায়, জোকারচর এলাকার মাসুদ সরকার ও নুরুল ইসলাম মেম্বারের লোকজন আমার এবং আমার ভাইয়ের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করে। আমার ঘরের ভিতরে থাকা আলমারি ভেঙে নগদ ১৫ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। আমি সরকারের কাছে এর বিচার চাই।
অপরদিকে মাসুদ সরকার অভিযোগ করে বলেন, বালুর ঘাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সুলতান মেম্বারের লোকজন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আর নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনা একটি সাজানো নাটক।
কালিহাতীর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান,জোকারচর এলাকায় বালুরঘাট দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় দুই গ্রুপের ১০ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নুরভানু (৫৮) নামে এক বৃদ্ধা নারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার(১২ফেব্রয়ারি) সকালে উপজেলার দুয়াজানী গ্রামে ওই হত্যার ঘটনা ঘটে। নাগরপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ(ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত নুরভানু নাগরপুর সদর উপজেলার দুয়াজানী গ্রামের বাবুল মিয়ার স্ত্রী।
এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুয়াজানী গ্রামের আব্দুল মিয়া তিন ছেলে সন্তান রেখে প্রায় ১২ বছর আগে মারা যান। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী নুরভানু পুনরায় পাশের ভঙ্গবকুটিয়া গ্রামের তিন সন্তানের জনক বাবুল মিয়াকে বিয়ে করে দুয়াজানীর নিজ বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। শনিবার বাবুল মিয়া সকালে কৃষি জমিতে কাজ করতে যান। এসময় তার স্ত্রী নুরভানু বাড়িতে সকালের রান্নার কাজ কাজ করছিলেন। কে বা কারা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে রান্নার চুলার পাশেই ফেলে রেখে চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে।
নিহত নুরভানুর স্বামী বাবুল মিয়া বলেন, সকালে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য সার নিয়ে চলে যাই। স্ত্রীর হত্যার খবর পেয়ে বাড়িতে এসে রান্না ঘরের সামনে আমার স্ত্রীর রক্তাক্ত মৃতদেহ পরে থাকতে দেখি।
নাগরপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ(ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাশ উদ্ধার করে। এছাড়াও লাশের ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ওই পরিবারের ছেলে ও ছেলের বৌ এবং নিহতের স্বামীসহ কয়েক জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের জামুর্কী পালপাড়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার( ৯ ফেব্রয়ারি) সন্ধ্যায় ওই হামলার ঘটনাটি ঘটে। হামলায় শিশুসহ চারজন আহত হয়।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জামুর্কী ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের শংকর পালের সাথে প্রতিবেশী মৃত সুনীল পালের ছেলে তন্ময় পালের(২২) বাড়ীর সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে।
ওই বিরোধের জের ধরে বুধবার সন্ধ্যায় শংকর পাল বাড়িতে না থাকায় তন্ময় তার মা অনিতা পাল (৪৭) ও একই এলাকার গনেশ পালের ছেলে সুভাষ পালসহ আরো ৪ থেকে ৫জন অজ্ঞাত লোক এসে বাড়িতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে লক্ষাধিক টাকা ও স্বর্নালংকার লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ সময় শিশুসহ ৪ জন আহত হয়।
আহতরা হলেন, শংকর পালের স্ত্রী জোসনা পাল (৪৫), ছেলে দুর্জয় পাল (১৮), মেয়ে স্বপ্না পাল (২৩) ও নাতনী অধরা পাল (৫)।
গুরুত্বর আহত জোসনা পালকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মির্জাপুর কুমুদিনি হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বাকী আহতরা স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
হামলার শিকার আহত দুর্জয় পাল জানান, বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকায় প্রতিবেশীর আত্নীয় প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের উপর হামলা করে মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে। হামলার পর আমাদের পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গেছে। বর্তমানে পরিবার পরিজন নিয়ে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. লুৎফর রহমান বলেন , ঘটনাটি পারিবারিক, বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ভাবে বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আলম চাঁদ জানান, ঘটনার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় শর্ত সাপেক্ষে টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান মুক্তির অন্তবর্তী কালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রথম অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ মাসুদ পারভেজ তার জামিন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম।
অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণের দিন ছিল। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিউলী রাণী দাসের সাক্ষ্য গ্রহণ ছিল। তবে স্বাক্ষী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় আসামী পক্ষের আইনজীবীরা সুচিকিৎসার দাবিতে আসামীর জামিন আবেদন করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম ও বাদি পক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করেন। পরে বিচারক শর্ত সাপেক্ষে মুক্তিকে অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন মঞ্জুরের সময় মুক্তি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এই মামলার পরবর্তী তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি।
সহিদুর রহমান খান মুক্তি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ভাই ও বাবা আতাউর রহমান খান একই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্টে আনিসুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। আদালতে দেওয়া ওই দুজনের স্বীকারোক্তিতে হত্যার সঙ্গে তৎকালীন ঘাটাইল আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তাঁর তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি অভিযুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর তিনি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁর অন্য দুই ভাই ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা এখনো পলাতক রয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সন্ত্রাসী হামলায় মোমিনুল রহমান(৪২) নামে এক ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী গুরুত্বর আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে। বুধবার(৯ ফেব্রয়ারি) রাত সাড়ে নয়টার দিকে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বেড়াডোমা ডাইভারশন সেতুর উপর ওই হামলার শিকার হন তিনি।
মোমিনুল টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের পার-দিঘুলিয়ার মৃত আজিজুর রহমান চৌধুরীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বেড়াডোমা সাবান ফ্যাক্টরির কাছে অবস্থিত ইউজার চয়েজ ক্যাবল ও ইন্টারনেট অফিস থেকে প্রতিদিনের মতো ব্যবসায়ী মোমিনুল তার পার-দিঘুলিয়ার বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বেড়াডোমা ডাইভারশন ব্রিজের মাঝামাঝি পৌঁছাতেই কয়েকজন মুখোশধারি সন্ত্রাসী তার উপর বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
হামলায় তার ডান হাত, মাথা, ডান পা ও নাক গুরুত্বর জখম হয়। তার ডান হাতের তিনটি আগুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া কোপের আঘাতে তার নাক কেটে ঝুলে যায়।তার ডান পায়ের রানের উপর আঘাতও গুরুত্বর । গুরুত্বর আহত অবস্থা তিনি হেঁটে কোন রকমে বেড়াডোমা বেবিস্ট্যান্ডে অবস্থিত বিসমিল্লাহ মেডিসিন সপের সামনে গিয়ে পরে যায়। পরে আহতের ভাই মামুন ও মামুনের বন্ধু আলাউদ্দিন মোটরসাইকেল যোগে দ্রুত তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে অপরেশন থিয়েটারে নিয়ে জরুরী অপারেশন করা হয়। কিন্তু তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
মনিমুলের বড়বোন কামরুন্নাহার বলেন, হামলার খবর পেয়ে তার ভাই মামুন ও তার বন্ধু আলাদিন মোমিনুলকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে হামলাকারিরা মুখোশ পরে থাকায় কাউকে চিনতে পারা যায়নি। ঘটনার পর হামলাকারিরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
মমিনুলের বড় ভাই মাহবুব চৌধুরী মনি বলেন, ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে বুধবার রাতেই মোমিনুলের জরুরি অপারেশন করা হয়েছে।তিনি বর্তমানে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি রয়েছে।মমিনুলের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাই তারা আইনগত কোন ব্যবস্থার দিকে যায়নি। অবস্থার উন্নতি হলে তারা আইনগত প্রক্রিয়া যাবেন।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার-ইন-চার্জ( ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, বুধবার রাতেই ঘটনাটি জেনে ঘটনাস্থল ও টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছেন। তবে আহতের পরিবার থেকে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রেমিকার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাওয়ায় প্রিতম কুমার সিংহ আকাশ (২১) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। রোববার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি বিষপান করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু।
প্রিতম কুমার সিংহ আকাশ মধুপুর পৌরসভায় সাথী সিনেমা হল রোডের পার্শ্বের উত্তম কুমার সিংহের ছেলে। তিনি ঢাবির চারুকলা বিভাগের স্নাতক (সম্মান) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি মহিলা কলেজের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল প্রিতমের। সম্প্রতি মেয়েটির অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। প্রেমিকাকে হারানোর বেদনা ও ক্ষোভে রোববার(৬ ফেব্রয়ারি) রাতে নিজ বাড়িতে ইঁদুর মারার বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন প্রিতম। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে সোমবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইলের রানিদিনমনি মহাশ্মশান ঘাটে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
মধুপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাবলু আকন্দ বলেন, প্রেমঘটিত কারণে প্রিতম আত্মহত্যা করেছেন বলে জানতে পেরেছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ১ হাজার ৩ পিস ইয়াবাসহ মোঃ জলিল(৩৫) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।রবিবার( ৬ ফেব্রয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর রাজাবাড়ী গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার বিকেলে র্যাব-১২ সিপিসি-৩ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত মোঃ জলিল রাজাবাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন (জি), (পিপিএম), (বিএন) এর নেতৃত্বে কালিহাতী উপজেলার রাজাবাড়ী গ্রামে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রেলক্রসিং এর উত্তর পাশে অভিয়ান চালিয়ে মোঃ জলিল নামের এক মাদকব্যবসায়ীকে ১ হাজার ৩ পিস ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার করা হয়। সে রাজাবাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব আরো জানায়, জব্দকৃত ইয়াবার বাজার মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৯ শত টাকা। গ্রেপ্তারকৃত জলিলের বিরুদ্ধের কালিহাতি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।