একতার কণ্ঠঃদুপুরে বাড়ি থেকে মাদরাসার উদ্দেশে বের হয় সাবির মাহমুদ। পথে ভ্যানগাড়ির সঙ্গে বেঁধে তার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। ওই ছেঁড়া পাঞ্জাবি পরেই সাবির ৩টার দিকে মাদ্রাসায় পোঁছায়। এই দেখে হাসাহাসি করে সহপাঠিরা। সেখানে আসেন মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ আব্দুল মাজেদ। তিনি এসে ছেঁড়া পাঞ্জাবি পরে আসার অপরাধে সাবিরকে অমানবিক বেত্রাঘাত করেন। এ সময় সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে অন্য শিক্ষার্থীদের কোনো শাস্তি দেননি শিক্ষক আব্দুল মাজেদ।
সোমবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের গন্ধব্যপাড়া তাহফীজুল উম্মাহ ক্যাডেট মাদ্রাসায় ওই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ আব্দুল মাজেদ পলাতক আছেন ঘটনার পর থেকেই। তিনি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা সদরের জমশেদ আলীর ছেলে।
আহত শিক্ষার্থী সাবির মাহমুদকে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সে উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের সলিমনগর ভড়পাড়া গ্রামের শামীম আল মামুন পীর সাহেবের ছেলে।

সাবির মাহমুদের পরিবার জানায়, সাবিরের শরীরে ৩০টি বেত্রাগাতের চিহ্ন ফুটে উঠেছে। সন্ধ্যায় সাবির বাড়িতে গেলে পাঞ্জাবি খোলার পর পরিবারের লোকজন বিষয়টি জানতে পারে। পরে সাবিরের অভিভাকরা মাদ্রাসার পরিচালক মাহবুবুর রহমান সোহেল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমানকে বিষয়টি অবহিত করেন। একই সঙ্গে ইউএনও’র নির্দেশে সাবিরের বাবা মির্জাপুর থানায় মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন।
এদিকে, মঙ্গলবার(১২ অক্টোবর) সকালে মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওই মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষকদের ডেকে আনেন। সেখানে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আব্দুল মাজেদকে মাদ্রাসার থেকে অব্যহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তাহফীজুল উম্মাহ ক্যাডেট মাদ্রাসার পরিচালক মাহবুবুর রহমান সোহেল জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গিয়াস উদ্দিনের অফিসে বসা হয়েছিল। তাকে চাকরি থেকে অব্যহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের কান্দিলা বাজারের তিন তারা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেণ্টের সামনে মঙ্গলবার(১২ অক্টোবর) সকালে অভিযান চালিয়ে ২৩০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- টাঙ্গাইল শহরের দেওলা এলাকার মো. মনির হোসেনের ছেলে মো. মঞ্জু মিয়া(৩১) ও সাবালিয়া এলাকার মো. ফজল মিয়ার ছেলে ছদরুলর আলম সবুজ ওরফে নাদিম(২৩)।
র্যাব-১২ জানায়, গোপনে খবর পেয়ে সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. গোলাম ফারুকের নেতৃত্বে একদল র্যাব কান্দিলা বাজারে অভিযান চালায়।
অভিযানে ২৩০ পিস ইয়াবা, দুইটি মোবাইল সেট ও সিমকার্ড এবং নগদ ৮ হাজার ১০০ টাকা সহ উল্লেখিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের নামে টাঙ্গাইল সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় সেফাতন নেছা খান (৯০) নামে এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ওই বৃদ্ধার নাতি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করেছেন স্থানীয়রা। রবিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের মহিষমারা গ্রামের বাগানবাড়ি চৌরাস্তা এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।
মৃত সেফাতন নেছা খান ওই গ্রামের মৃত সিরাজ খানের স্ত্রী। ঘাতক নাতির নাম মঞ্জুর হোসেন (২৫)। তিনি সেফাতন নেছার ছেলে মনসুর আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, মঞ্জুর মাদকাসক্ত। তিনি নেশার টাকার জন্য দাদির কাছে টাকা চেয়েছিলেন। না পেয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা ধারণা করছেন।
নিহতের স্বজনের বরাতে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক কামাল জানান, সেফাতন নেছা বাড়িতে একা ছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে তার নাতি মঞ্জুর হোসেন তার কাছে টাকা দাবি করেন। সেফাতন নেছা টাকা দিতে অস্বীকার করলে মঞ্জুর একপর্যায়ে কুপিয়ে প্রথমে সেফতন নেছাকে আহত ও পরে তাকে গলাকেটে হত্যা করেন। সেফাতন নেছার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসার পর মঞ্জুর পালিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে। তারা হত্যাকারীকে আটক করার অভিযানে আছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কাগমারা এলাকায় ৬ষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া এক মেয়ের বাল্যবিয়ের আয়োজন করা হয়। এ বিয়ে আটকাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রানুয়ারা খাতুন। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছে কনে সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়ের বাবা প্রতারণার আশ্রয় নেন। তিনি মেয়েকে মেজিস্ট্রেটের সামনে হাজির না করে তারই এক তালাকপ্রাপ্ত আত্মীয়কে কনে সাজিয়ে হাজির করেন।
পরে বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়ের বাবা ও তালাকপ্রাপ্ত ওই নারীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (৯ অক্টোবর) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট রানুয়ারা খাতুন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল পৌরসভার ৩নং ওর্য়াডের কাগমারা এলাকার গাড়ি চালক আব্দুস ছাত্তারের মেয়ে ও স্থানীয়ে একটি বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়ার বিয়ে ঠিক হয়। এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ওই মেয়ের বাড়িতে যাওয়া হয়। এ সময় মেয়ের বাবা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তারই এক তালাকপ্রাপ্ত আত্মীয় এনি আক্তারকে মেয়ে সাজিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করেন। এনি আক্তারের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তার বয়স দেখা যায় ২১ বছর। এনি দাবী করেন শুক্রবার তারই বিয়ে হচ্ছে।
পরবর্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট ওই বাড়ি থেকে চলে যান। কিন্তু পরে খোঁজ খবর নিয়ে রানুয়ারা খাতুন জানতে পারেন সাত্তার তাঁর ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে সাদিয়ার বিয়ে দিচ্ছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুনরায় সাত্তারের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। এ সময় সরকারি নির্দেশ অমান্য করায় মেয়ের বাবাকে ৭দিন এবং প্রতারণা করে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা এনি আক্তারকে ৫দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রানুয়ারা খাতুন বলেন, ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ে হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে কনের বাড়িতে হাজির হয়েছিলাম। প্রথমে তারা একজন তালাকপ্রাপ্ত মেয়েকে হাজির করে বলেন তার বিয়ে হচ্ছে। পরে তার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে চলে আসি। কিন্তু পরবর্তিতে খবর পাই তারা প্রতারণা করেছে। পরে আবারও বিয়ে বাড়িতে হাজির হই। তবে খবর পেয়ে বর পক্ষ বিয়ে বাড়িতে হাজির হয়নি। মেয়ের বাবা মেয়েকে বাল্য বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা দেন। পরে মেয়ের বাবা ও তালাকপ্রাপ্ত ওই নারীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
একতার কন্ঠঃ মোবাইল ফোনে পরিচয়। মাঝে মধ্যে চলতো খুনসুটি। এভাবেই একে অন্যের সাথে তৈরি হয় প্রেমের সম্পর্ক। তরুণীর বয়স কেবল ১৫ হলেও প্রেমিকের আছে বউ-বাচ্চা। সব জেনেও চলছিল অদম্য প্রেমালাপন। প্রথম সাক্ষাতেই প্রেমিকের বাহুডোরে ধর্ষিতা হয় এই তরুণী। শুধু প্রেমিক নয় প্রেমিকের মামাও অংশগ্রহণ করেন এই ধর্ষণযজ্ঞে । পরে আরো একজন অংশ নিতে চাইলে ধর্ষিতার কান্না আর ক্ষমা প্রার্থনায় প্রাণে রক্ষা পায় ওই তরুণী।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের দোলালিয়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (০৭ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনায় ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় মামলা করেন। এ মামলায় লক্ষিন্দর ইউনিয়নের মুরাইদ গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে মোস্তফা(২৫) এবং একই এলাকার মফেজ উদ্দিনের ছেলে মোফাজ্জল (৩৫) কে আটক করে পুলিশ।
সাগরদিঘি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মনিরুজ্জামান (ইন্সপেক্টর) এবং ধর্ষিতার সাথে কথা বলে জানা যায়, ওই তরুণীর সাথে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় মোস্তফার। মাঝে মাঝে কথা হত তার সাথে। গত দুই দিন আগে ওই তরুনী পরিবারের সাথে রাগ করে চাকরির খোঁজে চলে যায় গাজীপুর। কোথাও চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে পরে ওই মেয়ে। পরে মোস্তফাকে বিষয়টি জানালে সে ওই তরুনীকে চাকরির আশ্বাস দিয়ে তার কাছে ডেকে নেন। মোস্তফা ওই মেয়েকে পরের দিন একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিবে বলে এক রাত অপেক্ষা করতে বলেন তরুনীকে।
পরে মোস্তফা তার প্রতিবেশি এক মামা মোফাজ্জল হোসেনের ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে যায় ওই মেয়েকে। পরে মামা-ভাগিনা দুইজনে মিলে পালাক্রমে চালায় অত্যাচার। এসময় ধর্ষিতা চিৎকার করলে মোস্তফা তার মামাকে টেলিভিশনের ভলিয়ম বাড়িয়ে দিতে বলে। ধর্ষিতাকে নানা ভয় দেখিয়ে চলতে থাকে পাশবিকতা।
এসময় আরো একজন উপস্থিত হয় এতে অংশগ্রহন করতে। কিন্তু মেয়েটি কান্না করে ক্ষমা চাওয়ায় বেঁচে যায় তার হাত থেকে। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে তাদেরকে আটক করে।পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
এ প্রসঙ্গে ঘাটাইল থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার পিপিএম বলেন, এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে এবং ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাসহ তিন মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার বিচার আইনী জটিলতায় সাত বছরেও শুরু হয়নি। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্ত্রী ও সন্তান হারানো মজিবর রহমান, তাঁর মা জবা বেগম ও শ্যালক মোফাজ্জল হোসেন।
আদালত সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে একজন আসামি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করেন। উচ্চ আদালত এই পিটিশনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারকাজ স্থগিত করেছেন। ফলে থেমে আছে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বিচার।
মামলার এজাহার জানাযায়, মির্জাপুর উপজেলার দক্ষিণ সোহাগপাড়া গ্রামের প্রবাসী মজিবর রহমানের স্ত্রী হাসনা বেগম তাঁর তিন মেয়ে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন। বড় মেয়ে মনিরা আক্তার মির্জাপুরের গোড়াই উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম মনিরা আক্তারকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু এতে তার পরিবারের সদস্যরা রাজি ছিলেন না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীর তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে ২০১৪ সালের ৬ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে হাসনা বেগমের বসতঘরের দরজার নিচ এবং জানালা দিয়ে পেট্রল ঢেলে দেন। পরে অগ্নিসংযোগ করেন। এতে দগ্ধ হয়ে ঘরেই মারা যান হাসনা বেগম (৩৮), তাঁর তিন মেয়ে মনিরা আক্তার (১৪), বাক্প্রতিবন্ধী মীম আক্তার (১১) ও নার্সারির শিক্ষার্থী মলি আক্তার (৭)।
পরদিন হাসনা বেগমের ভাই মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে জাহাঙ্গীর আলমসহ ১০ জনকে আসামি করে মির্জাপুর থানায় মামলা করেন। ঘটনার কিছুদিন পর জাহাঙ্গীর আলম ও নুর মোহাম্মদ নামের দুই আসামি গ্রেপ্তার হন। দুজনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। মামলাটি প্রথমে মির্জাপুর থানা এবং পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করে। তদন্ত শেষে সিআইডির উপপরিদর্শক মো. সোহরাব উদ্দিন নয় আসামির বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আসামিরা হলেন জাহাঙ্গীর আলম, নুর মোহাম্মদ, ইসমাইল হোসেন, মোহাম্মদ আবদুস সামাদ, আবুল বাশার, আবদুল মান্নান, মীর আসাদুল, ওয়াসিম মিয়া ও হারুন অর রশিদ।
২০১৬ সালের ২ মে মামলাটি বিচারের জন্য টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসে। পরে ওই বছর ১৬ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। আসামিদের বিরুদ্ধে ঘরে ঢুকে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা এবং সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।
এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান জানান, অভিযোগ গঠনের পর মামলার আসামি হারুন অর রশিদ অভিযোগ থেকে অব্যাহতির জন্য হাইকোর্টে একটি রিভিশন মামলা করেন। উচ্চ আদালত মামলার রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত করার আদেশ দেন। এ জন্য মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ হচ্ছে না। তিনি জানান, অভিযোগ গঠনের পর ২০১৬ সালের ১৯ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য ছিল। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ মামলার বাদীসহ তিন সাক্ষী হাজির করেছিল। কিন্তু উচ্চ আদালতের আদেশ থাকায় সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি। মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম এখনো টাঙ্গাইলের কারাগারে। অন্য আসামিরা জামিনে।
মামলার সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন হাসনা বেগমের পরিবারসহ মানবাধিকারকর্মীরা।
হাসনা বেগমের স্বামী মজিবর রহমান আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘কত মাইনসের বিচার অইলো। ছয় মাসেও বিচার শ্যাষ অইলো শুনলাম। কিন্তু আমার বউ-পোলাহান মরার সাত বছর পর বিচারই শুরু অইলো না। এইডা কোন দ্যাশ।’
মজিবরের মা জবা বেগম জানান, ছেলের বউ আর নাতনিদের হত্যাকারীর বিচারের আশায় চেয়ে থেকে তাঁর স্বামী চাঁন মিয়া দেড় বছর আগে মারা গেছেন। ক্ষুব্ধ জবা প্রশ্ন করেন, ‘বিচার কি সব পানি হয়ে গেল?’
মামলার বাদী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘বোন-ভাগনি যে কত আপন তা কেউ বুঝব না। আর আমি হেই আপন জিনিস হারাইছি। ওরা তো আর ফিরা আইবো না। ওগো মারার বিচারের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতাছি। কিন্তু কেউ মুখ ফিরা তাকায় না।’
টাঙ্গাইলের মানবাধিকারকর্মী মাহমুদা শেলী জানান, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সব জটিলতা নিরসন করে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এভাবে দিনের পর দিন বিচার প্রক্রিয়া ঝুলে থাকলে বিচার পাওয়ার পথ সংকুচিত হবে। এতে অপরাধীরা উৎসাহিত হবে।
একতার কণ্ঠঃ টিআর ও কাবিটা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়ন এম শিবলী সাদিকের নাম দুর্নীতি মামলার অনুসন্ধান থেকে বাদ দেওয়া কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, শিবলী সাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ৬ জনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার (৪ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি জাহিদ সারওয়ার কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারির আদেশ দেন। আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম আশরাফ। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন।
ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম আশরাফ সাংবাদিকদের জানান, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শিবলী সাদিকের বিরুদ্ধে টেস্ট রিলিফ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বিগত ২০১৭ সালে টাঙ্গাইলের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল টিনিউজবিডি ডটকমসহ অন্যান্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। দুদকের অনুসন্ধান শেষে বিগত ২০১৮ সালের (২৫ জানুয়ারি) শিবলী সাদিকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান প্রমাণিত না হওয়ায় তার নাম বাদ দিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
টিআর ও কাবিটা প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে বিগত ২০১৮ সালের (২৫ জানুয়ারি) দুদকের উপপরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত) শেখ ফাইয়াজ আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, এম শিবলী সাদিকের বিরুদ্ধে উল্লেখিত বিষয়ে অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমাণিত না হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক অনুসন্ধান পরিসমাপ্ত করা হয়েছে। এরপর এ বিষয়টি জানতে পেরে রোববার (৩ অক্টোবর) দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম থেকে শিবলী সাদিকের নাম বাদ দেওয়াকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন দেলদুয়ারের স্থানীয় বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম।
আদালতের শুনানিতে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দুদকের মামলায় পাঁচ বছর সাজা হয়। এরপর হাইকোর্টে সেই সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগের এ নেতার নাম দুদকের অনুসন্ধান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যেখানে পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি এই টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়েছেন তিনি।
রিটকারী আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম আরও বলেন, সাবেক টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের বরাদ্দকৃত টিআর-এর ২৭ লাখ টাকা দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শিবলী সাদিক ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। দুস্থ, অসহায় পরিবার ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে টিআর বরাদ্দ দেওয়ার বিধান থাকলেও দেলদুয়ারে চলছে হরিলুট। বিষয়টি নিয়ে দুদক অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধান করে দুদক তার নামসহ অভিযোগটিও বাতিল করে দেয়। এ কারণে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে আমি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হই। সোমবার আদালত আমার আবেদনের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে প্রতারণার অভিযোগ এনে টাকা ফেরত ও প্রতারকের শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের অডিটরিয়ামে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগি বাবুল আহমেদ ও সিরাজুল ইসলাম।
ভুক্তভোগি বাবুল আহমেদ জেলার বাসাইল উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের আলাউদ্দিন তালুকদারের ছেলে ও সিরাজুল ইসলাম একই গ্রামের শাহজাহানে ছেলে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা একই গ্রামের বছির মিয়ার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ও তার ভাগ্নে মির্জাপুর উপজেলার ছাওয়ালী মহেড়া এলাকার কাইয়ুম মিয়ার ছেলে মাসুদ মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগি বাবুল আহমেদ বলেন, ‘আমি ও আমার প্রতিবেশি সিরাজুল ইসলাম বাড়িতে বেকারত্বে দিন কাটাচ্ছিলাম। এমতাবস্থায় গ্রামের বছির মিয়ার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক তার ভাগ্নে মির্জাপুর উপজেলার ছাওয়ালী মহেড়া এলাকার মাসুদ মিয়ার মাধ্যমে আমাকে এবং সিরাজুলকে ব্রুনাই পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দেন। তার কথায় রাজি হয়ে ঋণ করে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে আব্দুর রাজ্জাককে আমি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিই। এছাড়াও সিরাজুল আব্দুর রাজ্জাককে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেয়। প্রায় ৩ বছর পার হলেও তিনি আমাদের বিদেশে পাঠাতে পারেননি। এমতাবস্থায় আমাদের ঋণের বোঝা আরও ভারি হতে থাকে। তিনি বিদেশ পাঠাতে ব্যর্থ হলে আমরা টাকাগুলো ফেরত চাই। কিন্তু তিনি টাকা ফেরত দিতে বারবার সময়ক্ষেপণ করেন।
পরে আমরা ফুলকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিই। ইউপি চেয়ারম্যান দুই পক্ষকে নিয়েই সালিশি বৈঠক করেন। ওই সালিশে আব্দুর রাজ্জাক টাকা ফেরত দিতে সময় চান। সালিশ থেকে তাকে টাকা ফেরত দিতে এক মাসের সময় দেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে একাধিকবার সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে আব্দুর রাজ্জাক হাজির হলেও তার ভাগ্নে মাসুদ কোনও সালিশেই হাজির হয়নি।
এই দীর্ঘদিনেও টাকা ফেরত না দেওয়ায় আমরা নিরুপায় হয়ে চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাসাইল আমলী আদালতে আব্দুর রাজ্জাক ও তার ভাগ্নে মাসুদ মিয়ার বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করি। সেই মামলা আদালতের বিচারক টাঙ্গাইলের কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের কর্মকর্তাকে তদন্ত করার দায়িত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ও প্রতিবেশি সিরাজুল নিরীহ মানুষ। কোন রকমভাবে আমাদের সংসার চলে। আমাদের ঋণ করা টাকার সুদ দিন দিন বেড়েই চলছে। এই অসহায়ত্বের সময়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আর আমাদের টাকাগুলো ফেরত ও দালাল আব্দুর রাজ্জাক ও মাসুদের শাস্তি দাবি করছি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগি বাবুল আহমেদ ও সিরাজুল ইসলাম ছাড়াও তাদের কয়েকজন স্বজন উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় মহিলা চোর চক্রের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) বিকালে তাদের বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, আনজু বেগম (২৯), অনিতা (২০), আকলিমা (১৮), মনিকা (১৮)।আটককৃত সকলেই জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার হারগীললা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানাযায়, বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকজন মহিলার স্বর্ণালংকার, টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন খোয়া যায়। অপরিচিত চার-পাঁচ জন মহিলার চলাফেরা স্থানীয়দের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে তাদেরকে আটক করে তারা। এ সময় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে চুরির সাথে সম্পৃত্তের কথা স্বীকার করে আটককৃত মহিলারা। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে ।
এ প্রসঙ্গে বাসাইল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেকেই পেশাদার চোর। তারা একটি চোর চক্রের সাথে জড়িত। এই চক্রটি হাসপাতাল, বাজার, বাসস্ট্যান্ড এবং জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে চুরি করে থাকে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্ততি চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় বনের ভেতর গড়ে উঠেছে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির কারখানা। উপজেলার লক্ষ্মণেরবাধা বা ভূঁইয়া বাড়ির মোড় এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে এ কারখানা। কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার পরিবেশ ও বনভূমি।
কারখানার চারপাশে বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের গাছসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক গাছপালায় ঘেরা ঘন জঙ্গল। আশপাশে রয়েছে মানুষের বসতি। স্থানটি নিরাপদ ভেবে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে সিসা।
কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মালিকপক্ষ ব্যাটারি সংগ্রহ করে এখানে নিয়ে আসে। অন্য কোথাও গলানোর জায়গা না পেয়ে বনের ভেতর কাজ শুরু করেন তারা। এ কাজ চলছে বছরখানেক ধরে। প্রতিদিন ব্যাটারি পোড়ানো হয় প্রায় ৬ টন। প্রতিটি পুরোনো ব্যাটারি ক্রয় করা হয় প্রায় পাঁচ হাজার টাকায়। কারখানার মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে মুখ খুলতে পারে না এলাকাবাসী।
ব্যাটারি পোড়ানোর সময় তাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। শ্বাসকষ্টসহ এলাকার মানুষের দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের রোগ। ক্ষতি হচ্ছে বনের। ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ।
আশপাশের তিন ইউপি সদস্য লিয়াকত হোসেন, ওয়াজেদ আলী ও সফিউল ইসলাম স্বীকার করেননি যে কারখানা স্থাপনের ওই এলাকা তাদের নির্বাচনী এলাকার মধ্যে। তবে তিনজনই এ বিষয়ে পাশ কাটিয়ে যান।
বনের ভেতর কারখানা স্থাপনের কথা স্বীকার করে কারখানা মালিক তানভীর বলেন, শুধু যে এই কারখানার কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, তা তো নয়, দেশে তো পরিবেশের এর চেয়েও বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।
বন বিভাগের ঘাটাইল ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বন বিভাগের জায়গায় কোনো অবৈধ কারখানা গড়ে উঠেনি। তবে বনের ক্ষতি হয় এমন কারখানা কোথাও গড়ে উঠলে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকদের সঙ্গে নিয়ে তা উচ্ছেদ করা হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন, এ ধরনের কারখানার কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। কারখানাটি পরিদর্শন করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে অবগত করা হবে। তারা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বেলা এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, উন্মুক্ত স্থানে সিসা তৈরি মানবদেহসহ প্রাণীকুলের জন্য মারাত্মক ক্ষতি করবে। এটি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহাগ হোসেন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ দুইটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গোলযোগ সৃষ্টির অভিযোগ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান গাউসকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।সেই সঙ্গে দলের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মতিয়ার রহমানকে অব্যাহতির কথা জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত এই চিঠি মতিয়ার রহমানের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে মতিয়ার রহমান বুধবার দুপুরে জানিয়েছেন তিনি এখনো চিঠি হাতে পাননি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিঠির কপি দেখেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান এবং সাধারণ সম্পাদক সাংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামছুল আলম জেলা নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে দুইটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গোলযোগ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। এ বিষয়ে গত রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। এ নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনার পর ‘নেতাদের নীতিগত সিদ্ধান্তে’ মতিয়ার রহমান গাউসকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করার সিদ্ধান্ত হয়।
মতিয়ার রহমান জানান, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিক। তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষয়টি লিখিতভাবে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মতিয়ার রহমান গাউস চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজী অলিদ ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কাজী অলিদকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে শামছুল আলকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শককে(এসআই) থাপ্পর দেওয়ার ঘটনায় সাদেকুল ইসলাম নামে এক প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার বহেড়াতৈল গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের গণটিকা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে বহেড়াতৈল গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে গণটিকা কার্যক্রম চলছিল। বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে টিকা দিতে কেন্দ্রে যান। তিনি নিয়ম না মেনে তাদের নিয়ে কেন্দ্রের ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে আগে টিকা নিতে আসা লোকজন এর প্রতিবাদ করে এবং পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে কেন্দ্রের দায়িত্ব পালনকারী সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সানিউল আলম প্রধান শিক্ষক সাদেকুল ইসলামকে কেন্দ্রে ঢুকতে বাঁধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই সানিউল আলমকে থাপ্পর দেন প্রধান শিক্ষক।
সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সানিউল আলম জানান, শৃঙ্খলা না মেনে ওই প্রধান শিক্ষক জোর করে কেন্দ্রে যাওয়ার চেষ্টা করায় টিকা নিতে আসা লাইনে দাঁড়ানো উত্তেজিত লোকজন অভিযোগ করায় তিনি কেন্দ্রে ঢুকতে বাঁধা দেন। এ কারণে প্রধান শিক্ষক তাকে থাপ্পর মারেন।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) একে সাইদুল হক ভূঁইয়া জানান, পুলিশের গায়ে হাত তোলায় ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।