/ হোম / অপরাধ
ইউপি নির্বাচন: টাঙ্গাইলে আ.লীগের ১৮ নেতা-কর্মী বহিষ্কার - Ekotar Kantho

ইউপি নির্বাচন: টাঙ্গাইলে আ.লীগের ১৮ নেতা-কর্মী বহিষ্কার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ছয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পাঁচ বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ১৮ নেতা-কর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে তাদের বহিষ্কার করা হয়। বিষয়টি ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তোতা নিশ্চিত করেছেন।

বহিষ্কৃতরা হলেন, অর্জুনা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী আইয়ুব আলী মোল্লা; সহ-সভাপতি মো. আব্দুর রহমান; উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী আনোয়ার হোসেন তালুকদার জিন্নাহ; গাবসারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম আকন্দ শাপলা; আওয়ামীলীগ নেতা নজরুল ইসলাম; ছানোয়ার হোসেন তালুকদার ফিরোজ; উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী আমিনুল ইসলাম (আমিন); ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম; মো. আমিন মন্ডল; জয়নাল আবেদীন; যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রফিক; নিকরাইল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদুল হক মাসুদ; সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান পাভেল; জুরান আলী মন্ডল; কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মো. মোন্নাফ আলী; ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম তালুকদার; বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. ফজল হক ও কার্যকরী কমিটির সদস্য মো. রফিকুল।

বহিস্কার প্রসঙ্গে তাহেরুল ইসলাম তোতা জানান, দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া ও বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায়  উল্লেখিত ১৮ নেতা-কর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আগামী ২৬ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. ডিসেম্বর ২০২১ ১২:২৫:এএম ৪ বছর আগে
​বাঙালি বুদ্ধিজীবী হত্যায় জড়িত ছিল যে সাংবাদিক - Ekotar Kantho

​বাঙালি বুদ্ধিজীবী হত্যায় জড়িত ছিল যে সাংবাদিক

একতার কণ্ঠঃবাংলা খবরের কাগজে তার সঙ্গে যারা কাজ করতেন, তারা চৌধুরী মঈনুদ্দীনকে শান্ত, ভদ্র, এবং বিচক্ষণ তরুণ হিসেবেই জানতেন। তার চেহারা ছিল অমায়িক, মুখ ভরা ছিল ছোট করে ছাটা পরিপাটি দাড়ি। অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রম বলতে ছিল—মুসলিম ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের এক নেতার সঙ্গে তার প্রায়শ ফোনালাপ।

কিন্তু গত কিছুদিনের অনুসন্ধানে জানা গেল, সেই ফোনালাপ নিছক সাধারণ কিছু ছিল না। এর সূত্র ধরেই জানা গেল এই মঈনুদ্দীন হলেন কমান্ডোর মতো গুপ্ত ঘাতক একটি সংগঠনের প্রধান যারা ঢাকায় একটি ইটভাটায় শত শত বিশিষ্ট বাঙালি অধ্যাপক, ডাক্তার, আইনজীবী ও সাংবাদিককে হত্যা করেছে।

ডিসেম্বর ১৭ তারিখে শেষ হওয়া যুদ্ধের আগের তিন দিন ধরে খাকি প্যান্ট আর কালো সোয়েটারের উর্দি পরা এই আলবদর বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করেছিল। সেই সময় যারা আটক হয়েছিলেন তারা বলেছেন, এদের লক্ষ্য ছিল বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চিহ্ন করা, যারা পাকিস্তান থেকে একটি স্বাধীন ধর্ম-নিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে কাজ করেছেন।
অনেক বাঙালি মনে করেন তখনই যদি যুদ্ধ শেষ না হতো তাহলে আলবদর তাদের পরিকল্পনায় সফল হতো। ওই ইটভাটায় যে ১৫০টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে তাদের অধিকাংশেরই ছিল নখ উপড়ানো এবং আঙুল কাটা। ইট ভাটার কাছের মাঠেই ২০টি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে যেখানে শত শত মানুষকে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একতার কণ্ঠ

নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদন

এটা এখন স্পষ্ট যে আলবদর হলো বাঙালিদের দ্বারা তৈরি বাহিনী, পশ্চিম পাকিস্তানী কিংবা ভারত থেকে আসা বিহারীদের, যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির উপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে, তাদের দ্বারা নয়।

‘পৃথিবীর এমন কিছু নেই যা আমাদের সঙ্গে ঘটেনি,’ বলছিলেন সম্পাদক এহতেশাম চৌধুরী, যার পত্রিকায় কাজ করতেন মঈনুদ্দীন।

আলবদর বাহিনী এহতেশাম চৌধুরীর ছোট ভাইকে অপহরণের পর হত্যা করে। সেদিন গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান এহতেশাম। আলবদর সদস্যরা সেই রাতে রাত বাড়িতে হানা দিয়েছিল।
যা ঘটেছে আমি যখন এটা ভাবি, আমার পা অসাড় হয়ে যায়,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি ভালো হতো, যদি তারা আমাদের নিচে চাপা পড়ে থাকত।’
এই আলবদর বাহিনী যে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ গ্রুপ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও সজ্জিত ছিল এ ব্যাপারে অনেক তথ্য প্রমাণ উঠে আসছে এখন।

পূর্ব পাকিস্তান গভর্নরের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর ডেস্কের উপর পাওয়া কিছু গোপনীয় কাগজে এই আলবদর বাহিনীর কথার উল্লেখ পাওয়া যায়। ‘ক্যাপ্টেন তাহির, আলবদরের জন্য গাড়ি’, ‘আলবদরের ব্যবহার’—তাড়াহুড়ো করে লেখা একটি কাগজের নোটে পাওয়া গেছে।

ক্যাপ্টেন তাহিরকে বলা হয়ে থাকে, রাজাকার ও বিহারী মিলিশিয়ার একজন কিংবদন্তীতুল্য পাকিস্তানী কমান্ডার যাদের মাধ্যমে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাঙালিদের উপর ত্রাস সৃষ্টি করত।

অন্য আরেকটি পাতায় লেখা রয়েছে ‘নিজাম উদ্দিন, মোটিভেটেড নিউজ’। নিজাম উদ্দিন আহমেদ ছিলেন একজন বাঙালি সাংবাদিক যিনি পাকিস্তানবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির জন্যে সুবিদিত। যুদ্ধ শেষ হওয়ার দুই দিন আগে তাকে তার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। এছাড়া তার নামের পাশে পেন্সিল দিয়ে অজ্ঞাত বিশেষ এক ধরনের চিহ্ন আঁকা ছিল।

তবে হত্যাকারীরা কিছু ক্লু রেখে গেছে। রাতে কারফিউ চলাকালীন তারা তাদের টার্গেটকে তুলে নিয়ে যায়। তারা কখনোই নিজেদের পরিচয় দিত না। কড়া পাহারার মধ্যে দূরে নিয়ে গিয়ে তারা হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটায়।

যুদ্ধ শেষ হবার আগের দিন ঢাকা শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে সেই ইটভাটার পাশে যে কৃষকদের বসবাস, তারা কালো সোয়েটার, খাকি প্যান্ট পরা লোকদের দেখেছেন অসংখ্য মানুষকে চোখ বেঁধে সারিবদ্ধভাবে ধরে নিয়ে যেতে। কিন্তু চোখ বাঁধা লোকগুলো কারা ছিলেন তা দেখার জন্য খুব কাছে যেতে পারেননি তারা।

হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন লোক সেখান থেকে বেঁচে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন এই ঘটনার কথা বলার জন্য। পরিসংখ্যানের অধ্যাপক মোহাম্মদ রউফ ১৩ তারিখ ভোরবেলা দরজায় জোরে টোকার শব্দ শুনে জেগে উঠেছিলেন। উত্তর দিয়েছিলেন তার স্ত্রী। দরজায় দাঁড়ানো ১২ জন সশস্ত্র লোককে তিনি বলেছিলেন তার স্বামী বাসায় নেই, কিন্তু এরপরও তারা জোর করে ঘরে ঢুকে পড়ে।

‘তারা আমাকে কিছুই বলেনি। যতক্ষণ না তারা তাকে (স্বামীকে) পেয়েছে ততক্ষণ ঘর তল্লাশি করেছে’ বলেন মিসেস রউফ।

‘এরপর তারা তাকে হাত পিছমোড়া করে বেঁধে নিয়ে যায়।’

ভাগ্যক্রমে, রউফ যে পেস্ট্রিশপে কেনাকাটা করতেন সেই দোকানেরই এক কর্মচারীকে তার সঙ্গে একই ঘরে বন্দী রাখা হয়। শ্রী চন্দপাল নামের পেস্ট্রিশপের সেই কর্মচারী পরে আলবদরের দলে থাকা এক বন্ধুর মধ্যস্থতায় মুক্তি পায়।

‘ওখানে ৪২ জন ছিলাম আমরা সেই রুমে’ চন্দপাল বলেন, ‘আমাদের সবার হাত ছিল পিছমোড়া করে বাঁধা এবং চোখ কাপড়ে ঢাকা। একটা পর্যায়ে আমি চোখের বাঁধন আলগা করতে পারি। সেই রুমের অধিকাংশ লোক ছিলেন পেশায় অধ্যাপক এবং ডাক্তার। সেখানকার প্রহরীরা আমাদের কিছু খেতে দেয়নি। এমনকি আমরা যখন পানি চাইছিলাম তারা হেসে বলেছিল যাও ইন্দিরা গান্ধীকে বলো।’

চন্দপাল বলছিলেন, ওদের সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের আলোচনা শুনে আলবদরের বিষয়টি বুঝতে পারেন। ‘তারা বলছিল কেন বাঙালিদের হত্যা করা দরকার। আমরা অন্য ঘর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনছিলাম।’

‘সেই রাতে প্রহরীরা প্রফেসর রউফসহ ১০ জনকে নিয়ে যায় যারা আর ফিরে আসেননি।’

ডিসেম্বর ১৫ তারিখ যখন চন্দপাল মুক্তি পান, তখন তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেন ঢাকার শারীরিক শিক্ষা কলেজের একটি ডরমিটরিতে যা আমেরিকান সাহায্যে তৈরি করা আধুনিক ভবন ছিল।

কলেজের দারোয়ান মকবুল হোসাইনও সেই রাতগুলোর কথা মনে করেন। ‘সুন্দর কাপড় পরা এবং হাত বাঁধা অবস্থায় শত শত লোককে সেখানে নিয়ে আসা হতো। ওই ঘরগুলো থেকে আমরা সব সময় আর্তনাদ আর চিৎকার শুনতে পেতাম,’ বলেন তিনি।

আলবদর নামটি নেওয়া হয়েছে মদিনার কাছে যে জায়গায় ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যে মহান যুদ্ধ করেছিলেন সেখান থেকে। তার (নবীর) অসংখ্য সাহসী সেনাকে এই নাম দেওয়া হয়েছিল।

ঢাকার জেলে আটক আছেন এরকম একজনের ভাষ্য অনুযায়ী, রিপোর্টার মঈনুদ্দীন ছিলেন এই আলবদরের মূল হোতা। মঈনুদ্দীনের সঙ্গে তার ঘরেই থাকত এরকম একজনের একটি ডায়রি পাওয়া গেছে যেখানে আলবদর বাহিনীর সদস্যদের নামের তালিকা এবং তারা কত টাকা চাঁদা দিয়েছিল তা উল্লেখ ছিল।

এই দুজন যে বাড়িটিতে থাকতেন তার সামনে ছিল ঢাকার জামায়াতে ইসলামীর সদর দপ্তর। মৌলবাদীদের এই দলটি গত বছর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে এক শতাংশের কম ভোট পেয়েছিল। আলবদর বাহিনী হলো জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় এক শাখা সংগঠন যাদেরকে গত মার্চে পাক বাহিনীর দমন-পীড়ন শুরুর পর খুব সতর্কতার সঙ্গে বাছাই করা হয়েছে।

পূর্বদেশ পত্রিকার এক সহকর্মীর সঙ্গে তর্কাতর্কি হবার পর মঈনুদ্দীনকে ১৩ ডিসেম্বর শেষবারের মতো ঢাকায় দেখা গিয়েছিল। তার সেই সহকর্মীকে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আলবদর সদস্যরা তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।

সেই অফিসের আরেক কর্মী আতিকুর রহমান এখন মঈনুদ্দীনকে খুঁজতে শুরু করেছেন। রহমান বলেন, ‘আমরা তাকে খুঁজে বের করব, এর আগ পর্যন্ত আমরা শান্ত হব না।’

[চৌধুরী মঈনুদ্দীন বর্তমানে যুক্তরাজ্যের নাগরিক। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি হামিদুল হক চৌধুরীর মালিকানাধীন পূর্বদেশ পত্রিকায় কাজ করতেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।]

নিউইয়র্ক টাইমসের বিশেষ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছিল ২ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে, সাংবাদিক ফক্স বাটারফিল্ড প্রতিবেদনটি লিখেছিলেন, অনুবাদ করেছেন এফ এম মিজানুর রহমান।

তথ্য সূত্রঃ দি ডেইলি স্টার অন লাইন

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. ডিসেম্বর ২০২১ ০৩:০৫:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ব্যবস্থা, জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেলেন কলেজছাত্রী - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ব্যবস্থা, জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেলেন কলেজছাত্রী

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাই‌লে বাসা ভাড়া প‌রি‌শো‌ধ করার পরও এক ক‌লেজছাত্রী‌কে জি‌ম্মি ক‌রে রে‌খে‌ছিলেন বাসার মা‌লিক কামরুল হাসান। প‌রে ভুক্তভোগী ওই কলেজছাত্রী জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন ক‌র‌লে পু‌লিশ গি‌য়ে তা‌কে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার ক‌রে।

সোমবার (১৩ ডি‌সেম্বর) বি‌কে‌লে পৌরসভার বেতকার মু‌ন্সিপাড়ার কামরুল হাসান ঠান্ডু বাড়তি ১০ মা‌সের ভাড়া দাবি ক‌রে ওই ছাত্রী‌কে বাসায় জি‌ম্মি ক‌রে রা‌খেন

ভুক্তভোগী ওই ক‌লেজ ছাত্রী সরকা‌রি কুমু‌দিনী ক‌লে‌জের অনা‌র্স দ্বিতীয় ব‌র্ষের শিক্ষার্থী।

জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার বেতকা মু‌ন্সিপাড়ার কাউ‌ন্সিলর মো‌র্শেদের বাসা সংলগ্ন এলাকার কামরুল হাসান ঠান্ডুর বাসায় গত চার মাস আ‌গে মেস ভাড়া নেন কুমু‌দিনী ক‌লে‌জের ওই শিক্ষার্থী। চল‌তি মা‌সের ভাড়া প‌রি‌শোধ ক‌রে বাসা ছে‌ড়ে দেওয়ার কথা জানান মা‌লিক‌কে। কিন্তু একমা‌সের ভাড়া অ‌তি‌রিক্ত দি‌লেও বাসার মালিক অগ্রিম আ‌রও দশ মা‌সের ভাড়া অ‌তি‌রিক্ত দাবি ক‌রে ওই ছাত্রী‌কে জি‌ম্মি ক‌রে রা‌খে। বাসা ছে‌ড়ে দি‌তে চাই‌লে তা‌কে হুম‌কি দেওয়াসহ অশ্লীল ভাষায় বকাব‌কি ক‌রে। পরে তাকে বাসায় জিম্মি করে রাখ।

বিপদ বুঝতে পেরে ওই শিক্ষার্থী জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন ক‌রে। প‌রে টাঙ্গাইল সদর থানার এএসআই আয়নুল ইসলা‌মের নেতৃ‌ত্বে পু‌লিশের এক‌টি টিম ঘটনাস্থ‌লে গি‌য়ে ওই ছাত্রী‌কে উদ্ধার ক‌রে। এর আ‌গে বাসার মা‌লি‌কের ক্যাডার বা‌হিনী জাহাঙ্গী‌রের নেতৃ‌ত্বে পুুলি‌শের উপ‌স্থি‌তি‌তে সাংবা‌দিক‌দের ওপর হামলার চেষ্টা ক‌রে।

ওই ক‌লেজছাত্রী জানান, চল‌তি মা‌সের ভাড়া প‌রি‌শোধ করে বাসা ছাড়‌তে চাই‌লে বাসার মা‌লিক অ‌তি‌রিক্ত আ‌রও দশমা‌সের ভাড়া দাবি ক‌রে জি‌ম্মি ক‌রে রা‌খেন আমাকে। এ ছাড়া অশ্লীল ভাষাসহ বি‌ভিন্ন হুম‌কি দি‌তে থা‌কে। প‌রে বিপ‌দের কথা চিন্তা ক‌রে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন কর‌লে পু‌লিশ এ‌সে উদ্ধার ক‌রে।

Ekotar Kantho

বাসার মা‌লিক কামরুল হাসান ঠান্ডু ব‌লেন, বাসা ছে‌ড়ে দি‌লেও দশমাসের ভাড়া বাড়‌তি ভাড়া দি‌তে হ‌বে। না হ‌লে নতুন ভাড়া‌টিয়া খুঁজ‌তে দে‌রি হবে। আইন-টাইন বু‌ঝি না, আমা‌কের বাড়‌তি টাকা দি‌য়ে ওই ছাত্রীকে বাসা ছাড়‌তে হ‌বে। জি‌ম্মি ঘটনার কথা বল‌তেই সাংবা‌দিক‌দের দে‌খে নেওয়ার হুম‌কি দেন তি‌নি।

টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের এএসআই আয়নুল ইসলা‌ম ব‌লেন, জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পে‌য়ে ঘটনাস্থ‌লে গি‌য়ে ওই ছাত্রী‌কে উদ্ধার ক‌রা হয়। ত‌বে বাসার মা‌লিক কামরুল হাসান উগ্র প্রকৃ‌তির মানুষ। ওই ছাত্রী‌কে জি‌ম্মি ক‌রে বাড়‌তি টাকা আদা‌য়ের চেষ্টা ক‌রেন তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. ডিসেম্বর ২০২১ ০১:১৭:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ছোট ভাইয়ের বউকে হত্যার দায়ে ভাসুরের যাবজ্জীবন কারাদন্ড - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ছোট ভাইয়ের বউকে হত্যার দায়ে ভাসুরের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ছোট ভাইয়ের বউকে হত্যার দায়ে ভাসুরকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। সেই সাথে দশ হাজার টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে দুই মাসের সশ্রম কারাদন্ডও দেয়া হয়।

সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় দেন।দন্ডিত ব্যক্তি কালিহাতী উপজেলার উত্তর পৌলী গ্রামের মৃত আজমত আলীর ছেলে ফরমান আলী। সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনকারী অতিরিক্ত পিপি সিরাজুল ইসলাম।

তিনি জানান, উত্তর পৌলী এলাকায় ডিস লাইনের তার চুরির ঘটনায় এলাকায় শালিস বৈঠকে ফরমান আলীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই টাকা সংগ্রহের জন্য তার ছোট ভাই নুর ইসলামের বউ আছিয়া বেগমের কাছে যান এবং বিভিন্ন সময় টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। টাকা না দেওয়ায় ২০০৬ সালের ১ আগস্ট সকালে দন্ডিত আসামী ফরমান আলী তার ছোট ভাইয়ের বউকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে উত্তর পৌলী গ্রামে নিজ বাড়িতে হত্যা করে। পরে নিহতের শ্বশুরবাড়ীর লোকজন পালিয়ে যায়। নিহত আছিয়া বেগমের মামা মো. রজব আলী ঘটনার দিনই কালিহাতী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট মো শামীম চৌধুরী দয়াল।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. ডিসেম্বর ২০২১ ০১:৫১:এএম ৪ বছর আগে
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে অশোভন আচরণের দায়ে এক যুবকের কারাদন্ড - Ekotar Kantho

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে অশোভন আচরণের দায়ে এক যুবকের কারাদন্ড

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী পরিবহন বাসে ছাত্রীকে ইভটিজিং ও অশোভন আচরন করায় টাঙ্গাইল পৌর এলাকার আদালত পাড়ার মোঃ আব্দুল কাদের খানের ছেলে মোঃ ইব্রাহিম (২৫) কে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড  দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদলত।

টাঙ্গাইল সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সেকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. খাইরুল ইসলাম ১৮৬০ সনের ৫০৯ ধারায় ওই আদেশ দেন। এ ছাড়া  জামিল হোসেন (১৯) নামে আর এক ১০ শ্রেনীর ছাত্রের কাছ থেকে একই ঘটনায় মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে টাঙ্গাইল শহরের বটতলায়  এলাকায় ওই ইভটিজিং এর  ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২টি বাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বটতলা স্থানে পৌঁছালে ২ জন বখাটে প্রথম বাসে উঠে। একপর্যায়ে তাদের অসৌজন্যমূলক আচরণে সন্দেহ হলে শিক্ষার্থীরা তাদের নামিয়ে দিলে তারা দ্বিতীয় বাসে উঠে এবং কিছু দূর গিয়ে বাস থেকে নামার সময় গালাগালি করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদে জামিল হোসেন (১৯) জানায়, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়। সে ১০ম শ্রেনীতে পড়ে। এ সময় আরেকজন বখাটে পালিয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা জামিলকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে।পরে পলাতক রাশেদুল ইসলাম (২১) কে হাজির করা হয়।

টাঙ্গাইল সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট মো. খাইরুল ইসলাম উপস্থিত থেকে রাশেদুল ইসলাম (২১) কে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও জামিল হোসেন (১৯) কাছে থেকে মুলচেকা নিয়ে রাত ৮টায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ বিষয়ে মাভাবিপ্রবি প্রক্টর প্রফেসর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হক বলেন, বিষয়টি জানার সাথে সাথেই শিক্ষার্থীদের দ্বারা আটককৃত বখাটেকে আমার অফিসে নিয়ে আসতে বলি। এ বিষয়ে পুলিশকে জানালে তারা এসে জিজ্জাসাবাদে সে পলাতক বখাটের পরিচয় জানায় এবং বলে পলাতক রাশেদুল ইসলামের (২১) পৃষ্ঠপোষকতায় সে ওই কাজ করেছে। এরপর রাশেদুল এবং উভয়ের অভিভাবককে অভিযুক্তের পরিচয়পত্রসহ হাজির করা হয়। পরবর্তীতে ইউএনও কে জানালে, ম্যাজিস্ট্রেট এসে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. ডিসেম্বর ২০২১ ০৩:২৫:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে নারী গ্রাম পুলিশকে শ্লীলতাহানি, ইউপি সচিবকে কারাদণ্ড - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে নারী গ্রাম পুলিশকে শ্লীলতাহানি, ইউপি সচিবকে কারাদণ্ড

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক নারী গ্রাম পুলিশকে (মহল্লাদার) শ্লীলতাহানির অভিযোগে ইউপি সচিবকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার(৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) চিত্রা শিকারী এ আদালত পরিচালনা করেন। এসময় উপজেলার কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোশারফ হোসেনকে (৪২) এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ওই নারী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে পরিষদটি একদমই ফাঁকা ছিলো। আশপাশে কেউ ছিল না। পাশের রুমে ওই নারী গ্রাম পুলিশ (১৮) একা বসা ছিলো। পরে সচিব মোশারফ হোসেন তাকে ডেকে ভবনের ২য় তলায় একটি কক্ষ ঝাড়ু দিতে পাঠায়। মোশারফ ওই কক্ষে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ওই নারী চিৎকার করলে এক মহিলা ইউপি সদস্য তাকে উদ্ধার করে। পরে লোকজন ঘটনাস্থলে এসে সচিব মোশারফকে আটক করে। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে আদালত এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানায়, সচিব মোশারফ হোসেন এর আগে উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নে থাকা অবস্থায় অসচ্ছল ও গরিব নারীদের সরকারি বিভিন্ন সুবিধি দেওয়ার কথা বলে একাধিক নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। পরিষদে ভবনে বিভিন্ন সময় তিনি আপত্তিকর অবস্থায় ধরাও পড়েছেন। অন্যদিকে ওই সচিবের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে জাল জন্মনিবন্ধন করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিত্রা শিকারী বলেন, নারী মহল্লাদারকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোশারফ হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. ডিসেম্বর ২০২১ ০১:৩৬:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে শ্রমিক লীগ নেতা রেজা হত্যা মামলায় আরও পাঁচ আসামি রিমান্ডে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শ্রমিক লীগ নেতা রেজা হত্যা মামলায় আরও পাঁচ আসামি রিমান্ডে

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম ওরফে রেজা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার( ৬ ডিসেম্বর) দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামসুল আলম ওই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে রোববার(৫ ডিসেম্বর) ভোরে ঢাকার মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মামলার এজাহারভুক্ত আসামি টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুরপাড়ার আনোয়ার হোসেনের ছেলে রবিন মিয়া ও কোদালিয়া এলাকার আবদুল হামিদের ছেলে পাভেল।

এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাবালিয়া এলাকার মঞ্জুর হোসেনের ছেলে মাজাহার হোসেন, আকুরটাকুরপাড়ার রকিবের ছেলে রোবায়েদ আল শিবলী ও নাগরপুরের ধলাই গ্রামের মুকুল মিয়ার ছেলে আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আহসানুজ্জামান জানান, রবিবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনকে  আদালতে হাজির করে সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। তবে আদালত প্রত্যেকের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে রেজাউল করিম হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ফিরোজ হোসেন ও শাকিল খানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আহসানুজ্জামান আরো জানান, ফিরোজ ও শাকিলকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। ৮ ডিসেম্বর রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

প্রসঙ্গত ,গত ২১ নভেম্বর রাতে টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন রেজাউল করিম। এ সময় তাঁর হাত–পা, মেরুদণ্ডসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরদিন বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ২৬ নভেম্বর রাতে নিহতের ভাই রাশেদুল ইসলাম বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. ডিসেম্বর ২০২১ ০১:৫৬:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে স্ত্রীর লাশ ঘরে রেখে বোরকা পরেও পালাতে পারলেন না স্বামী - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে স্ত্রীর লাশ ঘরে রেখে বোরকা পরেও পালাতে পারলেন না স্বামী

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।রোববার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত নুসরাত জাহান নিশি (১৯) নামের ওই গৃহবধূ উপজেলার ছয়ানি বকশিয়া গ্রামের আব্দুল আলিমের স্ত্রী।

নিহতের মায়ের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে হত্যার পর বোরকা পরে পালাতে চেয়েছিল আলিম। কিন্তু তার আগেই তারা গিয়ে ধরে ফেলেন। পরে এ ঘটনায় রাতেই নিহতের বাবা খোরশেদ আলম বাদি হয়ে থানায় মামলা করলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আলিমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় বছর আগে ছয়ানি বকশিয়া গ্রামের আলাল তালুকদারের ছেলে আব্দুল আলিমের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গোপালপুর উপজেলার কুরমোশিয়া গ্রামের খোরশেদ আলমের মেয়ে নুসরাত জাহান নিশির বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা যৌতুক নেয় আলিম। তারপরও বাবার বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দিতেন আলিম। টাকা নিয়ে আসতে অস্বীকৃতি জানালে নিশির ওপর চলত অমানবিক শারীরিক নির্যাতন।

নিহতের মা সুফিয়া বেগম বলেন, মেয়ে আমার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। শনিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে সে ফোন করে জানায় তাকে আর লেখাপড়া করতে দেবে না তার স্বামী। তার স্বামী পরীক্ষার প্রবেশপত্র ছিঁড়ে ফেলছে। মেয়ে আমার লাশ হয়ে বাড়ি ফিরল।

এদিকে আলিমের পরিবার জানায়, নিশি রাগি ও জেদি প্রকৃতির মেয়ে ছিল। আমরা তাকে অনেক বুঝিয়েছি। সংসার করতে হলে অনেক কিছু ত্যাগ স্বীকার করে করতে হবে।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম সরকার বলেন, থানায় মামলা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার আসামি আলিম ও তার বাবা-মাকে আটক করে জেলে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. ডিসেম্বর ২০২১ ০১:৫০:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ট্রাক চাপায় স্কুল ছাত্রী নিহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ট্রাক চাপায় স্কুল ছাত্রী নিহত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রাকের চাপায় এক অটোরিক্সার যাত্রী ৭ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী নিহত হয়েছে। ওই ঘটনায় আহত হয়েছে আরোও দুইজন।শুক্রবার (৩ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের গোপালদিঘী কে.পি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায়  দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত স্কুল ছাত্রী হাফিজা আক্তার,উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের কালোহা গ্রামের হাবুল মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় গোপালদিঘী কে.পি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে উপজেলার বল্লা থেকে ছেড়ে আসা একটি ইট বোঝাই ট্রাক এলেঙ্গা রোডের গোপালদিঘী কে.পি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পৌছালে বালিয়াটা থেকে ছেড়ে আসা একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সাকে ধাক্কা দেয়। এসময় ওই অটোরিক্সায় থাকা হাফিজা আক্তার ঘটনাস্থলে নিহত হয়।

এসময় আহত হয় আরো ২জন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।  স্থানীয়রা ট্রাকটিকে আটক করলেও চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে। চালককে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. ডিসেম্বর ২০২১ ০১:৫৮:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ৫ হোটেল মালিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ৫ হোটেল মালিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলে খাবার হোটেলে দাম বেশি রাখায় এবং অপরিচ্ছন্নভাবে খাবার তৈরি করায় পাঁচ হোটেল মালিককে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুনের নেতৃত্বে শহরের নিরালা মোড়, মিষ্টিপট্টি ও নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই জরিমানা আদায় করা হয়।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রানুয়ারা খাতুন জানান, শহরের হোটেল গুলোতে অপরিচ্ছন্নভাবে খাবার তৈরি ও খাবারের দামের বিষয়ে অভিযোগ আসছিলো। তারই প্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।এ সময় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিকার আইন ২০০৯ ধারা অনুযায়ী শহরের ‘কিছুক্ষণ’ হোটেলকে পাঁচ হাজার, পিয়াসী হোটেলকে দুই হাজার, টিপটপ হোটেলকে পাঁচ হাজার, ফাইলার হোটেল ও সুরুতী হোটেলকে তিন হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, এধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. নভেম্বর ২০২১ ০১:৩৮:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলের শ্রমিক লীগ নেতা রেজাউলের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের শ্রমিক লীগ নেতা রেজাউলের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত জেলা শ্রমিক লীগ নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা(৩৮) বুধবার(২৪ নভেম্বর) বিকেলে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. সজিব মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত রেজা শহরের দেওলা এলাকার মো. আজাদ আলমগীরের ছেলে। শ্রমিক লীগের রাজনীতিতে আসার পূর্বে রেজা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।

প্রসঙ্গত, রবিবার(২১ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে শহরের নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় রেজাউল ইসলামের উপর একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। তারা রেজাউলের হাত, পা, মেরুদন্ডসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য  সাভারে অবস্থিত এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  সোমবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায়  তার অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

রেজাউলের মৃত্যুর খবরে তার এলাকায় শোকের পবিবেশ বিরাজ করছে।

রেজাউলের খালাতো ভাই জুয়েল রানা বলেন, রাতে লাশ টাঙ্গাইলে আনা হবে। বৃহস্পতিবার দাফন ও আইনগত ব্যবস্থায় যাবেন।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন এ ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ মামলা করে নি। তবে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে ।

রেজাউলের মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারন সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তীব্র নিন্দা  ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা তার খুনিকে অবিলম্বে আইনের আওয়াতায় এনে বিচারের দাবী জানান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২. ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ০৯:৩৬:পিএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে নিখোঁজের পাঁচ দিন হলেও মিরা খাতুনের খোঁজ মেলেনি - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে নিখোঁজের পাঁচ দিন হলেও মিরা খাতুনের খোঁজ মেলেনি

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে কিস্তি আদায় করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া মিরা খাতুন (৩২) নামে এনজিও কর্মীর খোঁজ মেলেনি পাঁচ দিনেও। এদিকে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল ওহাব মিয়া জানান, ‘নিখোঁজ এনজিও কর্মীর খোঁজ পেতে দেশের সব থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে।

নিখোঁজ মিরা বেসরকারি সংস্থা সোসাইটি ফর সোস্যাল সার্ভিস (এসএসএস)-এর ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা শাখার সিনিয়র মাঠ সংগঠক। তিনি কালিহাতী উপজেলার সালেঙ্গা এলাকার রাজিব মিয়ার স্ত্রী।

সূত্র জানায়, গত শনিবার (২০ নভেম্বর) ফলদা এসএসএস অফিস থেকে মিরা উপজেলার ঝনঝনিয়া ও মাইজবাড়ি গ্রামে কিস্তি আদায় করতে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। ওই দিনই এনজিও কর্তৃপক্ষ মিরার সন্ধানে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে।

এসএসএসের ফলদা শাখার ব্যবস্থাপক বন্যা আক্তার বলেন, ‘দেড় বছর ধরে মিরা ফলদা শাখায় মাঠ সংগঠক হিসেবে চাকরি করছেন। নিখোঁজের দিন মিরা এই শাখার অধীন ঝনঝনিয়া ও মাইজবাড়ি গ্রামে কিস্তি আদায় করতে যান। সেখান থেকে তার ফলদা শাখায় ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু দুই কেন্দ্রে কাজ শেষ করার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।’

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল ওহাব মিয়া বলেন, ‘নিখোঁজ এনজিও কর্মীর খোঁজ পেতে দেশের সব থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তার সন্ধান অব্যাহত আছে।’

তিনি আরো বলেন, আশা করি খুব দ্রুতই মিরা খাতুনের খোঁজ পাওয়া যাবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. নভেম্বর ২০২১ ১২:৩৪:এএম ৫ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।