/ হোম / অপরাধ
টাঙ্গাইলে স্কুলছাত্র রাহাত হত্যার রহস্য উদঘাটন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে স্কুলছাত্র রাহাত হত্যার রহস্য উদঘাটন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের স্কুল ছাত্র রাহাত(১৪) হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে র‌্যাব।শনিবার(২৬ মার্চ) দুপুরে র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার মো. এরশাদুর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে  ওই হত্যাকান্ডের বিস্তারিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তুলে ধরেন।

র‌্যাব কমান্ডার মো. এরশাদুর রহমান জানান, বন্ধুকে এতিম বলায় জীবন দিতে হয় স্কুলছাত্র রাহাতকে (১৪)। শুক্রবার (২৫ মার্চ) রাতে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত রাহাতের বন্ধু বিপ্লব র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়।

তিনি আরো জানান, রাহাত ও বিপ্লব দুই বন্ধু। তাদের বাড়িও পাশাপাশি। মঙ্গলবার (২২ মার্চ) রাতে বিপ্লব ও রাহাত কালিহাতী উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের কাগুজিপাড়া বাজারে বসে লুডু খেলছিল। এ সময় বিপব্লকে কয়েকবার রাহাত এতিম বলে সম্বোধন করে। এ কারণে রাহাতের ওপর ক্ষিপ্ত হয় বিপ্লব এবং রাহাতকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় । পরে বিপ্লব বাজারের একটি দোকান থেকে ব্লেড ও সিগারেট কেনে। এরপর সে সিগারেট খাওয়ার কথা বলে রাহাতকে কাগুজিপাড়া এলাকার একটি পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। সিগারেট খাওয়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপ্লব ব্লেড দিয়ে রাহাতের গলায় পোচ দেয়। এসময় রাহাত চিৎকার দিলে বিপ্লব মুখ চেপে ধরে আরও কয়েকবার পোচ দেয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে কাদা-মাটির মধ্যে রাহাতের মুখ চেপে ধরে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ পাশের পুকুরে ফেলে দিয়ে রাহাতের মোবাইল ফোন নিয়ে বাড়িতে চলে যায় বিপ্লব। বাড়িতে গিয়ে সে গোসল করে এবং তার রক্তমাখা জামা-কাপড় ধুয়ে ফেলে।

তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের আরো জানান, শুক্রবার (২৫ মার্চ) তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে কালিহাতী থেকে বিপ্লবকে আটক করার পর র‌্যাবের কাছে সে এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরে তার ঘর থেকে তার জামা-কাপড় ও নিহত রাহাতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৩ মার্চ) সকালে উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের কাগুজিপাড়া এলাকা থেকে রাহাতের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রাহাত বানিয়ারা গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে। সে বল্লা করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র ছিল। আটককৃত বিপ্লব বানিয়ারা গ্রামের নুবু মিয়ার ছেলে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. মার্চ ২০২২ ০৯:১০:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের কার্ড পাঠিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের কার্ড পাঠিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানের কার্ড পাঠিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, এনজিওসহ নানা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নে। তবে নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুদ তালুকদার বলছেন, সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠান নিয়ে একটি সভা করে উপস্থিত সবার কাছে যথাসাধ্য সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। চাঁদা দাবির বিষয়টি তিনি অবগত নন।

আরো পড়ুনঃ চাকরিতে যোগদানের আগেই প্রীতির বুক ছিদ্র করে বেরিয়ে গেলো ঘাতক বুলেট!

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ২৫ ও ২৬ মার্চ দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের ব্যয়ভার বহনের অজুহাতে চাঁদা আদায়ের ঘটনাটি ঘটেছে।

গত ৬ মার্চ নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুদ তালুকদারের নির্দেশে একটি সভার আয়োজন করা হয়। ওই সভার মাধ্যমে নারান্দিয়া ইউনিয়নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের চাঁদার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। এ অনুসারে প্রাথমিক স্কুলের জন্য তিন হাজার, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে পাঁচ হাজার আর নারান্দিয়া বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা ধার্য করা হয়। চাঁদা উত্তোলন ও আমন্ত্রণপত্র বিতরণের জন্য কর্মীও মনোনীত করা হয়। মনোনীত কর্মীদের প্রধান হিসেবে কাজ করেন ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পালিমা গ্রামের মো. মানিক মিয়া।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে লুহুরিয়া বি এইচ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুলতান জাগো নিউজকে বলেন, ইউনিয়নের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান উদযাপনের কার্ড দিয়ে পাঁচ হাজার টাকার চাওয়া হয়েছিল। চেয়ারম্যান সাহেবের কথা বলে আমার স্কুলে কার্ড নিয়ে আসেন ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পালিমা গ্রামের মো. মানিক মিয়া। পরে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক তাকে দুই হাজার টাকা দিয়েছেন বলে আমাকে জানান।

তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এভাবে চাঁদা নেওয়াটা অসম্মানের বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সৈয়দা নুরজাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাখাওয়াত বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব মিটিং ডেকে আমাদের কাছে সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তবে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দিতে আসা ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পালিমা গ্রামের মো. মানিক মিয়া ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। দাবি করা টাকা দেওয়া না হলেও আমরা সহযোগিতা করেছি।
জানতে চাইলে ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পালিমা গ্রামের মো. মানিক মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, আমি স্কুলে স্কুলে ইউনিয়নের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান উদযাপনের চিঠি পৌঁছে দিয়েছি। তবে আমি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি।

এদিকে, নারান্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাদের সমিতির সদস্য সংখ্যা প্রায় দেড় শতাধিক। অনুষ্ঠান উদযাপনের ব্যয় বহনের জন্য চেয়ারম্যান সাহেব প্রতিটি দোকান থেকে চাঁদা তোলার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। আমাদের বাজার সমিতির সেক্রেটারিকে প্রতি দোকান থেকে টাকা উত্তোলন করতে বলা হয়েছিল। তবে আমরা সেটির সমর্থন দিইনি। তবে এরপরও ছাত্রলীগ নেতা সোলায়মান, সাবেক ইউপি সদস্য সামছুল ও আবু বক্কর নামে তিনজন চেয়ারম্যান সাহেবের পরিচয় দিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান উদযাপনের আমন্ত্রণপত্র দিয়ে কয়েকটি দোকান, ব্যাংক, এনজিও এবং স্কুল থেকে টাকা নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঢালাওভাবে সব দোকান থেকে চাঁদার টাকা উত্তোলন করতে না পারলেও ইউনিয়নের জনতা ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক, ভূমি অফিস ও কয়েকটি স্কুল থেকে ২ হাজার করে টাকা নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুদ তালুকদার জাগো নিউজকে বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও পরিষদের যৌথ উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ কারণে আমরা স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে নিয়ে ৬ মার্চ একটি প্রস্তুতি মিটিং করি। ওই মিটিংয়ে উপস্থিত সবাইকে সহযোগিতা করতে বলেছিলাম। তবে অনুষ্ঠানের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের কেউ কারও কাছ থেকে কোনো টাকা উত্তোলন করেননি। দল কী করেছে সেটি আমার জানা নেই।

তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানের সব ব্যয়ভার বহন করছে ইউনিয়ন পরিষদ। এরপরও যদি কেউ টাকা নেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ আমার কাছে করেন, তাহলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো।

এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুসাইন বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠান উদযাপনের ব্যয়ভার বহন করে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। এ ধরনের অনুষ্ঠানের নামে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. মার্চ ২০২২ ০৩:০৪:এএম ৪ বছর আগে
চাকরিতে যোগদানের আগেই প্রীতির বুক ছিদ্র করে বেরিয়ে গেলো ঘাতক বুলেট! - Ekotar Kantho

চাকরিতে যোগদানের আগেই প্রীতির বুক ছিদ্র করে বেরিয়ে গেলো ঘাতক বুলেট!

একতার কণ্ঠঃ রাজধানীর শাহজাহানপুরে বৃহস্পতিবার(২৪ মার্চ) রাত সোয়া ১০টার দিকে এলোপাতাড়ি গুলি করে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সামিয়া আফরান জামাল প্রীতি নামের এক কলেজছাত্রীও নিহত হন।

শুক্রবার(২৫ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিহত টিপু ও প্রীতির লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জান্নাতুন নাইম।

জানা গেছে, টিপুর শরীর থেকে সাতটি গুলি বের করা হয়েছে। আর প্রীতির শরীরে কোনো গুলি পাওয়া যায়নি। কারণ তার শরীরের এক দিক দিয়ে ঢুকে অন্যদিকে একটি গুলি বেরিয়ে গেছে।

প্রীতির লাশের সুরতাল করেন শাহজাহানপুর থানার এসআই তমা বিশ্বাস। সুরতহাল প্রতিবেদনে এসআই তমা উল্লেখ করেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রীতি নিজের বাসা থেকে রিকশাযোগে বান্ধবীর সঙ্গে তাঁর বাসায় যাচ্ছিলেন। রাত আনুমানিক সোয়া ১০টার দিকে উত্তর শাহজাহানপুর সড়কে এলে দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রীতির বাম স্তনের ওপরে একটি ছিদ্র এবং পিঠের ডান পাশে মাঝ বরাবর একটি গোল চিহ্ন রয়েছে।

শুক্রবার (২৫ মার্চ) প্রীতির বান্ধবী সুমাইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, প্রীতি তার মা-বাবা ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে পশ্চিম শান্তিবাগে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তবে গত ৪ দিন সে খিলগাঁও তিলপা পাড়ায় আমার বাসায় ছিল। সেখান থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাসায় ফিরছিল। তবে, নিজের বাসার কাছে এসেও ফিরে আসতে হয় প্রীতিকে। বাসার কাছাকাছি গেলে প্রীতিকে তার মা হঠাৎ ফোন দিয়ে বলেছিলেন- চট্টগ্রাম থেকে প্রীতির মামা-মামী এসেছেন। সে যেন আজকেও আমার বাসায় থাকে। আগামীকাল যেন বাসায় যায়।

প্রীতিদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরে। সেখানে যাতায়াত কম। বাবার চাকরিসূত্রে ঢাকায় থাকে তার পরিবার।

প্রীতির বাবা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা সাধারণ পরিবারের নিরীহ মানুষ। আমার মেয়ের হত্যার ঘটনায় আমরা কোনো মামলা করব না। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। সাধারণ জীবনযাপন করি। কার বিরুদ্ধে মামলা করব? হয়তো এক্সিডেন্টলি ঘটনাটি ঘটে গেছে।আল্লাহ একজন আছেন, তিনিই দেখবেন।

তিনি আরো বলেন, মিরপুর-২ এ একটি কোম্পানির ফ্যাক্টরির প্রডাকশনে চাকরি করি। বেতন বেশি পাই না। অনেক কষ্টে মেয়ে প্রীতি ও ছেলে সোহায়েব জামাল সামি ও স্ত্রীকে নিয়ে পশ্চিম শান্তিবাগের একটি বাসায় ভাড়ায় থাকি।

জামাল উদ্দিন বলেন, প্রীতি বদরুন্নেসা কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে পড়তো। পরিবারের অবস্থা বিবেচনা করে নিজে চাকরির চেষ্টা করছিল৷ ১৫ হাজার টাকায় একটা অফিসে চাকরি নিয়েছিল। সামনের মাসে জয়েন করার কথা ছিল মেয়েটার। কিন্তু সেটা আর হলো না।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. মার্চ ২০২২ ০৩:১৬:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ)  রাতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহত হয়েছে আরো একজন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোড়াই হাইওয়ে থানার অফিসার-ইন-চার্জ( ওসি) মো. আজিজুল হক।

আরো পড়ুনঃ ডা. খন্দকার গোলাম মোস্তফার মৃত্যুতে কৃষিমন্ত্রীর শোকবার্তা

নিহতরা হলেন- মোটর সাইকেল চালক বাবুল হোসেন (৩০), তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি এলাকায়। অপর দূর্ঘটনায় ট্রাক চাপায় স্থানীয় নাহিদ কটন মিলের এক শ্রমিক নিহত হয় । তার নাম রাসেদুল ইসলাম (২৮)। সে গাইবান্ধা জেলার পলাশতলী উপজেলার ভগবানপুর গ্রামে বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (২৫ মার্চ) সকালে গোড়াই হাইওয়ে থানার অফিসার-ইন-চার্জ( ওসি) মো. আজিজুল হক জানান, বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) রাতে মহাসড়কের পাকুল্যা এলাকায় ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল চালক বাবুল হোমেন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন তার ভাই আলামিন। তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

তিনি আরো জানান,  এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে কাজ শেষে গোড়াই এলাকায় মহাসড়ক পার হওয়ার সময় ভুট্টাবাহী একটি ট্রাক  চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই নাহিদ কটন মিলের শ্রমিক রাসেদুল মারা যান। লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং ট্রাক আটক হলেও চালকরা পালিয়ে গেছে। থানায় মামলা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. মার্চ ২০২২ ০২:০৯:এএম ৪ বছর আগে
গোপালপুরে সরকারি বই জব্দ, থানায় অভিযোগ - Ekotar Kantho

গোপালপুরে সরকারি বই জব্দ, থানায় অভিযোগ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ফেরিওয়ালার কাছ থেকে সরকারি বই জব্দের ঘটনায় থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে। চরচতিলা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম মণ্ডল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে এই অভিযোগ করেন।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে মসজিদের ইমামকে হুমকি

এর আগের দিন বুধবার ওই মাদ্রাসা থেকে বইগুলো কিনে নেয়ার সময় ফেরিওয়ালা আব্দুল গণিকে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে বস্তাভর্তি বই উদ্ধার করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া ইসলাম সীমা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ মল্লিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বইগুলো জব্দ করেছি, যেহেতু এগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ।’

ফেরিওয়ালা আ. গণি জানান, ওই মাদ্রসার প্রভাষক আকাশ আলীর মাধ্যমে ১৭ টাকা কেজি দরে ৫ হাজার ৯০০ টাকায় বইগুলো কেনেন তিনি।

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। প্রভাষক আকাশের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন মাদ্রাসা অধ্যক্ষ। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. মার্চ ২০২২ ০১:৪৪:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে স্কুল ছাত্রের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে স্কুল ছাত্রের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রাহাত (১৪) নামের এক স্কুল ছাত্রের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৩ মার্চ) সকালে উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রাহাত বানিয়ারা গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, রাহাত মঙ্গলবার (২২ মার্চ) রাত থেকে নিখোঁজ ছিল। ভোরে নিহতের বাবা শাহাদত হোসেন ছেলেকে খোঁজার জন্য বের হলে বানিয়াপাড়া এলাকায় পুকুরে রাহাতের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। সাথে সাথে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান বলেন, রাতের কোন এক সময় রাহাতকে হত্যা করে লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে লাশ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. মার্চ ২০২২ ০৪:০১:পিএম ৪ বছর আগে
দক্ষিণ আফ্রিকায় পুলিশের গুলিতে নিহত টাঙ্গাইলের আব্দুল হামিদ - Ekotar Kantho

দক্ষিণ আফ্রিকায় পুলিশের গুলিতে নিহত টাঙ্গাইলের আব্দুল হামিদ

একতার কণ্ঠঃ দক্ষিণ আফ্রিকার জঙ্গলে গুলিতে নিহত হয়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুরের আবদুল হামিদ (৩৬)। তিনি অবৈধ পথে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার জঙ্গলের সীমান্তে পৌঁছালে টহলরত পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন বলে নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। আবদুল হামিদ সখীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েক মাস আগে উপজেলার প্রতিমাবংকী গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী মিনহাজ উদ্দিন ছুটিতে বাড়িতে আসেন। তখন মিনহাজ তার পূর্বপরিচিত হামিদকে একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে এবং সেখানে তাকে বেশি বেতনে শ্রমিকের কাজ দেওয়ার কথা বলে হামিদের কাছ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকাও হাতিয়ে নেয়। মিনহাজ হামিদকে সঙ্গে না নিয়ে আবদুস সাত্তার নামে এক আদম ব্যবসায়ীর মাধমে আফ্রিকা পাঠানোর ব্যবস্থা করে চলে যায়।

এ বছরের জানুয়ারিতে আবদুল হামিদ আফ্রিকার উদ্দেশে ওই আদম ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় বাড়ি থেকে বের হন। আবদুল হামিদের সঙ্গে পরিবারের কিছুদিন যোগাযোগ থাকলেও মাসখানেক ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। আফ্রিকায় অবস্থারত মিনহাজ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে নানা টালবাহানা করতে থাকে। গত রোববার রাতে হামিদের বাড়িতে খবর আসে, তিনি দুবাই, কঙ্গো ও জিম্বাবুইয়ে হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জঙ্গলে সীমান্ত এলাকায় ঢুকলে ওই দেশের পুলিশের গুলিতে মারা যান।

নিহতের বড় ভাই মো. হারুন জানান, রোববার রাতে খবর পেলেও ১০-১৫ দিন আগে হামিদ ওই দেশের পুলিশ অথবা সন্ত্রাসীর গুলিতে মারা গেছে। এ বিষয়ে সখীপুর থানা পুলিশকে অবগত করা হয়েছে।সখীপুর থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষই থানায় এসেছিল। তারা সমঝোতার চেষ্টা করছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. মার্চ ২০২২ ০২:০৯:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে গৃহবধূকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে গৃহবধূকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রূপা আক্তার (৩০) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার তেজপুর গ্রামে তার স্বামী মিঠুন তালুকদারের বাড়ির উঠান থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর শনিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তার বাবা ছানোয়ার হোসেনের বাড়ি জেলার বাসাইল উপজেলার কাউলজানী মধ্যপাড়া এলাকায় তাকে দাফন করা হয়।

আরো পড়ুনঃ প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়ার এই স্বাধীনতা অব্যাহত থাকবে: কৃষিমন্ত্রী

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১০ বছর আগে জেলার বাসাইল উপজেলার কাউলজানী মধ্যপাড়া এলাকার ছানোয়ার হোসেনের মেয়ে রূপা আক্তার ও পাশের উপজেলার কালিহাতীর তেজপুর গ্রামের মোজাম্মেল তালুকদারের ছেলে মিঠুন তালুকদারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের ৩-৪ বছর পর মিঠুন বিদেশে যাওয়ার জন্য রূপার পরিবারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে নেয়। সৌদিতে প্রায় দুই বছর থাকার পর সেখান থেকে আবার দেশে ফিরেন মিঠুন। দেশে ফিরে তিনি ট্যাফি ট্রাক্টর চালানো শুরু করেন। এরমধ্যে তাদের ঘরে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এরপর থেকে যৌতুক দাবিতে রূপার পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে মিঠুন। টাকা না দেয়ায় বিভিন্ন সময় রূপাকে মারধর করে আসছিল। মারধরের পাশাপাশি স্বামীর পরকিয়া ও নেশাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ এনে রূপা তার কাছ থেকে বাবার বাড়িতে চলে আসে। প্রায় এক বছর আগে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়। তালাকের ৩-৪ মাস পর রূপাকে ফের বাড়িতে নেওয়ার প্রস্তাব দেয় মিঠুন। সাত বছরের কন্যা সন্তান থাকায় সহজেই রাজি হন রূপা। ফের স্বামীর বাড়িতে গেলে মারধরের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। সব শেষে গত বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায়ও রূপাকে মারধর করা হয়। পরদিন শুক্রবার (১৮ মার্চ) দুপুরের দিকে রূপার মৃত্যুর খবর তার বাবার বাড়িতে জানানো হয়।

রূপার মা রুমা বেগম বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার জন্য মিঠুনকে দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়। এছাড়াও আড়াই ভরি স্বর্ণ দেওয়া হয়। বিদেশ থেকে ফিরে মিঠুন আরও যৌতুক দাবিতে রূপাকে মারধর শুরু করে। একবার এসিড দেওয়ার চেষ্টাও করেছিল। এরপর আমরা রূপাকে মিঠুনের কাছ থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু আবার মিঠুন তাকে ফুঁসলিয়ে তার কাছে নেয়। বৃহস্পতিবার রাতেও তাকে মারধর করা হয়। এরপর ওই রাতেই আমার মেয়েকে তার স্বামী ও শ্বশুরসহ কয়েকজনে মিলে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখে। শুক্রবার দুপুরের দিকে আমাদের ফোন করে জানায়- রূপা মারা গেছে। আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি লাশ উঠানে রাখা আছে। আর রূপার ৭ বছরের মেয়েকে নিয়ে তার স্বামী, শ্বশুরসহ বাড়ির সবাই পালিয়ে গেছে। এটা আত্মহত্যা নয়, এটা হত্যা। তারা আমার মেয়েকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। আমি এই হত্যাকারীদের বিচার চাই।’

রূপার দাদি ভানু বেগম বলেন, ‘মিঠুন মদ-গাঁজা খায়। এছাড়াও অন্য এক মহিলার সাথে তার সম্পর্ক ছিল। আর বিদেশ থেকে ফিরে আরও টাকার জন্য রূপাকে মারধর করে আসছিল। এক পর্যায়ে রূপাকে হত্যা করে লাশ তারা ঝুলিয়ে রাখে। তারা হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছে।’

রূপার চাচা শুকুর মাহমুদ বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা বাড়িতে গিয়ে দেখি রূপার ৭ বছরের এক মেয়ে নিয়ে তার বাবা মিঠুনসহ বাড়ির সবাই পালিয়ে গেছে। আমরা লাশটি বাড়ির উঠানে পেয়েছি। এঘটনায় পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তারা মামলা নিবে।’

কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মনিরুজ্জামান বলেন, ‘শুনেছি মেয়েটিকে তার স্বামী মাঝে মধ্যেই মারধর করতো। বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবি করে আসছিল। পরে শুনেছি তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে তার স্বামী।’

এব্যাপারে জানতে রূপার স্বামী মিঠুন তালুকদারের মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কালিহাতী থানার এসআই আল আমিন বলেন, ‘আমরা নিহতের লাশটি তার স্বামীর বাড়ির উঠানে শোয়ানো অবস্থায় পেয়েছি। মেয়েটির হাতে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. মার্চ ২০২২ ০১:৫৫:এএম ৪ বছর আগে
নাপা সিরাপ নয়, মায়ের পরকীয়ায় প্রাণ যায় সেই দুই শিশুর - Ekotar Kantho

নাপা সিরাপ নয়, মায়ের পরকীয়ায় প্রাণ যায় সেই দুই শিশুর

একতার কণ্ঠঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নাটকীয় মোড় নিয়েছে। আপন মা তার পরকীয়া প্রেমিককে নিয়ে তাদের হত্যা করে বলে পুলিশ জানায়। মিষ্টির সঙ্গে বিষ খাইয়ে মারা হয় দুই শিশুকে। পরে তাদের নাপা সিরাপ খাওয়ানো হয় ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে।

এ ঘটনায় বুধবার (১৬ মার্চ) রাতে নিহত ২ শিশুর পিতা ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে স্ত্রী, তার পরকীয়া প্রেমিকসহ ৪ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। এরপর মা লিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরকীয়া প্রেমিক সফিউল্লাহসহ ৩ জন পলাতক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত লিমাকে আদালতে প্রেরণ করা হয় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য।

বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন জানান, লিমা আশুগঞ্জের একটি চাল-কলে কাজ করেন। আর তার স্বামী কাজ করেন ইটভাটায়। চাল-কলে কাজ করার সুবাদে আরেক শ্রমিক সফিউল্লার সঙ্গে লিমার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা বিয়ে করারও সিদ্ধান্ত নেয়।

তিনি আরও জানান, পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিষ্টির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দুই শিশু ইয়াছিন ও মোরসালিনকে খাইয়ে হত্যা করে মা লিমা বেগম। মৃত্যুর ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য নাপা সিরাপের রিঅ্যাকশন হয়েছে বলে প্রচার করে। কিন্তু লিমার আচরণে প্রথমেই পুলিশের সন্দেহ হয়। অধিকতর জিজ্ঞাসায় সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় লিমার প্রেমিক সফিউল্লাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে গত ১৩ মার্চ ওই দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দেশের সব পাইকারি ও খুচরা ফার্মেসি পরিদর্শন করে ওই ওষুধ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে পরীক্ষার প্রতিবেদন ন্যাশনাল কন্ট্রোল ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর জন্যও বলা হয়েছে।

সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১২ মার্চ দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে জানা যায় যে, দেশের অন্যতম প্রধান ফার্মাসিউটিক্যালস-এর উৎপাদিত নাপা সিরাপ (প্যারাসিটামল ১২০মিগ্রা./৫ মি.লি.) ব্যাচ নং- ৩২১১৩১২১, উৎপাদন তারিখ: ১২/২০২১, মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ: ১১/২০২৩ নামীয় ওষুধটি সেবন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে একই পরিবারের ২ শিশু মৃত্যুবরণ করেছে।

এমতাবস্থায় ঔষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সব বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাকে স্ব-স্ব নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত পাইকারি ও খুচরা ফার্মেসি পরিদর্শন করে ওই পদের নমুনা পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন ন্যাশনাল কন্ট্রোল ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলো। পরবর্তীতে নাপা সিরাপ পরীক্ষা করে তার মধ্যে কোনো ক্ষতিকর উপাদান পায়নি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের ইসমাঈল হোসেনের দুই ছেলে ইয়াছিন ও মোরসালিন নাপা সিরাপ খেয়ে মারা যায় বলে অভিযোগ তোলেন স্বজনরা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. মার্চ ২০২২ ০৩:৫১:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৬৬৩ বস্তা চালসহ আটক ১ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৬৬৩ বস্তা চালসহ আটক ১

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সরকারি ৬৬৩ বস্তা চাল, নগদ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩। বৃহস্পতিবার(১৭ মার্চ) সকালে অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার করটিয়া বাজারস্থ জমিদার বাড়ির পাশে শরৎ চন্দ্র সূত্রধরের গুদাম ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়।বৃহস্পতিবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে  র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩ ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার এরশাদুর রহমান।

এসময় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি করার অপরাধে শরৎ চন্দ্র সূত্রধরকে আটক করা হয় ।আটককৃত শরৎ চন্দ্র সূত্রধর(৬০) করটিয়া কলেজ পাড়া এলাকার সুবল চন্দ্র সূত্রধরের ছেলে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩ ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার এরশাদুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার করটিয়া বাজারস্থ জমিদার বাড়ির পাশে শরৎ চন্দ্র সূত্রধরের গুদাম ঘরের ভিতরে কালোবাজারী ও মজুদধারী খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৬৬৩ বস্তা চাউল উদ্ধার হয় এবং ওই গুদাম ঘরের মালিক শরৎ চন্দ্র সূত্রধরকে আটক করা হয়।

তিনি আরো জানান, সরকার কর্তৃক ১০ টাকা মূল্যে গরীব দরিদ্রদের জন্যে সরবরাহকৃত চাল বেশী মুনাফা লাভের আশায় অবৈধভাবে সংগ্রহ করে মজুত করে বেশী দামে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন লোকজনের নিকট বিক্রি করে আসছিল। আটককৃতের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন এর ২৫(১)/২৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. মার্চ ২০২২ ০১:৪২:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে।সোমবার(১৪ মার্চ) দুপুরে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এ রায় দেন।

ধর্ষক ও হত্যাকারীর নাম মো.মাজেদুর রহমান (২৬)। সে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের মিরপুর মধ্য পাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৯ অক্টোবরে বিকাল অনুমানিক ৫ টার দিকে মিরপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মাজেদুর একই গ্রামের সাদেক আলীর ১২ বছরের মেয়ে শান্তা আক্তারকে ধর্ষণ করে। শিশুটি কাঁদতে থাকে এবং এ ঘটনা তার মা-বাবাকে জানাবে বলে। ধর্ষণের ঘটনা জানাজানির ভয়ে মাজেদুর মেয়েটিকে গলা টিপে ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে হত্যা করে। পরে পাশের একটি ঝোপে তার লাশ ফেলে লতাপাতা দিয়ে ঢেকে দেয়।

এদিকে শিশু শান্তাকে না পেয়ে তার মা-বাবা খোঁজাখুঁজি করে। সন্ধ্যার দিকে ওই গ্রামের এক ছোট্ট শিশু শান্তার বাবাকে জানায়, শান্তাকে সে মাজেদুরের সঙ্গে কুশাল বাগানে যেতে দেখেছিল। পরে সেখানে গিয়ে দেখে ঝোপের মাঝে শান্তার মৃত দেহ।

টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে মাজেদুর জানায়, শান্তাকে সে কুশাল খেতে ধর্ষন করার পর শান্তাকে ভয় দেখায় যে বলে দিলে মেরে ফেলবে। পরে শান্তা বলে দেওয়ার কথা বললে তাকে হত্যা করে।

এ ঘটনায় ওই দিনই শান্তার বড় ভাই সানি আলম বাদী হয়ে মাজেদুর কে আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেন মাজেদুর ।

রায় পেয়ে মামলার বাদী সানি আলম বলেন, আমি অনেকটাই সন্তুষ্ট এ রায়ে। দ্রুত এর কার্যকর হোক সেটাই এখন প্রত্যাশা আমাদের।

এবিষয়ে নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি আলী আহম্মেদ বলেন, দুই বছরের মাথায় এ ঘৃনিত অপরাধের রায় হয়েছে। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. মার্চ ২০২২ ০৯:২৮:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে চিকিৎসার নামে শারীরিক নির্যাতনে কিশোরের মৃত্যুর অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে চিকিৎসার নামে শারীরিক নির্যাতনে কিশোরের মৃত্যুর অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মাদকাসক্ত চিকিৎসাকেন্দ্রে শারীরিক নির্যাতনের কারণে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। উপজেলা সদরে অবস্থিত পূর্ণতা মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পরামর্শ কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিহত ওই কিশোরের নাম সোহেল সিকদার (১৭)। সে উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের বীরঘাটাইল গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে।

এ ঘটনায়  শনিবার (১২ মার্চ) রাতে ওই কিশোরের বড় ভাই রুবেল সিকদার বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। রাতেই মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো কাজী ফজলে রাব্বি মিলকী, কামরুজ্জামান শোয়েব ও খন্দকার আতিকুর রহমান। অপর চার আসামি পলাতক রয়েছে।

নিহতের পারিবার সূত্রে জানা যায়, মাদকাসক্ত সোহেলকে চিকিৎসার জন্য তার পরিবার গত ৫ মার্চ তাকে উপজেলা সদরের ‘পূর্ণতা মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পরামর্শ কেন্দ্রে ভর্তি করান। ছয় মাসের চিকিৎসায় পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। আর সোহেলের চিকিৎসা বাবদ তারা ৪৮ হাজার টাকা দাবি করেন।

নিহতের বড় ভাই রুবেল (২৪) বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পূর্ণতা মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পরামর্শ কেন্দ্র থেকে ফোন করে ছোট ভাই সোহেলকে নিয়ে আসতে বলা হয়। রাতেই তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। শনিবার সকালে তার শয়নকক্ষে সোহেলকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ থানায় নিয়ে যায়।

রুবেলের দাবি, তার ভাইয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে ও সিগারেটের আগুনের পোড়া দাগও রয়েছে। মাদকাসক্তির চিকিৎসার নামে শারীরিক নির্যাতনের কারণেই সোহেলের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে পূর্ণতা মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পরামর্শ কেন্দ্রের পরিচালক কামরুজ্জামান শোয়েব জানান, সোহেলকে আমরা নিরাময় কেন্দ্র থেকে ছাড়পত্র দিয়ে তার পরিবারের কাছে দিয়ে দিই। বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। তাদের অভিযোগ সঠিক নয়।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আব্দুল হক জানান, এ ব্যাপারে সাতজনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রবিবার (১৩ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে রবিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও মামলার তদন্তকাজ চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. মার্চ ২০২২ ০২:৫১:এএম ৪ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।