একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যার দায়ে আবুল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হারুনর রশিদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ আহমদ হিরো। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ আহমদ হিরো।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই বাসাইল উপজেলার সোনালিয়া গ্রামের আবুল হোসেন ব্যবসা করার কথা বলে তার স্ত্রী খোদেজা বেগমকে বাবার বাড়ি থেকে ১০ হাজার টাকা এনে দিতে বলেন। পরে খোদেজা বেগম স্বামীর কথা মতো তার বাবার বাড়ি করটিয়া কলেজ পাড়ায় যান এবং তার গরিব বাবার কাছ থেকে তিন হাজার টাকা সংগ্রহ করে এনে দেন।
এতে আবুল হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী জালানি বেগম মিলে খোদেজাকে বেদম মারধর করেন। মারধরের একপর্যায়ে খোদেজা বেগম মারা যান। পরে এ ঘটনায় নিহত খোদেজার চাচা শহিদুল ইসলাম শহিদ বাদী হয়ে বাসাইল থানা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ আবুল হোসেন ও জালানি বেগমকে গ্রেফতার করে।
এ মামলার বিচার শেষে ২০১৬ সালে ৯ মে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শরীফ উদ্দিন আহমেদ রায় দেন। রায়ে আবুল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে জালানি বেগমকে খালাস দেন।
রপর ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের নথি) হাইকোর্টে আসে। আর আসামি আপিল ও জেল আপিল করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নির্মাণাধীন একটি দ্বিতল ভবনের নিচতলায় একটি রিমোট কন্ট্রোল বোমা রেখে খামে ভরে একটি চিঠি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সাথে ১০ টাকার একটি নোটও দেয়া হয়েছে। বুধবার(২৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার নন্দনপুর এলাকার প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বাসায় ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ওই চিঠি দেয়া হয়। গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. মাসুম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত। তার স্ত্রী ঝর্ণা বেগম প্রথম চিঠিটি দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসাটি ঘিরে রেখেছে।
চিঠিতে লেখা রয়েছে, এক লাখ টাকা নিয়ে রাস্তায় হেঁটে কিছু দূর গিয়ে একটি চালতা গাছের নিচে চিপসের হলুদ প্যাকেটে রাত দশটার মধ্যে রাখতে বলা হয়েছে। তা না হলে রাত সাড়ে দশটায় ভবনে রাখা রিমোট কন্ট্রোল বোমাটি ফাটিয়ে দেয়া হবে।
চিঠিতে আরো লেখা রয়েছে রিমোট কন্ট্রোল বোমাটিতে হাত না দিতে এবং পুলিশকে না জানাতে। পুলিশকে জানালে তার ছেলে এবং মেয়ে কে গুলি করে মেরে ফেলা হবে।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. মাসুম ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বোমা সাদৃশ্য একটি বস্তু দেখেছি। বাড়িটি পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়া হয়েছে। ঢাকা থেকে বোম ডিসপোজাল ইউনিট আসলে বোমার মতো সাদৃশ্য বস্তুটি আসলে কি তা বলতে পারা যাবে ।
একতার কণ্ঠঃ চার দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হামিদ শিকদার হিমেলের সন্ধান মিলেছে। সোমবার(২২ নভেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলে জেলা কারাগারে হিমেলের খোঁজ পেয়েছে তার পরিবার। বদলি পরীক্ষা দেওয়ার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক মাসের জন্য কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার(১৯ নভেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলে উপ-খাদ্য পরিদর্শক পদে বদলি পরীক্ষা (প্রক্সি) দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয় হিমেল। তাঁর কাছে ডিজিটাল ডিভাইস পাওয়া যায়। পরে তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.আতাউর রাব্বি বলেন, বদলি পরীক্ষা দিতে যাওয়া হামিদ শিকদার হিমেলের কাছে ডিজিটাল ডিভাইস পাওয়ায় এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকাস্থ সখিপুর থানা স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন উদয় বলেন, ঘটনার পর সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে হিমেলকে বহিস্কার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত- ঢাবির রসায়ন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হিমেল গত শুক্রবার হল থেকে টাঙ্গাইলের সখীপুরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা থাকলেও সে বাড়ি যাননি। সন্ধান না পেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হামিদ সিকদার হিমেলকে তিন দিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গত শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল থেকে গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। এর পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন তিনি। তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে।
হিমেল ঢাকাস্থ সখীপুর থানা স্টুডেন্ট (ডিএসটিএস) অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার জামাল হাটকোড়া গ্রামের বিল্লাল সিকদারের ছেলে। তিনি ঢাবির রসায়ন বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।
হিমেলের বাবা বিল্লাল সিকদার, চাচাতো ভাই মাহফুজ, একাধিক বন্ধু ও জিডি সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) রাতে হিমেল তাঁর বাবাকে মোবাইল ফোনে জানান, শুক্রবার অথবা শনিবার বাড়ি ফিরবেন। পরে শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে বের হয়ে এখনো বাড়ি ফেরেননি। এরপর থেকেই তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইলটিও বন্ধ রয়েছে।
হিমেলের বন্ধু ফেরদৌস আহমেদ বলেন, শহীদুল্লাহ হলের প্রভোস্ট এরই মধ্যে হিমেলের কক্ষ পরিদর্শন করেছেন। তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
হিমেলের বাবা বিল্লাল সিকদার মুঠোফোনে বলেন, `সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেছি। কোথাও ছেলের সন্ধান পাইনি। আমাদের সঙ্গে কখনো মনোমালিন্যও হয়নি, তাহলে কেন সে নিখোঁজ হবে?’
হিমেলের বাবা আরও বলেন, গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাবির অপর শিক্ষার্থী ও হিমেলের চাচাতো ভাই মাহফুজ তালুকদার শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এ ছাড়া হিমেলের একাধিক বন্ধুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সন্ধান চেয়ে পোস্ট দিয়েছেন।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম জানান, `নিখোঁজ হিমেলের ব্যবহৃত মোবাইলের সর্বশেষ লোকেশন টাঙ্গাইল দেখাচ্ছে। কিন্তু মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে। আমরা বিভিন্নভাবে তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের ঘোষপাড়া এলাকার ধলেশ্বরী নদীতীরে রোববার(২১ নভেম্বর) দুপুরে গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় আফজাল হোসেন নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত আফজাল হোসেন(৪০) দাইন্যা ইউনিয়নের ফতেপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত মন্তাজ আলীর ছেলে।
দাইন্যা পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান লাভলু মিয়া লাবু জানান, শনিবার(২০ নভেম্বর) রাতে আফজাল হোসেন বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরেনি। পরদিন রোববার ধলেশ্বরী নদীতীরে গাছের সাথে গলায় কাপড় পেঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি কৃষি কাজ করতেন।
এ বিষয়ে কাগমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ(পুলিশ পরিদর্শক) মো. মোশারফ হোসেন জানান, ধলেশ্বরী নদীর তীর থেকে গাছের সাথে গলায় কাপড় পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় আফজাল নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে।নিহতের লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পারিবারিক কলহের জেরে মিনারা বেগম (২২) নামে এক গৃহবধুকে খুন করে স্বামীর আত্মসমর্পনের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার(২০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের ভাবনদত্ত পন্ডিত কাছড়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। ঘাটাইল থানা অফিসার ইন চার্জ(ওসি) মো. আজাহারুল ইসলাম সরকার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
ঘাতক স্বামী ওই গ্রামের শামছুলের ছেলে।ঘটনার পর স্বামী আমিনুল ইসলাম (২৮) কে আটক করেছে ঘাটাইল থানা পুলিশ।
স্থানিয় ইউপি সদস্য আঃ ছালাম জানান, গৃহবধু মিনারা বেগম(২২কে) স্বামী আমিনুল গলাটিপে হত্যা করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
ঘাটাইল থানা অফিসার ইন চার্জ(ওসি) মো. আজাহারুল ইসলাম সরকার বলেন, স্ত্রীকে হত্যার পর ঘাতক স্বামী আমিনুল ইসলাম নিজেই থানায় ফোন করে জানায় আমি আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছি। আপনারা এসে আমাকে নিয়ে যান। পরে আমিসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক আমিনুলকে আটক করি। সে প্রাথমিকভাবে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
তিনি আরো বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রবিবার(২১ নভেম্বর) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।
একাতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে নির্বাচনের ৮দিন পর একটি বিদ্যালয়ের ছাদে সিল মারা ৫২৭ টি ব্যালট পেপার উদ্ধার হয়েছে। শনিবার(২০ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের সেহরাতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদ থেকে সিল মারা তালগাছ প্রতীকের ওই ব্যালট পেপারগুলো উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নে দ্বিতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে তালগাছ প্রতীকের নারী সদস্য পদের প্রার্থী বিউটি আক্তার ৩০০ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। নির্বাচনের ৮ দিন পর সকালে এ ইউনিয়নের সেহরাতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদে শিশু শিক্ষার্থীরা খেলতে গিয়ে ব্যালট পেপারগুলো দেখতে পায়। তারা বিষয়টি শিক্ষকদের জানায়। পরে শিক্ষকরা স্থানীয়দের অবগত করলে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তালগাছ প্রতীকের প্রার্থী বিউটি আক্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত আসেন। ব্যালট পেপার দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এই সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী সদস্য পদে মাইক প্রতীকের প্রার্থী রাশেদা বেগম ১৮শ’ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
বিউটি আক্তার বলেন, ‘আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। নির্বাচনে আমাকে ৩০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত দেখানো হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ৮দিন পর আমার নিজ কেন্দ্রের বিদ্যালয়ের ছাদে তালগাছ প্রতীকের সিল মারা ৫২৭টি ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে। এই ব্যালট পেপারগুলো একত্রিত করলে আমি দুই শতাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতাম। নির্বাচনে ফেল করাতেই আমার প্রতীকের সিল মারা ব্যালট পেপার বিদ্যালয়ের ছাদে রেখে দেয়। পরে ভোট গণনা করে আমাকে ফেল দেখানো হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি আদালতে আইনগত ব্যবস্থায় যাবো। ব্যালট পেপারগুলো আমার কাছে এনে রেখেছি।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। তবে মোবাইলে শুনেছি। প্রার্থী ট্রাইবুনালে অভিযোগ করে আইনগত ব্যবস্থা চাইতে পারেন।
এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান বলেন কে বা কারা ব্যালট পেপারগুলো বিদ্যালয়ের ছাদে রেখে গেছেন, সেটা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। নির্বাচন শেষ করে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সিলগালা করে ফলাফল ঘোষণা করে এসেছেন। তখন কোন প্রার্থীর অভিযোগ ছিল না।
দেলদুয়ার থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন অফিসিয়ালি অভিযোগ বা কোন নির্দেশনা পেলে বিষয়টি আমরা তদন্ত করবো।
একতার কণ্ঠঃ পৃথিবীর ইতিহাসে নৃশংসতম গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে। পাকিস্তানী সেনা বাহিনী বাঙালী নিধনের উৎসবে মেতেছিল। তাদের পরিচালিত সুপরিকল্পিত হত্যাকান্ডের স্থান ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সারা বাংলাদেশে। সেই সব বধ্যভূমির সবগুলো এখনও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দেশের সকল জেলায় ‘গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটার’ শিরোনামে নাটক নির্মাণ করছে।
এবছর বাঙ্গালী জাতির গৌরবের বছর। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে লাখো শহীদের শবের পলিতে উর্বর জনপদ এই বাংলায় মহান স্বাধীনতার সুবর্ণবর্ষ পালন করার প্রস্তুতি চলছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্যাপনে বেশকিছু কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছে। এসব কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির বীর সন্তানদের যে ত্যাগ তার মহিমাকে নতুন প্রজন্মের সামনে বিভিন্ন প্রযোজনার মাধ্যমে তুলে ধরা এবং বাঙ্গালি জাতির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে শিল্পের আলোয় নতুনভাবে পাঠ ও সংরক্ষণসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উপস্থাপনের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভূমিকা পালন করা। আর সেই লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের বধ্যভূমি নিয়ে নির্মিত হচ্ছে না খুলি।
“খুলি” বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বলি হওয়া মানুষের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মিত নাটক। নাটকটি লিখেছেন ড. তানভীর আহদে সিডনী, নির্দেশনা দিয়েছেন প্রফেসর ড. মীর মেহবুব আলম নাহিদ। সমন্বয়কারী হিসেবে আছেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার মো. এরশাদ হাসান।
এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ডক্টর মোঃ আতাউল গনির সভাপতিত্বে প্রেস ব্রিফিংয়ে নাটকটির রচয়িতা ডক্টর তানভীর আহমেদ সিডনী ও সহযোগী নির্দেশক শামীম সাগর ও জেলা কালচারাল অফিসার এরশাদ হাসান নাটকটির বিষয়বস্তু তুলে ধরেন।
বক্তরা জানান, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে টাঙ্গাইল পানির ট্যাংক বধ্যভূমি এলাকায় পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী বীর বাঙ্গালীর উপর নির্মম অত্যাচারের সঠিক চিত্র নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ আয়োজন। শনিবার (২০ নভেম্বর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহা-পরিচালক লিয়াকত আলী লাকী ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে নাটকটির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেনসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার ও সমন্বয়কারী মো. এরশাদ হাসান বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা নিয়ে এই বিশাল কাজের সাথে যুক্ত থাকতে পেরে আমি গর্বিত বোধ করছি। আগামি ২০ নভেম্বর পানির ট্যাংক বধ্যভূমিকে উন্মুক্ত মঞ্চ করে নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে। সকলের উপস্থিতি কামনা করছি।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী টাঙ্গাইল সার্টিক হাউসে অবস্থান নিয়ে শুরু করে হত্যাযজ্ঞ। রাজাকার আলবদরদের সহায়তায় টাঙ্গাইল শহর আর আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে স্বাধীনতার সপক্ষের মানুষ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে আনতো এই সার্কিট হাউসে। নির্যাতন চালানোর পর এই পানির ট্যাংকি এলাকায় নিয়ে তাদের হত্যা করে ফেলে রাখা হতো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ৭ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে রিশাদ মিয়া (৩০ ) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার( ১৮ নভেম্বর) ভোরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর টাঙ্গাইলের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রিশাদ জেলার সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের মফিজ মিয়ার ছেলে। সে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বড় বেলতা এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করছিল। পেশায় ট্রাক্টর চালক।
র্যাব জানায়, অভিযুক্ত রিশাদ মিয়া টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বড় বেলতা এলাকায় বাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করছিল। হঠাৎ করে গত ১৪ নভেম্বর রিশাদ ওই এলাকার ৭ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে। ওই ঘটনায় কিশোরীর পরিবার টাঙ্গাইল সদর থানা ও র্যাব কার্যালয়ে অভিযোগ দেয়। এরপর র্যাব বিষয়টি নিয়ে অভিযানে নামে। ওই কিশোরীকে নিয়ে বারবার স্থান ত্যাগ করায় বেকায়দায় পড়ে র্যাব। বুধবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি বাসা থেকে হাত, পা ও মুখ বাধা অবস্থায় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় রাতেই রিশাদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকা থেকে রিশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযুক্ত রিশাদকে গ্রেফতার করা হয়। রিশাদ ওই কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। এঘটনায় আরও ৩-৪জন তাকে সহযোগিতা করে। তাদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারকৃত রিশাদকে বৃহস্পতিবার(১৮ নভেম্বর) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। কিশোরীকে উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ মওলানা ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে এসে হামলার শিকার হওয়ার পৌনে তিন ঘণ্টা পর পুলিশি নিরাপত্তায় টাঙ্গাইল ছেড়েছেন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া এবং সংগঠনটির সদস্য সচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।
এই দীর্ঘ সময় কাগমারি পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশি হেফাজতে থাকার পর বুধবার (১৭ নভেম্বর) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে তারা তাদের সফরসঙ্গী ও দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে বের হন।
এর আগে ডা. জাফরুল্লাহ একই মাজারে ফুল দিয়ে ভিপি নুরের সঙ্গে দেখা করতে এসে একত্রে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে বের হন। পরে যাওয়ার সময় টাঙ্গাইল সদর থানায় পুলিশি হেফাজতে থাকা ড. রেজা কিবরিয়াকে নিয়ে তারা ঢাকার দিকে রওনা হন।
এদিকে হামলার পর মাজার ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। পুলিশের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে এলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় আমার সহযোদ্ধারা আমাকে নিরাপত্তা দিয়ে মাজারের পাশে থাকা একটি পুলিশভ্যানে তোলেন। এরপরও মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠিশোটা নিয়ে পুলিশের সামনেই পুনরায় হামলা করে।’
নুর বলেন, ‘একপর্যায়ে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ আমাদের সেখান থেকে টাঙ্গাইলের কাগমারি পুলিশ ফাঁড়িতে হেফাজতে নেয়। আর ড. রেজা কিবরিয়াকে টাঙ্গাইল সদর থানায় নেওয়া হয়। হামলার ঘটনায় আমাদের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নিবির পাল বলেন, ‘ড. রেজা ও ভিপি নুর সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিল। এসময় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করায় তারা আমাদের ওপর হামলা করে। এতে ছাত্রলীগের চার সদস্য আহত হয়েছেন।’
টাঙ্গাইলের অতিরক্তি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সরোয়ার হোসেন জানান, ‘গণঅধিকার পরিষদের নেতারা মওলানা ভাসানীর মাজারে কাছাকাছি পৌঁছার পর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ড. কিবরিয়া ও ভিপি নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের পুলিশি নিরাপত্তায় ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তারা চলে গেছেন।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন জানাতে এসে হামলার শিকার হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া এবং সংগঠনটির সদস্য সচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। এক পর্যায়ে রেজা কিবরায়া ও নুরুল হক নূরসহ নেতাকর্মীরা পুলিশ ভ্যানে আশ্রয় নেয়। এ ঘটনায় ৫ থেকে ৬ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ নভেম্বর) দুপরে বিশ্বিবদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের ওপর এ হামলা করে বলে অভিযোগ করেন সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিলুজ্জামান।
তিনি বলেন, দুপুরে ১২টার দিকে মওলানা ভাসানীর মাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী দলীয় স্লোগান দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালান। এতে আমাদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া ও সদস্য সচিব নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েক দফায় দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেলসহ আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রায় ৪০ মিনিট পর আমাদের নেতাদের পুলিশের গাড়িতে করে বের করে নেওয়ার সময় ফের হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনার পর থেকে ভাসানীর মাজার এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে সংগঠিত মাজার এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। তারা কিবরিয়াও নুরবিরোধী নানা স্লোগান দেন।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নিবির পাল বলেন, ড. রেজা ও ভিপি নুর সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলো। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তার প্রতিবাদ করায় তারা আমাদের উপর হামলা করেন। এতে ছাত্রলীগের চার সদস্য আহত হয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ছাত্রলীগ সব সময় সান্তির প্রতীক।
হামলার বিষয়ে টাঙ্গাইলের অতিরক্তি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সরওয়ার হোসেন বলেন, গণঅধিকার পরিষদের নেতারা মওলানা ভাসানীর মাজারে কাছাকাছি পৌঁছার পর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। এক পর্যায়ে ড. কিবরিয়া ও নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের পুলিশি নিরাপত্তায় ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এ ঘটনায় ছাত্রলীগের বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন। তবে অপর পক্ষের কেউ আহত হয়েছেন কি না তা তিনি বলতে পারেননি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মায়ের কাছে মুঠোফোন না পেয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের আত্মহত্যা ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর)সকালে সখীপুর উপজেলার ঘোনারচালা গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোর আশিক আহমেদ (১৩) মালয়েশিয়া প্রবাসী আলী আকবর ও ছালমা বেগমের ছেলে। সে ঘোনারচালা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। ছালমা বেগম দুই সন্তানকে নিয়ে ঘোনারচালা গ্রামে থাকেন।
ছালমা বেগম জানান, আশিক বেশির ভাগ সময় তাঁর মুঠোফোন নিয়ে গেমস খেলত। মঙ্গলবার সকালে মেয়েকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সময় আশিক মায়ের মুঠোফোনটি বাসায় রেখে যাওয়ার জন্য বায়না ধরে। কিন্তু তিনি ফোন নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে চলে যান। তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আশিককে কান্না করতে দেখেছিলেন। কিছুক্ষণ পর আশিকের দাদি ঘরে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আশিকের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে ছালমা বেগম বাড়িতে আসেন। পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
আশিকের স্বজনদের ধারণা, মায়ের কাছে মুঠোফোন না পেয়ে আশিক ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মজিবর রহমান জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই আশিকের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মুঠোফোন না দেওয়ায় ওই স্কুলছাত্র আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েদের জন্য মুঠোফোন ও গেমস এক ধরনের নেশা। মুঠোফোনের নেশায় আসক্ত হয়ে অনেক কিশোর কিশোরীরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। এ সমস্যা থেকে রেহাই পেতে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।