একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রাকের চাপায় এক অটোরিক্সার যাত্রী ৭ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী নিহত হয়েছে। ওই ঘটনায় আহত হয়েছে আরোও দুইজন।শুক্রবার (৩ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের গোপালদিঘী কে.পি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত স্কুল ছাত্রী হাফিজা আক্তার,উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের কালোহা গ্রামের হাবুল মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় গোপালদিঘী কে.পি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী ছিল।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে উপজেলার বল্লা থেকে ছেড়ে আসা একটি ইট বোঝাই ট্রাক এলেঙ্গা রোডের গোপালদিঘী কে.পি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পৌছালে বালিয়াটা থেকে ছেড়ে আসা একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সাকে ধাক্কা দেয়। এসময় ওই অটোরিক্সায় থাকা হাফিজা আক্তার ঘটনাস্থলে নিহত হয়।
এসময় আহত হয় আরো ২জন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। স্থানীয়রা ট্রাকটিকে আটক করলেও চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে। চালককে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলে খাবার হোটেলে দাম বেশি রাখায় এবং অপরিচ্ছন্নভাবে খাবার তৈরি করায় পাঁচ হোটেল মালিককে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুনের নেতৃত্বে শহরের নিরালা মোড়, মিষ্টিপট্টি ও নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই জরিমানা আদায় করা হয়।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রানুয়ারা খাতুন জানান, শহরের হোটেল গুলোতে অপরিচ্ছন্নভাবে খাবার তৈরি ও খাবারের দামের বিষয়ে অভিযোগ আসছিলো। তারই প্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।এ সময় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিকার আইন ২০০৯ ধারা অনুযায়ী শহরের ‘কিছুক্ষণ’ হোটেলকে পাঁচ হাজার, পিয়াসী হোটেলকে দুই হাজার, টিপটপ হোটেলকে পাঁচ হাজার, ফাইলার হোটেল ও সুরুতী হোটেলকে তিন হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
তিনি আরো বলেন, এধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত জেলা শ্রমিক লীগ নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা(৩৮) বুধবার(২৪ নভেম্বর) বিকেলে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. সজিব মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত রেজা শহরের দেওলা এলাকার মো. আজাদ আলমগীরের ছেলে। শ্রমিক লীগের রাজনীতিতে আসার পূর্বে রেজা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।
প্রসঙ্গত, রবিবার(২১ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে শহরের নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় রেজাউল ইসলামের উপর একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। তারা রেজাউলের হাত, পা, মেরুদন্ডসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারে অবস্থিত এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় তার অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
রেজাউলের মৃত্যুর খবরে তার এলাকায় শোকের পবিবেশ বিরাজ করছে।
রেজাউলের খালাতো ভাই জুয়েল রানা বলেন, রাতে লাশ টাঙ্গাইলে আনা হবে। বৃহস্পতিবার দাফন ও আইনগত ব্যবস্থায় যাবেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন এ ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ মামলা করে নি। তবে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে ।

রেজাউলের মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারন সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা তার খুনিকে অবিলম্বে আইনের আওয়াতায় এনে বিচারের দাবী জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে কিস্তি আদায় করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া মিরা খাতুন (৩২) নামে এনজিও কর্মীর খোঁজ মেলেনি পাঁচ দিনেও। এদিকে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল ওহাব মিয়া জানান, ‘নিখোঁজ এনজিও কর্মীর খোঁজ পেতে দেশের সব থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে।
নিখোঁজ মিরা বেসরকারি সংস্থা সোসাইটি ফর সোস্যাল সার্ভিস (এসএসএস)-এর ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা শাখার সিনিয়র মাঠ সংগঠক। তিনি কালিহাতী উপজেলার সালেঙ্গা এলাকার রাজিব মিয়ার স্ত্রী।
সূত্র জানায়, গত শনিবার (২০ নভেম্বর) ফলদা এসএসএস অফিস থেকে মিরা উপজেলার ঝনঝনিয়া ও মাইজবাড়ি গ্রামে কিস্তি আদায় করতে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। ওই দিনই এনজিও কর্তৃপক্ষ মিরার সন্ধানে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে।
এসএসএসের ফলদা শাখার ব্যবস্থাপক বন্যা আক্তার বলেন, ‘দেড় বছর ধরে মিরা ফলদা শাখায় মাঠ সংগঠক হিসেবে চাকরি করছেন। নিখোঁজের দিন মিরা এই শাখার অধীন ঝনঝনিয়া ও মাইজবাড়ি গ্রামে কিস্তি আদায় করতে যান। সেখান থেকে তার ফলদা শাখায় ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু দুই কেন্দ্রে কাজ শেষ করার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।’
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল ওহাব মিয়া বলেন, ‘নিখোঁজ এনজিও কর্মীর খোঁজ পেতে দেশের সব থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তার সন্ধান অব্যাহত আছে।’
তিনি আরো বলেন, আশা করি খুব দ্রুতই মিরা খাতুনের খোঁজ পাওয়া যাবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যার দায়ে আবুল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হারুনর রশিদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ আহমদ হিরো। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ আহমদ হিরো।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই বাসাইল উপজেলার সোনালিয়া গ্রামের আবুল হোসেন ব্যবসা করার কথা বলে তার স্ত্রী খোদেজা বেগমকে বাবার বাড়ি থেকে ১০ হাজার টাকা এনে দিতে বলেন। পরে খোদেজা বেগম স্বামীর কথা মতো তার বাবার বাড়ি করটিয়া কলেজ পাড়ায় যান এবং তার গরিব বাবার কাছ থেকে তিন হাজার টাকা সংগ্রহ করে এনে দেন।
এতে আবুল হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী জালানি বেগম মিলে খোদেজাকে বেদম মারধর করেন। মারধরের একপর্যায়ে খোদেজা বেগম মারা যান। পরে এ ঘটনায় নিহত খোদেজার চাচা শহিদুল ইসলাম শহিদ বাদী হয়ে বাসাইল থানা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ আবুল হোসেন ও জালানি বেগমকে গ্রেফতার করে।
এ মামলার বিচার শেষে ২০১৬ সালে ৯ মে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শরীফ উদ্দিন আহমেদ রায় দেন। রায়ে আবুল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে জালানি বেগমকে খালাস দেন।
রপর ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের নথি) হাইকোর্টে আসে। আর আসামি আপিল ও জেল আপিল করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নির্মাণাধীন একটি দ্বিতল ভবনের নিচতলায় একটি রিমোট কন্ট্রোল বোমা রেখে খামে ভরে একটি চিঠি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সাথে ১০ টাকার একটি নোটও দেয়া হয়েছে। বুধবার(২৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার নন্দনপুর এলাকার প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বাসায় ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ওই চিঠি দেয়া হয়। গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. মাসুম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত। তার স্ত্রী ঝর্ণা বেগম প্রথম চিঠিটি দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসাটি ঘিরে রেখেছে।
চিঠিতে লেখা রয়েছে, এক লাখ টাকা নিয়ে রাস্তায় হেঁটে কিছু দূর গিয়ে একটি চালতা গাছের নিচে চিপসের হলুদ প্যাকেটে রাত দশটার মধ্যে রাখতে বলা হয়েছে। তা না হলে রাত সাড়ে দশটায় ভবনে রাখা রিমোট কন্ট্রোল বোমাটি ফাটিয়ে দেয়া হবে।
চিঠিতে আরো লেখা রয়েছে রিমোট কন্ট্রোল বোমাটিতে হাত না দিতে এবং পুলিশকে না জানাতে। পুলিশকে জানালে তার ছেলে এবং মেয়ে কে গুলি করে মেরে ফেলা হবে।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. মাসুম ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বোমা সাদৃশ্য একটি বস্তু দেখেছি। বাড়িটি পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়া হয়েছে। ঢাকা থেকে বোম ডিসপোজাল ইউনিট আসলে বোমার মতো সাদৃশ্য বস্তুটি আসলে কি তা বলতে পারা যাবে ।
একতার কণ্ঠঃ চার দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হামিদ শিকদার হিমেলের সন্ধান মিলেছে। সোমবার(২২ নভেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলে জেলা কারাগারে হিমেলের খোঁজ পেয়েছে তার পরিবার। বদলি পরীক্ষা দেওয়ার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক মাসের জন্য কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার(১৯ নভেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলে উপ-খাদ্য পরিদর্শক পদে বদলি পরীক্ষা (প্রক্সি) দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয় হিমেল। তাঁর কাছে ডিজিটাল ডিভাইস পাওয়া যায়। পরে তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.আতাউর রাব্বি বলেন, বদলি পরীক্ষা দিতে যাওয়া হামিদ শিকদার হিমেলের কাছে ডিজিটাল ডিভাইস পাওয়ায় এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকাস্থ সখিপুর থানা স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন উদয় বলেন, ঘটনার পর সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে হিমেলকে বহিস্কার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত- ঢাবির রসায়ন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হিমেল গত শুক্রবার হল থেকে টাঙ্গাইলের সখীপুরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা থাকলেও সে বাড়ি যাননি। সন্ধান না পেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হামিদ সিকদার হিমেলকে তিন দিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গত শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল থেকে গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। এর পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন তিনি। তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে।
হিমেল ঢাকাস্থ সখীপুর থানা স্টুডেন্ট (ডিএসটিএস) অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার জামাল হাটকোড়া গ্রামের বিল্লাল সিকদারের ছেলে। তিনি ঢাবির রসায়ন বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।
হিমেলের বাবা বিল্লাল সিকদার, চাচাতো ভাই মাহফুজ, একাধিক বন্ধু ও জিডি সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) রাতে হিমেল তাঁর বাবাকে মোবাইল ফোনে জানান, শুক্রবার অথবা শনিবার বাড়ি ফিরবেন। পরে শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে বের হয়ে এখনো বাড়ি ফেরেননি। এরপর থেকেই তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইলটিও বন্ধ রয়েছে।
হিমেলের বন্ধু ফেরদৌস আহমেদ বলেন, শহীদুল্লাহ হলের প্রভোস্ট এরই মধ্যে হিমেলের কক্ষ পরিদর্শন করেছেন। তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
হিমেলের বাবা বিল্লাল সিকদার মুঠোফোনে বলেন, `সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেছি। কোথাও ছেলের সন্ধান পাইনি। আমাদের সঙ্গে কখনো মনোমালিন্যও হয়নি, তাহলে কেন সে নিখোঁজ হবে?’
হিমেলের বাবা আরও বলেন, গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাবির অপর শিক্ষার্থী ও হিমেলের চাচাতো ভাই মাহফুজ তালুকদার শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এ ছাড়া হিমেলের একাধিক বন্ধুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সন্ধান চেয়ে পোস্ট দিয়েছেন।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম জানান, `নিখোঁজ হিমেলের ব্যবহৃত মোবাইলের সর্বশেষ লোকেশন টাঙ্গাইল দেখাচ্ছে। কিন্তু মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে। আমরা বিভিন্নভাবে তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের ঘোষপাড়া এলাকার ধলেশ্বরী নদীতীরে রোববার(২১ নভেম্বর) দুপুরে গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় আফজাল হোসেন নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত আফজাল হোসেন(৪০) দাইন্যা ইউনিয়নের ফতেপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত মন্তাজ আলীর ছেলে।
দাইন্যা পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান লাভলু মিয়া লাবু জানান, শনিবার(২০ নভেম্বর) রাতে আফজাল হোসেন বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরেনি। পরদিন রোববার ধলেশ্বরী নদীতীরে গাছের সাথে গলায় কাপড় পেঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি কৃষি কাজ করতেন।
এ বিষয়ে কাগমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ(পুলিশ পরিদর্শক) মো. মোশারফ হোসেন জানান, ধলেশ্বরী নদীর তীর থেকে গাছের সাথে গলায় কাপড় পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় আফজাল নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে।নিহতের লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পারিবারিক কলহের জেরে মিনারা বেগম (২২) নামে এক গৃহবধুকে খুন করে স্বামীর আত্মসমর্পনের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার(২০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের ভাবনদত্ত পন্ডিত কাছড়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। ঘাটাইল থানা অফিসার ইন চার্জ(ওসি) মো. আজাহারুল ইসলাম সরকার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
ঘাতক স্বামী ওই গ্রামের শামছুলের ছেলে।ঘটনার পর স্বামী আমিনুল ইসলাম (২৮) কে আটক করেছে ঘাটাইল থানা পুলিশ।
স্থানিয় ইউপি সদস্য আঃ ছালাম জানান, গৃহবধু মিনারা বেগম(২২কে) স্বামী আমিনুল গলাটিপে হত্যা করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
ঘাটাইল থানা অফিসার ইন চার্জ(ওসি) মো. আজাহারুল ইসলাম সরকার বলেন, স্ত্রীকে হত্যার পর ঘাতক স্বামী আমিনুল ইসলাম নিজেই থানায় ফোন করে জানায় আমি আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছি। আপনারা এসে আমাকে নিয়ে যান। পরে আমিসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক আমিনুলকে আটক করি। সে প্রাথমিকভাবে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
তিনি আরো বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রবিবার(২১ নভেম্বর) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।
একাতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে নির্বাচনের ৮দিন পর একটি বিদ্যালয়ের ছাদে সিল মারা ৫২৭ টি ব্যালট পেপার উদ্ধার হয়েছে। শনিবার(২০ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের সেহরাতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদ থেকে সিল মারা তালগাছ প্রতীকের ওই ব্যালট পেপারগুলো উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নে দ্বিতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে তালগাছ প্রতীকের নারী সদস্য পদের প্রার্থী বিউটি আক্তার ৩০০ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। নির্বাচনের ৮ দিন পর সকালে এ ইউনিয়নের সেহরাতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদে শিশু শিক্ষার্থীরা খেলতে গিয়ে ব্যালট পেপারগুলো দেখতে পায়। তারা বিষয়টি শিক্ষকদের জানায়। পরে শিক্ষকরা স্থানীয়দের অবগত করলে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তালগাছ প্রতীকের প্রার্থী বিউটি আক্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত আসেন। ব্যালট পেপার দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এই সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী সদস্য পদে মাইক প্রতীকের প্রার্থী রাশেদা বেগম ১৮শ’ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
বিউটি আক্তার বলেন, ‘আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। নির্বাচনে আমাকে ৩০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত দেখানো হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ৮দিন পর আমার নিজ কেন্দ্রের বিদ্যালয়ের ছাদে তালগাছ প্রতীকের সিল মারা ৫২৭টি ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে। এই ব্যালট পেপারগুলো একত্রিত করলে আমি দুই শতাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতাম। নির্বাচনে ফেল করাতেই আমার প্রতীকের সিল মারা ব্যালট পেপার বিদ্যালয়ের ছাদে রেখে দেয়। পরে ভোট গণনা করে আমাকে ফেল দেখানো হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি আদালতে আইনগত ব্যবস্থায় যাবো। ব্যালট পেপারগুলো আমার কাছে এনে রেখেছি।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। তবে মোবাইলে শুনেছি। প্রার্থী ট্রাইবুনালে অভিযোগ করে আইনগত ব্যবস্থা চাইতে পারেন।
এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান বলেন কে বা কারা ব্যালট পেপারগুলো বিদ্যালয়ের ছাদে রেখে গেছেন, সেটা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। নির্বাচন শেষ করে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সিলগালা করে ফলাফল ঘোষণা করে এসেছেন। তখন কোন প্রার্থীর অভিযোগ ছিল না।
দেলদুয়ার থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন অফিসিয়ালি অভিযোগ বা কোন নির্দেশনা পেলে বিষয়টি আমরা তদন্ত করবো।
একতার কণ্ঠঃ পৃথিবীর ইতিহাসে নৃশংসতম গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে। পাকিস্তানী সেনা বাহিনী বাঙালী নিধনের উৎসবে মেতেছিল। তাদের পরিচালিত সুপরিকল্পিত হত্যাকান্ডের স্থান ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সারা বাংলাদেশে। সেই সব বধ্যভূমির সবগুলো এখনও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দেশের সকল জেলায় ‘গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটার’ শিরোনামে নাটক নির্মাণ করছে।
এবছর বাঙ্গালী জাতির গৌরবের বছর। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে লাখো শহীদের শবের পলিতে উর্বর জনপদ এই বাংলায় মহান স্বাধীনতার সুবর্ণবর্ষ পালন করার প্রস্তুতি চলছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্যাপনে বেশকিছু কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছে। এসব কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির বীর সন্তানদের যে ত্যাগ তার মহিমাকে নতুন প্রজন্মের সামনে বিভিন্ন প্রযোজনার মাধ্যমে তুলে ধরা এবং বাঙ্গালি জাতির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে শিল্পের আলোয় নতুনভাবে পাঠ ও সংরক্ষণসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উপস্থাপনের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভূমিকা পালন করা। আর সেই লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের বধ্যভূমি নিয়ে নির্মিত হচ্ছে না খুলি।
“খুলি” বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বলি হওয়া মানুষের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মিত নাটক। নাটকটি লিখেছেন ড. তানভীর আহদে সিডনী, নির্দেশনা দিয়েছেন প্রফেসর ড. মীর মেহবুব আলম নাহিদ। সমন্বয়কারী হিসেবে আছেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার মো. এরশাদ হাসান।
এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ডক্টর মোঃ আতাউল গনির সভাপতিত্বে প্রেস ব্রিফিংয়ে নাটকটির রচয়িতা ডক্টর তানভীর আহমেদ সিডনী ও সহযোগী নির্দেশক শামীম সাগর ও জেলা কালচারাল অফিসার এরশাদ হাসান নাটকটির বিষয়বস্তু তুলে ধরেন।
বক্তরা জানান, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে টাঙ্গাইল পানির ট্যাংক বধ্যভূমি এলাকায় পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী বীর বাঙ্গালীর উপর নির্মম অত্যাচারের সঠিক চিত্র নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ আয়োজন। শনিবার (২০ নভেম্বর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহা-পরিচালক লিয়াকত আলী লাকী ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে নাটকটির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেনসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার ও সমন্বয়কারী মো. এরশাদ হাসান বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা নিয়ে এই বিশাল কাজের সাথে যুক্ত থাকতে পেরে আমি গর্বিত বোধ করছি। আগামি ২০ নভেম্বর পানির ট্যাংক বধ্যভূমিকে উন্মুক্ত মঞ্চ করে নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে। সকলের উপস্থিতি কামনা করছি।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী টাঙ্গাইল সার্টিক হাউসে অবস্থান নিয়ে শুরু করে হত্যাযজ্ঞ। রাজাকার আলবদরদের সহায়তায় টাঙ্গাইল শহর আর আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে স্বাধীনতার সপক্ষের মানুষ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে আনতো এই সার্কিট হাউসে। নির্যাতন চালানোর পর এই পানির ট্যাংকি এলাকায় নিয়ে তাদের হত্যা করে ফেলে রাখা হতো।