একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বালুমহাল দখল নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছে । শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল ওহাব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, গত ৩ জানুয়ারি ভূঞাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে ৫৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৮শ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকেই এলাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ কারণে অনেক পুরুষ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের বাগানবাড়ি এলাকায় বালু মহাল দখল করতে যায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার ও তার লোকজন। খবর পেয়ে বাধা দেয় বর্তমান নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বহিস্কৃত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হক মাসুদের সমর্থকরা। এসময় পুলিশের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করতে ৪ রাউন্ড গুলিও করা হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হন।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওহাব জানান, সংঘর্ষের সময় গুলি করার কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা সেটা তদন্ত হচ্ছে। সংঘর্ষের সময়ের ভিডিও দেখে আসামি শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় বালু ঘাট ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ টি ইট ভাটায় অভিযান চালিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। অভিযানে ৩ টি ইটভাটার মালিককে ১৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং ২ টি ইটভাটার বিভিন্ন অবকাঠামো ভেঙ্গে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত ইট ভাটায় অভিযান পরিচালনা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুন্নেছা আক্তার।
অভিযানে উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নে এস কে এস ব্রিকসকে ৩ লাখ, সহবতপুর ইউনিয়নের আমিন ব্রিকসকে ৫ লাখ আর মেসার্স প্যাসিফিক ব্রিকসকে ৫ লাখ টাকাসহ মোট ১৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়াও গয়হাটা ইউনিয়নের মেসার্স তাজ ব্রিকস আর সহবতপুর ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিকস ইটভাটার বিভিন্ন অবকাঠামো ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুন্নেছা আক্তার বলেন, ইটভাটায় যে মাটি ব্যবহার করা হবে সেটার জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমিত নিতে হয়। এছাড়াও ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী ইটভাটার মালিকদের জরিমানা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে প্রসিকিউটির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক বিপ্লব কুমার সূত্রধর। এ সময় জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তাপস চন্দ্র পালসহ পুলিশ ও নাগরপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের পুংলী নদীর অংশে দিন-রাত অবাধে চলছে বালু উত্তোলন।জেলা প্রশাসনের কোন প্রকার বৈধ অনুমোদন না থাকলেও প্রকাশ্যে একটি ভেকু ও ১৪টি ড্রাম ট্রাকের সাহায্য দিন-রাত চলছে ওই অবৈধ বালু উত্তোলন। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধ, স্থানীয় বসতভিটা ,ফসলি জমিসহ সরকারি রাস্তা।অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাগণ কোন ধরনের প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের পৌলি দক্ষিন পাড়ার পুংলী নদীর অংশ থেকে একটি ভেকুর মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলনকৃত বালু ১৪টি ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন জায়গায় রশীদের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত বোঝাইকৃত বালু ভর্তি ড্রাম ট্রাক চলাচলের ফলে পৌলি দক্ষিন পাড়া থেকে বঙ্গবন্ধুসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে যাওয়ার ওই এলাকাবাসীর যাতায়াতের একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি বিভিন্ন জায়গায় দেবে গেছে।এ ছাড়া ট্রাক চলাচলের সময় উড়া ধুলা-বালিতে স্থানীয়দের বাড়ী-ঘর ধুলায় ঢেকে গেছে। এই রাস্তাটি টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধের অংশ হওয়ায়, হুমকির মুখে পড়েছে ওই বাঁধ।
স্থানীয়বাসিন্দা জহের আলী, আলেয়া বেগম, শহিদুল্যা সহ বেশ কয়েকজন বলেন, নদী থেকে দিন-রাত বালু উত্তোলনের ফলে তাদের বসতভিটা নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া বালু বোঝাই ট্রাক চলাচলের ফলে এলাকাটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
এলেঙ্গা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুকুমার ঘোষ প্রথমে বালু উত্তোলনের বৈধতার কথা বুঝানোর চেষ্টা করলেও পরে আইনগত দিক সর্ম্পকে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি যতদুর জানি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার মো. নজরুল ইসলামের প্রয়োজনে টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধে বালু ফেলার জন্য ওই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, স্থানীয় কিছু বাসিন্দা বাঁধে সরবরাহ করার জন্য ওই বালু নদী থেকে তুলছে। বালু উত্তোলনের কোন বৈধ কাগজ পত্র আছে কিনা তা তিনি জানেন না।
এ বিষয়ে,কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোবাশ্বের আলী জানান, কালিহাতীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত চলমান রয়েছে। পুংলি নদীর ওই অংশ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার(৩১ জানুয়ারি) কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল ওই রায় ঘোষণা করেন।

নিহত মেজর(অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান
রায়ে টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত এবং কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও সাগর দেবের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজারের বাহারছড়ার মারিশবুনিয়া গ্রামের মো. নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াজ ও মো. নিজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বাকি সাতজন আসামি খালাস পেয়েছেন।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন কর্মকর্তা পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সিনহা মো. রাশেদ খান। তাঁর সঙ্গে থাকা সাহেদুল ইসলামকে (সিফাত) পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর সিনহা যেখানে ছিলেন, সেই নীলিমা রিসোর্টে ঢুকে তাঁর ভিডিও দলের দুই সদস্য শিপ্রা দেবনাথ ও তাহসিন রিফাত নুরকে আটক করে। পরে তাহসিনকে ছেড়ে দিলেও শিপ্রা ও সিফাতকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এই দুজন পরে জামিনে মুক্তি পান।
ছেলের হত্যার রায় শুনতে সিনহার মা নাসিমা আক্তার কক্সবাজারে আসেন। মামলার বাদী ও সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার ভাই সিনহা হত্যা মামলায় রায় শুনতে সকালে মাকে নিয়ে আমরা উত্তরার বাসা থেকে রওনা হই। এখন আমরা কক্সবাজারে।’

সিনহা হত্যা মামলার ১৫ জন আসামির ছবি
সিনহা হত্যায় মামলা চারটি
সিনহা হত্যার ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। এর মধ্যে দুটি মামলা হয় টেকনাফ থানায়, একটি রামু থানায়। তিনটি মামলার দুটি মাদক রাখার অভিযোগে এবং একটি পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে।
এ ঘটনায় হত্যা মামলাটি করেন সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। ওই বছরের ৫ আগস্ট আদালতে করা ওই মামলায় তিনি টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ পুলিশের ৯ সদস্যকে আসামি করেন।
চারটি মামলারই তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। পরে র্যাব এ ঘটনায় প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলীসহ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের ১১ জন পুলিশ সদস্য ও ৩ জন গ্রামবাসী। পুলিশের করা তিনটি মামলার তদন্তে উত্থাপিত অভিযোগের কোনো সত্যতা না পাওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে র্যাব। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, ওসি প্রদীপ কুমার দাশের পূর্বপরিকল্পনায় আসামিরা মেজর (অব.) সিনহাকে গুলি করে হত্যা করেন।
গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে আসামি করে কক্সবাজার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় র্যাব। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন । তবে ওসি প্রদীপ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। এর আগে আসামিদের তিন দফায় ১২ থেকে ১৫ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।
গত বছরের ২৭ জুন প্রদীপসহ ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার শুরু হয়।
অভিযোগপত্রে থাকা ৮৩ সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। ১২ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর নবজাতক শিশু হত্যা মামলায় মা-মেয়ে কে গ্রেপ্তার করেছে নাগরপুর থানা পুলিশ।রবিবার(৩০ জানুয়ারি) দিনভর অভিযান চালিয়ে উপজেলার বেকড়া ইউনিয়নের উত্তরপাড়া থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ওই গ্রামের ছনির মোল্লার স্ত্রী হাফিজা (৩৮) ও মেয়ে সোনিয়া (১৮)। তাদের বিরুদ্ধে নাগরপুর থানায় শিশু হত্যা মামলা রুজু করে টাঙ্গাইল বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নাগরপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান,স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সের ড্রেন থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধারের পর সোনিয়াসহ তার পরিবারের লোকজনদের নবজাত শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মা-মেয়ে ঘটনার সত্যতা শিকার করায় তাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দিয়ে টাঙ্গাইল জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, উপজেলার বেকড়া ইউনিয়নের বেকড়া উত্তরপাড়া গ্রামের ছনির মোল্লার কুমারী মেয়ে (১৮)। শনিবার রাত সাড়ে দশটায় দিকে পেট ব্যাথা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। ভোর রাতে ওই মেয়ে ও তার মা কমপ্লেক্সে টয়লেটে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে একটি কন্যা সন্তান জম্ম দেন। এ সময় হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীরা টয়লেটে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। প্রায় দুই ঘন্টা পর মা ও মেয়ে বের হয়ে সিটে আসে। রবিবার সকালে ডাক্তার নিয়মিত রোগী পরিদর্শন শেষে ওই মেয়েকে ছাড়পত্র দেন ডা.কাজল পোদ্দার।
একই দিন সকাল আনুমানিক নয়টার দিকে দুজন পথ শিশু হাসপাতালের ড্রেনে নবজাতক শিশুটি দেখে লোকজন ডাকে। পরে হাসপাতাল কতৃপক্ষসহ আশ পাশের লোকজন জড়ো হয়ে নাগরপুর থানায় খবর দিলে পুলিশ নবজাত শিশুটির লাশ উদ্বার করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক অজ্ঞাত যুবকের (৪৫) লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। রবিবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কালিদাস কলতান বিদ্যা নিকেতন এলাকার শফিক মেম্বারের পরিত্যক্ত ঘরের পেছন থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে স্থানীয় এলাকাবাসী ওই লাশ পরে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
কালিদাস বাজারের গ্রাম্য চিকিৎসক রিপন মিয়া বলেন, ওই অজ্ঞাত ব্যাক্তিকে পাগল বেশে গত কয়েকদিন ধরে এ এলাকা দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান জানান, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কালিদাস এলাকা থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যুর একটি মামলা দায়ের করা হবে। তবে লাশের পরিচয় এখনো মিলেনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের জেলা সদর রোড়ে অবস্থিত বিবেকানন্দ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে’র বিরুদ্ধে এক নারীকে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে রিমা রায় (৩১) নামের ওই নারী টাঙ্গাইল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।রবিবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রিমা রায় শহরের আকুর টাকুরপাড়া ছোট কালিবাড়ী এলাকার স্বপন দাসের মেয়ে।
রিমা রায়ের অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২১ জানুয়ারি বিকেলে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজের রাস্তায় হাঁটতে বের হন রিমা রায়। এ সময় অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে (৪৭) ও টুকু দেসহ (৪০) অজ্ঞাত কয়েকজন তাকে অকথ্য অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারা এসিডে চেহারা বিকৃত করে দেওয়ার হুমকিও দেয় রিমা রায়কে। খুন করে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেয়।
রিমা রায় অভিযোগে উল্লেখ করেন, বিবাদিরা যে কোন সময় তার ও তার ছেলের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।
রিমা রায় বলেন, কিছুদিন আগে শহরের ছোট কালিবাড়ি মন্দির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এসময় অনিয়মের মাধ্যমে মন্দির কমিটি গঠনের পেছনে আনন্দ মোহন দে’র হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। আমিও বক্তব্য রাখি মানববন্ধনে। আর এটাই কাল হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি আরো বলেন, আমি তো কোন অন্যায় আচরণ করিনি। আমি শুধু বলেছিলাম- মন্দির-মসজিদ নিয়ে কেন রাজনীতি হবে। মন্দির-মসজিদ হলো প্রার্থণার জায়গা, শান্তির জায়গা। আর এ কথা বলার জন্যেই আমাকে হুমকি দিয়েছে আনন্দ মোহন দে।
এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে বলেন, আমি শুনেছি মেয়েটি একটি লিখিত অভিযোগ নাকি দিয়েছে। সে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় আমার প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করতো। সে আমার সরাসরি ছাত্রী ছিল। তার অভিযোগগুলো সত্য নয়। সম্পুর্ণ ভিত্তিহীন। আমিও তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল বলেন, ছোট কালিবাড়ী এলাকার একটি মন্দিরের কমিটি নিয়ে পুরাতন ও নতুন দুই পক্ষের বিরোধ চলছে। আমি এ বিষয়ে ওই এলাকায় গিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে এসেছি। তদন্ত চলছে। তবে দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে। মূলত মন্দির কমিটি নিয়েই মূল সমস্যা দেখা দিয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, ৩ দিন আগে ওই নারী বাদি হয়ে একটি লিখিত আবেদন দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় ব্রিজের ভাঙা পাটাতনে ধাক্কা লেগে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছেন। নিহতের নাম মশিউর রহমান (৪০)।শনিবার( ২৯ জানুয়ারি) রাতে গোপালপুর-পিংনা সড়কের ঝাওয়াইল বেইলি ব্রিজে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মশিউর রহমানের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার তিমিরকাঠি গ্রামে। তিনি অনির্বাণ মেডিসিনাল ইন্ডাস্ট্রিজের মধুপুর উপজেলার বিক্রয় প্রতিনিধি ছিলেন। মশিউর মধুপুর পৌর শহরের কলেজপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
মশিউরের সহকর্মী আশিক বিল্লাহ জানান, গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল বাজারের কয়েকটি ওষুধের দোকান থেকে পাওনা টাকা নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে মধুপুর ফিরছিলেন মশিউর। পথে ঝাওয়াইল বেইলি ব্রিজের ভাঙা পাটাতনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান তিনি।স্থানীয়রা উদ্ধার করে গোপালপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও ওই ব্রিজের ভাঙা পাটাতনের কারণে দুর্ঘটনায় অনেকের মৃত্যু হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় দৈনিক নয়া দিগন্তের কর্মকর্তা মাসুদ রানা নিহত হয়েছেন। রবিবার(৩০ জানুয়ারি) বিকালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তার মোটরসাইকেলকে একটি গাড়ি ধাক্কা দিলে তিনি ঘটনাস্থলে নিহত হন।
নিহত মাসুদ রানা দৈনিক নয়া দিগন্তে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (মার্কেটিং) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর। তার মা, স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ রানা তার বগুড়াস্থ বাড়ি থেকে নিজের মোটরসাইকেল যোগে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের কদিম ধল্যা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ওভারপাসে তার মোটরসাইকেলকে একটি বাস ধাক্কা দেয় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। ধাক্কা দেয়া গাড়িটি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুরের গোড়াই হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসেম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিহতের পরিবারের লোকজনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় সদ্য ভূমিষ্ঠ এক শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশের ড্রেন থেকে গলাকাটা অবস্থায় ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নাগরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনোয়ার হোসেন জানান, সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশের ড্রেন থেকে গলাকাটা অবস্থায় ১২ ঘণ্টা বয়সী এক কন্যা শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে রাতের কোনো এক সময় হাসপাতালেই শিশুটির জন্ম হয়েছে।
নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রোকনুজ্জামান খান জানান, শনিবার (২৯ জানুয়ারী) রাতে এক তরুণী হাসপাতালে পেটে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হন। ভোরের দিকে ওই তরুণী বাথরুমে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটান। এরপর বাথরুম থেকে বের হওয়ার পর ওই তরুণীর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে উদ্ধার হওয়া মৃত শিশুটি ওই তরুণীর।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের সোনালিয়া দক্ষিনপাড়া এলাকায় টিউবওয়েলের পানি খেয়ে তিন পরিবারের ১২ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অসুস্থ পরিবারের অভিযোগ, চোর চক্রের সদস্যরা বাড়িতে চুরি করার উদ্দেশ্যে টিউবওয়েলের পানিতে নেশা জাতীয় দ্রব্য মিশিয়েছে। অসুস্থ ব্যক্তিরা হলেন, ওই গ্রামের জামাল উদ্দিন, তার স্ত্রী নুরিয়া বেগম ও জাহেদা বেগম, আলাল ফকির, তার ছেলে আরিফ মিয়া ও ছেলের স্ত্রী সুবর্না বেগম, আলালের মেয়ে সেলিনা বেগম, আনু মিয়া ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম, শিউলী বেগম, রনি মিয়া ও তার স্ত্রী শিলা বেগম।
অসুস্থ শিলা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার(২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১ টার দিকে টিউবওয়েলের পানি খাই। কিছুক্ষণ পর আমি চারিদিকে অন্ধকার দেখতে শুরু করি। এরপর আমি কখন ঘুমিয়ে পড়েছি কিছুই জানি না। শুক্রবার(২৮ জানুয়ারি) সকালে আরও যারা টিউবওয়েলের পানি খেয়েছে তাদের সবারই একই অবস্থা। আমাদের টিউবওয়েলসহ পাশের বাড়ির আরও দুটি টিউবওয়েলে ওই নেশা জাতীয় দ্রব্য মিশানো হয়েছে। শুক্রবার সারাদিন আমরা সকলেই ঘুম পেরেছি। এখনও সবাই অসুস্থ। আমরা ধারণা করছি, চোর চক্র এমন কাজ করেছে।
শিউলী বেগম বলেন, টিউবওয়েলের পানি দিয়ে বানানো রুটি খেয়ে আমিও অসুস্থ হয়েছি। নিজেকে মাতাল মাতাল মনে হচ্ছে। আমরা সকলেই স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছি।
অসুস্থ রনি মিয়া বলেন, শনিবার(২৯ জানুয়ারি) ভোর রাতে চোর এসে আমার ঘরের টিন কাটছিলো। আমার এক আত্মীয় টের পাওয়ায় হৈ চৈ শুরু করে। পরে চোর পালিয়ে যায়। চোর চক্রটি টিউবওয়েলের পানিতে নেশা জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে আমাদের বাড়িতে চুরি করতে চেয়েছিলো।
হাবলা ইউনিয়নের সোনালিয়া দক্ষিণপাড়ার ইউপি সদস্য পলাশ মিয়া বলেন, ইতোপূর্বেও সোনালিয়া দক্ষিণপাড়া টিউবওয়েলের পানিতে নেশা মিশিয়ে একটি বাড়িতে চুরি করা হয়েছিলো।গত বৃহস্পতিবার সোনালিয়া দক্ষিণপাড়ায় একই ঘটনা ঘটেছে। তবে চুরি করতে পারেনি। এ ঘটনায় ১২ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে জানতে পেরেছি।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউএনও) নাহিদা পারভীন( বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। থানার ওসিকে অবগত করা হয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় আইনগত প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর শহরের কান্দাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮০ লিটার দেশীয় চোলাই মদসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শনিবার (২৯ জানুয়ারি) ভোরে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- টাঙ্গাইল পৌর শহরের পারদিঘুলিয়ার আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম (৪৩) ও সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী ইউনিয়নের বড় বেলতা মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত কুদ্দুসের ছেলে আব্দুল জব্বার (৪০)।
শনিবার দুপুরে র্যাব এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিকে জানায়, র্যাব-১২ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল র্যাব টাঙ্গাইল পৌর শহরের বেবীস্ট্যান্ড সংলগ্ন কান্দাপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়।এসময় অভিযানে ৮০ লিটার চোলাই মদসহ জহিরুল ও জব্বারকে গ্রেফতার করা হয়। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।