একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে গোসল করতে বলায় লামিয়া আক্তার (৯) নামের এক স্কুল শিক্ষার্থী নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লামিয়া ওই গ্রামের লুৎফর রহমানের মেয়ে। সে স্থানীয় যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলতাব হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের স্বজনরা জানায়, লামিয়া তীব্র শীতের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে গোসল না করায় মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তার মা তাকে গোসল করতে বলে। লামিয়া গোসল করবে না বললে মা তার সঙ্গে রাগারাগি করে। পরে মা পরিবারের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এই ফাঁকে লামিয়া ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে অনেক ডাকাডাকির পর কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে লামিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।
এ সময় তাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষ অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এএসআই মো. আতিকুর রহমান বলেন, সকালের দিকে সখীপুর থেকে এক স্কুল শিক্ষার্থীর লাশ হাসপাতাল মর্গে আনা হয়। যতটুকু জানতে পেরেছি সে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে। পরে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান জানান, আত্মহত্যার বিষয়টি জেনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করতে আসেনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে আব্দুল মান্নান (৭০) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় নাতি মো. রাব্বিকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শনিবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ি বাইপাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত রাব্বি কালিহাতী উপজেলার আউলটিয়া ভোটেরবাড়ী গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে।
র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানি অধিনায়ক মনজুর মেহেদী ইসলাম রবিবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, মান্নান ও তার নাতি রাব্বির মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল।
মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে দাদা-নাতির মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মান্নানকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন রাব্বি। মান্নানের স্ত্রী ও মেয়ে বাধা দিতে গেলে রাব্বি তাদেরও আঘাত করেন।
পরে পরিবারের লোকজন গুরুতর আহতাবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মান্নানকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে হাফিজ উদ্দিন মন্ডল বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে রাব্বি পলাতক ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে স্বামী ফজলু তালুকদারকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জানুয়ারি) রাতে পৌরসভার সুন্দর পশ্চিম পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর নাম আসমা বেগম (৩৫)। তিনি উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের পঞ্চাশ গ্রামের আরশেদ আলীর মেয়ে। গ্রেপ্তারকৃত ফজলু সুন্দর গ্রামের নুরুল ইসলাম তালুকদারের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুই সন্তান নিয়ে রাজমিস্ত্রি স্বামী ফজলু ও আসমা বেগমের সংসার। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব চলছিল। শনিবার রাতের খাবার খেয়ে স্ত্রী ও সন্তানরা ঘুমিয়ে পড়লে মেয়ের ওড়না দিয়ে ফজলু আসমা বেগমের গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে মেয়ে চিৎকার করে বাড়ির সবাইকে এ ঘটনা জানায়। স্থানীয়রা রাতেই ফজলুকে আটক করে পুলিশে দেয়।
গোপালপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মামুন ভূঁইয়া জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার অভিযোগে স্বামীকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পুলিশের টহলের জন্য নেওয়া সিএনজিতে পর্দার কাপড় না থাকায় সুমন নামে এক সিএনজি চালককের শরীরের জামা-কাপড় খুলে অর্ধনগ্ন করে লাঞ্ছিতের ঘটনায় সেই উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান উল্লাহ্ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিভিন্ন গণম্যাধমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক বদলির নির্দেশ দেয় জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার।
আহসান উল্লাহ্ জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশে এসআই হাসিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করে এবং তাকে পুলিশ লাইনসে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি দুপুরে থানা ত্যাগ করছেন।
এরআগে বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে ভূঞাপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এসআই হাসিবুলের শাস্তি ও বদলির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন সিএনজি চালকেরা। পরে উত্তেজিত শ্রমিকরা মিছিল নিয়ে থানায় হাজির হন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে সুমন নামে এক চালক সিএনজি নিয়ে পুলিশের টহল কাজে বের হন। সিএনজির পর্দা না থাকায় চালককে গালিগালাজ ও শরীরের জামা-কাপড় খুলে অর্ধনগ্ন করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠে উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসিবুল হাসানের বিরুদ্ধে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে প্রবাসীর স্ত্রী ফারিয়া (২০) নামে এক গৃহবধূ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১৭ জানুয়ারী) রাতে উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের রামপুর পুরাতন বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
তার শশুর-শাশুড়ি তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ফারিয়া ওই এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে প্রবাসী ফরহাদের স্ত্রী। ফারিয়া বাঘেরহাট জেলার চিতলমারি উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত আব্দুল শেকের মেয়ে।
তার শশুর আব্দুর রশিদ বলেন, বুধবার সন্ধ্যার পরে দীর্ঘক্ষণ ফারিয়ার রুমের দরজা বন্ধ পেয়ে দরজায় ধাক্কা দিতে থাকি। কিন্তু রুমের ভিতর থেকে কোন আওয়াজ না আসায় দরজা বাহির থেকে খোলা হয়। এসময় আমরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখি। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফারিয়ার চাচী সখিনা বেগম বলেন, ফারিয়া ও ফরহাদের দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক থাকার পর দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। দীর্ঘদিন ধরে তাদের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। তার শাশুড়ি তাকে বিভিন্ন সময় গালমন্দ করেন। তিনি দাবি করেন,তারা তাদের মেয়েকে মেরে ফেলেছে। তিনি এর বিচার চান।
ফারিয়ার চাচাতো ভাই মো. ইমরুল শেখ বলেন, তাকে তার শাশুড়ি অনেক নির্যাতন করেছে, ওকে উনারা তাদের ছেলের বউ হিসেবে রাখতে চায় না। আমার বোন ওর স্বামীর সাথে একসাথে থাকতে চেয়েছে এবং আমার বোন দুপুরে কিংবা বিকেলের আগে আমার খালামনিকে ফোন দিয়ে জানিয়েছে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। তার পর সন্ধায় তার মৃত্যু হয়।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান ফারুক জানান, আত্মহত্যার ঘটনা শুনেছি। তাকে কেউ আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে গিয়েছে।
তিনি আরো জানান, মেয়ের ভাই রুমি রায়হান বাদি হয়ে আত্মহত্যা প্ররোচন ৩০৬ ধারায় মামলা দায়ের করেছে ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ভোটকেন্দ্র থেকে ভোটের পেপারসহ ব্যালট বাক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ৫ রাউন্ড গুলি করেন। এই ঘটনায় দুইজন আনসার সদস্য আহত হয়েছে।
রবিবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের কাহেতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু ভোট বর্জন করেছেন।
কাহেতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাজহারুল হক বলেন, দুর্বৃত্তরা আতর্কিতভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে পুরুষ ওয়ার্ডের তিন নম্বর কক্ষ থেকে একটি ভোটের পেপার ভর্তি ব্যালট পেপার বাইরে নিয়ে তাৎক্ষনিক আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ব্যালট বাক্স পুড়ে গেছে। ব্যালট বাক্সে প্রায় তিনশ ভোটের পেপার ছিল। পরে সেখানে থাকা আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা ব্যালট উদ্ধারে ৫ রাউন্ড গুলি করেন। এ ঘটনায় দুইজন আনসার সদস্য আহত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। ঘটনার পর কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করার পর কেন্দ্রের বাকি বালটবাক্সসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে দায়িত্বরতরা কেন্দ্র ত্যাগ করে।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বলেন, ঘটনা নিয়স্ত্রণে ৫ রাউন্ড গুলি করা হয়েছে। এই ঘটনায় দুইজন আনসার সদস্য আহত হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশ, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে নৌকার প্রার্থী সংসদস সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির। তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী পদত্যাগকারী গোপালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু। এ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন গণফ্রন্টের গোলাম সরোয়ার (মাছ), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোহাম্মদ রেজাউল করিম (ডাব), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাইফুল ইসলাম (আম) ও জাতীয় পার্টির হুমায়ুন কবীর তালুকদার (লাঙ্গল)।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নেশার টাকা না দেওয়ায় শফিকুল ইসলাম (৬০) নামে এক অটোরিকশা চালককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে হেলাল মিয়ার (২৬) বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) সকালে অভিযুক্ত ছেলে মো. হেলাল মিয়াকে উপজেলার বেতুয়া পলিশা উত্তরপাড়া গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ডিসেম্বর রাত ১১ টার দিকে হেলাল মিয়া তার বাবার কাছে নেশার জন্য টাকা চান। টাকা না দেওয়ায় বাড়ির উঠানে মায়ের সামনে কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হয় তিনি। পরে বাবার চিৎকারে হেলালের বড় ভাই দুলাল মিয়া ঘর থেকে বের হয়ে এগিয়ে আসলে সে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় প্রথমে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেে ভর্তি করা হয়।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখানকার চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানে চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে বাড়িতে নিয়ে আসতে বলে। এরপর শফিকুল ইসলাম বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার (১ জানুয়ারি) রাতে মৃত্যুবরণ করে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে হেলাল মিয়ার মা শেফালী বেগম ভূঞাপুর থানায় তার ছেলের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক ছেলে হেলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
ঘাতক ছেলে হেলাল মিয়ার মা শেফালী বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে বখাটে ও নেশাগ্রস্থ ছিল। কোনো কাজ-কর্ম করতো না। নেশার টাকা জোগাতে না পেয়ে তার বাবার সাথে ঝগড়ার এক পর্যায়ে মাথায় আঘাত করে এবং গুরুতর আহত হয়। পরে সোমবার রাতে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়া যায়। এ নিয়ে থানায় হেলালের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করি।
এ ঘটনায় ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ্ বলেন, হেলাল মিয়ার মা শেফালী বেগমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল কোর্টে প্রেরণ করা হয় এবং তার বাবা শফিকুল ইসলামের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল মিয়া তার বাবাকে আঘাত করার দায় স্বীকার করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বেড়ানোর কথা বলে পরকীয়া প্রেমিকের সহায়তায় স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার জন্য বালু চাপা দিয়েছে স্ত্রী। পরে স্ত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বামীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রেমিক মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহতের নাম নাঈম হোসেন (২০)। সে উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের মাইজবাড়ি গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে প্রেরণ করা হয়। পরে বিকেলে আদালতে তোলা হলে স্ত্রী রেশমি খাতুন ও প্রেমিক মাসুদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
এরআগে মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার চর ডাকাইতাবান্দা এলাকা থেকে স্বামীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই রাতেই নিহত নাঈমের বাবা রেশমি খাতুন, তার প্রেমিক মাসুদসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যার ঘটনায় পরকীয়া প্রেমিক মাসুদ ও স্ত্রী রেশমি খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত মাসুদ উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের চরভরুয়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে এবং নিহতের স্ত্রী রেশমি খাতুন একই ইউনিয়নের রামাইল গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে।
জানা গেছে, নাঈম ও রেশমি গেল প্রায় তিনমাস আগে প্রেম করে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন। এরপ্রেক্ষিতে গত ১৯ ডিসেম্বর স্ত্রী রেশমি ফোন করে নাঈমকে শশুরবাড়িতে যেতে বলে এবং নাঈমকে বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়ে দেয়। পরে নাঈম তার মার কাছ থেকে আরও কিছু টাকা নিয়ে রামাইলে শশুর বাড়িতে যায়। পরে রেশমি নাঈমকে নিয়ে বিকালে ঘুরতে বের হয়। এরপর রাতে রেশমি বাবার বাড়ি গিয়ে জানায় তার স্বামী নাঈম চলে গেছে। এরপর থেকে নাঈমের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
গ্রেপ্তারকৃত রেশমির বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, রেশমি পরকীয়ায় আশক্ত ছিল। নাঈমকে প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করেছিল রেশমি। পরে পুরোনো প্রেমিকের কথায় স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করে রেশমি। পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বামী নাঈমকে নিয়ে চরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়। এরপর সরিষাবাড়ি সিমান্ত এলাকায় একটি চরে গিয়ে প্রেমিক ও কয়েকজনের সহায়তায় নাঈমকে প্রথমে গলায় গামছা পেছিয়ে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ গুম করার জন্য বালু চাপা দেওয়া হয়। কাজ শেষ করে রেশমি বাবার বাড়িতে চলে যায়।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ জানান, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। স্বামীকে বেড়ানোর কথা বলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পরকীয়া প্রেমিক ও তার বন্ধুদের সহায়তায়। পরে তার মরদেহ গুম করার জন্য বালু চাপা দিয়ে দেয়। পরে রেশমিকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, বিকালে নিহতের স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিককে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। সেখানে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী মিছিলে আওয়ামী লীগ দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেনের সমর্থকের গুলিতে যুবলীগ নেতাসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) দিনগত রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন- বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান রোকন, কর্মী সিয়াম ও রোকন মিয়া। তাদের মধ্যে রোকনুজ্জামানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ওই আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মামুনুর রশিদ জানান, রাতে বাঘিলে নৌকার পক্ষে তার সমর্থকরা মিছিল বের করে। এসময় বর্তমান এমপি ছানোয়ার হোসেনের সমর্থকরা মিছিলে অতর্কিত গুলি চালায়। এতে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন জানান, রাত ১১টি ৩০ মিনিটে নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গ করে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কেন মিছিল করা হয়েছে? নৌকার পক্ষের লোকজন ঈগলের অফিস ভাংচুর করে এই নাটক সাজিয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনায় যারা আহত হয়েছে, তারা কেউ যুগনি এলাকার লোক নয়। এরা সবাই বহিরাগত। ঈগলের অফিস রাতে ভাঙচুর করার সাথে সাথেই সদর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আশা করি, সুষ্ঠ তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে টাঙ্গাইল-৫ আসনে এমপি নির্বাচিত হন ছানোয়ার হোসেন। তবে এবার তাকে সরিয়ে ওই আসনে মামুনুর রশিদকে নৌকার মাঝি করেছে আওয়ামী লীগ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রশান্ত মোদক (৩০) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে মধুপুর থানা পুলিশ।
শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে মধুপুর পৌর শহরের টেংরি কাঁঠাল তলী মোড় এলাকার শাহজাহান আলীর বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান ।
প্রশান্ত মোদক ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার কাঁচারি পাড়া এলাকার সুনীল মোদকের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, প্রশান্ত মোদক মধুপুরের টেংরি কাঁঠালতলী মোড়ের শাহজাহান আলীর বাসায় ভাড়া থাকতো। তার বন্ধুরা তাকে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে না পেয়ে তার ভাড়া বাসায় গিয়ে ডাকাডাকি করে। কোন সাড়া না পেয়ে ঘরে ঢুকে তার মরদেহ দেখেতে পায়। এসময় পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ফয়সাল আহমেদ (১৮) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের ধলাটেঙ্গর গ্রামের একটি বাগান থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফয়সাল আহমেদ উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের ধলাটেঙ্গর গ্রামের মোঃ রমজান আলীর ছেলে। সে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতো বলে জানা গেছে।
স্থানীয় মেম্বার মোঃ সহিদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ফয়সাল নামাজ পড়তে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর সে আর বাড়ি ফিরে না আসায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে তার আত্মীয়-স্বজন । শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন ধলাটেঙ্গর গ্রামের একটি বাগানে ফয়সালের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ফয়সাল রাজমিস্ত্রির কাজ করতো।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ফারুক জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহৃ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মামলা প্রক্রিয়াধীন কিন্তু আমাদের তদন্ত চলছে। অতি দ্রুত আমরা হত্যার কারণ উদঘাটন করে আসামিদের আইনের আওতায় আনবো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও গাড়িসহ মনির (২৫) নামের এক মাইক্রোবাসের চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (২০ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে গোপালপুর থানা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মাইক্রোবাসের চালক মনির উপজেলার সমেশপুর গ্রামের লোকমানের ছেলে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সরকারের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গোপালপুর পৌরসভার থানা সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালায়। এ সময় দেশীয় অস্ত্রবহনকারী মাইক্রোবাসটিকে থামানোর জন্য সিগনাল দেওয়া হয়। সিগনাল দিলে গাড়িতে থাকা দুইজন পালিয়ে যায়। পরে অস্ত্রসহ চালককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল মোর্শেদ জানান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল হাসান এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সরকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে র্যাব ও পুলিশের সহায়তায় ওই মাইক্রোবাস চালককে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আসামিকে এখনো পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কম্পানি অধিনায়ক মেজর মনজুর মেহেদী ইসলাম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারকৃত মনিরকে গোপালপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।