/ হোম / অপরাধ
গ্রাহকের মুনাফার টাকা কম দেওয়ার অভিযোগ এলেঙ্গা পোস্টমাস্টারের বিরুদ্ধে - Ekotar Kantho

গ্রাহকের মুনাফার টাকা কম দেওয়ার অভিযোগ এলেঙ্গা পোস্টমাস্টারের বিরুদ্ধে

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালীহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পোস্টমাস্টারের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন গ্রাহকের মুনাফার প্রায় লাখ টাকা কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মুনাফার টাকা কম দেওয়ার বিষয়ে গোবিন্দ সুত্রধর ও লিপি সাহা নামের ওই পোস্ট অফিসের দুই গ্রাহক ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এরআগে বর্তমান পোস্টমাস্টার শাহাজাহান আলী পোস্টম্যান পদে থাকা অবস্থায় স্থানীয় মহাদেব কর্মকারের শ্যালক ও পোস্ট অফিসের এক গ্রাহকের সাথে এমন প্রতারণায় লিপ্ত হন। পরবর্তীতে তৎকালীন পোস্টমাস্টার ও স্থানীয়দের সহায়তায় বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এমন প্রতারণায় জড়িত পোস্টমাস্টার শাহজাহান আলীর কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

অভিযোগের বিভাগীয় তদন্ত শুরু হলেও এলেঙ্গার পোস্টমাস্টার শাহজাহান আলী মুনাফার টাকা আত্মসাতের কথা অস্বীকার করছেন।

পোস্টমাস্টারের প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা হলেন-গোবিন্দ সুত্রধর, এসবি হিসাব নম্বর- ৪১৪৫৩৮, মুনাফা কম দেওয়ার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা। লিপি সাহা, এসবি হিসাব নম্বর-৫০৪১৩৯, মুনাফা কম দেওয়ার পরিমাণ ৪ হাজার ৫৮০ টাকা, নরেশ, এসবি হিসাব নম্বর-৪০৫৮৮৫, মুনাফা কম দেও‌য়ার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা, অর্চনা রাণী, মুনাফা কম দেওয়ার পরিমাণ ১৫ হাজার টাকা হলেও তার এসবি হিসাব নম্বরটি পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও সুবল চন্দ্র রায়, এফডি হিসাব নম্বর-৩৩১৫৭৭, মুনাফা কম দেওয়ার পরিমাণ ১৫ হাজার টাকা, জোসনা, এফডি হিসাব নম্বর-৪১৯৮১০. মুনাফা কম দেওয়ার পরিমাণ ১৫ হাজার টাকা, শিল্পী, এফডি হিসাব নম্বর-৪২২৭০০, মুনাফা কম দেওয়ার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা, নরেশ, এফডি হিসাব নম্বর-৩৬৯৬২৮, মুনাফা কম দেওয়ার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা।

সরেজমিন পোস্ট অফিসের মুনাফা বিতরণ বইয়ের পাতায় একেক একেক গ্রাহকের স্বাক্ষর ভিন্ন রকম থাকলেও বিতরণকৃত টাকা নেওয়ার লেখা এক হাতে লেখা হয়েছে।

জানা যায়, চলতি বছরের ১৪ জুন এলেঙ্গা পোস্ট অফিসে পোস্টমাস্টার পদে যোগদান করেন শাহজাহান আলী। এরআগেও তিনি এলেঙ্গা পোস্ট অফিসের পোস্টম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কালিহাতী উপজেলার মাইজবাড়ী গ্রামে বাড়ি হওয়ায় এলেঙ্গা পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার শাহজাহান কারো তোয়াক্কা করেন না। অফিসে যোগদান করার পর থেকেই যা খুশি তাই করছেন তিনি। গ্রাহক ও অফিস স্টাফদের সাথে করছেন রীতিমত অসৌজন্য মূলক আচরণ। জেলা ও বিভাগীয় অফিসের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে উনার সখ্যতা থাকায় রীতিমত তিনি এই অফিসে অনিয়মকে নিয়ম বানিয়ে ফেলেছেন। হরহামেশায় তার বিরুদ্ধে শোনা যাচ্ছে গ্রাহককে মুনাফার টাকা কম দেওয়ার অভিযোগ। এর ফলে গ্রাহকের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে এলেঙ্গা পোস্ট অফিস। সরকারি অফিসটি রক্ষায় পোস্টমাস্টার শাহজাহান আলীর কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী গোবিন্দ সুত্রধরের অভিযোগ , প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে এলেঙ্গা পোস্ট অফিসে আমি সঞ্চয়ী বইটি খুলি। এরপর থেকেই বইটিতে লেনদেন চালিয়ে আসছি। এখন প্রয়োজন পরায় মুনাফার টাকা উত্তোলন করতে যাই। পোস্টমাস্টার শাহাজাহান আলী আমার মুনাফা ৭ হাজার ১৫৩ টাকা হয়েছে বলে জানায়। আমি সেই টাকাই নিজ হাতে লিখে উত্তোলন করি। হঠাৎ সন্দেহ হওয়ায় আমার বই নিয়ে টাঙ্গাইল অফিসে যাই এবং জানতে পারি আমি মুনাফা বাবদ পাবো ১৭ হাজার ১৫৩ টাকা। টাকা কম দেওয়ার কারণে আমি পোস্টমাস্টারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছি।

তিনি আরও জানায়, টাঙ্গাইল অফিস থেকে তদন্তে এসেছিল। আমি আমার বাকি টাকা ফেরত পাওয়াসহ প্রতারক পোস্টমাস্টারের কঠোর বিচার দাবি করেছি।

ভুক্তভোগী লিপি সাহা জানায়, আমি ১৪ হাজার টাকা মুনাফা পাবো, সেখানে আমাকে দেওয়া হয়েছে ৯ হাজার ৪২০টাকা। এ সময় মুনাফার টাকা কম দেওয়ার বিষয়টি বুঝতে না পারলেও বিভিন্ন জনের সাথে এমন প্রতারণা করা হয়েছে খবর জানতে পেরে আমি টাঙ্গাইল অফিসে যোগাযোগ করি। ওই অফিসের মাধ্যমেই টাকা কম পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার অবশিষ্ট টাকা ফেরত পাওয়াসহ প্রতারক পোস্টমাস্টারের শাস্তি দাবি করেছি।

এলেঙ্গা পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার শাহজাহান আলী মুনাফার টাকা কম দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও টাঙ্গাইল পোস্ট অফিস পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা বলেন, অভিযোগের তদন্ত চলছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. মোরশেদ আলম জানান, এলেঙ্গা পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে গ্রাহকে মুনাফার টাকা কম দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের তদন্ত চলছে।

তিনি আরও জানান, তদন্তে প্রায় ২০ থেকে ২২ কর্মদিবস সময় লাগে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩. মার্চ ২০২৪ ০২:৩১:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইল ক্যাপসুল মার্কেটের পার্কিংয়ের জায়গায় বসানো অবৈধ দোকান উচ্ছেদ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল ক্যাপসুল মার্কেটের পার্কিংয়ের জায়গায় বসানো অবৈধ দোকান উচ্ছেদ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র-ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত ক্যাপসুল মার্কেটের পশ্চিম পাশের পার্কিংয়ের জায়গায় অবৈধ ভাবে বসানো ছোট-বড় ১০টি ফুচকা-চটপটি ও ফাস্টফুডের দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে।

একই সাথে টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা, ভিক্টোরিয়া রোডে বসানো ৫টি ভ্রাম্যমান ফাস্টফুডের ফুড-কার্ট দোকানও উচ্ছেদ করা হয়।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঘন্টাব্যাপী এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

টাঙ্গাইল পৌরসভার সহযোগিতায় এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোহাইমিনুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, প্যানেল মেয়র মো. হাফিজুর রহমান স্বপন, কাউন্সিলর মো. জহুরুল ইসলাম আজাদ, মো. সাইফুল ইসলাম, মুন্না চৌধুরীসহ টাঙ্গাইল জেলা প্রসাশন ও পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোহাইমিনুল ইসলাম জানান, রাস্তায় যানবাহন ও ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে টাঙ্গাইল পৌরসভার অধীন ক্যাপসুল মার্কেট ও তৎসংলগ্ন এলাকা, শহীদ জগলু রোড, খালপার রোডসহ সুপার মার্কেটের সামনে ছোট-বড় অবৈধভাবে বসানো দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযান প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর বলেন, রাস্তার পাশে ও ফুটপাতের উপর দোকান বসানোর কারনে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে অসুবিধার জন্য এইসব দোকান মালিকদের পূর্বেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিলো। একই সাথে মাইকিংও করা হয়েছিলো। কিন্তু তারা সেটি তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো। তাই সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র-ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত পৌরসভার ক্যাপসুল মার্কেটের পশ্চিম পাশের পার্কিংয়ের জায়গায় পৌরসভার একশ্রেণীর কর্মচারীদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ফুচকা-চটপটি ও ফাস্টফুডের দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ দোকান পরিচালনা করে আসছিল একটি চক্র। ফলে প্রচন্ড রকমের ব্যস্ত ভিক্টোরিয়া রোডের এই অংশে সব সময় যানজট লেগেই থাকতো।

এছাড়া ক্যাপসুল মার্কেটের সামনে অবস্থিত টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে প্রচন্ড অসুবিধার সম্মুখীন হয়ে আসছিল। ফলে বেশ কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রচারিত হওয়ার ফলে জনমত তৈরি হয়। বুধবার জেলা প্রসাশন, পৌর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। এই উচ্ছেদ অভিযানের‌ ফলে পৌরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:১৪:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ২৮ বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ২৮ বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. নুর আলমকে (৪৯) প্রায় ২৮ বছর পর গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন বন্দর থানার গোরস্থান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃত নুর আলম টাঙ্গাইল পৌরসভার ভাল্লুককান্দি এলাকার ফজলুল হকের ছেলে।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর থানার এসআই মো. সোহেল জানান, ১৯৯৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর পৌরসভার বেবিস্ট্যান্ড এলাকার মো. রফিককে তুলে নিয়ে যমুনা নদীর চরে গলাটিপে হত্যা করা হয়। পরে নিহত রফিকের বাবা আরশাব আলী বাদি হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় সদর থানার পৌরসভার ভাল্লুককান্দি এলাকার ফজলুল হকের ছেলে মো. নুর আলম ও একই এলাকার মাহতাবের ছেলে লতিফকে অভিযুক্ত করা হয়।

তিনি আরও জানান, শুনানী শেষে ১৯৯৫ সালে টাঙ্গাইলের সেশন জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুল কুদ্দছ রায়ে দু’জন আসামিকেই যাবজ্জীবন স্বশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন। রায়ের পর থেকে আসামি মো. নুর আলম ও লতিফ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে বিভিন্ন স্থানে নানা নাম-পরিচয় ব্যবহার করে বসবাস করছিলেন।

টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান, দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর পর হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. নুর আলমকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই মামলায় পলাতক আসামি লতিফকেও দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:০২:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ফাঁদে ফেলে স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করলেন ৭৭ বছরের আ’লীগ নেতা! - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ফাঁদে ফেলে স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করলেন ৭৭ বছরের আ’লীগ নেতা!

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে অসহায় পরিবারকে ফাঁদে ফেলে স্কুলছাত্রীকে (১৪) বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার মুশুদ্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ইউপি) হযরত আলী মিয়ার (৭৭) বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান চলাকালে কৌশলে ওই স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে যান হযরত আলী মিয়া। সপ্তাহ গড়িয়ে গেলেও খোঁজ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে ভুক্তভোগী পরিবার। কিশোরীকে বিয়ে করার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে, মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) হযরত আলীর বিরুদ্ধে ধনবাড়ী থানাসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করে ভুক্তভোগী পরিবার।

অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, নবম শ্রেণি পড়ুয়া কিশোরীর পরিবার ও হযরত আলী একই ইউনিয়নের বাসিন্দা। পরিবারটি দরিদ্র হওয়ায় ওই বাড়িতে বিভিন্ন সহযোগিতা করার সুযোগে যাওয়া-আসা করতেন হযরত আলী। পরে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

কিশোরীর বাবা বলেন, আমরা গরিব হওয়ায় সহযোগিতার কথা বলে হযরত আলী আমাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। তাকে সরল মনে বিশ্বাস করতাম। মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ে করেছেন। এতেই ক্ষান্ত হননি, অভিযোগ তুলে নিতেও হুমকি দিচ্ছেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (ইউপি) মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব ওই কিশোরীকে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বয়স এফিডেভিট করে বিয়ে করেছেন, এমনটা শুনেছি।

তবে অভিযুক্ত হযরত আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ওই কিশোরী স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতার প্রথম স্ত্রী রয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে এমন কাণ্ডে বিচার হওয়া দরকার বলে মনে করছেন বিভিন্ন সচেতন মহল।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:২৫:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে খালাতো ভাই সেজে ওয়ার্কসপ কর্মচারীকে হত্যা, মা-ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৫ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে খালাতো ভাই সেজে ওয়ার্কসপ কর্মচারীকে হত্যা, মা-ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৫

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ওয়ার্কসপ কর্মচারীকে হত্যা মামলায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে আসামিদের বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার ঘাটাইল উপজেলার কামারচালা গ্রামের সোহাগ (১৫), উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের নাজমুল (২০), উপজেলার কামারচালা গ্রামের প্রধান আসামী সোহাগের মা খাদিজা (৩৩), উপজেলার নলমা গ্রামের সালমান জাহান জান্নাত (২১) ও জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তরুনীআটা গ্রামের সাব্বির তালুকদার জীবন (১৭)। এ সময় লুন্ঠিত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরফুদ্দীন প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানান।

অতিরিক্তি পুলিশ সুপার শরফুদ্দীন বলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঘাটাইল উপজেলায় মনির ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের ভিতর থেকে নাহিদ হাসান (১৬) নামের এক ওয়ার্কসপ কর্মচারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় হত্যাকারীরা একটি মোটরসাইকেল লুন্ঠন করে নিয়ে যান। পরে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার প্রধান আসামি হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত সোহাগকে ঢাকার কদমতলী এলাকা থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান, তার তথ্য মতে অপর আসামী নাজমুলকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পোড়াবাড়ীর বাস স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাজমুলের দেওয়া তথ্য মতে খাদিজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। খাদিজার দেওয়া তথ্য মতে অন্য দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহাগ লুন্ঠিত মোটরসাইকেলের জন্য নাহিদকে হত্যা করে। এই হত্যা মামলার আসামী সোহাগ ছিল নাহিদের দু-সর্ম্পকের খালাতো ভাই। ঘটনার দিন তাদের ওয়ার্কসপের সামনে ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায় তাকে। আশেপাশের যারা শ্রমিক ছিল তারা জিজ্ঞেস করলে সোহাগ বলে আমি নাহিদের খালাতো ভাই হই। সোহাগ রাতে নাহিদের সাথে ছিল।

সোহাগকে জিজ্ঞেসাবাদ করা হলে সে জানায়, মোটরসাইকেলের জন্য তারা ওয়ার্কসপ কর্মচারীকে হত্যা করে। তার মূল পরিকল্পনা ছিল এই মোটরসাইকেল সে নিবে। পূর্ব পরিকল্পনাভাবে নাহিদকে হত্যা করে মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। এই মোটরসাইকেল সরানোর জন্য সহযোগিতা করেছে সোহাগের মা খাদিজা। খাদিজা অপর দুজন সালমান ও সাব্বিরকে ২০ হাজার টাকা দেয়। তারা দুজন মোটরসাইলে নিয়ে জামালপুর রেখে আসে। হত্যার আগে আসামিরা নাহিদকে নেশা খাইয়েছে। নাহিদ নেশা খেয়ে যখন ঢোলে পরে। তারপর নাহিদকে কম্বল চাপা দিয়ে হত্যা করে। এ কথা আসামীরা স্বীকার করেছে। আসামীরা চারজন শ্রমিক তারা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে।

তিনি জানান, আসামীদের জিজ্ঞোসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে। এ ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:১৩:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে রান্নাঘরে বাবার রক্তাক্ত লাশ, ছেলে উধাও - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে রান্নাঘরে বাবার রক্তাক্ত লাশ, ছেলে উধাও

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিজেদের রান্নাঘর থেকে আবদুস সামাদ (৫৫) নামের এক কৃষকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের দাড়িপাকা পশ্চিমপাড়া (বিন্নরীপাড়া) এলাকা থেকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই নিহত আবদুস সামাদের ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান (৩০) পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের ধারণা, বাবাকে হত্যা করে ওয়াহেদুজ্জামান গা-ঢাকা দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিহতের ছোট ভাই আবদুর রশিদ বাদী হয়ে ভাতিজা ওয়াহেদুজ্জামানকে একমাত্র আসামি করে সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাড়ির রান্নাঘরে আবদুস সামাদকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা আরও জানান, ছেলে ওয়াহেদ মাদকাসক্ত। আগেও তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের মারধর করেছেন। সন্ধ্যায় তাঁকে বাড়িতেই দেখা গেছে। কিন্তু ঘটনার পর থেকে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সম্ভবত কোনো কারণে ওই ছেলেই আবদুস সামাদকে আঘাত করে অবস্থা বেগতিক দেখে পালিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান জানান, নিহতের মাথায় ধারালো কিছু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার সকালে নিহতের ছোট ভাই আবদুর রশিদ বাদী হয়ে ভাতিজা ওয়াহেদুজ্জামানকে একমাত্র আসামি করে সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ওয়াহেদুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৯:২১:পিএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে লাইসেন্স না থাকায় ২টি ক্লিনিক সিলগালা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে লাইসেন্স না থাকায় ২টি ক্লিনিক সিলগালা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে লাইসেন্স না থাকায় ২টি ক্লিনিক সিলগালা ও মালিকদের ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পৌর শহরের দেওলা ও সাবালিয়া এলাকায় অবস্থিত ফেয়ার হসপিটাল ও রেহানা মর্ডান হসপিটালে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানটি পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেড হাসান বিন মোহাম্মদ আলী।

হাসান বিন মোহাম্মদ আলী জানান, কোন বৈধ কাগজপত্র না থাকায় শহরের নতুন দেওলা ও সাবালিয়া এলাকায় অবস্থিত ফেয়ার হসপিটাল ও রেহানা মর্ডান হসপিটাল সিলগালা করা হয়।

তিনি আরও জানান, ফেয়ার হসপিটালের তিন মালিককে ৫ হাজার টাকা করে ১৫ হাজার টাকা ও রেহানা মর্ডান হসপিটাল মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

এসময় জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শরিফুল ইসলামসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিল।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০১:০৯:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে প্রবাসীর স্ত্রীসহ দুজনের লাশ উদ্ধার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে প্রবাসীর স্ত্রীসহ দুজনের লাশ উদ্ধার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পৃথক ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রীসহ দুজনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সাগরদিঘী এলাকার হাইস্কুল সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে মিনা আক্তার (৩৫) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত মিনা আক্তার বেইলা এলাকার সৌদি আরব প্রবাসী খসরু মিয়ার স্ত্রী। সে স্থানীয় আইনউদ্দিন কাজী নামে এক ব্যক্তির বাসায় ভাড়া থাকতেন।

সাগরদিঘী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ভিক্টর ব্যানার্জী বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘর থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে আত্মহত্যার কোনো কারণ জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, পৌরসভার খরাবর এলাকায় স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে তার সামনেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আহাদ (২৮) নামে এক যুবক। শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮ টার দিকে পৌরসভার খরাবর এলাকায় আলিম উদ্দিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আহাদ নাটোর জেলার লালপুল থানার যুগাদা ইশ্বরদী গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি ‘আর এফ এল‘ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি এবং পৌরসভার খরাবর এলাকায় আলিম উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের পারিবারিক কলহের জের ধরেই শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহাদ তাদের থাকার ঘরে দরজা দিয়ে স্ত্রী লিমা খাতুনের হাত পা চেয়ারের সাথে বেঁধে স্ত্রীর সামনেই সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় রশি দিয়ে ঝুলে পড়েন। এ সময় লিমা খাতুনের চিৎকারে স্থানীয়রা দরজা ভেঙ্গে আহাদকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘাটাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, কী কারণে আহাদ আত্মহত্যা করতে পারে তা জানা যায়নি। তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উভয়ের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:০৬:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে গ্যারেজ থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে গ্যারেজ থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নাহিদ হাসান (২৩) নামে এক গ্যারেজ মিস্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে ঘাটাইল থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের বীর ঘাটাইল এলাকার একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত নাহিদ উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের পোয়াকোলাহা গ্রামের ধলা মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় মেসার্স মনির ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ নামে একটি গ্যারেজের মিস্ত্রী ছিলেন।

স্থানীয় একটি দোকানের কর্মচারী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সকালে ভেকুর কাজ করছিলাম। নাট খোলার জন্য একটি যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। নাহিদের গ্যারেজ বন্ধ দেখে দোকানের কাছে গিয়ে ডাকাডাকি করি। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে হঠাৎ খেয়াল করে দেখি গ্যারেজের একটি শার্টার সামান্য উঠানো। শার্টার পুরোটা উঠিয়ে নাহিদের কাছে গিয়ে ডাক দিলে সাড়া মেলেনি। শরীরে হাত দিয়ে ধাক্কা দিলে শরীর শক্ত লাগে। এরপর আশেপাশের লোকদের ডাক দিলে তারা এসে দেখেন নাহিদ মারা গেছেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

গ্যারেজ মালিক মনির হোসেন ব্যবসার কাজে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। তার বড় ভাই মনসুর আলী বলেন, নাহিদ তিন মাস ধরে এই গ্যারেজে কাজ করছেন। ঘটনাস্থলে দেখা যায় মোটরসাইকেলের লুকিং গ্লাস ও নম্বর প্লেট পড়ে আছে।

স্থানীয়দের ধারণা, রাতের কোনো এক সময় চোর মোটরসাইকেল চুরি করে নেওয়ার সময় নাহিদ দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করা হতে পারে।

ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:৫০:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে এসএসসি পরীক্ষায় নকল সরবরাহের চেষ্টা, দুইজনকে কারাদণ্ড - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে এসএসসি পরীক্ষায় নকল সরবরাহের চেষ্টা, দুইজনকে কারাদণ্ড

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এসএসসি পরীক্ষায় নকল সরাবরাহের সময় হাতে নাতে ধরা পড়ায় দুইজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এলেঙ্গা পৌরসভা এলাকায় পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে থেকে নকল সরবরাহের চেষ্টাকালে আল আমিনকে ২১ দিন ও মহির উদ্দিনকে ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক।

এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, এলেঙ্গা পৌরসভা এলাকায় পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে থেকে নকল সরবরাহের চেষ্টাকালে ওই দুইজন ব্যক্তিকে নকল সহ হাতেনাতে ধরা হয়। পরে তাদের নিকট নকল সরবরাহের উপকরণ পাওয়া যায় এবং তারা অপরাধ স্বীকার করেন। এসময় একজনকে ২১ দিন এবং অপরজনকে ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পরীক্ষায় যে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা এবং অসদোপায় প্রতিরোধ ও কেন্দ্রের ভেতর এবং বাইরের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সচেষ্ট আছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৩:৫০:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে শিক্ষক হত্যাকান্ড: আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শিক্ষক হত্যাকান্ড: আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল হক মাস্টারকে পরিকল্পিভাবে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন ভূঞাপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও’র) মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এর আগে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ ও মিছিল করে শিক্ষকরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন – ‘পরিকল্পিতভাবে শিক্ষক আব্দুল হক মাস্টারকে হত্যা করা হয়েছে। নৃশংস এই হত্যার ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য একটি মহল পাঁয়তারা করছে। আমরা আমাদের সহকর্মী শিক্ষক আব্দুল হক মাস্টার হত্যার কঠোর শাস্তিসহ আসামিদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।’

উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আফসার আলীর সভাপতিত্বে সেখানে বক্তব্য রাখেন – উপজেলা চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম, শিক্ষক আব্দুস ছোবহান, আব্দুর রউফ তালুকদার, নূরুল হুদা, আতিকুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, নূরুন্নবী, মাহবুব আলম ও মাজহারুল ইসলাম তালুকদার প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার নিকড়াইল ইউনিয়নের সারপলশিয়া গ্রামের শিক্ষক আব্দুল হক মাস্টার নিখোঁজ হন। মূলত, ওই সময় আসামি জাহানারা ওরফে জয়নব বেগম ও তার স্বামীসহ কয়েকজন মিলে শিক্ষক আব্দুল হককে হত্যা করে ঘরের সামনে বালুচাপা দিয়ে রাখে।

এরপর শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাহানারার বাড়ি থেকে ওই শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই রাতে শিক্ষককের স্ত্রী আয়েশা খাতুন বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ হত্যাকাণ্ডের আসামিরা হলেন – জাহানারা ওরফে জয়নব বেগম, তার স্বামী আব্দুল বারেক, প্রতিবেশী ছবুর ও জাকির।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৩:১৯:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ট্রাক চালক হত্যার ঘটনায় ৬ জন গ্রেপ্তার ২ জনের স্বীকারোক্তি - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ট্রাক চালক হত্যার ঘটনায় ৬ জন গ্রেপ্তার ২ জনের স্বীকারোক্তি

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ট্রাক চালক নাজমুল ইসলাম ওরফে আজিজুল ইসলাম (৩৫) খুনের ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে সাদ্দাম হোসেন (৩৪) ও নাদিম খান (৩১) নামে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মির্জাপুর থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই তথ্য জানান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল করিম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলা সদরের বাইমহাটি মাস্টারপাড়ার আবু সাঈদ খানের ছেলে নাদিম (৩১), লতিফপুর ইউনিয়নের ত্রিমোহন বান্দরমারা গ্রামের পাষান খানের ছেলে সাদ্দাম (৩৪), বাইমহাটী গ্রামের মৃত সামাদ আলীর ছেলে মো. ইয়াসিন (২৩), বাগজান গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে লাভলু মিয়া (৩১), বাইমহাটী গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে ফজল মিয়া (৩৯) সিংজুরী গ্রামের বোরহান মিয়ার ছেলে মো. সোহেল (৩২)।

প্রেস বিফংয়ে জানানো হয়, শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ট্রাকচালক আজিজুল ও তার শ্যালক ট্রাকের হেলপার আবু তালেব নারায়ণগঞ্জ থেকে ট্রাকে ভুট্টা ভর্তি করে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে রাত ১টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস এলাকার মা সিএনজি স্টেশনের কাছে পৌঁছালে মহাসড়কে একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন। এসময় ট্রাক থামিয়ে চালকের সহকারী পড়ে থাকা বস্তা সরাতে গেলে ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্রধারী এসে তাকে ঘিরে ফেলেন। অস্ত্রধারীরা তার সঙ্গে থাকা ১৮ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং মারপিট করেন। এসময় দৌড়ে সহায়তা পেতে চিৎকার করতে থাকেন। এদিকে অস্ত্রধারীরা ট্রাকে উঠে চালকের বুকে ছুরিকাঘাত করে। হেলপারের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ও পুলিশের টহল দল এগিয়ে গেলে অস্ত্রধারী ডাকাতদল পালিয়ে যায়। পরে আহত চালককে উদ্ধার করে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় মির্জাপুর থানায় শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ট্রাকের হেলপার আবু তালেব মামলা করে। মামলা নথিভূক্ত হওয়ার তিন ঘন্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যে রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ও সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) পোষ্টকামুরী, বাইমহাটী, দেওহাটা ও মির্জাপুর বাজার এলাকা থেকে বাকি চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে গ্রেপ্তারকৃত সাদ্দাম ও নাদিম রবিার (১৮ ফেব্রয়ারী) আদালতে ট্রাকচালককে খুনের কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। গ্রেপ্তার অন্য চারজনকে সোমবার সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে টাঙ্গাইল কোর্টে প্রেরন করা হয়।
এই খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সাতজনের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তর করা হয়েছে এবং অন্য একজনকেও গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:৪৫:এএম ২ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।