আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হাফেজ রেজাউল হান্নান নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হলে পালিয়ে যান অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক।
রোববার (৩ মে) ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ছোট শাখারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
স্থানীয়রা জানান, হাফেজ রেজাউল হান্নান বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিদ্যালয়টি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগেই বিদ্যালয় থেকে পালিয়ে যান প্রধান শিক্ষক রেজাউল হান্নান।
এ বিষয়ে গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, শিশুটি এবং তার পরিবার বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তারা অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে জ্বালানি তেল পরিমাপে কম দেওয়ার অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশন মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টাঙ্গাইল।
মঙ্গলবার(২৮ এপ্রিলে) দুপুরে শহরের আমিন বাজার এলাকায় মেসার্স রাসেল এলপিজি এন্ড ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল।
এসময় তিনি জানান, মেসার্স রাসেল এলপিজি এন্ড ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, ডিজেল ও পেট্রোল প্রতি ৫ লিটারে প্রায় ৩৩০ মিলি লিটার পরিমানে কম দেওয়া হচ্ছে। পরে ওই প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তিনি আরো জানান, ফিলিং স্টেশনের মেশিনের ত্রুটি ঠিক না করা পর্যন্ত এই পাম্পে তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
অভিযানে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার শহরের আমিন বাজার এলাকায় মেসার্স রাসেল এলপিজি এন্ড ফিলিং স্টেশনে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বকেয়া টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত ও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের নলিনবাজার এলাকায় এরশাদ নামে এক দোকানদারের কাছে গুলিপেচা গ্রামের টগর নামের এক ব্যক্তি বকেয়া টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রূপ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর গুলিপেচা গ্রামের কয়েকজন এসে দোকানদারকে মারধর করলে ঘটনাটি বড় ধরনের সংঘর্ষে গড়ায়।
পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে অর্জুনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় স্কুলশিক্ষক নিয়ামত আলী মাস্টার এবং হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খানের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে এলাকায় উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।
গুরুতর আহত অবস্থায় নিয়ামত আলী মাস্টারকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করা হয়। পরে উত্তেজিত জনতা গুলিপেচা গ্রামে হামলা চালায়। স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টুর বাড়ির আশপাশের অন্তত অর্ধশতাধিক বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। কয়েকটি বাড়িতে লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি )আনোয়ার হোসেন বলেন, “ঘটনার পরপরই দুই পক্ষের স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) জিল্লুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ৫০ থেকে ৬০টি ঘরবাড়ি ভাঙচুরের তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। লুটপাটের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মা মুক্তা আক্তারকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে।
রবিবার (২৯ মার্চ) রাতে উপজেলার গজারিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন পিপিএম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের প্রবাসী মিয়ার স্ত্রী মুক্তা আক্তার (৩৫) তার ছেলে মোরাদ হাসান ও শিশু কন্যা ইয়ামিনকে (৫) নিয়ে প্রতিদিনের মতো রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো এক সময় মোরাদ হাসান তার মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ ঘরের এক কোণে ঢেকে রাখে।
পরে বাইরে থেকে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ভোরবেলা ছোট বোন ইয়ামিনকে নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘরে তালা দেখে বাড়ির লোকজন মুক্তাকে না পেয়ে তালা ভেঙে তার মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, ছেলেটা মাদকসেবী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
অনিয়মিত ছাত্র। মাদকের টাকা না পেয়ে সে তার মাকে হত্যা করেছে বলে আমাদের ধারণা।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন পিপিএম বলেন, ‘রাতের কোনো এক সময় মোরাদ তার মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার মেসার্স এলেঙ্গা ফিলিং স্টেশনে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল মজুদ ও কাগজপত্র না থাকায় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানে ফিলিং স্টেশনটিতে প্রায় ১০ হাজার লিটার ডিজেল, ৪ হাজার লিটারের বেশি অকটেন এবং প্রায় ২ হাজার লিটার পেট্রোল থাকা সত্বেও বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিলো। এছাড়া অকটেনের ক্যালিব্রেশন চার্ট সংরক্ষিত না থাকায় সংশ্লিষ্ট মালিককে এ জরিমানা করা হয়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ সজিবুল ইসলাম শুভ। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান চলাকালে এক সেবাগ্রহীতা জানান, “প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে বাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরে আসছে, জনমনে স্বস্তি ও নির্ভরতা ফিরে আসছে। আমরা সাধারণ মানুষ এতে উপকৃত হচ্ছি।”
এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, ৩০ মার্চ জেলার বিভিন্ন স্থানে ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের এমন তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ পাচ্ছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে অনুমোদনহীন একটি ‘মিনি পেট্রোল পাম্প’-এর কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রোববার(৮ মার্চ) বিকেলে সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে পাম্পটি বন্ধের পাশাপাশি মালিককে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল শহর সংলগ্ন বাসাখানপুর বাজারে আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি গত কয়েক মাস ধরে ‘এআর ট্রেডার্স’ নামক এই মিনি পেট্রোল পাম্পটি পরিচালনা করছিলেন। পাম্পটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। এছাড়া চলমান সংকটকালীন সময়ে এই পাম্পে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছিল এবং প্রতিটি মোটরসাইকেলে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছিল না।
সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, বাজার তদারকির অংশ হিসেবে আমরা নিয়মিত কাজ করছি। সদর উপজেলার বাসাখানপুর বাজারে অনুমোদনহীনভাবে পাম্প গড়ে তুলে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রির অপরাধে এআর ট্রেডার্সের মালিক আব্দুর রাজ্জাককে নগদ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসাথে পাম্পটির পেট্রোল বিক্রি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযান চলাকালে টাঙ্গাইলের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শাহিদা আক্তার এবং কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জলসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রোববার বিকেলে সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুর বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের ৩ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম আকুর টাকুর এলাকার লৌহজং নদীর পাড় থেকে সামনা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সে শহরের পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়া এলাকার আবুল কাশেমের স্ত্রী।
শনিবার (৭ মার্চ) সকালে শহরের লৌহজং নদীর পাড়ে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্বজনরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় সামনা বেগমের ভাগিনা শাওন তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন সকালে নদীর পারে তার মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানায়।
স্থানীয়রা জানান, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে নিহত সামনা বেগমের সঙ্গে তার ভাগিনা শাওনের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ ছিল।
এ বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের দেহের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল পৌরসভায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি সিসি উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ না করেই অর্থ উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, সাবেক কাউন্সিলর ও প্রকৌশলীদের যোগসাজশে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার বেড়াবুচনা এলাকার একটি সিসি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের অনুমোদন দেওয়া হলে, প্রস্তাবিত কাজটি শাকিল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়।
এই কাজের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল আলীম। অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে ওই এলাকায় এই ধরনের কোনো সিসি কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে-কলমে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। বাস্তবে কোনো কাজ না হওয়ায় জনগণের করের টাকার অপচয় ও লুটপাট করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই এলাকায় কোনো উন্নয়ন কাজ হতে দেখেননি। অথচ কাগজপত্রে প্রকল্পটি সম্পন্ন দেখানো হয়েছে, যা সুস্পষ্টভাবে দুর্নীতির প্রমাণ।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা পৌরসভার প্রকৌশলী শামীম আল মামুন ও প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম সরেজমিনে কাজ না দেখেই কাজ সম্পন্নের ছাড়পত্র দেন। ফলে সংশ্লিষ্টরা সহজেই অনিয়মের সুযোগ পেয়েছে এবং দুর্নীতি আরও বেড়েছে।
অভিযুক্ত সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল আলীম মুঠোফোনে জানান, ওই জায়গায় দেয়াল থাকায় তখন কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজটি করে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাজাহান মিয়া মুঠোফোনে জানান, তিনি বর্তমানে অসুস্থ। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানেনা তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অনতিবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আরমান কবীর:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮(বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরনবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠেছে। একই অভিযোগ উঠেছে সখীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আশরাফুল আলম তাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।
জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থী আহমেদ আযম খান নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে ভোট প্রার্থনা ও অনুদান ঘোষণা করছিলেন। এ অভিযোগ পেয়ে ওই আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের গত ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠান।
নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আশরাফুল আলম লিখিত অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ভিডিও ও ছবি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে আপনি অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বক্তব্যে বলেছেন, ‘১২ বার তো ভোট দিয়েছেন এবার ১৩ বার এর নির্বাচনে হিসেব করে ভোট দেন। আমি ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছি। আমার দল বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে আগামি নির্বাচনে বিএনপি পাস করলে দুই কোটি ফ্যামিলি কার্ড দিবে।’ এছাড়া তিনি নির্বাচনের প্রথম বছরে দুইটি রাস্তা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ভিডিও যাচাই করে সত্যতা পাওয়ায় আহমেদ আযম খানের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর বিধান লঙ্ঘনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
অপরদিকে, একই সংসদীয় আসনে সখীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ছবিসমূহ পর্যালোচনায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। ফলে তাদের দুজনকে টাঙ্গাইলের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে স্থাপিত নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আদালতের কাছে কারণ দর্শাতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রিয়াদ খান (২৫) নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক এক কর্মীকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের মল্লিক মার্কেট এলাকার একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক রিয়াদ খান উয়ার্শী গ্রামের শহীদুজ্জামান খানের ছেলে। সে উয়ার্শী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক হাদিউজ্জামান জানান, রিয়াদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী। তার নামে এর আগেও একটি মারামারি মামলা রয়েছে। সেই মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। কোন মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের কুইজবাড়ী গ্রামে বসতভিটার সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলা ও প্রাণনাশের হুমকিতে বাদী পরিবার বর্তমানে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ডিসেম্বর( বুধবার) বিকেলে কুইজবাড়ী গ্রামের বাদীর বাড়িতে তাদের শরিক অভিযুক্ত জাহিদ, শহিদ, তাদের পিতা হামেদ আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩–৪ জন সংঘবদ্ধ হয়ে বাদীর মা অনামিকা বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় অনামিকা বেগম প্রতিবাদ করলে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে তাড়া করে বসতঘরে ঢুকে জোরপূর্বক টেনে-হেঁচড়ে বাড়ির উঠানে নিয়ে আসে এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও তলপেটে লাথি মারতে থাকে।
একপর্যায়ে অভিযুক্ত জাহিদ অনামিকা বেগমের তলপেটে সজোরে লাথি দিলে তার পূর্বের সিজারিয়ান অপারেশনের সেলাই ছিঁড়ে গুরুতর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এ সময় বিবাদীরা তার পরনের কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটায়।
অনামিকা বেগমের চিৎকারে তার স্বামী জাহিদুর রহমান এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। অভিযুক্ত জাহিদ ও শহিদ তার ডান চোখে আঘাত করে চোখ নষ্ট করার চেষ্টা করলে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। চার দিন চিকিৎসা শেষে আহতদের ছেলে রাব্বি বাদী টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ দায়েরের পর বিবাদীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বাদী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে বাদী পরিবার, ঘরবাড়ি ছেড়ে কালিহাতী উপজেলার চিনামুড়া এলাকায় আশ্রয় নেয়।
আহত জাহিদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্ত জাহিদ বসতঘরে ঢুকে ট্রাংক ভেঙে নগদ ৮০ হাজার টাকা লুট করে এবং অভিযুক্ত শহিদ তার স্ত্রীর গলায় থাকা ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
অনামিকা বেগম বলেন, হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরও বিবাদীরা আমাদের ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তারা এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা বর্তমানে বাড়িছাড়া।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরহাদ হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন এবং গ্রাম্য শালিসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে বাদী পরিবার এলাকা ছাড়া রয়েছে এবং তাদের নিরাপদে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (উপপরিদর্শক) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমীন বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে খেজুরের রস খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তাওহীদ নামে ৮ম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্র মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২ জন।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের পাকুটিয়া বেইলী ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তাওহীদ উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের রামপুর দরগাবাড়ি গ্রামের প্রবাসী হারুনের ছেলে। এ ঘটনায় আহত দুইজন একই গ্রামের জিহাদ ও হাসান।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, তিন মোটরসাইকেলে ৯ জন কালিহাতীর ধানগড়া গ্রামে রবিবার ভোরে খেজুরের রস খেতে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে পাকুটিয়া এলাকায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি বেইলি ব্রীজের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তাওহীদের মৃত্যু হয়। এ সময় দুইজন গুরুত্বর আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কতব্যরত চিকিৎসক জিহাদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে ।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, গুরুত্বর আহত জিহাদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। আহত হাসানকে হাসপাতালের ভর্তি করা হয়েছে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান জানান, নিহত তাওহীদের মরদেহ কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।