আরমান কবীর: টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ৫ কোটি ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৭ টাকা ৯৯ পয়সার কাজের প্রাক্কলন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই প্রাক্কলন ফাঁস করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী, সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম এবং নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে।
এর আগেও প্রথম দরপত্র আহ্বানের সময় ৫ কোটি ২৩ লাখ ৯ হাজার ১৫ টাকা ২৭৪ পয়সার প্রাক্কলন ফাঁস হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে সেই দরপত্রটি বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হলেও এবারও একই কায়দায় প্রাক্কলন ফাঁস করা হয়।
জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (১ম সংশোধিত) আওতায় একটি প্যাকেজে ৫ কোটি ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৭ টাকা ৯৯ পয়সা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর ই-জিপিতে দরপত্রটি উন্মুক্ত হওয়ার আগেই প্রাক্কলন ফাঁস হওয়ায় বিভিন্ন ঠিকাদার ও পৌরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়নের আওতায় ৭ লাখ ৪৩ হাজার ১০০ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্পে সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম ঠিকাদারকে প্রাক্কলিত টাকার তথ্য জানিয়ে দেন। এর ফলে মাত্র শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ কম দর দেখিয়ে কাজটি লুফে নেয় মেসার্স কাওছার আকবার। অভিযোগ রয়েছে, এই কাজের মেয়াদ শেষ না হতেই অধিকাংশ সড়কবাতি নষ্ট হয়ে গেলেও কোনো ধরনের পরিদর্শন ছাড়াই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করেন সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মকর্তা জানান, গত বছরের ২৫ মে প্রথম দরপত্র আহ্বান করা হলে সে সময় ৫ কোটি ২৩ লাখ ৯ হাজার ১৫ টাকা ২৭৪ পয়সার প্রাক্কলন ফাঁস হয়। পরবর্তীতে জানাজানি হলে তা বাতিল করে চলতি বছর পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু এবারও প্রাক্কলনটি ফাঁস হয়ে যায়। প্রথমবার দরপত্র বাতিলের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ না দেখিয়েই দ্বিতীয়বার তা আহ্বান করা হয়। বর্তমান অনলাইন ই-জিপিতে লাইভে থাকা এই প্রকল্পের দাফতরিক প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৭ টাকা ৯৯ পয়সা। প্রাক্কলন ফাঁসের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসায় গত ৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত দিনে দরপত্রটি উন্মুক্ত করা হয়নি।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ডিসি লেকের সংস্কার, রাস্তার বাতি স্থাপন এবং হাঁটার পথ (অ্যাম্ফিথিয়েটার ও প্লাজা) নির্মাণে ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৮৬ হাজার ৬০১ টাকা ৬৮ পয়সা ব্যয় ধরা হয়েছে। এছাড়া ঢাল সুরক্ষা ও হাঁটার পথ নির্মাণে ১ কোটি ৩০ হাজার ৩৬৯ টাকা ৯৭ পয়সা এবং একই স্থানে সীমানা প্রাচীর, প্রধান প্রবেশদ্বার ও টিকিট কাউন্টার নির্মাণে ৪৮ লাখ ২১ হাজার ১৬৬ টাকা ৩৪ পয়সা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পের শর্তানুযায়ী ই-জিপি (ওটিএম) পদ্ধতির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পৌর কর্মকর্তা দাবি করেন, ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে সদ্য বিদায়ী পৌরসভার প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত, নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী এবং সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম তাদের পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতেই দরপত্র আহ্বানের পরপরই প্রাক্কলন ফাঁস করেন। গত বছরও একই কারণে দরপত্র বাতিল করতে হয়েছিল।
ভুক্তভোগী একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, সদ্য বিদায়ী প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্তসহ উল্লেখিত কর্মকর্তারা নিজেদের পছন্দমতো ঠিকাদারকে কাজ দিতেই পরিকল্পিতভাবে এই প্রাক্কলন ফাঁস করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম মোবাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হয়ে সরাসরি অফিসে গিয়ে কথা বলার অনুরোধ জানান।
নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে ই-জিপির পাসওয়ার্ড কেবল তার কাছে নয়, সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামের কাছেও রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
টাঙ্গাইল পৌরসভার নবনিযুক্ত প্রশাসক সুমাইয়া মোমিন বিষয়টি খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের বাসাইলে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হানিফ শেখ (৩৭) নামে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক আনসার সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের বিলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত থাকা সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, হাবলা উত্তর পাড়ার মৃত মুক্তার আলীর ছেলে, ডায়মন্ড ( ৩৮) ও একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মদদ মিয়া (৪৩)।
নিহত হানিফ শেখ হাবলা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা বক্তার আলী খানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে বিলপাড়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন হানিফ। পথে দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাত করে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হানিফকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ (এএসআই) মো. আতিকুর রহমান বলেন, রাতে হানিফ নামের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক আনসার সদস্যকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। পরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবীর বলেন, ঘটনার পর সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার টাঙ্গাইল কোটে প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাতেই নিহতের স্ত্রী মনিরা সুলতানা ২০ জনকে আসামি করে বাসাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর স্তন্তর করা হবে।
আরমান কবীর:টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক তিনবারের চেয়ারম্যান ও দাইন্যা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে টাঙ্গাইলে আলোচনা সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদ ফারুক স্মৃতি সংসদের আয়োজনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাঙ্গাইল কোর্ট চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
দাইন্যা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেনের সভাপতিত্বে ও ফারুক চেয়ারম্যানের ছোট ভাই ও দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম লাবু’র সঞ্চালনায় উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলী।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী, শফিকুর রহমান শফিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালেহ মোহাম্মদ শাফি ইথেন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, থানা মহিলা দলের সভাপতি পারুল আক্তার, সাধারণ সম্পাদক শিল্পী আজম প্রমুখ।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ,সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের একমাত্র সন্তান ইঞ্জিনিয়ার ফুয়াদ ইসলাম অনিক ও ভাগিনা মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাজিত ইসলাম দিপু।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ রফিকুল ইসলাম ফারুক চেয়ারম্যান ছিলেন,টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তাঁর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন অন্যথায় বর্তমানে শান্ত টাঙ্গাইলের পশ্চিমাঞ্চল অশান্ত হয়ে উঠবে।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বিএনপি, ছাত্রদল যুবদলের নেতাকর্মী সহ,দাইন্যা ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য,২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর সকালে তিনি প্রাতভ্রমনে বের হয়ে শহরের আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাঁর ওপর হামলা চালায়। ফলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলার সময় একটি পিকআপ আটক করেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার দিবাগত রাতে ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী টি-রোড এলাকায় পিকআপটি আটক করা হয়। পরে পুলিশ ওষুধসহ গাড়িটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
স্থানীয়রা জানান, রাত ১১টার দিকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ বস্তায় করে পিকআপে তোলা হয়। পরে সেগুলো গোবিন্দাসী যমুনা নদীর দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। টি-রোড এলাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাঁরা পিকআপটি থামিয়ে দেন। খবর পেয়ে ভূঞাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওষুধসহ গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের ধারণা, হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে বিতরণ না করা এসব ওষুধের একটি অংশ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে ওষুধগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ কি না এবং কেন সেগুলো নদীতে নেওয়া হচ্ছিল, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পিকআপচালক আজমত বলেন, বাবুল নামের এক ব্যক্তি হাসপাতাল থেকে গোবিন্দাসী এলাকায় বস্তাগুলো নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর পিকআপ ভাড়া করেন। বস্তাগুলোর ভেতরে কী ছিল, তা তিনি জানতেন না।
ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কথা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)রেজাউল করিম বলেন, স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়া পিকআপভর্তি ওষুধ ও চালককে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরমান কবীরঃ একসময় যে মঞ্চে নাটকের সংলাপে মুখরিত হতো টাঙ্গাইল, আজ সেই মঞ্চের বারান্দায় বসে পানের দোকান। যে চত্বরে বইমেলার ভিড় লাগত, সেই চত্বর এখন ট্রাকস্ট্যান্ড। মাঝরাতে সেখানে বসে মাদকের আড্ডা।
এটি টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী ভাসানী হলের বর্তমান অবস্থা। ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত। টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক প্রাণ আজ অক্সিজেনের অভাবে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
জানা গেছে,টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির ওপর “টাঙ্গাইল টাউন হল” নামে মিলনায়তনটি নির্মিত হয়। ১৯৭৬ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতির শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল ফজল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
১৯৭৮ সালের ২ এপ্রিল ঢাকা বিভাগের কমিশনার খানে আলম খান উদ্বোধন করেন।
পরবর্তীতে টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান সামছুল হকের উদ্যোগে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “ভাসানী হল”। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই নামকরণ।
প্রায় এক হাজার আসনবিশিষ্ট এই মিলনায়তনটি একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল।
স্থানীয় প্রবীণ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, কয়েক দশক ধরে টাঙ্গাইলের নাটক, সংগীত, আবৃত্তি, বইমেলা এবং রাজনৈতিক কর্মীদের মহামিলন ক্ষেত্র ছিল এটি।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও মওলানা ভাসানীর দৌহিত্র মাহমুদুল হক সানু বলেন, ভাসানী হল সংস্কার এখন সময়ের দাবি। শুধুমাত্র মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নামে নামকরণ করা হয় বিধায় দীর্ঘদিন ধরে হলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গত ১২ জুন হলটি পরিদর্শন করেন, আশা করছি, খুব দ্রুতই বর্তমান সরকার এই মিলনায়তনটি আধুনিক ও যুগোপযোগী করে সংস্কার করার পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
বিশিষ্ট সুরকার-গীতিকার ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু বলেন, এই মিলনায়তনটি ঘিরেই নাট্যচর্চাসহ সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়মিত আড্ডা বসত। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে এর চত্বরে হতো বইমেলা। ঈদের সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্টের আয়োজন করত। এ ছাড়া এ ভাসানী হলে জেলার অনেক রাজনৈতিক সভা-সমাবেশও অনুষ্ঠিত হতো। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মূল কেন্দ্র ছিল হলটি।
ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নামকরা থিয়েটার দল আসত। হতো নাট্যোৎসব। পাড়া-মহল্লার সংগঠনগুলো এখানেই মঞ্চ মাতাত।
তিনি আরো বলেন,কালের বিবর্তনে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো হারিয়ে গেছে। সংস্কারের অভাবে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। প্রায় এক যুগ আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র আজ অপরাধের হটস্পট।
তরুণ ইউসুফ, টাঙ্গাইলের অন্যতম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বলেন, “টাঙ্গাইলকে সাংস্কৃতিক নগরী বলা হয়। কিন্তু এই সাংস্কৃতিক নগরীর জন্য একটি সুন্দর মানসম্মত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নেই। একসময় ভাসানী হল ঘিরে যে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছিল, তা বন্ধ হয়ে গেছে এক যুগ আগেই। তাই দ্রুত ভাসানী হল পুনর্নির্মাণ করা জরুরি হয়ে উঠেছে।”
মৌসুমী রহমান শৈলী শিল্প চর্চা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা বলেন, “টাঙ্গাইলে একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ খুবই জরুরি। একসময় ভাসানী হল আমাদের প্রাণকেন্দ্র ছিল। ভাসানী হল পুনর্নির্মাণ হলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়বে।
কামরুজ্জামান খান, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “মাদকের ছোবল এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত থেকে মুক্তি পেতে হলে ক্রীড়া অঙ্গন এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে মুখরিত রাখতে হবে। তাই সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে গতিশীল করতে ভাসানী হল সংস্কার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কবি মাহমুদ কামাল বলেন, হলটি মওলানা ভাসানীর নামে থাকায় বিগত সরকার সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি, ভাসানী হলটি পুনর্নির্মাণ কিংবা সংস্কার করা হোক।
এটি শুধু একটি ইট-সিমেন্টের স্থাপনা নয় ,স্থানীয়রা মনে করেন, এটি টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জেলার গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।
টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গত ১২ জুন হলটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি দ্রুত এই ঐতিহাসিক হলটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, “ভাসানী হল টাঙ্গাইলের জন্য অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। এটি পুনর্নির্মাণের ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।”
একটি শহর বাঁচে তার সংস্কৃতি দিয়ে। ভাসানী হল মরে গেলে টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক আত্মা মরে যাবে। ট্রাকস্ট্যান্ড সরিয়ে, মাদকের আড্ডা বন্ধ করে, আবার যদি মঞ্চে আলো জ্বলে, তবেই টাঙ্গাইল ফিরে পাবে তার “সাংস্কৃতিক নগরী”র পরিচয়।এখন দেখার বিষয়, আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনায় আলোচিত প্রবাসফেরত জামাল উদ্দিন (৫৫) মারা গেছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। জামাল উদ্দিনের ভাতিজি ইসমত আরা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ২ আগস্ট রাতে উপজেলার কালমেঘা এলাকায় অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। পরদিন স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে যান। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। গত ৬ আগস্ট এলাকাবাসীর আর্থিক সহায়তায় তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
জানা যায়, জামাল উদ্দিন দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। কয়েক মাস আগে অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর থেকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছিলেন না।
এদিকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও স্ত্রী ও সন্তানরা তার খোঁজ নেননি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে স্ত্রী রিনা আক্তার দাবি করেছেন, প্রায় আড়াই মাস আগে তিনি জামাল উদ্দিনকে তালাক দিয়েছেন।
একজন অসুস্থ মানুষ জীবনের শেষ সময়ে স্বজনদের কাছ থেকে দূরে থেকে অন্যের সহায়তায় চিকিৎসা নিয়েই চলে গেলেন—ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দেয়।
ভাতিজি ইসমত আরা জানান ,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শুক্রবার চাচাকে আমার বাড়িতে নিয়ে আসি। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে চাচার মৃত্যু হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল পৌর শহরে বেড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী সহ কিশোরদের মাদকের প্রতি আসক্তি। তারা যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনের সাথে। বিশেষ করে ভয়ংকর মাদক ইয়াবা ও গাঁজা সেবনের সাথে বেশি যুক্ত স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে এইসব শিক্ষার্থী সহ কিশোররা। প্রশাসনের লাগাতার অভিযান চললেও কমেনি মাদক সেবনের প্রবণতা।ফলে শহরে বেড়েছে অপরাধের হার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর শহরের ক্যাপসুল মার্কেট, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, বেড়াডোমা ব্রিজ পার, টাঙ্গাইল আউটার স্টেডিয়াম, হাউজিং মাঠ, সবুর খান টাওয়ারের সামনের রাস্তা, ছয়আনি পুকুর পার, টাঙ্গাইল সরকারি বিন্দুবাসিনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনের বড় পুকুর পার, শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের পেছনের নজরুল সেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তাসহ পুরো গলি, পরিত্যক্ত ভাসানী হল চত্বর, কান্দাপাড়া, বাজিতপুর টেক্সটাইল মোড়, রাবনা বাইপাস , সৌখিন মৎস্য শিকারি সমিতির পাশে লেক পার সহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে এরা দলবেঁধে সন্ধ্যার পর মিলিত হয় মাদক সেবনে। এই সব আড্ডায় একই সাথে চলে মোবাইল জুয়া।
মাদকাসক্ত এই সব কিশোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন নামে গ্রুপ খুলে নিজেদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখে। প্রশাসন কিম্বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কোন অভিযানের খবর এইসব গ্রুপের মাধ্যমে মুহূর্তেই সদস্যদের কাছে পৌঁছে যায়।
এইসব ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে কোথায় মিলিত হতে হবে, কোন ধরনের মাদক বর্তমানে সহজলভ্য – এমন খবর সহজেই পেয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট গ্রুপের সদস্যরা।
এছাড়া শহরে মাদকের সংকট হলেই তারা মাদক সংগ্রহের জন্য মোটরসাইকেল , সিএনজি অটোরিকশা যোগে চলে যাচ্ছে শহরতলীর গালা ইউনিয়নের মনতলা, মগড়া ইউনিয়নের ছোট বাসালিয়া, ঘারিন্দা রেল স্টেশন, সন্তোষ, দাইন্না ইউনিয়নের শ্যামার ঘাট, অলোয়া জমিদার বাড়ির আশপাশের এলাকাসহ বাইপাস এলাকায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদক বিক্রেতা জানান, এখন আর মাদক বিক্রির কোন নির্দিষ্ট স্পট নেই। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় চাহিদা অনুযায়ী মাদক পৌঁছে দেওয়া হয়। ইয়াং জেনারেশনের কাছে এখন সবচেয়ে বেশি চাহিদা ইয়াবা ও গাঁজার। অর্ডার পেলে পৌর এলাকার যে কোন স্থানে তিনি ৩০ মিনিটের মধ্যে অর্ডারকৃত মাদকদ্রব্য পৌঁছে দেন। তবে দূরত্ব অনুযায়ী চার্জ ধরা হয়।”
শহরের নামকরা একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র জানায়, শহরের আদালত পাড়ার এক বন্ধুর সাথে থেকে সে ইয়াবা খাওয়া শিখেছে। ইয়াবা না পেলে গাঁজা চলে। তবে মাদক ছাড়া তার একদমই ভালো লাগে না। এমনকি পরীক্ষার হলেও পরীক্ষা দেওয়ার পূর্বে মাদক সেবন করে যেতে হয়, না হলে তার মাথা কাজ করে না।
সে আরও জানান, বেশ কিছু দিন হলো প্রশাসনের কড়াকড়ির কারণে মাদক সেবনের সমস্যা হচ্ছে ও দামও বেড়েছে, তাই চেষ্টায় আছে কিভাবে মাদক সেবন থেকে বিরত থাকা যায়।
টাঙ্গাইল আউটার স্টেডিয়ামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকানদার জানান, প্রতিদিনই ঈদগাহে বসে জমজমাট মাদকের আড্ডা। শহরের বিভিন্ন এলাকার কিশোর-যুবকেরা এসে জড়ো হয় এই মাঠে, মাঝ রাত পর্যন্ত চলে মাদক সেবন, একই সাথে চলে মোবাইল জুয়া। মাঝে মাঝে প্রশাসন অভিযান চালালে কিছু দিন বন্ধ থাকে, তারপর আবার আগের মত চলে মাদক সেবন ও জুয়া।
এ প্রসঙ্গে সরকারি সৈয়দ মহব্বত আলী ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, সরকার ইদানিং মাদক ব্যবসায়ী সহ মাদক সেবীদের আটকে বেশ তৎপর। তারপরও থেমে নেই মাদক সেবন। শুধুমাত্র প্রশাসনিক তৎপরতা মাদকের ভয়াবহতা বন্ধ করতে পারবে না, এর জন্য প্রয়োজন পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সচেতনতা।
টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি আকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, বিগত দিনে স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, রাজনৈতিক বড় ভাইয়ের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কিশোর গ্যাং ও কিশোরদের মধ্যে মাদকাসক্তি তৈরি হয়েছিল। সেই কালচার থেকে বের হয়ে আসতে কিছুটা সময় লাগবে। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। আশা করছি, খুব শীঘ্রই অবস্থার উন্নতি হবে। এ ছাড়াও মাদকের বিরুদ্ধে পারিবারিক ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”
এ বিষয়ে জানতে টাঙ্গাইল জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আহসান কবীর বুলবুলের সরকারি মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মাদকাসক্তি ও কিশোরদের মোবাইল গেমে আসক্তির কারণে টাঙ্গাইল পৌর শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা দ্রুত প্রশাসনিক অভিযান ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই পরিস্থিতি উন্নতির দাবি জানিয়েছেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের পৌর শহরে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৪টি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। এ সময় পাইলট হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ সিলগালা করা হয়।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে প্যাথলজিস্টের অনুপস্থিতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ, ওষুধ রাখার ফ্রিজের তাপমাত্রা সঠিক না থাকা এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া রক্ত সংরক্ষণের মতো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পাইলট হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা, অ্যাপলো হাসপাতালকে ২৫ হাজার টাকা, সেনা কম্বাইন্ড হাসপাতালকে ২৫ হাজার টাকা এবং জনতা ক্লিনিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ক্লিনিকগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এখানে এসে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হওয়ায় তাদের জরিমানা এবং সিলগালা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় জয়নাল আবেদীন (৬০) নামের এক বৃদ্ধ কৃষক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার(২৮ জুলাই)বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সখীপুর-গোড়াই আঞ্চলিক সড়কের প্রতিমা বংকী মিনি স্টেডিয়ামের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জয়নাল আবেদীন উপজেলার প্রতিমা বংকী বাজার এলাকার মৃত গুঞ্জর আলীর ছেলে।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কৃষক জয়নাল আবেদীন ঘাস কাটার উদ্দেশে সখীপুর-গোড়াই আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে সখীপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বেপরোয়া গতিতে আসা ওই মোটরসাইকেল তাঁকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে মাথায় আঘাত লেগে জয়নাল আবেদীন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোস্তফা কামাল জানান, জয়নাল আবেদীনের মাথায় আঘাত লেগে কান দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। ফলে হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় এক আসামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের দায়রা জজ আদালতের বিচারক সিনিয়র দায়রা জজ মো: হাফিজুর রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন।
দন্ড প্রাপ্তরা হলো,টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার কাহারতা রামখা পাড়া গ্রামের আ: খালেকের ছেলে হোসেন আলী (৩৫)। এই মামলার অপর আসামি সখিপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাদশা মিয়ার ছেলে হিরু মিয়া ওরফে হায়দাকে (৫৫) পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।
টাঙ্গাইল দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো: শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, বিগত ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সখিপুর থানার বড়চওনা এলাকায় কালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে অভিযান চালিয়ে আসামি হোসেন আলী ও হিরু মিয়াকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামি হোসেন আলীর কাছ থেকে ৯০ গ্রাম ও হিরু মিয়ার কাছ থেকে ১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় টাঙ্গাইল ডিবি (দক্ষিণ) পুলিশের এসআই নুরুজ্জামান বাদি হয়ে সখিপুর থানায় মামলা করেন। বিচার শেষে আসামিদের এই সাজা দেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় আসামি হিরু মিয়া আদালতে হাজির থাকলেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হোসেন আলী পলাতক রয়েছে। আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান পারভেজ ও অ্যাডভোকেট খ: মনিরুল ইসলাম মনির।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সামিয়া আক্তারকে মুক্তিপণের আশায় অপহরণের পর হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. ন. ম. ইলিয়াস এ দণ্ডাদেশ দেন।
দণ্ডিত আসামি সাব্বির মিয়া টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর উত্তরপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। আসামির উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে আসামিকে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দীপু জানান, সখিপুরের দাড়িয়াপুর গ্রামের রনজু মিয়ার মেয়ে সামিয়া আক্তার (৯) দাড়িয়াপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রতিদিনের মতো সে প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে আসামি সাব্বির পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে সামিয়াকে অপহরণ করে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে সামিয়া নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আসামি।
পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পাশের একটি ধানক্ষেতের ড্রেনে কাঁদামাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এরপর আসামি সাব্বির নিজের পরিচয় গোপন রেখে একটি ইমু আইডি থেকে ভয়েস এসএমএস-এর মাধ্যমে সামিয়ার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
এ ঘটনায় পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর সামিয়ার বাবা রনজু মিয়া সখিপুর থানায় মামলা করেন। মামলার এক দিন পর ৮ সেপ্টেম্বর সেই ধানক্ষেতের ড্রেন থেকে সামিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাব্বিরকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে সাব্বির নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। মোট ১৮ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, স্টেট ডিফেন্স।
রায়ের পর সামিয়ার পরিবার ও এলাকাবাসী আদালতের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এমন নৃশংস হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়ায় সমাজে অপরাধ কমবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের নারান্দিয়া টি. আর. কে. এন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে ৩৮ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার(৩০ জুন )দিনব্যাপী টাঙ্গাইল জেলা দুদকের উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে নথিপত্র যাচাই, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।
এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার, সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি ও চরম স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নারান্দিয়া টি.আর.কে.এন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে আঁতাত করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গোলাম মোস্তফা আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের চাকরির বিষয় গোপন করে এবং ভূঞাপুর লোকমান ফকির ডিগ্রী কলেজের নিয়োগ যোগদান পত্রের তারিখে অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করে ২০১৪ সালে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন।
অভিযোগ রয়েছে, যোগাদানের পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার সময় কালে দুর্নীতিতে জড়িয়ে নারান্দিয়া স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২১ টি খাত থেকে মোট ৩৮ লক্ষ ৭২ হাজার ৫ শত ৪৮ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।
তবে প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করে জানান ,দুর্নীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পূর্ণভাবে যাচাই না করেই তদন্ত দল ফিরে গেছে। এতে তারা সন্তুষ্ট নন। তাদের দাবি, অভিযোগের প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অভিযোগকারি সহকারি অধ্যাপক আব্দুল সালাম তালুকদার বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২১ টি খাতে তার আত্মসাৎকৃত টাকার পরিমান ৩৮ লক্ষ ৭২ হাজার ৫ শত ৪৮ টাকা। দুদকে অভিযোগ দেয়ার পর দুদকের উপ পরিচালক তদন্তে আসেন।
কলেজের সহকারি অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ৫ আগষ্টের পর অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা পালিয়ে যাবার পর সকল শিক্ষক কর্মচারি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তি মিলে আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়। আমি গত ১১ মাস দ্বায়িত্ব পালনের পর তিনি আবার স্বপদে বহাল হয়ে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেয়। গত ১০ মাস যাবৎ আমার বেতন বন্ধ রয়েছে।
একই কলেজের সহকারি অধ্যাপক সুমির কুমার মোদক অভিযোগ করে বলেন, অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার দূর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় আমার বেতন বন্ধ করে দেয়। আমি এখনো সে বেতন পাই নাই। বেতন বন্ধ করলেও আমি পিছপা হবো না। আমি প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। দুদকের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেন এই শিক্ষক।
তিনি বলেন, অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা ২০১৪ সালে আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের চাকরির বিষয় তথ্য গোপন করেন এবং ভূঞাপুর লোকমান ফকির ডিগ্রী কলেজের নিয়োগ যোগদান পত্রের তারিখ অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন।
তিনি আরও বলেন,এর আগে অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে চাকরিতে বয়স জালিয়াতি, ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, টিউশন ফি’র টাকা আত্মসাৎ, ক্রয় সংক্রান্ত অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগে শিক্ষা অধিদপ্তরও পৃথকভাবে তদন্ত করে।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তদন্তাধীন বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না।
টাঙ্গাইল জেলা দুদকের উপ পরিচালক ফখরুল ইসলাম বলেন. মঙ্গলবার সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তদন্ত চলমান রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।