একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল এখন ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে চলে গেছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে আক্রমণ করে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছে। গত ২৯ জানুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকে এই অবস্থা চলছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সাধারণ নেতা-কর্মীরা।
উপজেলা আওয়ামী লীগের এক পক্ষে আছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে আছেন পৌর মেয়র আবু হানিফ আজাদ। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান।
সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামের বিরোধীদের অভিযোগ, এক বছর আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। তারপর গত অক্টোবরে সংসদ সদস্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বসে একটি খসড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি করেন। কিন্তু ২৯ জানুয়ারি যে কমিটি প্রকাশ করা হয়, সেখানে খসড়া কমিটির ২৩ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়। সেখানে সংসদ সদস্যের আত্মীয়স্বজনসহ অন্য দলের লোকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সংসদ সদস্যের অনুসারীদের দাবি, অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মীদের উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা আগে মূল্যায়ন করেননি। এবার সংসদ সদস্য তাঁদের মূল্যায়ন করছেন।
২৯ জানুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা নবগঠিত হতেয়া-রাজাবাড়ি ইউনিয়নে কর্মিসভার আয়োজন করে। সেখানে অধিকাংশ বক্তাই সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য দেন। ওই সভায় হাতিবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. গিয়াস উদ্দিন সংসদ সদস্যের মুক্তিযোদ্ধা হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, জোয়াহেরুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। সংসদ সদস্য হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়েছেন।
এদিকে সংসদ সদস্যের অনুসারীরা শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বড়চওনায় এক সমাবেশ করেন। সেখানে অধিকাংশ বক্তা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনুপম শাহজাহান এবং সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত শিকদারকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেন। ওই সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান শরীফ তাঁদের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন।
কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম বক্তব্যে বলেন, অনুপম শাহজাহান ও শওকত শিকদারকে তিনি টাকাপয়সা ও সোনা দিয়েছেন। তখন তাঁর অনেক মূল্যায়ন ছিল। এখন তাঁর টাকাও নেই, মূল্যায়নও নেই।
বহুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, শওকত শিকদার যখন উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন তাঁকে প্রকল্প দেওয়ার কথা বলে টাকাপয়সা নিয়েছেন। কালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জামাল হোসেন বলেন, ‘ওনাদের টাকা দিলেই মজা, না দিলেই তাঁরা বেজার।’
এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনুপম শাহজাহান বলেন, এ অবস্থা জোয়াহেরুল ইসলামই শুরু করেছেন। তাঁর সঙ্গে বসে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি খসড়া করেছিলেন। তিনি সেখান থেকে ২৩ জনের নাম কেটে ইচ্ছামতো নাম বসিয়ে দিয়েছেন। দলতো পরিবার নিয়ে হয় না। তিনি আত্মীয়স্বজন দিয়ে দলের কমিটি ভরে ফেলেছেন।
বিরোধিতার জন্যই নেতারা বিরোধিতা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এর কোনো মানে হয় না। আমি সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করছি। কিছু লোক আমাকে হেয় করার জন্য ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তৃতা করছেন। তাঁরা আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত রেষারেষি করছেন। এটা ঠিক নয়।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, এক পক্ষ আরেক পক্ষের নেতাদের সম্পর্কে নানা অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ তুলছেন। এতে দলীয় নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দলের ও সরকারের ইমেজ এলাকায় নষ্ট হচ্ছে। বৃহত্তর স্বার্থে সবার একযোগে কাজ করা উচিত।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, বাংলাদেশ একদিকে উন্নয়নের ধারায় অগ্রসর হচ্ছে অন্যদিকে দেশে বৈষম্য এবং দূর্নীতি চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদি শক্তি আক্রমনের মাত্রা ছাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে জামায়াতসহ দেশের রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে নেমেছে।
শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি ) বিকেলে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আয়োজিত বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সূবর্ণ জয়ন্তীর আলোচনা সভায় বক্তব্যে দেয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান মেনন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন হলেও এর ফলাফল জনগন পাচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে বিরোধী দলে বসার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন তাকে বলেছিলাম, আমরা একটি প্লার্টফর্মে নির্বাচন করেছিলাম। একটা বক্তব্য দিয়ে এখানে বিরোধীদলে বসার কোন জায়গা নেই। আমরা এখনও ১৪ দল জোটে আছি। আগামীতে জোটবদ্ধ হয়েই নির্বাচন করার আশা করি।
বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি টাঙ্গাইল শাখার জেলা সভাপতি কমরেড গোলাম নওজব পাওয়ার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, মো. আজাদ খান ভাসানী, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পিপলু প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে নানা আয়োজনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক ও ভাষা সৈনিক শামসুল হকের ১০৫তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
এদিকে শামসুল হকের আমেরিকা প্রবাসী দুই মেয়ে প্রায় ৭০ বছর পর প্রথমবারের মত টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার কদিমহামজানি যোকারচর কবরস্থানে বাবার কবর জিয়ারত ও পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। ১৯৫৩ সালে ভাষা আন্দোলনের পর কারাবন্দি শামসুল হকের স্ত্রী আফিয়া খাতুন দুই শিশু কন্যা নিয়ে দেশ ত্যাগ করেন।
বুধবার (১ ফেব্রুয়ার)দুপুরে শামসুল হকের দুই মেয়ে হারবার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. শাহিন ফাতেমা দিল ও নাসার এ্যাস্ট্রোফিজিসিয়েস্ট ড. শায়েকা দিল ভার্টিলেক তাদের আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় লোকজন নিয়ে কবর জিয়ারত করেন। তারা বাবার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এর আগে তারা শহরের জেলা সদরে অবস্থিত শামসুল হক তোরণে পুস্পস্তবক অর্পন এবং এলেঙ্গায় অবস্থিত শামসুল হক মহাবিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তারা সেখানে বাবার জন্মদিনের কেক কেটে দিবসটি উদযাপন করেন।
এসময় শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডাঃ সাইফুল ইসলাম স্বপন ও সাধরন সম্পাদক আবুল কালাম মোস্তফা লাবু, কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আনোয়ার মোল্লা, দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এম শিবলী সাদিকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গতঃ ২০০৭ সালের ২৩ জুন “নিঁখোজের ৪২ বছর পর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক শামসুল হকের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন ও কবরের সন্ধান লাভ” শিরোনামে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। সংবাদটি সেসময় দেশের রাজনীতিতে সাড়া ফেলে। এর পর থেকেই প্রতিবছর শামসুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী ও জন্মবার্ষিকী নিয়মিত পালন করা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ মহান মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন,আমি এমপি-মন্ত্রী হওয়ার জন্য বা ক্ষমতার জন্য দল গঠন করি নাই। আমি দল গঠন করেছি সেবা করার জন্য মানুষকে পাহারা দেওয়ার জন্য।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার অনেক দুরত্ব রয়েছে। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি। এখন লুটপাটের সময় চলছে। সেইজন্য হয়তো অনেকে মনে করতে পারে আমাদের উদ্দেশ্য নির্বাচন করা, সরকারে যাওয়া, এমন রাজনীতি আমি করিনাই,ভবিষ্যতে যে করবো তা কেউ গ্যরান্টি দিতে পরবেনা।
তিনি আরো বলেন,আওয়ামী লীগ সত্যি মস্তবড় দল ,বঙ্গবন্ধুকে গ্রাস করে আওয়ামী লীগ সুফল পাচ্ছে। ততদিনই তারা সূফল পাবে, যতদিন না পর্যন্ত আমরা আওয়ামী লীগের চাইতে সুসংগঠিত হতে পারবো।
মঙ্গলবার(৩১ জানুয়ারি) বিকালে টাঙ্গাইল শহরের জেলা সদর রোডে অবস্থিত সোনার বাংলা কমিনিটি সেন্টারে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জেলা কার্যালয়ে কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম এসব কথা বলেন।
টাঙ্গাইল জেলা কৃষক শ্রমিক জনতালীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে অন্যন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীর প্রতীক, সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ হেল বীর প্রতীক, সদস্য নাসরিন সিদ্দিকী, শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী, মঞ্জুরুল আলম বিমল, রিফাতুল ইসলাম ফেরদৌস, ময়মনসিংহের সভাপতি প্রিন্সিপাল আব্দুর রশীদ, কেন্দ্রীয় যুব আন্দোলনের সভাপতি হাবিউন নবী সোহেল, ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাতুল ইসলাম দীপ প্রমুখ।
কর্মী সম্মেলনটি সঞ্চলনা করেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এটি এম সালেহ উদ্দিন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সমন্বয় না করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে সখীপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে কমিটির সংশোধনের জন্য সময় বেঁধে দেন নেতাকর্মীরা। এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত শিকদার। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়সহ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সম্মেলন হওয়ার ১৪ মাস পর গত রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা রাতেই বিক্ষোভ মিছিল, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। সোমবার বিকেল তিনটায় ভাঙচুরের প্রতিবাদে স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুসারীরা তালতলা চত্বরে প্রতিবাদ সভার ডাক দিলে উপজেলা আওয়ামী লীগও একই স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে। উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে তালতলা চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে বিকেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে দুইপক্ষের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। এর ফলে দিনব্যাপী আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত সিকদারকে সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়কে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এর প্রায় ১৪ মাস পর রোববার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামের সই করা ৭১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা হয়।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত শিকদার জানান, আমরা যে কমিটি জমা দিয়েছি সেই কমিটি থেকে ২৩জনকে বাদ দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাঁর ইচ্ছেমত পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছেন।
সদ্য ঘোষিত কমিটির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহোদর এ কে এম আতিকুর রহমান জানান, সভাপতি-সম্পাদক এক বছর সময় নিয়েও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। পরে সংসদ সদস্য তাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছেন। কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের লোকজন সরকারি সা’দত কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আলীম মাহমুদকে তারা লাঞ্ছিত করে। এছাড়াও অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল জানান, আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ায় শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিবেশ স্থিতিশীল রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ৪ ফেব্রুয়ারি সমাবেশ সফল করার লক্ষে প্রস্তুতি সভা করেছে জেলা বিএনপি। শনিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের হবিবুর রহমান প্লাজায় অবস্থিত শর্মা হাউজে ১০ দফা দাবিসহ সন্ত্রাস, দলীয় নেতাকর্মীদের দমন-নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে দেশব্যাপী সমাবেশ করার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন- বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটো, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ওবায়দুল হক নাসির, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ।
এসময় জাতীয়তাবাদী যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, তাঁতী দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ দল থেকে অব্যহতি প্রাপ্ত টাঙ্গাইলের তিন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক একজন চেয়ারম্যানকে ক্ষমা ঘোষনা করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।
বুধবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে তাদের ক্ষমার বিষয়টি জানানো হয়। ভবিষ্যতে দলের স্বার্থ পরিপন্থি ও শৃংখলা ভঙ্গ না করার শর্তে তারা এ ক্ষমা পেয়েছেন।
ক্ষমাপ্রাপ্তরা হলেন- জেলা আওয়ামী আওয়ামী লীগের সাবেক উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ, কালিহাতী উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বিকম, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম এবং বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়াম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেন তারা। দুএকজনকে স্থানীয় সংসদ সদস্য সরাসরি মদদ ও সহয়োগিতা করেন। এরমধ্যে অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ছাড়া অপর তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতাপুর্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত করে তারা বিজয়ী হন। এঘটনায় দলের মধ্যে তৈরী হয় ব্যাপক গ্রুপিং এবং অন্তদ্বন্দ। বিরোধ ছড়িয়ে পড়ে উপজেলা থেকে ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের মূলস্রোতে ধাক্কা লাগে। ফলে তাদেরকে দল থেকে বহিস্কারের দাবি উঠে। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ফেব্রয়ারীতে জেলা আওয়ামী লীগের সভায় ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দে সিদ্ধান্তক্রমে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শৃংখলা ভঙ্গ করায় ওই চারজনকে দলের সকল পদ ও দলীয় কাযক্রম থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়।
ক্ষমাপ্রাপ্তির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে আওয়ামী লীগের স্বার্থ আদর্শ শৃংখলা, তথা গঠনতন্ত্র ও ঘোষনাপত্র পরিপন্থি সমপৃক্ততার জন্য ইতিপুর্বে ওই চারজনকে দল থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছিল। তারা ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছন। দোষ স্বীকার করে তারা ভবিষ্যতে এ ধরণের কর্মকান্ডে আর যুক্ত না হওয়ার লিখিত অঙ্গিকার করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুসারে তাদের ক্ষমা করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরণের সংগঠন রিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হলে তা ক্ষমার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
দেলদুয়ার উপজেলা পরিসদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ জানান, ছাত্রলীগের মধ্য দিয়ে আমার রাজনৈতিক হাতেখড়ি। প্রাণের সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি থেকে জেলা আওয়ামী লীগে স্থান পেয়েছিলাম। সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতি করে যেতে চাই। দলের আদর্শ নীতি মেনেই ভবিষ্যতে পথ চলবো। আমাকে ক্ষমা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
কাজী অলিদ ইসলাম জানান, ক্ষমা চেয়ে দলের কাছে আবেদন করেছিলাম। অব্যাহতি প্রত্যাহার করে ক্ষমা করেছে। আমি কৃতজ্ঞ ও খুশি।
অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম জানান, সারাজীবন দলের জন্য কাজ করেছি। গত উপজেলা নির্বাচনে কর্মীদের অনুরোধ আর আমার আবেগে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি অনুতপ্ত। শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত ও দলীয় শৃংখলা বজায় রাখতে আর কখনো দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবো না।
ক্ষমাপ্রাপ্তদের অনুসারিরা বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছেন। যাতে তারা ভবিষতে আর কোন ধরনের বিশৃংখলা ঘটানোর সাহস না পায়।
একতার কণ্ঠঃ আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, আওয়ামী লীগের শক্তি দেশের জনগণ। জনগণকে নিয়েই বিএনপির সকল আন্দোলন মোকাবেলা করা হবে। দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আগামি নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে কেউ হারাতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার পতনের দিবাস্বপ্ন দেখছে। আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের পতন ঘটানোর শক্তি বিএনপির নেই। বিগত ১৪ বছরে কোন আন্দোলনে বিএনপি সফল হয় নি- ভবিষ্যতেও সফল হবে না।
সম্মেলনে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র সাহা, মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফি উদ্দিন মনি, সাধারণ সম্পাদক ছরোয়ার আলম খান আবু, পৌর মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করে আউশনারা কলেজের অধ্যক্ষ কৃষিবিদ কামরুজ্জামান জুয়েল। সম্মেলনে জেলা,উপজেলা ও ইউনিয়ন ওর্য়াড আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ দীর্ঘ ২৪ বছর পর সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং তার ছোট ভাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী একই মঞ্চে একত্রিত হয়েছেন। একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের এক মঞ্চে হাজির হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা।
এর আগে ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে কালিহাতীর আউলিয়াবাদে একটি অনুষ্ঠানে দুই ভাই একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এরপর নানা কারণে দুই ভাইকে আর এক মঞ্চে দেখা যায়নি।
মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কাদেরিয়া বাহিনীর অস্ত্র জমাদানের ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী একই মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেন।
কাদেরিয়া বাহিনীর অস্ত্র জমাদানের ৫০ বছর উদযাপন কমিটির সভাপতি এ এম এনায়েত করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক। এ সময় কাদেরিয়া বাহিনীর বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃনাল কান্তি রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন, কবি বুলবুল খান মাহবুব, কবি আল মুজাহিদী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খোকা বীর প্রতীক, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সহধর্মিণী নাসরিন কাদের সিদ্দিকী প্রমুখ।
এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা একত্রিত হওয়ায় মিলনমেলায় পরিণত হয় টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। জাতির বীর সন্তানরা একে অপরকে কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হন।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘ বছর পর একই মঞ্চে দুই ভাই উপস্থিত হয়েছি। অনুষ্ঠানে সরকার থেকে আওয়ামী লীগের মৃনাল কান্তি রায়কে পাঠানো হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে তার বাসভবনে গিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আমাকে ভাই হিসেবে ডেকে ছিলেন। তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি পরিবার নিয়ে। বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে আমাদের।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও ৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার অনত্যম প্রতিবাদকারী বীরমুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের মৃত্যুবার্ষিকীতে বুধবার(১৮ জানুয়ারি) হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এছাড়া মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মরহুমের কবর জিয়ারত, কোরআনখানী, দোয়া মাহফিল ও দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয় ।
বুধবার(১৮ জানুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ ও পরিবারের পক্ষ থেকে জনপ্রিয় প্রয়াত নেতা ফারুক আহমদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ ছাড়া তার নিজ বাসা শহরের কলেজ পাড়ায় কোরআনখানী, দোয়া মাহফিল ও দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
দুপুরে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এর আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, নিহত ফারুক আহমদের স্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাহার আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন ও সুভাষ চন্দ্র সাহা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হোসেন মানিক প্রমুখ।
এ সময় আওয়ামী লীগ ছাড়াও ছাত্রলীগ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলাটি টাঙ্গাইল প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ পর্যন্ত ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। আগামি ২ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির কাছ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সদস্য ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
২০১৪ সালে ওই মামলায় জড়িত থাকা সন্দেহে আনিসুল ইসলাম ওরফে রাজা এবং মোহাম্মদ আলী নামক দুই জনকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাদের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে হত্যার সাথে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তার অপর তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান ওরফে মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান ওরফে কাকন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সহ-সভাপতি সানিয়াত খান ওরফে বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে সংসদ সদস্য আমানুর রহমানরা চার ভাইসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়।
এ মামলার আসামি আমানুর রহমান খান আত্মসমর্পনের পর তিন বছর হাজতবাসের পর জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তার অপর ভাই সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান দুই বছর আগে আদালতে আত্মসমর্পনের পর এখন পর্যন্ত কারাগারে রয়েছেন। আরও কারাগারে রয়েছেন আলমগীর হোসেন। আমানুরের অপর দুই ভাই জাহিদুর রহমান খান ও সানিয়াত খানসহ মো. কবির এবং ছানোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন। অন্য আসামিদের মধ্যে আনিসুর রহমান রাজা ও মো. সমীর কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন। অপর আসামি মোহাম্মদ আলী, মাসুদুর রহমান, নাসির উদ্দিন নুরু, ফরিদ আহমেদ ও বাবু জামিনে রয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। সোমবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
বিএনপি নেতাদের দাবি, শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জে চালিয়ে তাদের চার নেতাকর্মীকে আহত করেছে। তবে লাঠিচার্জের বিষয়টি নাকচ করেছেন ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ আহমেদ।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীনুর রহমান শাহীন বলেন, ‘তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি। মিছিলটি ঘাটাইল কলেজ মোড় এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে আমাদের চার নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’
ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ আহমেদ বলেন, ‘কোনো প্রকার লাঠিচার্জ করা হয়নি। বিএনপির নেতাকর্মীরা উপজেলার ভেতরে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করছিল। তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে।’
একতার কণ্ঠঃ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে সংসদ নির্বাচন হবে। সে পর্যন্ত বিএনপির হরতাল, অবরোধ, গণসমাবেশ, গণঅবস্থান, মানববন্ধনসহ আন্দোলন আন্দোলন খেলা চলতে থাকবে। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। আর তারা যদি মনে করে সরকারের পতন ঘটিয়ে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। সেটি অবাস্তব ও সংবিধান বিরোধী। দেশে সংবিধান অনুযায়ী সময়মতো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।
শনিবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইলের মধুপুরে বঙ্গবন্ধু আকাশী ক্লাব আয়োজিত ১৫তম ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাবে। এটি বিএনপির অবাস্তব ও অলীক স্বপ্ন। ২০০৮ সালের নির্বাচনকে তারা মেনে নেয়নি। ২০১৪ সালের নির্বাচনকে তারা বর্জন করে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০১৫ সালে একটানা ৯০ দিন হরতাল অবরোধ করেছে। মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছে। শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাবেন না বলে খালেদা জিয়া বিএনপির অফিসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ৯০ দিন আন্দোলনের পর মুখে কালিমা মেখে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে খালেদা জিয়া গুলশানের বাসায় ফিরে গিয়েছিলেন। তারা সরকারের পতন ঘটাতে পারেনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা সুবোধ বালকের মতো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল।
আবহমান বাঙালি ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ঘোড়দৌড় আমাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। পুরো মধুপুর উপজেলায় উৎসব আনন্দের আবহ তৈরি হয়। সেজন্য ঘোড়দৌড়, নৌকাবাইচ, হাডুডুসহ সকল লোকজ সংস্কৃতিকে আমাদের ধরে রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে তানভীর হাসান ছোটমনির এমপি, খান আহমেদ শুভ এমপি, টাঙ্গাইলে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফি উদ্দিন মনি, পৌরসভার মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।