একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ইতিপূর্বে বিএনপি ছাড়াও সংসদ পরিচালিত হয়েছে। সংসদে বিএনপি বিরোধী দলীয় নেতা নয়, জাতীয় পার্টি বিরোধী দলীয় নেতা। কাজেই তারা সংসদে আসলো কি গেলা তাতে কিছু যায় আসে না। সাত এমপি না থাকলে এক বছরে দেশ ভেঙে পড়বে না। দেশ এইভাবে এগিয়ে যাবে। এমনি উপনির্বাচনেও তারা আসে না। তাহলে আমরা তাদের কিভাবে সহযোগিতা করবো। ২০১৮ সালের আগে তারা সংসদে ছিলো না। এটা খুবই দুঃখ জনক।
রবিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে কৃষিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, একটি দেশের রাজনীতিতে বিরোধী দল খুবই গুরত্বপূর্ণ। যেমন কেচির দুটি বাহু থাকে। হাটতে দুটো পা লাগে। তেমনি সংসদেও দুটি দল লাগে। তাই বিরোধী দল থাকা দরকার। সেখানে কেউ যদি না থাকে তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। তার পরেও সংসদে জাতীয় পার্টি রয়েছে। ওয়াকার্স পার্টি রয়েছে। বর্তমানে জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে। বিরোধী দল নেতারা তো বিএনপির নেতারা নয়। তাদের ৫/৭ জনের একটা গ্রুপ ছিলো। সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। উপনেতা হচ্ছেন জিএম কাদের। তাতেই কোন সমস্যা হওয়ার সুযোগ নেই।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতা কর্মীরা বিভিন্ন সময় আন্দোলনের হুমকি দিলেও তা আর বাস্তবায়ন করতে পারেন না। এক সময় বলেন, ঈদের পর আন্দোলন করবেন, আবার বলেন, পূজার পর আন্দোলন করবেন? মুল কথা তারা কখন আন্দোলন করবেন তা তারা নিজেরাও জানেন না। বিএনপি কি চাইলো, কি চাইলো না, সেই অনুযায়ী দেশ চলবে না। দেশ চলবে পবিত্র সংবিধান অনুযায়ী। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার জননেত্রী শেখ হাসিনারও কোন সুযোগ বা ক্ষমতা নেই।
তিনি বলেন, তারা আন্দোলনের নামে বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারে। রেল লাইন উপড়ে ফেলে। আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষকে হত্যা করে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দিবে। আওয়ামী লীগের শক্তি দেশের সাধারণ জনগণ। সাধারণ মানুষই আওয়ামী লীগের মুল হাতিয়ার।
তিনি আও বলেন, ১১ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের মানুষের জন্য খুব আনন্দের ও গৌরবের। কারণ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ২৬ মার্চ আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ি। দীর্ঘদিন যুদ্ধের পর ১১ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল হানাদারমুক্ত হয়। ১৬ ডিসেম্বর দেশ শত্রু ও হানাদার মুক্ত হয়ে বিজয় আসে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) এমপি, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র জামিলুর রহমান মিরন প্রমুখ।
পরে সন্ধায় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক জেলা আওয়ামী লীগ ও পৌরসভার উদ্যোগে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যানে আয়োজিত টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি
হিসেবে বক্তব্যে রাখেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর।
এর আগে টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবসের উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নবাগত জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দরের সাথে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, টাঙ্গাইল জেলা ইউনিট এর নেতৃবৃন্দের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতে নবাগত জেলা প্রশাসক বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা টাঙ্গাইল একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা। অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্ম এই টাঙ্গাইলে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও টাঙ্গাইল জেলার উন্নয়নে আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই।
তিনি আরো বলেন, আশাকরি, আমার সকল ভালো কাজগুলোর সাথে আপনারা পাশে থাকবেন। এবং আমার ভুল ও খারাপ দিকগুলো ধরিয়ে দিবেন।’
জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কার্যালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে সংরক্ষিত চেয়ারের ব্যবস্থা রাখায় টাঙ্গাইলের বীরের সন্তানদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, টাঙ্গাইল জেলা ইউনিট এর সভাপতি হাজী মুহাঃ সাজ্জাদুর রহমান খোশনবীশ নবাগত জেলা প্রশাসককে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দসহ এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সহ-সভাপতি সোহেল সোহরাওয়ার্দী, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খন্দকার সজিব রহমান, শাহরিয়ার রাজিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান তাপস, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শায়লা, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফেরদৌস আরা ডায়না, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ আমিনুল ইসলাম মিল্টন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মামুন মিয়া, বাসাইল উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শামীমা খান সীমা, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুল আলীম, যুগ্মআহ্বায়ক হুমায়ূন কবির, সদস্য সচিব রিফাত খান, সদস্য শরিফুল আলম, টাঙ্গাইল শহর শাখার যুগ্মআহ্বায়ক কাজী নুসরাত ইয়াসমিন, সদস্য-সচিব তানিয়া চৌধুরী, সদস্য শিউলি খান সনি, সাদ্দাম হোসেন, হাসান, ইমরুল সরকার প্রমূখ।
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের পূর্বে নবাগত জেলা প্রশাসককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান উপস্থিত টাঙ্গাইল জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানবৃন্দ।
একতার কণ্ঠঃ বর্ণাঢ্য আয়োজনে টাঙ্গাইলে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত হয়েছে। হানাদারমুক্ত দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ ও টাঙ্গাইল পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে ১১ ডিসেম্বর থেকে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে ১২ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
১২ দিন ব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনে রবিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন, জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয় ।

পরে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক।
এসময় টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ , জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার জহুরুল হক ডিপটিসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, সর্বস্তরের জনগণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র- ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।
রবিবার সন্ধ্যায় দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাক এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, আলহাজ্ব মোঃ ছানোয়ার হোসেন এমপি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার ফজলুল হক বীর প্রতীক প্রমূখ।
আলোচনা সভাটি উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক।
পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথম দিনের কর্মসূচি শেষ হয়।
একতার কণ্ঠঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) স্ট্যাটাস দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সাজু।
সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পদত্যাগের বিষয় উল্লেখ করে স্ট্যাটাসটি দেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন- ‘আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান সাজু সভাপতি, সখিপুর উপজেলা বিএনপি। সাবেক সহ-সভাপতি টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি। সাবেক চেয়ারম্যান ১নং কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদ। আমি আমার পারিবারিক এবং শারিরীক অসুস্থতার কারণে আজ থেকে সখীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করিলাম।

তিনি আরও লেখেন, আগামী ২/৩ দিনের মধ্যেই সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেকে সকল পদ-পদবী থেকে সরিয়ে নিবো। বিএনপি পরিবারের সকলের জন্য দোয়া ও ভালোবাসা রইলো। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন’।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সাজু জানান, মামলা-হামলার ভয় আমি কোনদিনই করি নাই। এখনও করি না। শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক কারণে আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির সকল পদ-পদবি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেব।
পদত্যাগের বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান সাজুর পদত্যাগের ব্যাপারে এখনি কোন মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।
একতার কণ্ঠঃ গঠনতন্ত্রে তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নির্দেশনা থাকলেও টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগ এক বছরেও তা করতে পারেনি। গতবছর ৪ ডিসেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করে দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ওপর ভর করে এক বছর ধরে চলছে দলের স্থবির কার্যক্রম। ইতোমধ্যে এই কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশী নেতারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। অনেকের আবার ছাত্রত্বও শেষ হয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় একযুগ পর গত ২০২১ সালের ৪ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল শহরের পৌর উদ্যানে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলন ঘটা করে অনুষ্ঠিত হয়। পরে সার্কিট হাউজে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে সোহানুর রহমান সোহান ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হাসানকে দিয়ে কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটি গঠনের পরপরই ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
ওই সময়ই পদ প্রত্যাশী ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগের নেতারা বলেন, টাঙ্গাইল শহর বা সদর বাদ দিয়ে গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনের এমপি তানভীর হাসান ছোট মনির সমর্থনপুষ্ট ও গোপালপুর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহানুর রহমান সোহানকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং বাসাইল-সখীপুর আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহেরের আর্শীবাদপুষ্ট সখীপুর উপজেলায় বাড়ি ইলিয়াস হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
ওই সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাংগঠনিক কোনো কর্মসূচিই পালন করতে পারবে না। তাদের সেই কথা এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। সভাপতি সোহান ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি। পাশাপাশি ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটগুলোর কার্যক্রম বা সম্মেলনও করতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজপথে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন সংগ্রাম প্রতিহত করার মতো সেই সাংগঠনিক শক্তিও তাদের মধ্যে নেই। দুইজনের এই কমিটি নিয়েই তারা এক বছর পার করে দিয়েছেন। সেই জেলা ছাত্রলীগের কমিটির এক বছর পূর্ণ হতে হয়েছে রোববার (৪ ডিসেম্বর)।
দলীয় সূত্র জানায়, প্রায় একযুগ পর সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ দিন সম্মেলন না হওয়ায় আগের কমিটির বেশির ভাগ নেতার ছাত্রত্ব অনেক আগেই শেষ হয়ে যায়। দীর্ঘ একযুগ পর ২০২১ সালের ৪ ডিসেম্বর জেলা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলন হয়। এতে সোহানুর রহমান সোহানকে সভাপতি ও ইলিয়াস হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা করে কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু এক বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি তারা।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা জানায়, তারা দায়িত্ব পাওয়ার পর চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল শহরের ভিক্টোরিয়া রোড, কালিবাড়ী রোডসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েক গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানও তারা সফলভাবে করতে পারেনি।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগ, পৌর ছাত্রলীগ ও মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেন এবং বিতর্কিত নেতাদের নিয়ে ওই তিন ইউনিটের কমিটি গঠন করে। এমন অভিযোগের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ওই তিন ইউনিট কমিটি স্থগিত করে দেয়। এতে করে জেলা ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এদিকে জেলা ছাত্রলীগের শহরে অবস্থিত নিজস্ব অফিসে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কখনও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখা যায়নি।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের শুধু তাদের নিজস্ব নেতা ও এমপির বাসায় বিভিন্ন তদবির, ঠিকাদারি কাজে ব্যস্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জেলা ছাত্রলীগের কোনো কর্মকাণ্ডে সাধারণ নেতাকর্মীদের উপস্থিত দেখা যায় না বলেও দলীয় সূত্র জানায়।
জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম এমপি, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু এমপি, ছানোয়ার হোসেন এমপি, আতাউর রহমান খান এমপি, আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি, তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী এমপি, খন্দকার মমতা হেনা লাভলী এমপি, ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।
জেলা ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা বলেন, জেলা ছাত্রলীগের দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় পদ প্রত্যাশীরা চিন্তিত হয়ে পড়েছিল। সম্মেলন হওয়ার পর তাঁরা আশা করেছিলেন হয়তো পদ-পদবি পাবেন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হওয়ায় তাদের সে আশা পূর্ণ হচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা জানান, তারা অনেকে ৮-১০ বছর ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতি করছেন। কিন্তু আজও কোনো পদ পাননি। তাদের অনেকেরই ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পথে। এতে অনেকেই হতাশ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা তাদের নিজ নিজ পছন্দের লোকদের কমিটিতে নিতে চান। সব নেতার সঙ্গে সমন্বয় করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে হচ্ছে। তাই কমিটি করতে সময় লাগছে।
এসব বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান জানান কেন্দ্র থেকে আমাদের এক বছরের জন্য জেলা কমিটির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতা ও সমস্যার কারণে সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ত্যাগী ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নেতাকর্মীদের যাচাই করা হচ্ছে। সম্প্রতি ১৭১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে জমা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বিস্ফোরক ও নাশকতার মামলায় উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে ভূঞাপুর ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ রোডের একটি দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বিএনপির ওই নেতাকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে গত ১ ডিসেম্বর উপজেলার শিয়ালকোল বাজার এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ১৬ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরও ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
উপজেলার বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান শাহীন জানান, পুলিশের দায়ের করা নাশকতা মামলার আসামিদের রবিবার (৪ ডিসেম্বর) হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়া হয়।
তিনি আরো জানান, জামিনের সেই কাগজ থানায় জমা দেওয়ার জন্য সাধারণ সম্পাদক সেলু ভাই আমার দোকানে বসেছিল। থানায় যাওয়ার আগেই পুলিশ এসে তাকে থানায় ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এদিকে, থানায় নিয়ে গ্রেপ্তারের পরই সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু তার ব্যবহৃত ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আগাম জামিনের কাগজ দিতে এসে গ্রেফতার হলাম। দোয়া করবেন সকলে।’
উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা জানান, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশকে বানচাল করতে পুলিশ গায়েবি ও মিথ্যা মামলা দিয়েছে। সে মামলায় উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু আটক হয়েছেন। এর আগে আরও ৩ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থানায় কোনো জামিনের কাগজ জমা দিতে আসেননি। তাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে নাশকতার মামলা ছিল থানায়। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলায় যাদের নাম রয়েছে তারা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ নিলুফার ইয়াসমিন খানকে সভাপতি ও এডভোকেট রকসি মেহেদীকে সাধারণ সম্পাদক করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল টাঙ্গাইল জেলা শাখার আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরীন খান এই কমিটির অনুমতি দেন।
এছাড়াও আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ দেয়া হয়।
ঘোষিত এ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদা হাবীব রুবী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদা আক্তার স্বপ্না ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতানা বিলকিস লতা।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকায় আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের অভিযানের মুখে গ্রেপ্তার আতঙ্কে ঘরে থাকতে পারছেন না টাঙ্গাইলের বিএনপি নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, গত ২ সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পুলিশের দায়েরকৃত ১০টি মামলায় প্রায় ২ শতাধিক বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬ শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে ৬৮ নেতাকর্মীকে।
বিএনপি নেতাদের দাবি, দায়েরকৃত মামলাগুলো ‘গায়েবি’ এবং নেতাকর্মীদের ঢাকার সমাবেশে যেতে বাধা সৃষ্টি করতেই সরকারের নির্দেশে এসব ‘মিথ্যা’ মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
তবে বিএনপি নেতাদের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা পুলিশ। তাদের দাবি, নাশকতা সৃষ্টির প্রস্তুতিসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এসব মামলা দায়ের এবং গ্রেপ্তার হয়েছে।
সর্বশেষ বুধবার ( ৩০ নভেম্বর) রাতে সখীপুর উপজেলায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ মোট ৮৮ বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ আলী। সেদিন রাতেই উপজেলা বিএনপি, কৃষক দল এবং যুবদলের ৪ সিনিয়র নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করীম জানান, বুধবার রাতে সখীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ৫টি অবিস্ফোরিত ককটেল এবং এক বস্তা পাথর জব্দ করে। ঘটনার পর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সখীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সাজু অবশ্য দাবি করেছেন, সেখানে আসলে কোনো ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাই ঘটেনি। গ্রেপ্তার হওয়ার সময় নেতাকর্মীরা স্থানীয় একটি ক্লাবে বসে টিভিতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখছিলেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসেত জানান, এটি একটি গায়েবি মামলা। মামলার এজাহারে রাত ১০টা ২ মিনিটে ককটেল বিস্ফোরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এর এক ঘণ্টা আগে রাত ৯টায় ওই ৪ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
তিনি আরো জানান, এ ছাড়া, নাশকতা ও ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় ঘাটাইল উপজেলার ৮০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। সে মামলায় এ পর্যন্ত ১০ বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘাটাইলের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদ জানান, ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় জনসভাকে সফল করতে ২২ নভেম্বর দিগড় ইউনিয়নের কাশতলা বিটিপাড়া এলাকায় কর্মী সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশ গুলি ছুঁড়েছে। নেতাকর্মীদের আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। অন্য বাড়ি থেকে বালতি এনে পুলিশ ককটেল রেখে গতানুগতিকভাবে নাটক সাজিয়েছে।
ঘাটাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে নাশকতার উদ্দেশ্যে জমায়েত হয়েছিলেন। সেখান থেকে কয়েকটি ককটেলও উদ্ধার করা হয়েছে।
বিএনপি নেতার অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি আরও জানান, ঘটনাটি প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের সামনে ঘটেছে।
অন্যান্য উপজেলায় দায়েরকৃত মামলার অভিযোগগুলোও প্রায় একইরকম বলে জানা গেছে।
টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় হোড় শুভ জানান, ইতোমধ্যে ওয়ারেন্ট ছাড়াই ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকে আটক করে পরে গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। নেতাদের খুঁজতে রাতে বাসায় বাসায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
জেলা যুবদলের সভাপতি খন্দকার রাশেদুল আলম জানান, গ্রেপ্তার আতঙ্কে ঘরে থাকতে পারছেন না নেতাকর্মীরা। তবে এসব বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে মহাসমাবেশে যোগ দিতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল জানান, মিথ্যা মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার অভিযানের পরও ১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে জেলার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। পরিবহন সংকটসহ নানা সমস্যা মাথায় রেখে আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকেই ঢাকায় যাত্রা শুরু করবেন নেতাকর্মীরা।
তিনি আরো জানান, টাঙ্গাইল জেলা থেকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রায় ২৫ হাজার নেতাকর্মী মহাসমাবেশে যোগ দেবেন বলে আশা করছি ।
এদিকে, বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার অভিযান সম্পর্কে জানতে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মোহাম্মদ কায়সারের ফোন নম্বরে কয়েকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
পরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরিফুল ইসলাম জানান, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। তদন্তাধীন অবস্থায় মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। এ বিষয়ে পরে জানানো হবে।
সংবাদ সূত্র – দ্য ডেইলি স্টার অনলাইন
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নাশকতার অভিযোগে বিএনপি’র পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও ৬ টি ককটেল উদ্ধার করেছে গোপালপুর থানা পুলিশ।
বুধবার (৩০ নভেম্বর) রাতে গোপালপুর পৌরশহরের আভঙ্গি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোহাম্মদ রহমান, তোফাজ্জল হোসেন, ইসমাইল হোসেন, আব্দুল লতিফ ডান্ডু এবং মোহাম্মদ লতিফ। এরা সবাই ধোপাকান্দি ও ঝাওয়াইল ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য ও ওয়ার্ড কমিটির নেতা।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, এরা সবাই নাশকতার উদ্দেশ্যে পৌরশহরের আভঙ্গি এলাকায় সমবেত হলে পুলিশ ৬টি ককটেলসহ এদের গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরো জানান, বিএনপির ২০ নেতাকর্মীসহ শতাধিক অজ্ঞাতনামাকে আসামী করে থানায় নাশকতা ও দাঙ্গা-মারামারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অপরদিকে উপজেলা বিএনপি এক বিবৃতিতে জানান, এটা গায়েবী মামলা। আভঙ্গী এলাকায় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা বুধবার রাতে কোন ধরনের ঘটনা ঘটায়নি। ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশেকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এবং টাঙ্গাইল শহর আওয়ামিলীগের সহ-সভাপতি কোরবান আলী মৃত্যুবরণ করেছেন।
শনিবার (২৬ নভেম্বর) ভোর ৫ টায় টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম ব্রীজ সংলগ্ন বকুলতলায় তার নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজিউন)।
মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর । তিনি স্ত্রী, তিন কন্যা ও এক ছেলেসহ অনেক গুনগ্রাহী ও ভক্ত বৃন্দ রেখে গিয়েছেন।
মরহুমের নামাজে জানাজা শনিবার বাদ আসর পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়া হাউজিং এস্টেট মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
তার অকাল মৃত্যুতে, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামিলীগ, শ্রমিকলীগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসহ দৈনিক কালের বার্তা ও একতার কণ্ঠ পরিবার গভীর ভাবে শোক প্রকাশ করেছেন সেইসাথে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ নির্বাচন কমিশন এখন ক্যামেরা ব্যবহার করে ঢাকা বসে ভোট চুরি দেখেন। আজকাল যাঁরা নির্বাচন কমিশনার হন, তাঁদের মেরুদণ্ড নাই বলে মন্তব্য করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম।
বুধবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সখীপুর ডাকবাংলো মাঠে ১৯৯৯ সালের ১৫ নভেম্বর টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারের ‘ভোটের অধিকার হরণের’ প্রতিবাদে উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম এ সময় বলেন, ‘যাঁরা নির্বাচন কমিশনার হন, তাঁদের মেরুদণ্ড নাই, তাঁদের কোনো রকমের ব্যক্তিত্ব নাই। মানুষ হিসেবে একটা যে মর্যাদা থাকে এই কমিশনারদের তাও নাই।
সভায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম আরও বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে শুনছি, বন বিভাগ সখীপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিচ্ছে। যাঁদের বাড়ি ঘর আছে, যারা ধান ফলায়, পাট ফলায়, সবজি চাষ করে, তাদের এক ইঞ্চি জায়গার মধ্যে যদি বন বিভাগ মাতব্বরি করতে যায়, তাদের সখীপুর থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। যার যেভাবে জায়গা আছে, সে ওই ভাবেই ভোগ করবে। এতে কোনো হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।’
সভায় দলের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আবদুস ছবুর খান সভাপতিত্ব করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খোকা বীরপ্রতীক, যুগ্ম সম্পাদক প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকী, সরকারি সাদত কলেজের সাবেক ভিপি শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী, দলের জেলা কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম সরকার, জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এটিএম সালেক হিটলু, বাসাইল উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি রাহাত হাসান টিপু, দুলাল হোসেন মাস্টার, আশিক জাহাঙ্গীর প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে তিন আইনজীবীসহ বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১২ নেতা-কর্মীকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা সুলতানা তাদের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঢাকায় আগামি ১০ ডিসেম্বর মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে একটি প্রস্তুতি সভা শেষে ফেরার পথে সোমবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর ওই ১২ নেতা-কর্মীসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রোহানুল ইসলাম বাদি হয়ে সোমবার রাতে এক মামলা দায়ের করেন।
বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়েরকৃত মামলায় অজ্ঞাত আরো ৩০-৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত ১২ জনকে টাঙ্গাইল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
পরে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রত্যেকের ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে।
আদালতের বিচারত অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা সুলতানা একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আইনজীবীরা হচ্ছেন- জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি আইনজীবী খন্দকার মাহবুবুর রহমান ওরফে রিপন, জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য লাল মাহমুদ, নাগরপুর উপজেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ফরিদ ভূঁইয়া।
এই তিন আইনজীবী ছাড়াও অন্য নয়জন হলেন- সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বাবু গাজী, ধনবাড়ী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপন, বাসাইল উপজেলা বিএনপির সদস্য আমিনুর রহমান, টাঙ্গাইল পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন চৌধুরী, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক মাসুদ রানা, যুবদল কর্মী ফুয়াদ হাসান, হেলাল উদ্দিন সিকদার ও সৌরভ এবং দোকান কর্মচারী জাকির হোসেন।
মামলায় ২৯ আসামির মধ্যে জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইদুল হক ছাদু, ঘারিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ শাহীন, হুগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোর্শেদ আলম, সিলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আশরাফ পাহেলী, টাঙ্গাইল পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মারুফ সরোয়ার, কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুমন দেওয়ান রয়েছেন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করাসহ সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট, যানবাহন স্থাপনার ক্ষতি সাধন, জনমনে ভীতি সৃষ্টি এবং ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম সংগঠনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ও রিমান্ড প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, আগামি ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশ বিঘ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, গত কয়েকদিনে টাঙ্গাইলে তিনটি মিথ্যা মামলা দিয়ে ১৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এই মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানান।