একতার কণ্ঠঃ ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গণসমাবেশ সফল করা লক্ষে আয়োজিত টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রস্তুতি সভা শেষে ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার( ২১ নভেম্বর) রাতে মামলা দায়ের করাসহ মঙ্গলবার(২২ নভেম্বর) গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ধনবাড়ী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপন, নাগরপুর উপজেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. ফরিদ আহমেদ, টাঙ্গাইল পৌর বিএনপির ১ নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক ও শহর বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক শাহীন চৌধুরী, জেলা যুবদল নেতা হেলাল, জেলা ছাত্র দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ, বাসাইলের আমিনুরসহ ৯ নেতাকর্মী।
সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে শহরের বড় কালিবাড়ী রোড়ে অবস্থিত ফুলি কমিউনিটি সেন্টারের তৃতীয় তলায় এ সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ি কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এড.আহমেদ আযম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ওবায়দুল হক নাসির।
জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবালের সঞ্চালনায় এ সময় জেলা বিএনপির ২৩ টি ইউনিট এর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, যুবদল, ছাত্রদলসহ এর বিভিন্ন অঙ্গসহযোগি সংগঠণের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেফতার বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল জানান, ১০ ডিসেম্বরের ঢাকার গণসমাবেশ বানচাল করতে সরকারের মদদে এই গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। এ কারণে শান্তিপূর্ণ প্রস্তুতি সভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওই নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এটি খুবই দুঃখজনক।
তিনি আরো জানান, এরই জের ধরে নাগরপুর ও কালিহাতীর নেতাকর্মীদেরও গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঢাকার গণসমাবেশে যাওয়া ফিরিয়ে রাখা যাবে না। টাঙ্গাইল থেকে কমপক্ষে পচিশ হাজার নেতাকর্মী ঢাকার গণসমাবেশে যাবে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) হাবিবুর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সোমবার রাতে টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেহানুল ইসলাম বাদি হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতারকৃতদের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০-৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ বিএনপির কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, বিএনপির প্রতিটি সমাবেশ প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে সরকার। আগামী ১০ ডিসেম্বর প্রতিহত করার নামে তারা যদি রাস্তায় নামে যে ভাষায় তারা কথা বলবে আমাদের জবাবটাও হবে সেই ভাষায়।
তিনি বলেন, সরকার যার নিয়ত ঠিক নাই, চোরের মন পুলিশ পুলিশ, সে আগে থেকেই খারাপ কিছু ভাবনা মাথায় নিয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। পুলিশ বাহিনী, প্রশাসনকেও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে দলের পক্ষ থেকে তার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এর আগে ছয়টি গণসমাবেশ করেছি। বিএনপি কি ধরনের সমাবেশ করবে শান্তিপূর্ণ কি অশান্তিপূর্ণ সেটা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। এই প্রতিটি সমাবেশে একটি থেকে আরেকটিতে বাধা বিপত্তি চেকপোস্টের পুলিশের হয়রানি গ্রেফতার লাঠিপেটা করা হয়েছে। সর্বশেষ বরিশালে হোটেলেও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আগামী যেসব সমাবেশ হবে তারই সর্বশেষটা হচ্ছে ঢাকায় ১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশ। এই সমাবেশ অন্যান্য সমাবেশের মতো একটি বিস্ময়কর সমাবেশ হিসেবে হিসেবে আমরা চিহ্নিত করবো এ প্রচেষ্টা আছে।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশে নির্বাচন বলতে যেটা বোঝায় সেটা নেই। ২০০৮ সালের নির্বাচন ছিলো সাজানো গোছানো নির্বাচন। ১৪ সালের নির্বাচন কোন নির্বাচন নয়। অপ্রতিদ্বন্দ্বিতার নামে ১৫৩টি আসনে জোর করে তারা ক্ষমতা দখল করে নেয়। ১৮ সালে মধ্যরাতে তারা ক্ষমতা দখল করে।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, জাপানি রাষ্ট্রদূতসহ সারাবিশ্ব এখন বর্তমান সরকার প্রধান, আওয়ামী লীগ তাদের যে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দেশ বিরোধী কর্মকাণ্ড, ভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান সেটা স্পষ্টভাবে তারা বুঝতে পারছে। দেশ এবং বিদেশে একটিই দাবি, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, পাল্টামেন্ট ভেঙে দেওয়া এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনের অধিনে অবাধ সুষ্ঠ ও স্বচ্ছ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান। সেটি যদি করা সম্ভব হয় তাহলে বাংলাদেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। দুর্নীতিমুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এর আগে, শামসুজ্জামান দুদু বিএনপির পক্ষ থেকে মওলানা ভাসানীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন।
এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন উপদেষ্টা কবি আব্দুল হাই সিকদার, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ নেতারা।
একতার কণ্ঠঃ বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) সকাল থেকে মওলানা ভাসানীর ৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকীতে টাঙ্গাইল শহরের সন্তোষে তার মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সংস্কৃতিক সংগঠন সহ সর্বস্তরের জনগণ।

এ সময় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আগামী নির্বাচন ৫৪ ও ৭০ মতো না হলে দেশের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। আমরা যে চিন্তা নিয়ে, যে ভালবাসা নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম আজকে তার কিছুই নাই। মানুষের স্বাধীনতা এটাকে বলে না। শুধু কথা ও যা কিছু তা বলতে পারলেই স্বাধীনতা নয়। মানুষের স্বাধীনতা হচ্ছে মানুষের মর্যাদাবোধ, মানবিকবোধ ভালবাসা। সবার কাছে আহ্বান জানাবো মানুষকে ভালবাসতে ও সম্মান জানাতে হবে। নাহলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সম্মান দিতে পারবো না। খুব কষ্ট হয়, যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকে তখন জাতির পিতা বঙ্গন্ধু, বিএনপি ক্ষমতায় এলে জাতির পিতা জিয়াউর রহমান, আবার কখনও জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এলে জাতির পিতা হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদও হতে পারে। আমাদের চিন্তা ভাবনা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
এসময় আগামী ১০ ডিসেম্বর সম্মেলন কে ঘিরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু সাংবাদিকদের বলেন, আগামী যে সব সমাবেশ হবে তারই সর্বশেষ হচ্ছে ঢাকার সমাবেশ। এই সমাবেশ অন্যান সমাবেশের মতোই একটি বিষ্ময়কর সমাবেশ হিসাবে আমরা চিহ্নিত করবো সেই প্রচেষ্টা আছে। যেগুলো বাকী আছে সেগুলো শেষ করার পরে, ভাবার কোন কারণ নেই সরকার,যার নিয়ত ঠিক নাই, চোরের মন পুলিশ পুলিশ, সে আগে থেকেই খারাপ কিছু ভাবনা মাথার ভিতরে নিয়ে দেশ বাসীকে বিভ্রান্তি করছে,প্রশাসনকে বিভ্রান্তি কার চেষ্টা করছে,সেই হিসাবে ১০ তারিখ হচ্ছে আমাদের এই সরকারের বিরুদ্ধে সর্বশেষ গণসমাবেশ,ইতিহাসের বিরল একটি সমাবেশ হিসাবে আমরা সেটা অনুষ্ঠিত করতে চাই।
এসময় সরকারের সমালোচনা করে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী বলেন, আজকে বাংলাদেশের জন্য অত্যান্ত একটা অসম্মান জনক অবস্থা, যখন বিদেশীরা বলেন,এ দেশে রাতের বেলা ব্যালট বক্স পুলিশ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তারা ব্যালট ভর্তি করে ফেলে। এইটা পৃথিবীর অন্য কোন দেশে শুনেন নাই,বাংলাদেশে এটা শুনেছে। এটা কী আমরা অস্বীকার করতে পারি, জাপানের রাষ্ট্রদূত যা শুনেছেন এটা আমরা কেউ শুনি নাই অথবা দেখি নাই? আমরা যারা নির্বাচন করেছি আমরা এটা দেখেছি আমরা শুনেছি যে বাংলাদেশে কিভাবে ২০১৮ সালে ৩০শে ডিসেম্বরে নির্বাচন হওয়ার কথা সেই নির্বাচন ২৯ তারিখ রাতে প্রায় প্রত্যেকটি কেন্দ্রে ৫০ ভাগের কাছাকাছি কোথাও কোথাও বেশি ব্যালট স্টাফিন করে বাক্সে ভরে রাখা হয়েছিলো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মওলানা ভাসানীর চেতনা ও বিশ্বাস’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার(১৫ নভেম্বর) সকালে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডক্টর মো. ফরহাদ হোসেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুস্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডক্টর মো. আক্তারুজ্জামান।
মওলানা ভাসানী রিসার্স সেণ্টারের পরিচালক অধ্যাপক ডক্টর মো. আজিজুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী স্টাডিজের কোর্স টিচার সৈয়দ ইরফানুল বারী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডক্টর মোহা. তৌহিদুল ইসলাম এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সেমিনার আয়োজন কমিটির সদস্য সচিব ডক্টর মো. ইশতিয়াক আহমেদ তালুকদার।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইফ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডক্টর মো. মাহবুবুল হক, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডক্টর মো. আনিসুর রহমান, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোছা. নুরজাহান খাতুন প্রমুখ।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগে দ্বিতীয় দফায় সভাপতি হলেন ফজলুর রহমান খান ফারুক। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের। আগামী তিন বছরের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এ কমিটি ঘোষণা করেন।
সম্মেলনে সভাপতি পদে চারজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে সাতজন প্রার্থী আবেদন করেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাহজান খান, আব্দুর রহমান, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
সম্মেলন সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহের ইসলাম জোয়াহের।
একতার কণ্ঠঃ আগামী কাল সোমবার (৭ নভেম্বর)দীর্ঘ ৭ বছর পর টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই সম্মেলনে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
ইতিমধ্য সম্মেলনকে ঘিরে পদ প্রত্যাশিদের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে টাঙ্গাইল জেলার সড়ক-মহাসড়ক, শহরের অলি-গলি, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সম্মেলন স্থানের আশপাশ। শহরের প্রধান প্রধান সড়কে শোভা পাচ্ছে তোরণ।
নেতা-কর্মীদের উৎসাহ উদ্দীপনায় শহরের মুদি দোকান থেকে চা-স্টল পর্যন্ত সর্বত্রই সম্মেলন ঘিরে আলোচণা-সমালোচনার ঝড় বইছে।
কারা পাচ্ছেন জেলার নতুন নেতৃত্ব- সেই প্রশ্ন সবার মুখে মুখে। কে হচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের জেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। ইতোমধ্যে সভাপতি পদে তিনজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে চার জনের নাম শোনা যাচ্ছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য অনেকেই উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদবির করছেন।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলমগীর খান মেনু ও আতাউর রহমান খান এমপির নাম শোনা যাচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম(ভিপি জোয়াহের) এমপি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি ও নাহার আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরনের নাম আলোচনা হচ্ছে।
তবে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম(ভিপি জোয়াহের) এমপি পদ ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তারা দুজনেই উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদবিরে অন্যদের চাইতে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন।
সম্মেলনকে ঘিরে জেলায় সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়ক, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক ও টাঙ্গাইল শহরের সব সড়কে শতাধিক তোরণ তৈরির কাজ চলছে। বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানিয়ে তোরণ ও বিলবোর্ড লাগানো হচ্ছে। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীদের সমর্থনে স্থানীয় নেতাদের পোষ্টার, ব্যানার, ফেস্টুন সম্মেলন স্থল পর্যন্ত লাগানো হয়েছে।
নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রথমে সম্মেলনে এক লাখ লোকের আগমন উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সে লক্ষে সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী সম্মেলনের দুই পর্ব সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। এরমধ্যে মাথাপিছু ২৭০ টাকা হিসেবে এক লাখ নেতাকর্মীর খাবার ও তিন লাখ টাকা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যয় হিসেবে বাকি টাকা মঞ্চ ও আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবে ধরা হয়।
কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতারা সময় দিতে না পারায় সম্মেলন সংক্ষিপ্ত করে দুপুর ২টায় সময় নির্ধারণ করা হয়। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা উস্মা প্রকাশ করতে দেখা যায়।
তারা মনে করেন, ক্ষমতাসীন দলের সম্মেলনে সম্মানিত ডেলিগেট ও কাউন্সিলররা একবেলা খাবার পাবেন না- এটা দলের স্থানীয় নেতাদের দেউলিয়াত্বের পরিচায়ক।
এদিকে, জেলার ১২টি উপজেলা ও ইউনিয়ন-পৌরসভার সম্মেলন শেষ করা হলেও অধিকাংশ ইউনিটেরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। উপজেলা ও ইউনিয়ন-পৌরসভার সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ ৩-৪টি পদের বিপরীতে নেতাদের নাম ঘোষণা দিয়ে সম্মেলন শেষ করা হয়েছে। এজন্য দলের জেলা সম্মেলনে কাউন্সিলরদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। অধিকাংশ উপজেলা সম্মেলনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না করায় স্থানীয় নেতাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
দলীয় সূত্রে জানাগেছে, সম্মেলনে বিশেষ অতিথি থাকবেন, আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য শাজাহান খান এমপি, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুবউল-আলম-হানিফ এমপি, ডা. দীপু মনি এমপি। প্রধান বক্তা থাকবেন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি।
বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ডক্টর আবদুস সালাম গোলাপ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমান, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, ইকবাল হোসেন অপু এমপি ও আলহাজ মো. সাঈদ খোকন।
জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ৭ নভেম্বর টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপস্থিত সম্মতি দিয়েছেন। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন, আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে টাঙ্গাইলের ১০টি সাংগঠনিক ইউনিটের অধীনে সব ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা সম্মেলন করা হয়েছে। যদিও ২-১টা উপজেলার সম্মেলন এখনও করা সম্ভব হয়নি- এটা জেলা সম্মেলনে কোন প্রভাব ফেলবেনা। এছাড়া সম্মেলন সফল করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
সম্মেলনে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক সভাপতিত্ব করবেন। সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম(ভিপি জোয়াহের) এমপির সঞ্চালনায় সম্মেলনে জেলা-উপজেলার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন।
সম্মেলন শেষে জাতীয় ও স্থানীয় শিল্পীদের সমন্বয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর সোমবার (৭ নভেম্বর) টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ দিন পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্মেলনকে ঘিরে পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীদের ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে ছেয়ে গেছে পুরো শহর। শহরে প্রবেশের রাস্তায় নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় শতাধিক তোরণ।
টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম মাঠে সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে জেলাব্যাপী দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। প্রায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটানো হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। কে হচ্ছেন সভাপতি, আর কে হচ্ছেন সম্পাদক—এ নিয়ে জল্পনা কল্পনা চলছে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সফল ও সার্থক করতে ইতিমধ্যে উপজেলা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। সম্মেলনকে ঘিরে বিভিন্ন উপজেলায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সম্মেলনে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুককে সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, শাহজান খান, অ্যাড. কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দিপু মনি। বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, শিক্ষা ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সানজিদা খানম, সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, ইকবাল হোসেন অপু, মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।
জেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে ফজলুর রহমান ফারুককে সভাপতি, জোয়াহের ইসলাম জোয়াহেরকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন বছরের জন্য ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হলেও কোনো সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।
জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক একুশে পদক পেয়েছেন। এছাড়াও তিনি আবারও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তিনি মুরুব্বির স্থান দখল করে আছেন। তাই সভাপতি হিসেবে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এবারও তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত।
জেলা আওয়ামী লীগের বর্তামান সাধারণ সম্পাদক জোয়াহের ইসলাম জোয়াহের ও যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হচ্ছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান স্মৃতি বলেন, “দীর্ঘ দিনের এই রাজনৈতিক পরিক্রমায় জেলার প্রত্যেক নেতাকর্মীর সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। গত সম্মেলনেও আমি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলাম। এবারও প্রার্থী হয়েছি। আশা করছি দল আমার মূল্যায়ন করবে।”
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের বলেন, “স্মরণকালের সবচেয়ে সফল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগ আরও ঐক্যবদ্ধ হবে সুসংগঠিত হবে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অতীতেও দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রেখে টাঙ্গাইলকে সন্ত্রাসমুক্ত রেখেছি। দলকে আরও সুসংগঠিত করে আগামী দিনে বিএনপির জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনকে প্রতিহত করা হবে।”
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে সব ক্ষেত্রে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে, তা অনেকের কাছে ভালো লাগে না। রাজাকার, আলবদর, জামায়াতসহ স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও বিএনপি দেশের উন্নয়ন দেখতে চায় না, বরং দেশকে ব্যর্থ দেখতে চায়। সে জন্য, তারা আন্দোলন করে, ষড়যন্ত্র করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে, সরকারের পতন ঘটাতে চাচ্ছে।
জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে শনিবার(৫ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, আন্দোলন–সংগ্রামের নামে ২০১৪ সালের মতো সহিংসতা করতে চাইলে বিএনপিকে সমুচিত শিক্ষা দেওয়া হবে। স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইলে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।
সমবায়ের শক্তিকে দেশ গঠনের কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সমবায়ের বিরাট শক্তি রয়েছে। এর সম্ভাবনা অনেক, তবে চ্যালেঞ্জও অনেক। সমবায়ভিত্তিক উৎপাদনব্যবস্থা চালু করতে পারলে দেশে কৃষি উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু সমবায়ের সমস্যা হলো, যাকেই দায়িত্ব দেওয়া হয় বা ‘ম্যানেজার’ হয়, সে–ই দুর্নীতি করে। দেশের অনেক সমবায় প্রতিষ্ঠান ভালো নেতৃত্বের অভাবে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’
সভায় সভাপতিত্ব করেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমীন।
এতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শরীফ আহমদ নাসির, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুল গফুর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফিউদ্দিন, পৌর মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।
একতার কণ্ঠঃ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেন, খালেদা জিয়াকে আবারও জেলে পাঠানোর কথা বলা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঠিক হয়নি। কারণ কারো উপকার করে তা বলতে হয় না। আপনার বাবা শুনলে (বঙ্গবন্ধু) রাগ করতেন, কষ্ট পেতেন।
দেশের বিভিন স্থানে বিএনপির সমাবেশে বাধা দেওয়া ও গাড়ি বন্ধ করাও ঠিক হয়নি। গাড়ি চালু থাকলে যে লোক হতো গাড়ি বন্ধ করায় পায়ে হেঁটে সমাবেশে তার চেয়ে বেশি মানুষ হয়েছে। তাই এসব করে পার পাওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেছেন কাদের সিদ্দিকী।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনি দেশের মালিক নন সেবক।
শনিবার(৫ নভেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুরে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের এক সংবর্ধনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচন কোন নির্বাচনই হয়নি। সবাই বলে সেটা ছিল ভোট চুরির নির্বাচন। আমার মেয়ে যদি নির্বাচিত হত তাহলে আমরাও হতাম ভোট চোরের দল। ঐক্যফ্রন্টের যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারাও চুরির ভোটে নির্বাচিত।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বলেন, আমরা ঐক্যফ্রন্টে গিয়েছিলাম ড. কামালকে ভালো নেতা মনে করে। কিন্তু তিনি ভালো নেতা নন, ভালো মানুষ। অনেকেই ভাবছেন আমরা কোন দিকে যাব? আমাদের পথ হলো সিরাতুম মুস্তাকিম, আমরা আল্লাহর পথে আছি।
সভায় আবদুস ছবুরের সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান খোকা বীর প্রতীক, নাসরিন সিদ্দিকী, ইকবাল সিদ্দিকী, শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী, শফিকুল ইসলাম দেলুয়ার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম সরকার, হাবিবুন্নবী সোহেল, এ টি এম সালেক হিটলু, সানোয়ার হোসেন, আবু জাহিদ রিপন, আলমগীর সিদ্দিকী, দুলাল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘বিএনপি যতোই আন্দোলনের কথা বলুক, আমার দৃঢ় বিশ্বাস বিএনপি একটা পর্যায়ে গিয়ে নির্বাচনে আসবে। সেই পরিস্থিতি আমরা সৃষ্টি করবো ইনশাআল্লাহ।’
শুক্রবার (৪ নভেম্বর) সকালে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থল টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন কালে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। সোমবার (৭ নভেম্বর) এই স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা বারবার বলছি বাংলাদেশের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে লেখা আছে যে সরকার ক্ষমতায় থাকবে, সেই সরকারই নির্বাচনের সময় দায়িত্বে থাকবে। আসলে নির্বাচন পরিচালনা করা সরকারের কোন দায়িত্ব নাই, এটির দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। একটা নির্বাচন সুষ্ঠু সুন্দর করার জন্য সংবিধানের ১২৬ এ নির্দেশ দেয়া আছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আইজিপি, সেনাবাহিনীর প্রধান, মন্ত্রী, সচিব সবার দায়িত্ব হবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী চলা। তাদের নির্দেশ অনুযায়ী দেশ চলবে। কাজেই আওয়ামী লীগ এখানে কোনো বিষয় নয়। একটা আইনের আওতায় নির্বাচন কমিশন করা হয়েছে। বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু সুন্দর ভাবে অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন খুব গুরত্বপূর্ণ। নেতাকর্মীদের মাঝে যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে তাতে আমি মনে করি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বটি একটি মহাসমাবেশে পরিণত হবে। এই সম্মেলনটি সারা বাংলাদেশে একটি নতুন উদাহারণ সৃষ্টি করবে।’
এ সময় অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান ফারুক, সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, আহসানুল ইসলাম টিটু, তানভীর হাসান ছোট মনির, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নাহার আহমেদ, পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, যুবলীগের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুনুর রশীদ মামুন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হোসেন প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ হাসানুজ্জামিল শাহীন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি ও ফরহাদ ইকবাল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার(১ নভেম্বর) জেলা বিএনপির সম্মেলন শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলররা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করেন।
রাত নয়টায় ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। এতে সভাপতি পদে হাসানুজ্জামিল ১ হাজার ৩৮২ ভোট পেয়েছেন।
তাঁর অপর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আলী ইমাম তপন ৫৮৭ ভোট ও ছাইদুল হক ৭৭ ভোট পান।
সাধারণ সম্পাদক পদে ফরহাদ ইকবাল ১ হাজার ২৬০ ভোট এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মাহমুদুল হক সানু ৭৯১ ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচনে ২ হাজার ১১৫ জন কাউন্সিলর ভোট দেন। মোট ভোটার ছিলেন ২ হাজার ৩২৩ জন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে শহরের পশ্চিম আকুর টাকুরপাড়া ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির হোসেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ, ফকরি মাহবুব আনাম, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন প্রমুখ।
এতে লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
প্রায় ১৩ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির নেতৃত্ব নির্বাচন করা হলো। সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৯ সালে। এরপর তিন দফা দলটির জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে সম্মেলন ছাড়া।
সর্বশেষ গত ৩ আগস্ট আহমেদ আযম খানকে আহ্বায়ক করে জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি সব উপজেলা ও পৌরসভার সম্মেলন শেষ করে জেলা সম্মেলনের আয়োজন করে।
একতার কণ্ঠঃ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস বলেছেন, নিশিরাতের সরকারের সহযোগী বর্তমান ইসির অধিনে আর কোন নির্বাচন হবে না। গাইবান্ধা মার্কা নির্বাচন বাংলাদেশে আর হতে দেয়া হবে না। একটি নিরপেক্ষ সরকার ও ইলেকশন কমিশনের অধিনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে, এর বাইরে কোন বিকল্প নেই। মঙ্গলবার(১ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের পশ্চিম আকুরটাকুর পাড়া্ ঈদগাহ মাঠে জেলা বিএনপির ক্রি-বার্ষিক সম্মেলেন প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি লুটেরা সরকার, দুর্ভিক্ষের সকরকার, ডাকাত সরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ২০২৩ সালে দুর্ভিক্ষ হবে। দুর্ভিক্ষ মোকাবিলার আগেই দেশের জনগন এই সরকারের পতন ঘটাবে।।মির্জা আব্বাস আরো বলেন, গণতন্ত্র দিয়েছিলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউরর রহমান, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। আর গণতন্ত্র হত্যা করেছেন শেখ হাসিনা।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস ছালাম আজাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটু, শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী,কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, ওবাইদুল হক নাসির প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর পর টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে সরসরি ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের কথা রয়েছে।