নাগরপুরে জনসভাকে ঘিরে প্রকাশ্যে এলো এমপি-উপজেলা আ’লীগের দ্বন্দ্ব


০২:৩৩ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩
নাগরপুরে জনসভাকে ঘিরে প্রকাশ্যে এলো এমপি-উপজেলা আ’লীগের দ্বন্দ্ব - Ekotar Kantho
রবিবার নাগরপুর উপজেলা আ.লীগ আয়োজিত জনসভার মঞ্চের চিত্র

একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ও জেলার সকল সংসদ সদস্য (এমপি) এবং জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলের নাগরপুরে রবিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে নাগরপুর কলেজ মাঠে জনসমাবেশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু। উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে সমাবেশ করেছেন তিনি। কিন্তু সেখানে যাননি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বেশিরভাগ নেতৃবৃন্দ। সংসদীয় আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও ছিলেন অনুপস্থিত। উপজেলা আওয়ামী লীগ ও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জনসভায় অনুপস্থিতি তৃণমুল নেতাকর্মীদের হতাশ করেছে। জনসভার পাশাপাশি এটাও ছিলো সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে ছিলো আলোচনার বিষয়বস্তু। এরমধ্য দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দ্ব›দ্ব এতদিন অপ্রকাশ্যে থাকলেও রবিবারের জনসভার মধ্যে দিয়ে তা প্রকাশ্যে এলো। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ৯নং সহ-সভাপতি মো. আনিছুর রহমান ও অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ৩ নং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আলীম দুলাল। যা ছিলো অত্যান্ত দৃষ্টিকটু।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটুর সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতাদের। সেইসঙ্গে এই আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তারেক শামস খান হিমু ও ইনসাফ আলী ওসমানী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়ামের সঙ্গেও দ্বন্দ্ব রয়েছে। তারা সবাই একাট্টা হয়েছেন সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত কয়েক বছর ধরে সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ। সংসদ সদস্য তার নিজের অনুসারীদের নিয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করেন। অপরদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ পৃথকভাবে কর্মসূচি পরিচালনা করেন।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাগরপুরে সমাবেশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আগামী অক্টোবরে প্রথম সপ্তাহে সমাবেশ করার জন্য প্রস্তাব দেন। তারা এই প্রস্তাবের কথা কৃষিমন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাক ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের জানান। উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খালিদ হোসেন জানান, এই প্রস্তাব অগ্রায্য করে সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে ১৭ সেপ্টেম্বর সমাবেশের তারিখ নির্ধারণ করেন। ব্যানারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদককে সঞ্চলনার দায়িত্ব দিয়ে নাম লেখা হলেও তিনি কারও সঙ্গে সমন্বয় না করে একাই সমাবেশের প্রচারণা শুরু করেন। তখন অন্য সবাই এ সমাবেশ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেন।

স্থানীয়রা জানান, এই সমাবেশ কেন্দ্র করে নাগরপুরের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জণ উঠেছিল উপজেলা আওয়ামী লীগ, সকল মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা ও সংসদ সদস্যের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব রয়েছে তার অবসান ঘটবে। কিন্তু সমাবেশের মধ্য দিয়ে দ্বন্দ্ব আরও চরমে পৌঁছালো। তারা এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বর কারণে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুদরত আলী বলেন, সংসদ সদস্য রোববার যে সমাবেশ করলেন তার সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন প্রকার সম্পর্ক নেই। সমাবেশের বিষয়ে তিনি কারও সঙ্গে সমন্বয় করেননি। এমপি হওয়ার পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের এড়িয়ে চলেন। তিনি বিএনপি ও জামায়াতের লোকদের নিয়ে রাজনীতি করেন। কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতাদের ম্যানেজ করে তিনি এই সমাবেশ করেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ পরবর্তীতে সমাবেশ করবেন বলেও তিনি জানান।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তারেক শামস্ হিমু বলেন, দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে দল পরিচালা করবেন উপজেলা আওয়ামীলীগ। উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড পরিচালানা করবেন স্থানীয় এমপি। কিন্তু স্থানীয় এমপি উপজেলা আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে এককভাবে নিজের মত করে বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করছে। রোববারের জনসভাটি এমপির একক সিদ্ধান্তে আয়োজন করায় উপজেলা আওয়ামী লীগসহ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জনসভায় উপস্থিত হয়নি। এতে সাধারণ ভোটারসহ তৃণমুল কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু জনসভায় বলেন, নাগরপুরের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ, নাগরপুর আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ আজ ঐক্যবদ্ধ ও অভিন্ন আছে। গুটি কয়েকজন মানুষ এখানে উপস্থিত নাই। আমি আশাকরি এখানে উপস্থিত টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ দায়িত্বপুর্ন সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগ যেন ঐক্যবদ্ধভাবে আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজ করতে পারে সেই ব্যবস্থা নিবেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুল আলীমের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন, সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী, সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান, সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ, সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু, সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনি, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামিলুর রহমান মিরন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার ফজলুল হক প্রমুখ।


নিউজটি শেয়ার করুন

কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।