একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজের দুইদিন পর স্বার্থক দাস নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ।
রবিবার (২৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার এলেঙ্গা পৌর শহরের মহেলা পৌলি নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।
স্বার্থক দাস (৯) উপজেলার হাতিয়া দক্ষিণ পাড়ার বল্টু দাসের ছেলে। সে স্থানীয় হাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এর আগে গত শুক্রবার(২৬ আগস্ট) দুপুরে স্বার্থক দাস ও সুন্দর সূত্রধর সহ ৪ জন শিশু একসঙ্গে বাড়ির পাশে নদীতে গোসল করতে যায়। একপর্যায়ে নদীর প্রবল স্রোতে স্বার্থক দাস ও সুন্দর সূত্রধরকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এসময় সুন্দর সূত্রধর সাঁতরিয়ে তীরে ফিরে আসে। স্বার্থক দাস পানির স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ১ ঘন্টা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে সন্ধান না পেয়ে তারা উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করেন।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব নৌ-পুলিশের এসআই প্রদীব চন্দ্র দাস জানান, সকালে নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা খবর দিলে নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের নিকট লাশটি হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে ছাত্রলীগের হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত বিএনপির ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
রবিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের চারান বাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থানে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, জ্বালানী তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী উপজেলার বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করার কথা ছিল। কিন্তু উপজেলা ছাত্রলীগ ওই সমাবেশে বাধা দেয়।
পরে নেতাকর্মীরা উপজেলার চারান এলাকায় গিয়ে সমাবেশ শুরু করেন। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বেশ কিছু নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সমাবেশে অতর্কিত হামলা চালায়। পরে দুই পক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ ইকবাল জানান, শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা সভা চলছিল। হঠাৎ করে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রলীগ হামলা করে সমাবেশে। এতে বিএনপি ও ছাত্রদলের ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
এছাড়াও ১৭ টি মোটর সাইকেল, ৬টি পিকআপ ও ৪ টি বাস গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ প্রসঙ্গে কালিহাতী থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষ হওয়ায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এই বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটু। বিশেষ অতিথি ছিলেন- জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসানুজ্জামান শাহিন, ফরহাদ ইকবাল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মজনু মিয়া প্রমুখ।
প্রকাশ, কালিহাতীতে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে রবিবার কালিহাতী পৌর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করতে পারেননি বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরে দুপুরে উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের চারান এলাকায় দলটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নিখোঁজের ৭ দিনে পর বাঁশ ঝাড়ের পাশে ডোবায় মিলল হৃদয় (১৩) নামে এক স্কুল ছাত্রের লাশ।
রবিবার(২৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের পলশিয়া গ্রামের ওই ডোবায় তার অর্ধগলিত লাশ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।
হৃদয় ওই গ্রামের মোস্তফা মিঞার ছেলে ও স্থানীয় শিমলা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হৃদয় গত ৭দিন ধরে নিখোঁজ ছিল। গত সোমবার ( ২২ আগস্ট) সকালে শিমলা বাজারে যাওয়ার কথা বলে সে বাড়ী থেকে বের হয়ে আর ফিরেনি। হৃদয়ের বাবা মোস্তফা দরিদ্র ভ্যান চালক। নিখোঁজের পর থেকে আত্বীয়স্বজন ও ছেলের বন্ধুবান্ধবসহ সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজ খবর নেন তিনি। কোথাও ছেলের সন্ধান না পেয়ে গত বুধবার (২৪ আগস্ট) গোপালপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন।
রবিবার সকালে বাঁশের পাতা আনতে স্থানীয় এক ব্যক্তি ওই ঝাড়ে গিয়ে ডোবায় একটি লাশ ভাসতে দেখেন। পরে তার ডাকচিৎকারে লোকজন এসে লাশটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে হৃদয়ের স্বজনরা লাশ সনাক্ত করেন।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হৃদয়ের বাবা থানায় নিখোঁজ ডায়রী করার পর পুলিশ সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজ নিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
তিনি আরও জানান,লাশের ময়না তদন্তের প্রতিবেদন ও অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এ কারণে যাত্রীদের নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে চারটি স্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
এছাড়া জেলার মধুপুর, ঘাটাইল, কালিহাতী, সখীপুর এবং মির্জাপুর উপজেলার ১৬টি স্থানে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
জানা গেছে, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মধুপুর বনাঞ্চলের নির্জন এলাকায় গত ১৩ বছরে চারবার চলন্ত বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় তিনজন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। খুন হয়েছেন দুই নারী। এর বাইরেও ছোটখাটো অনেক ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ২ আগস্ট কুষ্টিয়া থেকে ঈগল এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি বাস রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার দিকে যাত্রা শুরু করে। রাতে নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে যাত্রী ওঠানোর নিয়ম না থাকলেও রাত ১১টায় সিরাজগঞ্জ থেকে প্রথমে চারজন এবং পরে দুই বার তিনজন করে ছয়জন বাসে ওঠেন। বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতুর টোলপ্লাজা পার হওয়ার পর ১০ জন ডাকাত অস্ত্রের মুখে বাসের ২৪ যাত্রীকে জিম্মি করে। এসময় ডাকাতরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে যাত্রীদের মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটে নেয়। একই সঙ্গে তারা এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণ করে। পরে খবর পেয়ে যাত্রীদের উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ডাকাত দলের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।
এদিকে মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অপরাধ সংঘঠিত না হয় এজন্য স্থায়ী চেকপোষ্ট ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে ১৬টি স্থানে যাত্রীবাহী বাস, গরু ভর্তি ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি এবং ভিডিও ধারণ করে রাখা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শরফুদ্দীন জানান, সাধারণ যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারেন সে জন্য সড়কের বিভিন্ন অংশে চেকপোষ্ট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত পুলিশ টহল জোড়দার করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান,এর মধ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের গোলচত্বর এলাকা,আনালিয়াবাড়ি, এলেঙ্গা মোড়, ভুয়াপুর লিংরোড, আশেকপুর, বাসাইল বাইপাস, পাকুল্লা, নাটিয়াপাড়া, দেওহাটা ওভার ব্রিজের পাশে, মির্জাপুর থানা মোড়, গোড়াই আন্ডারপাস সঙ্গে বাঁশতৈল হাটুভাঙ্গা রোড, মধুপুর, ঘাটাইল ও হামিদপুরে পুলিশ টহল বাড়ানো হয়েছে।
ময়মনসিংহগামী প্রান্তিক পরিবহনের যাত্রী সোলায়মান হাসান জানান, ব্যবসার জন্য সপ্তাহে অন্তত দুইদিন টাঙ্গাইল আসতে হয়। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পুলিশি টহল ও চেকপোষ্ট স্থাপন করায় আগের চেয়ে এখন বেশ নিরাপদে বাসে যাতায়াত করতে পারছেন।
বিনিময় পরিবহনের নারী যাত্রী আকলিমা আক্তার বিথী জানান, তিনি টাঙ্গাইল শহরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার অফিসের কাজ শেষ করে তিনি গ্রামের বাড়ি ধনবাড়িতে যান। মহাসড়কের এলেঙ্গা লিংক রোডের পর পুরো রাস্তায়ই নেই কোনো সড়ক বাতি। চারিদিকে অন্ধকার। এছাড়া ছিল না কোনো পুলিশি টহল। এ কারণে আগে অনেক সময় মনের ভেতর ভয় থাকতো। এখন সেটা অনেকাংশে দূর হয়েছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, নির্দিষ্ট রুটের বাস অন্য রুটে প্রবেশ করলেই সেটি তল্লাশি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সেই বাসটির সব যাত্রী ও চালকের ভিডিও করে রাখা হচ্ছে। যেন নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া বাসে কোনো যাত্রী উঠানামা না করানো হয় সে জন্য বাস চালকদের সচেতন হতে হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের সমবায় মার্কেটের সভাপতি কুদরত ই এলাহী খানের দুর্নীতি এবং নিজেদের দোকান ফিরে পেতে রাস্তায় নেমেছেন মার্কেটের পুরাতন দোকান মালিকেরা।
শনিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে নির্মাণাধীন মার্কেটের সামনে এই দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মার্কেটের সাবেক সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক খান, দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, নার্গিস আকতার, গোলাম মোহাম্মদ খান প্রমুখ।
মানববন্ধন বক্তারা বলেন, কুদরত-ই-এলাহি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সভাপতি হয়েছেন। অধিক লাভের আশায় তিনি মার্কেটের পুরাতন ভবণ ভেঙে নতুন ভবণ করে সাবেক ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে নতুনদের কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে দোকান বরাদ্দ দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়। রায় আমাদের পক্ষে রয়েছে। তারপরও স্বঘোষিত কুদরত ই এলাহী খান নানা মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, ১৯৮০ সালে ১৫৫ জন দোকান মালিক জামানতের টাকায় সমবায় মার্কেট তৈরি করেন। ৪১ বছর তারা ঢাকার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা হিসাবে সুনাম অর্জন করেছেন। কিন্তু ২০১৬ সালে পুরাতন মার্কেটটি ভেঙে নতুন মার্কেট তৈরির উদ্যেগ নেয় সমবায় কর্তৃপক্ষ। এতে ১৫৫টি পরিবার তথা ৩০০জন বিক্রয় কর্মী বেকার হয়ে পরেন। এরপর ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে ১৯ জন ব্যবসায়ী মৃত্যুবরণ করেছেন। অনেক দোকান মালিক অন্যের দোকানে কর্মচারী হিসাবে কাজ করে পরিবার চালাচ্ছেন। অনেক মালিক ব্যাংক ঋণ, এনজিও ঋণ, মহাজনি ঋণ দিতে না পেরে ভিটা বাড়ি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুদরত ই এলাহী বলেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে লাইসেন্স বিহীন সার বিক্রি ও মজুদের দায়ে ছয়টি দোকানকে এক লাখ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
শনিবার(২৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জলছত্র ও পঁচিশ মাইল বাজারে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা ইয়াসমীন ও সহকারী কমিশনার(ভূমি) জাকির হোসাইনের নেতৃত্বে আলাদা দুটি ভ্রাম্যমান আদালত ওই জরিমানা করেন।
জানা যায়, মধুপুর উপজেলার জলছত্র বাজারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকির হোসাইন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে লাইসেন্স বিহীন সার বিক্রি ও মজুদের দায়ে স্থানীয় রায়হানের সারের দোকানে পাঁচ হাজার টাকা, রহমতুল্লাহর দোকানে তিন হাজার টাকা, আমিনুল ইসলাম মিন্টুর দোকানে পাঁচ হাজার টাকা, আমিনুল ইসলামের দোকানে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
এদিকে, মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা ইয়াসমীনের নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমান আদালত পঁচিশ মাইল বাজারে অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স বিহীন সার বিক্রি ও মজুদের অপরাধে স্থানীয় ফজলুল হকের সারের দোকানে এক লাখ টাকা ও আয়েশা এণ্টারপ্রাইজের আলী আকবর খানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
এ সময় মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন রাসেল, অরণখোলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা ইয়াসমীন জানান, মধুপুরের জলছত্র ও পঁচিশ মাইল বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে নিবন্ধন বিহীন সার বিক্রি, মজুদ, মূল্য তালিকা সাটানো না থাকা সহ বিভিন্ন অপরাধে জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আলমের হস্তক্ষেপে সোনালী আক্তার (১৪) নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে বন্ধ হয়েছে। সে স্থানীয় বংকী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
জানা যায়, শুক্রবার (২৬ আগস্ট) পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফজরচালা এলাকার সহিদ মিয়ার মেয়ের সঙ্গে উপজেলার যাদবপুর এলাকার আজাহার মিয়ার ছেলে পুলিশ সদস্য আলামিনের বিয়ের প্রস্তুতি চলছিলো।
গোপনসংবাদ পেয়ে ইউএনও প্রথমে স্থানীয় কাউন্সিলরকে পাঠিয়ে বিয়ের প্রস্তুতি বন্ধ করেন। ঘন্টাখানেক পরে গোপনে ফের বিয়ের কার্যক্রম শুধু করলে পরে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হয়ে পুনরায় সতর্ক করে আসেন। পরে বিয়ে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে ইউএনওকে মুচলেকা দেওয়ার শর্তে বিয়ে বন্ধ করা হয়।
৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবু সাঈদ মিয়া জানান, ইউএনওর নির্দেশ পেয়ে আমি ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি রান্না-বান্নার আয়োজন চলছে। বর পক্ষের লোকজনও সেখানে উপস্থিত আছেন। ইউএনও স্যারের নির্দেশে বিয়ে বন্ধ করে দেই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা আলম জানান, প্রাপ্ত বয়স না হওয়ার আগে বিয়ে না দেওয়ার শর্তে মুচলেকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিএনপির মিছিলে হামলার ঘটনায় আহত ছাত্রদল কর্মী ইসমাইল হোসেন ওরফে পারভেজের(১৬) অবস্থা আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য বুধবার (২৪ আগস্ট) রাতে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহদুল হক সানু জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত ইসমাইলের জ্ঞান ফেরেনি।
ইসমাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে। তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বুধবার জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলা হয়। এ সময় মাথায় হাতুড়ির আঘাতে ইসমাইল গুরুতর আহত হন।
জেলা বিএনপির নেতারা জানান, বুধবার জেলা বিএনপির একাংশ শহরের সাবালিয়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিএনপির নেতাদের দাবি, তাঁদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলটি শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেটের সামনে পৌঁছালে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের একদল নেতা–কর্মীরা বিএনপির নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা করে।
এতে ইসমাইল হোসেনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের দশ নেতা–কর্মী আহত হন। পরে ইসমাইলসহ দুজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে ইসমাইলের অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন রাতেই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাতে তাঁর মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়।
জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহদুল হক সানু জানান, ইসমাইলের অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। তাঁর জ্ঞান ফেরেনি। তাঁকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
এদিকে বুধবার রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বৃহস্পতিবার জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসানুজ্জামিল শাহীন এবং ফরহাদ ইকবাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলার ঘটনার বিষয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর নলুয়া বাছেদ খান উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে স্কুলের নিরাপত্তাকর্মী জোরপূর্বক ‘টিকটক’ বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্তসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে শিক্ষার্থী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মী আরিফ মিয়া তার পরিবারের সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর ধরে নলুয়া বাছেদ খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। এরই সূত্র ধরে আরিফ বছরখানেক আগে এই স্কুলে নিরাপত্তাকর্মী পদে চাকরি পান। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে আসছেন। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীরা এর আগে প্রধান শিক্ষককে অবহিত করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ১৪ আগস্ট নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সঙ্গে স্কুল মাঠে টিকটক করাতে বাধ্য করে এবং তার ফেসবুক পেজে তা আপলোড করে। মুহূর্তে টিকটকটি ভাইরাল হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বরাবর শিক্ষার্থীরা অভিযোগ দিলেও তিনি তা আমলে নেননি। পরে স্কুলের সব শিক্ষার্থী উপজেলা নির্বাহী বরাবর অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয় এবং অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মীকে চাকরিচ্যুতসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় একাধিক অভিভাবক জানান, স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীর উত্ত্যক্তের সব দায় প্রধান শিক্ষকের। দ্রুত এই নিরাপত্তাকর্মীকে চাকরিচ্যুত করাসহ সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. তোফাজ্জল হোসেন তার কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি বলে দাবি করেন।
এদিকে উপজেলার নির্বাহী অফিসার ফারজানা আলম জানান, স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাণিজ্যিক এলাকা করটিয়া হাটে ভিটি( পজিশন দোকান) পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে তিন প্রতারকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২ সিপিসি-,৩টাঙ্গাইল।
বুধবার(২৪ আগস্ট) রাতে করটিয়া হাট বাইপাস এলাকায় আনোয়ার ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মো. এরশাদুর রহমান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ঝড়কা(ভামীকাত্রা) গ্রামের মৃত নিতাই পালের ছেলে মনোরঞ্জন পাল(৩৮), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার অলোয়া গ্রামের রূপচানের ছেলে মো. হাসেন আলী, টাঙ্গাইল পৌর সভার আকুর-টাকুর পাড়া এলাকার মৃত দারোগ আলীর ছেলে মো. ফজলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার(২৫ আগস্ট) সকালে র্যাব-১২ এর প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) টাঙ্গাইল অফিসের একজন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লোকজনকে করটিয়া কাপড়ের হাটের ভিটি (পজিশন দোকান) পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
খবর পেয়ে র্যাব-১২ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল’র কোম্পানী কমান্ডার মো. আনিসুজ্জামান ও স্কোয়াড কমান্ডার মো. এরশাদুর রহমান’র নেতৃত্বে র্যাবের একটি অভিযানিক দল বুধবার(২৪ আগস্ট) রাতে করটিয়া হাট বাইপাস এলাকা থেকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ঝড়কা(ভামীকাত্রা) গ্রামের মৃত নিতাই পালের ছেলে মনোরঞ্জন পাল(৩৮), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার অলোয়া গ্রামের রূপচানের ছেলে মো. হাসেন আলী, টাঙ্গাইল পৌর সভার আকুর-টাকুর পাড়া এলাকার মৃত দারোগ আলীর ছেলে মো. ফজলুর রহমান নামের তিন প্রতারককে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় গ্রেপ্তারকৃত তিন প্রতারকের কাছ থেকে ১টি শপিং ব্যাগের ভিতর হতে ডুপ্লিকেট কার্বন রশিদ বহি, দোকান বরাদ্ধের (ডি. সি, আর) এর ৭২টি জাল কপি, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ টাঙ্গাইলের বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তার নকল/জাল দাপ্তরিক সীল ১১টি এবং ০৩টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারকরা করটিয়া হাটে সরকারী খাস জমিতে ভিটি (পজিশন দোকান) এর জন্য যে সকল লোকজন আসত তাদের প্রথমে সহকারী কমিশনার (ভূমি), টাঙ্গাইল’র পরিচয় দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে তাদের নিকট হতে লক্ষ লক্ষ টাকার দামের জমির ভিটি(পজিশন দোকান) সূলভ মূল্যে নকল সীল ও স্বাক্ষর করা ভুয়া ডি,সি,আর দিয়ে প্রতারণার কথা স্বীকার করে।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রতারকদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে ধর্ষণ মামলায় অরণখোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন নকরেককে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে তিনি ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে পাঁচ বছর ধরে এক তরুণীকে ধর্ষণ করে আসছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) মামুনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমানের আদালতে ভুক্তভোগীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
এর আগে, বুধবার (২৪ আগষ্ট)ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মধুপর থানায় মামলা করেন। এতে আসামি করা হয় উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন নকরেককে। রাতেই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, মামুন নকরেকের সঙ্গে ওই তরুণীর সঙ্গে পাঁচ বছর আগে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে অজান্তেই সেই দৃশ্য ধারণ করেন মামুন। এরপর থেকে ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পাঁচ বছর ধরে ওই নারীকে ধর্ষণ করে আসছেন তিনি। পরে ওই নারী অন্তঃসত্তা হয়ে পড়লে তাকে হত্যা এবং ভিডিও প্রকাশ করার হুমকি দেন মামুন।
সম্প্রতি মেয়ের শরীরের গড়ন দেখে সন্দেহ হয় ভুক্তভোগীর মায়ের। এরপর বিষয়টি জানার জন্য মেয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন মা।
মেয়েটি মায়ের চাপে বাধ্য হয়ে হত্যার হুমকি উপেক্ষা করে মুখ খুলেন।
ভুক্তভোগীর মা জানান, অনেক কষ্টে দিনমজুরি করে টাকা উপার্জন করে মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করছি। বর্তমানে মেয়েটি অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার শরীরের গড়নে পরিবর্তন দেখে মেয়েকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করলে মেয়েটি মুখ খোলে। বর্তমানে মেয়েটি ছয় মাসের অন্তঃসত্তা। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে অনেকেই মীমাংসার চেষ্টা করেছে। এরপর আইনের দ্বারস্থ হন তিনি।
ভুক্তভোগী ওই তরুণী বলেন, ‘মামুন পাঁচ বছর আগে আমাকে বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে একদিন আমাদের বাড়িতে কেউ ছিল না। ওই দিন সে এসে আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করেছে। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে। ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এই ভাবে জিম্মি করে আমাকে মাঝে মধ্যেই ধর্ষণ করত। কাউকে জানালে আমাকে হত্যা করবে বলেও হুমকি দিত মামুন।
এ বিষয়ে অরণখোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফিলিপ মৃ জানান, মামুন নকরেক একই ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্বে আছেন। তিনি আগে দিনমজুর থাকলেও বর্তমানে তিনি নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন। তার বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ শুনেছি। সত্যতা জানি না।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মধুপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম জানান,তরুণী ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার মামুন নকরেককে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মামুন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তার মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্কুল ও কলেজের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে রেস্টুরেন্টে আড্ডা দেওয়ার অভিযোগে ১৩ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে পৌর এলাকার নিশ্চিন্তপুর ও বাঁশবাড়ী রেস্টুরেন্টে অড্ডা দেওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়।
পরে আটককৃত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, বখাটেপনা, কিশোর অপরাধ, ইভ টিজিং প্রতিরোধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলছে। এ সময় ক্লাস ফাঁকি দিয়ে রেস্টুরেন্টে আড্ডা দেওয়ায় ১৩ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
তিনি আরো জানান, পরে অভিভাবকদের মুচলেকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কিশোর অপরাধ, ইভ টিজিং নির্মূল করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।