একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে ধনবাড়ী থেকে তোফাজ্জল হোসেন, গোপালপুরে এসএম রফিকুল ইসলাম, ভূঞাপুরে খায়রুল ইসলাম, ঘাটাইলে রোকনুজ্জামান ঠান্ডু, কালিহাতীতে আয়নাল হক, টাঙ্গাইল সদরে মাসুরুল ইসলাম, দেলদুয়ারে মোশারফ হোসেন, নাগরপুরে শহিদুল ইসলাম, বাসাইলে নাসির খান, সখীপুরে আনোয়ার হোসেন তালুকদার ও মির্জাপুরে তাহেরুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন।
সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে মাহমুদা বেগম (ধনবাড়ী, মধুপুর, গোপালপুর), রাজিয়া সিদ্দিকী (ঘাটাইল, কালিহাতী, ভূঞাপুর), শিমু খান (সদর, নাগরপুর, দেলদুয়ার) ও খালেদা সিদ্দিকী (মির্জাপুর, বাসাইল, সখীপুর)।
প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ফজলুর রহমান খান ফারুক এবং মধুপুরের সদস্য পদে খন্দকার শফিউদ্দিন মনি বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে বোনের বাড়ি বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক কিশোরী (১৪)। শনিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার লাউহাটি এলাকার একটি পরিত্যাক্ত বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই ভুক্তভোগী কিশোরী বাদী হয়ে দেলদুয়ার থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
ওই কিশোরী জানায়, শনিবার দুপুরে বোনের বাড়ি বেড়াতে আসে সে। পরে সেখান থেকে একাই ঘুরতে বের হয়। এসময় স্থানীয় তিন বখাটে তাকে একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে দুই বখাটের পাহারায় একজন তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দীন মৃধা জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওই কিশোরীকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসহাতালে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অসুস্থ বোনকে দেখেতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক তরুণী (১৯)।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুল হাইকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে ধনবাড়ী থানার পুলিশ। ধর্ষণে অপর সহযোগী আল-আমিন পলাতক রয়েছেন। তাঁরা উভয়েই ওই হাসপাতালের নৈশপ্রহরী পদে কর্মরত।
রোববার (১৬ অক্টোবর) ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে ধনবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেছে। তাঁকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত আব্দুল হাই উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের নরিল্যা গ্রামের আবু হানিফের ছেলে, অপর অভিযুক্ত আল-আমিন একই গ্রামের বাসিন্দা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) ধনবাড়ী হাসপাতালে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী তরুণী জানান, গত বুধবার (১২ অক্টোবর) বড় বোন অসুস্থ হলে তাঁকে ধনবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাতপাতালে বোনকে দেখতে এসে আ. হাইয়ের সঙ্গে পরিচয় হলে তিনি কৌশলে মোবাইল নম্বর নেন। তারপর তিনি নানাভাবে সহযোগিতার কথা বলেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালের একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন আব্দুল হাই। তাঁকে সহযোগিতা করেন আল-আমিন। পরদিন আবারও ধর্ষণ করেন আব্দুল হাই।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহানাজ সুলতানা জানান, ‘এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আইনের প্রতি আমরা সবাই শ্রদ্ধাশীল।’
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচএম জসিম উদ্দিন জানান, ‘মেয়েটি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্ত আ. হাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সহযোগী আল-আমিনকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে পড়ে সুজন দেবনাথ (৩৫) নামে এক এনজিওকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
শনিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের হেলনাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম সরকার।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সুজন দেবনাথ উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের হেলনাপাড়া গ্রামের কানসেন দেবনাথের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি এনজিওতে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। তিন মাস আগে তিনি বিয়ে করেন। স্ত্রী বাবার বাড়িতে যাওয়ায় গত রাতে তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা সুজনের থাকার ঘরের দরজা খোলা দেখতে পেলেও তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা তার পায়ের স্যান্ডেল বাড়ির পাশের ডোবায় ভাসতে দেখে সুজনের আত্মীয়-স্বজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের জানায়। খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল এসে ডোবা থেকে সুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
সুজনের চাচাতো ভাই প্রবীর দেবনাথ জানান, সুজনের মৃগী রোগ ছিল। এ রোগের কারণে ডোবার পানিতে পড়ে গিয়ে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হতে পারে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রুটে শনিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ ময়মনসিংহে বিএনপির সমাবেশে টাঙ্গাইল থেকে যাতে নেতাকর্মীরা যোগদান করতে না পারে এজন্য প্রশাসনের নির্দেশে বাস চলছে না।
সকালে টাঙ্গাইল বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, ময়মনসিংহ অভিমুখী কোনো বাস চলছে না।
মালিক ও শ্রমিকরা জানান, মালিক সমিতির নির্দেশে চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাস মালিক সমিতির নেতারা এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মালিক নেতা জানান, উপরের নির্দেশে ময়মনসিংহ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ ইকবাল জানান, ময়মনসিংহের সমাবেশে টাঙ্গাইল শহর থেকে যোগদানের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তবে মধুপুর থেকে নেতাকার্মীদের যোগদানের কথা ছিল। বাস বন্ধ থাকলেও বিকল্প পথে সেখানকার নেতাকর্মীরা ময়মনসিংহে গেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আনোয়ারা বেগম (২৭) নামের এক গৃহবধূকে হত্যা মামলায় স্বামী মুফাজ্জল হোসেন ওরফে মুবাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) রাতে ঘাটাইল উপজেলার মুরাদ গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আনোয়ারা বেগম ও মুফাজ্জল হোসেন দম্পতি উপজেলার আজচগানা ইউনিয়নের বেলতৈল হাটুভাঙ্গা বাজারের শাহিদের বাড়িতে তাদের সাত বছরের পুত্র আশিককে নিয়ে ভাড়া থাকতেন। বুধবার সকালে ওই গৃহবধূর ঘরের বাইরে থেকে দরজার শিকল আটকানো ছিলো।
ঘরের ভেতর বাচ্চার কান্নার শব্দ শুনে বাড়ির মালিকের স্ত্রী দরজার শিকল খুলে ঘরের ভেতর গিয়ে দেখেন বাচ্চাটি বসে কান্না করছে আর গৃহবধূর নিথর দেহ পড়ে আছে। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা ও বাশহৈতল ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আবুল হোসেন বাদী হয়ে ওইদিনই মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। দুইদিন ধরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে মুবাজকে তার গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয়রা জানায়, আনোয়ারা তার প্রথম স্বামী ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এলাকার পলাশ মিয়াকে মাদক সেবন থেকে ফেরাতে না পেরে কয়েক বছর আগে ডিভোর্স দেন।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত মুফাজ্জল হোসেন ওরফে মুবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে দেলদুয়ারে (৯ নং ওয়ার্ড) সদস্য পদে স্থানীয় সংসদ সদস্য তার পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ আসনের সদস্য পদের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন জেলা পরিষদের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
মোশারফ হোসেন “তালা প্রতীক” নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম ওরফে টিটু সমর্থন করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এস প্রতাব মুকুলকে।
প্রতাব মুকুল “টিউবওয়েল প্রতীক” নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।
এছাড়াও এই আসনে সদস্য পদে আরো দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। তারা হচ্ছেন, গোলাম কিবরিয়া (হাতী প্রতীক) ও প্রভাংশু রঞ্জন সোম (ঘুরি প্রতীক)।
মো. মোশারফ হোসেনের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, নির্বাচনী প্রচারণা করতে গিয়ে তিনি বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য তার মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য নানা রকম প্রদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। তিনি ইতিমধ্যে, আটটি ইউনিয়নের ভোটারদের (ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য) নিয়ে দুটি সভা করেছেন। সে সভায় তার মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হলে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে টিআর দিবেন। তাদের নিকট থেকে প্রকল্পের তালিকাও জমা নিয়েছেন।
সভায় সংসদ সদস্য বলেছেন, তিনি ভোট কেন্দ্রে অবস্থান করে যে কোন মূল্যে ভোটারদের কাছ থেকে ভোট আদায় করবেন। ভোটারদের তার প্রার্থীকে ভোট দিয়ে মুঠোফোনে তাকে দেখাতে হবে বলে জানিয়েছেন। সংসদ সদস্য প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ঘুরে ঘুরে ভোটারদের প্রলোভন দেখাচ্ছে বলে ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু জানান, লিখিত অভিযোগ দেয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যে ব্যবস্থা নেয় নিক।
দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়ন এম শিবলী সাদিক জানান, জেলা পরিষদের সদস্য পদে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। দেলদুয়ার থেকে দলের দুই জন সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। নেতা কর্মীরা আশা করেছিলো সংসদ সদস্য সবার অভিভাবক। তিনি নিরপেক্ষ থাকবেন। কিন্তু একজন প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোট নেয়ার জন্য প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. শাহীন (২১) নামের এক প্রাইভেটকার চালক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার সখীপুর-সাগরদীঘি সড়কের সাবেদেরচালা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, নিহত শাহীন সখীপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাফিজুর রহমানের ছেলে। দুর্ঘটনায় একই এলাকার সানোয়ার হোসেন নামের এক যুবক আহত হয়েছেন। আহত সানোয়ার হোসেনকে টাঙ্গাইল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার ভোরে প্রাইভেট কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেট কারের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই চালক শাহীনের মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রাইভেট কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অতিরিক্ত গতিতে একটি গাছকে ধাক্কা দিয়েছে। মরদেহ থানায় নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যমুনা নদীতে মা ইলিশ ধরার অপরাধে ১৪ জেলেকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় জেলেদের কাছ থেকে উদ্ধার করা এক লাখ মিটার জাল পুড়িয়ে দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী, নিকরাইল, গাবসারা ও অর্জুনা ইউনিয়নের যমুনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ১৪ জেলেকে ইলিশ ধরার জালসহ আটক করা হয়।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. ইশরাত জাহান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেন।
অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন – শহীদ, শাহ আলম, আব্দুল হাকিম, আলিমুদ্দিন, সাইফুল, হযরত আলী, সাইফুল, আলমগীর, জসিম, মুঞ্জর আলী, সুরুজ্জামান, মজিদ, আব্দুল্লাহ ও কামরুল। তারা সবাই উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য্য জানান, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে জেলেরা যমুনা নদীতে মা ইলিশ ধরছিল। খবর পেয়ে যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ইলিশ ধরার জালসহ ১৪ জেলেকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এ সময় এক লাখ মিটার উদ্ধার হওয়া জাল পুড়িয়ে দেয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
বুধবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের বেলতৈল এলাকায় একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছে।
নিহত গৃহবধূ ঘাটাইল উপজেলার মুরাদ গ্রামের মৃত মফিজ মিয়ার ছেলে পলাশ মিয়ার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (২৮) বলে জানিয়েছেন আজগানা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের সিকদার।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বেলতৈল এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে ৮ বছরের ছেলে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী থাকতো। সকালে ঘরের ভেতর কান্নার শব্দ পেয়ে বাড়ির মালিক দরজা খুলে দেখেন আনোয়ারা বেগমের মরদেহ পড়ে রয়েছে। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে হত্যার আসল রহস্য উদঘাটন করা যাবে। নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিক শিমুলের বাড়িতে অনশনরত অবস্থায় শ্লীলতাহানি ও অমানুষিক নিযার্তনের শিকার হয়েছেন প্রেমিকা।
স্থানীয়রা অসুস্থ প্রেমিকাকে উদ্ধার করে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেছেন। চাঞ্চল্যকর এমন ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সূতি নয়াপাড়া গ্রামে।
গত ২৯শে সেপ্টেম্বর থেকে বিয়ের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করে ওই তরুণী। সে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলায় কেশবপুর গ্রামের আফজাল হোসেনের মেয়ে ফৌজিয়া আক্তার তানিয়া।
জানা যায়, দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের আফজাল হোসেনের মেয়ে ফৌজিয়া আক্তার তানিয়ার সাথে গোপালপুর উপজেলার সূতি নয়াপাড়া গ্রামের সুরুজ মিয়ার পুত্র বরাতুল ইসলাম শিমুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরা উভয়ে গাজীপুরের একটি গার্মেন্টে চাকরি করতো। পরিনয়কে বিয়েতে রুপান্তরিত করার উদ্দেশ্যে বাবা-মা’র মতামত নেয়ার জন্য শিমুল গত ২৯শে সেপ্টেম্বর তানিয়াকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে। কিন্তু বাবা-মা রাজি না হওয়ায় তাদের বিয়ে হয়নি। তানিয়া শিমুলের বাড়িতে অবস্থান করতে থাকে। গত ১লা অক্টোবর গ্রামে একটি সালিশি বৈঠকে শিমুলকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে বাবা-মাসহ বাড়ি থেকে গাঢাকা দেয়।
কিন্তু তানিয়া বিয়ে না করে কর্মস্থলে ফিরে যেতে অস্বীকার করেন এবং ওই বাড়িতে অনশন শুরু করে।
সূতি নয়াপাড়া গ্রামের হাবেল উদ্দিন জানান, এক সপ্তাহ ধরে খেয়ে না খেয়ে তানিয়া নামের মেয়েটি ওই বাড়িতে অবস্থান করছিল। মঙ্গলবার ( ১১ অক্টোবর) সকাল নয়টায় গোপালপুর থানা পুলিশ তানিয়ার খোঁজখবর নেয়ার জন্য ওই বাড়িতে গেলে শিমুলের মামা এরশাদ আলী, মামাতো ভাই শাকিল, দুই খালা জল্পনা খাতুন ও আল্পনা খাতুন মিলে তানিয়াকে বেদম মারপিট করে এবং চুলের মুঠি ধরে ঘর থেকে বের করে আনে। এতে তার পরনের কাপড়ও ছিঁড়ে যায়।
পৌর কাউন্সিলর মো. শামছুল আলম জানান, তানিয়ার ডাকচিৎকারে এলাকাবাসীরা ছুটে আসে। পরে থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করেন। এ মারপিট ও নির্যাতনের ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভে ফুঁসে উঠে। পরে সহস্রাধিক গ্রামবাসি এ নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা আহত তানিয়াকে একটি রিকশাভ্যানে উঠিয়ে বিক্ষোভ মিছিলসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ঘেরাও করেন।
সূতি নয়াপাড়া গ্রামের রাসেল মিয়া অভিযোগ করেন, গোপালপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক ছেলের পক্ষ নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে নানাভাবে দেনদরবার করায় ছেলেপক্ষ আপোষ রফায় না গিয়ে উগ্র হয়ে উঠে। পরিণতিতে মঙ্গলবার এ নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। তিনি এ নির্যাতনের দায় এড়াতে পারেন না।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ভাইস চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক জানান, তিনি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ছেলেপক্ষ রাজি না হওয়ায় সমাধান হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ মল্লিক জানান, মেয়েটি প্রেমঘটিত কারণে ওই বাড়িতে আসেন। পরে মীমাংসার নামে কালক্ষেপণ করে। একপর্যায়ে মেয়েটির উপর অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনার কথা তিনি জানতে পারেন। নির্যাতনে কাবু মেয়েটিকে এলাকাবাসি অফিস প্রাঙ্গণে নিয়ে এলে তাকে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়। একজন নারীর উপর এধরনের নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। ভিক্টিমকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক তাপস সাহা জানান, ভিক্টিমের শরীরে নির্যাতনের অনেক চিহ্ন রয়েছে। তার শরীর খুবই দুর্বল। তবে আশঙ্কামুক্ত।
এদিকে এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারী নির্যাতন আইনে গোপালপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও ৬ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার সল্লা প্রামানিক মার্কেট প্রাঙ্গনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, যুবদল নেতা ফারুক হোসেন বাবু, জহিরুল, শহীদ,তপুসহ ৬ জন বিএনপি নেতাকর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার বিএনপির সম্মেলনের মঞ্চ করাকে কেন্দ্র করে এঘটনা ঘটে । কালিহাতী উপজেলার বিএনপির বুধবার ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলনের মঞ্চ তৈরির চলাকালে ঢাকা বিভাগ বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটো ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শুকুর মাহমুদ সমর্থকদের দ্বন্দ্বের জেরে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে কমপক্ষে ৬ জন আহত হন।
কালিহাতী থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন পালিয়ে যায়।