একতার কণ্ঠঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৪ আগস্ট) সকালে কলেজ অডিটোরিয়ামে ”জাতির পিতার নৃশংস হত্যাকান্ড : একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা”শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শহীদুজ্জামান মিয়ার সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মির্জাপুর আসনের এমপি খান আহমেদ শুভ।
মুখ্য আলোচক হিসেবে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন এফবিবিসিআই এর পরিচালক ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু নাসের।
মূল প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান প্রফেসর আএ শেখ আছরারুল হক চিশতি।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর বেল্লাল হোসেন ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। আলোচক ছিলেন প্রফেসর খন্দকার আরিফ মাহমুদ, খন্দকার আনিসুর রহমান ও মুহাম্মদ নূর-এ-আলম।
আরো বক্তব্য রাখেন, সখিপুর উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা: জাকিয়া ইসলাম যুথি, টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি শফিউল আলম মুকুল ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক তানভীরুল হিমেল প্রমূখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কলেজের শিক্ষিকা তাহমিনা জাহান।
সেমিনারে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরাগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের কাগমারীতে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ১৯৭৪ সালে কলেজটি বঙ্গবন্ধু জাতীয়করণ করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সিজান (১৫) নামের নবম শ্রেনীর এক ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৩ আগস্ট) ভোরে কালিহাতী পৌরসভার পূর্ব বেতডোবা নিজ বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সিজান পূর্ব বেতডোবা গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে ও কালিহাতী আর এস সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্র।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের ন্যায় শনিবার (১৩ আগস্ট) ভোরে সিজানের দাদা ফজরের নামাজ শেষে সিজানকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার জন্য ডাক দেয়। বার-বার ডাক-চিৎকারেও সাড়া না দেওয়ায় সিজানের দাদা দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখে সিজান মশারির কাপড় দিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আছে।
পরে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিজানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর শহরের ৬ নং ওয়ার্ডের প্যাড়াডাইস পাড়া সার্বজনীন শারদীয়া দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১২ আগস্ট) সন্ধায় প্যাড়াডাইস পাড়া খালপাড় রোডস্থ শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দিরে এই সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়।
প্যাড়াডাইস পাড়া সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু ভ্রমর চন্দ্র ঘোষ ঝোটনের সভাপতিত্বে সভায় বিগত বছরের পূজার আয়-ব্যায়ের হিসাব উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ গৌড়(গৌতম) ও
অভিষেক সাহা( জয়)।
সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এ বছর প্যারাডাইস পাড়ার দুর্গা পূজার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশসেরা শিল্পী দিয়ে বড় পরিসরে প্রতিমা নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া একই সাথে আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোকসজ্জা,আতোশ বাজীসহ বিভিন্ন জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
সভায় প্যাড়াডাইস পাড়া শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি ড. পিনাকী দে, স্বপন সাহা, সুবোধ পাল, জে সাহা জয়,উত্তম কুমার গৌড়, অনন্ত রায়, কেশব রায়, উৎপল পাল, পিন্টু সাহা, কৌশিক সাহা শঙ্কু বাদল বাগচী, প্রদীপ শংকর পাল সহ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর সারা দেশে পঞ্চমী পূজার মধ্যদিয়ে শারদীয়া দুর্গোৎসব শুরু হবে। ৫ অক্টোবর দশমী পূজার মধ্যদিয়ে শেষ হবে এ বছরের শারদীয়া দুর্গোৎসব।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে তিন দিন ব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন এবং বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধুর তিন শতাধিক আলোকচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে।
শুক্রবার (১২ আগস্ট) সকালে আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন ওই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম(ভিপি জোয়াহের) এমপি।
শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুঈদ হাসান তড়িৎ এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামছুল হক, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হাসান প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা খন্দকার কামরুল হাসান।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে সেতুর ওপর বাঁশের সাঁকো; জনদূর্ভোগ চরমে
রবিবার (১৪ আগস্ট) পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ‘হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী চলবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ছোট মৌশা-সিলিমপুর সড়কে খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। গ্রামীণ সড়কটি পাকা করার পর ওই পুরোনো সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়।
এ বছরের জুলাই মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো পুরোনো সেতু অপসারণের কাজই শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে উপজেলার ছোট মৌশা, কৈয়ামধু, সিলিমপুর, প্রতিমা বংকীসহ অন্তত আরো ১০ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে ছোট মৌশা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বাধ্য হয়ে পুরোনো ভাঙা ওই সেতুর ওপর বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে পারাপার হয় শিক্ষার্থীরা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্রামীণ সড়কের ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যর সেতুটির নির্মাণকাজ পেয়েছে মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের জুলাই মাসেই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঠিকাদার বলছেন, জানুয়ারিতে আকস্মিক বৃষ্টির কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
আরো পড়ুনঃ চাঞ্চল্যকর শিহাব হত্যা মামলা সিআইডিতে
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুরোনো সেতুর ভাঙা পিলারের ওপর বাঁশের সাঁকো। সাঁকোর নিচেই লম্বালম্বি দাঁড়ানো চিকন রড। পা পিছলে পড়ে গেলেই নিশ্চিত বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সেতুর পাশ দিয়ে বিকল্প সড়ক করার নিয়ম থাকলেও তা মানেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রয়োজনের তাগিদেই সেতুর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে পারাপার হন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।
ছোট মৌশা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, প্রথম কয়েক দিন পারাপারের সময় খুব ভয় লাগত। কিন্তু এই সড়ক ছাড়া স্কুলে যাওয়ার অন্য কোনো উপায় নেই। এখন ভয় লাগে না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, স্কুলের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই ওই সাঁকো পার হয়ে আসে।বাঁশের সাঁকোটি স্কুলের উদ্যোগে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নির্মাণ করা হয়েছে। তবে অভিভাবকেরা ছেলে-মেয়েকে স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময়ে সেতুটি শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আবদুল হালিম এখলাছ জানান, ‘শুরুতেই আকস্মিক বৃষ্টি হওয়ায় সেতুটির কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। পানিতে বিকল্প সড়কটিও তলিয়ে গেছে। সেতুর ওপর আমরা একটি সাঁকো বানিয়ে দিয়েছিলাম। আশা করছি, কাজের মেয়াদ বাড়ানো হবে। আর পানি চলে গেলেই নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।’
বুধবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সখীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সাখাওয়াত হোসেন জানান, ‘বিষয়টি আমি অবগত রয়েছি। মূলত কাজ শুরু করার পরপরই বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। আশা করছি, নভেম্বরের শুরুতেই সেতুটির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হবে।’
সংবাদ সূত্র-আজকের পত্রিকা আনলাইন
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর শিহাব হত্যা মামলা সিআইডিতে হন্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ হেডকোয়াটার্স এর এআইজি (ক্রাইম ইষ্ট) স্বাক্ষরিত (স্বারক নম্বর ১৮৮৬, ২১ জুলাই) চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা গেছে।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলিশ বক্সে বাসের ধাক্কা: বৃদ্ধা নিহত
এছাড়া ঘাটাইলের বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রায় আট লাখ টাকা ছিনতাই মামলাও সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জানা যায়, চলতি বছরের ২০ জুন টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকার সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের ছাত্রাবাসের সাত তলার বাথরুম থেকে শিহাব মিয়া নামক পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রথমে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। ২৬ জুন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে শিহাবকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ২৭ জুন শিহাবের মা আসমা আক্তার বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামী করে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
নিহত শিহাব মিয়া টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের বেরবাড়ি গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের ছেলে। সে ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করতো।

এ মামলার আসামি আবু বক্কর সিদ্দিক নামক এক শিক্ষককে প্রথমে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর বুধবার( ১০ আগষ্ট)হত্যা মামলার আসামি চার শিক্ষক আত্মসমর্পণের পর কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আত্মসমর্পন করা আসামীরা হলেন বিপ্লব চন্দ্র সরকার (৩০), আসলাম হোসেন আশরাফ (৩০), মাসুম মাসুদ রানা (৪০) ও বিজন কুমার সাহা (৪০)।
এদিকে ঘাটাইলে মোয়াজ্জেম হোসেন খান (৭০) নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা ছিনতাই হয়। চলতি বছরের ১৬ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনালী ব্যাংক থেকে ঋণের টাকা নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোয়াজ্জেম হোসেন খানের বাড়ি উপজেলার লাহিড়ীবাড়ি গ্রামে। তিনি ঘাটাইল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, এ ডাকাতির মামলাটি আমরা তদন্ত করছি। এ ধরনের নির্দেশনা হয়ে থাকলে সিআইডি তদন্ত করবে।
নিহত শিহাবের বাবা প্রবাসী ইলিয়াস হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আমরা চেয়েছিলাম মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এ তদন্ত হোক। সিআইডিতে হস্তান্তর করাতেও আমরা খুশি। আমি আমার একমাত্র ছেলে শিহাব হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। মামলাটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, শিহাব হত্যা মামলায় পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি নিবিড় তদন্তের জন্য মামলা ২ টি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলিশ বক্সে বাসের ধাক্কায় পথচারী এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার(১১ আগস্ট) বিকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে এই ঘটনা ঘটে।
আরো পড়ুনঃ চাঞ্চল্যকর শিহাব হত্যা মামলা সিআইডিতে
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই জন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত রাবেয়া খাতুন (৭০) উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের পাঠন্দ দ্বিমুখা গ্রামের মৃত রবি শেখের স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে জামালপুরগামী ক্রাউন ডিলাক্স পরিবহনের যাত্রীবাহি একটি বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পশ্চিম পাশে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের আগে একটি রিকশা, ট্রাক ও পিকআপকে ধাক্কা দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলে এক পথচারী বৃদ্ধা নিহত হয় ও আহত হয় দুজন। আহতদের মধ্যে রিক্সাচালক শহিদুলের অবস্থা গুরুতর। তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ বাবুল আক্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, নিহতের লাশ ফাড়িতে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে প্রায় ১৪ বছর পর জেলা বিএনপি বিশাল র্যালি ও সমাবেশ করেছে। দীর্ঘ ১৪ বছরের মধ্যে এত বড় র্যালির আয়োজন বা সমাবেশ জেলা বিএনপি করতে পারেনি। বিভিন্ন সময় স্বল্প পরিসরে শহরে জেলা বিএনপি মিছিল-সমাবেশের আয়োজন করলেও পুলিশি বাঁধায় তা পন্ড হয়ে গেছে।
বুধবার (১০ আগস্ট) দুপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে শহরে এ বিশাল আনন্দ র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিএনপির সহস্রাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
এদিকে, টাঙ্গাইল সদর থানা ও শহর বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়ায় বুধবার(১০ আগস্ট) দুপুরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার দুপুরে দলের দুই আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে আনন্দ মিছিল শুরু হয়ে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে সামনে পৌঁছালে পুলিশ বাঁধা দেয়। পরে সেখানেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করা হয়।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি কমিটির আহ্বায়ক আজগর আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক হাসানুজ্জামিল শাহীন, যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রউফ, শহর বিএনপির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান আলীম, সদস্য সচিব ইজাজুল হক সবুজ, শহর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক শাহীন আকন্দ, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক হাদিউজ্জামান সোহেল প্রমুখ।
এ সময় জেলা বিএনপির এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সাংবাদিকদের মাঝে করোনাকালীন সময়ে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে প্রণোদনার(দ্বিতীয় পর্যায়) চেক বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (১০ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ওই চেক সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক(সার্বিক) আমনুল ইসলামের সভাপতিত্বে চেক প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, সহকারী কমিশনার দ্বীপ ভৌমিক প্রমুখ।
এ সময় টাঙ্গাইল সদর ও মির্জাপুর উপজেলার ২২ জন সাংবাদিককে করোনাকালীন প্রণোদনার ১০ হাজার টাকা মূল্যমানের চেক প্রদান করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বহুল আলোচিত স্কুল ছাত্র শিহাব হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত চার আসামি আত্মসমর্পণ করেছেন।
বুধবার (১০ আগস্ট) বিকালে টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মাসুদ পারভেজ এর আদালতে তারা আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন।
পরে বিচারক উভয় পক্ষের আইনজীবীর যুক্তিতর্ক শোনার পর বিজ্ঞ বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
বাদি পক্ষের আইনজীবী মো. রাসেল রানা আত্মসমর্পণ ও জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আত্মসমর্পণকারী আসামিরা হলেন- মামলার ২ নং আসামি বিপ্লব (৩০), ৩ নং আসামি আশরাফ (৩০), ৪ নং আসামি মাসুম (৪০) ও ৬ নং আসামি বিজন (৪০)।
আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট শরিফুল ইসলাম রিপন।
আত্মসর্মপণের আগে মামলার এজাহারভূক্ত আসামি বিজন জানান, আমরা এতোদিন নিয়মিত স্কুলে গিয়েছি, ক্লাস নিয়েছি।
তিনি আরো জানান, পরে গত ১ আগস্ট উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নেই। বুধবার (১০ আগস্ট) টাঙ্গাইলে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছি।
নিহত শিহাবের বাবা ইলিয়াস হোসেন বলেন, পুলিশ সৃষ্টির রিপনের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে, তাই আর কোন আসামি গ্রেপ্তার করে নাই। আল্লাহর ইশারায় তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুন শহরের সুপারি বাগান এলাকায় সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের আবাসিক ভবনের সাত তলা থেকে শিহাব মিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়।
শুরু থেকেই শিশুটিকে হত্যার অভিযোগ তুলে আসছিল তার পরিবার। এঘটনায় প্রাথমিক পর্যায়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পর রবিবার বিকালে র্যাব সাতজন শিক্ষক ও ডিবি দুইজন শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
পরে র্যাব তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনও তথ্য না পাওয়ায় তাদের সাতজনকে ছেড়ে দেয়।
পরে ২৭ জুন নিহত শিহাবের মা বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় ৬ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হচ্ছেন- সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের আবাসিক শিক্ষক আবু বক্কর, বিপ্লব, আশরাফ, মাসুদ, মতিন ও বিজন।
পুলিশ মামলার আগে শিক্ষক নাসির ও আবু বক্করকে আটক করলেও মামলায় নাসিরের নাম না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করছিল দশ বছরের শিশু ছেলে মাইনুদ্দিন। তার মা ও বড় ভাই গিয়েছিল বাজারে। এর ফাঁকে গোসল শেষে ঘরের-দরজা জানালা বন্ধ করে রুমের ভেতরে ধর্ন্নার সাথে গলায় রশি বেঁধে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেন বাবা।
মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) বিকালে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের সারপলশিয়া গ্রামে আব্দুল মজিদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সেনাবাহিনীর সিভিল সদস্যের নাম ছাইদুল ইসলাম (৩৭)। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদ নগর উপজেলার পীর কাশিমপুর। সে মৃত বশির আহমেদের ছেলে।
তিনি উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু ক্যান্টনমেন্টের ১১ আরই ব্যাটালিয়নের জাহাজ স্টাফ ও সিভিল ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সারপলিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদ মিয়ার বাসা ভাড়া নিয়ে স্ত্রী ও দুই ছেলে সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজার থেকে আসা সেনাবাহিনীর সিভিল সদস্যের স্ত্রী ও তার বড় ছেলে হাসান বাড়িতে এসে দেখতে পায় তার ছোট ভাই মাইনুদ্দিন কান্না করছে। এ সময় ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ দেখে তার বাবাকে ডাকা-ডাকি করতে থাকে।
এক পর্যায়ে জানালার ফাঁক দিয়ে দেখে হাসানের বাবা ছাইদুল ইসলাম ঘরের ধন্নার সাথে ফাঁসিতে ঝুলে আছেন। পরে ডাক-চিৎকার করলে আশপাশের লোকজনকে ছুটে আসে এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশকে খবর দেয়।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সেনাবাহিনীর সিভিল সদস্য ও জাহাজের স্টাফ ছাইদুল ইসলাম প্রায় ৩ বছর ধরে পাইলসের সমস্যায় ভুগছিলেন। হয়তো বা সেই কারণে আত্মহত্যা করতে পারেন। তবে, পারিবারিকভাবে কোন কলহ বা দ্বন্দ্ব ছিল না।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদুল ইসলাত জানান, আত্মহত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসা হয়েছে। কি কারণে আত্মহত্যা করেছেন তা জানা যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে রান্না ঘরে চুলায় ভাতের পাতিল রেখেই গলায় ফাঁস দিয়ে মোছা: রেনু বেগম (৪৯) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের ভারই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মোছা: রেনু বেগম একই গ্রামের রহিজ উদ্দিনের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানায়, রেনু বেগম ৪ বছর ধরে মানুষিক রোগে ভুগছিলেন। সোমবার (৮ আগস্ট) রহিজের বোনের মৃত্যুতে জানাজায় গিয়েছিল রহিজ ও তার দুই ছেলে এবং মেয়ে। কিন্তু রহিজের স্ত্রী না গিয়ে একাই বাড়িতে ছিলেন।পরে মঙ্গলবার সকালে ঘরের ধণ্নার সাথে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।
নিহতের মা জানান, মেয়েটি মানুষিকভাবে ভারসাম্যহীন রোগী ছিল। মাঝে মধ্যে নিজের শরীরে নিজেই আঘাত করতো।
তিনি আরো জানান, এ নিয়ে চিকিৎসা করাতে চাইলেও সে চিকিৎসা করতে চাইতেন না। মঙ্গলবার সকালে রান্না ঘরে ভাত রান্না করছিল। একপর্যায়ে চুলায় ভাতের পাতিল রেখেই পরিবারের লোকজনদের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে রেনু।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি আইনিভাবে প্রক্রিয়াধীন।