একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর নলুয়া বাছেদ খান উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে স্কুলের নিরাপত্তাকর্মী জোরপূর্বক ‘টিকটক’ বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্তসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে শিক্ষার্থী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মী আরিফ মিয়া তার পরিবারের সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর ধরে নলুয়া বাছেদ খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। এরই সূত্র ধরে আরিফ বছরখানেক আগে এই স্কুলে নিরাপত্তাকর্মী পদে চাকরি পান। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে আসছেন। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীরা এর আগে প্রধান শিক্ষককে অবহিত করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ১৪ আগস্ট নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সঙ্গে স্কুল মাঠে টিকটক করাতে বাধ্য করে এবং তার ফেসবুক পেজে তা আপলোড করে। মুহূর্তে টিকটকটি ভাইরাল হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বরাবর শিক্ষার্থীরা অভিযোগ দিলেও তিনি তা আমলে নেননি। পরে স্কুলের সব শিক্ষার্থী উপজেলা নির্বাহী বরাবর অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয় এবং অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মীকে চাকরিচ্যুতসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় একাধিক অভিভাবক জানান, স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীর উত্ত্যক্তের সব দায় প্রধান শিক্ষকের। দ্রুত এই নিরাপত্তাকর্মীকে চাকরিচ্যুত করাসহ সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. তোফাজ্জল হোসেন তার কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি বলে দাবি করেন।
এদিকে উপজেলার নির্বাহী অফিসার ফারজানা আলম জানান, স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাণিজ্যিক এলাকা করটিয়া হাটে ভিটি( পজিশন দোকান) পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে তিন প্রতারকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২ সিপিসি-,৩টাঙ্গাইল।
বুধবার(২৪ আগস্ট) রাতে করটিয়া হাট বাইপাস এলাকায় আনোয়ার ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মো. এরশাদুর রহমান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ঝড়কা(ভামীকাত্রা) গ্রামের মৃত নিতাই পালের ছেলে মনোরঞ্জন পাল(৩৮), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার অলোয়া গ্রামের রূপচানের ছেলে মো. হাসেন আলী, টাঙ্গাইল পৌর সভার আকুর-টাকুর পাড়া এলাকার মৃত দারোগ আলীর ছেলে মো. ফজলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার(২৫ আগস্ট) সকালে র্যাব-১২ এর প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) টাঙ্গাইল অফিসের একজন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লোকজনকে করটিয়া কাপড়ের হাটের ভিটি (পজিশন দোকান) পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
খবর পেয়ে র্যাব-১২ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল’র কোম্পানী কমান্ডার মো. আনিসুজ্জামান ও স্কোয়াড কমান্ডার মো. এরশাদুর রহমান’র নেতৃত্বে র্যাবের একটি অভিযানিক দল বুধবার(২৪ আগস্ট) রাতে করটিয়া হাট বাইপাস এলাকা থেকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ঝড়কা(ভামীকাত্রা) গ্রামের মৃত নিতাই পালের ছেলে মনোরঞ্জন পাল(৩৮), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার অলোয়া গ্রামের রূপচানের ছেলে মো. হাসেন আলী, টাঙ্গাইল পৌর সভার আকুর-টাকুর পাড়া এলাকার মৃত দারোগ আলীর ছেলে মো. ফজলুর রহমান নামের তিন প্রতারককে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় গ্রেপ্তারকৃত তিন প্রতারকের কাছ থেকে ১টি শপিং ব্যাগের ভিতর হতে ডুপ্লিকেট কার্বন রশিদ বহি, দোকান বরাদ্ধের (ডি. সি, আর) এর ৭২টি জাল কপি, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ টাঙ্গাইলের বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তার নকল/জাল দাপ্তরিক সীল ১১টি এবং ০৩টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারকরা করটিয়া হাটে সরকারী খাস জমিতে ভিটি (পজিশন দোকান) এর জন্য যে সকল লোকজন আসত তাদের প্রথমে সহকারী কমিশনার (ভূমি), টাঙ্গাইল’র পরিচয় দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে তাদের নিকট হতে লক্ষ লক্ষ টাকার দামের জমির ভিটি(পজিশন দোকান) সূলভ মূল্যে নকল সীল ও স্বাক্ষর করা ভুয়া ডি,সি,আর দিয়ে প্রতারণার কথা স্বীকার করে।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রতারকদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে ধর্ষণ মামলায় অরণখোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন নকরেককে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে তিনি ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে পাঁচ বছর ধরে এক তরুণীকে ধর্ষণ করে আসছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) মামুনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমানের আদালতে ভুক্তভোগীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
এর আগে, বুধবার (২৪ আগষ্ট)ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মধুপর থানায় মামলা করেন। এতে আসামি করা হয় উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন নকরেককে। রাতেই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, মামুন নকরেকের সঙ্গে ওই তরুণীর সঙ্গে পাঁচ বছর আগে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে অজান্তেই সেই দৃশ্য ধারণ করেন মামুন। এরপর থেকে ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পাঁচ বছর ধরে ওই নারীকে ধর্ষণ করে আসছেন তিনি। পরে ওই নারী অন্তঃসত্তা হয়ে পড়লে তাকে হত্যা এবং ভিডিও প্রকাশ করার হুমকি দেন মামুন।
সম্প্রতি মেয়ের শরীরের গড়ন দেখে সন্দেহ হয় ভুক্তভোগীর মায়ের। এরপর বিষয়টি জানার জন্য মেয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন মা।
মেয়েটি মায়ের চাপে বাধ্য হয়ে হত্যার হুমকি উপেক্ষা করে মুখ খুলেন।
ভুক্তভোগীর মা জানান, অনেক কষ্টে দিনমজুরি করে টাকা উপার্জন করে মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করছি। বর্তমানে মেয়েটি অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার শরীরের গড়নে পরিবর্তন দেখে মেয়েকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করলে মেয়েটি মুখ খোলে। বর্তমানে মেয়েটি ছয় মাসের অন্তঃসত্তা। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে অনেকেই মীমাংসার চেষ্টা করেছে। এরপর আইনের দ্বারস্থ হন তিনি।
ভুক্তভোগী ওই তরুণী বলেন, ‘মামুন পাঁচ বছর আগে আমাকে বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে একদিন আমাদের বাড়িতে কেউ ছিল না। ওই দিন সে এসে আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করেছে। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে। ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এই ভাবে জিম্মি করে আমাকে মাঝে মধ্যেই ধর্ষণ করত। কাউকে জানালে আমাকে হত্যা করবে বলেও হুমকি দিত মামুন।
এ বিষয়ে অরণখোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফিলিপ মৃ জানান, মামুন নকরেক একই ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্বে আছেন। তিনি আগে দিনমজুর থাকলেও বর্তমানে তিনি নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন। তার বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ শুনেছি। সত্যতা জানি না।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মধুপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম জানান,তরুণী ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার মামুন নকরেককে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মামুন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তার মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্কুল ও কলেজের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে রেস্টুরেন্টে আড্ডা দেওয়ার অভিযোগে ১৩ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে পৌর এলাকার নিশ্চিন্তপুর ও বাঁশবাড়ী রেস্টুরেন্টে অড্ডা দেওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়।
পরে আটককৃত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, বখাটেপনা, কিশোর অপরাধ, ইভ টিজিং প্রতিরোধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলছে। এ সময় ক্লাস ফাঁকি দিয়ে রেস্টুরেন্টে আড্ডা দেওয়ায় ১৩ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
তিনি আরো জানান, পরে অভিভাবকদের মুচলেকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কিশোর অপরাধ, ইভ টিজিং নির্মূল করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ জ্বালানি তেল-গ্যাস সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি, নজিরবিহীন লোডশেডিং, সরকারে লুটপাট-দুর্নীতি এবং হামলা-মামলার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিএনপির একাংশের পথসভায় অতর্কিত হামলায় ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদেরকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বুধবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর শহরের সাবালিয়া এলাকায় সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপির একাংশের বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। হামলার কারণে ওই বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভাটি পন্ড হয়ে যায়।

হামলায় আহতরা হলেন- জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আশরাফ পাহেলী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালেহ মোহাম্মদ সাফি ইথেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মমিনুল হক খান নিক্সন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সম্পাদক উজ্জল হোসেন, জেলা যুবদল নেতা কাজী শামসুল আজিজ লিন্টু, মো. রিপন ইসলাম, আরিফ বিল্লাহ্, কামাল হোসেন, দাইন্যা ইউনিয়ন যুবদল নেতা সাইফুল ও মামুন। এদের মধ্যে সাইফুল ও মামুনের অবস্থা গুরুতর।

পথসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন- জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছাইদুল হক ছাদু। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সহ-সভাপতি সাদেকুল আলম খোকা, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক আনিছুর রহমান আনিছ প্রমুখ।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আশরাফ পাহেলী অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ মিছিল শেষে পথসভায় সাবালিয়ার স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু জানান, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে আইনগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ বিষয়ে ১৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মিতুলের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও কল রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশাররফ হোসেন জানান, শহরের সাবালিয়া এলাকায় সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপির পথসভায় হামলার একটি ঘটনা ঘটেছে। কে বা কারা হামলা চালিয়েছে তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে গামছা দিয়ে খেলতে গিয়ে গলায় ফাঁস লেগে প্রাণ গেলো ৭ বছরের শিশু ফাতিমার।
মঙ্গলবার (২৩ আগষ্ট) সন্ধ্যায় মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের দড়িপাড়া নিকলা গ্রামে।
ফাতিমা ওই গ্রামের দুলাল হোসেনের মেয়ে। সে স্থানীয় দড়িপাড়া নিকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফাতিমা ঘরের মধ্যে গামছা দিয়ে খেলছিল। এ সময় শিশুটির মা হাওয়া বেগম রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পরে তিনি ঘরে গিয়ে দেখেন তার মেয়ে গামছাসহ ঝুলে রয়েছে। সেখান থেকে দ্রুত নামিয়ে শিশুটিকে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।তিন বোনের মধ্যে ফাতিমা ছিল সবার ছোট। তার বাবা দুলাল হোসেন স্থানীয় ইটভাটার শ্রমিক। এ ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার করে মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ওমর ফারুক (১৪) নামে অষ্টম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট ) সকালে উপজেলার বাগুটিয়া- সল্লা আঞ্চলিক সড়কের আনালিয়াবাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত স্কুলছাত্র আনালিয়াবাড়ী গ্রামের আব্দুল গফুর মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় আনালিয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।
স্থানীয়রা জানায়, ওমর ফারুক বাড়ী হতে অটোরিকশা যোগে নরদহী বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আনালিয়াবাড়ী এলাকায় বিপরীতমুখী যাত্রীবাহী অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ওমর ফারুক গুরুত্বর আহত হয়। এ সময় স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে ওমর ফারুক
মারা যায়।
উপজেলা সল্লা ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হুমায়ুন আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, পরিবারটি অসহায় হওয়ায় আইনি ঝামেলা (ময়নাতদন্ত) এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি অবগত না করেই নিহতের দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কালিহাতী থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান এ ঘটনার বিষয়ে কেউ থানায় জানায়নি বলে জানিয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়কের নাগরপুর উপজেলার বেকড়া ইউনিয়নের ভালকুটিয়া গ্রামে নয়নদী শাখা খালের ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজের পাটাতন ভেঙে সরিষাভর্তি একটি ট্রাক আটকে গেছে।
মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।
অটোরিকশাচালক রফিক, সুলতানসহ পথচারীদের অভিযোগ, ব্রিজের স্টিলের তৈরি পাটাতন ক্ষয়ে গেছে। মোটরসাইকেলসহ হালকা যানবাহন চলার সময় প্রায়ই চাকা পিছলে দুর্ঘটনার শিকার হয়। ভারী যানবাহন উঠলে ব্রিজটি কাঁপতে থাকে। ভারী যানবাহন চলাচল নিষেধ থাকলেও তা উপেক্ষা করে প্রতিদিন কয়েকশ যানবাহন চলাচল করছে।
তারা আরও জানান, চলতি বছর কয়েকবার বেইলি ব্রিজটি মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু কাজের মান ভালো না হওয়ায় প্রায়ই ব্রিজে দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষ উপায় না পেয়ে ব্রিজটি ব্যবহার করছে।
ধুবুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলতাফ হোসেন জানান, ‘বেকড়া ও ধুবুরিয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্রিজটি নির্মিত হয়েছে। আমারই পাশের গ্রাম ওটি। আজ সকালে সরিষাভর্তি একটি ট্রাক পারাপারের সময় ব্রিজের পাটাতন ভেঙে যায়। এতে ট্রাকটি আটকে গেছে এবং যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন এসেছেন।’
নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদুজ্জামান জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে মেরামতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। সাময়িকভাবে মানুষ চলাচলের উপযোগী করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করেও টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিউল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গরু চুরি করে নিয়ে পালানোর সময় গরুসহ একটি সিএনজি ও চার চোরকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয়রা।
সোমবার (২২ আগস্ট) বিকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের আবেদআলী গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।
আটককৃতরা হলেন- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পাথুলিয়া ভবানীপুর গ্রামের ওয়াসীম আলীর স্ত্রী নূরজাহান বেগম (৩৮), বড় দিঘুলিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনর স্ত্রী সালমা বেগম (৪০), সুরুজ বড়রিয়া গ্রামের হাকিম মন্ডলের ছেলে শরীফ মন্ডল (৩২) ও তারুটিয়া গ্রামের নয়ন খানের ছেলে জহিরুল খান (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার আবেদআলী গ্রামের আলাল উদ্দিনের একটি ষাড় বাছুর সড়কের পাশে বাড়ির আঙিনায় বাধা ছিল। একজন মহিলা বাছুরটির বাধন খুলে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তোলে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসীর নজরে আসে। তখন স্থানীয় জনতা সিএনজি সহ চার গরু চোরকে আটক করে। বিক্ষুব্ধ জনতা মারধর শুরু করলে ধৃতরা গরু চুরির কথা স্বীকার করেন । পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গরু সহ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘাটাইল সাগরদিঘি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মুহাম্মদ দুলাল আকন্দ জানান, আটকৃত চোরদের জিজ্ঞাসা চলছে, মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বিয়ের ২৩ দিনের মাথায় ২০ বছরের এক যুবতী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
রবিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কোনাবাড়ি এলাকায় বাবার বাড়িতে ঘরের ধর্নার সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।
নিহত গৃহবধূ আশা আক্তার (২০) ওই গ্রামের আরশেদ আলীর মেয়ে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ দিন আগে উপজেলা সদরের দুয়াজানি গ্রামের মো. সজীব আহাম্মেদের সাথে বিয়ে হয়েছিল আশা আক্তারের । সম্প্রতি আশা তার বাবার বাড়িতে আসেন।
রবিবার দুপুরে আশার ভাই তাকে খাওয়ার জন্য ডাকতে গেলে আশার ঘরটি ভিতর থেকে বন্ধ পায়। ডাকাডাকি করে কোন সাড়া না পেয়ে এক পর্যায়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ধর্নার সাথে আশাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।
পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নাগরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয় নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর(ইউপি) মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ১১ সদস্যকে আটক করেছে থানা পুলিশ।সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রবিবার (২১ আগস্ট) বিকালে পৌর এলাকার মোখতার ফোয়ারা চত্বর, হাসপাতাল গেট, সখীপুর পিএম পাইলট মডেল স্কুল এন্ড কলেজসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে কিশোর গ্যাংয়ের ওই ১১ বখাটে ও উত্যক্তকারীকে আটক করা হয়।
আটককৃতদের বাড়ি পৌর এলাকা ও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
সখিপুর থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মনিরুজ্জামান জানান, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে স্কুল- কলেজের আশপাশ থেকে ছাত্রীদের উত্যক্তকারী ওই বখাটে ১১ কিশোরকে আটক করা হয়েছে।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম জানান, আটককৃতদের অভিভাবক ডেকে এনে মুসলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মামুনুর রশিদঃ আমার বাড়ি টাঙ্গাইল হলেও জন্মেছি টাঙ্গাইল থেকে দশ কিলোমিটার দূরে, বলতে গেলে তখনকার এক অজপাড়া গাঁয়ে। জ্ঞান হওয়ার পর কখন টাঙ্গাইল শহরে এসেছি, তা আজ আর মনে পড়ে না। তবে টাঙ্গাইলই আমার প্রথম দেখা শহর, প্রিয় শহর।
সেই ঘ্যাগের দালান, যার নিচতলায় ছিল একটা ছোট্ট রেস্টুরেন্ট- নাম নিরালা। যে কারণে বলা হতো নিরালার মোড়। শুনেছিলাম শহরের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এখানে ভাস্কর্য হবে এবং মনোরম কিছু স্থাপনা হবে। এখন শোনা যাচ্ছে, সেই জায়গায় পৌরসভার উদ্যোগে ১৪ তলা শপিং কমপ্লেক্স হবে।
শহরময় সরু পাকা পথ এবং শহরের প্রধান পথটির সমান্তরালে একটি খাল। সারা বছর খালটায় পানি থাকত। গ্রাম থেকে লোকজন নৌকা করে যাওয়া-আসা করত। খালটি দীর্ঘদিন হলো বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে। বড় একটা দালান ছিল ঘ্যাগের দালান। সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা ছিল, ‘আর চিন্তা নাই ঘ্যাগের ওষুধ পাওয়া গেছে’। দালানের দক্ষিণ দিকে কিছু দোকানপাট এবং রাস্তাটি চলে গেছে ছয়আনি বাজারের দিকে। এটাই ছিল তখন একমাত্র বাজার।
সন্ধ্যার পর শহরটি নৈঃশব্দে ভরে যেত। রাস্তার দু’পাশে গন্ধরাজ, কামিনী ফুলের ঘ্রাণ ভেসে আসত। সেই সঙ্গে বাড়িগুলো থেকে হারমোনিয়ামের সঙ্গে গলা সাধার শব্দ পাওয়া যেত। ঘ্যাগের দালান থেকে একটু কাছেই প্রধান সড়কে ছিল করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাবের অফিস, অফিসসংলগ্ন মঞ্চ। মঞ্চটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল সিনেমা হলকে। সিনেমা হলের নাম কালি সিনেমা। এই ছিল পঞ্চাশের দশকের টাঙ্গাইল।
১৯৬৭ সালে টাঙ্গাইল জেলা হয়ে গেল। কলেবর বাড়তে থাকল চারদিকে। নতুন জেলা সদর নির্মিত হলো। শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে একটু দূরে, সেইসঙ্গে দোকানপাট বাড়ারও প্রয়োজন দেখা দিল। এর মধ্যেই গড়ে উঠল টাঙ্গাইলের নিউমার্কেট। একটা ছোট্ট জেলা হওয়ার পরও টাঙ্গাইলের একটা স্বকীয় বৈশিষ্ট্য ছিল। রাজনীতি, সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল টাঙ্গাইল অনেক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। এই শহরে বসন্ত উৎসব উদযাপন হতো। সেই বসন্ত উৎসবে নাচ-গান ছাড়াও গীতিনাট্য ও নৃত্যনাট্যও স্থান পেত।
করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব ছাড়াও বেশ কয়েকটি নাট্যদলও গড়ে উঠেছিল, তারাও নাটক করত এবং টাঙ্গাইলের নাট্যামোদী জনগণের কাছে খুবই ভালোবাসার পাত্র ছিল। এই শহরে সেতার, বেহালা, তবলাসহ উচ্চাঙ্গ সংগীতের বেশ কিছু গায়ক-গায়িকার সমাবেশ ঘটেছিল। আবার দুর্দান্ত সব অভিনয়শিল্পী নাটককে জীবন্ত করে রাখতেন।

এই শহর ছিল আধুনিক কবিদের পীঠস্থান। যেহেতু ঢাকার সঙ্গে ১৯৬২ সাল থেকেই বাস যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছিল, মাত্র দুই টাকা ভাড়ায় ঢাকায় আসা যেত। কবিরা প্রায়ই টাঙ্গাইলে এসে আনন্দময়ী কেবিনে কবিতার আসর বসিয়ে ঘোষণা করতেন, কবিতাই পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধকে ঠেকাতে। সেই রকম একটা আবহের মধ্যে টাঙ্গাইল শহরটি শাড়ি, চমচম এবং মধুপুরের গজারির বন নিয়ে খুব গর্বের সঙ্গে দিন কাটাচ্ছিল।
মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসের সঙ্গে টাঙ্গাইলের লোকজন যুদ্ধ করেছে, কাদের সিদ্দিকী বঙ্গবীর হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে তাঁর সমর্পিত অস্ত্রকে তুলে নিয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধের পর টাঙ্গাইল কখনও উজ্জ্বল, কখনও বিষণ্ণ হয়েছে। সামরিক শাসনের জাঁতাকল টাঙ্গাইলের ওপর দিয়ে গেছে। তবুও টাঙ্গাইল একটা রাজনীতি ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বহাল থেকেছে।
এর মধ্যে একটা নতুন সংস্কৃতি টাঙ্গাইলকে গ্রাস করল। সেটি হচ্ছে দোকান সংস্কৃতি। রাস্তার দুই পাশে এবং ফাঁকা জায়গাগুলোতে কোথাও এতটুকু জায়গা নেই। শুধু দোকান আর দোকান। কোথাও এই দোকানগুলো মহিমান্বিত হয়েছে সুপারমার্কেট হিসেবে। দোকানগুলোর পেছনে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ আছে বটে। কিন্তু প্রধান উদ্যোক্তা পৌরসভা প্রথম আঘাত হানে খালটির ওপর। দৃষ্টিনন্দন ও পয়ঃপ্রণালির কাজ করা খালটির ওপর একের পর এক সুপারমার্কেট গড়ে ওঠে। এটি শহরের প্রাকৃতিক ভারসাম্যের ওপর নির্মম আঘাত।

পৌরসভার মেয়র যিনি থাকেন তিনি দোকান করার একটা পরিকল্পনা নিয়ে নামেন। প্রচুর দোকান হয়, সেগুলো বিলি-বণ্টন প্রক্রিয়ায় প্রচুর টাকা-পয়সার লেনদেন হয় এবং মেয়র হিসেবে কেউ বিদায় নিলে অন্য মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরপরই আবার নতুন জায়গা খুঁজতে শুরু করেন।
শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়, পৌরসভার অন্যান্য কার্যক্রম থিতিয়ে পড়ে। কিন্তু দোকান সংস্কৃতি সবকিছুকে ছাপিয়ে শহরকে নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে রিকশা শহরের একমাত্র অভ্যন্তরীণ পরিবহন কিন্তু তার জায়গা দখল করে ফেলে চীন থেকে আমদানীকৃত বিদ্যুৎচালিত ইজিবাইক। শত শত ইজিবাইক শহরটাকে গ্রাস করে ফেলেছে। এই ইজিবাইকের লাইসেন্সদাতা হচ্ছে পৌরসভা।পৌরসভা রাস্তার ক্ষমতা বিবেচনা না করে একের পর এক ইজিবাইকের লাইসেন্স দিয়ে থাকে।
একবার এক মেয়র ইজিবাইক চালানোর জন্য সময় ভাগ করে দিয়েছিলেন। সেই সময় ভাগ এখন আর নেই। দোকান সংস্কৃতি শহরটাকে এমনভাবে গ্রাস করেছে, সেই নিঝুম-নিরালা পাবলিক লাইব্রেরিটি নিচতলা থেকে ওপরের তলায় উঠেছে। নিচে আবারও দোকানপাট।
সেই টিনের ঘরের করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব আর নেই। দালান উঠেছে, সঙ্গে একটি মঞ্চ ও সিনেমা হল ছিল, তা উঠে গিয়ে সেখানেও এসেছে অসংখ্য দোকান।
সেই ঘ্যাগের দালান, যার নিচতলায় ছিল একটা ছোট্ট রেস্টুরেন্ট- নাম নিরালা। যে কারণে বলা হতো নিরালার মোড়। শুনেছিলাম শহরের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এখানে ভাস্কর্য হবে এবং মনোরম কিছু স্থাপনা হবে। এখন শোনা যাচ্ছে, সেই জায়গায় পৌরসভার উদ্যোগে ১৪ তলা শপিং কমপ্লেক্স হবে।
নিরালার মোড় থেকে জেলা শহরের দিকে যেতে রাস্তার দু’পাশে আবাসিক গৃহগুলো এখন পৃথিবীর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমে পরিণত হয়েছে। শহরে নিশ্চিন্তে আনন্দদায়ক কোনো ভ্রমণ এখন কল্পনা করা যায় না। ইজিবাইক, রিকশা, প্রাইভেটকার, ট্রাক এসবের ভিড় এত প্রবল যে, কোনো পথই আর পথিকের নেই। নিরালার মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে থানা ও শান্তিকুঞ্জ কাচারিতে যেতেও অসংখ্য দোকান। পশ্চিম দিকে গোরস্তান এবং টাঙ্গাইলের শেষ সীমানা একটা ব্রিজ পর্যন্ত ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার জ্যামে কখনও আটকে থাকতে হয়। পথ সম্প্রসারণেরও কোনো জায়গা নেই বা পৌরসভার পরিকল্পনাও নেই।
প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইল শহরকে সাংস্কৃতিক নগরী বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই উদ্দেশ্যে কিছু কাজকর্মও করা হয়েছিল। সাংস্কৃতিক নগরী করতে হলে বর্তমানের এই শহর কাঠামোকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করতে হবে। সেই পরিবর্তনের লক্ষ্যে পৌরসভার ঔদাসীন্য চরম। একমাত্র জেলা সদরটি এখনও তার লেক, পার্ক ও রাস্তা নিয়ে সুদৃশ্য আছে। কারণ সেখানে পৌরসভার নিয়ন্ত্রণ নেই। শহরের যতটুকু এলাকা পৌরসভার অধীনে, সেখানেই মেয়র দোকান সংস্কৃতি গড়ে তুলছেন। শহরের প্রধান রাস্তার পাশাপাশি বিভিন্ন অলিগলিতে যে শৃঙ্খলা আনা প্রয়োজন, তা সম্পূর্ণভাবে মেয়রের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এলাকার কাউন্সিলররা অসহায় বোধ করেন।

যেহেতু টাঙ্গাইল রাজনীতি ও সংস্কৃতির একদা পীঠস্থান ছিল এবং বর্তমানেও টাঙ্গাইল নানাভাবে সারাদেশকে আকর্ষণ করে, তাই টাঙ্গাইলের নগরবাসী পৌরসভার কাছ থেকে কিছু ন্যায্য দাবি করতেই পারেন, যার মধ্যে প্রধান শহরকে দোকান সংস্কৃতির হাত থেকে বাঁচানো এবং শহরের অভ্যন্তরীণ পরিবহনে শৃঙ্খলা নিয়ে আসা।
আমরা যাঁরা টাঙ্গাইলকে সংস্কৃতির নগর হিসেবে স্বপ্ন দেখেছি, তাঁদের কাছে টাঙ্গাইল যেন একটি দুঃস্বপ্নের নগরীতে পরিণত না হয়।
লেখকঃ মামুনুর রশীদ ,বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ও টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান
লেখাটি “সমকাল” অনলাইন থেকে নেওয়া…