একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে সেলাই মেশিন, হুইল চেয়ার এবং ভ্যান বিতরণ করেছে ফাতেমা মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন।
টাঙ্গাইলের আশেকপুর এলাকায় অবস্থিত জোবায়দা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ ছানোয়ার হোসেন(এমপি)। বিশেষ অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম. সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাহজাহান আনসারী, গ্লোব গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আরিফ-উল ইসলাম সোহেল, ১৫নং ওর্য়াড কাউন্সিলর আব্দুল্লাহেল ওয়ারেছ হুমায়ুন, হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মোঃ রাশেদ খান মেনন (রাসেল), জোবায়দা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও ক্লিন টাঙ্গাইলের চেয়ারম্যান মোঃ জালাল উদ্দিন চাকলাদার শাহীন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাতেমা মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা কামরুজ্জামান খান। ফাতেমা মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রবাসী মোঃ তৌফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল এর অর্থায়নে অসহায় মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে ৩১ টি সেলাই মেশিন, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ৪ টি হুইল চেয়ার এবং শারীরিকভাবে সক্ষম দুইজন অসহায় ব্যক্তিকে ২টি ভ্যান প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক সাহিবুল বারীদ সোয়াদ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফাতেমা মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাছিম আহাম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল আওয়াল মিঞা’সহ অন্যান্য সদস্যগণ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রেল লাইনের পাশ থেকে দুই পায়ে লোহার কয়ড়া পড়া অবস্থায় অজ্ঞাত (৩০) এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কালিহাতী থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কালিহাতী উপজেলার চরভাবলা এলাকায় রেল লাইনের পাশ থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, বুধবার দুপুরে ঢাকা বঙ্গবন্ধু সেতু রেল লাইনের কালিহাতী উপজেলার চর ভাবলা এলাকায় রেল লাইনের পাশে এক অজ্ঞাত যুবকের লাশ পড়েছিল। তার হাত মুখে ছেলা জখম রয়েছে। নিহতের দুই পায়ে লোহার কয়ড়া পড়া ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
কালিহাতী থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে ওই যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে। মৃত অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় না পাওয়া গেলে ময়নাতদন্তের পর লাশ দাফনের জন্য আঞ্জুমান-ই-মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর রেল স্টেশন এলাকায় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক অজ্ঞাত যুবকের (৩৫) মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে দুটি ট্রেনের ক্রসিংয়ের সময় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন মির্জাপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কামরুল হাসান।
রেল কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সাড়ে আটটায় মির্জাপুর রেল স্টেশনে টাঙ্গাইল কমিউটার ও ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বিরতি ও ক্রসিং হয়। এ সময় টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার সময় স্টেশন এলাকায়ই এক যুবক ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাকলাইন জানান, সংবাদ পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মির্জাপুর রেল স্টেশন থেকে নিহতের লাশটি উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
তিনি আরো জানান, লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার নথখোলায় ঝিনাই নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের নতুন করে ড্রেজার মেশিন বসানোর পাঁয়তারা বন্ধ এবং নদী পাড়ের নিরীহ মানুষের ঘর-বাড়ি,ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসুচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার টাঙ্গাইল-বাসাইল সড়কের নথখোলা সেতুর উপরে দাপনাজোর, নথখোলা ও কাশিল গ্রামের পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম, কাশিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রমজান আলী সহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাসাইল উপজেলার দাপনাজোর,নথখোলা ও কাশিল গ্রামের প্রায় ৮০ভাগ মানুষ কৃষিনির্ভর। ঝিনাই নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিদ্যালয়,মসজিদ-মাদ্রাসা, হাট-বাজার ও ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ। কিন্তু বর্তমানে প্রভাবশালী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে প্রভাবশালী বালুখেকোরা অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় দাপনাজোর সেতু,কাশিল সেতুসহ নদী পাড়ের অসংখ্য বাড়ি-ঘর,ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
বক্তারা আরও বলেন, এছাড়াও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নথখোলা সেতু এবং সেতু সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়,শহীদ মিনার, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে।
তাই এই তিনটি গ্রামের বসত-ভিটা, জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে এই মানববন্ধন। ভবিষ্যতে যেন এ নদী থেকে অবৈধ ভাবে কেউ যেন বালু উত্তোলন করতে না পারে। সেজন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন বক্তারা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ময়মনসিংহ রোডে অবস্থিত গ্রীণ বাংলা ট্রেনিং সেণ্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নারী গ্রাহকদের ৫০ লক্ষ টাকা নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, টাঙ্গাইল পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে জনৈক রাসেল মিয়া নামে এক ব্যক্তি একক মালিকানাধীন গ্রীণ বাংলা ট্রেনিং সেণ্টারটি চলতি বছরের ২৩ আগস্ট ময়মনসিংহ রোডের সরকার হসপিটাল বিল্ডিং এর চতুর্থ তলায় অফিস ভাড়া নেয়।
তারা কর্মী নিয়োগ ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় প্রায় দেড়শ’ নারীকে প্রশিক্ষণের নামে প্রথমে ৭০০ ও পরে ২৫০ টাকা হারে টাকা নেয়। সনদপত্র এবং সেলাই মেশিন দেওয়া সহ নানা প্রতিশ্রুতি এবং শর্ত দিয়ে নারীদের প্রশিক্ষণের জন্য ভর্তি করা হয়। জামানত ছাড়া ঋণ দেওয়ার কথা বলেও তারা জনপ্রতি ৪-৫ হাজার টাকা নেয়।
মঙ্গলবার ( ৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে প্রশিক্ষণের জন্য ভর্তি হওয়া বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগী নারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গ্রীণ বাংলা ট্রেনিং সেণ্টার নামে একটি সংস্থা দর্জি, ব্লক, বুটিক ও মাশরুম চাষে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিল। তিন মাসের প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তির আবেদন ফরম বাবদ প্রথমে তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৭০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। পরে তারা ভর্তি ফি বাবদ আরও ২৫০ টাকা হারে তাদের কাছ থেকে নিয়েছে। তারা প্রায় স্থানীয় দেড়শ’ নারীকে উক্ত প্রশিক্ষণের জন্য ভর্তি করেন। এছাড়া জামানত ছাড়া ঋণ দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি ৪-৫ হাজার করে টাকা নিয়েছেন। সপ্তাহে শুক্র ও রোববার দু’দিন প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিল।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ১ সেপ্টেম্বর থেকে সংস্থাটির কর্মকর্তারা দু’দিন প্রদশর্নীমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়ান। ওই দুইদিন প্রশিক্ষণের পর থেকে তাদের আর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের একাধিক মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তারা কল রিসিভ করেননি।
মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে নারীরা দলবেঁধে ওই অফিসে ভিড় করেন।এসময় তাদের সাথে প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পরে খবর পেয়ে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ ওই অফিসের ৪-৫ কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর জানান, নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করায় ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। নাম-ঠিকানা ও কাজের ধরণ যাচাই-বাছাই না করে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, যদি প্রতারণার কোন অভিযোগ থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম জানান, গ্রীণ বাংলা ট্রেনিং সেণ্টারের মালিক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। সংস্থাটির কয়েকজন কর্মচারীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সাক্ষ্য গ্রহন করেছেন আদালত। ওই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নাম শিউলী রানী দাস। তিনি এই মামলার এক সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেছিলেন।
প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাসুদ পারভেজের আদালতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিউলী রানী দাস সাক্ষ্য দেন। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মনিরুল ইসলাম খান জানান, সাক্ষ্য প্রদানকালে শিউলী রানী দাস আদালতকে জানান— তিনি এই মামলার সাক্ষী আব্দুল ওয়াহেদের জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করেছেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা টাঙ্গাইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু ওবায়দা তার দেওয়া সাক্ষীর জেরার জন্য আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেননি। পরবর্তী তারিখে জেরা করবেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন।
সাক্ষ্য গ্রহণকালে কারাগারে থাকা এই মামলার আসামি সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান ওরফে মুক্তি এবং জামিনে থাকা আসামি সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম জানান, ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার মোট ৩৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।
২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজ পাড়া বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এই হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুই জনকে গ্রেপ্তার করে।
আদালতে এ দুই জনের দেওয়া স্বাীকারোক্তিতে এই হত্যার সঙ্গে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। সহিদুর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে আত্মসমর্পণের পর থেকে কারাগারে রয়েছেন। তাদের অন্য দুই ভাই এখনও পলাতক।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের বাজিতপুর থেকে সোমবার(৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে সাত জন অপহরণকারীকে আটক ও অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে র্যাব। র্যাব-১২ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আটককৃতরা হচ্ছেন- টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের রতনগঞ্জ গ্রামের আ. মান্নানের ছেলে জামিল হোসেন সাগর(২৪)(তিনি শহরের থানাপাড়ার জনৈক শাজাহানের বাসার ভাড়াটিয়া), টাঙ্গাইল শহরের আদি টাঙ্গাইলের হাবিবুর রহমানের ছেলে শাকিল আহাম্মেদ হৃদয়(২৭), আলমগীর হোসেনের ছেলে মো. লাবিব খান(১৮), ফজলুল হকের ছেলে রাকিবুল ইসলাম(২২), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গড়াইল গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে হৃদয় আহাম্মেদ(২২), টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভার এবাদত হোসেনের ছেলে বাধন(১৯) এবং একই এলাকার মোস্তফা কামালের ছেলে রাব্বি খান(১৮)।
র্যাব-১২ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ আনিসুজ্জামানের নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল টাঙ্গাইল শহরের বাজিতপুর হাটখোলার বিকাশের দোকানের পাশে অভিযান চালায়। অভিযানে অপহরণকারী চক্রের তির সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকার সাহাপাড়ায় একটি অটোরাইস মিলের বাউন্ডারীর ভেতর থেকে আরও চার অপহরণকারীকে আটক করে র্যাব ।
এ সময় একটি গামছা দিয়ে চোখ ও রশি দিয়ে হাত বাঁধা অবস্থায় থাকা অপহৃত রাজমিস্ত্রি শ্রমিক মো. আব্দুর রহিমকে(৪০) উদ্ধার করেন।
র্যাব আপহরণকারীদের কাছ থেকে ধারালো ছুরি, রশি, গামছা ও নগদ ১১ হাজার ৩০ টাকা জব্দ করে।
র্যাব-১২ আরও জানায়, মো. আব্দুর রহিম পেশায় রাজমিস্ত্রি। তিনি কাজের সন্ধানে টাঙ্গাইল শহরের বাসটার্মিনালে এলে তাকে অপহরণ করা হয়। পরে তার বাড়ি থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে এনে দেওয়ার জন্য অপহরণকারীরা তাকে মারপিট করে। বিকাশে টাকা আনার বিষয়টি আব্দুর রহিম তার ছোট ভাই আব্দুর রাজ্জাককে মোবাইল ফোনে জানায়। আব্দুর রাজ্জাক তার ভাইয়ের অপহরণের বিষয়টি র্যাবের টাঙ্গাইল কার্যালয়ে জানায়।
র্যাবের দলটি অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারী ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে। এদিকে অপহরণকারীরা বার বার স্থান পরিবর্তন করায় র্যাব তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারছিলনা। এক পর্যায়ে টাঙ্গাইল শহরের বাজিতপুর হাটখোলায় একটি বিকাশের দোকানে র্যাব সদস্যরা অবস্থান নেয় এবং অপহরণকারীদের আটক ও অপহৃতকে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে অপহৃত আব্দুর রহিমের ভাই আব্দুর রাজ্জাক বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলেও র্যাব-১২ জানায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনের ধাক্কায় শাহিন নামে এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছে। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা অপর আরোহীও গুরুতর আহত হন।
আহত ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১২ টার দিকে কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেনের ধাক্কায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত শাহিন ভূঞাপুরের সিরাজকান্দি এলাকার সোলাইমান মিয়ার ছেলে।
রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেনটি বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব পাড়ে যাচ্ছিলো। এসময় সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেল নিয়ে অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হচ্ছিলেন এরা দুইজন। ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলচালক শাহিনের মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঘারিন্দা রেলওয়ে পুলিশের এএসআই সাকলাইন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনিপ্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে একতা রাইস মিলের ছাদ ভেঙে পড়ে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে গোপালপুর পৌরসভার ডুবাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- কুড়িগ্রামের পাঁচগাছি ইউনিয়নের বাচ্চু মিয়ার ছেলে আরিফ (২৭), একই জেলার গোরুহাড়া গ্রামের করিম মোল্লার ছেলে নুরুল ইসলাম (৩৫) ও নুর মোহাম্মদের ছেলে নাঈমুল ইসলাম। তারা সবাই ওই রাইস মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিম আল রাজী জানান, দুইজন হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন। অপরজন হাসপাতালে আনার সঙ্গে সঙ্গে মারা গেছেন।
গোপালপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, একতা রাইস মিলে শ্রমিকরা কাজ করার সময় মিলের ছাদ ভেঙে পড়ে। এতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় হাসনা বেগম (৮৫) নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের এক পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি ওই গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের স্ত্রী।
জানা যায়, স্বামী মারা যাওয়ার পর বয়সের ভারে ন্যুজ হাসনা বেগমের ঠাঁই হয় ছেলের রান্না ঘরে। তিনি একা চলতে পারতেন না। তারপরেও রান্নাঘরে একাই রাত্রিযাপন করতেন। মাঝে মাঝে মেয়ের জামাই বাড়ী গিয়েও থাকতেন তিনি।
নিহতের মেয়ে শামছুন্নাহার জানান, বৃদ্ধ মায়ের কষ্টের কথা ভেবে ভাইয়ের বাড়ী থেকে মাকে নিয়ে তার স্বামীর বাড়ী রেখেছিলেন। কিছুদিন আগে ভাই জোর করে মাকে নিজের বাড়ি নিয়ে যায়। রবিবার ছেলের বাড়ির পাশের পুকুরে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।
গোপালপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো জানান,তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উচ্চ রক্তচাপ জনিত কারণে তিনি পুকুরে পড়ে ডুবে মারা যেতে পারেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিয়াম(১৬) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী সিয়ামের বন্ধু রানা গুরুতর আহত হয়।
শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার দেলদুয়ার-পাকুল্লা আঞ্চলিক সড়কে ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সিয়াম উপজেলার ফাজিলহাটী এলাকার সানোয়ার হোসনের ছেলে।সে স্থানীয় লাউহাটী আজহার আলী মেমরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সিয়াম ও রানা মোটরসাইকেল যোগে পাকুল্লা থেকে রাতে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে দেলদুয়ার-পাকুল্লা আঞ্চলিক সড়কের ফায়ার সার্ভিসের সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিয়ামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
আহত রানা বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ফাজিলহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী মৃত্যু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অটো রিকশা চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত ভোর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে কালিহাতী পৌরসভার সালেংকা পূর্ব পাড়া গ্রামের সপ্না বেগমের বাড়িতে।
আটককৃত ওই ব্যক্তি মির্জাপুর উপজেলার মৃত জয়নালের ছেলে শাকিল (২৫)।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত প্রায় ৩ টা ৩০ মিনিটের দিকে সালেংকা পূর্ব পাড়া গ্রামের টিপু নামের এক ব্যক্তি ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাস্তায় বের হলে পাশের সপ্না বেগমের বাড়ির গেইট খোলা দেখে এবং বাড়ির ভিতরে বড় শব্দ শুনতে পান। পরে এগিয়ে গিয়ে দেখে একজন ওই বাড়িতে থাকা একটি অটোরিকশার তালা ভাঙার চেষ্টা করছে, অপরজন রাস্তায় দাঁড়িয়ে এদিক সেদিক উঁকি দিচ্ছেন। পরে দুইজনের মধ্য থেকে উঁকি দেওয়া শাকিল নামের একজনকে ধরে আশেপাশের লোকজন ডাকাডাকি করলে ভিতরে থাকা অপরজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন এসে তাকে আটক করে গাছের সাথে বেঁধে রেখে সকালে স্থানীয় কাউন্সিলর সোহেল রানাকে খবর দেয়। পরে কাউন্সিলর এসে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে আটককৃত ওই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যায়।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, অটো চোর সন্দেহে স্থানীয়রা একজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে। যাচাই বাছাই সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৩ আগস্ট একই বাড়ি থেকে একই গ্রামের জহের আলীর ছেলে সাইফুলের অটো চুরি হয়।