একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভোট দেওয়ার পর কেন্দ্রেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন সুকমল সরকার নামের এক ভোটার। বুধবার(১৫ জুন) সকালে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ঘটেছে এ ঘটনা।
ইউপি নির্বাচনের ৬নং মেম্বার প্রাথী দিলীপ রাজবংশী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুকমল সরকার উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া গ্রামের মৃত বিরমনির ছেলে।
দিলীপ রাজবংশী জানান, বুধবার সকালে সুকমল সরকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে আসেন। এরপর ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পর কেন্দ্রেই ঢলে পড়লে তাৎক্ষণিক তাকে পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একতার কণ্ঠঃ শেষ মুহূর্তে এসে টাঙ্গাইলের আরও দুটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এ ইউনিয়ন দুটি হচ্ছে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর এবং মধুপুর উপজেলার ফুলবাগচালা।
নবম ধাপে এই দুটি ইউনিয়নসহ বুধবার(১৫ জুন) জেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের কথা ছিল। এর আগে রোববার(১২ জুন) মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ এইচ এম কামরুল হাসান জানান, গোপালপুরের হেমনগর ইউনিয়নের সীমানাসংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এক ব্যক্তি উচ্চ আদালতে রিট করেন। ওই রিটের শুনানিতে ইউনিয়ন দুটির নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন আদালত। আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন স্থগিত করে। সেই সঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে কিছু জটিলতা থাকায় স্থগিত করা হয়েছে ফুলবাগচালা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন।
বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জেলা নির্বাচন অফিস।
এর আগে আওয়ামী লীগের এক নেতা নৌকায় যাঁরা ভোট দেবেন না, তাঁদের ভোটকেন্দ্রে আসতে নিষেধ করে বক্তৃতা দেওয়ায় এবং নানা হুমকি দেওয়ায় মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ঘোষপাড়া এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর পাড়ে স্থাপন করা হয়েছে ব্যাটারি পুড়িয়ে একটি অবৈধ সীসা তৈরির কারখানা। এখানে কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই প্রকাশ্যেই পুরাতন ব্যাটারি ভেঙে পুড়িয়ে সীসা তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া এই কারখানার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে পাশের ধলেশ্বরী নদীতে। পরিবেশ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মো: মাহবুবুল হক এর মতে, এ ধরনের উন্মুক্ত স্থানে সীসা পোড়ানোর ফলে জীব-বৈচিত্র্য ও মানুষের খাদ্য চক্রে ঢুকে পড়ছে ভারী ও অত্যন্ত বিষাক্ত পদার্থ সীসা। এভাবে ব্যাটারি ভাঙ্গা এবং সীসা গলানোর সময় ক্ষুদ্রকণা বাতাসে ও মাটিতে ছড়িয়ে পড়ছে। যার নেতি বাচক প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের ঘোষপাড়া (এসডিএস ব্রিজ সংলগ্ন) এলাকায় পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। দশ জন শ্রমিক ও কর্মচারী পুরাতন ব্যাটারি ভেঙে প্লেট আলাদা করছে। ব্যাটারির পরিত্যক্ত অংশ আলাদা করে রাখা হয়েছে যত্রতত্র। এই দশজন শ্রমিক খালি গায়ে ও খালি হাতে কোন ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করেই তারা দিনরাত এই কাজ করে যাচ্ছে এই কারখানায়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে কোন সাইনবোর্ড, ট্রেড লাইসেন্স, কলকারখানা অধিদপ্তর এর সার্টিফিকেট, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরির নিরাপদ চুল্লি নেই। ফ্যাক্টরির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পরিত্যক্ত ব্যাটারির বর্জ্য প্লাস্টিক, কার্বন ও ক্ষতিকারক বিভিন্ন ধরনের পদার্থ। টাঙ্গাইলে একটি বেসরকারী পলিটেকনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রাম লাগানো একটি হাফ টনী পিক-আপে কারখানায় উৎপাদিত প্রায় ১২০ কেজি সীসা তোলা হচ্ছে ঢাকায় চায়না ফ্যাক্টরিতে পাঠানোর জন্য।

কারখানার কর্মচারী শাহাদাৎ জানান, তিনি সহ মোট দশজন কর্মচারী উত্তরবঙ্গ থেকে এখানে এসেছেন কাজ করতে। মালিকের নির্দেশেই তারা এভাবে ব্যাটারি ভেঙ্গে তা পুড়িয়ে সীসা তৈরি করছেন। মানুষ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক জেনেও পেটের দায়ে এই কাজ করছেন তারা।
তিনি আরও জানান, দিনের বেলায় ব্যাটারি ভাঙ্গা হয় আর রাত দশটার পর থেকে তা পুড়িয়ে সীসা তৈরি করা হয়। তাদের ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরি করার কোন চুল্লি নেই। তাই বাধ্য হয়েই উন্মুক্ত স্থানে ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানান, ব্যাটারি কারখানার মালিক দু’জন টাঙ্গাইলের ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী নেতার নিকট আত্মীয়। ফলে এলাকাবাসীর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধ উপেক্ষা করেই দীর্ঘদিন ধরে এই কারখানাটির চালাচ্ছে। বিশেষ করে রাতে যখন ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরি করা হয় তখন এলাকাবাসীর শ্বাস-প্রশ্বাসে ভীষণ কষ্ট হয়।

তারা আরো জানান, ব্যাটারি পোড়ানোর স্থানে কোন ছাউনি না থাকায় বৃষ্টি হলেই, বৃষ্টির পানির সাথে বিষাক্ত বর্জ্য পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পরে ও পাশ্বের ধলেশ্বরী নদীতে গিয়ে পরে। একসময় ধলেশ্বরী নদীর এই অংশে প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেও, কারখানা চালুর পর থেকেই এখানে কোন ধরনের মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন মিয়া প্রথমে কথা বলতে না চাইলেও পরে জানান, আপনারা খুব ভালো করেই জানেন এই কারখানাটির মালিক কারা। স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের চাপ থাকা স্বত্তেও কারখানাটির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না। এমনকি ব্যবসা পরিচালনার জন্য এই কারখানায় মালিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোন ট্রেড লাইসেন্সও গ্রহণ করেনি। তিনি ফ্যাক্টরি বন্ধে নিজের অসহায়েত্বের কথা স্বীকার করেন।
টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জমির উদ্দীন জানান, এই অবৈধ ফ্যাক্টরির বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে এভাবে প্রকাশ্যে জায়গায় ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরি করলে বায়ু দূষণ ও আশে পাশে বসবাসরত প্রাণীর মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর ইতিমধ্যে দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নে একটি অবৈধ ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরির কারখানা উচ্ছেদ করেছেন।
তিনি আরও জানান, যত দ্রুত সম্ভব এই অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রানুয়ারা খাতুন জানান, তিনি বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের ফেসবুক লাইভে এই অবৈধ কারখানার বিষয়ে জেনেছেন। যত দ্রুত সম্ভব এই অবৈধ কারখানা উচ্ছেদে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উন্মুক্ত স্থানে ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরি করা প্রসঙ্গে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনভারমেন্টাল সায়েন্স এন্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ও পরিবেশ বিজ্ঞানী ড মো: মাহবুবুল হক বলেন, সীসা একটি ভারী ও নিউরো টক্সিক পদার্থ যা মানুষের সরাসরি সংস্পর্শে এলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও লিভারে বিশেষ ক্ষতি সাধন করে। উন্মুক্ত স্থানে সীসা পোড়ানোর ব্যাপারে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত। এই নীতিমালার অধীনে সীসা উৎপাদন ও বিপননে কঠোর তদারকি দরকার। উন্মুক্ত স্থানে ব্যাটারি পোড়ানোর ফলে এই ভারী ও বিষাক্ত পদার্থ সীসা আমাদের খাদ্য চক্র ও জীবন চক্রে ঢুকে পড়ছে। যার নেতিবাচক প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
উল্লেখ্য,দীর্ঘ সময় ধরে পুরনো ও পরিত্যক্ত ব্যাটারি থেকে সীসা আহরণ কারখানাগুলো দেশে নিদারুণ দূষণ ও প্রাণহানি ঘটিয়ে চলেছে। এসব কারখানা গড়ে উঠছে দেশের সর্বত্র, কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই। মানছে না বিদ্যমান পরিবেশ আইন। জনস্বাস্থ্য, প্রাণবৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র তছনছ করে দিচ্ছে। শালবন থেকে হাওর, পাহাড় থেকে নদী অববাহিকা, কৃষিজমি থেকে বন্দর নানা স্থানে গড়ে ওঠা এসব ব্যাটারি কারখানার মাধ্যমে মানুষসহ প্রাণীর শরীরে ঢুকছে সীসার বিষ, প্রতিবেশ ব্যবস্থায় ঘটছে গোলমাল। সব ব্যাটারি কারখানাই গড়ে উঠেছে বসতি এলাকায়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসব ব্যাটারি কারখানার অধিকাংশেরই কোনো পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, কারখানায় পরিবেশ আইন অনুযায়ী কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি নেই। মাঝেমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব কারখানাকে জরিমানা করছে কিংবা সিলগালা করে বন্ধ করে দিচ্ছে। এভাবে দেশের নানা প্রান্তে গড়ে ওঠা পুরনো ব্যাটারি কারখানার মাধ্যমে যদি দেশের সর্বত্র সীসার বিষ ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা গবাদি প্রাণিসম্পদ, মানুষ থেকে শুরু করে প্রকৃতিতে তৈরি করবে এক নিদারুণ বিশৃঙ্খলা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত থাকবে বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে তার জামিন বিষয়ে রুল তিন সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক মেয়র মুক্তিকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
সোমবার (১৩ জুন) সকালে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।
আদালতে মুক্তির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ।
এর আগে গত ২৮ এপ্রিল ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে মামলাটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
গত ২৭ এপ্রিল এই মামলায় সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ মাসুদ পারভেজ মুক্তিকে জামিন দেন। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি তার অন্তর্বর্তী জামিন বাতিল হয়। এরপর হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন মুক্তি।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি নিহত হন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদ। তার গুলিবিদ্ধ লাশ কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে এ দুই আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যার সঙ্গে জড়িত সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা। তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন এবং ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।
পরে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান ও তার অপর তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিন পেয়ে মুক্ত আছেন। তাদের অপর দুই ভাই আত্মগোপনে রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভারতীয় জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী এ আর রহমানের ‘বারসো রে মেগা মেগা’ হিন্দি গানে নেচে ভাইরাল হলেন এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই ৬ ছাত্রী।
নাচের ভিডিওটি রোকসানা রহমান রিমি নামের ফেসবুক আইডি থেকে সম্প্রতি ভাইরাল হয়।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠিত ড্যান্স ক্লাব নৃত্যধারার সদস্যদের আয়োজন ও অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন লোকেশনে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে।
লেখাপড়ার পাশাপাশি নাচের এমন চর্চা নিয়ে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গণে বেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছেন ওই শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নৃত্যধারার ড্যান্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা রোকসানা রহমান রিমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী। তিনি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুর রহমানের মেয়ে।
ওই নাচে অংশ নেওয়া অন্যান্যরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী শাহনাজ সুলতানা রুবি, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্রী মাইমুনা জীবন একান্ত, পরিসংখ্যান দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্রী শাওলী ইসরাত, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্রী ইসরাত ফারজানা অপু, গণিত বিভাগের প্রথম বর্ষ ও প্রথম সেমিস্টারের ছাত্রী সুমাইয়া খান
রোববার (১২ জুন) সন্ধ্যায় এ বিষয়ে নৃত্যধারা ড্যান্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রোকসানা রহমান রিমি জানান ছোট বেলা থেকেই নাচ তার ফ্যাশন ছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ড্যান্স ক্লাব ছিল না। এ কারণে তিনি উদ্যোগ নিয়ে ২০১৯ সালে ১৫ জানুয়ারি নৃত্যধারা ড্যান্স ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ক্লাবের সদস্য সংখ্যা ৫৪জন।
তিনি বলেন, তিনি বেশ কয়েকটি ন্যাশনাল ড্যান্স কমপিটিশনে অংশগ্রহণ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিচিতি বৃদ্ধির লক্ষে তারা ভারতীয় জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী এ আর রহমানের ‘বর্ষারে ভিগা ভিগা’ হিন্দি গানে নেচে প্রচার করেছেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চার বিষয়টিও প্রকাশ পাবে।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পরীক্ষার হলে ছুরি নিয়ে প্রবেশ করায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুন) সকালে উপজেলা সদরের সরকারি এসকে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ে অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা চলছে। রোববার ছিল অষ্টম শ্রেণির বিশ্বপরিচয় পরীক্ষা। ওই ছাত্র প্যান্টের পকেটে ছুরি নিয়ে ৫ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করে। এ সময় পরীক্ষার কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষিকা আলো রানী পোদ্দারের সন্দেহ হলে তিনি পকেট থেকে ছুরিটি বের করেন।
ওই শিক্ষিকা বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম খানকে জানান। পরে প্রধান শিক্ষক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাফিজুর রহমানকে জানান। ইউএনও অভিযুক্ত ছাত্রের অভিভাবকের অঙ্গীকারনামা রেখে তাকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম খান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে অভিযুক্ত ছাত্রের অভিভাবকের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নিয়ে তাকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন দলের (বিজেপি’র) মুখপাত্র নূপুর শর্মা ও তার সহযোগী নবীন কুমার জিন্দালের অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সেচ্ছাসেবী সংগঠন আল-কারীমু মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন ও স্থানীয় মুসল্লিরা।
শনিবার (১১ জুন) বিকালে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সিরাজকান্দি বাজারে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। এরপর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব গোল চত্বর হয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিলটি বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেল স্টেশনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংগঠনের নেতা ও স্থানীয় মসজিদের ইমামসহ অন্যরা বক্তব্য শেষে পুনরায় ওই স্থানে গিয়ে মিছিল সমাপ্ত করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- আল-কারীমু মানব কল্যাণ সংগঠনের পরিচালক সেলিম রেজা পলাশ, সহ-উপদেষ্টা সহিদুল তালুকদার, সভাপতি হুমায়ন কবির, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল খান, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মান্নান, সহ-ধর্ম বিষয়ক মাওলানা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সোনা মিয়া মন্ডল, পলশিয়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আব্দুল কাদের -সহ সংগঠনের অন্য সদস্য এবং স্থানীয় মুসল্লিরা।
এদিকে, দুপুরে উপজেলার নিকরাইল শমসের ফকির ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীসহ ছাত্র ও যুব সমাজসহ স্থানীয় মুসল্লিরাও কলেজের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা নিকরাইল বাজার এবং জোকারচর সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। পরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের জোকারচর বাসস্ট্যান্ড প্রায় ১০-১৫ মিনিট সময় অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীসহ ছাত্র ও যুবসমাজ।
বিক্ষোভে মিছিলে ‘ভারতীয় পণ্য, বয়কট, বয়কট’, ‘বিশ্ব নবীর অপমান, সইবে না রে মুসলমান’, ‘নূপুর শর্মার বিচার চাই’-সহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে মহাসড়কে কিছুটা যানজট সৃষ্টি হলে তারা অবরোধ থেকে সরে গিয়ে জোকারচর রেললাইনের পাশে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভা করে।
এ সময় বক্তব্য দেন- নিকরাইল শমসের ফকির ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মোমিন, জুয়েল, রফিক ও মামুনসহ অন্যরা।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, যেকোনো ধর্মের মনিষী বা নেতারা শ্রদ্ধার পাত্র। তাদের নিয়ে অযথা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য অবশ্যই নিচু মানসিকতার কাজ। হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও হযরত আয়েশা (রা.)-কে নিয়ে ভারতের বিজেপি নেত্রী যে মন্তব্য করেছেন এটি অত্যন্ত গর্হিত। আমরা এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একইসঙ্গে তার বিচারের দাবি করছি। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠ: সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. কে কটুক্তির প্রতিবাদে মিছিল, মানববন্ধন ও সভা করেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১১ জুন) সকালে বিক্ষোভ মিছিলটি একাডেমিক কাম রিসার্চ ভবন থেকে শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সভা করে। প্রতিবাদ মিছিল, মানববন্ধন ও সভায় প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকিউলার বায়োলজি (বিএমবি) শেষ বর্ষের শেষ সেমিস্টারের ছাত্র আতিকুর রহমান, ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) শেষ বর্ষের শেষ সেমিস্টারের ছাত্র হাফিজুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা, সম্প্রতি ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির মুখপাত্র নুপুর শর্মা ও মিডিয়া সেল প্রধান নবীন জিন্দাল মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. ও উম্মাহাতুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. কে নিয়ে চরম অশ্লীল ও অবমাননাকর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
প্রতিবাদ সমাবেশে থেকে,অবমাননাকর এ বক্তব্যের অভিযোগে বিজেপির মুখপাত্র নুপুর শর্মা ও মিডিয়া সেল প্রধান নবীন জিন্দাল সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১১নং আজগানা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রার্থী মো:রফিকুল ইসলাম সিকদার শেষ মুহূর্তে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। শুক্রবার (১০জুন) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের হাটুভাঙ্গা বাজারে বিভিন্ন জায়গায় তিনি লিফলেট বিতরণ করছেন। স্থানীয় জনগন সাদরে তাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। প্রতিটি জনসংযোগে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয়রা জানান-রফিক সিকদার প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দুই বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তিনি অনেক ভালো লোক। তার নির্বাচনী এলাকার রাস্তা-ঘাট ও ব্রিজ নির্মাণসহ অনেক উন্নয়ন কাজ করেছেন তিনি। এলাকার উন্নয়ন অব্যাহত রাখার স্বার্থে মোটরসাইকেল মার্কায় ভোট দিয়ে আবার তাকে নির্বাচিত করতে চান স্থানীয় ভোটাররা।
স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিক সিকদার বলেন, তাকে ভোট দিয়ে এই ইউনিয়নের জনগণ দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত। রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি অনেক কিছু হারিয়েছেন, তবে জনগণের ভালোবাসাও পেয়েছেন। এই ইউনিয়নের মানুষ হচ্ছে তার প্রাণ। এলাকার উন্নয়নে তিনি রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ করেছেন। জনগণ যদি আরেকবার সুযোগ দেয়, তিনি তার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে চান।
তিনি আরো বলেন, আজগানা ইউনিয়নের জনগণ দল-মত-নির্বিশেষে তার সাথে আছে। আগামী ১৫ জুনের নির্বাচনে জনগণ তার মোটরসাইকেল প্রতীক কে জয়যুক্ত করবে।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলে”বিশ্বনবীর অপমান মানবে না মুসলমান” শ্লোগানে মিছিল ও প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুক্রবার (১০ জুন) বাদ আছর টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সম্মুখে সভা শেষে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।
মিছিলটি মসজিদ চত্ত্বর থেকে বের হয়ে নিরালা মোড় হয়ে আবার মসজিদ চত্ত্বরে এসে শেষ হয়। মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ টাঙ্গাইল জেলা শাখার নেতাকর্মীসহ প্রায় সহস্রাধিক ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীরা অংশ গ্রহণ করেন।
সম্প্রতি ভারতের উগ্র সাম্প্রদায়িক ক্ষমতাসীন বিজেপির মুখপাত্র নুপুর শর্মা ও মিডিয়া সেল প্রধান নবীন জিন্দাল মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. ও উম্মাহাতুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. কে নিয়ে চরম অশ্লীল ও অবমাননাকর মন্তব্য করায় ভারতীয় পণ্য বয়কট এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর দাবিতে এই মিছিল ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা,অনতি বিলম্বে সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারীও দেন তারা।
সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মাদ আকবর আলীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ আঁখিনূর মিয়ার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আকরাম আলী, যুগ্ম-সম্পাদক আলহাজ্ব আনিসুর রহমান সিল্টু, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক প্রভাষক রেজাউল করিম, সদস্য মাওলানা রেজাউল করিম, জেলা ইসলামী যুব আন্দোলনের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবদুর রহিম, জেলা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ প্রমুখ।
একই দাবিতে জেলার প্রতিটি উপজেলায় মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীরা।
একতার কন্ঠ: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে প্রেমের সম্পর্কের জেরে কলেজছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় কলেজছাত্রীর মা ভূঞাপুর থানায় অভিযোগ দিলে রুবেল (২৫) ও তার সহযোগী ওসমান গনিকে (৩৩) গ্রেফতার করে পুলিশ।
অভিযুক্ত রুবেল উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের খড়ক গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে ও তার সহযোগী ওসমান গনি একই গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। রুবেল এক সন্তানের জনক। ধর্ষণের শিকার ওই মেয়েটি স্থানীয় একটি কলেজের ছাত্রী।
জানা যায়, রুবেলের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় কলেজছাত্রীর। ফেসবুকে নিয়মিত চলত কথাবার্তা। পরে দেখা-সাক্ষাৎ করে তারা। এভাবেই গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। পরে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে কলেজছাত্রী। এ সময়ে কৌশলে ভিডিও ধারণ করে রুবেল। পরে সেই ভিডিও ফেসুবকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় রুবেল। পরে তার কথামতো কাউকে না জানিয়ে কলেজছাত্রী চলে যায় চট্টগ্রামে। পরে সেখানে একটি ভাড়া বাসায় থাকত তারা।
এদিকে কলেজছাত্রী পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানেন না পরিবার। পরে মেয়েকে বাড়িতে না পেয়ে আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেন। গত ৩০ মে নিখোঁজ হয়েছে উল্লেখ করে ওই ছাত্রীর মা ৫ জুন ভূঞাপুর থানায় একটি জিডি করেন। তারপর রুবেলের মোবাইল নাম্বারের সূত্র ধরে অভিযান চালায় ভূঞাপুর থানার পুলিশ।
অভিযান চালিয়ে গত বুধবার(৮ জুন) চট্টগ্রামের একটি বাসা থেকে অভিযুক্ত রুবেল ও তার সহযোগী ওসমানকে গ্রেপ্তার করেন। সেইসঙ্গে কলেজছাত্রীকেও উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার (৯জুন)রাতে রুবেলের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন ছাত্রীর মা।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ ( ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত যুবক কলেজছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। সেই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে নিয়ে চট্টগ্রামে চলে যায়। সেখানেও ধর্ষণের শিকার হয় কলেজছাত্রী। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বখাটে রুবেল ও তার সহযোগী ওসমানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত রুবেল ও তার সহযোগীকে শুক্রবার(১০ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তার ফোনে ওই মেয়েটিসহ একাধিক মেয়েদের নানা ধরনের ছবি পাওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শনিবার আদালতের কাছে রিমান্ড চাওয়া হবে। এছাড়া মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ পাঁচ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র্যাব। বুধবার (০৮ জুন) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান ও স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি মোঃ এরশাদুর রহমান এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পশ্চিম পাশে রাস্তার ওপর অভিযান পরিচালনা করে র্যাব । এসময় ১৬ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজাসহ পাঁচ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলো, ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামের তায়েজ উদ্দিনের ছেলে শাহীন আলম (৩৪), উত্তর হুগড়া গ্রামের আয়নালের ছেলে কালাচান (২৭), চর হুগড়ার মকতেল মিয়ার ছেলে মনির হোসেন (২৪), রফিকুল ইসলামের ছেলে খোরশেদ আলম(২৩) ও সাতানি হুগড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হালিমের ছেলে হাসান আলী (১৮)।
এ ব্যাপারে , র্যাব-১২, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, আটককৃত আসামীগণ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার কার করে তারা মাদকদ্রব্য গাঁজা অবৈধভাবে জেলার সদর উপজেলার সহ বিভিন্ন উপজেলায় মাদক সেবীদের নিকট তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করে আসছিলো তারা।
তিনি আরো বলেন, আটককৃত আসামী ও পলাতক আসামীর বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন মামলা দায়ের করা হয়েছে।