একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সৎ ভাই সুমন মিয়াকে (২৫) হত্যা করেছেন বড় ভাই আতোয়ার মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তি।
সোমবার (৯ মে) সকালে নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের ডাকাতিপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন ও অভিযুক্ত আতোয়ার ওই গ্রামের কলিম উদ্দিনের দুই স্ত্রীর সন্তান।
নাগরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সকালে ছোট ভাই সুমনকে ফলা দিয়ে আঘাত করেন বড় ভাই আতোয়ার মিয়া।
এতে গুরুতর আহত হন সুমন। এ অবস্থায় তাকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন চেম্বার জর্জ আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন।
আদালতে মুক্তির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।
এর আগে (বুধবার ২৭ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ মাসুদ পারভেজ মুক্তিকে জামিন দেন। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি তার অন্তর্বর্তী জামিন বাতিল হয়। এরপর হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন মুক্তি।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি নিহত হন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদ। তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
আদালতে এই দুই আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যার সঙ্গে জড়িত সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা। তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন এবং ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।
পরে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান ও তার অপর তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিনে মুক্ত আছেন। তাদের অপর দুই ভাই এখনও আত্মগোপনে রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রাজধানীর কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে আর কোনো ভবন নির্মাণ হবে না। মাঠ যেভাবে ছিল সেভাবেই থাকবে। বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে আর কোনো নির্মাণকাজ হবে না। এ জায়গাটি যেভাবে ব্যবহার করা হতো সেভাবেই ব্যবহার হবে। তেঁতুলতলা মাঠে আর থানা হবে না। খেলার মাঠই থাকবে। বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালে আমরা ওই জায়গাটির জন্য আবেদন করেছি। খোঁজ নিয়ে দেখলাম ওই এলাকায় খেলার জায়গা নেই। প্রধানমন্ত্রীও পরামর্শ দিয়েছেন, যেহেতু খালি জায়গা নেই, বিনোদনের কিছু নেই সেজন্য তিনি বলেছেন পুলিশের জমি সেভাবে থাকুক। কোনো কনস্ট্রাকশন যেন না হয়। যেভাবে চলছে চলতে থাকুক।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার(২৭ এপ্রিল) বিকেলে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আরো পড়ুনঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ
আদালতে মুক্তির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আমিনুল ইসলাম।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ মাসুদ পারভেজ মুক্তিকে জামিন দেন। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি তার অন্তবর্তী জামিন বাতিল হয়। এরপর হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন মুক্তি।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি নিহত হন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদ। তার গুলিবিদ্ধ লাশ কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
আদালতে এই দুই আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যার সঙ্গে জড়িত সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা। তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন এবং ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।
পরে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান ও তার অপর তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিন পেয়ে মুক্ত আছেন। তাদের অপর দুই ভাই আত্মগোপনে রয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ পারিবারিক কলহের জেরে দুই সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মা। চিকিৎসারত অবস্থায় পুলিশের কাছে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার।
রোববার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের ১ নং পূর্ণবাসন এলাকা থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে মা সাহিদা বেগম।
জেলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে সাহিদা বেগম তাঁর দুই শিশু সন্তানকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তিনি নিজে চলন্ত ফ্যানের সঙ্গে কাটা পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ জন্য নিহত দুই শিশুর শরীরের কোন আঘাতের চিহ্ন নেই।’
মোহাম্মদ কায়সার আরও বলেন, ‘সাহিদা বেগম হাসপাতালের পুলিশের কাছে নিজে হত্যা করার ঘটনা স্বীকার করেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সাহিদা বেগমের স্বামীর তেমন কোনো সম্পদ নেই। সাহিদা বেগমের স্বামীর ভাই ও ভাবি মানসিকভাবে যন্ত্রণা করতো। তাঁদের মধ্যে এক সপ্তাহ আগেও ঝগড়া হয়েছিলো। এর ফলে সাহিদা আশঙ্কা করছিলেন তাঁর ভাই ও ভাবি তাদের সন্তানকে মেরে ফেলবেন। এই আশঙ্কা থেকেই সাহিদা তাঁর দুই ছেলেকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।’
এর আগে স্থানীয়রা জানান, রোববার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ঘরের ভেতরে দুই শিশু মৃত অবস্থায় ও তাদের মা আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। ঘরের সিলিং ফ্যান পড়ে থাকায় ধারণা করা হয়, শিশুদের ওপর ফ্যান পড়ে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
একতার কণ্ঠঃ পবিত্র রমজান মাসের ইফতারির রকমারি উপাদানের মধ্যে মুড়ি অত্যাবশকীয়। মুড়ির চাহিদা সারাবছর ব্যাপী থাকলেও রোজার সময় উৎপাদন এবং বিক্রি বহুগুণে বেড়ে যায়। তাই মুড়ি ব্যবসায়ীরা বছর জুড়ে অপেক্ষায় থাকেন রমজান মাসের জন্য। আবার অনেকে সিজনাল ব্যবসা হিসেবে এই মাসে মুড়ি উৎপাদন এবং বিক্রি করে থাকেন। এখন মুড়ি তৈরির কারিগর ও ব্যবসায়ীদের দম ফেলার ফুসরত নেই।
টাঙ্গাইলসহ দেশের কমপক্ষে ৫ জেলায় মুড়ি সরবরাহ হয় জেলার কালিহাতীর নারান্দিয়া থেকে। এখানকার উৎপাদিত মুড়ির সুনাম বিভিন্নস্থানে। মুড়ি উৎপাদনের সাথে নারান্দিয়ার মানুষ অনেক পূর্বে থেকেই জড়িত। এখানে দুইভাবে মুড়ি উৎপাদিত হয়, হাতে ভেজে ও মেশিনের সাহায্যে। মুড়ি উৎপাদনকারি এলাকাগুলোর মধ্যে টাঙ্গাইল জেলায় নারান্দিয়া শীর্ষে।
আরো পড়ুনঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়কে এবার যানজট হওয়ার আশঙ্কা নেই’
মেশিনের সাহায্যে বিপুল পরিমান মুড়ি প্রতিনিয়ত উৎপাদিত হলেও হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। একশ্রেণির মানুষ সর্বদাই হাতেভাজা মুড়ি খেয়ে থাকেন। হাতে ভেজে মুড়ি তৈরি এবং বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন বহু পরিবার। বিশেষ করে মোদক সম্প্রদায়।
কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া, মাইস্তা, নগরবাড়ী, দৌলতপুর, লুহুরিয়া ও সিংহটিয়াসহ প্রায় পনেরটি গ্রামের কয়েক’শ পরিবার হাতে ভেজে মুড়ি তৈরি করে থাকে। মোদকরা বংশ পরম্পরায় মুড়ি ভাজার কাজ করেন। একজন ব্যক্তি ১ দিনে এক থেকে দেড় মণ চালের মুড়ি ভাজতে পারেন। প্রতি মণ চালে ২২ থেকে ২৩ কেজি মুড়ি হয়। প্রতি কেজি মুড়ি পাইকারি ৭৫/৮০ টাকা এবং খুচরা ৮৫ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মূলত গ্রামের মহিলারাই হাতে ভেজে গুণগত মানসম্মত মুড়ি তৈরি করেন।
দৌলতপুর গ্রামের কনিকা বর্মন বলেন খড়ি ২০০ টাকা মণ, ধান ১২০০ টাকা মণ। ধান সিদ্ধ করে রোদে শুকানোর পর মেশিনে মাড়াই করে মুড়ি ভাজার জন্যে চাল তৈরি করা হয়। সেই চাল দিয়ে লবণ জলের মিশ্রণে আগুনে তাপ সহ্য করে বিশুদ্ধ মুড়ি ভাজতে অনেক পরিশ্রম হয়। কিন্তু লাভ টিকে না।
হাসি বেগম বলেন আমাদের পরিশ্রমের দাম উঠে না। গরিব মানুষ এই কাজ কইরা অনেক দিন ধরে খাই। সরকারের কাছে আমরা সাহায্য চাই।
মিনতি রানী মোদক ও সুশীল মোদকসহ অনেকে বলেন আমরা বংশ পরম্পরায় এই মুড়ি ভাজা ও ব্যবসার সাথে জড়িত। সব কিছুর দাম বেশি। মুড়ির দাম বাড়ে নাই। দিন শেষে লাভ থাকে না বললেই চলে। সরকার থেকে যদি আমাদের সুদমুক্ত ঋণ দিতো তাহলে আমরা টিকে থাকতে পারতাম।
তারা আরো বলেন লাভ বেশির ভাগই চলে যায় মধ্যসত্বভোগীদের পকেটে। রমজান মাসে দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা পিকআপ, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে বস্তা ভর্তি মুড়ি কিনে টাঙ্গাইলের প্রত্যন্ত এলাকায় বিক্রি করেন। যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল থাকায় পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও গাজীপুরে নারান্দিয়ার মুড়ি সরবারহ হয়।
এদিকে নারান্দিয়া ইউনিয়নের নগরবাড়ীতে ২টি, দৌলতপুরে ২টি মোট ৪টি মিলে ৫টি মেশিনের সাহায্যে মুড়ি ভাজা হয়। সততা মুড়ির মিলের স্বত্বাধিকারী শংকর চন্দ্র মোদক কালের কণ্ঠকে বলেন, ৫০ কেজি চালের বস্তায় ৪২/৪৩ কেজি মুড়ি হয়। প্রতি কেজি মুড়ি আমরা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করি। পাইকাররা আবার সেই মুড়ি প্রতি কেজি কমপক্ষে ৬৫-৭৫ টাকা দরে খুচরা বিক্রি করেন। রমজান মাসে প্রতিদিন ৫টি মিলে ১৫০ বস্তারও বেশি চালের মুড়ি উৎপাদিত হচ্ছে। প্রায় ৪ লাখ টাকার মেশিনে ভাজা মুড়ি প্রতিদিন কেনাবেচা হয় এই এলাকায়। কিন্তু খরচ বাদে লাভ বেশি টিকে না।
রমজানে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার মুড়ি প্রতিদিন মেশিনে ও হাতে ভেজে তৈরি হলেও বছরের অন্য সময়ে অর্ধেকে নেমে আসে। শতাধিক শ্রমিক এবং কয়েক শ পরিবার প্রত্যক্ষভাবে ও বিপুল সংখ্যক মানুষ পরোক্ষভাবে মুড়ি ব্যবসার সাথে জড়িত থেকে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। ফলে রমজানে কাজের চাপে দম ফেলার সময়টুকু পায়না মুড়ি উৎপাদনকারীরা।
হাতে ভাজা মুড়ি উৎপাদনকারীরা দিনদিন এই কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় ধাবিত হচ্ছেন এবং অনেকেই চলে গেছেন। এই পেশাকেই টিকিয়ে রাখতে উৎপাদনকারী এবং ব্যবসায়ীরা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
কালিহাতীর বাসিন্দা এফবিসিসিআই এর পরিচালক আবু নাসের বলেন, টাঙ্গাইল তথা বাংলাদেশের মধ্যে মুড়ি উৎপাদনের অন্যতম স্থান কালিহাতীর নারান্দিয়া। এখানকার উৎপাদিত লাখ লাখ টাকার মুড়ি সারাদেশে সরবরাহ হচ্ছে। এটি এক প্রকার কুটিরশিল্প। মানুষের চাহিদা পূরণে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের যথাযথ উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে হাতেভাজা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।
প্রান্তিক পর্যায়ের মুড়ির কারিগররা এ মুড়ি কেনাবেচার একটি নির্দিষ্ট বাজার স্থাপন এবং সরকার থেকে হাতে ভাজা মুড়ি উৎপাদনকারী ব্যক্তি এবং পরিবারগুলোকে বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়ার দাবি করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ রাস্তার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়কে যানজট না হওয়ার কথা জানালেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম। শনিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গোড়াইয়ে নির্মিত ফ্লাইওভার পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম আরো বলেন, ঈদের আগেই ২৫ এপ্রিল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের গোড়াই ফ্লাইওভার ও সিরাজগঞ্জের নকল ব্রিজ যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। যাতে করে ঈদযাত্রায় মহাসড়কে যানজট সহনীয় পর্যায়ে থাকে। যদিও এসব কাজের মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। বিশেষ বিবেচনায় ঈদের আগেই খুলে দেয়া হচ্ছে। এর ফলে এসব অংশে যানজট হওয়ার সম্ভবনা নেই। বিকল্প রাস্তাগুলোতে যদি গাড়িগুলো ডাইভার্ট করে দেয়া যায় তাহলে মহাসড়কে ট্রাফিক চাপ কমবে।
তিনি বলেন, মন্ত্রাণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের একটি সেন্টাল কন্টোল রুম থাকবে। বিভিন্ন পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা থাকবে। এছাড়াও মহাসড়কে পুলিশের পক্ষ থেকেও বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশের সাথেও আমরা কিছু কিছু বিষয় সমন্বয় করছি। ২ বছর করোনার পরিস্থিতির পরে এবার ঘরমুখো মানুষের চাপ বৃদ্ধি পাবে। এ বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা প্রস্তত রয়েছি।
এ সময় সড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী একেএস মনির হোসেন পাঠান, সাসেকের প্রকল্প পরিচালক মো. ইসাক, সাসেক-১ এর অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক নূরে আলম, টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলামসহ সড়ক বিভাগেরর অন্যন্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ঈদ যাত্রায় বিগত সময়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল- মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পার পর্যন্ত দুই লেন হওয়ায় এই ১৩ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজট হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পরেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের। ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে উত্তরবঙ্গসহ ২৪ জেলার যানবাহন চলাচল করে। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন ১২/১৩ হাজার যানবাহন সেতু পারাপার হয়। ঈদের আগে ৩৫/৪০ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। কোন কোন সময় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার গাড়িও পারাপার হয়। স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক যানবাহন পারাপার হওয়ায় দুই লেনের সড়কে যানজট লেগে যায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কোচ জাতির ঐতিহাসিক মহাসমাবেশ, র্যালী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারি হিসেবে পরিচিত শাকিল ইয়াবাসহ গ্রেফতার
শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে বাংলাদেশ কোচ আদিবাসী সংগঠনের আয়োজনে মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম।
বাংলাদেশ কোচ আদিবাসী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সন্ন্যাসী রমেশ কুমার কোচের সভাপতিত্বে মহাসমাবেশে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত,ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রশিক্ষক বিভাগের পরিচালক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ, মনিন্দ্র কুমার কোচ, বাংলাদেশ কোচ আদিবাসী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কোচ রুবেল মন্ডল, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রমোদ চন্দ্র কোচ, কোচ গৌরাঙ্গ ঠাকুর, লিটন সরকার সুশান্ত, গোপাল চন্দ্র কোচ,আল্পনা রাণী কোচসহ কোচ আদিবাসী নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে সাগরদিঘী বাজার প্রদক্ষিন করে।সমাবেশ থেকে কোচ আদিবাসীদের উন্নয়নে ১২ দফা দাবী তুলে ধরা হয়। দাবীগুলো হলো, সম্ভ্রমহীনা নারীদের পুর্ণবাসনসহ সার্বিক দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে । জন্ম থেকে প্রাপ্ত বয়স পর্যস্ত আদিবাসী ছেলে-মেয়েদের সকল দায় দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে ।
ডিজিটাল কোচ কালচার একাডেমী প্রতিষ্ঠান গঠন করতে হবে । কোচ জাতীর ছাত্র – ছাত্রীদের সরকারী খরচে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ দান করতে হবে। আদিবাসীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আদিবাসী এলাকা গুলোতে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করতে হবে । আদিবাসীদের আদিবাসী নামে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে ।
সংখ্যালঘু আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটে আর্ন্তভূক্ত ও স্বীকৃতি দিতে হবে । আদিবাসীদের সুরক্ষায় আদিবাসী আধিকার আইন প্রণয়ন করতে হবে । ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাজেটে আদিবাসীদের জন্য সকল মন্ত্রনালয়ে সম বরাদ্ধ দিতে হবে ।
সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি মন্ত্রনালয় ও ভূমি কমিশনসহ ভূমি থেকে জোড় পূর্বক উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে । রাজবংশীসহ বাদ পড়া আদিবাসীদের গেজেটে অর্ন্তভূক্ত করতে হবে । জাতীয় সংসদে আদিবাসীদের সংরক্ষিত আসন দিতে হবে । মধুপুরে আদিবাসী এলাকায় লেক খনন বন্ধ করতে হবে ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লাঠিবারি খেলা ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যান থেকে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয় ।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে গৃহবধূর আত্মহত্যা
শোভাযাত্রাটি শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। পরে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমুখ।
এই সকল কর্মসূচিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল কারাগারে নাদিরা জাহান শেলী (৪০) নামে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ( ৯ এপ্রিল) ভোর রাতে কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু
তিনি সখীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মিনহাজের স্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল জেল সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
জেল সুপার জানান, ‘গত সোমবার ৪২০ ধারায় প্রতারণা মামলায় সখীপুর থানা থেকে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। শুক্রবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত শেলী সুস্থ ছিলেন। রাত ৩টার সময় সবাই সাহরি খাওয়ার সময় ঘুম থেকে উঠলে তাঁর আশপাশের লোকজন শেলীকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তাঁকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’
জেল সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও জানান, ‘ধারণা করা হচ্ছে-শেলী ঘুমের মধ্যে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
একতার কণ্ঠঃ পাপ-শাপ মোচনে ভোরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে মহাষ্টমীতে স্নান করতে পূণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দেশবাসীর জন্য শান্তি কামনায় প্রার্থনা করেছেন সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ ভক্ত ও পূণ্যার্থীরা।
আরো পড়ুনঃ ইউএনওর বিরুদ্ধে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
করোনার ভয়াবহতা কাটিয়ে শনিবার (৯ এপ্রিল) সকালে প্রতিবারের মতো এবারো যমুনা নদীর পাড়ে ৩০০ বছরের পুরোনো শ্রী শ্রী কালী মন্দিরে পূণ্যস্নান উৎসব এবং মেলার আয়োজন করেছেন উপজেলার খানুরবাড়ী, কষ্টাপাড়া, ভালকুটিয়া ও গোবিন্দাসী গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
মেলায় মিষ্টি জাতীয় খাবার, বাশঁ-বেতের আসবাবপত্র, মাটির তৈরি খেলনা, পুতুল, ঘোড়া, ট্রাক গাড়ি, হাড়ি-পাতিল, মাছের দোকান, চিড়া-মুড়ি, দইসহ দোকানিরা তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকেই পূণ্যস্নানে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ছাড়াও গোপালপুর, কালিহাতী, ঘাটাইলসহ সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার নানা বয়সী হাজারো ভক্ত ও পূণ্যার্থীরা যমুনা নদীর পাড়ে আসছেন।
এ সময় তারা সৃষ্টিকর্তার কাছে বিভিন্ন মানত ও দেশবাসীর জন্য শান্তি কামনায় প্রার্থনা করেন। সব মিলিয়ে আনন্দ উৎসবে মেতেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
স্নান করতে আসা ভূঞাপুর ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের সাবেক প্রভাষক সুহাষ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘যমুনায় স্নান তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। এখানে পুণ্যার্থীরা স্নান করছে তাদের মনবাসনা পুরণের জন্য।’
সাধন দাস, রঞ্জিত কর্মকর্তা, সুবীরসহ অনেকেই জানান, নদীর পাড়ে নতুন জলে পূণ্যস্নান করেছি ও পূজা দিয়েছেন। মহাষ্টমীতে এখানে স্থানীয় লোকজনসহ দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ মেলা দেখতে আসেন।
পূণ্যস্নান ও মেলার আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ ঘোষ বলেন, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পাপ মোচনের আশায় যমুনা নদীতে স্নান করতে এসেছেন। প্রশাসনের সহযোগিতায় স্নান উৎসব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের এক কলেজছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বাসাইলের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই কলেজছাত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গত ৩ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে বালুরঘাটে ট্রাক কেড় নিল কিশোর হেলপারের প্রাণ
বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ) সোহানা নাসরিনের অফিস কক্ষে ডেকে ওই কলেজছাত্রীর কাছে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়।
অভিযুক্ত মো. মনজুর হোসেন বর্তমানে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ২০২১ সালে তৎকালীন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর হোসেনের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় ওই কলেজছাত্রীর। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথমে ইউএনও সরকারি বাসভবনে নিয়ে ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এরপর ওই কলেজছাত্রীর অন্যত্র বিয়ে ঠিক হলে মনজুর সেই বিয়ে বন্ধ করে তাকে বাড়ি থেকে চলে আসতে বলেন। এরপর ওই ছাত্রীকে নিয়ে ইউএনও টাঙ্গাইল কুমুদিনী সরকারি কলেজ সংলগ্ন পাওয়ার হাউস এলাকায় পরিচয় গোপন করে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সেখানে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
সেখানে তারা দুই মাস সংসার করেন। পরে ওই ছাত্রী বিয়ে করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। ইউএনও মনজুর হোসেন ভারতে গিয়ে তাকে বিয়ে করবে বলে জানান। এরপর জোবায়েত নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে ওই ছাত্রীর ভারতে যাওয়ার জন্য মেডিকেল ভিসা করানো হয়। এরপর গত ২৪ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত ১০টার দিকে বাসাইলের সহকারী কমিশনারের (ভূমি ) সরকারি গাড়িতে জোবায়েত হোসেন ও চালক বুলবুল হোসেনসহ দুইজন আনসার সদস্য মিলে বেনাপোল গিয়ে সেখানকার বর্ডার পার হয়ে কলকাতা এয়ারপোর্ট হয়ে হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে নামেন।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে গৃহবধুকে গণধর্ষণের অভিযোগ
বিমানবন্দরের কাছে একটা বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে দুইজন বসবাস করে চিকিৎসা নিতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী ইউএনওর মোবাইলের মাধ্যমে বিয়ে হওয়া ও তার ঘরে সন্তান থাকার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে বাংলাদেশে আসার পর জোবায়েত ওই ছাত্রীর মোবাইল জোরপূর্বক নিয়ে অন্তরঙ্গ ভিডিও ও চ্যাটিং মেসেজ ডিলিট করে দেন। ইউএনও ঘটনাগুলো কাউকে না বলতে ওই ছাত্রীকে অনুরোধ করেন, অন্যথায় তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এরপরও পরবর্তীতে ওই ছাত্রীর সঙ্গে ঢাকার ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে দেখা করে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করার কথা বলেন ইউএনও।
এদিকে প্রতারণা করে ধর্ষণ এবং স্ত্রীর মর্যাদা না দেওয়ায় ইউএনও মনজুর হোসেনের শাস্তি চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ওই কলেজছাত্রী।
ওই কলেজছাত্রী বলেন, ইউএনও মনজুর হোসেনের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। পরে তিনি বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। তিনি শুধু আমাকে ব্যবহারই করেছেন, সামাজিকভাবে স্ত্রীর মর্যাদা দেননি। বিষয়টি নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, সাবেক ইউএনও মনজুর হোসেন মোবাইলে ওই মেয়েটির বিষয়ে জানান। মেয়েটি নাকি তার বিরুদ্ধে জনপ্রশাসনে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েছে। পরে মেয়েটির সঙ্গে একজন চেয়ারম্যানের মাধ্যমে কথা বলি। তখন মেয়েটি বিষয়টি আইনগতভাবে লড়ছেন বলে জানায়।
অভিযোগ অস্বীকার করে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর হোসেন বলেন, অভিযোগটি সম্পন্ন ভিত্তিহীন। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ) সোহানা নাসরিন জানান, ওই ইউএনওর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।