/ হোম / জাতীয়
টাঙ্গাইলে দেড় বছর পর গৃহবধূ নার্গিস হত্যার রহস্য উন্মোচন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে দেড় বছর পর গৃহবধূ নার্গিস হত্যার রহস্য উন্মোচন

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে গৃহবধূ নার্গিসকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করেন  তার সাবেক স্বামী মনিরুজ্জামান। পরে তার লাশ ধান ক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান পাষন্ড সাবেক স্বামী  মনিরুজ্জামান। ঘটনার দেড় বছর পর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে রবিবার আদালতে জবানবন্দিতে মনিরুজ্জামান এ কথা স্বীকার করেন।সোমবার(১৫ মার্চ)পিবিআই টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সিরাজ আমীন বিভিন্ন  গণমাধ্যাম কর্মীদের এ তথ্য জানান।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মধুপুর উপজেলার নেকিপাড়া গ্রামের মো. নাসির উদ্দিনের মেয়ে নার্গিস ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হন। দুই দিন পর তাদের বাড়ির উত্তর পাশে একটি ধান ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর তার বাবা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মধুপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ প্রথমে মামলাটি তদন্ত করে। পরে এ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে।

পিবিআই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ঘটনার সাথে নার্গিসের সাবেক স্বামী মনিরুজ্জামান জড়িত থাকার বিষয়টি চিহ্নিত করে। গত শনিবার মনিরুজ্জামানকে তার বাড়ি ধনবাড়ী উপজেলার কান্দিপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মনিরুজ্জামান নার্গিসকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। আদালতে জবানবন্দি দিতেও রাজি হন। রবিবার টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তিনি জবানবন্দি দেন।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সিরাজ আমীন জানান, জবানবন্দিতে মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন- তার সাথে নার্গিসের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে তারা বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। ফলে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। মনিরুজ্জামান পরে আবার বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ে করার পরে নার্গিসের সাথে আবার যোগাযোগ হয়। নার্গিস তাকে জানায় আগের স্ত্রীকে তালাক দিলে সে আবার বিয়ে করবে।

নার্গিসের কথা মতো মনিরুজ্জামান দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেন। ঘটনার দিন মনিরুজ্জামান নার্গিসদের বাড়িতে যান। সেখানে তাকে একা পেয়ে এক দফা ধর্ষণ করেন। পরে দ্বিতীয়বার ধর্ষণের চেষ্টা করলে নার্গিস বাধা দেন। তখন নার্গিসের গলা চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা শুরু করেন। এক পর্যায়ে নার্গিস মারা যান। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য নার্গিসের গলায় ওড়না শক্ত করে পেঁচিয়ে লাশ ধান ক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যান মনিরুজ্জামান। ঘটনার পর মনিরুজ্জামান এলাকা ছেড়ে চলে যান । সে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আবার বিয়ে করেন তিনি।

টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকরামুল ইসলাম মনিরুজ্জামানের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. মার্চ ২০২১ ০৩:৫১:এএম ৫ বছর আগে
রুয়েট এর একদল গবেষক উদ্ভাবন করলেন ‘ভয়েস কন্ট্রোল’ হুইলচেয়ার - Ekotar Kantho

রুয়েট এর একদল গবেষক উদ্ভাবন করলেন ‘ভয়েস কন্ট্রোল’ হুইলচেয়ার

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ হুইলচেয়ারটি নিবে ভয়েজ কমান্ড। দরকার পড়লে মেডিকেল বেডেও রূপান্তর করা যাবে। এমনই একটি হুইলচেয়ার উদ্ভাবন করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একদল গবেষক। কম খরচের এই হুইলচেয়ারটি দেশের প্রথম স্মার্ট হুইলচেয়ার বলে দাবি করছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও রুয়েটের অর্থায়নে গত বছরের আগস্টে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি শেষ হয়েছে এ বছরের মার্চে। বিষয়টি জানিয়েছেন গবেষক দলপ্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ড. মাসুদ রানা। রুয়েট গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের অধীনে পরিচালিত এ গবেষণা প্রকল্পটির পরিচালক ছিলেন তিনি।

অধ্যাপক মাসুদ রানার সঙ্গে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন শিক্ষার্থী ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এমএসসি শিক্ষার্থী সাদমান মাহমুদ খান এবং ম্যাকাট্রোনিকস বিভাগের তৃতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াসিফ আহমেদ।

অধ্যাপক মাসুদ রানা জানান, দেশের প্রথম এই স্মার্ট হুইলচেয়ারটি মাত্র ৪০ হাজার টাকায় বাজারজাত করা সম্ভব। তাতে অনেকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। চেয়ারটি ভয়েস কন্ট্রোল। যে কারণে প্যারালাইজড ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহারে সমস্যা হবে না। এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, ইমার্জেন্সি মেডিকেল বেডে রূপান্তর করা সহজ এটি।

এদিকে ইইজি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্রেইন ওয়েভ চেয়ারটি নিয়ন্ত্রিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। তখন মস্তিষ্কের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে চেয়ারটি। তাতে চেয়ারটি ব্যবহার আরও সহজ হবে বলে জানান অধ্যাপক ড. মাসুদ। এরই মধ্যে চেয়ারটির পেটেন্টের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

প্রকল্পটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মাসুদ রানা বলেন, বাংলাদেশে অনেক ডিজাবল মানুষ আছেন যাদের শরীরের অনেক অংশ কাজ করে না। এ কারণে তারা জয়িস্টিক নিয়ন্ত্রিত হুইলচেয়ারগুলো ব্যবহার করতেও সক্ষম নন। তাদের কথা ভেবেই চেয়ারটি তৈরির প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। আমরা সেটি করতে সক্ষম হয়েছি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৭. মার্চ ২০২১ ০২:৪১:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই খুন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই খুন

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বাথুলী সাদি গ্রামে রোববার(১৪ মার্চ) সকালে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই খুনের ঘটনা ঘটেছে। নিহত আব্দুল মজিদ(৩৩) উপজেলার ওই গ্রামের সেন্টু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ ছোট ভাই শফিকুল ইসলামকে(৩১) আহত অবস্থায় আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বাসাইল উপজেলার বাথুলী সাদি গ্রামের সেন্টু মিয়ার পাঁচ ছেলে দীর্ঘদিন ধরে কাপড় তৈরির ব্যবসা করছিলেন। ব্যবসার হিসাব নিয়ে সম্প্রতি তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এক পর্যায়ে তা পারিবারিক কলহে রূপ নেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সকালে তাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম ছুরি দিয়ে তার বড় ভাই আব্দুল মজিদের বুকে আঘাত করেন। গুরুতর আহতাবস্থায় স্বজনরা আব্দুল মজিদকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত  ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. হারুনুর রশিদ বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে। হত্যার ঘটনায় তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. মার্চ ২০২১ ০২:৫৯:এএম ৫ বছর আগে
ইতিহাসের মূল নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানঃঃকৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক - Ekotar Kantho

ইতিহাসের মূল নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানঃঃকৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক

 একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি ক্ষুদ্র জায়গায় রয়েছেন বলে মন্তব্য করে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন; এটি ইতিহাসে সেভাবেই থাকবে। তিনি যুদ্ধের নির্দেশক বা পরিচালক কিছুই ছিলেন না। একটি  সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন, এই টুকুই তার পরিচয়। ইতিহাসের মূল নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’

মন্ত্রী বলেন- ‘জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগের নেতাদের অনুরোধে স্বাধীনতাপত্রটি প্রথমে নিজের নামে, পরে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে পাঠ করেন। তখন সবাই মনে করেছিলেন একজন সামরিক বাহিনীর লোক দিয়ে ঘোষণাপত্রটি পাঠ করালে গুরুত্ব বাড়ে। এ জন্য কৌশলগত কারণে তাকে দিয়ে ঘোষণাপত্রটি পাঠ করানো হয়। যতই বলা হোক, ইতিহাসে স্বাধীনতার ঘোষক বা মূল নেতা হিসেবে তিনি স্থান পাবেন না।’

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘যারা পাকিস্তানে উচ্ছিষ্টভোগী ছিল, পা চাটা কুকুর ছিল, যারা পাকিস্তানের সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে, তারাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে চায়। কিন্তু সত্য উদঘাটন হয়েছে। আমাদের এ প্রজন্মও এখন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানে। মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তিনি আরও বলেন- ‘১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, পরবর্তীতে ৫৪’র নির্বাচন, ৬২’র স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র স্বায়ত্বশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলনের মাধ্যমে ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র নির্বাচন ও ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।’

সোমবার (৮ মার্চ) বিকালে টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানেকৃষি মন্ত্রী ড. রাজ্জাক এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন- টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক,সাংসদ আলহাজ ছানোয়ার হোসেন, আতাউর রহমান খান, ছোট মনির, হাছান ইমাম সোহেল হাজারী, আহসানুল ইসলাম টিটু সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি খ. মমতা হেনা লাভলী ,জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. মার্চ ২০২১ ০২:২৮:এএম ৫ বছর আগে
“গারো রাজা” পরেশ চন্দ্র মৃ এর ২৩ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত - Ekotar Kantho

“গারো রাজা” পরেশ চন্দ্র মৃ এর ২৩ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

 
 একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরের চুনিয়া গ্রামে পিতা রায়চান নকরেক এবং মাতা দেঙা মৃ-এর কোলে ১৯২৯ খ্রীষ্টাব্দে পরেশ চন্দ্র মৃ এর শুভ আগমন ঘটে। মধুপুরের আদিবাসীদের বর্তমান ও ভবিষৎ প্রজন্মের চেতনাতে জাগ্রত করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর সীমাহীন অবদানের জন্য এলাকাবাসী এই কিংবদন্তি মহাপুরুষ পরেশ চন্দ্র মৃ-কে আবিমানি “গারো রাজা” উপাধি প্রদান করেন।
 রবিবার (৭ ই মার্চ) স্বর্গীয় আবিমানি গারো রাজা পরেশ চন্দ্র মৃ ২৩ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের আয়োজনে  স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
এই অনুষ্ঠানে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক এর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মিঃ অজয় এ মৃ ( সহ সভাপতি বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম), মিঃ রিচার্ড বিপ্লব সিমসাং ( সিনিয়র সহ সভাপতি, জয়েনশাহী) ফাদার লরেন্স রিবেরিও সি.এস.সি ( পাল পৌরহিত পীরগাছা ধর্মপল্লী, জন জেত্রা ( সভাপতি, বাগাছাস, কেন্দ্রীয় কমিটি), মিঃ এপ্রিল পৌল মৃ ( প্রধান শিক্ষক, ভূটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়), মিঃ অরুন এ মৃ (প্রধান শিক্ষক, পীরগাছা সেন্ট পৌলস হাইস্কুল) মিঃ গৌরাঙ্গ বর্মন ( সাধারণ সম্পাদক, কোচ আদিবাসী সংগঠন, মধুপুর শাখা) মিঃ নিউটন মাজি ( সভাপতি, বাগাছাস মধুপুর শাখা) পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মুকুল দারু সঞ্চলনা করেন মিঠুন হাগিদক ( সভাপতি, আজিয়া)।
স্মরণসভা, প্রার্থনা ও আলোচনার মাধ্যমে পালিত হলো আ.বিমানি গারো রাজা ও জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা অবিসংবাদিত নেতা স্বর্গীয় পরেশ চন্দ্র মৃ এর ২৩ তম মৃত্যু বার্ষিকী। মৃত্যুবার্ষিকীতে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও স্মরণ  করেন। তিনি ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মার্চ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৬২ সনে প্রথমে শুধু চুনিয়া গ্রামের আদিবাসী পরিবার উচ্ছেদের পায়তারা করেছিল। পরেশ বাবুর নেতৃত্বে আদিবাসীদের প্রতিবাদ জোড়ালো হওয়ায় তারা এই নেতাকে পার্কের নির্ধারিত এলাকার বাইরে বা টাঙ্গাইল শহরে রাজকীয় বাড়ী অথবা ক্ষতিপূরণবাবদ তাঁর চাহিদা অনুসারে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরেশ চন্দ্র মৃ জাতির অস্থিত্বকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সকল প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে উলটো জনগণকে সংগঠিত করতে থাকেন। তিনি তখনই ঘোষণা দেন, “এই গ্রাম এবং এই বন ছেড়ে আমরা কোথাও যাবো না। আমরা বনের সন্তান, বন ছাড়া আমরা বাঁচতে পারবো না”।
এছাড়াও ১৯৬৭ সালে তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের গর্ভনর মোনায়েম খাঁনের আদিবাসীদের উচ্ছেদ এবং পুনর্বাসনের ঘোষনা, ১৯৬৮ সনে পুনরায় চুনিয়া গ্রাম উচ্ছেদ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের নোটিশ করা হয়েছিল। ১৯৭২ সনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর  মন্ত্রীপরিষদ নিয়ে সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করার উদ্দেশে দোখলায় আসেন। তখনও শেখ মুজিব নিজেই ঘোষনা দিয়েছিলেন  আদিবাসী গ্রাম উচ্ছেদ হবেনা বলে।
অবশেষে ১৯৮০ সালে জিয়ার সামরিক শাসন আমলে সামরিক আইন অনুযায়ী আবার উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সবক্ষেত্রেই দৃঢ় মনোবলের অধিকারী বাবু পরেশ চন্দ্র মৃ এলাকার লোকজনদের সংগঠিত করে সরকারের বিভিন্ন দফতরে প্রতিবাদ লিপি পেশ করে সৎসাহস দেখিয়েছেন, সফল হয়েছেন। একারণেই তিনি গারো নেতা, একারণেই তিনি আবিমানি ‘গারো রাজা’।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. মার্চ ২০২১ ০৩:০৭:এএম ৫ বছর আগে
আজ শিলাবৃষ্টি হতে পারে - Ekotar Kantho

আজ শিলাবৃষ্টি হতে পারে

একতার কন্ঠ ডেস্কঃ দেশের কোথাও কোথাও আজ শিলাবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সেই সঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়।

আবহাওয়ার সার্বিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত নেত্রকোনায় সামান্য ও সিলেটে সর্বোচ্চ ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সংবাদ সূত্রঃ যুগান্তর অনলাইন নিউজ পোর্টাল

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. মার্চ ২০২১ ১০:০৭:পিএম ৫ বছর আগে
জামায়াত ছাড়ছে বিএনপি!! - Ekotar Kantho

জামায়াত ছাড়ছে বিএনপি!!

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ দলের ভেতর-বাইরে চাপের মুখে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে বিএনপি। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ত্যাগের চাপ থাকলেও আমলে নেয়নি দলটি। একযুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি এখন কিছুটা আত্মোপলব্ধি করছে বলে জানিয়েছে দলটির নীতিনির্ধারক মহল। তারই অংশ হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বছরব্যাপী কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না জামায়াতকে।

অথচ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ মহাজোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দলীয় জোটের শরিকসহ বিকল্পধারাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যজোট’ গঠনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জামায়াতকে ত্যাগ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। জোট গঠনের খসড়া রূপরেখাও তৈরির কাজ চলছে।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ‘ইতিবাচক’ রাজনীতির অংশ হিসেবে এবার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের পাশাপাশি আগামী ১০ এপ্রিল ‘মুজিবনগর সরকার গঠনে’র দিনসহ বছরব্যাপী সব ঐতিহাসিক দিনকে উদযাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে ২ মার্চ আ স ম আবদুর রবের পতাকা উত্তোলন দিবস এবং ৩ মার্চ শাজাহান সিরাজ কর্তৃক স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠের দিনটিকে উদযাপনে কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচিতে জেএসডির সভাপতি আ স ম রবকেও আমন্ত্রণ করেছে বিএনপি।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতের ইস্যুসহ সব জোট নিয়েই বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ে পুনর্মূল্যায়ন চলছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দলের হাইকমান্ড জামায়াতকে জোটে রাখা না রাখার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াত ২০ দলীয় জোটের শরিক হলেও বিএনপির সব দলীয় কর্মসূচিতে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় না। জোটের শরিক দলগুলো যার যার মতো করে দলীয় কর্মসূচি পালন করে থাকে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৃহত্তর ঐক্যজোট গঠন নিয়েও আলোচনা চলছে।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় যোগাযোগ করলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বিএনপির সূত্র জানিয়েছে, আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যকে ওই জোটের ‘রূপরেখা’র খসড়া তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি ওই খসড়া রূপরেখা তৈরি করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত নিচ্ছেন। ওই জোটে যেসব দলকে টানতে চাচ্ছে, তারা জামায়াত ইস্যুতে কৌশলী ভূমিকা পরিহার করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের শর্ত দিয়েছে। দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বাম ও অন্যান্য বড় ইসলামী দল।

সূত্র জানিয়েছে, ওই দলগুলোর বক্তব্য হচ্ছে, বিএনপি জামায়াত ইস্যুতে সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রেখে বৃহত্তর ঐক্য গড়তে চায়। বিগত ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সময়ও কৌশলী ভূমিকা নিয়েছিল। ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের না জানিয়ে নিবন্ধনহীন জামায়াতকে ঐক্যফ্রন্টের বাইরে রাখলেও শেষ মুহূর্তে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের সুযোগ করে দিয়েছিল, যা ঐক্যফ্রন্টসহ বিএনপির মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নেতাকর্মীরা বিষয়টি ভালোভাবে নেননি।

নাম প্রকাশ না করে বৃহত্তর জোটে আসতে আগ্রহী কয়েক নেতা জানান, বিএনপিকে এবার বৃহত্তর ঐক্যজোট গড়তে হলে অবশ্যই জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে হবে। জামায়াতকে সঙ্গে রেখে বিএনপির রাজনৈতিক গুণগত মানোন্নয়ন হবে না। তারা বিষয়টি এখনই নিষ্পত্তি করতে চান। বিএনপিকে এবার আরও কৌশলী ভূমিকা নিলে ক্ষমতার বাইরে থাকার মেয়াদ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। একই সঙ্গে তারা স্বৈরাচার এরশাদ সরকারবিরোধী তিন জোটের রূপরেখা বা প্রতিশ্রুতি ছিল, তা বাস্তবায়ন না করার বিষয়টিও সামনে স্মরণ করে দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, জামায়াতকে জোট থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এখন বৃহত্তর ঐক্য গঠনের কাজ চলছে। ওই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে জামায়াতকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বোঝানো হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তাদের। তারা আশা করেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, শুধু দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি নয়, প্রতিবেশী ভারতসহ পশ্চিমা শক্তিশালী দেশগুলোর পক্ষ থেকেও জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে চাপ অব্যাহত রয়েছে। ২০১২ সালে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাত দিনের ভারত সফরের সময়ও জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে অনুরোধ করেছিল দেশটি। তখন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান শিব শঙ্কর মেননের একান্ত বৈঠকে জামায়াত ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে কাশ্মীরে বিভিন্ন হামলায় জড়িত বলে অভিযোগ করেন। ওই সময় খালেদা জিয়া অভিযোগের প্রমাণ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। প্রমাণিত হলে জামায়াতকে জোটে রাখার বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।

জানা গেছে, দেশে আসার পর ছয় মাসের মাথায় জামায়াতের ডাকা হরতালের কারণে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎ বাতিল করেন খালেদা জিয়া। জামায়াতপন্থি বিএনপি নেতাদের পরামর্শে খালেদা জিয়ার ওই সিদ্ধান্ত বিএনপির অনেক ‘বড় ভুল’ হয়েছে বলে মনে করেন দলের অনেক শীর্ষ নেতাও। এমনকি ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের তৃণমূল নেতাদের মতামত নিয়েছিল বিএনপি। তৃণমূল নেতারাও জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পক্ষে মত দিয়েছেন। ওই মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে কৌশলী ভূমিকা নিয়ে জামায়াত ছাড়াই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করেছিল দলটির হাইকমান্ড।

নাম প্রকাশ না করে বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, এখন সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিএনপি রাজনৈতিক গুণগতমান উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও জামায়াত ইস্যুতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিকে এ বিষয়ে আলোচনা করে প্রস্তাবনা তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন। বিএনপির সার্বিক রাজনৈতিক গুণগতমান উন্নয়নের জন্য একজন সদস্যকে একটি প্রস্তাবনা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই নেতা তার প্রস্তাবনায় জামায়াতে ইসলামীকে জোট থেকে বের করে দেওয়ার সুপারিশ করেন। ওই প্রস্তাবের পর সম্প্রতি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অধিকাংশ সদস্য জামায়াতের সঙ্গ ছাড়লে বিএনপির ভবিষ্যৎ মঙ্গল হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তবে স্থায়ী কমিটির দু’জন সদস্য জামায়াতের ভোটব্যাংকের কথা স্মরণ করে জোট থেকে বাদ দিলে সরকারের ফাঁদে পা দেওয়া হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

সূত্র জানিয়েছে, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনও তার মতামত দেননি। এটি বিএনপির কৌশল বলে মনে করেন দলটির জামায়াতবিরোধী নেতারা। মির্জা ফখরুল দলের চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পরামর্শের বাইরে মতামত দেবেন না। তা ছাড়া স্থায়ী কমিটির নেতারা যাই বলুন- শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দুই শীর্ষ নেতার মতামতই চূড়ান্ত।

২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই নানা ইস্যুতে জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে বিএনপিতে। জামায়াতের যুদ্ধাপরাধী নেতাদের ফাঁসিতে বিএনপির প্রতিক্রিয়া না দেওয়া, ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনার দায়ভার, খালেদা জিয়ার কারাবন্দি হওয়ার পরও জামায়াতের কোনো ভূমিকা না রাখাসহ নানা ইস্যুতে দূরত্ব দিন দিন বাড়ছে। এক যুগের টানাপোড়েনের বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আলোচনার পর দলের হাইকমান্ড কবে নাগাদ জামায়াত ছাড়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন- তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে বিএনপির ভেতরে ও বাইরে।

১০ এপ্রিল ‘মুজিবনগর সরকার গঠনে’র দিন ‘দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তাব করবে :বিএনপির নীতিনির্ধারক সূত্র জানিয়েছে, নানামুখী চাপ ও ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে ইতিবাচক রাজনীতিতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শে ১ মার্চ থেকে বছরব্যাপী বিভিন্ন ঐতিহাসিক দিনগুলোতেও প্রথমবারের মতো নানা কর্মসূচি দিয়ে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মহাজোটের শরিক দলগুলোকে দিবসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দিবসেও কর্মসূচি রেখেছে দলটি। আগামী ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের দিনকে দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে বছরব্যাপী অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দিবসগুলো পালন করবে, যা অতীতে কখনও পালন করেননি।

অবশ্য এ বিষয়ে বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস ও স্বপ্ন নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। কোন স্বপ্নটি পূরণ হয়েছিল, কোনটি পূরণ হয়নি- তা জানানো। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার প্রধান আকাঙ্ক্ষা গণতন্ত্র স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও পূরণ হয়নি। আমাদের এ উদ্যোগে নতুন প্রজন্মের যাতে প্রকৃত ইতিহাস পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হয়।

সংবাদ সূত্রঃ- সমকাল আনলাইন নিউজ পোর্টাল

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. মার্চ ২০২১ ০২:২০:এএম ৫ বছর আগে
নিজভূমে পরবাসী টাঙ্গাইলের সুবল রাজবংশী - Ekotar Kantho

নিজভূমে পরবাসী টাঙ্গাইলের সুবল রাজবংশী

একতার কণ্ঠ ডেক্সঃ  বয়স তার ৫০, নাম সুবল রাজবংশী। অনাহার-অর্ধাহারে জীর্ণ শরীর। বয়সের ভারে নয় পুষ্টির অভাবে ন্যূয়ে পড়েছে। জীবনযুদ্ধে পরাজিত সুবল রাজবংশী বর্তমানে নিজ ভূমে পরবাসী। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের সূতানরী গ্রামে।

পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৬০ শতক ভূমি ১৫ বছর ধরে গ্রামের প্রভাবশালীরা জবর দখল করে রেখেছে। সুবলের বসতভিটা-জমি নিয়ে গ্রাম্য সালিশ-দরবার হয়েছে বিস্তর, কোন সমাধান হয়নি।

সংখ্যালঘু হওয়ায় প্রভাবশালীদের ভয়ে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে গ্রামে যেতে পারেন না তিনি- যে কোন সময় চাপে ফেলে বাড়ি-জমি লিখে নিতে পারে জবর দখল কারীরা।

কিছুদিন বাস করেছেন মামা চান মোহন রাজবংশীর বাড়িতে। এখন তিনি গাজিপুরের চন্দ্রায় ভাড়া ঝুঁপড়িতে স্ত্রী চিত্রা রাজবংশীকে নিয়ে বাস করছেন এবং কিশোর ছেলে সুকুমার রাজবংশীকে(১১) নিয়ে বিভিন্ন স্থানে দিনমজুরি করে দিন কাটাচ্ছেন। কথা বলতে গিয়ে ছেলের ভবিষ্যত ভাবনায় হামেশাই অশ্রু ঝড়ান সুবল।

সরেজমিনে জানা গেছে, ফতেহপুর ইউনিয়নের ফতেহপুর মৌজার গ্রামের স্বর্গীয় গণেশ রাজবংশীর ছেলে সুবল রাজবংশীরা বংশ পরম্পরায় সূতানরী গ্রামের বাসিন্দা। সুবল রাজবংশী দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। মেয়ে বিনোদিনী রাজবংশী ও নূপুর রাজবংশীকে অন্য উপজেলায় বিয়ে দিয়েছেন।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় স্থানীয় ছালাম খান, মানিক খান, হযরত খান, ফরিদ খান ও ছানু খানের পূর্বপুরুষরা আসাম থেকে এসে সূতানরী গ্রামে বসতি স্থাপন করে।

সুবল রাজবংশীর বিএস-৩২৮ খতিয়ানে ২২৪ নং দাগের ২৪ শতক বসত ভিটা ভাগাভাগি করে বসবাস করছেন একই গ্রামের মৃত মজিদ খানের দুই ছেলে ছালাম খান ও মানিক খান এবং মৃত রুস্তম খানের ছেলে হযরত খান ও মৃত কাশেম খানের ছেলে ফরিদ খান।

একই খতিয়ানের ২২৩ দাগের ১৯ শতাংশ কান্দা ভূমি ছালাম খান ও মানিক খান জবরদখলের মাধ্যমে ভোগ করছেন। ওই খতিয়ানের ৪৫৯ দাগের ১৭ শতাংশ নামা ভূমি মৃত ধলা খানের ছেলে ছানু খানের দখলে রয়েছে। নিজ নামে পৈত্রিক ৬০ শতাংশ বাড়ি-জমির মালিক হলেও সুবল রাজবংশী সংখ্যালঘু হওয়ায় প্রভাবশালীরা তাকে পরিবারসহ সূতানরী গ্রাম থেকে কৌশলে বিতারিত করেছে।

এ বিষয়ে সুবল রাজবংশী ইতোপূর্বে মির্জাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই জিডির পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে মির্জাপুর থানায় তলব করা হয়- সেখানেও বিষয়টির কোন সমাধান হয়নি। সর্বশেষ সুবল রাজবংশী গত ২৫ জানুয়ারি প্রতিকার চেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

সূতানরী গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ মিয়া(৬৫), আব্দুল করিম(৭০), নিরঞ্জন রাজবংশী(৫০), নরেশ রাজবংশী(৪০) সহ অনেকেই জানান, সুবল রাজবংশী অত্যন্ত সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ। স্থানীয় নদী ও মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার বাবা-কাকারা তিন ভাই ছিলেন- স্বর্গীয় গণেশ রাজবংশী, স্বর্গীয় জিতেন রাজবংশী ও স্বর্গীয় জিনি রাজবংশী। স্বর্গীয় জিতেন রাজবংশী ও স্বর্গীয় জিনি রাজবংশী স্বাধীনতার আগে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে ভারতে চলে যান।

কিন্তু স্বর্গীয় গণেশ রাজবংশী তার অংশের সম্পত্তি বিক্রি করেন নাই এবং সুবল রাজবংশী অপ্রাপ্ত বয়স্ক থাকাকালে দেশেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সুবল রাজবংশী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, পৈত্রিক ৬০ শতক বসতবাড়ি-জমি থাকা সত্বেও তিনি ভূমি ও ঠিকানাহীন। সংখ্যালঘু হওয়ায় তার সম্পত্তি ছালাম খান ও তার আত্মীয়রা গায়ের জোরে জবরদখল করে নিয়েছে।

বার বার গ্রাম্য সালিশ-বিচারে উপস্থিত হয়ে জমির কাগজপত্র দেখিয়েও তিনি বাড়ির দখল ফিরে পাননি। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করায় ডিবি এলাকায় গিয়ে তদন্ত করে এসেছে। কিন্তু কোন প্রতিবেদন দেয় নাই। এলাকায় থাকলে জবরদখলকারীরা তাকে মেরে ফেলতে পারে তাই তিনি স্ত্রী, ছেলেকে নিয়ে চন্দ্রায় দিনমজুরি করে কোন রকমে বেঁচে আছেন।

অভিযুক্ত ছালাম খানের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী বয়োবৃদ্ধ রহিমা খানম জানান, সুবল রাজবংশী বাড়ির কিছু অংশের মালিক। সুবল চাইলে বসবাসের জন্য তারা বাড়ি ছেড়ে দেবেন। তবে সুবল যদি তার জায়গা বিক্রি করতে চায় তারা বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কিনে রাখবেন।

ছালাম খানের ভাতিজা মো. রুবেল খান জানান, তারা কারো সম্পত্তি জবরদখল করেননি। বাড়ি ও জমির দলিল তাদের কাছে রয়েছে। প্রয়োজনে যথাস্থানে উপস্থাপন করা হবে। তবে সুবল যদি জায়গা বিক্রি করতে চায় তারা কিনে নেবেন।

ফতেহপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মজনু মিয়া জানান, বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে বার বার সালিশের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম দিকে অভিযুক্ত ছালাম খানরা তাদের কাছে ওই জমির দলিল আছে বলে জানিয়েছে পরে আর কোনদিন সালিশে হাজির হয়নি।

ফতেহপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রৌফ মিয়া জানান, সুবল রাজবংশীর বাড়ি ও জমি নিয়ে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। ছালাম খানরা বিষয়টির সমাধান চাইলেও পরে আর সালিশে উপস্থিত হয়নি। মূলত: সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন তালুকদারের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিমাংসা করা সম্ভব হয়নি।

টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের(ডিবি-দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ আমীর হোসেন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি অবগত নন। তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩. মার্চ ২০২১ ০৩:৩৬:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে যথাযথ মর্যদায় পুলিশ মেমোরিয়াল ডে পালিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে যথাযথ মর্যদায় পুলিশ মেমোরিয়াল ডে পালিত

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ  টাঙ্গাইলে যথাযথ মর্যদায় পুলিশ মেমোরিয়াল ডে পালন করা হয়েছে। সোমবার (১ মার্চ) সকালে জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে দায়িত্ব পালন কালে আত্ম-উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের সম্মানে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পন ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

পরে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেড মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক।

আয়োজিত স্মরণ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল-সদর(৫) আসনের সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন, মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমাড্যান্ট ডিআইজি মো. ময়নুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি, সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান, পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি আ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমুখ।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম।

এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে আত্ম-উৎর্সকারী টাঙ্গাইলের ৭৯ পুলিশ সদস্যের পরিবারকে সম্মাননা, ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয় ।এদের মধ্যে গত বছর দায়িত্ব পালনকালে আত্ম-উৎর্সকারী আট পুলিশ সদস্যের পরিবারকে আইজিপি’র পক্ষ থেকে নগদ ৫০ হাজার করে টাকা, ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারকসহ উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২. মার্চ ২০২১ ০৩:৫২:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলের আদিবাসী গারোদের মাতৃভাষা ‘আচিক’ বিলুপ্ত প্রায় - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের আদিবাসী গারোদের মাতৃভাষা ‘আচিক’ বিলুপ্ত প্রায়

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ  টাঙ্গাইলের পাহাড়িয়াঞ্চল মধুপুর, ঘাটাইল ও সখীপুর এলাকার আদিবাসী গারো সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা ‘আচিক’ কালের গর্ভে বিলুপ্ত প্রায়। আচিকের লেখ্য রূপ ইতোমধ্যে বিলুপ্ত ও গারোদের মুখে মুখে এ ভাষা অল্প বিস্তর টিকে আছে। মাতৃভাষা আচিক রক্ষার জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছে আদিবাসী নেতারা। একই সাথে এ ভাষা রক্ষায় গারো শিশুদের মাতৃভাষায়(আচিক) প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহনেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

মধুপুরের আদিবাসী গারোদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একদা এতদাঞ্চলের গারো সম্প্রদায়ের মানুষ মাতৃভাষা ‘আচিক’ ভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষা জানতেন না বা ব্যবহার করতেন না। সময়ের বিবর্তণে জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে বা লেখাপড়া করতে প্রকৃতির সন্তান গারোরা আশপাশের বাঙালি প্রধান এলাকায় এসেছেন বা বাঙালিরা পাহাড়ে ব্যবসার জন্য তাদের কাছাকাছি গেছেন। আদিবাসী এলাকার বনভূমিতে বাঙালিরা বসতি স্থাপন করেছে। এভাবে এক সময় নিজ এলাকায়ই আদিবাসী গারোরা সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে। এখন গারো শিক্ষার্থীদের স্কুলে বাংলা মাধ্যমেই লেখাপড়া করতে হয়। কর্মজীবনে অফিস-আদালতসহ সব কাজেই তাদের বাংলা ব্যবহার করতে হয়। ফলে তাদের মাতৃভাষার চর্চা কমে যায়।

জানা যায়, বাংলাদেশের টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, সিলেট, শেরপুর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ঢাকা ও গাজীপুর জেলায় গারো সম্প্রদায়ের বসবাস। এছাড়া ভারতের মেঘালয়, আসামের কামরূপ, গোয়ালপাড়া ও কারবি আংলং জেলায় গারোরা বসবাস করে থাকে।

আদিবসী গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অধিকাংশ গারোই তাদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন। গারোদের ভাষায় ‘মান্দি’ শব্দের অর্থ ‘মানুষ’। গারো ভাষা লাতিন লিপিতে লেখা হয়। গারোদের মাতৃভাষায় ‘আচিক’ শব্দের অর্থ ‘পাহাড়’।

আদিবাসী গারোদের বাসবাস সাধারণত পহাড়িয়াঞ্চলে। গোত্রভেদে গারোদের মধ্যে পৃথক পৃথক উপভাষার প্রচলন রযয়েছে। ‘আচিক’ উপভাষাটি বাংলাদেশের টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোণা এবং ভারতের মেঘালয় অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত গারোদের ‘মাতৃভাষা’।
অন্যান্য উপভাষার মধ্যে রয়েছে- আবেং, আওয়ে, চিসাক, দাক্কা, গাঞ্চিং, কামরূপ, মাতচি।

এ ব-দ্বীপে আদিবাসী গারোদের মধ্যে ‘আবেং’ উপভাষাটিও প্রচলিত। এই উপভাষার সাথে কোচ ভাষার মিল রয়েছে। বাংলাদেশের গারোরা আবেং উপভাষায় কথা বললেও আচিক উপভাষায় লিখে থাকে।

আদিবাসী প্রবীণ নেতারা জানান, গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা প্রচলিত। অতীতে গারোরা সবাই তাদের নিজস্ব ধর্ম পালন করত। তাদের আদি ধর্মের নাম ‘’সাংসারেক’। ১৮৬২ সালে এতদাঞ্চলের গারোরা খ্রিষ্টীয় ধর্ম গ্রহন করা শুরু করে। ধর্ম প্রচারে বন এলাকায় মিশনারীদের আগমনে বর্তমানে শতকরা ৯৮ ভাগ গারোরাই খ্রিষ্টীয় ধর্মাবলম্বী। খ্রিষ্টীয় ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর তাদের সামাজিক নিয়ম-কানুন ও আচার-অনুষ্ঠানে অনেক পরিবর্তন এসেছে এবং খ্রিষ্টীয় ধর্মের আচারাদির প্রভাব পড়েছে।

মধুপুরের আদিবাসী নেতাদের মতে, বাংলাদেশে প্রায় সোয়া লাখ গারো সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার মধুপুর গড়াঞ্চলে বসবাস করে। দুই বা তিন দশক আগেও গারোরা মাতৃ ভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষা জানত না। এখন মধুপুর গড়াঞ্চলের স্কুল পড়–য়া শিশুদের অধিকাংশই তাদের মাতৃভাষা ‘আচিক’ ভালভাবে জানেনা। কেউ কেউ নিজ বাড়িতে মা-বাবার মুখে শুনে এ ভাষা সম্পর্কে কিছুটা বুঝতে শিখলেও তারা আচিক ভাষায় অনর্গল উত্তর দিতে পারে না। বাংলা ও ইংরেজি ভাষার আধিক্যে তাদের মধ্যে ‘আচিক’ ভাষার চর্চাও কমে গেছে।

মধুপুরের আদিবাসী নেতা অজয় এ মৃ জানান, ‘আচিক’ ভাষার লিখিত কোন বর্ণমালা নেই। কথিত আছে- দুর্ভিক্ষপীড়িত তিব্বত অঞ্চল ত্যাগ করে গারোরা যখন ভারতীয় উপমহাদেশে আসছিলেন, তখন যার কাছে পশুর চামড়ায় লিখিত আচিক ভাষার পুঁথি-পুস্তকাদি ছিল, সেই ব্যক্তি পথে ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে সব পুঁথি-পুস্তক সেদ্ধ করে খেয়ে ফেলেন।

তিনি সম্পূর্ণ ব্যাপারটি গোপন রাখেন। এ উপমহাদেশে প্রবেশের পর নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং স্থায়ী বাসযোগ্য স্থান নির্বাচনের জন্য দীর্ঘদিন প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ করে অভিজ্ঞ গারোরা প্রাণ হারান। এ উপমহাদেশে আগমন ও বসতি স্থাপনের দীর্ঘদিন পরে পুঁথি-পুস্তক হারানোর ঘটনাটি প্রকাশ পায়। কিন্তু ততদিনে গারো বর্ণমালা বিস্মৃতির অতল গর্ভে বিলুপ্ত হয়ে যায়। ফলে আচিক ভাষার বর্ণমালা চিরতরে হারিয়ে যায়। তবে গারোদের মুখে মুখে আচিক ভাষার প্রচলন এখনও কোন কোন গারো পরিবারে রয়েছে।

মধুপুরের আচিক মিচিক সোসাইটির সভাপতি সুলেখা দ্রুং জানান, বাংলাদেশের গারো সম্প্রদায় তাদের মাতৃভাষা আচিককে টিকিয়ে রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রোমান বর্ণমালার আদলে নির্মিত আচিক ভাষার বর্ণমালার প্রচলনের চেষ্টা চলছে। ভারতে ইতোমধ্যে রোমান বর্ণমালার আদলে গারো সম্প্রদায়ের আচিক ভাষা সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। মধুপুরেও শিশুদের রোমান অক্ষর দিয়ে আচিক ভাষার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে গারো অধ্যুষিত কয়েকটি স্কুলে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এ ব্যবস্থা নেই। তিনি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব স্কুলে আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষায় পড়ানোর দাবি জানান।

আদিবাসীদের সংগঠন ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মধুপুর শাখার কর্মকর্তারা জানান, মাতৃভাষা ধরে রাখার জন্য তারা নিজেরা বাড়িতে সব সময় আচিক ভাষায় কথা বলে থাকেন। তবু তাদের ভাষা রক্ষা করা যাচ্ছে না। বাংলার সঙ্গে ক্রমেই আচিক ভাষা মিশে যাচ্ছে।

জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক জানান, তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ২০০৮ সালে গড়াঞ্চলে ১২টি স্কুল চালু করা হয়েছিল- যেখানে গারো শিশুদের আচিক ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হত। কয়েক বছর চলার পর দাতা সংস্থার অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তিনি আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

তিনি আরও জানান, ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষা নীতিমালায় শিশুদের তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছেনা। গারো শিশুদের জন্য মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। না হলে আগামি প্রজন্ম মাতৃভাষা কী ছিল তাই জানতে পারবে না।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. ফেব্রুয়ারী ২০২১ ০২:৪৬:এএম ৫ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।