/ হোম / অর্থনীতি
টাঙ্গাইলে ৭টি ইটভাটা বন্ধ করল পরিবেশ অধিদপ্তর, তিনটি ভাটাকে অর্থদণ্ড - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ৭টি ইটভাটা বন্ধ করল পরিবেশ অধিদপ্তর, তিনটি ভাটাকে অর্থদণ্ড

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সাতটি অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের নির্বাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা সালেহা সুমী এ অভিযান পরিচালনা করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক বিপ্লব কুমার সূত্রধর জানান, পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত-২০১৯) অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ঘাটাইল উপজেলার পাঁচটি পার্শ্ববর্তী কালিহাতী ও ভূঞাপুর উপজেলার দুটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

লাইসেন্সবিহীন সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পরিচালিত এসব ইটভাটা মলিকদের কাছ থেকে ৩৯ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এর মধ্যে ছয়টি ইটভাটার মালিকের প্রত্যেককে ছয় লাখ টাকা করে এবং একজন ভাটা মালিককে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ইটভাটার কিলন ভেঙে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহায়তায় পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ভাটার কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অভিযান পরিচালনা করে বন্ধ করে দেওয়া ইটভাটাগুলো হলো ঘাটাইল উপজেলার সিংগুরিয়া গ্রামের সুজন ব্রিকস, সিয়াম ব্রিকস, স্বর্ণা ব্রিকস-২, মিশাল ব্রিকস ও লোকেরপাড়া গ্রামের এমএসটি ব্রিকস। কালিহাতী উপজেলার তালতলা গ্রামের একুশে ব্রিকস ও ভূঞাপুর উপজেলার ভারই গ্রামের কবির ব্রিকস।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের উপপরিচালক জমির উদ্দিন, সহকারী পরিচালক তুহিন আলম ও সহকারী পরিচালক জনাব সজীব কুমার ঘোষ প্রমুখ।

অভিযানে টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচলক পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, সোমবার সাতটি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় টাঙ্গাইল জেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

এদিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় তিনটি ইটভাটার মালিককে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন ও জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয় ভাটাগুলোতে। এ সময় জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জমির উদ্দিনসহ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় মির্জাপুরের গোড়াই সৈয়দপুর এলাকার মেসার্স আশা ব্রিকস এন্ড কোং ও মেসার্স নূরজাহান ব্রিকসকে ছয় লাখ টাকা করে এবং রানাশাল এলাকার মেসার্স হাকিম এন্টার প্রাইজকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত)-২০১৯ অনুযায়ী ইটভাটা পরিচালনার জন্য মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৩:১৪:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইল শাড়ির স্বত্ব নিয়ে ফুসে ওঠছে জেলাবাসী - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল শাড়ির স্বত্ব নিয়ে ফুসে ওঠছে জেলাবাসী

একতার কণ্ঠঃ ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়িকে ভারতের দাবি করে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি নেওয়ার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুসে ওঠছে জেলাবাসী। দ্রুত ভারতের জিআই বাতিল করে বাংলাদেশের পণ্য হিসেবে ‘টাঙ্গাইল শাড়ি’কে জিআই স্বীকৃতির দাবি করেছে জেলার ব্যবসায়ী ও সুধীজনরা।

ভারতের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) করা একটি পোস্টে বলা হয়- ‘টাঙ্গাইল শাড়ি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উদ্ভূত, একটি ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা মাস্টারপিস। এর মিহি গঠন, বৈচিত্র্যময় রং এবং সূক্ষ্ম জামদানি মোটিফের জন্য বিখ্যাত এটি এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। টাঙ্গাইলের প্রতিটি শাড়ি ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধ সৌন্দর্যের মেলবন্ধনে দক্ষ কারুকার্যের নিদর্শন।’

এরপর থেকে টাঙ্গাইলসহ সারাদেশে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। জেলা সদর সহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের সচেতন মহল ইতোমধ্যে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। এ বিষয়ে জরুরি সভা করে মন্ত্রণালয়ে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক।

টাঙ্গাইল শাড়ি বাংলাদেশি পণ্য হিসেবে জিআই স্বীকৃতির দাবিতে শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’- এর ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনকারীরা ‘টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ি, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য’, ‘নদী-চর খাল-বিল গজারির বন, টাঙ্গাইলের শাড়ি তার গরবের ধন’, ‘আমার ঐতিহ্য, আমার অহঙ্কার’, ‘টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ির জিআই স্বীকৃতি চাই’- ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে দাঁড়ান।

ওই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুঈদ হাসান তড়িৎ, আরিফুজ্জামান সোহেল, সমাজকর্মী নাজিউর রহমান আকাশ, মির্জা রিয়ান, আহসান খান মিলন, স্মরণ ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, টাঙ্গাইল শাড়ি বাংলাদেশের বিখ্যাত শাড়ি। ভারতীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল পেজে এই টাঙ্গাইল শাড়ি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উদ্ভূত একটি ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা মাস্টারপিস বলা হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বর্তমান সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করি।

সরেজমিনে টাঙ্গাইল শাড়ির সঙ্গে জড়িতরা জানায়, প্রায় ২০০ বছর ধরে ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক-বাহক টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ি। যা নিজস্ব ঐতিহ্য বহন করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুনাম কুড়িয়েছে। এছাড়া ‘নদী-চর খাল-বিল গজারির বন, টাঙ্গাইল শাড়ি তার গরবের ধন’ এ স্লোগানের আলোকেই টাঙ্গাইলের মানুষের জীবনাচরণ চলমান। টাঙ্গাইল শাড়ি সদর উপজেলার বাজিতপুর, কৃষ্ণপুর, দেলদুয়ারের পাথরাইল, চন্ডী, কালিহাতীর বল্লা, রামপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়। তবে দেলদুয়ারের পাথরাইল টাঙ্গাইল শাড়ির রাজধানী হিসেবে খ্যাত।

বল্লা এলাকার সুতা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোস্তফা আশরাফী ও সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান হাসান ভারতের কড়া সমালোচনা করে জানান, প্রায় আড়াইশ’ বছরের ঐতিহ্য টাঙ্গাইল শাড়ি। এ শাড়ি টাঙ্গাইলেই অসাধারণ কারুকার্য ও সুক্ষ্ম নিপুনতায় অত্যন্ত দরদ দিয়ে তৈরি করা হয়। টাঙ্গাইল শাড়ির স্বত্ব শুধুমাত্র টাঙ্গাইলের তাঁতিদের। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার টাঙ্গাইল শাড়ির ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি দিয়ে ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ির স্বত্ব ছিনতাই করার দুঃসাহস দেখিয়েছে।

টাঙ্গাইল শাড়ির রাজধানী খ্যাত পাথরাইলের শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক জানান, টাঙ্গাইল শাড়ি বলতে টাঙ্গাইলকেই বোঝায়। টাঙ্গাইলের নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া টাঙ্গাইল শাড়ির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ভিন্ন মান ও ভিন্ন দক্ষতায় টাঙ্গাইল শাড়ি তৈরি হয়। এই দক্ষতায় অন্য জায়গায় শাড়ি তৈরি হলেও সেটা টাঙ্গাইল শাড়ি না। অন্যরা টাঙ্গাইল শাড়িকে নিজের দাবি করে জিআই ট্যাগ নেওয়া- এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। তিনি এর প্রতিবাদ জানিয়ে এর বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগারের সাধারণ সম্পাদক কবি মাহমুদ কামাল জানান, স্বাধীন বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা টাঙ্গাইল। কয়েকশ’ বছর আগে থেকে টাঙ্গাইল শাড়ি পৃথিবী বিখ্যাত। এ শাড়ির অন্য দেশের জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। ওই দেশের জিআই স্বীকৃতি বাতিল করে বাংলাদেশের পণ্য হিসেবে টাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানান তিনি।

টাঙ্গাইল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ আর্টিজেন্স ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন লিমিটেড এবং বল্লা এলাকা তন্তুবায় সমবায় সমিতির সভাপতি মোফাখখারুল ইসলাম জানান, প্রাচীণকাল থেকে টাঙ্গাইল শাড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায় তাঁতিদের সুক্ষ্ম দক্ষতায় সুনিপুনভাবে তৈরি হচ্ছে। ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে দেশভাগের পর টাঙ্গাইলের তাঁতিদের কেউ কেউ ভারতে গিয়ে বসতি স্থাপন করেছে। সেখানেই তারা আদি পেশা ‘তাঁত শিল্পের’ কাজ করছে। তাই বলে টাঙ্গাইল শাড়ি কখনোই সেদেশের হতে পারেনা। দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়ের জোরে টাঙ্গাইল শাড়ি দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। যারা ওই দেশে রয়েছে- তারাও শাড়ি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে- এটা যেমন সত্য, তেমনি টাঙ্গাইল শাড়ি টাঙ্গাইলেরই সম্পত্তি- এটাও ধ্রুব সত্য। তিনি ওই দেশের জিআই স্বীকৃতি বাতিল করে বাংলাদেশের পণ্য হিসেবে টাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানান।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইল শাড়ি, মধুপুরের আনারস ও জামুর্কির সন্দেশ জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেতে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এটা যে এখানকার অর্জন, সেটার ৫০ বছরের সুদীর্ঘ ধারাবাহিকতা দিতে হয়। অথচ টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ি আড়াইশ’ বছরের পুরাতন। টাঙ্গাইল শাড়ি জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকার রাখে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া ২০১৭ সালে টাঙ্গাইল শাড়ি সরকার কর্তৃক ব্র্যান্ডিং হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভারত যে ঘটনাটা ঘটিয়েছে, তারা ডকুমেন্টেশনে উল্লেখ করেছে- পাথরাইলের বসাক পরিবারের আদি পুরুষরা সেখানে গিয়ে তাঁত শাড়ির পাড়ের ডিজাইন চেঞ্জ করে একটা ভিন্ন প্রকার উদ্ভাবন করেছে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে স্টাডি করা শুরু হয়েছে। তিনি জেলা প্রষশাসকের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভা করেছেন। মন্ত্রণালয় টু মন্ত্রণালয় কথা বলে এ বিষয়ে কীভাবে আবেদন করা যায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও আপিল করার সুযোগ থাকলে সে বিষয়েও কথা বলা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:১৮:এএম ২ বছর আগে
পন্যের যদি সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকে তবে কেউ মজুতদারী করতে পারবেনা: বানিজ্য প্রতিমন্ত্রী - Ekotar Kantho

পন্যের যদি সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকে তবে কেউ মজুতদারী করতে পারবেনা: বানিজ্য প্রতিমন্ত্রী

একতার কণ্ঠঃ বানিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে, পণ্যের বাজার ব্যবস্থা উন্নত করা। পন্যের যদি সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকে তবে কেউ মজুতদারী করতে পারবেনা। এ বিষয়ে খাদ্য পণ্যের সরবহাহকারীদের সাথে আমাদের কথা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, রমজান মাসসহ বছরের ১২ মাস দেশের এক কোটি মানুষকে টিসিবির মাধ্যমে খাদ্য পন্য সরবরাহ করা হবে।

মন্ত্রী শনিবার (২৬ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ, বলরামপুর ও নিশ্চিন্তপুর এবং মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী এলাকা সমুহ যমুনা নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষাকল্পে বাম তীর বরাবর ছয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে জিওব্যাগ দ্বারা নদী তীর রক্ষা কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদ্দিচ্ছায় নদী পারের মানুষকে রক্ষাকল্পে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে ২১ লাখের উপরের জিওব্যাগ ফেলা হবে।

নদী তীর প্রতিরক্ষামুলক কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাবৃন্দ, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গন্যমান্য উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী যমুনা নদীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরির্দশন করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. জানুয়ারী ২০২৪ ০১:৪৪:এএম ২ বছর আগে
বাসাইলে ১০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের অনুমোদন - Ekotar Kantho

বাসাইলে ১০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের অনুমোদন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় কাশিল ইউনিয়নের নাকাসিম এলাকায় ১০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সরকারি অনুমোদি মিলেছে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে বুধবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দুইটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।

এর মধ্যে টাঙ্গাইলের বাসাইলে একটি ও কক্সবাজার সদরে একটি।এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটির ট্যারিফ অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান বৈঠক শেষে বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সাঈদ মাহবুব খান জানান, টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ পেয়েছে যৌথভাবে রিনিউবেল এনার্জি ইউকে লিমিটেড, বাদল কনস্ট্রাকশন ও জি-টেক সলিউশন লিমিটেড কনসোর্টিয়াম। প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ১০ টাকা ৯৯ পয়সা হিসাবে সরকার তাদের আনুমানিক ৩ হাজার ৫৬১ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করবে।

তিনি আরো জানান,কক্সবাজার সদর উপজেলায় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ পেয়েছে যৌথভাবে কেএআই বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড ও অলটেক অ্যালুমিনিয়াম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কনসোর্টিয়াম। প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ১০ টাকা ৯৮ পয়সা হিসাবে তাদের সরকার পরিশোধ করবে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে কাশিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রমজান মিয়া বলেন, কাশিল ইউনিয়নের নাকাসিম গ্রামের সায়ের মৌজার এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে স্থানীয় বেশ কিছু লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ ছাড়াও উপজেলার লোকজনের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ ভুমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী।

বাদল কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মোঃ বাদল মিয়া জানান, ইতিমধ্যে প্রকল্পটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ট্যারিফ অনুমোদন দিয়েছে। বিশ্বব্যাপি পরিবেশ রক্ষায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দেয়া হচ্ছে। উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও জ্বালানি আমদানি কমাতে সরকারও এখাতে জোর দিয়েছে। যার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলো বাদল কনস্ট্রাকশনের।এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।

তিনি আরও জানান,তবে এখনও অনুমোদনের লিখিত কাগজ হাতে পাইনি। কাগজ হাতে পেলে বিস্তারিত বলবো। তবে এটা বলতে পারি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে, কাশিল তথা বাসাইল উপজেলায় অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. ডিসেম্বর ২০২৩ ০১:০৯:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের “মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শক্তিশালীকরণ” প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নবনির্মিত ১০ তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন, ১২ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক-কাম-রিসার্স ভবন, ৫৫০ জন ছাত্রের জন্য ৬ তলা বিশিষ্ট শেখ রাসেল হল, ৭০০ জন ছাত্রীর জন্য দশ তলা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, সিনিয়র শিক্ষক ও কর্মকর্তাগণের জন্য ৫ তলা পর্যন্ত আবাসিক ভবন এবং ৫ তলা পর্যন্ত মাল্টিপারপাস ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এছাড়াও শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-টাঙ্গাইল এর কার্যক্রম,ধনুয়া-এলেঙ্গা এবং বঙ্গবন্ধুসেতুর পশ্চিম পাড়-সলকা গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার(১৪ নভেম্বর) সকালে ভিডিও কনফারেন্সে’র মাধ্যমে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই উপলক্ষ্যে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এসব অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,চিকিৎসক,শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. নভেম্বর ২০২৩ ০৪:৪৭:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে সোনালী ব্যাংকের পাঁচ কোটি টাকা লোপাটে ম্যানেজার বরখাস্ত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সোনালী ব্যাংকের পাঁচ কোটি টাকা লোপাটে ম্যানেজার বরখাস্ত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখায় গ্রাহকের সঞ্চয়পত্রের ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে ম্যানেজার শহিদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আত্মসাতের এসব টাকা সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখায় তার ভাই, বন্ধুর শাশুড়ি সহ একাধিক একাউন্টের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও টাঙ্গাইল প্রিন্সিপাল কার্যালয় হতে আলাদা আলাদাভাবে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানাগেছে, শহিদুল ইসলাম ম্যানেজার হিসেবে সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখায় ২০২০ সালে যোগদান করে। এরপর দীর্ঘ ৩ বছর ২ মাস কাজ করেন সেখানে। এই দীর্ঘ সময়ে তথ্য প্রযুক্তিতে মেধাসম্পন্ন শহিদুল ইসলাম কৌশলে ব্যাংকের ১৩০ জনের সঞ্চয়পত্রের টাকা লুজ চেকের (জরুরী উত্তোলনের জন্য একক পাতা) মাধ্যমে অন্য একাউন্টে ৫ কোটি ১১ লাখ টাকা সরিয়েছেন। এছাড়া উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের হত দরিদ্রদের ভাতার ৬ লাখ ৮১ টাকাও গায়েব করা হয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম তার বড় ভাই ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া গ্রামের মহির উদ্দিন তালুকদারের এগ্রো ফার্ম ও কালিহাতি উপজেলার আদাবাড়ি গ্রামের খালেদা বেগম নামে পলাশ এগ্রো ফার্মেও একাউন্টসহ তার বন্ধু বান্ধবদের একাউন্টের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করেন।

খালেদা বেগমের মেয়ের জামাই পটুয়াখালী জেলায় দুদকের উপ-পরিচালক মামুন চৌধুরীর সাথে শহিদুল ইসলামের বন্ধুত্বের কারণে ওই হিসাব নম্বর ব্যবহার করে টাকা সরানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় সোনালী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে গোবিন্দাসী শাখা হতে ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন শহিদুল ইসলাম।

ভুক্তভোগী গ্রাহক উপজেলার কয়েরা গ্রামের মর্জিনা জানান, মেয়েদের বিয়ে দেয়ার জন্য জমিজমা বিক্রি ও অন্যান্য মিলিয়ে ২১ লাখ টাকা ব্যাংকে সঞ্চয়পত্রে রেখেছিলাম। কিন্তু পরে লভ্যাংশ তুলতে গিয়ে দেখি সঞ্চয়পত্রে টাকাই জমা হয়নি। ব্যাংক ম্যানেজার কৌশলে অনেক গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেছে।

রুহুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শেফালী বেগম জানান, রক্ষক যদি ভক্ষক হয় তাহলে কি করবো আমরা। কয়েক মাস লাভের টাকা তুলেছিলাম। ম্যানেজার শহিদুলকে বদলি করার পর ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারি আমার সঞ্চয়পত্রই খোলা হয়নি। প্রতিকার চেয়ে ইউএনওর কাছে অভিযোগ দিয়েছি।

তালুকদার এগ্রো ফার্মেও স্বত্বাধিকারী মহির উদ্দিন বলেন, ব্যাংকে একাউন্ট করার পর ৭ লাখ টাকা ঋণ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই ঋণের টাকাসহ জমি বন্ধক রেখে ভাইকে (শহিদুল) আরও দুই লাখ টাকা দিয়েছি। একাউন্টে কয় টাকা আছে বা নেই আমি কিছুই জানিনা। চেকের পাতাগুলোতে স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছিল সে।

পলাশ এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী খালেদা বেগম বলেন, একাউন্টের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কত টাকা আছে বা নাই। মেয়ের জামাই মামুন চৌধুরীই একাউন্টে লেনদেন করতো তার লোকজন দিয়ে। ব্যাংক ম্যানেজার শহিদুল তার বন্ধু ছিল। তাই গোবিন্দাসী শাখায় একাউন্ট খোলা হয়েছিল। ঝামেলার কারণে দেড় মাস আগে একাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছি।

পটুয়াখালী জেলার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মামুন চৌধুরী বলেন, শহিদুলের সাথে ঢাকায় পড়াশুনার সুযোগে পরিচয় হয় তাঁর। পরিচিত হওয়ায় তার ব্যাংকে একাউন্ট খোলা হয়েছে শাশুড়ির নামে।
বিভিন্ন সময় ব্যাংকে লেনদেন করা হয়েছে। শাশুড়ির একাউন্টেতো নগদ টাকা জমা দেয়া হয়েছে কিন্তু সেখানে যদি ম্যানেজার অন্য একাউন্ট থেকে টাকা তার একাউন্টে জমা দিয়ে উত্তোলন করে তাহলে কিছু করার নেই।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বলেন, ম্যানেজারের আইডি হ্যাক করে ব্যাংকের লোকজন টাকাগুলো আত্মসাৎ করে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমাকে বদলি করার পর আমার আইডি ব্যবহার করে টাকা সরানো হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের কাগজপত্রগুলো ব্যাংকের পিয়ন লাভলুর বাড়িতে পোড়ানো হয়েছে। এছাড়া এখনও গ্রাহকদের সঞ্চয়পত্রের টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখার ম্যানেজার ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, যেহেতু তদন্ত হচ্ছে সেহেতু এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করা যাবে না। প্রতিদিনই ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ব্যাংকে ভিড় করছেন টাকা ফেরতের জন্য।

সোনালী ব্যাংক প্রিন্সিপাল অফিস ঘাটাইলের ডিজিএম আব্দুল্লাহ ফয়সাল বলেন, গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম দোষ স্বীকার করায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রধান কার্যালয় তদন্ত করছে। অন্যদিকে দুদকে একটি মামলা হয়েছে। গ্রাহকদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা টাকা ফেরত পাবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. নভেম্বর ২০২৩ ০৩:৫৬:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলের সাধারণ ক্রেতাদের আলু-পেঁয়াজ কিনতে হিমশিম অবস্থা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের সাধারণ ক্রেতাদের আলু-পেঁয়াজ কিনতে হিমশিম অবস্থা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে গত কয়েক দিন ধরে বেড়েই চলেছে আলু, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম। বাড়তি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। জেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে বাজার মনিটরিং কমিটি থাকলেও তাদের কোন দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই। বাজারে নেই জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা শাখার তৎপরতা।

তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, সর্বশেষ বৃষ্টিতে সবজি খেত নষ্ট এবং হরতাল-অবরোধের কারণে আমদানি কমে যাওয়ায় আলু, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন সবজির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ীরা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি কিনে আনেন। সেখানে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানেও পাইকারি ও খুচরা বাজারে সবজির দাম বেশি। দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ীদের কোনো হাত নেই।

ব্যবসায়ীরা জানান, টাঙ্গাইলের প্রধান পাইকারি কাঁচা বাজার পার্কবাজারে প্রতিদিন মধ্যে রাত থেকে পাইকারি দরে আলু-পেঁয়াজসহ বিভিন্ন সবজি বিক্রি করা হয়। শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং কালিয়াকৈর, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পাইকারি দরে আলু-পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি কিনে নিয়ে যান। এই বাজারে খুচরা মূল্যে বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর দিনাজপুরসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আলু-পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। কেনার দামে নির্ভর করে বিক্রির দাম নির্ধারণ করেন পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা। পণ্যে গুলোর দাম বাড়ায় বিক্রি কমে গেছে বলেও জানালেন তারা।

পাইকারি ব্যবসায়ী আলী আকবর ও হাফিজ মিয়া বলেন, বর্তমানে টাঙ্গাইলের বাজারে নিজস্ব কোনো আলু নেই। সব আলু উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আমদানি করতে হয়। পাইকারি দরে প্রতি কেজি আলু ৬৫ টাকা ও পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমাদের যেমন কেনা, তেমন বিক্রি করছি। আমাদের কেউ দাম বাড়ায় না।

খুচরা বিক্রেতা নাজমুল মিয়া বলেন, আলু ৭৫ টাকা, পেঁয়াজ ১৩৫ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, ফুল কপি ৫০ টাকা, শসা দেশী ৮০ টাকা, কচুর মুখি ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।

বুধবার (১ নভেম্বর) সকালে পার্ক বাজারে কথা হয় অটোরিক্সা চালক মজিবুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, আধা কেজি পেঁয়াজ ৭০ টাকা ও আধা কেজি আলু ৪০ টাকা দিয়ে কিনলাম । নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়ানোর জোর দাবি করছি।

বাজারে সবজি কিনতে আসা সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, আমরা বেসরকারি চাকরি করি। সব কিছুর দাম দিনের পর দিন বেড়েই চলছে। আগে যে বাজার করতে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা লাগতো, এখন সেই বাজার করতে চার হাজার টাকার বেশি লাগে। এই অতিরিক্ত টাকার যোগান দেওয়া আমার জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

পার্কবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুর বারেক মিয়া বলেন, এই বাজারে প্রতিদিন প্রায় ১০০টন করে আলু-পেঁয়াজ বিক্রি হয়। এখানে কয়েক জন ব্যবসায়ী ভারত থেকে এলসি করেও পেঁয়াজ আনেন। হরতাল ও অবরোধের প্রভাব পড়েছে এই সব পণ্যের উপর।কয়েক দিন ধরে হরতাল অবরোধের কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ীদের কোনো হাত নেই।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জোবায়ের উজ্জ্বল একতার কণ্ঠকে জানান, গত বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) আমাদের সংগঠনের উদ্যোগে জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক সিকদার শাহিনুর আলম ও জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা খানের সঙ্গে কৃষি পণ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তারা বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।

টাঙ্গাইল জেলা ভোক্ত অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সিকদার শাহিনুর আলম একতার কণ্ঠকে জানান, কৃষি পণ্য আলু ও পিঁয়াজের দাম বৃদ্ধি মনিটরিংয়ের দায়িত্ব কৃষি বিপণন ও সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের । এই অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগন বিষয়টি দেখাশোনা করে থাকেন।

জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা খান একতার কণ্ঠকে জানান, জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে নিয়মিত বাজার মনিটারিং করা হয়। তবে আলু ও পিঁয়াজের ক্ষেত্রে এই কৃষি পণ্য দুটি জেলার মোট চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় উত্তরবঙ্গ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে টাঙ্গাইলে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের এই পণ্য দুটির দাম বেশি হয়ে যায়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২. নভেম্বর ২০২৩ ০২:২১:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে একদিনের বৃষ্টিতে ভেসে গেছে ৮২ লাখ পোনা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে একদিনের বৃষ্টিতে ভেসে গেছে ৮২ লাখ পোনা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে একদিনের ভারী বৃষ্টির ফলে ভেসে গেছে মাছের পোনা। এতে করে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মৎস্য চাষীরা। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নতুন মৎস্য উদ্যোক্তারা। সরকারিভাবে প্রণোদনা সহায়তা না পেলে ঋনের বোঝা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হবে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য চাষিরা। এদিকে, বৃষ্টির পানিতে নদী-নালা, খাল-বিলসহ ফসলি জমির ধানও তলিয়ে নিমজ্জিত হয়েছে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানিয়েছে, কয়েকদিন আগে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার ১২ টি উপজেলায় ৩’শ ৬৭টি পুকুর তলিয়ে যায়। তারমধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৩০ জনের ৫০টি পুকুর, মির্জাপুরে ৫০ জনের ৫০ টি পুকুর, নাগরপুরে ৪৫ জনের ৪৫ টি পুকুর, সখীপুরে ৬২ জনের ১৬৭ টি পুকুর এবং ঘাটাইলে ৫৫ জনের ৫৫ টি পুকুর তলিয়ে যায়। এসব পুকুর থেকে ৮২ লাখ পোনা মাছ বেরিয়ে গেছে। যার মূল্য ৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

নতুন মৎস্য উদ্যোক্তা ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কয়েড়া গ্রামের মো. হযরত আলী। কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো বাড়ির পাশে এবার ২ বিঘা জমিতে মাছ চাষ করেছিলাম। দু’মাসে বিভিন্ন প্রজাতের মাছের পোনা অবমুক্ত করি। গত কয়েকদিন আগে একদিনের বৃষ্টির পানিতে পুকুর তলিয়ে সব পোনা বের হয়ে যায়। এনজিও থেকে ঋন করে মাছ চাষ করেছিলাম। আমার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ঘাটাইল উপজেলার লক্ষিন্দর এলাকার মাছ চাষী মজিবুর রহমান, কদ্দুস মিয়া ও হুমায়ন কবীর বলেন, আমরা এ বছর ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুরে মাছ চাষ করেছিলাম। মাছের মধ্যে পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, সরপুঁটি ও মিনার কার্ফসহ অন্যান্য প্রজাতির মাছ চাষ করি। সেগুলো বেশ বড় হয়েছিল। কিছুদিন আগে হঠাৎ করে ভারী বৃষ্টিতে পুকুর তলিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার পোনা মাছ লোকালয়ে বের হয়ে গেছে। পুকুর নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। বৃষ্টির পানিতে স্বপ্নগুলো ভেসে গেছে।

সখীপুর উপজেলার ইউসুফ হায়দার ও মন্টু সিকদারসহ আরও একাধিক মাছ চাষীরা বলেন, গত কয়েকতিন আগে হঠাৎ করে টানা ভারী বৃষ্টির পানিতে পুকুর তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছি। এরআগে এমনভাবে কখনো ক্ষতি হয়নি। কিভাবে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠব কিছু বুঝতে পারছি না। তাছাড়া এ পর্যন্ত মৎস্য অফিস থেকে কেউ খোঁজ-খবর নেয়নি। ক্ষতি কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে মৎস্য অফিস থেকে সরকারি প্রণোদনা ও সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, গত কয়েকদিন আগে টানা বৃষ্টির পানির কারণে জেলার ৩৬৭টি ছোট-বড় পুকুর তলিয়ে ৮২ লাখ পোনা মাছ লোকায়ের খাল-বিলের পানিতে ভেসে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ মাছ চাষীরা যদি ব্যাংক ঋণের জন্য সহযোগিতা চায় তাহলে দ্রুত তা ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. অক্টোবর ২০২৩ ০৩:৩৪:এএম ৩ বছর আগে
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ উপহার পেলেন এক হাজার ভাঙন কবলিত পরিবার - Ekotar Kantho

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ উপহার পেলেন এক হাজার ভাঙন কবলিত পরিবার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত মানুষের পাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ত্রাণ নিয়ে দাঁড়িয়েছেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির।

রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নের নদী ভাঙন এলাকার মানুষের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার তুলে দেন এমপি। এসময় এক হাজার দুস্থ ও ভাঙন কবিলতদের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।

এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেল্লাল হোসেন, ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ্, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তোতা, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বাবু, গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দুলাল চকদারসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন ।

খাদ্য সামগ্রী চাল পেয়ে খুশি পাটিতাপাড়া গ্রামের কুলসুম বেগম বলেন, বাড়িতে কিছুদিন আগে বন্যার পানি উঠেছে। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। পানিবন্দি অবস্থায় ঘরে খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছিল। আমাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। হাতে খুব একটা টাকা-পয়সাও নাই। রবিবার এমপি আমাদের চাল উপহার দিলেন। চাল উপহার পেয়ে তাও কিছুদিন চলে যাবে। বন্যার সময় চাল পেয়ে অনেক খুশি হয়েছি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল-২ গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির জানান, উপজেলার গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নের চরাঞ্চলের অসংখ্য পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাই তাদের খোঁজ নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার আরও যেসব ইউনিয়নে নদী ভাঙন এলাকা আছে তাদের পাশে দাঁড়ানো হবে। এ সময় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের চিত্র তুলে ধরে চরাঞ্চলবাসীর কাছে নৌকায় ভোট প্রার্থনা করেন তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৩:৩৪:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ডিমের আড়তে অভিযান, ৯ হাজার টাকা জরিমানা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ডিমের আড়তে অভিযান, ৯ হাজার টাকা জরিমানা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর শহরের দুইটি বাজারে ডিমের আড়তে অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল।

রবিবার (১৩ আগস্ট) সকালে শহরের পার্ক বাজার ও বটতলা বাজারে জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলমের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম জানান, টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজারে ডিম বেচাকেনার পাকা রশিদ দেখাতে না পারায় আমজাত ডিমের ঘরকে ২ হাজার টাকা ও আব্দুল ছোবহানের ডিমের আড়তকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া বটতলা বাজারে ডিমের মূল্য তালিকা না থাকা ও বেচাকেনার পাকা রশিদ দেখাতে না পারায় বিসমিল্লাহ ফল ভান্ডারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে জেলা পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করে।

তিনি আরও জানান, অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের পণ্য বেচাকেনার রশিদ সংরক্ষণ ও মূল্য তালিকা প্রদর্শণ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. অগাস্ট ২০২৩ ০৩:৩৫:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে সড়ক ভেঙে যানচলাচল বন্ধ; ভোগান্তি চরমে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সড়ক ভেঙে যানচলাচল বন্ধ; ভোগান্তি চরমে

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর উপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ চারাবাড়ি এসডিএস সেতু সংলগ্ন সড়ক ভেঙে পড়ায় যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। শনিবার (১২ আগস্ট) সকালে সড়কের একটি অংশ ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হয়। এতে বিপাকে পড়েছে টাঙ্গাইল সদরের পশ্চিম অঞ্চলের লাখো মানুষ।

অবশ্য টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মো.সাজ্জাদ হোসেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

সরেজমিনে শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, সেতু সংলগ্ন সড়কের অর্ধেকের বেশি অংশ ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এপারের যানবাহন ওপারে যেতে পারছেনা। সাধারণ মানুষ পায়ে হেটে যেতে পারলেও যানবাহন সেতুর দুই পাশে দাড়িয়ে আছে।

এতে ভোগান্তিতে পড়েছে, হুগডা, কাকুয়া, মাহমুদনগর, পোড়াবাড়ি ও কাতুলী ইউনিয়নসহ পাশ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার লাখ-লাখ মানুষ।

স্থানীয়রা জানায়, সেতু নির্মাণের পর থেকেই বালু ব্যবসায়ীরা নদী থেকে অবৈধ বাংলা ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করায় অতীতেও এ সেতুর অ্যাপ্রোজ ধসে পড়ে। পরে এলজিইডি পুনরায় অ্যাপ্রোজ নির্মাণ করে। এরপরও থেমে থাকেনি বালু ব্যবসায়ীদের থাবা। সুযোগ পেলেই রাতের আঁধারে বালু বিক্রি করায় সম্প্রতি নদীতে পানি কমার সাথে-সাথে শনিবার সকালে সড়কের একটি অংশ ভেঙ্গে নদীতে পড়ে।

তারা আরো জানায়, সকাল হলেই আমাদের এই ব্রীজ দিয়ে চলাচল করতে হয়। টাঙ্গাইল শহরের সাথে টাঙ্গাইল সদরের পশ্চিম চরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। বিপুল পরিমান টাকা খরচ করে সরকার চরাঞ্চলের মানুষের চলাচলের সুযোগ করে দিয়েছে। আর এই ব্রীজটির পাশ থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন বন্ধ ও কোন স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে প্রতি বছরই এই ভোগান্তি হবে। পাশেই আমাদের তোরাপগঞ্জ সেখান থেকে পরিবহনের ষ্ট্যান্ড সেটি শনিবার থেকে বন্ধ হল। বন্ধ হলো ব্যবসা বানিজ্য। তাই দ্রুত মেরামতের কাজ করে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.ইকবাল হোসেন জানান, প্রতি বছরই শুকনো মৌসুমে ব্রীজের পাশে মাটি কাট হয়। যার কারণে ব্রীজের পাশে প্রতি বছরই ভেঙে যায়। এই ব্রীজ দিয়ে যেসমস্ত যানবাহন চলাচল করতো সেটি শনিবার সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয় বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মো.সাজ্জাদ হোসেন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবো। পরিদর্শন শেষে সেখানে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করে যোগাযোগের ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. অগাস্ট ২০২৩ ০৩:২৭:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইল সদরে ৬৭ টি গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঘর হস্তান্তর - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল সদরে ৬৭ টি গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঘর হস্তান্তর

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় চতুর্থ পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে আরো ৬৭ট ঘর ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুধবার(৯ আগষ্ট ) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপহারের নতুন ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এর পর সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ৬৭ টি পরিবারের মাঝে ঘরের দলিল হস্তান্তর করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ওলিউজ্জামান, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান বিন আলী, সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) অতনু বড়ুয়া, বাঘিল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. এসএম মতিউর রহমান মন্টু, করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান মজনু চৌধুরী দাইন্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আফজাল হোসেন প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. অগাস্ট ২০২৩ ১০:৫৬:পিএম ৩ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।