/ হোম / অর্থনীতি
বেড়াডোমা সেতু নির্মাণে কোনো নিয়ম মানা হয়নি; দুদক টিম - Ekotar Kantho

বেড়াডোমা সেতু নির্মাণে কোনো নিয়ম মানা হয়নি; দুদক টিম

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বেড়াডোমা-ওমরপুর সড়কে লৌহজং নদীর উপর শহরের বেড়াডোমায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ৩০ মিটার দীর্ঘ সেতুতে কোন নিয়ম মানা হয়নি বলে মন্তব্য করেছে দুদকের এনফোর্সমেণ্ট টিম।

টিম মনে করে, স্টিলের পাইপের পরিবর্তে বাঁশ ও কাঠের তৈরি খুঁটি দিয়ে সেতুর পার্ডার ও স্ল্যাবের সেণ্টারিং করা, সাইটে ঠিকাদারের প্রকৌশলীর অনুপস্থিত থাকা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই সেতুটি নির্মাণের আগেই ধ্বসে পড়েছে।

টাঙ্গাইলের লৌহজং নদীর উপর নির্মাণাধীন সেতুটি ১৬ জুন রাতে ধ্বসে পড়ার পর রোববার (২৪ জুলাই) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেণ্ট টিম সরেজমিন পরিদর্শন করে।

দুদকের এনফোর্সমেণ্ট টিম আরও জানায়, তারা সরেজমিনে দেখতে পায়- নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ব্রিজটির মাঝখানে দেবে গেছে।

স্পেসিফিকেশন বহির্ভূতভাবে সেতু নির্মাণকাজ শুরু করা, গার্ডার ও স্ল্যাবের সেণ্টারিং কাজে স্টিলের পাইপের পরিবর্তে গজারি, ইউক্যালিপটাস ও বাঁশের পাইল ব্যবহার, ঠিকাদারের দায়িত্বে অবহেলা ও সাইটে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীর অনুপস্থিতিসহ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ৮ মিটার প্রস্থ ও ৩০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি ৬০ লাখ ১৮ হাজার টাকা। বিগত ২০২০ সালের (১২ নভেম্বর) থেকে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে।

গত ১১ মে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলে এ পর্যন্ত মাত্র ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ করা হয়েছে। জুনের মাঝামাঝি সময়ে সেতুর ওপরের অংশে ঢালাই কাজ করা হয়। কিন্তু ১৬ জুন রাতে সেতুর মাঝখানের সাটারিং সরে সাড়ে তিন ফুট দেবে যায়। ফলে নির্মাণাধীন সেতুটি ভেঙে আবার নতুন করে নির্মাণ করার প্রয়োজনীতা দেখা দিয়েছে।

পরিদর্শনকালে টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ আজমি দুদকের টিমকে জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বার বার সতর্ক করা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি তা অগ্রাহ্য করে নির্মাণ কাজ চালিয়েছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করে, প্রভাবশালী একটি মহল এই অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকায় অনিয়ম করা হয়েছে।

দুদকের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয় সহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমানের নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেণ্ট টিম গঠন করা হয়। টিমের অপর সদস্যরা হচ্ছেন- সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল্লাহ, কোর্ট পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম, উপ-সহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদ ও জাহেদ আলম।

দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল্লাহ জানান, একটি এনফোর্সমেণ্ট টিম টাঙ্গাইল পৌর সভার বেড়াডোমা-ওমরপুর সড়কের বেড়াডোমায় লৌহজং নদীর উপর নির্মিতব্য সেতু এলাকা পরিদর্শন করেছে।

অভিযোগের সত্যতা পেয়ে বিস্তারিত রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছে এবং এনফোর্সমেণ্ট টিম দুদকের উর্ধতন কর্মকর্তার কাছে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. জুলাই ২০২২ ০২:০০:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে সাত দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা শুরু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সাত দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা শুরু

একতার কণ্ঠঃ ‘বৃক্ষ প্রাণে প্রকৃতি-পরিবেশ, আগামী প্রজন্মে টেকসই বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে টাঙ্গাইল স্থানীয় শহীদ স্মৃতি পৌর-উদ্যানে বন বিভাগের উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসনিক সহযোগিতায় সাত দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে।

রোববার (২৪ জুলাই) সকালে মেলার উদ্বোধন উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি আনন্দ র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয় শহীদ স্মৃতি পৌর-উদ্যানের বৃক্ষমেলা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

মেলায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনসারী, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যালি শেষে মেলা প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ সময় বক্তারা বৃক্ষ রোপণে পরিবেশ ও মানুষের উপকারিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সবাইকে বেশি বেশি বৃক্ষ রোপণ করার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আলোচনা সভা শেষে টাঙ্গাইল বন বিভাগের উপকারভোগীদের মাঝে চেক বিতরণ ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গাছ উপহার দেয়া হয়।

মেলায় অর্ধশতাধিক স্টলে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষূধি গাছ বিক্রির জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. জুলাই ২০২২ ১১:৪৭:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে স্রোতে ভেঙে গেছে সেতুর সংযোগ সড়ক; জন ভোগান্তি চরমে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে স্রোতে ভেঙে গেছে সেতুর সংযোগ সড়ক; জন ভোগান্তি চরমে

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে পানির স্রোতে সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ১০ গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কয়েক লক্ষাধিক মানুষ।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সিলিমপুরে এলেংজান‌ী সেতুর এক পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়।

এদিকে, সেতুর এক পাশ ভেঙে যাওয়ায় বিকল্প সড়ক না থাকায় স্থানীয় ডিঙি নৌকায় নদী পারাপার হচ্ছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি বন্যার শুরুতে সেতুর আশপাশে নদী ভাঙন দেখা দেয়। সে সময় সেতুর কিছু অংশ ভেঙে গেলেও সংযোগ সড়ক ব‌্যবহার করে চলাচলে তেমন কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। তবে পুনরায় নদীর পানি কমতে শুরু করায় আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে এলেংজান‌ী নদীর ওপর নির্মিত সেতুর একপাশের সংযোগ ভেঙে চলাচল বন্ধ হয়েছে। এতে আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামসহ চরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় সিলিমপুর স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র তাইজুল জানান, সংযোগ সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় তাদের বিদ্যালয় যাতায়াতের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পার হয়ে বিদ্যালয় যেতে হচ্ছে। অন্তত সংযোগ সড়কটিতে বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে চলাচলের উপযোগী করা হোক।

মাইঠান ও দেউলি গ্রামের হাবিব, হাফিজুল, সবুজ জানান , নদীতে পানি বাড়ার সময় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় কোনো ব‌্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেতুর সংযোগ সড়কটি ভেঙে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

উপজেলার দেউলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম‌্যান তাহমিনা আকতার বলেন, ভেঙে যাওয়া সেতু দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সেতুর এক পাশের সড়ক ভেঙে গেছে।

দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মারুফ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যত দ্রুত সম্ভব সেতুটির সংযোগ সড়কটি জিও ব্যাগ ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হোক.। উপজেলা পরিষদ থেকে গত দুই বছর মৌখিকভাবে বাব বার জানানোর পরও ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জনগণের আজকের এই দুর্ভোগ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. জুলাই ২০২২ ০৯:৪০:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত পাঁচআনী-ছয়আনী বাজার সাধারণ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

আগামী ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে প্রকাশিত নতুন ভোটার তালিকা নিয়ে এ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, পাঁচআনী- ছয়আনী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির পূর্বের ভোটার ছিল ১০৩৭জন। গত ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক সদস্য যাচাইবাছাই কমিটি ৯৪৭ জনের একটি নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করেন। এই নতুন ভোটার তালিকায় পূর্বের তালিকা থেকে সমিতির ৯৮ জন প্রকৃত ভোটার বাদ পড়েন। এই বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ সদস্যদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এই নতুন তালিকাকে প্রত্যাখ্যান করে যাচাইবাছাই কমিটির একজন ও সমিতির উপদেষ্টা মো: মশিউর রহমান হিরন ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া উক্ত সমিতির আরো দুইজন উপদেষ্টা মো শহিদুর রহমান ও হরি প্রসাদ পোদ্দার পদত্যাগ করেছেন। নতুন এই তালিকায় সিরাজ উদ্দিন মার্কেটের মালিক মো: রফিক আহমেদ, আসলাম খান জনি, আর রহমান খান টুটুল, শহিদুজ্জামান শহিদ, রাশেদুজ্জামান রাশেদসহ আরো অনেক প্রকৃত ব্যবসায়ী বাদ পড়েছেন।

এছাড়া সমিতির গঠনতন্ত্র মোতাবেক গোডাউন মালিক, মাংসের দোকান, মুরগির দোকান, চৌকি দোকানদার, এনজিও অফিস, স্যালুন ও ফুটপাতের দোকান মালিকরা সদস্য হওয়ার এখতিয়ার রাখে না। নতুন ভোটার তালিকায় এই শ্রেণীর বেশ কয়েকজন মালিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেটা এই ক্ষোভকে আরো ঘনীভূত করেছে।

এই প্রসঙ্গে সাবেক সাধারণ সদস্য আসলাম খান জনি ও রফিক আহমেদ বলেন, এই নতুন ভোটার তালিকায় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই সস্পূর্ণ গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী একটি কারচুপির নির্বাচন করার জন্য একজন সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী তার নিজস্ব লোকজনদের ভোটার বানিয়ে প্রকৃত সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।

সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান খান আছু বলেন, নতুন তালিকাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই নতুন ভোটার তালিকায় সমিতির গঠনতন্ত্রকে উপেক্ষা করে বেশ কয়েকজন মাংসের দোকানদার ও স্যালুন মালিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইলের ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ সমিতিকে কুক্ষিগত করার জন্য এই পকেট তালিকা তৈরি করেছে। আমি এই পকেট তালিকা প্রত্যাখ্যান করে এর তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি।

সমিতির সাবেক সভাপতি শাহানুর রহমান রঞ্জু বলেন, সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি প্রহসনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকায় অনেক প্রকৃত ব্যবসায়ী বাদ পড়েছেন। যেটি অত্যন্ত নিন্দনীয়।
সমিতির সাবেক উপদেষ্টা ও যাচাইবাছাই কমিটির থেকে পদত্যাগকারি সদস্য মো: মশিউর রহমান হিরন বলেন, যাচাইবাছাই করে আমরা যে তালিকা প্রণয়ন করেছিলাম পরবর্তীতে সেই তালিকা পরিবর্তন করে তাদের পছন্দের ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা প্রকাশ করায় আমি এই সমিতির উপদেষ্টা ও যাচাইবাছাই কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি।

উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে পাঁচআনী-ছয়আনী ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক আরফান আলী খান বলেন, বিষয়গুলো সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন ও যাচাইবাছাই কমিটির অন্যতম সদস্য শামসুর রহমান ( শাসছু) জানেন বলে প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান।
অভিযোগের বিষয়ে পাঁচআনী-ছয়আনী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সানোয়ার হোসেন বলেন, সদস্য যাচাই বাছাই কমিটিকে তিনি অন্তর্ভুক্ত নন। যাচাই-বাছাই কমিটির পাঁচজন সদস্য তার সামনে স্বাক্ষর করে নতুন ভোটার তালিকা জমা দিয়েছেন। এরপর কেন তারা পদত্যাগ করল সেটা আমার বোধগম্য নয়। এছাড়া বাদ পড়া সদস্যদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সমিতির উপদেষ্টাদের নিয়ে নতুন তালিকা বিষয়ে সভা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. জুলাই ২০২২ ০৬:০১:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন

একতার কণ্ঠঃ সারাদেশের মতো টাঙ্গাইলেও শনিবার(২৫জুন) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করা হয়েছে।

সকালে পৌর শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের মুক্তমঞ্চে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিটিভির মাধ্যমে বড় পর্দায় সম্প্রচার করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শিল্পীদের সমন্বয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা প্রশাসক ডঃ মোঃ আতাউল গনি, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সারসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং সকল পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল বিশেষ দোয়া, মোনাজাত, প্রার্থনা, অসহায় মানুষের মাঝে উন্নত মানের খাদ্য পরিবেশনসহ আরো নানা আয়োজন।
এছাড়াও জেলার সকল উপজেলায় দিনব্যাপী বর্নাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. জুন ২০২২ ০৯:২৮:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বন্যায় ছয় উপজেলার ১১৪ গ্রাম প্লাবিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বন্যায় ছয় উপজেলার ১১৪ গ্রাম প্লাবিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যে এ জেলার ছয় উপজেলার অন্তত ১১৪ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে গবাদিপশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এক দিকে ঘর-বাড়িতে পানি উঠছে অন্যদিকে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট, কোনো কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি জোকারচর পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঝিনাই নদীর পানি বাসাইল অংশে ১৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও ধলেশ্বরী নদীর পানি এলাসিন পয়েন্টে ২২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা যায়, যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ও হেমনগর ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রাম, ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা, গাবসারা ও গোবিন্দাসী ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি গ্রাম, কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী, দুর্গাপুর, সল্লা ও দশকিয়া ইউনিয়নের প্রায় ২৫টি গ্রাম, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া, কাকুয়া, কাতুলি ও মাহমুদনগর ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রাম, নাগরপুরের ভাড়রা, সলিমাবাদ ও দপ্তিয়র ইউনিয়নের ৭টি গ্রাম, বাসাইল উপজেলার সদর, কাশিল ও ফুলকী ইউনিয়নের ১২টি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। ওইসব এলাকার অন্তত ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

রোববার (১৯ জুন) সকালে কালিহাতী উপজেলার সল্লা ও হাতিয়া বাঁধের কিছু অংশ আর আনালিয়াবাড়ী সড়কের পাকা সলিং ভেঙে ফসলি জমি-ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।

এছাড়াও শনিবার (১৮ জুন) দিনগত রাতে বাসাইল পৌর এলাকার দক্ষিণ পাড়া-বালিনা সড়কের একটি অংশ পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে পৌর এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।

মগড়া ইউনিয়নের শাহালম, আবুল কালাম, আজমত আলী, দুর্গাপুরের হযরত আলী, জামাল হোসেন, আবু বকর, গোবিন্দাসীর শরাফত আলী, বেনজির হোসেন, কাশেম, চরপৌলির আরফান আলী, নজরুল ইসলাম, আবুল খায়ের জানান, হু হু করে পানি বেড়ে ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে পড়ছে। বাড়িঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার আগেই ঘরে পানি ঢুকছে।

কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাই আকন্দ, দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন চকদার জানান, বাড়িঘরে পানি উঠে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। তারা নিজের সাধ্য অনুযায়ী যতটা পারছেন সাহায্য করছেন। কিন্তু এ পর্যন্ত সরকারি কোন সহায়তা বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে পৌঁছেনি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বন্যার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে হারে পানি বাড়ছে তাতে বন্যার ভয়াবহ রূপ ধারণ করলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বরাবরের চেয়ে আরও বেশি সতর্ক রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. জুন ২০২২ ০৯:০২:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ২ উপজেলায় বাঁধ ও সড়ক ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ২ উপজেলায় বাঁধ ও সড়ক ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী ও বাসাইল উপজেলায় বাঁধ ও সড়ক ভেঙে কমপক্ষে ২০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এই দুই উপজেলার সঙ্গে সড়ক পথে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে সেখানকার বাসিন্দারা।

রোববার (১৯ জুন) কালিহাতী উপজেলার আনালিয়াবাড়ী এলাকায় বাঁধ ও বাসাইল উপজেলার আন্ধিরাপাড়া-বালিনা সড়কের কিছু অংশ ভেঙে যায়।

স্থানীয়রা জানান, দুই দিন ধরে বাসাইল উপজেলার আন্ধিরাপাড়া-বালিনা সড়কের বালিনা উত্তরপাড়ার অংশেঊ ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। পরে অতিরিক্ত স্রোতের কারণে সড়কটি ভেঙে যায়। রোববার সকালে আন্ধিরাপাড়ায় তিনটি স্থানে সড়ক ভেঙে যায়। দুই দিনে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করে উপজেলার বালিনা, আন্ধিরাপাড়া, আদাজান, কাঞ্চনপুর ও কোদালিয়াপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। ফলে কয়েকটি গ্রামের মানুষ বিকল্প হিসেবে নৌকা দিয়ে যাতায়াত করছে।

উপজেলার বালিনা দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. সোলাইমান জানান, এ সড়কের চার জায়গায় ভেঙে গেছে। এ কারণে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে।

পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম জানান সড়কের চার জায়গায় ভেঙে গেছে। সড়ক দিয়ে পানি প্রবেশ করে বালিনা, আদাজান, ভোরপাড়া, আন্ধিরাপাড়া, কাঞ্চনপুরসহ ৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। এখন নৌকা নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

কালিহাতী উপজেলার আনালিয়াবাড়ী এলাকার বাঁধ ভেঙে গেছে। ফলে এ বাঁধ দিয়ে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে।

সল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জানান, পানির অতিরিক্ত চাপের কারণে বাঁধ ভেঙে গেছে। এ কারণে উপজেলার আনালিয়াবাড়ী, ভাওয়াল, নরদৈ, গড়িয়া, হাবলা, দেওলাবাড়ীসহ ১০ থেকে ১২টি গ্রামের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এখানে গত বছরও ভেঙে গিয়েছিল।

উল্লেখ্য, জেলার যমুনা, ধলেশ্বরী, ঝিনাই, বংশাই, লৌহজংসহ বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জেলার ১২টি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হচ্ছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. জুন ২০২২ ০১:১১:এএম ৪ বছর আগে
করটিয়া হাটে ৫৮৫ টাকার ভিটি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ টাকায় - Ekotar Kantho

করটিয়া হাটে ৫৮৫ টাকার ভিটি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ টাকায়

একতার কণ্ঠঃ  টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহি করটিয়া হাটে ভিটি বরাদ্দের মাধ্যমে প্রতিবছর হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এতে করে চরম ক্ষতির মূখে পড়ছেন প্রকৃত ব্যবসায়ী ও  সাধারণ ক্রেতারাও।

সরকারের পক্ষ থেকে স্বচ্ছভাবে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সরাসরি ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হয় না। এ কারণে সরকারি ইজারা মূল্য (ভিটি প্রতি) ৫৮৫ টাকার পরিবর্তে কয়েক হাত ঘুরে একটি ভিটির দাম পড়ে কয়েক লাখ টাকা।

এমনটা হওয়ার কারণে ব্যবসার আনুসাঙ্গিক খরচ বেড়ে গিয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ে ক্রেতাদের ওপরে, বেড়ে যায় পণ্যের দাম।  সরকারিভাবে ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হলে হাটে দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারাও কম মূল্যে তাদের চাহিদামত পণ্য ক্রয় করতে পারতেন।

ফলে হাটের সিন্ডিকেটের সদস্যদের কারণে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ ক্রেতারাও ক্ষতির সন্মুখিন হচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে এ ঐহিত্যবাহী করটিয়া হাট থেকে অনেক সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেবেন বলে মনে করছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, হাটে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী তাদের ভিটি ভাড়া বা অন্য কারো কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কিনে ব্যবসা পরিচালনা করেন। কিন্তু যারা প্রকৃত ভিটির মালিক তাদের মধ্যে অনেকেই হাটে কোনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। তারা সবাই রাজনৈতিক নেতা, নইলে জনপ্রতিনিধি অথবা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বজন। তাদের এ সিন্ডিকেটের কারণে ভিটিগুলো বিক্রি হয় দেড়, দুই এমনকি পাঁচ লাখ টাকাতেও। অথচ এসব ভিটির বাৎসরিক সরকারি ইজারা মূল্য (ভিটি প্রতি) ৫৮৫ টাকা।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) করটিয়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই হাটে সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতারা পণ্য কেনা-বেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বগুড়া থেকে আসা সোলায়মান মিয়া নামের এক কাপড় ব্যবসায়ী জানান, গত বছরের তুলনায় এবার কাপড়ের দাম অনেক বেশি। তারপরেও ব্যবসা ও ক্রেতার চাহিদার কারণে বেশি দাম দিয়েই কাপড় কিনতে হচ্ছে।

করটিয়া এলাকার শাকের আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে হাটের কিছু জায়গা দখল করে ব্যবসা করেন তিনি। কিন্তু এবার বৈধভাবে জায়গা বরাদ্দ পেয়েছেন। তবে নিজের নামে না দেওয়ায় তার মেয়ে ও ভাই এবং ভাতিজার নামে ভিটি বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসা করছেন। এগুলোর একটি তিনি নিজেই পরিচালনা করেন এবং বাকি তিনটি ভাড়া দিয়েছেন।

শুধু প্রভাবশালী নয়, এ হাটে ভিটি আছে সরকারি চাকরিজিবীদেরও। তবে এসব জমি তারা নিজের নামে না করে নিয়েছেন পরিবারের সদস্যদের নামে।

এমনই একজন হচ্ছেন করটিয়া এলাকার কালিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আরিফ। এ হাটে তার তিন বোন, মা, মামা, মামাতো ভাইয়ের নামে নিয়েছেন আটটি ভিটি। পরে ওই ভিটিগুলো আবার একই এলাকার চাচাতো ভাই মো. ইসমাইল হোসেনের কাছে এক বছরের জন্য ভাড়াও দিয়ে দিয়েছেন।

ইসমাইল হোসেন জানান, আরিফের কাছ থেকে আটটি ভিটি লিজ নিয়ে তিনিও সেগুলো ভাড়া দিয়েছেন। সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় আরিফ এগুলো তার বোন, মা, মামা ও মামাতো ভাইয়ের নামে বরাদ্দ নিয়েছেন।

জানা গেছে, হাটে ভিটি বরাদ্দের প্রক্রিয়া করে জেলা প্রশাসন। এ কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ভিটি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। পরে তাদের জানানো হয় হাটে নতুন করে কোনো ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হবে না। যারা ইতোমধ্যেই হাটের জায়গা দখল করে ব্যবসা করছেন, তাদের মধ্যেই ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, প্রভাবশালী এক জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় এলাকার প্রল্লাদ দাস, হেলাল উদ্দিন, ছানোয়ার হোসেন ছানু ও আনিসুর রহমান বিরু দীর্ঘদিন ধরেই করটিয়া হাট নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। আর তাদের মাধ্যমেই পুরো হাটে ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাদের প্রত্যেকের নামে একটিসহ বিভিন্ন স্বজনদের নামে একাধিক ভিটি নেওয়া হয়েছে। পরে সেগুলো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবছর ৪০-৫০ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হচ্ছে ভিটিগুলো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি গত ১০-১২ বছর ধরে এ হাটে ব্যবসা করছেন। ৪-৫ বার তিনি ভিটি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করেও পাননি। তাই বাধ্য হয়ে ভিটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে ক্রেতাদের কাছে কিছুটা বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। আর যদি প্রকৃতভাবে সরকারি মূল্য অনুযায়ী ভিটি বরাদ্দ পেতেন তাহলে সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি মূল্য নিতেন না।

শুধু তিনি নন, এরকম প্রায় সব ব্যবসায়ীরাই প্রতিবছরে মোটা অংকের ভাড়ার টাকা আদায়ের জন্য ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি মূল্য রেখে থাকেন।

করটিয়া হাটের হোটেল ব্যবসায়ী প্রল্লাদ দাস জানান, তিনি ভিটি বরাদ্দের বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে তিনি গত ৩-৪ বছর আগে আনিসুর রহমান বিরুর কাছ থেকে একটি ভিটি কিনে হোটেল ব্যবসা করছেন।

আনিসুর রহমান বিরু জানান, বর্তমানে তার কাছে কোনো ভিটি খালি নেই। তবে যেগুলো ছিল, সেগুলো সব ভাড়া দিয়েছেন। ভিটি বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী ও প্রল্লাদ দাস দেখেন। তারাই ঠিক করেন, কার ভাগে কয়টি ভিটি পড়বে বলেও জানান তিনি।

ছানোয়ার হোসেন ছানু জানান, এবার যাদের ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তারা আগে থেকেই সেখানে দখলে ছিলেন। আর একজন ব্যবসায়ী একটি মাত্র ভিটি পাবেন। তবে তার পরিবার বড় হওয়ায় তিনি ও তার স্বজনরা মিলে ১০-১২টি ভিটি বরাদ্দ পেয়েছেন।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী জানান, করটিয়া হাটে আগে থেকেই যারা ভিটি দখল করে ছিলেন তাদের মাঝেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন ভাবে কাউকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. জুন ২০২২ ০২:৪৫:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে নিজেদের অর্থায়নে দেড় কিমি ড্রেনের কাজের উদ্বোধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে নিজেদের অর্থায়নে দেড় কিমি ড্রেনের কাজের উদ্বোধন

একতার কণ্ঠঃ এলাকা কোন ড্রেন বা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। ফলে একটু বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ ছাড়াও বহুতল ভবণের পানি নিষ্কাশনের মতো কোন স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। তাই এলাকাবাসীর উদ্যোগে ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। ড্রেন নির্মাণের ব্যয় ৩৫ লাখ টাকা নিজেরেই বহন করবেন। দীর্ঘ দিনের সেই দুর্ভোগ লাঘবে শনিবার (১১ জুন) সকালে  টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া জমিদারবাড়ী পূর্ব তরফ আবাসিক এলাকা পানি নিঃষ্কাশনের জন্য নিজেদের অর্থায়নের ড্রেনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। দেড় কিলোমিটার ড্রেনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী মজনু।

স্থানীয় বাসিন্দা এডভোকেট মো. মহিউদ্দিন মামুন বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমতো। এতে বাসার বাইরে বের হলেই কাঁদায় শরীরের পোশাক নষ্ট হতো। এছাড়াও মসজিদে যেতে ও শিক্ষার্থীদের স্কুলে কলেজে যেতে দীর্ঘদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ড্রেন নির্মাণ হলে দুর্ভোগ লাঘব হবে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খালেকুজ্জামান চৌধুরী মজনু জানান, এলাকার সকলের ব্যক্তিগত সহযোগিতা ড্রেন নির্মাণ করছে এটি বাংলাদেশে বিরল। এমন কাজ করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এলাকার মানুষকে ধন্যবাদ জানান তিনি। সরকারের উন্নয়নের পাশাপাশি এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া উচিত। এলাকার বাকি উন্নয়ন কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২. জুন ২০২২ ০৪:২১:এএম ৪ বছর আগে
২২ ঘণ্টায়ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি - Ekotar Kantho

২২ ঘণ্টায়ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি

একতার কণ্ঠঃ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সোনাইছড়ী ইউনিয়নে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগার ২২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সেই আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে দমকল বাহিনী কর্মীদের। আগুন নেভাতে গিয়ে কনটেইনার বিস্ফোরণে ইতোমধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ৮ কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৫ জন।

রোববার (৫ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন নেভাতে চেষ্টা করছে ২৬টি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিম।এ ছাড়া চট্টগ্রাম, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী থেকে অফিসাররা যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ২৫০ জন সদস্য সেখানে উদ্ধার অভিযানে কাজ করছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, কনটেইনার ডিপোটিতে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক ‘হাইড্রোজেন পার অক্সাইড’ ছিল। হাইড্রোজেন পার অক্সাইড একটি রাসায়নিক যৌগ। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

সূত্রে জানা যায়, কেমিক্যাল কনটেইনার থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার পর পর কন্টেইনারগুলো একের পর এক বিস্ফোরিত হতে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে কন্টেইনার ডিপোর আশে পাশের ৪-৫ কিলোমিটার এলাকায় ব্যাপক কম্পনের সৃষ্টি হয়। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় শতাধিক বিভিন্ন বাড়ি-ঘর ও মসজিদের দরজা এ জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় জনমনে আতংকের সৃষ্টি হয়।

বিস্ফোরণে পুরো এলাকায় রাসায়নিকের বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। এতে উদ্ধারকর্মীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের নিরাপদে নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের আরও ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। তবে ডিপোতে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন।

রোববার ( ৫ জুন) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন বলেছেন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড একটি রাসায়নিক যৌগ। এটি যদি উত্তপ্ত করা হয়, তাহলে তাপীয় বিয়োজনে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ভয়ংকর বিস্ফোরক রূপ নেয়। কর্তৃপক্ষ লোকালয়বেষ্টিত ডিপোর ভেতরে কোনো ধরনের অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে বিপজ্জনক রাসায়নিক মজুত করে রেখেছিল, যার ফলে বিস্ফোরণে ঘটেছে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৪ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার সোনাইছড়ী ইউনিয়নে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আমদানিকৃত একটি কন্টেইনার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় সাড়ে ৪ শতাধিক মানুষ দগ্ধ ও আহত হয়েছেন।

এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের আটজন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়াও গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। তাদের মধ্যে কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মী গাউসুল আজম ও সীতাকুণ্ডু স্টেশনের রবিউলকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়েছে। গাউসুলের শরীরের ৮০ শতাংশ এবং রবিউলের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংবাদ সূত্র- যুগান্তর অনলাইন

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. জুন ২০২২ ০১:৩৯:এএম ৪ বছর আগে
গ্যাসের এক চুলা ৯৯০, দুই চুলা ১০৮০ টাকা - Ekotar Kantho

গ্যাসের এক চুলা ৯৯০, দুই চুলা ১০৮০ টাকা

একতার কণ্ঠঃ  ভোক্তা পর্যায়ে সিএনজি ছাড়া সব ধরনের গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

মিটার যুক্ত গ্রাহকের গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ১২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৮ টাকা করা হয়েছে। আর মিটার বিহিন এক চুলার জন্য ৯২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৯০ টাকা এবং দুই চুলা ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০৮০ টাকা করা হয়েছে। বর্ধিত গ্যাসের দাম জুন থেকেই গুণতে হবে গ্রাহকদের। রোববার অনলাইনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় কমিশন।

কমিশন জানায়, এবার ভোক্তাদের জন্য ২২ দশমিক ৭৮ ভাগ গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে সার উৎপাদনে সর্বোচ্চ ২৫৯ ভাগ বেড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের দাম ১২ দশমিক ৮০ ভাগ বা ৪ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ দশমিক ০২ টাকা বাড়োনো হয়েছে। এতে বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হবে বলে কমিশন শুনানিতে ইঙ্গিত দিয়েছে।

এদিকে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ১৩ টাকা ৮৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৬ টাকা, সার উৎপাদনে ৪ টাকা ৪৫ পয়সো থেকে ১৬ টাকা, বৃহৎ শিল্পে ১০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা ৯৮ পয়সা, মাঝারি শিল্পে ১০ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে ১১ টাকা ৭৮ পয়সা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে গ্যাসের দাম কমেছে। এখাতে আগে গ্যাসের দাম ছিল ১৭ টাকা ০৪ পয়সা থেকে ১০ টাকা ৭৮ পয়সা করা হয়েছে। বণিজ্যিক (হোটেল রেস্টুরেন্টে) ২৩ টাকা থেকে ২৬ টাকা, চা শিল্পে ১০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১১ টাকা ৯৩ পয়সা করা হয়েছে। সিএনজির গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু ফারুক গ্যাসের এই বর্ধিত দাম ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, কমিশন আইনের ৩৪ এর ৬ ধারা অনুযায়ী পেট্রোবাংলার সঙ্গে বিতরণ এবং সঞ্চালন কোম্পানি গত জানুয়ারির প্রথম দিকে আবেদন করে। গত ২১ থেকে ২৪ মার্চ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই শুনানিতে বিইআরসির কারিগরি কমিটি সব ধরনের গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সুপারিশ করে। তবে কমিশন আইনের ধারা ২২ (খ) এবং ধারা ৩৪ অনুযায়ী এই গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ খাতে ১১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ঘাটতি হবে। এই টাকার মধ্যে ৬৮০০ কোটি টাকা ভর্তুকি হিসেবে বাজেটে দেবে সরকার। অন্যদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল এবং কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা দেয়া হবে। সরকার উৎপাদন পর্যায়ে কোন ভর্তুকি দেবে না বলেই সারে এতটা দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে সারে ভোক্তা পর্যায়ে এই ভর্তুকি দেবে সরকার।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. জুন ২০২২ ০১:০১:এএম ৪ বছর আগে
প্রস্তাবিত শেখ কামাল আইটি সেন্টার মধুপুরে স্থান্তারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন - Ekotar Kantho

প্রস্তাবিত শেখ কামাল আইটি সেন্টার মধুপুরে স্থান্তারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সরকার নির্ধারিত ও প্রস্তাবিত ‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার’ মধুপুরে স্থানান্তরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে ঘাটাইল শেখ কামাল আইটি পার্ক রক্ষা কমিটি এ সম্মেলনের আয়োজন করে ঘাটাইল শেখ কামাল আইটি পার্ক রক্ষা কমিটি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঘাটাইল শেখ কামাল আইটি পার্ক রক্ষা কমিটি সদস্য সচিব আতিকুর রহমান আতিক।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ২৫ জুন ঘাটাইল উপজেলার গৌরিশ্বরে ১২.৭৭ একর জমিতে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টারে জন্য জমির লিজ হিসেবে এক লাখ টাকা নির্ধারণ করেন ভ‚মি মন্ত্রনালয়। পরে ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর জমির নির্ধারিত প্রতিকী মূল্য পরিশোধ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে গত বছরের ১৪ ফেব্রæয়ারি সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক ওই জমিটি হস্তান্তর করেন। লিজ দলিল সম্পাদন প্রক্রিয়ায় গ্রহীতা হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে দলিলে স্বাক্ষর করেন। ঘাটাইলের জনগন মনে করে, এই উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানটি মুজিব বর্ষে তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর একটি উপহার। জেলা প্রশাসন যাচাই-বাছাই করে প্রতিষ্ঠানের জন্য ঘাটাইলের এই স্থানটি নির্ধারণ করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ে প্রতিমন্ত্রীর বরারব পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলে, তারা ঘাটাইল থেকে মধুপুরের স্থানান্তেরর বিষয়টি অবগত করেন। আইটি সেন্টারটি অন্য উপজেলায় নেওয়ার চেষ্টা করা হলে ঘাটাইলবাসী এর প্রতিবাদ করে মিছিল, মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর করে স্মারকলিপি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় পাঠানো হয়।

তিনি আরো বলেন, পরে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে টাঙ্গাইলের একাধিক উপজেলার জায়গা পরিদর্শন করেন। একই সাথে ঘাটাইল উপজেলার বর্তমান বরাদ্দকৃত জমিটি যথোপোযুক্ত বলে নির্ধারণ করেন। যার ধারাবাহিকতায় জমি হস্তান্ত সংক্রান্ত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

কিন্তু সম্প্রতি একনেক সভায় কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের হস্তক্ষেপে আইটি সেন্টারটি ঘাটাইল থেকে মধুপুরে স্থানান্তর করা হয়। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা অতিদ্রæতই পূনরায় ঘাটাইলেই আইটি সেন্টারটি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি। কৃষিমন্ত্রী তার নিজ এলাকায় আলাদাভাবে আইটি সেন্টার স্থাপন করুন, এতে আমাদের কোন বাঁধা নেই। কিন্তু ঘাটাইলের নির্ধারিত আইটি সেন্টার বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে। আগামী রোববার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসুচি পালন করা হবে। আমি এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ সময় বক্তব্য রাখেন, ঘাটাইল শেখ কামাল আইটি পার্ক রক্ষা কমিটি আহবায়ক জুলফিকার হায়দার, যুগ্ম-আহবায়ক ও জিবিজি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ মতিউর রহমান মিয়া, উপজেলার ভাইস-চেয়ারম্যান কাজী আরজু, বিআরডিবি’র চেয়ারম্যান রুহুল আমিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন খান, আনেহলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার মোহাম্মদ শাহজাহান প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. মে ২০২২ ১০:৫৬:পিএম ৪ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।