/ হোম / অর্থনীতি
মধুপুর বনের ১৫ হাজার ৩৮০ একর বনভূমি প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে - Ekotar Kantho

মধুপুর বনের ১৫ হাজার ৩৮০ একর বনভূমি প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে

 একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর বনে প্রভাবশালীদের কালোথাবা পড়েছে।রাজনৈতিক অঙ্গণে বিভিন্ন দলের মধ্যে হানাহানি থাকলেও বন দখলে সবাই একে অপরের ভাই ভাই। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, দলিল লেখক, এনজিও, সমাজকর্মি গৃহিনীসহ দখলে বাদ যায়নি কেউ। বেশিরভাগ সরকারি দলের লোকজন অবৈধভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জবরদখল করে কলা, আনারস ড্রাগন ,লেবু চাষ করে করে লাভবান হচ্ছে।

এছাড়াও কোথাও কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, করাতকল, বাজার ও বাড়িঘর তুলে দিব্য বসবাস করছে। বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবহেলা, উদাসীনতা এবং অনৈতিক সুবিধা নিয়ে জবরদখল কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ারও অনেক অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া বনের গাছ চুরি অব্যাহত থাকায় পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য পড়েছে হুমকির মুখে। বনে শাল-গজারী না থাকায় দেখা দিয়েছে বন্যপ্রাণীদের খাদ্য সঙ্কট, ঐতিহ্য হারাচ্ছে মধুপুর গড়ের শালবন।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে যুবকের কারাদণ্ড

টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচটি উপজেলা মধুপুর, মির্জাপুর, সখিপুর, ঘাটাইল ও কালিহাতী উপজেলায় মোট বনভুমি রয়েছে প্রায় এক লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ একর। এর মধ্যে ৫৮ হাজার ২০৬ দশমিক ২৮ একর জমি অবৈধ দখলদারদের দখলে চলে গেছে। গত কয়েক বছরে ২০ হাজার ১০৮ একর জমি উদ্ধার করলেও ৩৮ হাজার ছয়শ ৬৬ দশমিক ১৯ একর জমি এখনও উদ্ধার করতে পারেনি বনবিভাগ। প্রায় ২২ হাজার একশ জন লোক এই বনভুমি দখল করে আছে। এদিকে শুধু মধুপুরে বনভুমির পরিমান ৪৫ হাজার ৫৬৫ দশমিক ১৮ একর। এর মধ্যে সংরক্ষিত ১১ হাজার ৬৭১ দশমিক ২১ একর ও সংরক্ষিতের বাইরে বন বিভাগের জমির পরিমান ৩৩ হাজার ৮৯৩ দশমিক ৯৭ একর। যার মধ্যে অবৈধ দখলে রয়েছে ১৫ হাজার ৩৭৯ দশমিক ১৪ একর জমি। এর বেশিরভাগ জমি সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতা ও নৃতাত্বিক গোষ্টির নেতারা দখল করে রেখেছেন।

একতার কণ্ঠ

বনের জায়গায় গড়ে ওঠা স’মিল

এছাড়াও বনের কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে জেলার সংঘবদ্ধ গাছ চোররা প্রতিনিয়ত বন থেকে গাছ চুরি করছে। ফলে বঞ্চিত হচ্ছে সামজিক বনায়নের অংশিদাররা। সরকার বঞ্চিত হচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকে।

অনুসন্ধান এবং বনবিভাগের বনভুমি জবরদখল ও উদ্ধার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের তথ্য ঘেটে জানা গেছে, সংরক্ষিত বনের মধুপুরের জামগাছার গ্রামের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আইজউদ্দিন মন্ডল দোখলা রেঞ্জের চাদপুর বিটের ফুলবাগচালা মৌজার তিনশ একর জমি জবরদখল করে রেখেছেন। হাগড়াকুড়ি গ্রামের বিএনপি নেতা সাদেক আলী দোখলা রেঞ্জের চাঁদপুর বিটের জোরামগাছা মৌজার ২০ একর, থানারবাইদের স্থানীয় নৃগোষ্ঠির নেতা রাগেন্দ্র নকরেক দোখলা বিটের পীরগাছা মৌজার দুইশ ৫০ একর, বাঘাডোবার আওয়ামী লীগ নেতা নস্কর মেম্বার ফুলবাগচালা মৌজার দুইশ একর, জামাল উদ্দিন একশ একর, চুনিয়ার বাবুল মৃ অরনখোলা মৌজার ৭০ একর, চুনিয়ার টমাস নকরেক অরনখোলা মৌজার ৫৫ একর, বাঘাডোবার আওয়ামী লীগ নেতা ময়নাল মেম্বার ফুলবাগচালা মৌজার ৫৩ একর, সুরেনটালের আওয়ামী লীগ নেতা রেফাজ উদ্দিন ফুলবাগচালা মৌজার ৫২ একর, সুরেনটালের আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আজিদ ফুলবাগচালা মৌজার ৪০ একর, সুরেনটাল গ্রামের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মজিদ ফুলবাগচালা মৌজার ৩৫ একর, শোলাকুড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং বন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব আলী অরণখোলা মৌজার ৩৫ একর, কাইল্যা কুড়ি গ্রামের নৃ গোষ্টির নেতা প্রীতিনাশ নকরেক অরনখোলা মৌজার ৩০ একর, টাঙ্গাইল জেলা কৃষকদলের সহ-সভাপতি আমলীতলা গ্রামের লস্কর মেম্বার জাউস রেঞ্জের গাছাবাড়ি বিটের ১৬ একর, হাগড়াকুড়ি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ওহাব সরকার জোরামগাছা মৌজার ১৫ একর, হাগড়াকুড়ির আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদ ২০ একর, আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল করিম ২০ একর, অরণখোলার জাউস রেঞ্জের গাছাবাড়ি বিটের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা হযরত আলী ৮১ একর, গাছাবাড়ির চানমাহমুদ ছানা ৫১ একর, টেলকি শাখার ট্রাক ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাধুপাড়ার প্রশান্ত মানকিন লহরিয়া বিটের প্রায় ৫০ একর , মধুপুরের কলাচাষি সংগঠনের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা গেছুয়াগ্রামের আব্দুর রহিম বেরিবাদ বিটের ৩৪ দশমিক ৫০ একর, মাগন্তিনগরের বিজিত টিটো ৩০ দশমিক ১০ একর, অরণখোলা ইউনিয়নের মেম্বার ও ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গাছাবাড়ির মজিবর রহমান ২৯ দশমিক ৫০ একর জমি দখল করে রেখেছেন। তিনি মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরোয়ার আলম খান আবুর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে জমি দখলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও চুনিয়ার মোতালেব হোসেন ৯ দশমিক ৭৫ একর জমি জবরদখল করে রেখেছেন। অরণখোলা সদরবিটের প্রায় ৫ একর জমি দখল করে রেখেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস ছালাম, নুরু মিয়া, আব্দুল খালেক, কাদের, মুক্তার হোসেন ফকির, আক্তার হোসেন ফকির, আছকের আলী, আজিজুল হক শহিদ ও আব্দুর রহিম মিয়া।

অপরদিকে, সংরক্ষিত বনভুমির বাইরেও অন্যান্য শ্রেনিভুক্ত মধুপুর রেঞ্জের চাড়ালজানি বিটের চুনিয়া মৌজায় বেসরকারি সংস্থা বুরে‌্যা বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৮৫ একর, কাকরাইদের ইয়রুন নেছা ৩০ একর, প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার ভাগ্নে গাছাবাড়ির সরাফত আলী ২ দশমিক ৩০ একর, সোহরাব আলী ২ দশমিক ৩০ একর, কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের মিয়া ৩ একর, দিগলবাইদের ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম ২ দশমিক ৯ একর, জাঙ্গালিয়ার ব্যবসায়ী আজিজ খাঁ প্রায় ৯ একর, দলিল লেখক নুরু মিয়ার প্রায় ১২ একর মাগন্তিনগরের বাদশা মিয়া প্রায় ২০ একর, নয়াপাড়া গ্রামের আফতাবউদ্দিন প্রায় ৫ একর জমি জবর দখল করে রেখেছেন।

সরেজমিন ঘুরে, বনবিভাগ ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোটের বাজারের ছামান আলী নামে এক ব্যক্তি বন বিভাগের জমি কার্টিজ মুলে ক্রয় করে মাটি ভরাট করে জমি দখল করেছেন। শুধু ছামান আলী নয় প্রভাবশালী অনেকেই বন বিভাগের জমি এভাবে দখল করে নিচ্ছে। কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বসতি নির্মাণ করে বনের জমিকে নিজের বলে দাবি করে থাকে। দখলদারদের কেউ কেউ বন বিভাগের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেন। বন বিভাগের জায়গা দখল করে ভুয়া দলিল ও কাগজপত্র তৈরি করে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে । আবার দখলদাররা আইনি ঝামেলা এড়াতে কৌশলে জমি খোলা স্ট্যাম্পে বিক্রি করে দেন। বনবিভাগও জমি উদ্ধার করতে হাজার হাজার মামলা করেছেন। কিন্ত কাজের কোন কাজ কিছুই হয়নি । এছাড়া উচ্ছেদ অভিযানও করতে পারেনি। তবে কয়েকজন দখলদার দাবি করেন, সংরক্ষিত বনের বাইরে ৪ ও ৬ ধারার জমি সিএস পর্চামূলে তারাই মালিক। এসএ ও আরএসে মালিক বনবিভাগ। যখন সরকার রায় পাবে তখন তারা বন বিভাগের জমি ছেড়ে দিবে।

মহিষমারা হামের বাজারের মহর আলী জানান, তার সামাজিক বনায়নের প্লট থেকে সম্প্রতি গাছ চুরি হয়। স্থানীয় সিএফডব্লিউ শামছুল হক এ গাছ কেটে নিয়েছে। শামছুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, গাছগুলো সামাজিক বনায়নের নয়। সদ্য বিদায়ী মহিষমারা বিট কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন জানান, মোটের বাজার এলাকার গাছ চুরির ঘটনায় ওমর ফারুকের নামে মামলা হয়েছে। এখন সিএফডব্লিউওরা তাদেরকে সহযোগিতা করে। কিভাবে জমি ও বন উদ্ধার হবে এ প্রশ্ন তারও।

শোলাকুড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং স্থানীয় বন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব আলী বলেন, ওই জমির মধ্যে কিছু জমি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। তবে বেশ কিছু জমি বনবিভাগ সামাজিক বনায়ন করেছে। সব জমি সামাজিক বনায়ন করলে তাদের কোন আপত্তি থাকবে না।

অরণখোলা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান বলেন, বনবিভাগ ওই জমি ১০ বছরের জন্য তাকে প্লট করে দিয়েছেন। তার সেই দলিলও রয়েছে।

এদিকে বনভূমি জবরদখল ও সামাজিক বনায়নের গাছ চুরি অব্যাহত রয়েছে। বন এলাকার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে স’মিল স্থাপনের বিধান না থাকলেও বন বিভাগের গুটিকয়েক কর্মকর্তাদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে অনুমোদনহীনভাবে চলছে স’মিল। এসব মিলে দিনরাত চলছে বনের কাঠ চিরাই। চুরি হচ্ছে বনের গাছ। বন বিভাগের নজরদারির অভাবে বিভিন্ন প্লটের গাছ কেটে নেয়া হচ্ছে।

হাজীপাড়া এলাকার খোরশেদ আলম জানান, ওমর ফারুক মহিষমারা বিটের বনায়ন ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক। সামাজিক বনায়ন ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বে থেকেও অবাধে গাছ কেটে সামাজিক বনায়ন উজার করছেন। মহিষমারা বিটের বনায়ন ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অংশীদারি খোরশেদ আলম আসবাবপত্র বানানোর জন্য তার কাছে গাছ চেয়েছিল বিধায় গাছ কাটা হয়েছে। গাছ চাইলেই আপনি সরকারী গাছ কাটতে পারেন কিনা? এমন প্রশ্নের কোন জবাব দেননি। ফারুক আওয়ামীলীগের নেতা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে স্থানীয়রা মুখ খুলতে সাহস পায় না। তার বিরুদ্ধে একাধিক বন মামলাও রয়েছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাজ্জাদুজ্জামান জানান, জবরদখল মুক্ত করতে কর্মকর্তাদের সদিচ্ছার অভাব নেই ।ইতোমধ্যে বনের জবরদখলকৃত জমির তালিকা মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারে সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
জেলা প্রশাসক ড. মোঃ আতাউল গনি সম্প্রতি মধুপুরে সামাজিক বনায়ন কর্মসুচি উদ্বোধন করতে গিয়ে বনের জবরদখলকৃত এক ব্যক্তির লেবু বাগান দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বনের জমি এভাবে দখল থাকতে পারে না। দখলকারী যতবড় প্রভাবশালী লোকই হোক না কেন তাদের উচ্ছেদ করে বনের জীব বৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষা করা হবে। ইতিমধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি থেকে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখানে অবৈধ দখলে থাকা বনভুমি উদ্ধারে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ,বাজার ও ব্যক্তি পর্যায়ে জমি উদ্ধারে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই জবরদখলকারীদের দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।

প্রতিবেদকঃ মো. আরমান কবীর সৈকত

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. এপ্রিল ২০২২ ১১:১০:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের শ্যামার ঘাট আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (৪ এপ্রিল) সকালে আশ্রায়ন প্রকল্পের ৪০ টি পরিবারের মাঝে ওই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহি অফিসার রানুয়ারা খাতুন এই খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারে হাতে তুলে দেন। এ সময় টাঙ্গাইল উপজেলা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রতিটি খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট ছিল, ১০ কেজি চাল,  ১ কেজি ডাল,  ১ কেজি লবন,  ১ কেজি চিনি,  ২ কেজি চিড়া, ১ লিটার সয়াবিন  তেল  ও  নুডুলস এক প্যাকেট।

 

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. এপ্রিল ২০২২ ১০:৫৯:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বিএনপি’র গণ অনশন কর্মসুচী পালন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিএনপি’র গণ অনশন কর্মসুচী পালন

একতার কণ্ঠঃ চাল,ডাল,তেল সহ দ্রব্য মুল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলে গণ অনশন কর্মসূচী পালন করেছে  জেলা বিএনপি।বুধবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ভিক্টোরিয়া রোডস্থ জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এ অনশন কর্মসুচীর আয়োজন করা হয়।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ডায়রিয়ার প্রকোপ আরো বেড়েছে

এই গণঅনশন কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন করে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সহ সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, বিএনপি নেতা কাজী শফিকুর রহমান লিটন, অমল ব্যানার্জি, দেওয়ান শফিকুল ইসলাম, আবুল কাশেম, আশরাফ পাহেলী, একেএম মনিরুল হক মনির প্রমুখ।

এ ছাড়া  জেলা যুবদলের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু, হাদিউজ্জামান সোহেল, সদর থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক সহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গণ অনশনে  বক্তারা  সরকারকে রমজান মাসের আগে চাল,ডাল তেল, গ্যাস সহ দ্রব্যমুল্য জনগনের ক্রয় ক্ষমতার আওতায় আনার দাবী জানান। অন্যথায় বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচী গ্রহন করে সরকারকে দাম কমাতে বাধ্য করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩১. মার্চ ২০২২ ০৩:৩৯:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে দখল ও দূষনে মৃত প্রায় লৌহজং নদী - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে দখল ও দূষনে মৃত প্রায় লৌহজং নদী

একতার কণ্ঠঃ এক কালের খরস্রোতা লৌহজং নদী এখন মৃতপ্রায়। পলি জমার পাশাপাশি পানির অভাবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা হারিয়ে গেছে।এমন বৈরী পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অবৈধ দখল ও শহরের ফেলা বর্জ্য । মারাত্মক দূষণ বর্তমানে এই নদীটিকে মরা নোংরা খালে পরিণত করেছে। এসবই ঘটেছে মাত্র কয়েক দশকের ব্যবধানে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাশিনগর এলাকায় ধলেশ্বরী থেকে উৎপত্তি হয়ে ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ লৌহজং নদী জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে জেলার মির্জাপুর উপজেলার বংশাই নদীতে গিয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লৌহজং নদীর উৎসমুখ বালিতে ভরাট হয়ে গেছে। যোগিনী সুইস গেট এলাকাসহ নদীর অধিকাংশ স্থানই প্রায় পানিশূন্য। শহর এলাকায় নর্দমার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে নদীটি। দিনের পর দিন ফেলা নোংরা আবর্জনার গন্ধে টেকা দুষ্কর হয়ে পড়েছে নদীপারের বাসিন্দাদের।


শহরের বেশ কয়েকজন প্রবীণ জানান, টাঙ্গাইল শহরের বুক চিরে বয়ে গেছে এই নদী ।১৯৮০-র দশক পর্যন্ত এই নদীতে লঞ্চ ও পণ্যবোঝাই বড় বড় নৌকা চলাচল করেছে। নদীপথে রাজশাহী থেকে আম বোঝাই নৌকা এসে শহরে ভিড়তো। এ জন্য শহরের কলেজ পাড়ার একটি সড়কের নাম করন হয়েছে “আমঘাট রোড”। এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের ক্ষেত্রে লৌহজং নদীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।ঢাকা এবং আশেপাশের জেলাগুলো থেকে খুব সহজে এ নদীর মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা শহরে প্রবেশ করা যেত। যার ফলে যাত্রী পরিবহন এবং মালামাল স্থানান্তরে আরামদায়ক পথ ছিল এ নদী। অর্থনৈতিক ও সামজিক উন্নয়নে নদীর ভূমিকা অনস্বীকার্য ছিল।

উজানে যমুনা ও এর শাখা ধলেশ্বরীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ে লৌহজংয়ের প্রবাহেও। নাব্যতা হারাতে থাকে নদীটি। বন্ধ হয়ে যেতে থাকে বড় বড় নৌকার চলাচল।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ট্রাক চাপায় যুবক নিহত

পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা কর্ম পরিকল্পনার (ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান/ ফ্যাপ-২০) অধীনে ১৯৯১ সালে সদর উপজেলার যোগিনীতে লৌহজং ও ধলেশ্বরীর সঙ্গমস্থলের কাছে সুইস গেট নির্মাণ করায় মরে যেতে শুরু করে নদীটি।পরে নদীর তীর দ্রুত দখল হয়ে যেতে শুরু করে। শুরু হয় বাড়ী-ঘর নির্মাণ ও ধান ও সবজি চাষ।

পাশাপাশি,পৌর এলাকার বসতবাড়ী থেকে নির্গত ময়লা পানি ও আবর্জনা, বিসিক শিল্প এলাকার কয়েকটি কারখানা ও সদর উপজেলার ক্ষুদিরামপুরে টেক্সটাইল মিল থেকে নির্গত বর্জ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীটিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করতে থাকে। লৌহজংয়ের পানি মানুষ ও গবাদি পশুর ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পরে। এই নদীতে থাকা জলজ প্রানী বিলুপ্তর মুখে পরে।তা ছাড়া, দূষিত পানির দুর্গন্ধে নদীর ধারে মানুষের বসবাস কঠিন হয়ে পড়ে।

এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে বছরের পর বছর ধরে সংশ্লিষ্ট নাগরিক ও স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা নদীটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনাসহ দখল ও দূষণমুক্ত করার দাবিতে নানান কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

২০১৬ সালের ২৯ নভেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসন মোট ৭৬ কিলোমিটার নদীর মধ্যে পৌর এলাকার হাজরা ঘাট থেকে বেড়াডোমা পর্যন্ত মাত্র দেড় কিলোমিটার এলাকার নদীর জায়গা দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়।

প্রাথমিক ভাবে কিছু অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হলেও পরে অজ্ঞাত কারনে উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রয়ারী তৎকালীন জেলা প্রশাসন একইস্থানে পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে।

সেসময় শুধু সদর উপজেলাতেই সাড়ে চার শতাধিক অবৈধ স্থাপনা শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে পৌর এলাকায় নদীর তীরে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ২৬০টির বেশি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে।

কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে ফেলার পর, নদীর সীমানা নির্ধারণ ও দখলদারদের চিহ্নিত করা নিয়ে বির্তকের মুখে পরে এই অভিযানটিও স্থগিত করা হয়।

পৌর এলাকার স্টেডিয়াম সংলগ্ন নদীপাড়ের বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, ‘সরকার নদীটি খনন করতে চাচ্ছে, পরিবেশ সুন্দর করতে চাচ্ছে এর সঙ্গে আমরা একমত। কথা হলো, ১৯৬২ সালে জমিগুলো আমাদের নামে রেকর্ড করে দেওয়ায় ডিসি অফিস খারিজ দিয়েছে, ভূমি অফিস খাজনা নিয়েছে ও পৌরসভা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার অনুমোদন করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ঘর করেছি।’

‘এখন যদি এই জমি থেকে আমাদের সরিয়ে দেওয়া হয় তবে আমাদের জমির ন্যায্য মূল্য দিতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।
টাঙ্গাইলের নদী, খাল ও জলাশয় রক্ষা আন্দোলন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন আহমেদ সিদ্দিক বলেন, ‘নদীর জমি দখলের পাশাপাশি সেখানে এখনও আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।শহরের প্রধান কাঁচাবাজার পার্ক বাজারের সব বর্জ্য ড্রেনের মাধ্যমে নদীতে ফেলা হচ্ছে।

কবি ও গীতিকার মাসুম ফেরদৌস বলেন, ‘কয়েক বছর আগে স্থানীয় প্রশাসন অনেক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নদীর ৭৬ কিলোমিটারের মধ্যে পৌর এলাকার মাত্র দেড় কিলোমিটার দখল ও দূষণমুক্ত করার চেষ্টা করেছিল। নদীতে যদি পানিই না থাকে তাহলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে এর পাড় বাঁধাই বা অন্য কার্যক্রম করে লাভ নেই। নদীর প্রান হচ্ছে পানি।’
আমরা চাই, দখল-দূষণ মুক্ত করার পাশাপাশি উৎসমুখ থেকে পুরো নদীতে কিভাবে প্রবাহ ফিরিয়ে আনা যায় সেই উদ্যোগ নেওয়া হোক।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) টাঙ্গাইলের বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘দখল-দূষণে লৌহজং মৃতপ্রায় আজ । শুধু দেড় বা ৩ কিলোমিটার উদ্ধার করে নদীর পাড়ে রাস্তা বা অন্য কিছু নির্মাণ করে কাজের কাজ কিছু হবে না। মানুষ নদী সৃষ্টি করতে পারে না। এটি প্রাকৃতিক সম্পদ। নদী বাঁচলে মানুষ বাঁচবে, দেশ বাঁচবে। কাজেই নদীটিকে সচল করতে হবে।’

‘নদীর উৎস মুখ থেকে প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘নদীকে নদীর গতিতে চলতে দিতে হবে। এর প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।’

সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম জানান, ‘নদীটির বেহাল দশা দেখেছি। যে অংশটুকুতে অভিযান চালানো হয়েছিল তা আবার দখলের প্রক্রিয়া চলছে।’

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ডক্টর মো. আতাউল গণি জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবেদকঃ মো. আরমান কবীর সৈকত

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. মার্চ ২০২২ ০৬:০৮:পিএম ৪ বছর আগে
সংসদে ‘গণমাধ্যম কর্মী (চাকরির শর্তাবলি) বিল-২০২২’ উত্থাপন - Ekotar Kantho

সংসদে ‘গণমাধ্যম কর্মী (চাকরির শর্তাবলি) বিল-২০২২’ উত্থাপন

একতার কণ্ঠঃ মাস শেষে সাত দিনের মধ্যে বেতন পরিশোধ করার বিধান রেখে ‘গণমাধ্যম কর্মী (চাকরির শর্তাবলি) বিল-২০২২’ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, কোনো গণমাধ্যমকর্মীর বেতনকাল এক মাসের অধিক হবে না। পরবর্তী মাসের সাত কর্মদিনের মধ্যে বেতন পরিশোধ করতে হবে।

সোমবার (২৮ মার্চ) তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা ৬০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

এই বিলে বলা হয়েছে, প্রতি পাঁচ বছর পর পর গণমাধ্যমকর্মীদের ন্যূনতম ওয়েজ বোর্ড গঠন হবে। ওয়েজ বোর্ড সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা, বেসরকারি টেলিভিশন, বেতার ও নিবন্ধিত অনলাইন মাধ্যমের জন্য প্রয়োজনে পৃথক পৃথক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করবে। আগে শুধু সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার জন্য এই ওয়েজ বোর্ড গঠন করা হতো।

তিন বছর পর পর ১৫ দিনের শ্রান্তি বিনোদন ছুটির কথাও বিলে বলা হয়েছে বিলে।

বিলে বলা আছে, গণমাধ্যমে পূর্ণকালীন কর্মরত সাংবাদিক, কর্মচারী এবং নিবন্ধিত সংবাদপত্রের মালিকানাধীন ছাপাখানাসহ নিবন্ধিত অনলাইন গণমাধ্যমে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ‘গণমাধ্যমকর্মী’ বলা হবে। গণমাধ্যমকর্মীদের তিনটি বিভাগ করা হয়েছে এই বিলে। সেগুলো হলো- অস্থায়ী বা সাময়িক, শিক্ষানবিশ এবং স্থায়ী।

বিলে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমকর্মীকে সপ্তাহে অন্যূন ৪৮ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। এর বেশি কাজ করাতে চাইলে অধিকাল (ওভার টাইম) ভাতা দিতে হবে।

আগে গণমাধ্যম কর্মীরা চলতেন ‘দ্য নিউজ পেপার এমপ্লয়িজ (চাকরির শর্তাবলী) আইন- ১৯৭৪’ এর আওতায়। এর সঙ্গে শ্রম আইনের কিছু বিষয় সাংঘর্ষিক হচ্ছিল।

পরে সাংবাদিকদের শ্রম আইনের আওতায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদের শ্রমিক হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।

এই বিল পাস হলে গণমাধ্যমকর্মীরা আর শ্রমিক থাকবেন না, তাদের গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে অভিহিত করা হবে।

দ্য নিউজ পেপার এমপ্লয়িজ (চাকরির শর্তাবলী) আইনে সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক ও প্রেস কর্মচারীদের চাকরির শর্ত, আর্থিক বিষয় ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করা ছিল।

সরকার ওই আইনকে রহিত করে সব শ্রমিকের জন্য ২০০৬ সালে ‘শ্রম আইন’ প্রণয়ন করে; যাতে সংবাদপত্রের সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক ও প্রেস কর্মচারীদের বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২০১৮ সালে বিলটির নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবিত এই আইনে বলা হয়েছে, একজন গণমাধ্যমকর্মী বছরে ১৫ দিন নৈমিত্তিক ছুটি পাবেন। এছাড়া প্রতি ১১ দিনে একদিন অর্জিত ছুটি অর্জন করবেন। এই ছুটি ভোগ না করলে তা জমা থাকবে এবং চাকরি শেষে সর্বোচ্চ ১০০ দিন নগদায়নের সুবিধা পাবেন।

চিকিৎসকের প্রত্যয়ন সাপেক্ষে একজন গণমাধ্যমকর্মী চাকরির মেয়াদের অন্যূন ১৮ ভাগের এক ভাগ অংশ সময় পূর্ণ বেতনে অসুস্থজনিত ছুটি পাবেন।

বিলে বলা আছে, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একজন গণমাধ্যমকর্মী পূর্ণ বেতনে এককালীন বা একাধিকবার অনূর্ধ্ব ১০ দিন পর্যন্ত উৎসব ছুটি ভোগ করতে পারবেন। উৎসবের দিনে কাজ করালে প্রতি কার্যদিনের জন্য দুই দিনের মূল বেতন বা দুই দিনের বিকল্প ছুটি মঞ্জুর করতে হবে।

একবছর চাকরি করার পর ভবিষ্যৎ তহবিলে কর্মী ও মালিকের আট থেকে ১০ শতাংশ চাঁদার কথা বিলে বলা হয়েছে।

বিলে প্রতি প্রতিষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মী ও মালিকের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ‘গণমাধ্যমকর্মী কল্যাণ সমিতি’ গঠন করার বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, সরকার এক বা একাধিক বিভাগীয় এলাকার জন্য গণমাধ্যম আদালত স্থাপন করতে পারবে।

এই আদালতের একজন চেয়ারম্যান এবং দুই সদস্য থাকবে। কর্মরত জেলা জজদের মধ্যে একজন চেয়ারম্যান হবেন। দুই সদস্যের একজন গণমাধ্যম মালিক ও আরেকজন গণমাধ্যমকর্মী হবেন।

প্রস্তাবিত আইনে বলা আছে, গণমাধ্যম আদালত ফৌজদারি কার্যবিধিতে বর্ণিত সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে অনুসরণ করবে। প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর ন্যস্ত সকল ক্ষমতা গণমাধ্যম আদালতেরও থাকবে।

বিলে গণমাধ্যম আপিল আদালতেরও বিধান রাখা হয়েছে। এর চেয়ারম্যান হবেন হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারক বা অতিরিক্ত বিচারক হবেন। চেয়ারম্যানকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য সরকার এক বা একাধিক সদস‌্য নিয়োগ করতে পারবেন বলে বিলে বিধান রাখা হয়েছে। সদস্যরা হবেন তিন বছর কর্মরত আছেন বা ছিলেন এমন জেলা জজদের মধ্য থেকে।

বিলে বলা হয়েছে, গণমাধ্যম আদালতের আদেশ পালন করতে অস্বীকার করলে বা ব্যর্থ হলে তিন মাসের জেল বা অনূর্ধ্ব পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা হবে।

কোনো গণমাধ্যম মালিক নারী কর্মীকে প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা না দিলে সেই মালিককে ২৫ হাজার টাকা দণ্ড দেওয়া হবে বলে বিলে বলা হয়েছে।

ন্যূনতম বেতন হারের কম বেতন দিলে এক বছরের জেল বা পাঁচ বছরের জেলের বিধান রাখা হয়েছে। কোনো গণমাধ্যমকর্মী আদালতে মিথ্যা বিবৃতি দিলে তার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের জেল হবে।

গণমাধ্যম মালিক মিথ্যা বিবৃতি হলে অনূর্ধ্ব পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা তিন মাসের কারাদণ্ড হবে। মালিকের পক্ষ থেকে অন্যায় আচরণ হলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের জেল হবে।

বিলে বলা হয়েছে, এক বছর চাকরিরত অবস্থায় কোনো গণমাধ্যমকর্মী মারা গেলে মৃতের মনোনীত ব্যক্তি বা তার উত্তরাধিকারীকে কর্মীর প্রত্যেক পূর্ণ বছর বা ছয় মাসের অধিক সময় চাকরির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ দিনের এবং কর্মরত বা কর্মকালীন দুর্ঘটনার কারণে ৪৫ দিনের বেতন প্রদান করতে হবে।

বিলে বলা হয়েছে, কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত কর্মী ছাঁটাই করতে চাইলে সরকারকে দ্রুত লিখিতভাবে জানাতে হবে। ছাঁটাই করতে হলে কর্মীকে এক মাসের লিখিত নোটিশ দিতে হবে অথবা এক মাসের মূল বেতন দিতে হবে। এছাড়া ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতি বছর চাকরির জন্য ৩০ দিনের মূল বেতন দিতে হবে।

কোনো স্থায়ী কর্মী ৩০ দিনের নোটিশ এবং অস্থায়ী কর্মী ১৫ দিনের নোটিশ দিয়ে চাকরিতে ইস্তফা দিতে পারবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. মার্চ ২০২২ ০১:২২:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে দেড় লাখের বেশি পরিবার পাচ্ছেন টিসিবি পণ্য - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে দেড় লাখের বেশি পরিবার পাচ্ছেন টিসিবি পণ্য

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭১১টি নিম্ন আয়ের পরিবারকে প্রথম দফায় ভর্তুকিতে কম মূল্যে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর মাধ্যমে পণ্য বিতরণ শুরু হয়েছে।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে গৃহবধূকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

রবিবার (২০ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের এমপি মো. ছানোয়ার হোসেন।এ সময় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শাহজাহান আনছারী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রানুয়ারা খাতুন, ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান চৌধুরী মজনু উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭১১টি নিম্ন আয়ের পরিবার ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪২২ লিটার তেল, ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪২২ কেজি চিনি এবং ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪২২ কেজি মশুর ডাল পাবেন।

প্রথম দফায় একজন ক্রেতা ৫৫ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ ২ কেজি চিনি, ৬৫ টাকা কেজি দরে ২ কেজি মসুর ডাল, ১১০ টাকা দরে ২ লিটার ভোজ্যতেল তেল পাচ্ছেন। ৩ টি আইটেম ৪৬০ টাকা দিয়ে কিনতে পারবেন। তারমধ্যে ৪৩০ টাকা ডিলার সরকারের কাছে জমা দিবে। আর ৩০টাকা ডিলারের লাভ থাকবে।

এসব পণ্য সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১২টি উপজেলায় ফ্যামেলি কার্ডের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে নির্দিষ্টস্থানে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। স্বল্পমূল্যে রোজার আগে তেল, চিনি ও ডাল কিনতে পেরে নিম্ন-আয়ের লোকজনও খুশি।

এদিকে, জেলায় ১২টি উপজেলায় টিসিবি’র পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার অথোরাইজড অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। এ লক্ষে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে মনিরটিং টিম গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় ট্যাগ অফিসার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তারা প্রতিটি ডিলারের পণ্য বিক্রি কার্যক্রম পরিদর্শন ও মনিটরিং করছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. মার্চ ২০২২ ০১:১৪:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস পালিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস পালিত

একতার কণ্ঠঃ “ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় ন্যায্যতা” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে টাঙ্গাইলে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস পালিত হয়েছে।টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে  মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আমিনুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে আলোচ্য বিষয় উপস্থাপন করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক সৈয়দা তামান্না তাসনিম।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইলের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফারজানা তাহের মুনমুন, টাঙ্গাইল জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক তাহলিমা জান্নাত, হিউম্যান রাইটস্ রিভিউ সোসাইটি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মো. রাশেদ খান মেনন (রাসেল), বিসিক টাঙ্গাইলের সভাপতি, ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক, পার্ক বাজার বণিক সমিতির সভাপতি, সম্পাদক, বটতলা বাজার সমিতির সভাপতি, বৈল্ল্যা বাজার সমিতির সভাপতি, জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা, জেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর, ঘাটাইল উপজেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা’সহ বিভিন্ন পর্যায়ের সুধীজন।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর অধীনে অভিযোগ দায়ের এবং অপরাধ ও দণ্ডের বিধান নিয়ে আলোচনা করা হয়। ভোক্তা ও বিক্রেতাদের জ্ঞাতার্থে, আইনটিতে বর্ণিত অভিযোগ দায়ের, ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্য ও অপরাধ এবং দণ্ডের বিধান নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. মার্চ ২০২২ ০২:১২:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বনের ঝরা পাতা কুড়াতেও গুনতে হচ্ছে টাকা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বনের ঝরা পাতা কুড়াতেও গুনতে হচ্ছে টাকা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে গাছের পাতার দাম এখন ৩ হাজার টাকা। শুনতে অবাক লাগলেও এমনটাই দাবি স্থানীয়দের। রীতিমতো রশিদ দিয়ে টাকা নেয়ার কথা স্বীকারও করেছেন বনকর্মীরা। তাদের দাবি, বনের দেখভালে ব্যবহার করা হয় এই অর্থ। তবে এই বিষয়ে কিছুই জানেন না টাঙ্গাইলের বন কর্মকর্তা।

ফাল্গুন-চৈত্র মাসে গাছের ঝরা পাতার স্তুপ জমে মধুপুর বনাঞ্চলে, যা কুড়িয়ে জ্বালানির কাজ চলে স্থানীয়দের। কেউ আবার কুড়ানো পাতা বিক্রি করে রোজগার করেন। কিন্তু এতে বাধ সেধেছেন রেঞ্জ কর্মকর্তারা। দোখলা রেঞ্জে শুকনো পাতার জন্য প্রতিজনের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে নিচ্ছেন তারা।

অভিযোগ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে পাওয়া যায়নি দোখলা রেঞ্জ কর্মকর্তাকে। তবে রশিদ দিয়ে টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করছেন এক বনকর্মী। তার দাবি, বনরক্ষায় খরচ হয় এই অর্থ।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানা নেই বলে দাবি বিভাগীয় বন কর্মকর্তার। টাঙ্গাইল বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো সাজ্জাদুজ্জামান বলেন, এমন কোনো অভিযোগ থাকলে এ বিষয়ে আমরা তদন্ত করবো।

প্রসঙ্গত, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৮২ সালে বনের ৮৪ হাজার ৩৬৬ হেক্টর জায়গাকে মধুপুর ও ভাওয়াল নামে দু’টি জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. মার্চ ২০২২ ০২:৪২:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম পরিদর্শন করলেন বিসিবি’র ওবায়েদ নিজাম - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম পরিদর্শন করলেন বিসিবি’র ওবায়েদ নিজাম

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন করলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের(বিসিবি) বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টের চেয়ারম্যান ওবায়েদ নিজাম। এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান তানভীর হাসান টিটু, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গ্রান্ডস কমিটির ম্যানেজার আব্দুল বাতেন ও সাবেক জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাইফুল ইসলাম।

এর আগে শুক্রবার( ৪ মার্চ) সকালে হেলিকপ্টার যোগে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে অবতরন করলে টাঙ্গাইল ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মির্জা মঈনুল হোসেন লিন্টু তাঁদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম-সম্পাদক মাতিনুজ্জামান সুখন ও ইফতেখারুল অনুপম ও টাঙ্গাইল জেলা ক্রিকেট কোচ মোঃ আরাফাত রহমান।

ওবায়েদ নিজাম টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম পরিদর্শন কালে বলেন, তিনি মাঠ ও মাঠের সুবিধা নিয়ে সন্তুষ্ট, তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচে আয়োজন বড় বাঁধা টাঙ্গাইল শহরে ভালো মানের একটা পাঁচতারা হোটেল নেই। তারপরও তিনি আশাবাদী টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনের।

 তিনি আরো বলেন, দ্রুততম সময়ে টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামকে আর্ন্তজাতিক মানের স্টেডিয়ায় করার জন্য যা দরকার তা পূরণ করা হবে। তিনি টাঙ্গাইল ক্রিকেট দলের বয়সভিত্তিক পর্যায়ে সফলতার জন্য অভিনন্দন জানান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. মার্চ ২০২২ ০৭:১৫:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ‘প্লাস্টিকের হস্তশিল্প পল্লী’,অনেকেই স্বাবলম্বী - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ‘প্লাস্টিকের হস্তশিল্প পল্লী’,অনেকেই স্বাবলম্বী

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ও বেকড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্লাস্টিকের হস্তশিল্প তৈরির পল্লী গড়ে উঠেছে। আর এর মাধ্যমে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। দেশের টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলের পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জাতীয় ওয়ানটাইম বেল্ট থেকে এ হস্তশিল্পের তৈরি হয়েছে। গড়ে উঠেছে বিভিন্ন মালিকানাধীন কারখানা।

এ সকল কারখানার মালিকরা শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানা থেকে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জাতীয় বেল্ট কিনে নিয়ে আসেন, এই প্লাস্টিক দিয়ে গ্রামীণ নারী-পুরুষ মিলে তৈরি করেন- সিলিং, ডোল কিংবা বেড়া।

এ সকল পণ্যের চাহিদা রয়েছে সারাদেশেই, স্থানীয় হাট-বাজার ছাড়াও কারখানা থেকে তাদের তৈরি পণ্য ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন গ্রাহকরা। বিশেষ করে ধান কাটার মৌসুমে এ ডোল বেড় এর চাহিদা একটু বেশি। সারা বছর তৈরি করা পন্যর চাহিদা হলেও বছরে অন্যান্য সময়ে কারখানা পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জাতীয় বেল্ট দিয়ে কারিগররা তৈরি করেন, ঘরের সিলিং, বেড়াসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র।

প্লাস্টিকের তৈরি হলেও এ আসবাবপত্রগুলো দেখতে বাঁশ ও বেতের তৈরীর মতোই মনে হয়, টেকসই ও মজবুত হওয়ায় এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। গ্রামীণ জনপদের নারী-পুরুষ সামান্য প্রশিক্ষণ নিয়ে তৈরি করছেন এমন পণ্য। তাদের তৈরি এ পণ্য স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়, এতে করে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে এ শিল্পকে ঘিরে।ফলে সংসারে অভাব-অনটন অনেকটাই লাঘব করতে সক্ষম হচ্ছেন নারীরা, এই শিল্পের মাধ্যমে পাল্টে যাচ্ছে তাদের পারিবারিক চিত্র।

বারাপুষা গ্রামের ইসহাক মেম্বার জানান, তার কারখানায় মোট ৮০ জন শ্রমিক কাজ করছে। তবে প্রায় কর্মীরা তাদের নিজ নিজ বাড়িতেই এ কাজগুলো করে নিয়ে আসে, কারখানায় এসকল কর্মীরা গড়ে ১৫/২০ পিস করে চেগার(আকার ভেদে) ও একজন কারিগর একটি করে ডোল বানাতে পারে।

তিনি আরও জানান, সিলিং প্রতি কেজি ১৩০ টাকা, চেগার বিক্রি করেন ১১০ টাকা কেজি ধরে।

এ শিল্প কাজের সাথে জড়িত কয়েক জনের সাথে কথা বললে জানা যায়, তাদের উৎপাদিত পণ্য বেশ চাহিদা থাকলেও অর্থের অভাবে সরবরাহ করতে পারছেন না ক্রেতার চাহিদা মতো পণ্য। তবে ব্যাংক কিংবা কোন এনজিও প্রতিষ্ঠান সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করলে হয়তো এ শিল্প-কারখানা আরো প্রসারিত করা সম্ভব হতো বলে জানিয়েছেন কারিগররা।

টাঙ্গাইল বিসিকের কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আল ফারুক জানান, এ শিল্পের সাথে জড়িত কারিগররা চাইলে বিসিক এর পক্ষ থেকে এ শিল্প উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) সিফাত-ই-জাহান জানান, এ শিল্পের সম্প্রসারণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. ফেব্রুয়ারী ২০২২ ০১:০২:এএম ৪ বছর আগে
সখীপুরে দুই ইটভাটার মালিককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা - Ekotar Kantho

সখীপুরে দুই ইটভাটার মালিককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে দুই ইটভাটার মালিককে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বহেড়াতৈল ও কাকড়াজান ইউনিয়নের পলাশতলী এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট , উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সুলতানা ওই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় পলাশতলী এলাকার মেসার্স মিতালী ব্রিক্সকে ২ লাখ এবং বহেড়াতৈলের পূবালী  ইটভাটার মালিককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা জানান, কৃষি জমির মাটি দিয়ে এবং কাঠ পুড়ে ইট তৈরির অভিযোগে ওই দুই ইটভাটার মালিককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ সময় টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিপ্লব চন্দ্র সূত্রধরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. জানুয়ারী ২০২২ ০২:১৪:এএম ৪ বছর আগে
নাগরপুরে ই-নামজারী ও ভূমি সেবা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত - Ekotar Kantho

নাগরপুরে ই-নামজারী ও ভূমি সেবা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে উপজেলা পরিচালনা ও উন্নয়ন প্রকল্প (ইউজিডিপি) এর ই-নামজারী ও ভূমি সেবা বিষয়ক বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের ৩দিন ব্যাপী প্রশিক্ষন শুরু হয়েছে। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি এর কার্যালয়ের কারিগরি তত্ত্বাবধানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে উপজেলা পরিষদ ওই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

অনলাইনে ই-নামজারি ও ভূমি সেবা বিষয়ে অবহিতকরন কর্মশালার প্রথম দিনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীর , এলজিডি অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত তরুন কুমার সাহা, ভূমি অফিসের প্রধান সহকারি প্রদিপ কুমার সাহা, সার্ভেয়ার আইয়ুব আলীসহ ভূমি অফিসের সকল কর্মচারিবৃন্দ।

উক্ত প্রশিক্ষণে স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, ইউপি সদস্য ও ছাত্র-ছাত্রী সহ মোট ৪৫ জন অংশ গ্রহণ করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. জানুয়ারী ২০২২ ০১:০৭:এএম ৪ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।