একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গরীব অসহায় দুস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার( ৩ মে) সকাল ১১টার দিকে শহীদ সালাউদ্দিন সেনানিবাসের উদ্যোগে উপজেলার সন্ধানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ সময় শহীদ সালাউদ্দিন সেনানিবাসের বিগ্রেডিয়ার জেনারেল তৌহিদুল আহমেদসহ সেনাবাহিনীর অন্যন্য অফিসারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় শতাধিক পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল, তেল, চিনি, সেমাই, সাবান, নগদ টাকা এবং মাস্ক বিতরণ করা হয়।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ তরমুজ কেবল খেতেই সুস্বাদু নয়, শরীর-স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। এতে চর্বি নেই। প্রচুর ভিটামিন এ, বি৬, সি, পটাশিয়াম, লাইকোপেন ও সিট্রুলিনের মতো উপাদান থাকে।মৌসুমী রসালো ফল তরমুজ এখন টাঙ্গাইলের মধুপুরে কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো দাম হাকিয়ে তরমুজ বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ জানিয়েছেন ক্রেতা ও জন সাধারণ। নিম্ন আয়ের মানুষের এবছরের তরমুজের স্বাদই নিতে খুবই হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
রমজান মাস এলেই বাঙালীদের প্রতিটি পরিবারেই ইফতারে থাকে তরমুজসহ হরেক রকমের মৌসুমী ফলের সমাহার। কিন্তু এবছর সেই তরমুজের দাম এখন আকাশ ছোঁয়া। তবে দাম বৃদ্ধির কারনে অনেক রোজাদারসহ নিম্ন আয়ের মানুষ আজও তরমুজের স্বাদ নিতে পারেনি। গেল বছর মধুপুরের সর্বত্রই তরমুজের ছড়াছড়ি এবং পিচ হিসেবে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কিন্তু এবার চিত্রটা ভিন্ন! চলতি মৌসুমে বাজারে পর্যাপ্ত তরমুজের দেখা গেলেও এ বছর তরমুজ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে এবং তাও কেজিপ্রতি আবার ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।
শনিবার (২৪ এপ্রিল) মধুপুরের মোটের বাজার হাট এবং শুক্রবার জলছত্র বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্রেতা এসে বিক্রেতার সাথে দাম নিয়ে রীতিমতো বিবাদে জড়িয়ে পড়ছেন। আবার অনেক ক্রেতা যেহেতু কেজিতে বিক্রি হচ্ছে তাই কেটে ১ কেজি তরমুজ চাচ্ছেন দোকানির কাছে। এ নিয়েও চলছে বাক বিতন্ডতা।
অটোচালক ফরিদ, হীরা মিয়া, আসাদুজ্জামান আসাদ সহ আরও অনেকেই বলেন, লকডাউন চলছে। ভয় নিয়ে সড়কে আসি, দিন শেষে যা আয় হচ্ছে কোনো রকমে পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে আছি। এই রোজগারে এ বছর তরমুজ খাওয়া সম্ভব হবে না।
বাজারে আসা রোজাদারসহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষের প্রশ্ন তরমুজ কেজিতে বিক্রি হওয়ার কারন কি? যে তরমুজ গত বছরও মানুষ পিচ হিসেবে কিনেছে, সেই তরমুজ এ বছর কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে কেজিতে যদি ১৫/২০ টাকা হতো তাহলে সাধ্যের মধ্যে থাকতো ; অথচ ৫০/৬০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। ভোক্তাদের প্রশ্ন এই টাকা কি প্রকৃতপক্ষে ওই চাষি, যে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তরমুজ উৎপাদন করেছে তার পকেটে যাচ্ছে নাকি অন্য কারও পকেটে? কৃষকের তরমুজের ক্ষেত থেকে শুরু করে বাজারে বিক্রেতা পর্যন্ত যারা ভোক্তার পকেট খালি করে চলেছে তাদের খুজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাজারের কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জানান, বড় ব্যবসায়ীরা তরমুজ পাইকারী বাজার হতে শ’ হিসেবে কিনে তা কেজিতে বিক্রি করছেন। আমরাও কেজিতে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। বাজার মনিটরিং করলে কেজি কাহিনী উন্মোচন হবে বলে তারা মনে করছেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ আগামী রবিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে দোকানপাট ও শপিংমল যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। শুক্রবার( ২৩ এপ্রিল) দুপুরে উপসচিব মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাজার অথবা সংস্থার ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বিধিনিষেধের মধ্যেই দোকানপাট ও শপিংমল খোলার এই অনুমতি দিলো সরকার। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সারাদেশে দ্বিতীয় দফায় গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে ‘লকডাউন’ শুরু হয়। যা চলবে আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত।
এর আগে ১৪ এপ্রিল থেকে চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে ১২ এপ্রিল প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ছাড়া অন্য সকল ধরনের দোকান ও শপিংমল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ বাংলা সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ ঢুলি সম্প্রদায়। এ সংস্কৃতির ঐতিহ্যে বিকাশেও রয়েছে এ সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সংস্কৃতির যাত্রা, নাটক, বাউলগান, পালাগান হয়েছে এ সম্প্রদায়ের হাত ধরে সমৃদ্ধ। এ সম্প্রদায়ের উর্বর ভূমি টাঙ্গাইল জেলা। যার নিদর্শন এখনও ধরে রেখেছে জেলার ঘাটাইল উপজেলার দিগর ইউনিয়নের হামিদপুরের বায়ানপাড়ায় বসবাসরত ঢুলি সম্প্রদায়ের শতাধিক পরিবার।
তবে করোনা ও লকডাইনের কারনে এখন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এ সম্প্রদায়ের কার্যক্রম। এর ফলে চরম অভাব অনটনে কাটছে এ সম্প্রদায়ের দিন-কাল। করোনার প্রভাবে অস্তিত্বে সংকটে পড়েছে টাঙ্গাইলে ঢুলি সম্প্রদায় । পেটের দায়ে সম্প্রদায়ের কেউ কেউ বেঁছে নিচ্ছেন অন্য পেশা। ঝুঁপড়ির ঘর, উন্মুক্ত পায়খানায় এ সম্প্রদায়ের শিশুসহ পরিবার গুলো যেমন রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে, তেমনি রয়েছে পরিবার পরিকল্পনা প্রদ্ধতি সম্পর্কে অসচেতনতা। গ্রামটিতে রয়েছে চরম পয়ঃনিস্কাশন সমস্যাও। মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যেও দিনদিন বাড়ছে এ গ্রামে বসবাসরত পরিবারগুলোর সদস্য সংখ্যা।
জানা যায়, প্রায় ৩’শ বছর যাবৎ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিগর ইউনিয়নের হামিদপুরের বায়ানপাড়ায় বসবাস করে আসছে ঢুলি সম্প্রদায়ের এ পরিবার গুলো। ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের গ্রাম এই বায়ানপাড়া বা নার্গাচিপাড়া। ব্যক্তি মালিকাধীন ৫৯ শতাংশ জমির উপর অবস্থিত এ গ্রামটিতে বসবাসরত পরিবারের সংখ্যা শতাধিক হলেও এর সদস্য সংখ্যা প্রায় ২’শ জন। তাদের ভোটার সংখ্যা ১০৫জন। এছাড়াও ইসলাম ধর্মাবলম্বী এ সম্প্রদায়ের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন এই বাদ্যযন্ত্র। পরিবারের উপার্জনক্ষম শিশু থেকে বৃদ্ধ একজন হলেও রয়েছে এ পেশায় জড়িত। গ্রামটিতে বর্তমানে এ পেশার জড়িত রয়েছে বাসন্তী ব্যান্ড পার্টি, মনির ব্যান্ড পার্টি, বাংলাদেশ ভান্ডারী ব্যান্ড পার্টি, স্বপন ব্যান্ড পার্টি, শাহিন ব্যান্ড পার্টি, ফখর উদ্দিন ভাই ভাই ব্যান্ড পার্টি, সুমাইয়া ব্যান্ড পার্টি, বৃষ্টি ব্যান্ড পার্টি ও হৃদয়-রিপন ব্যান্ড পার্টির মত কয়েকটি দল।
এক একটি দলে কাজ করছে কমপক্ষে ১২জন সদস্য। বাংলা বছরের বৈশাখ, জৈষ্ঠ্য, আষাঢ়, শ্রাবণ, অগ্রহায়ন, মাঘ আর ফাল্গুন এ সম্প্রদায়ের উপার্জনের সময়। এ সকল ব্যান্ড পার্টির একটি দলে কাজ করেন ৬জন বাঁশি বাদক, ১জন বাংলা সানাই বাদক, ১ জন জয় ঢাঁক বাদক, ১জন ঢোল বাদক, ১জন জুড়ি বাদক, ১ জন কারা বা ছোট জয় ঢাঁক বাদক আর ১জন করতাল বাদক। নাটক, যাত্রা, বাউলগান, পালাগান, হিন্দু বিয়ে, অন্নপ্রাশন, পূঁজা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ওরশ, র্যালীসহ নানা ধরণের সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয় তাদের বাদ্যযন্ত্র। এ ধরণের প্রতিটি দিনব্যাপি অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র বাজানো বাবদ জনপ্রতি পান এক হাজার টাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যক্তি মালিকাধীন মাত্র ৫৯ শতাংশ জমিতে অবস্থিত এ গ্রামটিতে গড়ে উঠেছে মাত্র একটি সেমিপাকা ঘর। বাকি সব ঘরগুলোই তোলা হয়েছে টিনের ঝুঁপড়ি দিয়ে। ৫৯ শতাংশ জমির গ্রামটিতে এতগুলো পরিবার বসবাসের ফলে তাদের এক একটি পরিবার এক বা আধা শতাংশ জমির মালিক। আবার অনেকেই আছেন ভূমিহীন। নেই তাদের কোন আবাদী জমি। এদের বেশিরভাগ ঘরেই নেই শোয়ার মত খাট বা চৌকি। সরকারিভাবে স্যানেটারী পায়খানা তৈরির রিং পাট আর স্লাব বসানো হলেও সেগুলোতে টিনের বেড়া দেয়ার সাধ্যও হয়নি হতদরিদ্র এই পরিবারগুলোর। এ কারণে পলিথিন বা সিমেন্টের কাগজ দিয়ে ঘিরেই কোন রকমে চলছে এর ব্যবহার। এর মধ্যেই চলছে গ্রামটিতে বসবাসরত শিশুদের খেলাধুলা, বৃদ্ধসহ পরিবারের সকল বয়সী নারী পুরুষের চলাচল। একই সাথে পরিবার পরিকল্পনা প্রদ্ধতি মেনে চলার চরম অসচেতনতায় গ্রামটির প্রতিটি পরিবারেই বৃদ্ধি পেয়েছে সদস্য সংখ্যা। এছাড়াও ওই গ্রামের মরহুম বরকত আলী নার্গাচীর স্ত্রী খুশিরন (৫৫) প্রধানমন্ত্রীর দেয়া একটি ঘর পেলেও তারও নেই স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানার ব্যবস্থা।
বায়ানপাড়া গ্রামের চার সন্তানের জনক ও বয়োজ্যেষ্ঠ করনেট বাঁশি বাদক দরাজ আলী নার্গাচী (৭৮) জানান, আমাগো জাতিগত ব্যবসা এই ঢোল ব্যবসা। পূর্বপুরুষ থেকে আমাগো এই ব্যবসা চৈইলা আসছে। করোনার কারনে লকডাইনে ব্যবসা বাণিজ্য নাই, তাই খুব অভাবে আছি। বছরের ছয় মাস চলে আমাগো এই ব্যবসা। যখন কাম থাকেনা তহন আমরা রিক্সা বাই, কেউ কেউ আবার হাটে বাজারে ইঁদুর, তেলাপোকা, পিঁপড়া মারার ওষুধ বিক্রি কৈইরা চলে। সেই কাজও এখন বন্ধ তাই এক পেট খেয়ে কোন রকমে বাইচা আছি। সরকার আমাগো দিকে তাকায় না।
চার সন্তানের জনক ও বাঁশি বাদক জোয়াদ আলী নার্গাচী (৪৮), দুই সন্তানের জনক ও বাঁশি বাদক শফিকুল ইসলাম নার্গাচী (৩৪) ও তিন সন্তানের জনক আহাম্মদ আলী ভান্ডারী নার্গাচী (৫০) বলেন, অন্য কোন কাম জানা নাই বৈইলা কোন রকমে এ পেশা দিয়াই বাইচা আছি। আমরা নাটক, যাত্রা, বাউলগান, হিন্দু বিয়ে, অন্নপ্রাশন, পূঁজা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ওরশ, র্যালীসহ বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে থাকেন তারা। তবে দেশে এখন করোনা আইসা আমাগো কাজ কৈইমা গেছে। এ কাম কৈইরা এখন কোন রকমে চলতাছে আমাগো পেট। বাংলার ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
চার সন্তানের জনক হযরত আলী নার্গাচী (৫৫) বলেন, আমাগো পূর্বপুরুষের ব্যবসা এই ব্যান্ডপার্টি। এ ব্যবসার উপরই আমাগো সংসার চলতাছে। এ ব্যবসা ছাড়া আমাগো কোন অর্থ সম্পদ নাই। বছরের ছয়মাস যখন কাম না থাকে পেটে ভাতে বেঁচে থাকার তাগিদে দিনমজুরের কাম করাসহ রিক্সা চালান বলেও জানায় সে। সেই কাজ ও এখন বন্ধ।
আপন ঢুলি নার্গাচী (২৮) বলেন, আমরা খুবই দরিদ্র এ কারণে ছালা দিয়া ঘিরা পায়খানা ব্যবহার করতাছি। সরকারিভাবে দেয়া পায়খানা আমরা গরীব বৈইলা পাইনা। অন্যজনাগো দিয়া দেয়। চেয়ারম্যান-মেম্বাররে জানাইয়া কোন কাম হয়নাই বলেও জানান তিনি। এখন পর্যন্ত কোন সরকারী সাহায্যে মেলেনি তাদের ভাগ্য।
ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, প্রায় তিন’শ বছর যাবৎ এ গ্রামে এই বায়ান সম্প্রদায়ের বসবাস। করোনার প্রভাবে এ ব্যবসায় প্রায় ধস নেমে গেছে। ব্যবসা খারাপ হওয়ায় এ পরিবারগুলোর অনেকেই এখন হাটে বাজারে মশা, মাছি ও ইঁদুরের ওষুধ বিক্রি কৈইরা পেট চালাইতাছে। এ গ্রামে বসবাসরত পরিবারগুলোর অধিকাংশেরই কারো আদা শতাংশ জমি, কারো এক পোয়া শতাংশ জমি, কারো তিন পোয়া শতাংশ জমি, কারো এক শতাংশ জমি রয়েছে। আবার অনেকেই আছেন একদম ভূমিহীন।
দিগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ (মামুন) বলেন, বায়ানপাড়ার অধিকাংশ পরিবারকে পায়খানা নির্মাণে রিং পাট ও স্লাব দিয়েছেন তারা। বেড়া তাদের দিয়ে নেয়ার কথা। এছাড়াও প্রতি বছরই বন্যায় ওই গ্রামটি তলিয়ে যেত বলে ইতিপূর্বে বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াতের সুবিধা করে দিয়েছিল তারা। পরবর্তীতে মাটি ফেলে বায়ানপাড়ায় যাতায়াতের রাস্তাও করে দেয়া হয়েছিল। তবে বন্যায় ওই রাস্তাটির অনেকটাই ক্ষতি হয়েছে। এরপরও এলজিএসপির বরাদ্দ থেকে গ্রামটির রাস্তা রক্ষায় গাইডওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। করোনা সংকট মোকাবেলায় এই সম্প্রদায়ের লোকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলে কঠোরভাবে পালন করা হয়েছে প্রথম দিনের লকডাউন। জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্টে কঠোর নজরদারি ছিল। ফলে প্রয়োজন ছাড়া সাধারন মানুষকে খুব বেশী ঘর থেকে বের হতে দেখা যায়নি।
জরুরি প্রয়োজনে কিছু মানুষ ঘর থেকে বের হলেও গণপরিবহন, মার্কেট ও বিপনি বিতান বন্ধ ছিল। পুলিশের পাশাপাশি র্যাবসহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে মোবাইল টিম মাঠে কাজ করছে। টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সকাল থেকেই জেলায় লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনী মাঠে তৎপরতা ছিল চোখে পরার মতো। টাঙ্গাইল শহরসহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন চলাচলে লকডাউনের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে দেখা গেছে। অকারণে কেউ যানবাহন নিয়ে বের হলে তাদের বুঝিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। কেউ লকডাউনের নির্দেশ অমান্য করলে বাধ্য হয়ে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
এদিকে শহরের বটতলা বাজার, পার্ক বাজার সহ বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্য সামগ্রী ও কাঁচা বাজারের দোকানপাট খোলা থাকলেও বাজারে ক্রেতা কম। বাজারে আসা বেশির ভাগ লোকদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যায়নি।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নে একটি আরসিসি ব্রিজ ও প্রায় এক কিলোমিটার পাকা সড়ক স্থানীয় বৈরাণ নদীর গর্ভে চলে যাচ্ছে। পাউবো’র সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় না করে নদী খননের কারণে সরকারের প্রায় কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বৈরাণ নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয়দের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ধস নেমে এসেছে।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গোপালপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বৈরাণ নদী খনন করছে। বৈরাণ নদীর মোট ৩৭.৫ কিলোমিটার ২১ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন ধাপে খনন করা হচ্ছে। এরমধ্যে ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দী থেকে গোপালপুর উপজেলার হাটবৈরাণ পর্যন্ত প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৬ কিলোমিটার নদী খনন ২০২০ সালের জুনে শেষ হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বৈরাণ নদীর ভাটিতে আরও সাড়ে ১১ কিলোমিটার খনন কাজ চলছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের(পাউবো) কর্মকর্তারা নদী খননে পরিকল্পনাকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও এলজিইডি’র সঙ্গে সমন্বয় না করার কারণে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৪ লাখ চার হাজার ৬৫১টাকায় ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি আরসিসি ব্রিজ ও বন্দহাদিরা গ্রামের অংশে এলজিইডি’র প্রায় ৮০ লাখ টাকায় নির্মিত এক কিলোমিটার পাকা সড়ক নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।
ইতোমধ্যে গত বর্ষায় পাকা সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার নদীগর্ভে চলে গেছে। ফলে নগদাশিমলা বাজার থেকে হাদিরা হয়ে ধনবাড়ী উপজেলা সদরে সরাসরি যান চলাচল দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ রয়েছে। শুস্ক মৌসুমেও ওই অংশে পাকা সড়ক ভেঙে পড়ছে। উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও মালামাল নিয়ে বিকল্প পথে যাতায়াত করায় মানুষের খরচ ও ভোগান্তি বেড়েছে। রাতে চলাচল করতে গিয়ে ইতোমধ্যে ১০-১২ ব্যক্তি আহত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমেই ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে বন্দহাদিরা গ্রামের অনেক বাড়িঘর আগামি বর্ষায় নদীগর্ভে চলে যাবে।
অন্যদিকে, হাদিরা ইউনিয়নের ভাদুরীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্বপাশে জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর পূর্ব-পশ্চিমে ৬০ ফুট দীর্ঘ একটি আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ করে। ব্রিজটি বৈরাণ নদীর পূর্ব ও পশ্চিম(ডান ও বামতীরে) পাশের ৮-১০টি গ্রামের সেতুবন্ধন। পাউবো বৈরাণ নদীর ওই অংশে খনন করতে গিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় না করে নিজেদের প্রকল্পের স্বার্থে ব্রিজের অ্যাপ্রোচের মাটি কেটে তীরে জমা করে রেখেছে। অ্যাপ্রোচের মাটি কেটে ফেলায় ইতোমধ্যে গত বর্ষায় ব্রিজের আরসিসি পিলারে ফাঁটল ধরে দেবে গেছে। শুস্ক মৌসুমে ব্রিজের দুই পাশে বাঁশের সাঁকো লাগিয়ে স্থানীয়রা জরুরি প্রয়োজনে পায়ে হেঁটে চলাচল করছে। কোন প্রকার ভ্যান-রিকশা বা অন্য যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
বন্দহাদিরা গ্রামের ব্যবসায়ী আজহার আলী, হাদিরা গ্রামের বাসিন্দা মো. গোলাম ফারুখ সহ অনেকেই জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার গোয়ালবাড়ী ঘাট ব্রিজের উত্তরে জনৈক প্রভাবশালীর জবরদখল করা জমি রক্ষার জন্য পূর্বদিকে ধনুকের মতো বাঁকিয়ে নদী খনন সম্পন্ন করেন। এতেই পাকা সড়ক ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে।
হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মোজাম্মেল হোসেন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফিল্ড অফিসার এবং ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে একাধিকবার বলেও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের চ্যানেলে খনন করানো যায়নি। ফলে বর্ষায় নদীর ¯্রােত ওখানে বাঁক খেয়ে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি করায় নদীতীর ও এলজিইডি’র পাকা সড়কে ভাঙন দেখা দেয়। প্রায় এক কিলোমিটার পাকা সড়ক ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে।
তিনি আর জানান, ভাদুরীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্বপাশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ৬০ ফুট দীর্ঘ ব্রিজটির অ্যাপ্রোচের মাটি না কেটে নদী খনন করার জন্য স্কুলের শিক্ষক-অভিভাবক সহ স্থানীয় লোকজন অনুরোধ করলেও ঠিকাদার ও পাউবো’র ফিল্ড অফিসার কথা রাখেন নি। এতে শুকনো মৌসুমেই ব্রিজটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তিনি বিষয়টি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।
হাদিরা ইউপি চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের তালুকদার জানান, বৈরাণ নদী খনন পাউবো একতরফাভাবে করেছে। এলজিইডি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সাথে তারা কোন সমন্বয় করে নাই। ফলে নির্মিত পাকা সড়ক ও ব্রিজের সুফল থেকে স্থানীয় জনসাধারণ বঞ্ছিত হচ্ছে।
গোপালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আল মাসুদ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে তাদের কোন কথাই হয়নি। পাউবো’র ঠিকাদার স্থানীয় সমস্যা বিবেচনায় না নিয়ে কাজ শেষ করেছে। এছাড়া জেলা নদী ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় তাদের ব্রিজটি সরিয়ে নেওয়ার কথা হয়েছিল কি-না তা তিনি জানেন না। ব্রিজের ক্ষয়ক্ষতির দায়ভার অবশ্যই পানি উন্নয়ন বোর্ডের।
গোপালপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের(এলজিইডি) প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদারের খামখেয়ালির কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তারা এলজিইডি’র নগদাশিমলা-হাদিরাবাজার সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারে হাত দিয়েছেন। কিন্তু বন্দহাদিরা এলাকায় নদীতীর না থাকায় সড়ক সংস্কার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
টাঙ্গাইল এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্ষা আসার আগেই কাজ শেষ করা হবে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ঐতিহ্যবাহী বৈরাণ নদী যথাযথভাবে খনন করা হচ্ছে। বন্দহাদিরায় গত বর্ষায় তীর ভেঙে যাওয়ায় এলজিইডি’র সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কটি যেহেতু এলজিইডি’র সুতরাং সংস্কার বা মেরামতের দায়িত্বও তাদের। নদীতীর সুরক্ষায় বর্ষা মৌসুমে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়ে থাকে- তখন ওখানে কাজ করা সম্ভব।
তিনি আরও জানান, বৈরাণ নদী খননের প্রাক্কালে জেলা নদী ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ভাদুরীরচরের ৬০ ফুট ব্রিজটি সরিয়ে নিয়ে নতুন ব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত ব্রিজটি কেন সরানো হয়নি তা বোধগম্য নয়।
একতার কণ্ঠঃ স্বাধীনতার ৫০ বছর উদ্যাপন উপলক্ষে তিন নকশার মুদ্রা বাজারে ছাড়বে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৫০ টাকার একটি স্মারক নোট ও একটি প্রচলিত নোট এবং ৫০ টাকা মূল্যমানের রৌপ্য স্মারক মুদ্রা একটি। ২৮ মার্চ থেকে এসব নোট বাজারে ছাড়া হবে। প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে পাওয়া যাবে এসব অপ্রচলিত ও প্রচলিত মুদ্রা। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিসংবলিত বর্তমানে প্রচলিত ৫০ টাকা মূল্যমান ব্যাংক নোটে বিদ্যমান রং ও নকশা ডিজাইন (সম্মুখভাগে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং পেছন ভাগে ‘মই দেওয়া’ জলরং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন) অপরিবর্তিত রেখে নোটের সম্মুখভাগের ডান দিকে জলছাপ এলাকার কাছে লাল-সবুজ রঙে একটি পৃথক স্মারক লোগো সংযোজন করা হয়েছে। শতভাগ কটন কাগজে মুদ্রিত এবং গভর্নর ফজলে কবির স্বাক্ষরিত ৫০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ব্যাংক নোটটিতে ব্যাংক নোটের অন্য সব নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত থাকবে। এই নোট ৫০ টাকা মূল্যমানের অন্য নোটগুলোর মতো দৈনন্দিন লেনদেনেও ব্যবহৃত হবে।
এদিকে ৫০ টাকা মূল্যমান স্মারক নোটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির স্বাক্ষরিত এ স্মারক নোটের সম্মুখভাগের বাঁ পাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি এবং নোটের ডান দিকে জলছাপ এলাকার নিকটে স্মারক লোগো মুদ্রিত রয়েছে। নোটের ওপরে মাঝখানে ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ১৯৭১-২০২১’ লেখা রয়েছে। এ ছাড়া নোটের ওপরে ডান কোণে স্মারক নোটের মূল্যমান ইংরেজিতে ‘৫০ ’, নিচে ডান কোণে মূল্যমান বাংলায় ‘৫০’ লেখা রয়েছে। নোটের পেছন ভাগে ‘১৯৭১: মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ছবি মুদ্রিত রয়েছে।
শতভাগ কটন কাগজে মুদ্রিত ৫০ টাকা মূল্যমান স্মারক নোটটির সম্মুখভাগে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির ডানে ২ মিলিমিটার চওড়া নিরাপত্তা সুতা রয়েছে এবং নোটের ডানদিকে জলছাপ হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি’, ‘৫০’ এবং ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ মুদ্রিত রয়েছে। ৫০ টাকা মূল্যমান স্মারক নোটটির জন্য পৃথকভাবে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখাসংবলিত ফোল্ডার প্রস্তুত করা হয়েছে। ফোল্ডার ছাড়া শুধু খামসহ স্মারক নোটটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা এবং ফোল্ডার, খামসহ স্মারক নোটটির মূল্য ১০০ টাকা।
৫০ টাকা মূল্যমান রৌপ্য স্মারক মুদ্রার ওজন ৩০ গ্রাম। স্মারক মুদ্রাটির সম্মুখভাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি (৭ মার্চের ভাষণ), প্রতিকৃতির নিচে মূল্যমান কথায় ও অঙ্কে ‘পঞ্চাশ ৫০ টাকা’ এবং প্রতিকৃতির ওপরে অর্ধবৃত্তাকারভাবে ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ১৯৭১-২০২১’ লেখা রয়েছে। স্মারক মুদ্রার পেছন ভাগে ইংরেজিতে ‘৫০’ এবং ‘ঙ’ এর মাঝখানে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ ও এর নিচে ‘১৯৭১-২০২১’ মুদ্রিত রয়েছে। রৌপ্য স্মারক মুদ্রাটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে স্মারক বাক্সসহ ৪,০০০ টাকা।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার(নিউ ধলেশ্বরী-পুংলী-বংশাই-তুরাগ-বুড়িগঙ্গা রিভার সিস্টেম) প্রকল্পের কাজ দীর্ঘ এগার বছরেও শেষ না হওয়ায় প্রতি বছর স্থানীয়দের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। যমুনায় প্রতিদিন ১ থেকে ২ সেণ্টিমিটার করে পানি বাড়ায় প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানাগেছে, বিগত ২০১০ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে সম্পন্ন করার নিমিত্তে ৯৪৪ কোটি ৯ লাখ ৭ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়(মূল ডিপিপি অনুযায়ী) ধরে বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পটি গ্রহন করা হয়। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। দ্বিতীয় বার সময় বর্ধিত করা হলেও প্রকল্পটি অসমাপ্ত থেকে যায়। বাজারমূল্য বেড়ে যাওয়ায় ডিপিপিতে সংশোধনী আনা হয়। সংশোধনীর কারণে প্রকল্পের ব্যয় ১৮১ কোটি ৫০ লাখ ২৬ হাজার টাকা অতিরিক্ত বাড়িয়ে এক হাজার ১২৫ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা করা হয় এবং প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
২০২০ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের টাঙ্গাইল অংশের(২০.৫ কি.মি.) নদী খননের কাজ ধলেশ্বরী ও পুংলি নদী এলাকার ১৪.৫ কিলোমিটারে ড্রেজারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। এতে টাঙ্গাইল অংশের ৬৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ইতোপূর্বে ড্রেজারের মাধ্যমে নদী খনন করা হলেও পরের বর্ষায় পলি জমে নদী ভরাট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে আবার নদী খনন করে পলি সরাতে হয়। এ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় আবারও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। বার বার সময় ও ব্যয় বাড়ানো হলেও প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে জনভোগান্তির অবসান ঘটছেনা।
সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক অন্যতম বৃহৎ এ প্রকল্প এলাকা পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবীর বিন আনোয়ার, পাউবো’র প্রধান প্রকৌশলী(ডিজাইন) মো. হারুন অর রশিদ, ময়মনসিংহ অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকেীশলী মো. শাজাহান সিরাজ এবং পওর কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মতিন সরকার সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার পরিদর্শন করেছেন, সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কাজ শেষ করার পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছেন।
সরেজমিনে যমুনা, ধলেশ^রী ও পুংলি নদী তীরবর্তী বিয়ারামারুয়া, বেলটিয়া, হাট আলিপুর, ভৈরববাড়ি, আলিপুর, কুর্শাবেনু, বেনুকুর্শা, গোবিন্দপুর, জোকার চর, সল্লা, মীরহামজানী, আনালিয়াবাড়ী, হাতিয়া, ধলাডেঙ্গর ও এলেঙ্গা এলাকার লোকজন জানায়, পাউবো খননের নামে প্রতি বছর বাংলা ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রির মহোৎসব চালাচ্ছে। পাউবো নিযুক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন দিনরাত অবৈধ বাংলা ড্রেজার বসিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। চলতি বছর পাউবো নদী খনন না করলেও বালু খেকোরা অবৈধ বাংলা ড্রেজার দিয়ে নদীতীরে খনন করছে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকায় বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের আশঙ্কা প্রবলতর হচ্ছে।
তারা জানায়, বর্তমানে যমুনায় ১-২ সেন্টিমিটার করে প্রতিদিন পানি বাড়তে শুরু করেছে। তবে যমুনার এ পানি বৃদ্ধি স্থায়ী নয়, চৈত্র-বৈশাখে আবার পানি কমবে। দ্রুত কাজ না করলে প্রকল্পের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানায়, পাউবো’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে এসে যমুনায় স্পীডবোট নিয়ে ঘোরাফেরা করেন আর পানির গভীরতা পরিমাপ করেন। এলাকার মানুষের সাথে কোন কথা বলেন না। নদীতীরের মানুষই তাদের সুখ-দুঃখের কথা ভালো বুঝেন। এলাকার মানুষের সাথে কথা বললে তারা স্থানীয় মানুষের অভিব্যক্তি অনুভব করতে পারতেন।
টাঙ্গাইল পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান জানান, তারা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন। যমুনায় পানি একটু একটু বাড়লেও এটা স্থায়ী নয়, পানি আবার কমে যাবে।
পাউবো কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ও বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পরিচালক(পিডি) আব্দুল মতিন সরকার বলেন, পাউবো’র কর্মকর্তাদের তদারকিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো যে গতিতে কাজ করছে তাতে চলতি বছরই বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। আগামি বর্ষা মৌসুম থেকে এর সুফল স্থানীয়রা পেতে শুরু করবে।
প্রকাশ, খনন কাজে টাঙ্গাইলের ২০.৫ কিলোমিটারের মধ্যে ধলেশ্বরী ও পুংলি নদীর কুর্শাবেনু, বেনুকুশা, গোবিন্দপুর, জোকার চর, মীরহামজানী, আনালিয়াবাড়ী, ধলাডেঙ্গর ও এলেঙ্গা এলাকার ১৪.৫ কিলোমিটারে ড্রেজারের মাধ্যমে উত্তোলিত ১৬ লাখ ৬ হাজার ২০০ঘনমিটার ড্রেজড বালু টেন্ডারের মাধ্যমে ২০ লাখ ৮৮ হাজার ৬০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।