একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ৫ দিনব্যাপী উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কৌশল বিষয়ক কর্মশালা শুরু হয়েছে। রবিবার(২৩ জানুযারি) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও), বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রাণালয় ও জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতির (নাসিব) উদ্যোগে ওই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতির সভাপতি মীর্জা নূরুল গণী শোভন। নাসিব টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি জাফর আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম খান, নাসিব টাঙ্গাইল জেলা শাখার সহ-সভাপতি ডা. সাহিদা আক্তার প্রমুখ।
কর্মশলায় প্রশিক্ষক ছিলেন, ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশনের গবেষণা অফিসার আকিবুল হক।
কর্মশলায় টাঙ্গাইলের প্রায় ৯০ জন উদ্যেক্তা অংশগ্রহণ করেন। আগামী ২৭ জানুয়ারী এ কর্মশালা শেষ হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বসতবাড়িতে লাগা আগুনে জেলেমন বেগম (৭২) নামে এক মানসিক ভারসম্যহীন নারী দগ্ধ হয়েছেন। এছাড়া ওই ঘটনায় বাড়িটিতে থাকা অর্ধকোটি টাকার মালামালও পুড়ে গেছে।
রবিবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে উপজেলার ফসলান্দি এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন তালুকদার জিন্নাহর বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
আনোয়ার হোসেন জিন্নাহ জানান, ভোরে হঠ্যাৎ করে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পরে। এতে বাসার ৬টি রুমে থাকা আসবাবপত্র, স্বর্ণ ও নগদ টাকা পুড়ে গেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিনি আরো জানান, আগুনে জেলেমন নামে মানসিকভারসম্যহীন এক নারী দগ্ধ হয়েছেন।
ভূঞাপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ আবুল কালাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুনে দগ্ধ নারীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, আশঙ্কা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা মামলার রায়ে স্বামীকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার(১৩ জানুয়ারী) বিকেলে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালের বিচারক বেগম খালেদা ইয়াসমিন আসামীর অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষনা করেন। শাহাদাৎ হোসেন জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।
মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী হলেন টাঙ্গাইলের সদর উপজেলা চৌবাড়িয়া গ্রামের ওমর আলীর ছেলে শাহাদাৎ হোসেন।
টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালের বিশেষ পিপি আলী আহমেদ জানান, ২০০২ সালে দন্ডিত আসামী শাহাদাৎ হোসেনের সাথে সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের আউলটিয়া গ্রামের জাহারা খাতুনের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের ৩ থেকে ৪ মাস পরে ১০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে শাহাদাৎ। জাহারা খাতুনের পরিবার যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় শাহাদাৎ স্ত্রীকে নির্যাতন করেন। পরে ২০০২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর শাহাদাৎ শুশুর বাড়িতে যায়। সেখানে রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ির একটি কক্ষে ঘুমাতে যায়। পরের দিন ভোরে বাড়ির লোকজন ঘুম থেকে উঠে তাদের ঘরের দরজা খোলা দেখে সেখানে যায়। কিন্তু ঘরের ভিতরে কাউকে না পেয়ে বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুজি শুরু করে। বাড়ির দক্ষিণ পাশে একটি পুকুরে জাহারা খাতুনের লাশ ভেসে থাকতে দেখে। এলাকাবাসী থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। লাশের শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
পরে নিহতের ভাই ইউনুস আলী বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় চিকিৎসক ও আইওসহ মোট ৯ জন স্বাক্ষী স্বাক্ষ্য প্রদান করেন।
আসামী পক্ষের মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট আইয়ুব আলী। তিনি জানান,এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর থেকে দক্ষিনে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে গ্রামটির অবস্থান । টাঙ্গাইল-নাগরপুর-আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়কের ভুরভুরিয়া বাস স্ট্যান্ড থেকে মাত্র ৫ শত মিটার দূরে অবস্থিত গ্রামটির নাম বান্দাবাড়ী। গ্রামের মাঝ দিয়ে চলে গেছে গ্রামবাসির এক মাত্র চলাচলের কাঁচা রাস্তাটি। গ্রামের ১১০টি ঘরের ৪১৩ জন লোকের চলাচলের রাস্তাও এটি। নেই কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়, গ্রামীন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র।গ্রামের শিশু-কিশোরদের খেলার কোন মাঠ পর্যন্ত নেই। বিগত দুই যুগে গ্রামে কোন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটেনি । ২০২২ সালে এসেও মনে হয় দুই যুগ আগের বাংলার কোন গ্রাম যেন এটি।
দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের এই গ্রামটির নাম ইউনিয়ন পরিষদ বোর্ডে লেখা আছে বান্দাবাড়ী। কেবল লেখা পর্যন্তই অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে এই গ্রামের।নির্বাচন আসে,নির্বাচন যায়। সরকার আসে, সরকার যায়।বান্দাবাড়ী গ্রামবাসীদের আজো কাঁচা রাস্তায় চলাচল করতে হয়।গ্রামের শিশুদের পড়ালেখা করতে পাশের ইউনিয়ন আটিয়ার গমজানী প্রাথমিক বিদ্যালয় না হলে ভুরভুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয়। পাশের ইউনিয়নের গ্রাম গুলোর রাস্তা-ঘাটের অনেক উন্নয়ন হলেও,উন্নয়ন বঞ্চিত এই গ্রাম। বান্দাবাড়ী গ্রামবাসীদের কেবল মিলেছে প্রতিশুতি পর প্রতিশুতি।নিজ ইউনিয়নে পরবাসী যেন বান্দাবাড়ী গ্রাম।
গ্রামের প্রবীন বাসিন্দা মোঃ গঞ্জের আলী বলেন, গ্রামের এক মাত্র কাঁচা রাস্তাটির সর্বশেষ উন্নয়ন হযেছিল ১৯৮৬ সালে। তৎকালিন চেয়ারম্যান মোঃ আয়াত আলী খান বর্তমান চলাচলের একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি করে দিয়েছিলেন। তার পর আর কোন উন্নয়ন দেখেনি বান্দাবাড়ী গ্রামের লোক জন।
তিনি আরো বলেন, তার জীবদ্দশায় আর গ্রামের কাঁচা রাস্তাটির উন্নয়ন দেখে যেতে পারবে কিনা তার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।পাথরাইল ইউনিয়নের দক্ষিন-পশ্চিম সর্বশেষ অংশে গ্রামটির অবস্থান হওয়ায় নির্বাচন ব্যতিত কোন জন প্রতিনিধি গ্রামে আসে না। তিনি এখন আর কোন জনপ্রতিনিধিকে গ্রামের উন্নয়নের বিষয়ে অনুরোধ করেন না।

একই গ্রামের গৃহবধু ছালমা বেগম বলেন, তার এই গ্রামে বিবাহ হয়েছে প্রায় ১৪ বছর হল। নববধূ হিসেবে গ্রামে এসে যে অবস্থা দেখেছেন, আজ ১৪ বছর পর একই অবস্থা দেখছেন বান্দাবাড়ী গ্রামের।বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে এই গ্রামে কেও আসতে চায় না। সে সময় কোন রুগিকে গ্রামের এই রাস্তা দিয়ে বহন করে শহরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াও প্রায় অসম্ভব হয়ে পরে।
এই গ্রামের তরুন যুবক মোঃ সাদ্দাম হোসেন বলেন, গ্রামের উন্নয়নে কোন চেয়ারম্যান কিম্বা মেম্বার এখন পর্যন্ত নজর দেয়নি। এমনকি স্থানীয় সাংসদ এই গ্রামের কোন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহন করেনি। বান্দাবাড়ী গ্রাম যেন ভিন গ্রহের কোন গ্রাম।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার মোঃ আবুল কাশেম বলেন, তিনি সদ্য নির্বাচিত। তবে তিনি বান্দাবাড়ী গ্রাম ও রাস্তার বেহাল অবস্থার কথা শুনেছেন। গ্রামটি ইউনিয়ন হতে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দীর্ঘ দিন হল উন্নয়ন বঞ্চিত।তিনি চেষ্টা করবেন যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাঘাট সহ গ্রামের উন্নয়ন করার।

পাথরাইল ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ সরকার জানান, গ্রামটি আসলেই উন্নয়ন বঞ্চিত।দীর্ঘদিন হল গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তার কোন উন্নয়ন হয়নি।বর্ষা কালে এই গ্রামের মানুষের চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়ে।
তিনি আরো জানান, তিনি চেয়ারম্যান হয়েই বান্দাবাড়ী গ্রামের রাস্তা পাঁকা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন। ইতোমধ্যে গ্রামের ১ কিলোমিটার কাঁচা সড়কটির স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়(এলজিইডি) বিভাগ থেকে মাপ-ঝোক করে নিয়ে গেছে। আশা, করি খুব দ্রুতই রাস্তার কাজ শুরু করা হবে। এ ছাড়া বান্দাবাড়ী গ্রামের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে একটি পাটের গুদামে আগুন লেগে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দুই ঘণ্টার চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের সীমাকাছরা গ্রামের গনি বেপারীর গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ওই ঘটনা ঘটে।
গুদামের মালিক গনি বেপারী জানান, তার পাট গুদাম সংলগ্ন ধান ভাঙানোর মেশিনে সুইচ দেওয়ার পর সর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
কালিহাতী ফায়ার সার্ভিসের লিডার আলতাফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি টাঙ্গাইল জেলা শাখার বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর।
বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন হিসাব নিরীক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক এম আনোয়ারুল ইসলাম স্বপন। বিশেষ অতিথি ছিলেন হিসাব নিরীক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সচিব আলহাজ্ব নকিব উদ্দিন, বাপসু কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক মো. মোকছেদুর রহমান হারুন, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী মো. হাসান উদ্দিন ও উৎপল ভট্টাচার্য, শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি একেএম মোসাদ্দেক ফেরদৌস, মানিকগঞ্জ জেলার সভাপতি ইকবাল হোসেন ও কিশোরগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান। টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মো. সহিদুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হারুন-অর-রশিদ।
এ সময় জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ বাড়ি-বাড়ি পুকুর। পুকুর ভরা পাঙ্গাস মাছ। ঘরে-ঘরে পাঙ্গাস চাষী। পাঙ্গাস চাষ করে গ্রামের প্রায় সবাই এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। পুকুরের মাটি ও পানির গুনগত মান এবং পুষ্টিকর খাবারে উৎপাদিত পাঙ্গাস প্রচলিত জাতের হলেও স্বাদে অতুলনীয়। ফলে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’র আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ সাফল্য জমিদারী আমলের আটিয়া পরগনার ‘আটিয়া’- বর্তমানে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া গ্রামের।
আটিয়া গ্রামেই অবস্থিত সুফী সাধক শাহান শাহ আদম কাশ্মিরীর মাজার শরীফ। মাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্রায় ৪’শ বছরের পুরনো মসজিদটি এখন প্রত্নতান্তিক সম্পদ। ১৯৭৮ ও ১৯৮২ সালে দেশীয় মুদ্রা সংস্করণে দশ টাকার নোটের প্রচ্ছদে স্থান পাওয়ায় আটিয়ার পরিচিতি দেশব্যাপী। বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকদের আনাগোনাও রয়েছে।
আটিয়া গ্রামের লোকসংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। এ গ্রামের প্রায় সবাই এখন পাঙ্গাস চাষে স্বপ্ন পুরণে ব্যস্ত। স্থানীয় নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আমিষের চাহিদা পুরণ করছে আটিয়ার পাঙ্গাস। মসজিদটির কারণে বিখ্যাত হওয়া আটিয়া গ্রামের জীবন-যাত্রায় এবার যোগ হয়েছে পাঙ্গাস চাষ। পাঙ্গাসের গ্রাম নামে নতুন পরিচয় পাচ্ছে ‘আটিয়া’। সুস্বাদু পাঙ্গাসের কারণে আটিয়া গ্রামের সুনাম ছড়িয়ে পড়ছে।
সরেজমিনে জানাগেছে, ১৯৯৪ সালে ওই গ্রামের আসাদুজ্জামান আসাদ নামে এক ব্যক্তি প্রথম আটিয়াতে পাঙ্গাস মাছ চাষ শুরু করেন। আসাদুজ্জামান আসাদের কঠোর পরিশ্রম ও পুকুরের পানির গুণে পাঙ্গাসের ভালো ফলনে তিনি লাভবান হন। আসাদের সফলতায় উৎসাহিত হয়ে আটিয়ার যুবকরা পাঙ্গাস চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এখন আটিয়ার ঘরে-ঘরে পাঙ্গাস চাষী। এই গ্রামে দেড় শতাধিক পুকুরে এখন পাঙ্গাস চাষ হচ্ছে। পোনা মজুদ, পাঙ্গাস চাষ, মাছ ধরা, এমনকি বাজারে বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে গ্রামের প্রায় সবাই এখন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাঙ্গাস চাষের সাথে যুক্ত। প্রায় দুই যুগের পাঙ্গাস চাষের ইতিহাসে গ্রামের অধিকাংশ পরিবার এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। তবে গত কয়েক বছরে ধাপে-ধাপে খাবারের দাম বেড়ে দ্বিগুন হওয়ায় পাঙ্গাস চাষের আগামি দিনগুলো নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ন্বপ্নের পাঙ্গাস চাষকে সহজতর করতে খাবারের দাম কমানো, মাছ সরবরহের ব্যবস্থাসহ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানিয়েছে পাঙ্গাসের গ্রাম আটিয়ার চাষীরা।

প্রতিষ্ঠিত পাঙ্গাস চাষী আসাদুজ্জামান আসাদের এখন চারটি পুকুর। দুটিতে ৩০ হাজার পাঙ্গাস চাষ করেন। বাকি দুইটি পুকুরে পাঙ্গাসের পোনা মজুদ রাখেন। তিনি জানান, নব্বইয়ের দশকে আটিয়ায় তিনিই প্রথম পাঙ্গাস চাষ শুরু করেন। গ্রামে এখন দেড় শতাধিক পুকুরে পাঙ্গাস চাষ হচ্ছে। তিনি অভিযোগের সুরে জানান, বর্তমানে পাঙ্গাসের খাবারের দাম দ্বিগুন। ৭-৮ শ’ টাকা মূল্যের খাবারের বস্তা হয়েছে ১৭-১৮শ’ টাকায় কিনতে হচ্ছে। সে তুলনায় মাছের দাম বাড়েনি, আগের দামেই পাঙ্গাস বিক্রি করতে হচ্ছে। পাঙ্গাস চাষে জেলা-উপজেলায় দুইবার সেরা চাষীর পুরস্কার পেলেও বর্তমানে পাঙ্গাস চাষ নিয়ে হতাশায় রয়েছেন তিনি। আসাদের পর ১৯৯৯ সালে পাঙ্গাস চাষ শুরু করেন বায়েজিদ হোসেন জুয়েল। তার চারটি পুকুরে ১৫ থেকে ২০ হাজার পাঙ্গাস চাষ করেছেন তিনি। জুয়েলও পাঙ্গাস চাষে খাবারের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ৩২-৩৪ টাকা কেজির খাবার দাম বেড়ে ৫২-৫৩ টাকা কেজি। প্রতি কেজিতে ২০-২২টাকা মূল্য বেড়েছে।
আটিয়ার ডা. লুৎফর রহমান ও জায়েদুর রহমানরা সাত ভাই মিলে ৬টি পুকুরে পাঙ্গাস চাষ করেছেন। খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ডা. লুৎফর রহমান বিকল্প পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। খাবারের সব ধরনের কাঁচামাল কিনে কারখানা থেকে ভাঙিয়ে এনে পুকুরে দেন। ফলে মাছের খাবারের উর্ধ্বগতিতেও লাভের হিসাব আগের মতোই গুনছেন তিনি। স্থানীয় কেউ কেউ ডা. লুৎফর রহমানকে অনুসরণ করছেন আবার কেউ কেউ বাড়িতে খাবার তৈরি করতে ছোট আকারের মেশিন কিনে বাড়িতে বসিয়ে খাবার তৈরি করছেন। এতে তাদের পাঙ্গাসের খাবারের খরচ আরও কমে এসেছে।

স্থানীয় খায়রুল হোসেন বাচ্চুও চারটি পুকুরে পাঙ্গাস চাষ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে পাঙ্গাস চাষ করে অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনলেও বর্তমানে খাবারে দাম বেড়ে যাওয়ায় হোঁচট খাচ্ছেন তিনিও। স্বামী মারা যাওয়ার পর বিধবা নারী ঝরনাও শুরু করেন পাঙ্গাস চাষ। বেঁচে থাকা অবস্থায় স্বামীর কাছ খেকে শিখেছিলেন কিভাবে পাঙ্গাস চাষ করতে হয়। মাছ চাষ করেই দুই মেয়ের বিয়ের খরচ যুগিয়েছেন তিনি। বাকি দুজনের ভরণ-পোষণের জন্য মাছ চাষ ছাড়েননি তিনি। ঝরনার মতো গ্রামের অনেকেই পাঙ্গাস চাষে ঝুঁকছেন। ফলে আটিয়া গ্রামে বেকারত্ব নেই বলেই চলে। সবাই এখন স্বাবলম্বী।
আটিয়া গ্রামের চাষীরা প্রতি হাজার পাঙ্গাস চাষ করে বছরে ২৫-৩০ হাজার টাকা উপার্জন করছে। একজন চাষী ২৫ থেকে ৩৫ হাজার পাঙ্গাস চাষ করে গ্রামের অর্থনীতির চাকা বদলে দিয়েছে। একদিকে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন, অন্যদিকে গ্রামের অর্থনীতিকে মজবুত করেছেন। মাছের বর্তমান পাইকারী বিক্রি মূল্য মন প্রতি চার থেকে চার হাজার ২০০টাকা। পাঙ্গাস চাষে খাবারের দাম দফায়-দফায় বেড়ে দ্বিগুন হলেও মাছের পাইকারী দাম কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১০৫ টাকার মধ্যেই রয়েছে। সম্প্রতি পাঙ্গাস চাষীরা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। খাবারের দাম না কমলে পাঙ্গাস চাষ থেকে অনেক চাষী ছিটকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল ইসলাম মল্লিক জানান, আটিয়া একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। এ গ্রামের মানুষ মূলত কৃষি কাজের উপরই নির্ভরশীল ছিল। বর্তমানে পাঙ্গাস চাষে সাফল্য পাওয়ায় বেশিরভাগ মানুষই পাঙ্গাস চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। তিনি আরও জানান, জেলার অন্যান্য এলাকায় চাষ করা পাঙ্গাসের তুলনায় আটিয়ার পাঙ্গাস স্বাদের ভিন্নতায় অতুলনীয়। তাই এ এলাকার পাঙ্গাসের চাহিদাও বেশি।
টাঙ্গাইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, দেলদুয়ারের আটিয়ার পাঙ্গাস প্রসিদ্ধ। পাঙ্গাস চাষ করে গ্রামের অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। তারা সাধ্যমতো পাঙ্গাস চাষীদের সহযোগিতা করছেন। জেলা-উপজেলা মৎস্য অফিসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণসহ নানা পরামর্শ দিয়ে মাছ চাষীদের পাশে রয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ দেশের ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটনের সহযোগিতায় টাঙ্গাইলে নির্মাণ করা হচ্ছে “বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কেন্দ্র”। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৬ কোটি টাকার বেশি। এটি বাস্তবায়ন করছে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন।
স্মৃতি কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে রোববার (৫ ডিসেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কেন্দ্রে সংশ্লিষ্টদের কাছে ১ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. হুমায়ুন কবীর।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শরিফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল করিম, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস এম সিরাজুল ইসলাম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ এবং কৃষিবিদ রুমানা আক্তার।
প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ এ স্মৃতি কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। এ সময় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম নুরুল আলম রেজভী উপস্থিত ছিলেন।আগামী মাসে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
একতার কণ্ঠঃ নামাজ পড়তে গিয়ে অজু করার সময় হাত ও পকেট থেকে মোবাইল ফোন পানিতে পড়ে গিয়ে নষ্ট হলে সার্ভিসিং ফ্রি।এমনি এক সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে ও দোকানের সামনে। এমন সাইনবোর্ড পথচারীসহ সকল মানুষকে দৃষ্টি আকৃষ্ট করছে। মহৎ এ উদ্যোগের মাধ্যমে নজির স্থাপন করেছেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী বাজারের আব্দুর রহমান টেলিকম অ্যান্ড মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারের পরিচালক মেকানিক সোহেল রানা।
তার এমন উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোহেল রানা জানিয়েছেন, আগে থেকেই আমার মনের মাঝে একটা স্বপ্ন পোষণ করতাম কিভাবে জনকল্যাণমূলক কাজ করা যায়। আর সেই স্বপ্ন প্রতিফলনের মাধ্যমে এমনই উদ্যোগ নিয়েছি। আমার এমন উদ্যোগে মানুষের কাছ থেকে বেশ উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা পাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন এমনিতেই কাজকর্ম ভালো থাকে। তবে অজু করতে গিয়ে নষ্ট হওয়া মোবাইল বিনা পয়সায় মেরামত করার পর থেকে কাজকর্ম অনেক বেড়ে গেছে। আর আমার কাজটা হবে নামাজ পড়তে যাওয়া মানুষদের জন্য। বিনা পয়সায় কাজটা করে দিলে তারা আমার জন্য দোয়া কবরে। এছাড়া আমার এমন উদ্যোগ দেখে অন্যরাও এমন মহৎ কাজে উৎসাহিত হবে।
নষ্ট হওয়া মোবাইল বিনা পয়সায় মেরামত করে হাতে পাওয়ার পর মো. হাসমত আলী নামে এক মুসুল্লি বলেন, গত কয়েক দিন আগে আসরের নামাজের সময় অজু করতে গিয়ে আমার মোবাইলটা পকেট থেকে পানিতে পড়ে যায়। টাকার অভাবে মেরামত করতে পারছিলাম না। হঠাৎ এক লোক বললেন, গোবিন্দাসী বাজারের আব্দুর রহমান টেলিকম অ্যান্ড মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারের পরিচালক সোহেল রহমান নামাজ পড়া মুসল্লিদের অজু করতে গিয়ে মোবাইল নষ্ট হলে সেই মোবাইল বিনা পয়সায় মেরামত করে দেন। প্রথমে আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। পরে সেখানে গেলে আমার নষ্ট মোবাইল বিনা পয়সায় তিনি মেরামত করে দেন।
গোবিন্দাসী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. ছরোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, সোহেল রহমান মুসুল্লিদের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে তা নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। এমন একটা ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য বাজার সমিতির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই এবং তার সাফল্য কামনা করছি।
একতার কণ্ঠঃ রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ‘ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত ডাবল রেল লাইন করা হবে খুব দ্রুতই। বঙ্গবন্ধু রেল সেতু কাজ শেষ হবার আগেই ওই কাজ শুরু করা হবে।’
বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল ঘারিন্দা রেল স্টেশনের প্লাটফর্ম কাজের উদ্বোধন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রেল মন্ত্রী নুরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘২০২৪সালের মধ্যে বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর কাজ শেষ হবে। কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকা থেকে উত্তর বঙ্গের সব রেল লাইন ডবল করা হবে। যাতে করে দুই লাইনে রেল চলাচল করতে পারে। সাধারণ মানুষ এখন রেলের প্রতি বেশি আগ্রহী। যাতে করে রেলে বেশি যাতায়াত করে সেই দিকে নজর দেওয়া হবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন ও রেল মন্ত্রনালয়ের সচিব সেলিম রেজা, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র সিরাজুল হক আলমগীর প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল থেকে ২০ শতাংশ বেশি ভাড়া দিয়ে ঢাকায় যাচ্ছে মানুষ। জ্বালানী তেলের দাম বাড়ানোর আগে নিরালা সুপার বাসে ১৬০ টাকা দিয়ে মহাখালী যাওয়া গেলেও এখন ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ২০০ টাকা। এতে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।এছাড়া এ রুটে চলাচলকারী বিলাস বহুল সকাল সন্ধ্যা ও সোনিয়া গাড়িতেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে বাসস্টান্ড এলাকায় সরেজমিন ঘুরে এসব তথ্য জানা যায়।
বাস চালকরা জানান, ডিজেলের দাম হঠাৎ করে লিটার প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তারপর থেকে পরিবহন ধর্মঘটে নামে বাস ও ট্রাক চালকরা। বাস ভাড়া সমন্বয় করার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে টাঙ্গাইল থেকে মহাখালী পর্যন্ত ধলেশ্বরী বাসে ১৩০ টাকার পরিবর্তে ১৬০ টাকা, নিরালা সুপার ১৬০ টাকার পরিবর্তে ২০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও এসি বাসে টাঙ্গাইল থেকে কল্যাণপুর পর্যন্ত সোনিয়া ও সকাল সন্ধ্যা বসে ৩০০ টাকা পরিবর্তে ৩৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকামুখী তোরাব আলী বলেন, এক সপ্তাহ আগে টাঙ্গাইল থেকে মহাখালীর ভাড়া ছিলো ১৬০ টাকা। আজকে ২০০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটলাম। যা কিছুর দামই বৃদ্ধি পায়, সব কিছু জনগনের উপর দিয়ে যায়। আমাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
অপর যাত্রী রাজ্জাক আলী বলেন, সরকার ডিজেল চালিত বাসের ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। তবে কোন বাসটি ডিজেল ও কোন বাসটি গ্যাসে চলে সেটা আমরা শনাক্ত করতে পারছি না। যে কারণে গ্যাসের বাস গুলোও আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।
শওকত আলী বলেন, জ্বালানী তেলের দাম বাড়ায় বাস মালিক ও চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। কিন্তু যাত্রীদের কোন বেতন ভাড়া বাড়েনি এটা দুঃখ জনক।
নিরালা সুপারের টিকেট মাস্টার শরিফ মিয়া বলেন, মালিক সমিতির নির্দেশ অনুযায়ী অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। তবে খুব বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে না। মাত্র ৪০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
সোনিয়া কাউন্টারের টিকিট মাস্টার সুধীপন সাহা ও সকাল সন্ধ্যা কাউন্টারের টিকেট মাস্টার রিয়াদ মিয়া বলেন, টাঙ্গাইল থেকে কল্যাণপুরের ভাড়া ৩০০ টাকার পরিবর্তে ৩৫০ টাকা নেয়া হচ্ছে। ৫০ টাকা করে বেশি আদায় করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, সরকার ৫২ সিটের বাস ভাড়া যে হারে বৃদ্ধি করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সেই হারেই আদায় করা হচ্ছে। তবে গেট লক ৪০ সিটের বাসের ভাড়া কিছু বেশি নেওয়া হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চলতি ভরা মৌসুমে সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম বিপাকে পরেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সোমবার (৮ নভেম্বর) মির্জাপুরের বিভিন্ন হাট-বাজার, ডিলারের দোকান এবং কৃষি অফিস ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় কৃষি বিভাগ, সারের ডিলার এবং হাট বাজারে চড়া দামেও সার পাচ্ছে না। সার সংকট থাকায় এ বছর মির্জাপুর উপজেলায় সরিষারসহ আলু ও শীতকালীন ফসলের আবাদ না হওয়ার আশংকা করছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন,পরিবহন ধর্মঘটসহ গোডাউনে সার বিতরণে বিভিন্ন অংসগতির কারনে ডিলারগণ সার উত্তোলন করতে পারছেন না। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের ডিএপি এবং এমওপি সারসহ বীজ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে মির্জাপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ৯ হাজার ৫০০শত হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। যা টাঙ্গাইল জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে সর্বাধিক।নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ হতে তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সরিষার আবাদ হয়ে থাকে। এ সময় ডিএপি এবং এমওপি সারের চাহিদা থাকে বেশী।
আগামী ১৫-২০ দিনের জন্য উপজেলায় সারের প্রয়োজন হবে ১১শ মেট্রিক টন থেকে ১৪শ মেট্রিক টন। এ বছর মৌসুমের শুরু থেকেই হঠাৎ করে সারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। টাঙ্গাইল, জামালপুর ও নারায়নগঞ্জ গোডাউন থেকে ওই সারের সরবরাহ করার কথা থাকলেও গত ১০-১২ দিন ধরে সরবরাহ কমে গেছে। তবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে চার হাজার ২১০ জন কৃষককে ২০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি এবং আলু বীজ দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, এখন সরিষা বপনের ভরা মৌসুম। এই মৌসুমে ডিলার ও হাট বাজারে সারের দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে না। চড়া দাম দিয়ে সারের কোন সন্ধান না পাওয়ায় তারা চরম বিপাকে পরেছেন। সারের অভাবে সরিষা, আলুসহ শীতকালীন ফসলের আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টির নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা সার ডিলার মালিক সমিতির সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন এবং ডিলার মো. আব্দুল করিম বলেন, গত বছর এই মৌসুমে সারের বরাদ্দ ছিল ৫০ টন। চলতি মৌসুমে বরাদ্দ মাত্র ১৮ টন। বরাদ্দ কম এবং কৃষি বিভাগের গাফিলতির কারনে নির্ধারিত সময়ে সার পাওয়া যাচ্ছে না। গোডাউন থেকে সার উত্তোলন সমস্যা এবং পরিবহন সংকটসহ সুষ্ঠ তদারকির অভাবে সার সরবরাহ করতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।এলাকার কৃষকদের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানায়, পরিবহন সংকটসহ বিভিন্ন কারনে সরিষা মৌসুমের সময় সারের সাময়িক সংকট চলছে। তবে বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মধ্যে সরকারী প্রণোদনার বিনামূল্যে ৪ হাজার ২১০ জন কৃষককে ২০ কেজি হারে ডিওপি এবং১০ কেজি হারে এমওপি সারসহ বীজ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা যাতে হয়রানীর শিকার না হন এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।